১ম প্রকাশ, ২০২১
সুবেদার ওহাব আব্বা আব্বা বলে কাঁদেন
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
তাফসীর ও মুফাসসিরদের ইতিহাস ১-৩ খন্ড
ড. গোলাম আহমাদ হারিরি (র.)
খেলাফতে রাশেদা : তারিখে মিল্লাত- ২য় খন্ড
কাজী যাইনুল আবেদীন সাজ্জাদ মিরাঠী
অপারেশন মুক্তাগাছা
আনিসুল হক
The Ballad of Ayesha
আনিসুল হক
মা
আনিসুল হক
ভালোবাসা, আমি তোমার জন্য কাঁদছি
আনিসুল হক
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | সুবেদার ওহাব আব্বা আব্বা বলে কাঁদেন |
| Author | আনিসুল হক |
| Publisher | সময় প্রকাশন |
| Edition | ১ম প্রকাশ, ২০২১ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 48 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | ইতিহাস ঐতিহ্য |
| Weight | 0.21 Kg |
| ISBN | 9789844582477 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
1 Ratings and 1 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
১টিSharmin Akter , Jun 25, 2021
"বইটি মূলত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ মূলক গ্রন্থ। সাধারণের দৃষ্টিতে দেখলে, দেখা যায় এখানে বর্ণিত হয়েছে একজন বীরমুক্তিযোদ্ধার যুদ্ধ অভিযান এবং তৎকালীন দুঃসহ, নিপীড়িত বাঙালি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নির্যাতনের ইতিহাস। যেখানে মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার ওহাবের স্মৃতিচারণের মাধ্যমে লেখক জীবন্ত করে তুলে ধরেছেন যুদ্ধকালে সংগঠিত দুঃসাহসিক কিছু অভিযানের কথা। কিন্তু বিশদভাবে দেখলে দেখা যাবে, যুগ যুগ ধরে জমে থাকা এক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন লেখক এই গ্রন্থে । সেই সাথে অকতোভয়, দুঃসাহসিক এক বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন এবং স্বপ্নভঙ্গের অব্যক্ত পাঙক্তেয় উঠে এসেছে বর্ণনার চাতুর্যে। ওহাব ছিলেন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। জন্মস্থান কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার মরিচা গ্রামে। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও দারিদ্রের রোষানলে পরে, পড়াশোনা বেশিদূর এগোতে পারেনি । কিন্তু তিনি ফুটবল খেলতেন দক্ষতার সাথে। ১৯৪৮ সাল, সবেমাত্র ব্রিটিশ বিদায় হলো দেশ থেকে। আর তখনি একদিন পত্রিকার বিজ্ঞাপন দেখে সেনাবাহিনিতে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়লেন ওহাব। ১ এপ্রিল ১৯৪৮ যোগ দিলেন 'ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে' । ফুটবলের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কর্মস্থলে বেশ সুযোগ করে নেন ওহাব। প্রথমে ইস্ট বেঙ্গল দলের গোলকিপার হয়ে খেলেন। সেসময় কমান্ডিং অফিসার তাঁর খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে পদোন্নতি দিয়ে করে দিলেন ল্যান্স নায়েক। সেই সাথে ওহাব হয়ে গেলেন পূর্ব পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ফুটবল টিমের গোলকিপার। এরপর অনেকটা সময় চলে গিয়েছে। ১৮ মার্চ ১৯৭১, ওহাব তখন মেজর শাফায়াত জামিলের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। দেশে বিপদ আসন্ন। মেজর খালেদ মোশাররফ এবং শাফায়াত জামিলের পরামর্শে ওহাবকে পাঠানো হয় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে, সতর্কতা সংকেত আসে উপর মহল থেকে, যেকোন সময় আর্মি ক্র্যাক ডাউন হতে পারে। একদিকে উত্তাল একাত্তর, দেশের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঊষালগ্ন। অন্যদিকে অন্তঃসত্তা বেদনাকাতর স্ত্রী। কিন্তু অনাগত সন্তানের চেয়েও দেশকেই প্রাধান্য দেন ওহাব। স্ত্রীকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে রেখেই দেশ মাতৃকার টানে চলে যান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ভারতের ক্যাম্পে। যুদ্ধকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার অধীনস্থ বিভিন্ন গ্রামে তিনি অভিযান চালান। যেখান থেকে সংগঠিত হয় তাঁর শত্রু নিধনের মহাযজ্ঞ। কসবার ঝিকুরা অভিযানে তিনি গ্রামের মানুষকে বাঁচিয়েছিলেন কুখ্যাত ক্যাপ্টেন বুখারির হাত থেকে। জানা যায়, বুখারি এক হাতে জিপের স্টিয়ারিং ধরত আরেক হাতে নির্বিচারে অবলীলায় বাঙালি মারত। ওহাব ও তাঁর দল প্রায় ৭০-৭২টি বুলেটের আঘাতে বিধ্বস্ত করে দেন সেই কুখ্যাত বুখারির দেহ। মোট ১২জন পাকিস্তানিকে হত্যা করেন এই অভিযানে। সালদা নদীর তীরবর্তী ঝিকুরা গ্রামের মানুষ ওহাবকে এরপর থেকে চিনে উদ্ধারকর্তা নামে। মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশন, সম্প্রতি যেখানে ট্রেন দূর্ঘটনা ঘটেছিল।(২০১৯) ৭১' এ এই প্রাঙ্গনেই অ্যাম্বুশ বসিয়ে ১৮ জনকে হত্যা করছিলেন ওহাব, সেই সাথে আহত হয়েছিল আরো ৯ পাকিস্তানি। এছাড়াও দেউশ অভিযান, মিরপুর-মাধবপুর অভিযান, চান্দলা গ্রামে অভিযান এবং সালদা নদী এলাকায় এক অবিশ্বাস্য যুদ্ধে জয়ী হন ওহাব। জীবন বাজি রেখে শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পরেছেন, খেয়ে না খেয়ে যুদ্ধ করে গিয়েছেন, দেশকে এনে দিয়েছেন স্বাধীনতার সুমিষ্ট স্বাদ। হানাদারদের জন্য ওহাব ছিল এক ত্রাসের নাম। পাকিস্তানিরা তাঁকে বলতো 'জিন'। বলতো এক অলৌকিক ক্ষমতা আছে তাঁর ভেতর। এলাকার মানুষ ভাবতো 'উদ্ধারকর্তা'তিনি। এমন করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ কখনো গর্জে উঠেনি এই এলাকায়। এলাকাবাসীর আস্থা আর বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছে গিয়েছিলেন ওহাব। যুদ্ধের পরে তাঁকে অনারারি ক্যাপ্টেন করা হয়েছিল। এই অব্যর্থ লড়াকু প্লাটুন-কমান্ডারের অভিযানগুলো বর্তমানে সেনাবাহিনীতে পাঠ্য। তাঁর বিস্ময়কর সাফল্য ও শত্রুদের ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণ করে শেখেন সৈনিকেরা। ওহাব যুদ্ধশেষে বাড়ি ফিরে, ৭১'এ জন্ম নেয়া শিশু বিপ্লবকে দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়েছিলেন। আজ দেশের যত বয়স বিপ্লবের ও তাই। কিন্তু দেশ যতটা উন্নত হয়েছে, সমৃদ্ধ হয়েছে, সেই সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগেনি ওহাবের আঙিনায়। ওহাবের বাড়িতে এখনো সেই টিনের একখানা ঘর। ওহাবের ছেলে বিপ্লব একজন সামান্য তৈজসপত্রের দোকানি। উন্নতির আলোয় আলোকিত হয়নি ওহাবে জীবন, দারিদ্রতার নিষ্পেষণে ক্ষত-বিক্ষত ওহাবের বিজয়ী হৃদয়। স্বাধীন দেশ আরো উন্নত হবে, ওহাবরা একদিন এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে বাধ্য হবে। উন্নতির ছোঁয়া ছুঁয়ে থাকবে নীল আকাশ জুড়ে, আধুনিকতার স্পর্শে হৃদ্য হবে সালদার মাটি, স্বাধীন দেশের সুখ ভোগ করবে কোটি কোটি মানুষ। কিন্তু সেদিন ওহাবরা থাকবে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। অনাদরে, অবহেলায় কোন এক টিন তলায় তলিয়ে যাবে ওহাবরা, তলিয়ে যাবে বিপ্লবরা, তলিয়ে যাবে তাঁদের বীরত্ব, তাঁদের ত্যাগ, তাঁদের স্বপ্ন সাধের সোনার বাংলাদেশ।"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →
বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"সুবেদার ওহাব আব্বা আব্বা বলে কাঁদেন" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: