হোম
0
কার্ট
অফার সাইন ইন
বই খোঁজা হচ্ছে...

কোনো বই খুঁজে পাওয়া যায়নি

বানান ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন অথবা অন্য শব্দ দিয়ে খুঁজুন

প্রগতি - PROGOTY
শ্রাবণের দিন - আমিনুল ইসলাম (ফিকশন) এর প্রচ্ছদ
একটু পড়ে দেখুন

১ম সংস্করণ, ২০২৩

ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

শ্রাবণের দিন

8 Ratings | 5 Reviews
TK. 315 TK. 450 -30% OFF

1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি

কেমন হতো যদি ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা উপমহাদেশ ছেড়ে না যেত? হ্যাঁ, এমনই একটি গল্প যেখানে ২০০৪ সালেও ইংরেজ মুকুটের অধীনস্থ উপমহাদেশ। অসম্ভব মেধাবী ছাত্র রবিন ইংরেজদ...
একটু পড়ে দেখুন
ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

বইটির বিস্তারিত দেখুন

কেমন হতো যদি ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা উপমহাদেশ ছেড়ে না যেত? হ্যাঁ, এমনই একটি গল্প যেখানে ২০০৪ সালেও ইংরেজ মুকুটের অধীনস্থ উপমহাদেশ। অসম্ভব মেধাবী ছাত্র রবিন ইংরেজদের বানানো একটি ইউনিভ
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন
Title শ্রাবণের দিন
Author আমিনুল ইসলাম (ফিকশন)
Publisher বেনজিন প্রকাশন
Edition ১ম সংস্করণ, ২০২৩
Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) 216
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা
Category উপন্যাস ও সাহিত্য
Weight 0.38 Kg
ISBN 9789849779193
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন

বিজ্ঞপ্তি

গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।

Reviews and Ratings

Rate this product

3.88

8 Ratings and 5 Reviews

★★★★★
2
★★★★☆
4
★★★☆☆
1
★★☆☆☆
1
★☆☆☆☆
0

পাঠকদের মন্তব্য

৫টি
স্নিগ্ধা ফেরদাউস

স্নিগ্ধা ফেরদাউস , Nov 21, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"(সতর্কীকরণ: হালকা স্পয়লার মনে হবার সম্ভাবনা আছে। কেউ পড়তে চাইলে নিজ দায়িত্বে পড়বেন) অল্টারনেট হিস্টরিকাল ফিকশন লেখার ক্ষেত্রে লেখকের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তিনি মূল হিস্ট্রিটা জানেন। দেশ স্বাধীন হবার পর কী কী সমস্যা হয়েছে সেগুলো সম্ভাবনা আকারে তিনি বইয়ের চরিত্রদের মুখে যথাযথভাবে বসিয়ে দিতে পেরেছেন। পরিচিত সব ঘটনা আর উপাদানকে ব্যবহার করে নতুন প্লট তৈরির চেষ্টা করেছেন, উদাহরণ হিসেবে বলা যায় পাহাড়ে বিভিন্ন বিদ্রোহী সংগঠন, জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি- ইত্যাদির কথা। উপাদানগুলোকে ভালোই ব্লেন্ড করেছেন, তবে সমস্যা বেঁধেছে চরিত্রায়ণ আর ঘটনাপ্রবাহে... শুরুতে গল্পের ফ্লো চমৎকার ছিলো, দ্বিতীয়ার্ধের পর ফ্লোটা নষ্ট হয়ে গ্যাছে। প্রায় সবগুলো চরিত্রকে টুইস্টের মধ্যে আনতে গ্যাছেন লেখক। ফলাফল, টুইস্টের অতি আধিক্য টুইস্টের আসল যে উদ্দেশ্য, অর্থাৎ পাঠকের বিস্মিত হওয়া-সেটিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বইয়ের নাম অনুযায়ী যে চরিত্র প্রোটাগনিস্ট হবার দাবীদার, তাকে বাদ দিয়ে গুরুত্ব পেয়েছে অন্য চরিত্র। এটা চরিত্রায়ণের সমস্যা নাকী বইয়ের নামকরণের, সেটা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন হতে পারে। বাক্যগঠন এবং শব্দচয়নে কিছু সমস্যা এবং অপরিপক্কতা চোখে পড়েছে। যেমন পরনের কোট (Coat) কে কোর্ট লেখা (এক জায়গায় হলে ভাবতাম প্রিন্টিং মিসটেক, একাধিক জায়গায় এই ভুলটা আছে), যা দৃষ্টিকটু লেগেছে; প্রেমিকার সাথে ক্যাজুয়াল সংলাপের সময় চা খাবার বদলে চা পান করা লেখার বিষয়টা গুগল ট্রান্সলেশনের মতো; দাঁড়াতে গেলে লেখার বদলে দাঁড়াতে নিলে লেখাটা একদমই কাঁচা হাতের লেখন মনে হয়েছে। এছাড়া আইআইএসবি নামে যে পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে সেটা আদতে আইএসএসবি (ইন্টার সার্ভিসেস সিলেকশন বোর্ড)। আশা করি লেখক পরবর্তী সংস্করণে বিষয়গুলোর দিকে নজর দেবেন... প্রচ্ছদ বেশ সুন্দর। বুক রিবনটা আরেকটু স্বাস্থ্যবান করা যায় বোধহয়। এ বইয়ের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হচ্ছে বইটায় মেজর কোনো প্লটহোল নেই। সবমিলিয়ে মাস্ট রিড কিছু না হলেও বইটা পড়ে একেবারে খারাপ সময় কাটবে না।"

Rabby Hassan Bin Miraj

Rabby Hassan Bin Miraj , Feb 19, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"২০২৩ সালে আমার পড়া শেষ বই ছিলো 'শ্রাবণের দিন'। এর আগে অল্টারনেট হিস্ট্রিকাল থ্রিলার জনরার কোনো বই আগে পড়া হয়নি। এই জনরার পড়া প্রথম বই হিসেবে বইটা ছিলো অনেক উপভোগ্য। ২০২৩ সালে পড়া আমার সেরা বই গুলার একটা হয়ে থাকবে এটা, সাথে আমার পছন্দের বইগুলার একটা। আমার কাছে বইটার সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে যে এটা যেকেউ এক বসাতেই পড়ে শেষ করতে পারবে। খুব সুন্দর করে লেখা বইটা। লেখকের জন্য শুভকামনা। লেখক যেন আরও এমন সুন্দর সুন্দর বই পাঠকদের উপহার দিতে পারে।💖🫶"

সাম্য সৈকত

সাম্য সৈকত , Jan 22, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"📚বুক রিভিউ 📚 বইয়ের নাম :- শ্রাবণের দিন লেখক :- আমিনুল ইসলাম ধরন :- অল্টারনেট হিস্টোরিক্যাল ফিকশন প্রকাশনী :- বেনজিন প্রকাশন প্রচ্ছদ :- উমর ফারুক আকাশ পৃষ্ঠা সংখ্যা :- ২১৬ মুদ্রিত মূল্য :- ৪৫০৳ শুরুর আগে :- ❝কেবলমাত্র বোমা বা বন্দুক দিয়ে বিপ্লব আসেনা, বিপ্লবের তলোয়ার ধার পায় বৈপ্লবিক চিন্তাশক্তিতে।❞ –ভগৎ সিং অল্টারনেট হিস্টোরিক্যাল ফিকশন জনরাটা দারুন ইন্টারেস্টিং একটা জনরা। এখানে লেখকের হাতে প্লট তৈরি করার অনেক সুযোগ থাকে। ইতিহাসকে ইচ্ছা মতো পরিবর্তন করে অনেক প্লট তৈরি করে ফেলা যায়। ইংরেজরা এই দেশে কখনোই আসেনি, নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশীর যুদ্ধে হারেননি, ভারত উপমহাদেশ স্বাধীন হলেও দেশ ভাগ হয়নি, ১৯৭১ এ পাকিস্তান স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ায় কখনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি, মুক্তিযুদ্ধ নয় মাসে শেষ না হয়ে তা এখনো চলমান, মুক্তিযুদ্ধে আমেরিকার রাশিয়া চিন জাপান সবাই জড়িয়ে পড়ায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু, এমন হাজারটা অল্টারনেট হিস্টোরি তৈরি করে উপন্যাস লেখা সম্ভব। তেমনই এক অল্টারনেট হিস্টোরি তৈরি করে 'আমিনুল ইসলাম' লিখেছেন "শ্রাবণের দিন", যেখানে ইংরেজদের শাসন থেকে ভারতবর্ষ কখনো মুক্ত হতে পারেনি। কাহিনী সংক্ষেপ :- ❝স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ কাজ নয়। কিন্তু একে ছাড়া বেঁচে থাকাও কঠিন। তাই যে কোনও মূল্যে স্বাধীনতা অর্জন করাই আমাদের প্রথম কর্তব্য হওয়া উচিত।❞ -মহাত্মা গান্ধি আমাদের এই গল্পে ১৯৪৭ সালে ভারত উপমহাদেশ স্বাধীন হতে পারেনি। ইংরেজরা নিজেদের চতুর বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণ করে ফেলে। সে সময়ের রাজনৈতিক দল এবং বিদ্রোহীদের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষমতা আরো পাকাপোক্ত করে ফেলে ইংরেজরা। আগের মতো লুটপাট না করে উপমহাদেশের উন্নয়নেও নজর দেয়, ফলে বহির্বিশ্বের কাছে জবাবদিহির আর ভয় থাকে না। কেটে যায় আরো দীর্ঘদিন। সময় ২০০৪ সাল, রেকর্ড পরিমাণ মার্ক নিয়ে মেধাবী ছাত্র রবিন পড়তে আসে ইংরেজদের তৈরি করা দেশের সবচেয়ে বড় ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি 'বেঙ্গলি ইনস্টিটিউট অভ টেকনোলজি (B.I.T.)' তে। B.I.T এর সব রেকর্ড ভেঙে দেওয়া রবিনের সাথে রুমমেট হিসেবে পরিচয় হয় গ্রামের সাধারণ ছেলে আশ্বিনের। পড়া ছাড়া তেমন কোনো কিছুতেই আগ্রহ নেই রবিনের। এদিকে ফুটবল পাগল আশ্বিন খেলোয়াড় হিসেবে অল্প সময়ের ভার্সিটির জনপ্রিয় ছাত্রে পরিণত হয়‌। পুরো ভার্সিটিতে রবিনের বন্ধু কেবল আশ্বিন আর ভালবাসার মেয়ে হৃদিতা। কিন্তু ধীরে ধীরে বদলে যেতে শুরু করে সবকিছু, বদলে যেতে থাকে রবিন-আশ্বিন-হৃদিতার জীবন‌ও। ইংরেজরা ১৯৪৭সালে বিদ্রোহের আগুন দমন করে ফেললেও পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলতে পারেনি। পুরো উপমহাদেশে নতুন করে শুরু হয় বিদ্রোহ, তৈরি হয় নতুন নতুন বিদ্রোহী দল। আর তাদের দমন করার জন্য ইংরেজ সরকার তৈরি করে স্পেশাল ফোর্স "আর. আর. বি"। আর এই দলের প্রধান ইয়াসির আলী যাকে অনেকেই ডাকে 'দ্য বিগ ডগ'। যার একমাত্র লক্ষ্য বিদ্রোহীদের খতম করা। এদিকে বসে নেই বিদ্রোহীরাও, জায়গায় জায়গায় ছোট ছোট হামলার মাধ্যমে চালিয়ে যাচ্ছে বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহী দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কুখ্যাত এবং ভয়ংকর মজনু গালিব এর দল। ১৯৪৭ এর পর আরো একবার বড় আকারে বিদ্রোহ শুরু হয়, আর এই যুদ্ধের কেন্দ্রে ছিলেন মির্জা গালিব। যার ডাকে সারা দিয়ে উপমহাদেশের সব বিদ্রোহী দল একসাথে লড়াই শুরু করে। সেবার মির্জা গালিব ইংরেজ সেনাবাহিনীর হাতে মারা যাওয়ার আগে বিদ্রোহ চালিয়ে যাওয়ার ভার দিয়ে যান "ছায়া"র হাতে। 'ছায়া' এক রহস্যময় চরিত্র। বিদ্রোহীরা বিশ্বাস করেন ছায়ার হাত ধরেই স্বাধীনতার স্বাদ পাবে উপমহাদেশ। কেউ কেউ বলেন মজনু গালিবই ছায়া। তবে ছায়ার সঠিক পরিচয় কেউই জানে না। সবাই বিশ্বাস করে একদিন আড়াল থেকে বের হয়ে আসবে ছায়া, সেদিন আবারো পুরো উপমহাদেশের বিদ্রোহী দলগুলো এক হবে, শুরু হবে স্বাধীনতার লড়াই। পাঠ প্রতিক্রিয়া :- ❝স্বাধীনতা এক আশীর্বাদ, এক আরাধ্য বিষয়। যে জাতি স্বাধীনতার স্বাদ পায় না, সে জাতি জীবনের আসল মানে খুঁজে পায় না।❞ অল্টারনেট হিস্টোরি নিয়ে লেখা বই এর আগে কখনো পড়িনি, এটাই ছিল প্রথম। তাই শুরু করছিলাম জিরো এক্সপেক্টেশন নিয়ে। এবং এটা বলতেই হয় যে দারুন একটা বই ছিল "শ্রাবণের দিন"। পড়ার পুরো সময়টা আটকে রাখার মতোই একটা বই, কখনো মনে হয়নি স্লো বা বিরক্তিকর। ইংরেজরা এই উপমহাদেশে থেকে গেলে কেমন হতো সেটা লেখক দারুন ভাবেই নিজের লেখায় তুলে ধরছেন। সাথে ছোট বড় কিছু টুইস্ট, দ্রুত গতির গল্প, চমৎকার লেখনশৈলি বইটাকে উপভোগ্য করে তুলছিলো। ব‌ইয়ের প্রতিটি চরিত্র সুন্দর ভাবেই ফুটিয়ে তুলছেন লেখক। চরিত্রগুলোর চিন্তাধারা, চিন্তার পরিবর্তন খুব সুন্দর ভাবেই ফুলে উঠছে লেখায়। এছাড়া অনেক কিছুই ছিল যেগুলো আমাদের বর্তমান সময়ের সাথে অপরিবর্তিত আছে। আছে টাইটানিক মুভি, সমাজের দুর্নীতি, ভার্সিটির র‌্যাগিং, ছাত্র রাজনীতি, ধর্ম রাজনীতি সহ আরো অনেক কিছুই যা আমাদের চিরপরিচিত। এখন আসি কোন কোন জায়গায় আরো ভালো হতে পারতো বলে আমার মনে হইছে সেই বিষয়ে। ইংরেজরা এখনো এই দেশ শাসন করলেও বইতে স্ট্রং কোনো ইংরেজ চরিত্র নাই, ইংরেজদের বর্তমান কাজ কর্ম, শাসন শোষণ ভাসাভাসা দেখানো হইছে। এমনিতে দেখা যায় অনেক বই অযথা টেনে বড় করে অনেক লেখক, এই বইয়ের ক্ষেত্রে আমার কাছে উল্টো মনে হইছে। প্লট এমন ভাবে তৈরি করা যে এই গল্পকে আরো বড় করার যথেষ্ট জায়গা ছিল। লেখাটাকে বড় করলে আমার মনে হয় আরো ভালো হতো। সেই সাথে কিছু স্ট্রং ইংরেজ চরিত্র থাকলে তাদের শোষণের চিত্রটাও ভালো ভাবে ফুটত। তবে সব মিলিয়ে এই বই দারুন ছিল এটা বলতেই হবে। নতুন একটা জনরা নিয়ে লেখা এমনিতেই যে কারো জন্য কঠিন, সেখানে লেখক সুন্দর ভাবেই সব সামলেছেন। যারা সামাজিক উপন্যাসের মাঝে ব্যতিক্রম কিছু পড়তে চান তাদের কাছে এই ব‌ইটা নিঃসন্দেহে ভালো লাগবে এবং উপভোগ করবে। প্রচ্ছদ,প্রডাকশন ও অন্যান্য :- এআই দিয়ে বানানো এই প্রচ্ছদটা সুন্দর ছিল। সেই সাথে বেনজিন প্রকাশন এর প্রডাকশন‌ও দারুন হ‌ইছে। ডাস্ট কাভারটা লেদার টাইপের উঁচুনিচু ফিল দেয়, এটা সবচেয়ে ভালো লাগছে। প্রডাকশন অসাধারণ হলেও সম্পাদনা এবং প্রুফ রিডিং আরো ভালো করা দরকার ছিল। ছোট ছোট টাইপিং মিস্টেক ছিল কিছু জায়গায়। এছাড়া তিন জায়গায় গল্পে অসঙ্গতি চোখে পড়ছে আমার, যেটা সম্পাদকের‌ও চোখে পড়া উচিত ছিল। ১ম অসঙ্গতি পঞ্চম অধ্যায়ে, যখন রবিন আর আশ্বিন হলের ক্যান্টিনে ভয়ে ভয়ে খেতে যাচ্ছিল কারণ সেটা তাদের প্রথমবার হলের খাবার খাওয়া। কিন্তু রবিন হলে উঠছে আরো দুইদিন আগে বিকেলের দিকে, আশ্বিন আরো আগেই উঠছে। তারা নিশ্চ‌ই দুইদিন না খেয়ে ছিল না, আরো আগেই তাদের হলের খাবার খাওয়ার কথা। ২য় অসঙ্গতি তখন যখন খেলা শেষে আশ্বিন পুরস্কার নিতে প্রিন্স হ্যারির কাছে যায়। এখানে বিস্তারিত বললে স্পয়লার হয়ে যাবে তাই বলবো না, যারা পড়ছেন আশাকরি বুঝে যাবেন। সেই সময় রবিন দৌড়ে আশ্বিনের কাছে গেছে। কিন্তু এটা ঘটার কথা না, তাকে অনেক আগেই সিকিউরিটি আটকে দেওয়ার কথা অথবা আশ্বিনের সাথে যা ঘটছে রবিনের সাথেও এক‌ই জিনিস ঘটার কথা। প্রায় একমাস আগে পড়া শেষ করে এতোদিন পর রিভিউ লিখতে গিয়ে ৩য় অসঙ্গতি কোন জায়গায় ছিল এখন আর মনে পড়ছে না। স্মৃতিশক্তি বড়‌ই দুর্বল হয়ে গেছে। যাইহোক, ছোট এই দুই তিনটা অসঙ্গতি বা টাইপিং মিস্টেকের জন্য পড়ার গতিতে বা কাহিনীতে তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না। গল্পের ফ্লোতে এসব বেশিরভাগ পাঠকের চোখেও পড়বে না হয়তো। আশাকরি রিপ্রিন্ট এর সময় এগুলো ঠিক করে ফেলবেন লেখক এবং প্রকাশনী। সব মিলিয়ে দারুন উপভোগ্য একটা ব‌ই ছিল এটা। আশাকরি লেখক এই জনরায় আরো লিখবেন। বই হোক সব সময়ের সঙ্গী ❤️ Happy Reading ❤️"

সাকিব আহমেদ

সাকিব আহমেদ , Dec 18, 2023

★ ★ ★ ★ ★

"#আড্ডাখানায়_প্রগতি #রিভিউ_২০২৩ ১৯৪৭, ১৯৭১…. ভারতীয় উপমহাদেশ ভাগ হয়েছিল তিনটি ভাগে। প্রথম ভাগে ধর্মের বিভেদ আলাদা করে দিয়েছিল হিন্দু, মুসলিমদের। জন্ম নিয়েছিল, ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের। এরপর আবারও বিভেদ। জাতিসত্তা কিংবা অন্যায় অবিচারের সাথে আপোষহীন এক জাতি অ স্ত্র তুলে নিয়েছিল নিজেদের টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে। অস্তিত্ব জানান দিয়ে ছিনিয়ে নিয়েছিল বিজয়। মানচিত্রের বুকে জন্ম নিয়েছিল নতুন একটি দেশ! কিন্তু যদি এমন কোনো ঘটনাই না ঘটত? যদি পরাধীনতার দুইশ বছর দীর্ঘায়িত হতো? ১৯৪৭ সালের পরও ব্রিটিশদের এই বিশাল ভূখণ্ডে ঘাঁটি গেড়ে আরও পঞ্চাশ বছর নিজেদের শাসন চালিয়ে যেত? তবে কী হতো? কীভাবে চলত সবকিছু?এখনো সেই শোষণের বেড়াজালে জড়িয়ে থাকতে হতো? না-কি অন্য কোনো উপায়ে এই ভারতবর্ষকে হাত করে রাখার চেষ্টা? স্বাধীনতাকামী জনসাধারণ তা মেনেই বা নিবে কেন? গল্পটা এমনই এক সময়ের। যখন স্বাধীন হয়নি এই ভারতবর্ষ। ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থেকে এখনো পরাধীনতার গল্প লিখে যাচ্ছে। তার মধ্যেই চলছে জীবন। জনগণকে খুশি রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে ব্রিটিশ শাসকগণ। উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে। একবিংশ শতাব্দীর সূচনা হয়েছে কেবল তখন। সেই সময় বাংলার সবচেয়ে বড় ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় বিআইটিতে ভর্তি হতে এসেছে রবিন। বাংলা কখনো এমন প্রতিভা নিজ চোখে দেখেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সকল রেকর্ড ভেঙে দিয়ে নিজেকে জানান দিয়েছে। পেয়েছে গণিত অলিম্পিয়াডে গোল্ড মেডেল। এমন একজন কেবল পড়াশোনা ছাড়া কিছুই বোঝে না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় তো এমন ক্ষেত্র, যেখানে পড়াশোনার বাইরেও অন্য কিছু চলে। আর এই চলনে খেই হারাবে না তো রবিন? অশ্বিন গ্রামের ছেলে। ভালো ছাত্র ছিল, ফলে বিআইটিতে সুযোগ পাওয়া অবধারিত ছিল। রবিনের রুমমেট, প্রথম ও একমাত্র বন্ধু সে। পড়াশোনার বাইরেও তার অপার জ্ঞান। ভালো ফুটবল খেলে। এই ফুটবল নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দলে সুযোগ পেয়েছে সে। এবার লক্ষ্য জাতীয় দল। কিংবা গ্রেট ব্রিটেনের হয়ে খেলা। এই ফুটবল খেলতে গিয়েই জড়িয়ে যাওয়া ভয়াবহ এক ঘটনায়। হয়তো বিজয়ীর বেশে ফেরা, নয়তো নিঃশেষ হয়ে যাওয়া! আশ্বিনের ভাগ্যে কোনটা ঘটবে? সকল পরাধীনতার পেছনে গল্প লেখা হয় স্বাধীনতার। স্বাধীনতাকামী মানুষেরা লড়াই করে। ছিনিয়ে আনতে চায় বিজয়। পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে চায়। আর সে কারণেই জন্ম নেয় বিদ্রোহীরা। কালে কালে কত বিদ্রোহী আসে, কত লড়াই চলে— তারপরও কি বিজয়ের এসে ধরা দেয়? মির্জা গালিব ডাক দিয়েছিলেন স্বাধীনতার জন্য এক লড়াইয়ের। কিন্তু তিনি পারেননি। হারিয়ে গেছেন গভীর অন্তরালে। তবে তিনি নির্বাচন করে গিয়েছেন উত্তরাধিকার। ছায়া আসবে, আবারও ডাক দিবে স্বাধীনতার। তখন আর পরিত্রাণ পাওয়া যাবে না। এ দেশ একদিন ঠিকই স্বাধীন হবে। মুক্ত হবে ব্রিটিশদের থাবা থেকে। শ্রাবণ ছেলেটা বদলে গিয়েছে। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে বিআইটিতে ভর্তি। দিন কাটছিল ভালো। কিন্তু সবসময় যে ভালো সময় যায় না। কোনো এক কারণে ভেঙে গুড়িয়ে যাওয়া শ্রাবণ, চলার পথে খেই হারিয়েছে বারবার। যোগ দিয়েছিল বিদ্রোহীদের দলে। সেখান থেকে ফিরেও এসেছিল। পড়াশোনা আর আগের মত নেই। শ্রাবণও যে নিজের মত নেই। শ্রাবণ অপেক্ষা করে শ্রাবণের দিনের। যে দিন হয়তো স্বাধীনতা আসবে, কিংবা আসবে তার মা। যে কথা দিয়েছিল ফিরে আসার। অথবা কিছুই আসবে না। অপেক্ষা করতে করতে একসময় নিঃশেষ হয়ে যেতে হবে। মির্জা গালিবের পুত্র মজনু গালিব হাল ধরেছে বিদ্রোহীদের। সে অপেক্ষা করছে। তার বাবার উত্তরাধিকার ছায়া একদিন ঠিকই আত্মপ্রকাশ করবে। তার আগে নিজের দায়িত্ব সে পথ সুগম করে দেওয়া। কিন্তু এ লড়াই যে বড্ড কঠিন। তারই বন্ধু আজ বিপরীত অবস্থানে। বিদ্রোহী দমন দলের নেতা ইয়াসির আলী খুঁজে বেড়াচ্ছে নিজেরই বন্ধুকে। খুঁজছে ছায়া নামের সেই অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও। আর সেজন্য যত গভীরে যাওয়া যায় ইয়াসির আলী যাবে। এ কেবল বিদ্রোহী দমন বা ব্রিটিশদের সাথে হাত মেলানো নয়। এর সাথে মিশে আছে ব্যক্তিগত ক্ষোভ, প্রতিশোধের নেশায় পাগল হওয়া এক হিংস্র আবেগ। যার বীজ বপন হয়েছিল এক যুগেরও বেশি সময় আগে। হৃদিতার সাথে রবিনের সম্পর্ক সেই কলেজ জীবন থেকে। সেই সম্পর্ক এসে ঠেকেছে বিশ্ববিদ্যালয়েও। পড়াশোনা ভিন্ন কোন কিছু না বোঝা রবিনও ভালবাসতে জানে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে আছে রাজনীতির অদৃশ্য এক জাল। দেশের জায়গায় জায়গায় বিদ্রোহ হচ্ছে। মানুষ হারাচ্ছে প্রিয়জনকে। এ অবস্থায় কি থাকা যায়? অসম্ভব ব্রিলিয়ান্ট রবিন এক সময় দেশ ছাড়বে। সবার মতো সে-ও একই আশা তাকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভাগ্য কখনো কখনো অন্য গল্পের দৃশ্যপট রচনা করে। এ গল্প এক পরাধীন দেশের, যে দেশ এখনো খুঁজে ফিরে স্বাধীনতা। এ গল্প ভালোবাসার, বন্ধুত্বের; এক আবেগ মোড়ানো যাত্রার। যে যাত্রার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে কিছু জীবনের আখ্যান। সবশেষে যে প্রশ্নটা করা যায়, অবশেষে বিজয়ের উপাখ্যান লেখা হবে তো? ▪️বই পর্যালোচনা ও পাঠ প্রতিক্রিয়া : “শ্রাবণের দিন” একটি অলটারনেটিভ হিস্টোরি ঘরানার বই। পৃথিবীর এ যাবৎকালের শত-সহস্র ইতিহাসের মধ্যে যা সংঘটিত হয়েছে, তা যদি সংঘটিত না হতো? বদলে যেত অন্য রূপে? কেমন হতো? ইতিহাস লেখা হয় বিজয়ীদের দ্বারা। পরাজিতদের কেউ মনে রাখে না। পরাজিতরা যদি সেবার না হেরে বিজয় ছিনিয়ে নিত, কিংবা যেভাবে বিজয়ের গল্প লেখা হয়েছে তার ভিন্ন কোনো গল্প হতো, তবে কেমন হতো? মূলত বিকল্পের ইতিহাস এমনভাবে রচিত হয়। “শ্রাবণের দিন” সেই ইতিহাসকে ভালোভাবে উপস্থাপন করেছে। ১৯৪৭ সালে এই উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ শাসন বিদায় না নিয়ে ধরা যাক ২০০২/৩ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হলো। লেখক বইটিতে সে বর্ণনাই করেছেন। এখানে লেখক খুব দারুণভাবেই ব্রিটিশ শাসনের এই সময়কাল রচনা করেছেন। বিশেষ করে যেভাবে তাদের এই শাসনকার্য সম্পন্ন হয়, সেই দিকে আলোকপাত করেছেন। ব্রিটিশরা যে শাসন শোষণের পাশাপাশি এই উপমহাদেশের উন্নতিও ঘটিয়েছে, লেখক তা দেখানোর চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে রাজনীতির রূপ এখানে ভালো মতো ফুটে উঠেছে। এখানে লেখক বাংলা অঞ্চলকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখিয়েছেন। হিন্দুস্তান বা পাকিস্তানের পাশাপাশি এই বাংলাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই তো বিআইটি নামের এক ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় এখানে শোভা পায়। ভাষা হিসেবে বাংলার গুরুত্বও কম নয়। খেলাধূলাতেও বাংলার যে এগিয়ে যাওয়া, লেখকের লেখাতে তাও ফুটে উঠেছে। উপমহাদেশের ব্রিটিশ শাসনের গল্প এখানে বলা হলেও লেখকের লেখার ভিত্তি ছিল বাংলা। এই বাংলায় গড়ে ওঠে বিদ্রোহ। ব্রিটিশ শাসনে দেশের উন্নতি হলেও অনেকে মনে করেন এমন পরাধীনতায় বন্দী থাকা উচিত হয়। তাই বিদ্রোহ হয়, স্বাধীন হওয়ার জন্য চেষ্টা চলে। কিন্তু এর ভবিষ্যত কী? যুদ্ধ-বিগ্রহ কখনো কোনো জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে না। বরং প্রতিষ্ঠিত জাতিকে নিমিষে পিছিয়ে দেয় শত কিংবা তারচেয়েও বেশি বছর। আর হয়তো সে কারণেই সাধারণ মানুষ যেকোনো মূল্যে তা এড়িয়ে যেতে চায়। পালিয়ে বেড়াতে চায়। তবে এই বাংলার মানুষ জাতিগতভাবে আবেগে ভেসে যেতে পছন্দ করে। সেকারণেই হাতে অস্ত্র তুলে নেয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে। নিজেদের অধিকার পালনে সচেষ্ট হয়। সাদা চামড়ার মানুষেরা আমাদের নিজেদের সকল ক্ষেত্র দখল করবে, মেনে নেওয়া যায় কি? আর সে কারণেই বিদ্রোহের সূচনা, কিন্তু সমাপ্তি কোথায়? লেখক আমিনুল ইসলামের অন্যান্য বইয়ের তুলনায় এই বইয়ের লেখনী বেশ পরিণত লেগেছে। শব্দচয়ন, বাক্য গঠন ভালো ছিল। কিছু জায়গায় অবশ্য মনে হয়েছে আরো বেটার হতে পারত, তারপরও খারাপ না। বিশেষ করে লেখকের অন্যান্য বইয়ে সংলাপের কিছু দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়, এই বইয়ে সংলাপ ছিল অসাধারণ। বিশেষ করে কিছু কিছু সংলাপ এতটাই মনোমুগ্ধকর, যেন মনের মধ্যে অন্য রকম প্রশান্তি অনুভূত হয়। গল্প বলার চেয়ে সংলাপের গুরুত্ব এই বইতে অনেক বেশি। বইটির সবচেয়ে যে। বিষয়টি ভালো লেগেছে, কিছু ফ্ল্যাশব্যাক এনেছেন লেখক, সে অংশগুলো ভালো ছিল। টুকরো টুকরো ঘটনা, এর সাথে পেছনের কিছু দৃশ্যের সংযোগ স্থাপনের চিত্র বইটিকে আরও প্রানবন্ত করে তুলেছে। এছাড়া যে ঘটনাগুলো সামনে আসে সেগুলোর সাথে এক ধরনের আবেগী সংযোগ ছিল লেখকের। বেশ কিছু মুহূর্ত হৃদয় দিয়ে অনুভব করা গিয়েছে। তবে সব ভালোর তো বিপরীত অংশ থাকে। কিছু জায়গা অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ। বিশেষ করে কিছু রোমান্টিক, প্রেমময় দৃশ্য না এলেও পারত। সিরিয়াস মুহূর্তে এমন দৃশ্য বেশ বিরক্ত লেগেছে। আগেই বলেছি, কিছু অংশ হৃদয় দিয়ে অনুভব করা হয়েছে। এখানে লেখক কিছু মুহূর্ত পাঠকের উপর ছেড়ে দিয়েছেন অনুভব করার করার জন্য। যা বেশ ভালো লেগেছে। পাঠক নিজ দায়িত্বে এক অদ্ভুত অনুভূতিতে নিজেকে জড়িয়ে নিবেন, যা হতে পারে ভালো বা খারাপ। কিছু জায়গায় অবশ্য লেখক সেই অনুভূতি লেখক চাইলেই আনলেই পারতেন। যেমন, একটা দৃশ্যের কথা মনে আছে— যখন রবিন একটা বিপদ থেকে ফিরে, তখন হৃদিতা রবিনের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই অংশ অন্যভাবে বর্ণনা করা যেত। তাহলে হয়তো তাদের ভালোবাসা, আবেগ পাঠক হিসেবে নিজেও অনুভব করতে পারতাম। কিছু কাকতালীয় বিষয় ছিল। সব এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছে। কোথাও কোথাও সবকিছুর সংযোগ এক। এই এক বিন্দুতে মিলিত হওয়া অবশ্য খারাপ লাগেনি। বরং উপভোগ্য ছিল। তবে আমার মনে হয়েছে গল্পের কলেবর আরেকটি বাড়তে পারত। বিশেষ করে ইংরেজদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখক বর্ণনা করতে পারতেন। খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার একটা আক্ষেপ আছে। যদিও সেটা চমৎকার। আমার মনে হয়েছে এমন সমাপ্তি এক প্রকার তৃপ্তি দেয়। তারপরও চাইলে ঘটনাক্রম বৃদ্ধি করা যেত। ▪️চরিত্রায়ন : এই বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে চরিত্র। লেখক এখানে বাজিমাত করেছেন। যে কয়টি মূল চরিত্র ছিল, প্রতিটি চরিত্র ফুটে উঠেছে অসাধারণভাবে। খুব যে ব্যাখ্যা ছিল এমন না, যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই চরিত্র গঠনে ভূমিকা পালন করেছে। রবিন, অশ্বিন, হৃদিতা, শ্রাবণ, ইয়াসির আলী, মজনু বিদ্রোহী, মির্জা গালিব, গ্রেস কিংবা পার্কার— সবাই প্রয়োজন মতো সমানভাবে সুযোগ পেয়েছে। কেউ বেশি বা কম এমন না। সবার হয়তো পছন্দের চরিত্র হবে শ্রাবণ। কিন্তু আমার ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ হয়েছে রবিনকে। রবিনের দৃঢ়তা, বুদ্ধিমত্তা সবকিছুই বেশ ভালো লেগেছে। যে আবেগে হারায় না, বিচার বুদ্ধি দিয়ে সবকিছু জয় করতে পারে। তাই তো শেষবেলায় এমন এক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে। কিন্তু দিন শেষে হয়তো আক্ষেপ থেকে যাবে আশ্বিন বা শ্রাবণের জন্য। তবে এই বইয়ে দীপা নামের এক চরিত্রের আগমন ঠিক যেন মিলল না। এখানে শ্রাবণের চরিত্রও দুর্বল হয়ে গিয়েছে। আমি বুঝছি, লেখক হয়তো শ্রাবণের মানসিক স্থিরতা হারানো বোঝাতে এমন এক দৃশ্য চিত্রায়িত করেছেন, তবে অন্যভাবেও করা যেত। এখানে একজন স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে স্থান দিয়েগল্পের মাধুর্য্য কিছুটা হলেও ফিকে হয়ে গিয়েছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের কথা তো বলাই হয়নি। ছায়া! কে সে? সেই রহস্যটা যেভাবে উন্মোচিত হয়েছে, সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে। সেই রহস্য তোলা থাক! ▪️বানান, সম্পাদনা ও অন্যান্য : বইটির স্পেশাল এডিশন বাজারে থাকলেও আমি নিয়েছি রেগুলার এডিশন। প্রোডাকশন কোয়ালিটি বেশ ভালো লেগেছে, সম্পাদনার ত্রুটিও খুব একটা লক্ষ্য করিনি। বানান ভুল তেমন চোখে পড়েনি। প্রোডাকশনের দিক দিয়ে বেনজিন তার সেরা কাজটি করেছে। অবশ্য বইয়ের গল্পে এমনভাবে ডুবে গিয়েছিলাম, বানান ভুল বা সম্পাদনা ত্রুটি চোখে ধরা দেয়নি। তবে দুয়েক জায়গায় শব্দের এদিক ওদিক ছিল। এই প্রচ্ছদটা আমার বেশ ভালো লাগে। বিশেষ করে সামনের অংশের চেয়েও প্রচ্ছদের পেছনের অংশ আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। ▪️পরিশেষে, গল্পের শেষেও কি শেষ হলো এই পরাধীনতার গল্প? কে জানে? হয়তো শেষ হয়েও হইলো না শেষ। হয়তো পাওয়া হলো না স্বাধীনতা। কিংবা পাওয়া গেল বিজয়ের মঞ্চে নতুনের উত্থান। কেউ হারালো, হারিয়ে গেল। কেউবা ফিরে পেল নিজেকে নতুনভাবে। সম্পর্কের অদলবদল, প্রিয় মানুষের জন্য আকুতি— তারপর? আমরা যেভাবে কল্পনা করি, সেভাবে কি জীবনের গল্পটা লেখা হয়? ▪️বই : শ্রাবণের দিন ▪️লেখক : আমিনুল ইসলাম ▪️প্রকাশনী : বেনজিন প্রকাশন ▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২১৬ ▪️মুদ্রিত মূল্য : ৪৫০ টাকা ▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.২/৫"

Kazi Hasan Jamil

Kazi Hasan Jamil , Dec 17, 2023

★ ★ ★ ★ ★

"তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা, তোমাকে পাওয়ার জন্যে আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়? আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন? . মুহাম্মদ জাফর ইকবালের “আমার বন্ধু রাশেদ” পড়েছেন? কেমন লেগেছিল? আমি একদম বই পড়ার শুরুরদিকে বইটা পড়েছিলাম। তখন ঠিক যেন হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল, খুবই ভালো লেগেছিল। এটা ৫-৬ বছর আগের কথা। . “শ্রাবণের দিন” পড়তে গিয়ে ”আমার বন্ধু রাশেদ” এর কথা মনে পড়ে নস্টালজিক হয়ে পড়েছিলাম। দুইটা বইয়ের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন, একটা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের অধীনে থাকা পূর্ব বাংলার মানুষের গল্প; আরেকটা ২০০৪ সালে এসেও ব্রিটিশদের অধীনে থাকা এই উপমহাদেশের মানুষের গল্প। প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও দুইটা গল্পেই একটা মিল রয়েছে। সেটা কী? মুক্তির তৃষ্ণা...স্বাধীনতার স্বাদ আস্বাদনের তীব্র ইচ্ছা... . পেছনে ফিরে মানব সভ্যতার ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে যুগ যুগ ধরেই মানুষ একে অপরের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। এতো যুদ্ধের মধ্যে অধিকাংশই শুধুমাত্র স্বাধীনতা অর্জনের জন্য। কেউ অন্যের স্বাধীনতা হরণ করে আধিপত্য বিস্তার করতে চায় তো কেউ দাসত্বের বন্ধনে আবদ্ধ না হয়ে নিজের স্বাধীনতা রক্ষা করতে কিংবা পুনরুদ্ধার করতে চায়। কী আছে এই “স্বাধীনতা” শব্দের মধ্যে যে এতো এতো রক্ত ঝড়ার পরেও মানুষ স্বাধীনতা চায়? . ----------------------------------------------------- . দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উপমহাদেশে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। উপমহাদেশ প্রায় স্বাধীন হয়েই গিয়েছিল। কিন্তু তখনই ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী কয়েকজন নেতা আততায়ীর হাতে নিহত হয় এবং তৎকালীন প্রতিবেদন অনুযায়ী সেইসব খুনের পেছনে রয়েছে উপমহাদেশেরই এক রাজনৈতিক সংগঠন। এই নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে অরাজকতা ঠেকাতে ব্রিটিশরা সারা দেশের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেয় এবং উপমহাদেশকে এই রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে তুলে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না বলেই তারা ধারণা করে। বিশ্বের সবগুলো ক্ষমতাবান রাষ্ট্র তাদের এই সিদ্ধান্তে সাধুবাদ জানায়। আর তারাও শেষ মুহুর্তে যুগান্তকারী কিছু সিদ্ধান্ত নেয়। তৎকালীন ক্ষমতায় থাকা কয়েকজন ব্রিটিশ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করে এবং উপমহাদেশের মানুষের কাছে এতোদিনের শোষণমূলক আচরণের জন্য ক্ষমা চায়। পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা প্রস্তাব করে যার ফলে সাধারণ মানুষসহ রাজনৈতিক দলগুলোও ঠান্ডা হয়ে যায়। . কিন্তু অনেকেই ব্রিটিশদের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি, যেকোনো কিছুর বিনিময়ে হলেও তারা এই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক থেকে স্বাধীনতা লাভ করতে চেয়েছিল। সমস্ত উপমহাদেশের এই বিদ্রোহীদের নেতা ছিলেন মির্জা গালিব; পুরো ব্রিটিশ সাম্রাজ্য কাঁপিয়ে দিয়েছিল যে নাম। এসব পুরোনো কথা, মির্জা গালিবের মৃত্যুরও এক যুগ হতে চললো। . বর্তমানে বাংলার সবচেয়ে কুখ্যাত বিদ্রোহী মজনু গালিব; যাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে 'রিপ্রেসন রিভেলিয়ন ব্যাটেলিয়ন - আর. আর. বি' দলের প্রধান, বাংলার স্বাধীনতাকামী বাহিনীর ত্রাস ইয়াসির আলী। পুরো উপমহাদেশে যতগুলো বিদ্রোহী সংগঠন আছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুযোগ্য নেতা মজনু। নিখুঁত পরিকল্পনার সাথে প্রতিটা অভিযান পরিচালনা করে সে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ আদেশ দেওয়া হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব, মজনুকে শেষ করতে হবে। মজনুর বিদ্রোহকে ব্রিটিশ সরকার খাটো করে দেখার ভুল করবে না। যেই ভুল তারা করেছিল মির্জা গালিবের বেলায়। . মজনুসহ উপমহাদেশের সমস্ত বিদ্রোহীরা অপেক্ষায় আছে, উপযুক্ত নেতৃত্বের। বিরান্নব্বইয়ের যুদ্ধে উপমহাদেশের বিদ্রোহী নেতা মির্জা গালিব মারা যাওয়ার আগে যার হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল তার অপেক্ষায়। তাকে সবাই ডাকে “ছায়া” নামে। তাদের প্রাক্তন নেতার “ছায়া”। গত এক যুগেও সে প্রকাশ্যে আসেনি। কিন্ত সবাই জানে সে আসবে একদিন, স্বাধীনতার ডাক দিবে; তখন উপমহাদেশের সকল বিদ্রোহী দল এক হয়ে যাবে। . অন্যদিকে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র রবিন, এবার রেকর্ড পরিমাণ নাম্বার পেয়ে বেঙ্গলি ইন্সটিটিউট অভ টেকনোলজি - বি. আই. টি এর ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। সেখানে তার দেখা হয় আশ্বিনের সাথে, যে অসম্ভব ভালো ফুটবল খেলে। সদাহাস্যজ্বল আশ্বিন স্বপ্ন দেখে স্বাধীন দেশের। . ইউনিভার্সিটিতে আরো একজনের সাথে দেখা হয় রবিনের, আশরাফ শ্রাবণ যার নাম। ইউনিভার্সিটির তৃতীয় বর্ষ ছেড়ে যে গিয়েছিল বিদ্রোহী দলে। আবার ফিরেও এসেছিল। রবিনের চোখের সামনেই তাকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। . এদিকে মজনু বিদ্রোহীর আক্রমণ বেড়ে যায়। বড়ো বড়ো আক্রমণ চালায় তারা। উপর মহলে থেকে চাপ আসায় ইয়াসির আলী যেকোনো কিছুর বিনিময়ে ধরতে চায় মজনুকে। . ◑ পাঠ প্রতিক্রিয়া: . ❝মানুষকে কারা বেশি আঘাত করতে পারে জানিস? নিজের আপন মানুষরা। ব্রিটিশরা আমাদের কষ্ট দিচ্ছে, এতে আমাদের যতটা না গায়ে লাগছে, দেশ স্বাধীনের পর নিজের মানুষদের থেকে অন্যায় অবিচার পেয়ে এর চেয়ে বহুগুন বেশি কষ্ট লাগবে।❞ . গল্পটা আশ্বিনের, যে স্বপ্ন দেখে স্বাধীন দেশের যেখানে থাকবে না কোনো বহিরাগত শাসকগোষ্ঠী এই উপমহাদেশের মানুষদের শোষণের জন্য, যেখানে থাকবে না কোনো অন্যায়-অবিচার, যেখানে দেশের মেধাবী সন্তানরা মুখিয়ে থাকবে না পড়ালেখার পাট চুকিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর জন্য। . ❝তোমার নাম শ্রাবণ, কারণ আব্বা শ্রাবণ মেলা ভালো মাস। এই মাসে সুন্দর একখান ফুল ফুটে, কদম ফুল। তারপর বিলে গেলে পাওয়া যায় বিল ভর্তি শাপলা। আম, কাঁঠাল, আনারস চারদিকে ফল আর ফল। কোনো অভাব থাকে না আব্বা, তুমিও আমাগো জীবনের সব অভাব নিয়া গেছ। তুমি শ্রাবণ মাসেই জন্মাইছ তাই মাসের লাহান তোমার নামও শ্রাবণ রাখছি।❞ . গল্পটা শ্রাবণের, ছোট বেলায় যার মা তাকে বলেছিল আগামী শ্রাবণ মাসে শ্রাবণের জন্য তিনি একটা ছোট বোন নিয়ে আসবে, শ্রাবণ যার সাথে সারাদিন খেলবে। কিন্তু সেই শ্রাবণের দিন আর কখনোই আসেনি; শ্রাবণও তার সেই মা কে আর কখনো দেখতে পারেনি। যার কাছে শ্রাবণের দিন হলো, আকাশের ওই চাঁদখানা। যা দেখে আমরা মুগ্ধ হই, কিন্তু কখনও হাত বাড়িয়ে ধরতে পারি না। এত কাছে, এত কাছে, মনে হয় যেন হাত বাড়ালেই ধরতে পারবো কিন্তু কখনও পারি না। যে আজও অপেক্ষায় আছে শ্রাবণের দিনের। . ❝তুই আমার জন্য একটা কাজ করতে পারবি? যখন দেশ স্বাধীন হবে তখন ককক্সবাজার সী বিচে গিয়ে বড় করে আমার নাম লিখে আসবি। যেন হ্যালিকপ্টার থেকেও দেখা যায়।❞ . গল্পটা স্বাধীনতাকামী মানুষের, যারা স্বাধীন ভূখণ্ডে মাথা উঁচু করে বাঁচার জন্য নিজের জীবন দিতেও প্রস্তুত ছিল। যাদের কাছে পরিবার মানে শুধুমাত্র মা-বাবা, ভাই-বোন না; সমগ্র দেশের মানুষকেই যারা নিজের পরিবারের সদস্য ভাবে, আপন ভাবে। যাদের দুর্দশা দেখে তাদের মন ডুকরে কেঁদে ওঠে। পরাধীনতার শেকল ভেঙে যারা দেশকে স্বাধীন করতে চায়, দেশের মানুষকে মুক্ত করতে চায়, গল্পটা তাদের। . একটা যুদ্ধ শুধুমাত্র দুই পক্ষের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে না, চারপাশে থাকা সবকিছুকে গ্রাস করে ফেলে, অনেকগুলো স্বপ্নকে ভেঙে তছনছ করে ফেলে এবং এরসবচেয়ে বেশি প্রভাব পরে সাধারণ মানুষের জীবনে। এছাড়া এই বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটা উপাদান ছিল সম্পর্কের টানাপোড়েন। ব্যক্তিগত সম্পর্কের দায়বদ্ধতার সামনে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাও ভারি হয়ে ওঠে; এসবই লেখক গল্পেচ্ছলে বলেছেনে এই বইয়ে। বইটা পড়ার সময় এতো এতো অনুভূতি চারপাশ থেকে ঘিরে ধরেছিল...সবকিছুই যেন আবেগ মিশ্রিত। . পাশাপাশি বইয়ের কিছু অংশ, চরিত্রদের সংলাপ পাঠকদের চিন্তার খোরাক জোগাবে, কিছু বিষয় নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে। ব্রিটিশদের থেকে উপমহাদেশের স্বাধীনতা হোক কিংবা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাই হোক, যে স্বাধীনতার স্বপ্ন এই গল্পের আশ্বিনের মতো লক্ষ-কোটি আশ্বিন দেখেছিল, সেই স্বাধীনতা কী আমরা আজ পর্যন্ত আদৌ পেয়েছি? নাকি শ্রাবণের কথাকেই সত্য প্রমাণ করে আজ আমাদের নিজেদের মানুষরাই, আপন মানুষরাই আমাদের সাথে অন্যায়-অবিচার করছে? ভাবনার একটা পরত পার হতে না হতেই আরেকটা পরত উঁকি দিবে অবচেতন মনে। . বইয়ের প্রতিটা চরিত্রকে লেখক তৈরী করেছেন অত্যন্ত যত্নের সাথে। সকল ধরনের মানবীয় অনুভূতি দিয়ে লেখক প্রতিটা চরিত্রকে উপস্থাপন করেছেন, ফলে চরিত্রগুলো হয়ে উঠেছে বাস্তব। বইয়ের অনেকগুলো চরিত্রই বিশেষ করে আশ্বিন, হৃদিতা, শ্রাবণ মনে দাগ কেটে যাওয়ার মতো। . “শ্রাবণের দিন” এ লেখক আসলে কিছু গল্প বলতে চেয়েছেন। গল্পগুলো ঔপনিবেশিক শাসনের না, পরাধীন উপমহাদেশের সাধারণ কিছু মানুষের গল্প। যে গল্পে উঠে এসেছে বর্তমান সময়ের কিছু তিতকুটে বাস্তবতা। সবমিলিয়ে দেশপ্রেম, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার এক দারুণ আখ্যান “শ্রাবণের দিন”। . ◑ লেখনশৈলী: . আমিনুল ইসলামের লেখা প্রায় সকল বই পড়া থাকায় নির্দ্বিধায় বলতে পারি “শ্রাবণের দিন” লেখকের এখন পর্যন্ত লেখা সেরা লেখাগুলোর একটি। বইয়ে লেখকের শব্দচয়ন, বাক্যগঠন ভালো ছিল। কিছুক্ষেত্রে উন্নতিরও সুযোগ ছিল, তবে তা সামান্যই। এছাড়া লেখকের আগের কিছু বইয়ে হঠাৎ হঠাৎ ইংরেজি শব্দের প্রবেশ ভ্রু সামান্য কুঞ্চিত করলেও এই বইয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো ভ্রুকুটির জায়গা ছিল না। কেননা এই গল্পের পটভূমি অনুযায়ী সংলাপে ইংরেজি শব্দ না আসাটাই বরং অস্বাভাবিক হতো। এছাড়া ভিন্নধর্মী প্লট বাছাই, কাহিনির যথাযথ সমাপ্তি, শক্তিশালী চরিত্রায়ন অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। . ◑ বানান, প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন ও অন্যান্য: . বইটা পড়ার সময় তেমন কোনো বানান ভুল আমার চোখে পড়েনি। এছাড়া বইয়ের প্রচ্ছদও বেশ নান্দনিক। প্রোডাকশন বেনজিন প্রকাশন এর অন্যান্য বই থেকে কিছুটা ভিন্ন কেননা এটা স্পেশাল এডিশনের একটি। হালকা নীলাভ কাগজের ছাপা, জেল কভারে লেদার বাইন্ডিং, গোল্ডেন এজ স্পেশাল এডিশনের মূল্যের হিসেবে ঠিকই লেগেছে। এখানে একটা কথা উল্লেখ্য স্পেশাল এডিশনের পাশাপাশি বেনজিন প্রকাশনের অন্যান্য বইয়ের মতো গতানুগতিক প্রোডাকশনেও বইটি প্রকাশিত হয়েছে যা পাঠক সুলভ মূল্যে সংগ্রহ করতে পারবে। . ◑ ব্যক্তিগত রেটিং: ৫/৫ . ◑ বই পরিচিতি: ▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬ ➠ বইয়ের নাম: শ্রাবণের দিন ➠ লেখক: আমিনুল ইসলাম ➠ জনরা: অল্টারনেট হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার ➠ প্রকাশনী: বেনজিন প্রকাশন ➠ প্রচ্ছদশিল্পী: উমর ফারুক আকাশ, সজল চৌধুরী ➠ পৃষ্ঠাসংখ্যা: ২১৬ ➠ মুদ্রিত মূল্য: ৪৫০ টাকা (রেগুলার এডিশন)"

প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)

বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর

বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

সম্পর্কিত অন্যান্য বই

সবগুলো দেখুন →
ময়ূরাক্ষী
একটু পড়ে দেখুন
ময়ূরাক্ষী হুমায়ূন আহমেদ
(277)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
তোমাকে
একটু পড়ে দেখুন
তোমাকে হুমায়ূন আহমেদ
(186)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
হিমু সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(314)
TK. 1,000 -20% OFF
TK. 800
মিসির আলি সমগ্র ২
একটু পড়ে দেখুন
মিসির আলি সমগ্র ২ হুমায়ূন আহমেদ
(143)
TK. 500 -20% OFF
TK. 400
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড হুমায়ূন আহমেদ
(116)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
একটু পড়ে দেখুন
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ হুমায়ূন আহমেদ
(69)
TK. 160 -14% OFF
TK. 138
তিনি ও সে
একটু পড়ে দেখুন
তিনি ও সে হুমায়ূন আহমেদ
(34)
TK. 135 -20% OFF
TK. 108
শুভ্র সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
শুভ্র সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(90)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480

বইটির রিভিউ লিখুন

আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।

বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন

আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।

"শ্রাবণের দিন" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন

রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।

বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন

সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।

বইটি শেয়ার করুন

বন্ধুদের সাথে এই বইয়ের তথ্য শেয়ার করতে পারেন

বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন

পাতা:

পাতা 1
শ্রাবণের দিন পাতা: 1 / 20
পাতা 2
শ্রাবণের দিন পাতা: 2 / 20
পাতা 3
শ্রাবণের দিন পাতা: 3 / 20
পাতা 4
শ্রাবণের দিন পাতা: 4 / 20
পাতা 5
শ্রাবণের দিন পাতা: 5 / 20
পাতা 6
শ্রাবণের দিন পাতা: 6 / 20
পাতা 7
শ্রাবণের দিন পাতা: 7 / 20
পাতা 8
শ্রাবণের দিন পাতা: 8 / 20
পাতা 9
শ্রাবণের দিন পাতা: 9 / 20
পাতা 10
শ্রাবণের দিন পাতা: 10 / 20
পাতা 11
শ্রাবণের দিন পাতা: 11 / 20
পাতা 12
শ্রাবণের দিন পাতা: 12 / 20
পাতা 13
শ্রাবণের দিন পাতা: 13 / 20
পাতা 14
শ্রাবণের দিন পাতা: 14 / 20
পাতা 15
শ্রাবণের দিন পাতা: 15 / 20
পাতা 16
শ্রাবণের দিন পাতা: 16 / 20
পাতা 17
শ্রাবণের দিন পাতা: 17 / 20
পাতা 18
শ্রাবণের দিন পাতা: 18 / 20
পাতা 19
শ্রাবণের দিন পাতা: 19 / 20
পাতা 20
শ্রাবণের দিন পাতা: 20 / 20
পাতা / 20
এই তথ্যটি জেনে রাখুন।

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।