৩য় মুদ্রণ, ২০১৮
সাতকাহন
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
ময়ূরাক্ষী
হুমায়ূন আহমেদ
তোমাকে
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র
হুমায়ূন আহমেদ
মিসির আলি সমগ্র ২
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
হুমায়ূন আহমেদ
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
হুমায়ূন আহমেদ
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | সাতকাহন |
| Author | সমরেশ মজুমদার |
| Publisher | নবযুগ প্রকাশনী |
| Edition | ৩য় মুদ্রণ, ২০১৮ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 848 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | উপন্যাস ও সাহিত্য |
| Weight | 1.08 Kg |
| ISBN | 9789848858462 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
103 Ratings and 30 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
৩০টি
880****357 , Aug 3, 2026
"good"
nmlina , Jan 21, 2026
"দুই বাংলার জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদের তুমুল জনপ্রিয় উপন্যাস সাতকাহন ,এক কথায় অসাধারণ ।"
880****919 , Dec 25, 2025
"একটা ভালো বই পড়ার মত। তার সাথে সব বাধা পেরিয়ে নিজের ইচ্ছা কে প্রাদ্ধান্ন দেয়া হয়েছে।"
S. M. Fazlay Rabby , Nov 18, 2025
"A beautifully written book that keeps you engaged from start to finish."
Md. Tareque Rahaman , Jun 1, 2025
"Recommended"
Rayhan Sarkar Rabby , May 1, 2025
"I finished reading the novel a little over a year ago. I bought it again just to keep it in my personal collection. It's a shame not to keep such a novel in my collection. One of the best novel I've ever read."
Shakil Hossen , Oct 27, 2024
"উপন্যাস টি খুবই ভালো - মনোযোগ সহকারে পড়েছি - বাঙালী মেয়ের জীবন যুদ্ধ। পরিশেষে ডিভোর্স খাও। উপন্যাস পড়ে বুঝলাম মেয়ে মানুষ উপার্জনক্ষম হলে পুরুষ মানে নাহ্ অর্থাৎ স্বামীকে মানে নাহ্।"
T M Raihan Masud , May 4, 2024
"কর্মজীবী,সংগ্রামী মেয়ে মানেই যে তাকে নিজের জীবনসঙ্গীর প্রতি এমন শীতল, ভাবলেশহীন হিসেবে চিত্রায়িত করতে হবে, এর কোনো মানে নেই। বাস্তব জীবনের সংগ্রামী মেয়েদের মনটা মায়ায় পরিপূর্ণ থাকে, তা শুধু ছোটবেলার গুরুজনদের প্রতিই না, জীবনসঙ্গীর প্রতিও। নায়িকার এই বর্ণনাটা সবার চোখে প্রশংসনীয় হলেও, আমার কাছে লাগে নি।"
pur****com , Mar 2, 2024
"Onek vhalo akti boi"
Tahmina Sultana , Jan 15, 2024
"নানা দস্যিপনা আর ছেলেমানুষিতে ভরা একটি এগারো বছরের ছোট্ট মেয়ে " দীপাবলির" একদিন ধুম করে বিয়ে হয়ে যায়। মেধাবী, সুশ্রী দীপার সব স্বপ্ন, ইচ্ছাকে মাটিচাপা দিয়ে তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের ঠিক তিনদিন পরে তাকে 'বিধবা থান' পড়তে হয়। স্বামীর সাথে কোনো প্রকার শারীরিক বা মানসিক সম্পর্কে যাওয়ার পূর্বেই পাওয়া বিধবা উপাধি নিয়ে দীপাকে কাটাতে হয় বাকিটা জীবন। সনাতন ধর্মের হাজারটা রীতি-নীতি পালন করা শুরু হয় এই এগারো বছর বয়স থেকেই। কিন্তু এতে দমে যায়নি দীপাবলি। যার নামের মধ্যেই নিহিত অন্ধকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আভাস সেই দীপাবলি ধীরে ধীরে তার জীবন সংগ্রামে চলার পথের হাজারো বাধা-বিপত্তিকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যেতে শুরু করে। কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সে অন্যায়ের সাথে আপোস করেনি। মেয়েদের ন্যায্য অধিকার আর ছেলেদের সমান হতে তাকে সারা জীবন সংগ্রাম করতে হয়েছে। তেজি, পরিশ্রমী আর সততাবান এই দীপাবলি চরিত্রটি পাঠককে ভাবতে শেখায়, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে শেখায়। স্বাধীনতা-উত্তর বাঙালি জীবনে স্বাধিকার অর্জনের লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রয়াসে মেয়েদের সাধ, সংকল্প ও সংগ্রামের এক জীবন্ত, ধারাবাহিক ছবি ফুটিয়ে তোলার জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে "সমরেশ মজুমদারের" এই সুদীর্ঘ, সুকল্পিত, সুবিন্যস্তএই উপন্যাস "সাতকাহন""
880****686 , Sep 16, 2023
"বাঙালী সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক "সমরেশ মজুমদার"-এর ব্যপক আলোচিত, দুটি খণ্ডে বিভক্ত, সাড়া জাগানো একটা উপন্যাস হলো 'সাতকাহন'। সাতকাহন আমার কাছে কোন বই বা উপন্যাস না। এটা আমার কাছে একজন সাহসী ও তেজস্বী নারীর গল্প। বিংশ শতাব্দীতে একটা নারীকে যত রকম ঘাত-প্রতিঘাতের সম্মুখীন হতে হয়েছিল, তার এক-একটি কানা-কড়ি লিপিবদ্ধ হয়েছে এ বইটিতে। এ গল্পের মূল নায়িকা দীপাবলি। তাকে নায়িকা না বলে একজন সংগ্রামী নারী বলাটাই বেশী শ্রেয়। দীপাবলির শৈশব কেটেছে জলপাইগুড়ির ডুয়ার্সের চা বাগানে। শৈশব ছিল তার আনন্দ ও স্মৃতিতে পরিপূর্ণ। কিন্তু তারপরই শুরু হয় প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে এগিয়ে চলা, স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করার অদম্য ইচ্ছা! আংড়াভাসা নদীর তীরের চা বাগান থেকে উঠে এসে স্বাধীন ভারতের একজন রেভিনিউ কর্মকর্তা হয়ে উঠার পেছতে শত প্রতিকূলতা এবং যুদ্ধের গল্প এটি।"
Tonmoy Debnath , Sep 10, 2023
"#প্রগতি_বইপোকা_বুক_রিভিউ বই পড়া মূলত শুরু হয় হুমায়ূন আহমেদকে দিয়ে। তাঁর সহজ ও সাবলীল লেখা পড়তে কখনোই সমস্যা হয়নি। হয়তো একারনেই বই পড়তে এক অন্য রকম ভালো লাগা তৈরি হয়। তবে এত দিন হুমায়ূন আহমেদের বই পড়ে ভাবলাম অন্য লেখকেরও বই পড়া উচিত। সমরেশ মজুমদারের সাতকাহন (১ম খন্ড) । উপন্যাসটি তার প্রধান চরিত্রের জীবনের সংগ্রামের গল্প বলে। উপন্যাসের সময়কাল স্বাধীন বাংলার পঞ্চাশের দশককে ঘিরে। তখনও বাংলাদেশ বলতে কোনো দেশ তৈরি হয়নি। বাংলাদেশ বলা হতো মূলত পশ্চিম বাংলাকেই । সাতকাহন উপন্যাসের কেন্দ্রচরিত্র দীপাবলী। দীপাবলী শৈশব থেকেই খুব দূরন্ত। বন্ধুদের সাথে খেলাধূলা করা, ফুল পাড়া, মাছ ধরা, চা-বাগানে ঘুরে বেড়ানো ছিল তার পচ্ছন্দের কাজ। কিন্তু সেইসাথে পড়াশোনায়ও ভালো ছিল সে। মা, বাবা, ঠাকুমা ও দুই ভাইকে নিয়েই তার পরিবার। দীপার বাবা অমরনাথ চা বাগানে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে তারা কোয়াটার্সে থাকে। তবে যে টাকা মাইনে পায় তাতে স্বাচ্ছন্দের জীবনযাপন করা দায়। কিন্তু দীপার প্রতি অমরনাথের ভালোবাসা অনেক বেশি ছিল তাই কম বেতন থাকা সত্ত্বেও দীপার পড়াশোনার পথে বাধা হয়নি কখনো বরং আরো উৎসাহ করেছেন। তবে অমরনাথ যখন দেখল যে, জলপাইগুড়ির এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলের সাথে বিনা যৌতুকে দীপার বিয়ে দেওয়া সম্ভব তখন তিনি আর বেশি দেরি করলেন না। দীপার বয়স তখন ১২ বছর। সে আরো পড়তে চেয়েছিল কিন্তু তার ইচ্ছার বিরুদ্ধেই তাকে বিয়ে দেওয়া হয়। এখন একে অমরনাথের যৌতুক না দেয়ার লোভ বলব নাকি মেয়ে যাতে সুখে থাকে এজন্য মেয়ের প্রতি ভালোবাসা, তা বলা মুশকিল। জীবনে যত বড় বড় ঝড় আসে তা ক্ষণস্থায়ী হলেও তার রেশ থেকে যায় বহুদিন। দীপাবলীর জীবনে বিয়ে নামক অধ্যায়টাও সেরকমই। বিয়ের রাতে সে জানতে পারে তাকে জন্ম দেওয়ার সময় তার জন্মদাত্রী মা মারা যায়। নিজের বাবা তার দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে। তখন তার আপন মাসি তাকে আপন করে নেয়। অঞ্জলি ও অমরনাথের পালিত সন্তান সে। বিয়ের দুদিনের মাথায় তার স্বামী মারা যায়। শশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় সে। কিছুদিনের ব্যবধানে এতকিছুর ধাক্কা তাকে এক রাতেই বড় করে তোলে। সমাজের সাথে লড়াই করা শিখেছে সে। নিজেকে বিধবা না ভেবে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছে। শশুরবাড়ির সাথে সকল সম্পর্ক সে ত্যাগ করে। তবে অতীতকে ভুলে থাকার চেষ্টা করলেও অতীত বার বার ফিরে আসে। দীপাবলীর শশুরের মৃত্যুর পর তার সকল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় দীপাবলী। কিন্তু দীপাবলীর আত্মসম্মান তাকে ঐ সম্পত্তি ভোগ করতে আপত্তি জানায়। তবে এত অর্থ সম্পদ ভোগ করার জন্য লোভী শকুনদের অভাব হয় না। তাই সে সিদ্ধান্ত নেয় সকল সম্পত্তি জনকল্যানে নিযুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে দান করে দেবে। পথে অনেক বাধা আসলেও সে সকল কিছু উপেক্ষা করে লড়ে গিয়েছে। দীপাবলী তার স্বপ্ন পূরণ করতে চায়। স্বপ্ন পূরণের পথে অনেককে পেয়েছে ভালো বন্ধু হিসেবে। সে চায় আই এস দিয়ে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে। সে কী পাড়বে তার স্বপ্ন পূরণ করতে? তার-ই উত্তর রয়েছে সাতকাহন ২য় খন্ডে । তৎকালীন সময়ের কুসংস্কার ও অবৈধ রীতি-নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার এক প্রতিবাদী মেয়ের গল্প বলে সাতকাহন উপন্যাস। সমরেশ মজুমদার তার লেখায় প্রতিটি চরিত্রকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। খুবই গুছিয়ে তিনি তৎকালীন সময়ের পশ্চিম বাংলা ও সেখানকার মানুষের চরিত্রের বর্ণনা দিয়েছেন।"
Robiul islam Rbl , Aug 11, 2023
"অনেক সুন্দর একটি বই।"
Sumiya Afrin , May 26, 2023
"আমার পড়া সবথেকে পছন্দের বই ছিল এটা একজন মেয়ের অবশ্যই পড়া উচিত"
Arifur Rahman , Feb 19, 2023
"প্রতিটি বাঙালি মেয়ে পড়া উচিৎ।"
Md.Rabiul Islam , Sep 13, 2022
"অসাধরণ একটি উপন্যাস।"
asaduzzaman milon , Aug 19, 2022
"Joss"
ইমমেন্স খীসা , Jul 23, 2022
"খুব সুন্দর বই,"
Rehnuma Rubayat Prapty , Jun 24, 2022
"মেয়েছেলের আবার এইটা, তুই তো মেয়েছেলে.... এই ❝মেয়েছেলে❞ শব্দটা শুনলেই রেগে যায় দীপা। মেয়েছেলে আবার কী? হয় মেয়ে না হয় ছেলে। দীপাবলী মুখোপাধ্যায়। ১১ বছর বয়েসী প্রাণবন্ত এক কিশোরী। ভোর বেলা শিউলি তোলা, মা-বাবা, ঠাকুমাকে ফাঁকি দিয়ে পাড়ার ছেলে বন্ধুদের সাথে মাছ ধরা, ঠাকুর দেখতে যাওয়া আর সন্ধ্যের আগেই মায়ের বকুনি থেকে বাঁচতে লুকিয়ে বাড়ি ফেরা। জলপাইগুড়ির চা-বাগানে এইতো দীপার সুন্দর জীবন। জীবন তো সবসময় এক বাঁকে চলে না। মোড় নেয়। দীপার জীবনও মোড় নিয়েছিল। চা-বাগানে দৌড়ে বেড়ানো দীপার জীবন যুদ্ধ শুরু হলো বাল্যবিবাহ দিয়ে। বিয়ের আগের রাতে জানতে পারে তার জীবনের এক নির্মম সত্য। এতদিন যাদের মা-বাবা বলে জেনে এসেছে তারা আসলে দীপার মাসি আর মেসো। ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়ে আবার নিজের জীবনের নির্মম সত্য জেনে মুষড়ে পড়ে দীপা। দীপাবলী মুখোপাধ্যায় থেকে হয়ে যায় দীপাবলী বন্দোপাধ্যায়। বিয়ে তার জীবনে সুখ বয়ে আনেনি। সিঁথিতে সিঁদুর আর হাতের শাখা তার হাতে শোভা পেয়েছিল মাত্র বাহাত্তর ঘণ্টার জন্য। এরপরেই বিধবার খাতায় নাম উঠে যায়। পঞ্চাশের দশকে একজন বিধবার যে কঠিন নিয়মে চলতে হতো সে নিয়মে চলতে বাধ্য করে দীপার ঠাকুমা মনোরমা। কিন্তু সে তো নিয়মে বাঁধা পড়তে চায় না। বিদ্রোহ করার শক্তি তখনো নেই। জীবনের কঠিন যুদ্ধে আশার আলো বিদ্যার্জন। সত্যসাধন মাস্টার আছেন দীপাকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য। আরো আছেন আধুনিক মানসিকতার রমলা সেন। অঞ্জলি-অমরনাথ কখনও দীপাকে বোনের মেয়ে হিসেবে দেখেনি। নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসা দিয়ে বড়ো করেছে। অকাল বৈধব্য বরণ করে নেয়ার জন্য যেন নিজেদেরই দায়ী করেন তারা। তাই দীপাকে জীবন সংগ্রামে এগিয়ে নিয়ে যেতে তারা দুইজন বদ্ধ পরিকর। সময় এগিয়ে যায়। স্কুল পরীক্ষায় ফার্স্ট ডিভিশন পেয়ে পাশ করে ভর্তি হয় জলপাইগুড়ির কলেজে। শুরু হয় হোস্টেলে নতুন জীবন। অতীত তবু পিছু ছাড়ে না। নামের শেষের বন্দোপাধ্যায় পদবী বয়ে বেড়াতে হয় তাকে। ভুলে যেতে চায় সে বিয়ের পরের সেই রাতের ঘটনা। নানা ঝড় ঝাপটা পেরিয়ে আই এ পাশ করে ফার্স্ট ডিভিশনে। ভর্তি হয় কলকাতা শহরের স্কটিশ চার্চ কলেজে। কলকাতার মতো বড়ো শহরেও দানা বেঁধে আছে সেইসব পুরোনো সংস্কার। মেয়েদের পিছিয়ে রাখার সংস্কার। কিন্তু দীপারা থেমে যায় না। বিদ্রোহ করে এগিয়ে যায়। সংস্কার মুছে নিজেকে প্রমাণ করে। একসময় কাছের মানুষগুলো কেমন অচেনা হয়ে যায়। একসময়ের ভালোবাসা স্নেহ যেন সব হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। সম্পর্কের তার কোথাও যেন কেঁটে যায়। কলকাতা শহরে একা একদম একা এক তরুণী সে। নেই কোনো আপনজন। ভুলে যেতে চাওয়া সেই বিবাহের সম্পর্কের জের ধরেই লক্ষ টাকার সম্পত্তি পেয়েও তা দান করে দিতে চায় দাতব্য প্রতিষ্ঠানে। দেখতে পায় আশেপাশের মুখোশ পরে থাকা সেই লোভী মানুষগুলোকে। যারা স্বার্থে একটু আঘাত লাগতেই চোখের পলকে কেমন বদলে গেলো। এই কি জীবন? দীপা পারবে সকল প্রতিকূলতা পেরিয়ে জীবন যুদ্ধে বিজয়িনীর আসনে বসতে? এমন তো হাজারো দীপা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল সেই সময়ের কলকাতায়! পাঠ প্রতিক্রিয়া: দীপাবলি বন্দোপাধ্যায় যেন তৎকালীন কলকাতার অধিকার আদায়ে বদ্ধ পরিকর সকল মেয়েরই প্রতিচ্ছবি। বইতে দেশভাগের পরের কলকাতার চিত্র লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন। আরো আছে সরকার বিরোধী আন্দোলন, ছাত্র রাজনীতি, সংস্কারের নামে কুসংস্কার আর সব কিছুর মাঝে নিজেকে প্রতি মুহূর্তে প্রমাণ করতে থাকা এক তরুণী। খুবই সহজ ভাষায় সে সময়ের একটা চিত্র লেখনীতে ফুটে উঠেছে। দীপার জীবনের মনস্তত্ত্ব, ভেতরের কান্না, সম্পর্কের টানাপোড়ন, একা জীবন আর চারপাশের মানুষগুলোর অবাক করা ব্যবহার তাকে নাড়িয়ে যাচ্ছিল পুরোটা সময়। তবুও দমে যায়নি সে। সত্যসাধন বাবুর মতো মাস্টার, অমরনাথের মতো বাবা, মনোরমার মতো ঠাকুমা, মায়া-রাধার মতো বান্ধবী, মায়ার মায়ের মতো একজন মন খুলে কথা বলার একজন মানুষ দীপার জীবন চলার কণ্টকাকীর্ণ পথে এনে দিয়েছিল একটু প্রশান্তি। দীপা থেমে থাকেনি, এগিয়েছে পথের পথিক হয়ে। আরো এগোতে হবে। নিজেকে সেই স্থানে নিতে হবে যেখানে নারী-পুরুষের ভেদাভেদ করার সুযোগ থাকবে না। তাতে গোরা মানসিকতার মানুষেরা যতোই চোখ ঠোঁট উল্টে যাক কেন। লেখক দীপার চরিত্র সাজিয়েছেন মনের মাধুরী দিয়ে। সুখ-দুঃখবোধ, জীবনে চাওয়া-পাওয়া, ভালোবাসা আর এক গম্ভীর ব্যক্তিত্বে ভরা এক তরুণী হিসেবে দীপাকে সাজিয়েছেন লেখক। কখনও সে গম্ভীর, কখনও সে চোখের জলে সিক্ত এক নারী যার জীবনে আপন বলতে খুব বেশি কেউ নেই। প্রতিনিয়ত যে দিচ্ছে অগ্নিপরীক্ষা। দীপার চরিত্র বিন্যাসে লেখক শতভাগ সফল। দীপাবলীর জীবনের প্রিয় মুখগুলোর হারিয়ে যাওয়া দেখে একটা লাইনই মন আওড়াচ্ছিল, ❝যেখানে যাহারে জড়ায়ে ধরেছি সেই চলে গেছে ছাড়ি।❞ বইটা পড়ার সময় বারবার মনে হচ্ছিল আজকের এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও কি নারীরা মুক্ত? সেই শিকল কি অদৃশ্য ভাবে এখনো পড়ানো নেই নারীদের পায়ে? পূর্ববঙ্গের ব্যাপারে কিছু তথ্য ছাড়া আগাগোড়া পুরো উপন্যাসই ভালো লেগেছে। যেখানে যেমনটা অনুভব করার ঠিক তা-ই করেছি। একসময় মনোরমার উপর খুব ত্যক্ত লাগছিল। এরপর লেখকের লেখার গুনে সেই তিক্ততা গিয়ে পড়লো অঞ্জলির উপর। মুহূর্তেই কীভাবে একজন মানুষ ভোল পালটে ফেলে সেটা অঞ্জলি, সুভাষের মতো চরিত্র থেকে খুব ভালো করে বুঝে ফেলে যায়। বই: সাতকাহন (প্রথম পর্ব) ❝ঈশ্বর যদি মানুষকে অন্তত একদিনের জন্যে অন্যের মনের কথা পড়ার ক্ষমতা দিতেন তাহলে নব্বইভাগ মানুষ কেউ কারো সঙ্গে থাকতে পারত না।❞ মনে মনে কত কিছুই তো আমরা ভাবি। বলতে পারি তার কয়টা? বলি না বলেই কি আশেপাশের সম্পর্কগুলো টিকে আছে? দীপাবলী। বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে প্রথম জীবনেই বৈধব্যের শিকল পড়া এক ছোট্ট মেয়ে। পরবর্তীতে যে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়। নানান টানাপোড়নের মাঝে যে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছে। অনন্য ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এক সংগ্রামী নারী। দেশভাগ পরবর্তী ভারতের কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করেছে। প্রথমে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নেখালিতে জয়েন করে দীপাবলী। সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার আর টাকার কাছে সরকারি কর্মকর্তাদের বিকিয়ে যাওয়া দেখে হাল ছেড়ে দেয়। দেশের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এমন ব্যক্তিত্বহীন দশায় সে নিজেকে দেখতে চাইছিল না। কলকাতা ফিরে আবার আই আর এস পরীক্ষা দিয়ে ইনকাম ট্যাক্স কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেয় দিল্লিতে। কলকাতার গন্ডি পেরিয়ে এ এক নতুন জীবন। জীবনসঙ্গী হিসেবে খুঁজে নেয় অলোক মুখোপাধ্যায়কে। দীপাবলী আবার হয়ে যায় দীপাবলী মুখোপাধ্যায়। জীবন আসলেই চক্রের মতো ঘূর্ণায়মান। জীবন সংসারে একলা দীপাবলী অলোককে নিয়ে টোনা-টুনির সংসার পাতে। চাকরি জীবনের সমস্যা এখানেও। সরকারি কর্মকর্তাদের যে নিয়ম শিখিয়ে নিয়োগ দেয়া হয় বাস্তবে তার ষোলো আনাই মিছে। অন্যায়ের সাথে আপোষ না করা দীপাবলী নিয়ম মেনেও যেনো এক অনিয়ম। ভালোবেসে যাকে জীবনসঙ্গী করেছিল দেখা যায় তার সাথে মতের অনেক বিরোধ। তীব্র আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দীপাবলী সব দেখেও নির্বিকার। সংসার করছে করতে হবে তাই। শুরু থেকেই সংগ্রাম করা এক নারী সংসার জীবনেও একাকীত্বে ভুগতে শুরু করে। বিয়ের আগের অলোক আর পরের অলোক কতটা তফাৎ? মানুষ বদলায়, কিন্তু কতখানি? জীবন দীপাবলীকে আবার ফিরিয়ে আনে কলকাতায়। শুরু হয় আবার একলা জীবন। চাকরি আর সংসার জীবনের টানাপোড়ন, পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা সব নিয়েই চলে যাচ্ছিল দীপার জীবন। শেষে ঠাকুমা মনোরমাকে নিয়ে বাস শুরু করে দীপাবলী। এভাবেই চলবে? আত্মমর্যাদাবোধ কি ভালোবাসা থেকেও দামী? পাঠ প্রতিক্রিয়া: প্রথম খন্ড পড়ার পরে দীপার জীবনে কী হলো জানতে উদগ্রীব ছিলাম। দ্বিতীয় খণ্ড পড়ে মনে হচ্ছে না পড়াই ভালো ছিল। সত্তর আশির দশকের ভারতবর্ষ, তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দুর্নীতি, অনিয়মকেই নিয়ম বানিয়ে দিব্যি বসবাস করা মানুষগুলোর মাঝে স্রোতের বিপরীতে এক অদম্য নারী দীপাবলী। প্রথম জীবনে সামাজিক অব্যবস্থার শিকার এবং পরবর্তীতে নিজের ভাগ্য বদলে বাবা এবং মাস্টারের স্বপ্ন পূরণ করে দীপাবলী এগিয়ে যায় জীবনে। লেখক তৎকালীন ভারতবর্ষের নানা সমস্যার কথা বেশ সাবলীলভাবে লিখেছেন। পুরো উপন্যাসের সিংহভাগই ছিল দীপার চাকরি জীবনের নানা সমস্যা নিয়ে। সৎ থেকে হাজারো অসৎ ব্যক্তির মাঝে কাজ চালিয়ে যাওয়ার যে স্পৃহা তার মধ্যে ছিল লেখক সে বিষয়গুলোই মোটা দাগে দেখিয়েছেন। থিওরি আর প্রাকটিসের মধ্যে বিস্তর এক তফাৎ, যা দীপাবলী চাকরি জীবনে টের পেয়েছে। পরিবার জীবনেও দীপাবলীর ভাগ্যে সুখ বেশিদিন জোটেনি। এক হাতে যেমন তালি বাজেনা তেমনি দোষ ছাড়া মানুষ হয় না। কেউই ❝পারফেক্ট❞ নয়। পৃথিবীর সকল দুঃখ উপরওয়ালা দীপাবলীকে এমনি দিয়েছেন না সেজন্য সে নিজেও সিকি ভাগ হলেও দায়ী এমনটা কি না সেটা যারা পড়েছেন বইটি তারা ভালো বুঝেছেন। দীপাবলীর জীবনে সংগ্রাম, অন্যায়ে আপোষহীনতা, আত্মমর্যাদাবোধ যেমন আমাকে তীব্রভাবে আকর্ষণ করেছে তেমনই তার চরিত্রের কিছু দিক আমাকে খুবই হতাশ করেছে। মাঝে মাঝে বিরক্ত ধরিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে উপন্যাসের সমাপ্তিটুক। ফেইরী টেলসের মতো ❝𝘏𝘢𝘱𝘱𝘪𝘭𝘺 𝘦𝘷𝘦𝘳 𝘢𝘧𝘵𝘦𝘳❞ টাইপ হবে আশা করিনি। তবে তার শেষ পর্যায়ের আত্মমর্যাদাবোধ আমার চোখে দীপাবলীকে অহংকারী এবং স্বার্থপর একজন নারী হিসেবে দেখিয়েছে। মনোরমার সাথে সে নিজের ছেড়ে আসা জীবনের যে তুলনা করেছে সেটা আমার কাছে অমূলদ লেগেছে। মনোরমার মতো দীপাবলীর জীবন থেকে বিনা কারণে পঞ্চাশ বছর নিশ্চয়ই হারিয়ে যায়নি। আর মনোরমার ঘটনাটা একেবারেই এক পাক্ষিক ছিল। যেখানে দীপাবলীর ক্ষেত্রে সে একদম তুলসী পাতা অবশ্যই ছিল না। জীবনের শুরুর দিকে মনোরমা দীপাবলীর সাথে যে অন্যায় করেছে সেটা ভুলে সে মনোরমা কে কাছে ঠেলার সময় আত্মমর্যাদার কথা ভাবেনি। এই ব্যাপারগুলো আমার কাছে দৃষ্টিকটু লেগেছে খুব। প্রথম পর্বকে অসাধারণ বললে দ্বিতীয় পর্বকে সাধারণ মানের বলা যাবে। লেখক উপন্যাসের শুরুর দিকে লিখেছেন, ❝এক ফোঁটা ভালোবাসার জন্যে যদি কোন মানুষ লক্ষ মেইল হেঁটে যেতে পারে তাহলে একটা পুরো সমুদ্র পেলে সে কি করবে?❞ বই পড়া শেষে এই উক্তি নিয়ে আমার বক্তব্য হবে, ❝কিছুই করবে না। পা আছে না কি তাই ভুলে যাবে।❞ সবই আমার ব্যক্তিগত মতামত। লেখকের লেখনশৈলী নিয়ে কোনোভাবেই প্রশ্ন তুলছি না। বই: সাতকাহন (দ্বিতীয় পর্ব)"
Rhea Joti , Jun 20, 2022
"আত্মসম্মানবোধ 😊❣️"
ফখরুল আলম শাওন , May 14, 2022
"nice"
মোঃ রিফাত হোসেন , May 11, 2022
"I think every struggling women with having a high ambitions must read "SATKAHAN"..."
Nowshin Tasnuva Aurpa , Mar 4, 2022
"বাঙালী সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক "সমরেশ মজুমদার"-এর ব্যপক আলোচিত, দুটি খণ্ডে বিভক্ত, সাড়া জাগানো একটা উপন্যাস হলো 'সাতকাহন'। সাতকাহন আমার কাছে কোন বই বা উপন্যাস না। এটা আমার কাছে একজন সাহসী ও তেজস্বী নারীর গল্প। বিংশ শতাব্দীতে একটা নারীকে যত রকম ঘাত-প্রতিঘাতের সম্মুখীন হতে হয়েছিল, তার এক-একটি কানা-কড়ি লিপিবদ্ধ হয়েছে এ বইটিতে৷ এ গল্পের মূল নায়িকা দীপাবলি। তাকে নায়িকা না বলে একজন সংগ্রামী নারী বলাটাই বেশী শ্রেয়। দীপাবলির শৈশব কেটেছে জলপাইগুড়ির ডুয়ার্সের চা বাগানে। শৈশব ছিল তার আনন্দ ও স্মৃতিতে পরিপূর্ণ। কিন্তু তারপরই শুরু হয় প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে এগিয়ে চলা, স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করার অদম্য ইচ্ছা! আংড়াভাসা নদীর তীরের চা বাগান থেকে উঠে এসে স্বাধীন ভারতের একজন রেভিনিউ কর্মকর্তা হয়ে উঠার পেছতে শত প্রতিকূলতা এবং যুদ্ধের গল্প এটি। এ বইয়ে সুস্থ নারীবাদের কথা উঠে এসেছে। সুস্থ বলছি কারণ বর্তমানে নারীবাদ বিষয়টা সমালোচনামূলক শব্দ হয়ে যায় তাই। ১২ বছর বয়সেই বাল্যবিবাহের শিকার হতে হয় দীপাকে। বিয়ের পরদিনই স্বামী মারা যায়;আর তারই কিছুদিন পর শ্বশুর। সেই সুবাদে দীপা মালিক হয়ে বসে অঢেল সম্পত্তির। কিন্তু তার তীব্র আত্মসম্মানবোধ তাকে বাধ্য করে সেই সম্পত্তি ত্যাগ করতে। সেই অঢেল টাকা-পয়সা সে এক সেবামূলক সংগঠনকে দান করে দেয়। বাল্যকালের মৃত বর 'অতুল', তারপর ধীরে ধীরে 'অমল', 'শমিত' ও 'অর্জুন' এর মতো বিভিন্ন পুরুষ কিছু-কিছু মুহূর্তের জন্য অংশ হয়েছিল দীপাবলির জীবনে। সকলকে পাশ-কাটিয়ে দীপা শেষমেশ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় 'অলোক' এর সাথে। কিন্তু তীব্র আত্মসম্মানবোধ আর ব্যক্তিত্ব তাকে বাধ্য করে এ সম্পর্ক থেকেও সরে আসতে! এ গল্পটি তীব্র আত্নসম্মানবোধ এবং ব্যক্তিত্বের একটি গল্প। আত্মসম্মানবোধ-ব্যক্তিত্ব এবং অহংকারের মাঝে একটা ক্ষীণ দাগ আছে। কতটুকু দাগ পার করলে সেটা অহংকারের পর্যায়ে পরে তা অক্ষরে অক্ষরে প্রকাশ পেয়েছে এ গল্পে। এই গল্পের শেষ দিকে গিয়ে লেখক পুরাতন প্রথাকে ভেঙে দিয়েছেন দীপার ঠাকুরমা চরিত্রের মাধ্যমে। সেই ঠাকুরমা; যিনি কি না আজীবন প্রথাকে আঁকড়ে ধরেছিলেন! লেখক দেখিয়েছেন 'রমনা সেন'-এর মতো নারীদের জীবনের রূপ-রেখা কেমন করে পাল্টায়। সেই সাথে সরকারী চাকরিতে আমলাদের দূর্নীতির নগ্ন চেহারাটি লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রসাশনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া দূর্নীতির কাছে দীপাবলিরা কেমন অসহায় আর বলির পাঠা তার দাঁত ভাঙা বর্ণনা উঠে এসেছে এই গল্পে। এবার, এতকিছুর পর এই বইটির অল্প একটু সমালোচনা করে ফেলি। সমালোচনা করার মত দুঃসাহস আমার নেই। তাই একে সমালোচনা না বলে আমি বলব আমার নিজের পয়েন্ট অব ভিউটি প্রকাশ করতে যাচ্ছি। এই বইয়ে, ইতিহাস ও রাজনীতির কথা একদমই কম উঠে এসেছে। তবে হ্যা, লেখক এই বইয়ে বিংশ শতাব্দীর একটি নারীর জীবন ও তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও পরিস্থিতি সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন। আরেকটি বিষয় আমাকে একটু খোঁটা দিয়েছে। সেটি হলো, দীপা এই বইয়ে একটি আদর্শ নারী চরিত্র। সে তীব্র সংযমী, বুদ্ধিমান এবং আত্মসম্মানবোধ ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন একজন নারী। কিন্তু অঢেল আত্নসম্মানবোধ সম্পন্ন একজন নারী হওয়া সত্ত্বেও সে পুরো উপন্যাসে জীবনসঙ্গী নির্বাচনে দ্বিধাদন্দের মাঝে ছিল এবং নিজের পছন্দ বা ভালোবাসার প্রতি সজাগ ছিলো না। এই ইতস্থতা বা দ্বিধাদন্দটি/ আমি কি পছন্দ করি সেটার স্পেসিফিকতার অভাব এই অঢেল ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী চরিত্রটিকে কিছুটা ম্লান/বিবর্ণ করে ফেলেছে বলে আমার মনে হয়েছে! পরিশেষে, দীপা বিংশ শতাব্দীর নারী হয়েও তার চিন্তাশক্তি ছিলো বর্তমান আধুনিক সমাজের মতো। একটি বিংশ শতাব্দীর নারীর জীবনের আদ্যোপান্ত যদি উল্টে পাল্টে দেখতে চান তবে এই বইটি আপনার জন্য সাজেস্ট করছি। নিজের আত্নসম্মানবোধ ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন হবার জন্য সকল নারীর এই বইটি পড়া উচিত। পুরুষাশিত কুসংস্কার সম্পন্ন সমাজের মাঝে কিভাবে বিদ্রোহ করে একটি নারী উঠে এসেছে সামনের কাতারে; তা অবশ্যই সকল নারীর জন্য হবে একটি প্রেরণার উৎস। পাশাপাশি একটি পুরুষেরও উচিত এই বইটি পড়া, যাতে সে একটা নারীর পারিপার্শ্বিকতা বুঝতে পারে এবং নারীকে মানুষ হিসেবে গণ্য করতে পারে।"
Samaown Alam Swapno , Jan 27, 2022
"nice one 🥰"
Nazmul , Nov 1, 2021
"Nice"
Firoz , Sep 26, 2021
"এটা কি দুটো পার্ট একসাথে আছে..?"
Laxmi Akter , Sep 11, 2021
"এ উপন্যাসের কেন্দ্র চরিত্রে আছে সাহসী এক মেয়ে দীপাবলী, যে ভাগ্য প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে নিরন্তর যুদ্ধ করতে করতে বহু বাঁধা বিপর্যয় পার হতে হতে কিভাবে সন্ধান পেল অমল এক তীরের, তাই নিয়ে এ কাহিনীর প্রথম খন্ড। বইটি কিনেছিলাম আরো বছর সাতেক আগে কিন্তু পড়বো পড়বো করেও আর পড়া হলনা। এত সুন্দর একটি উপন্যাস। দীর্ঘ একটি উপন্যাস তবু কেমন যেন হঠাৎ করেই শেষ হয়ে গেল। অসম্ভব ভাল লেগেছে বইটি আমার কাছে।"
Fatema Akter , Aug 24, 2021
"Thank you Progoty ❤️❤️❤️❤️"
LIFE OF Shisir , Jun 21, 2021
"দীপাবলি .. মেয়েটি কে এমন ভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে পাঠক চাইলেও তাকে অবজ্ঞা করতে পারবে না।শুধু পাঠক কেন উপন্যাসের কোন পুরুষ চরিএ পারে নি তার দৃঢ়তা কে অবজ্ঞা,অসম্মান করতে।এই বার আসি এই দিপাবলি কতটা এই ভারতীয় উপমহাদেশের মেয়েদের প্রতিচ্ছবি। উপন্যাসে যে সময় উল্লেখ করা হয়েছে তা আজ হতে ৬০-৭০ বছর আগের কথা।সেই দিক থেকে দীপাবলির যে ছবি পাই তা সত্যি প্রশংসনীয়। ভাবা,যায় না ১৯৬০ সালের একটি মেয়ে, যে সমাজের রীতিনিতির কথা না ভেবে শুধু নিজের অস্তিত্বের কথা ভেবে এত সংগ্রাম করেছে। অল্প বয়সে বিয়ে তারপরে বৈধব্য মেয়েটির পুরো জীবন কে অন্য বাঁকে ঘুরিয়ে দেয়।তার এই বৈধব্য তাকে যেমন তছনছ করে দিয়েছে সাথে সাথে দিয়েছে অনেক সাহস।সে নিজের অনুপ্রেরণা আর জেদে জীবন সংগ্রামে জয়ী হয়েছে। জীবনের কঠিন সময় গুলো কীভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে উতরানো যায় এই বিশেষ গুণটি দিপাবলীর মধ্যে ছিল।সমরেশ মজুমদার এমন করে দীপাবলি কে সৃষ্টি করেছেন সত্যি অবাক লাগে।অত আগের একজন মেয়ে এত আধুনিক আর এত ব্যক্তিসম্পন্ন হতে পারে,ভাবাই যায় না!!এখন২০২১সালে এসে ও আমরা দীপার মত হতে পারি নি।জানি না হতে পারবো কি না!! তারমত হতে পারা সত্যি কঠিন।"
Prioti , Jun 12, 2021
"বইয়ের নাম-সাতকাহন লেখক-সমরেশ মজুমদার সমরেশের সৃষ্টি করা "দীপাবলি" চরিত্রটি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি নাম।এ বইটিতে উঠে এসেছে দীপাবলির জীবনে উঠা-নামা এবং কালো থাবার বিরুদ্ধে একটু একটু করে অদম্য সংগ্রামের কথা।স্বামীর বিশৃঙ্খল জীবন-যাপন,সৎ মায়ের রুঢ় আচরণ,কর্মজীবনে সহকর্মীদের জোঁকের মতো রক্ত চোষার মানসিকতা,অর্থের স্বল্পতা যেন দীপাবলিকে কষ্টিপাথরে পরিণত হতে বাধ্য করেছে।এত অসঙ্গতির ভিড়েও দাদি মনোরমা,খোকন আর মায়ার চরিত্র তার কাছে খরা দিনে বর্ষার মতই মনে হয়। কী করে চোখের সামনে একটি মানুষ বদলে যায়,কী করে কর্মক্ষেত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি হয়,কীভাবে একজন সাধারণ মেয়ে একাই মুখোশপরা সমাজে টিকে থাকার চেষ্টা করে সেটি এ বইয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে।বইটি শুধু বই-ই নয়,এটি কঠোর বাস্তবতার জীবন্ত এক দলিল।দীপাবলিরা এখনও আছে,হয়তো আমাদের আশেপাশেই আছে,তারা লড়ে,একাই লড়ে,লড়তে লড়তে মাঝে মাঝে হয়তো পেরে ওঠে না,তবু তারা উঠে দাঁড়ায়।কারণ তারা জানে,তারা উঠে না দাঁড়ালে অন্ধকারের করাল গ্রাসে বাকি দশটা নারীকেও হারিয়ে যেতে হবে।"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
3 টিবইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
How many pages?
It's hardcover or paperback?
এ বইটাতে সব খন্ড একত্রে আছে???
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"সাতকাহন" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: