২য় মুদ্রণ, ২০২৪
রাজদ্রোহী
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
ময়ূরাক্ষী
হুমায়ূন আহমেদ
তোমাকে
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র
হুমায়ূন আহমেদ
মিসির আলি সমগ্র ২
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
হুমায়ূন আহমেদ
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
হুমায়ূন আহমেদ
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | রাজদ্রোহী |
| Author | রবিন জামান খান |
| Publisher | অন্যধারা |
| Edition | ২য় মুদ্রণ, ২০২৪ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 416 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | উপন্যাস ও সাহিত্য |
| Weight | 0.7 Kg |
| ISBN | 9789849626015 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
6 Ratings and 5 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
৫টি
Kazi Hasan Jamil , Aug 17, 2023
""সময় বদলায়, প্রযুক্তি বদলায়; কিন্তু হাজারো বছরের আগে আর পরে যাপিত জীবনের টানাপোড়েনগুলো সব একই রয়ে যায়, আবেগ আর ভালোবাসাগুলোও এক রয়ে যায়, এটাই সময়ের উপখ্যান।" -------------------------------------------------------------------- সময় : ১৫৯৬ খ্রিস্টাব্দ বাঙাল মুল্লুকে যুদ্ধের ঘনঘটা। দিল্লির সিংহাসনে অধিষ্ঠিত সম্রাট আকবর। কিন্তু বাংলা তখনও স্বাধীন। ঐ সময়ে এটা একটা স্বাভাবিক ঘটনাই ছিল। প্রায় সময়েই বাংলার স্থানীয় রাজারা দিল্লির কেন্দ্রীয় শাসন থেকে মুক্ত হয়ে নিজেদের স্বাধীন রাজা হিসেবে ঘোষণা করত। তাই বাংলাকে পুরোপুরি দিল্লির অধীনে করতে গিয়ে বারো ভূঁইয়াদের হাতে নাস্তানাবুদ হয়ে মোঘল সম্রাট বাংলাকে বিদ্রোহী প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করেন। সম্রাট নিজের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাপতিদের একজন মানসিংহকে বিশাল বাহিনীসহ বাংলায় পাঠান; বাইশটি পরগনার শাসক, বারো ভূঁইয়াদের প্রধান, মসনদ-ই-আলা উপাধি প্রাপ্ত ঈশা খাঁ কে যুদ্ধে পরাজিত করে বন্দি হিসেবে আগ্রা নিয়ে যাওয়ার জন্য । বীর ঈশা খাঁ রুখে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন, কিন্তু সৈন্য সংখ্যা থেকে শুরু করে সবকিছুই মোঘলদের প্রতিহত করার জন্যে অপ্রতুল। বাধ্য হয়ে সে নিজের বীর সেনাদের একজন মাসুম খাঁ কাবুলী, যাকে পাঠান সেনাপতি শহবাজ খাঁ রাজদ্রোহী হিসেবে ঘোষণা করেছেন, তাকে ভাওয়ালের জমিদার ফজল গাজীর আশ্রয় থেকে ডেকে পাঠান বিশেষ এক উদ্দেশ্য নিয়ে। মাসুম খাঁ কবুলীকে পানি-জঙ্গল আর হাওর - বিধৌত এলাকা থেকে খুঁজে বের করতে হবে সদ্য বিধবা হওয়া এক সুবাদারের স্ত্রীকে। এই সুবাদারের স্ত্রীর কাছে আছে এমন কিছু যা বদলে দিতে পারে মোঘলদের সঙ্গে বারো ভূঁইয়াদের যুদ্ধের গতিপথ। কাজে নেমেই মাসুম বুঝতে পারে এই বিশেষ মানুষটিকে খুঁজে বের করে ঈশা খাঁর নিকটে পৌছাতে হলে তাকে মোকাবেলা করতে হবে মোঘলদের শক্তিশালী বাহিনী, স্থানীয় বিদ্রোহী ডাকাত বিশা সওদাগর এবং জলের ঠগী হিসেবে পরিচিত ভয়ংকর পাঙ্গুদের। বর্তমান সময়: কিছুদিন আগেই চট্টগ্রামের পতেঙ্গা রোডে অ্যাক্সিডেন্টে মারা পড়ে প্রফেসর আবদেল নামে একজন আর্কিওলজিস্ট। তিন বছর আগে প্রফেসর আবদেল ও তার বন্ধু প্রফেসর ইফতেখার ইতিহাসের কোনো একটা বিশেষ রহস্য নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক এন্টিক চোরাচালান কিছু সংস্থার নজরে চলে আসায় পুরোপুরি হাওয়ায় মিলিয়ে যান তারা। আর তারপরেই তিন বছর পর এসে হঠাৎ এই অ্যাক্সিডেন্ট। প্রফেসর আবদেল কী নিয়ে গবেষণা করছিল তা খুঁজে বের করতে মাঠে নামার পরে পিবিআই স্পেশাল উইংয়ের ফিল্ড এজেন্ট শারহান শারিয়ারের হাতে এসে পরে প্রফেসর আবদেলের রেখে যাওয়া একটা ক্লু "রাজদ্রোহী।" সেই রাজদ্রোহীর সমাধান করতে হলে খুঁজে বের করতে হবে চট্টগ্রামে অ্যাক্সিডেন্টে মৃত প্রফেসর আবদেলের পার্টনার এবং বন্ধু প্রফেসর ইফতেখার মাহমুদ নামে আরেক আর্কিওলজিস্টকে। যিনিও হারিয়ে গিয়েছেন তিনবছর আগেই। এই মিসিং পার্সন কেসের দায়িত্ব দেওয়া হয় ময়মনসিংহের আলোচিত টুইন কালি কেসের অপারেশন লিডার ইন্সপেক্টর আহমেদ বাশার কে। কাজে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ইন্সপেক্টর বাশার বুঝতে পারেন কাজটা সহজ তো নয়ই বরং সাধারণ কিছুও নয় । খড়ের গাদা থেকে তাকে সুচ খুঁজে বের করতে হবে, যেখানে একদিকে সুচটা অত্যন্ত বুদ্ধিমান, তার ওপরে সুচটাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে একাধিক মানুষ। কেসে নামার সঙ্গে সঙ্গেই সে এমন এক ঝুঁকি নিয়ে নেয় যা তাকে নিয়ে যেতে পারে লক্ষ্যের খুব কাছে অথবা পুরোপুরি শেষ করে দিতে পারে সদ্য ধ্বংসস্তূপ থেকে তুলে নিয়ে আসা পুলিশি ক্যারিয়ারকে। ◑ পাঠ প্রতিক্রিয়া: রাজদ্রোহী - সময় উপখ্যান সিরিজের চতুর্থ বই। সিরিজের আগের বইগুলোর মতো এই বইয়েও লেখক দুইটা সময়কালকে একসাথে সমান্তরালভাবে নিয়ে গিয়েছেন। মোঘল সাম্রাজ্যের টালমাটাল সময় থেকে শুরু করে বারো ভূঁইয়াদের সাথে সংঘাত সবই উঠে এসেছে এখানে। পাশাপাশি সপ্তরিপুতে যেমন ঠগীদের সাথে পরিচয় করে দিয়েছিলেন লেখক এখানে তেমনি পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন জলের ঠগী হিসেবে খ্যাত পাঙ্গুদের সাথে। ঠগীরা যেখানে দেবী কালীর পূজা করত সেখানে পাঙ্গুরা করত জল দেবীর পূজা। নৌকায় যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াত আর শিকার করে বেড়াত। শিকারের মেরুদন্ড বিশেষ পন্থায় ভেঙে পানিতে ডুবিয়ে দিত যাতে মৃতদেহ ভেসে না উঠে। কেননা ঠগী এবং পাঙ্গু সমাজের নিয়ম একই, রক্তপাত না ঘটিয়ে কার্যসিদ্ধি করতে হবে। পাঙ্গুরা শিকারের সকল সম্পদ দেবীর আশির্বাদ হিসেবে নিজেরা গ্রহণ করত। পাঙ্গুদের হিংস্রতার জন্য তাদের জ্ঞাতি ভাই তুসুমবাজ ও ভাগিনারাও তাদের এড়িয়ে চলতো। এগুলো খুব ভালো ভাবে লেখক গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। রাজদ্রোহী পড়তে গিয়ে একটা বিষয় খেয়াল করলাম যা না বললেই নয়। সিরিজের আগের তিন বইয়ে একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন ছিল। কখনও ঠগীদের সময়ে, কখনও বা মৌর্য শাসনামলে আবার কখনও মগ-পর্তুগিজ জলদস্যুদের সময় নিয়ে লেখক লিখেছেন। ইতিহাসের এসব সময় নিয়ে প্রচলিত লোককথা, মিথকে পুঁজি করে লেখক গল্প ফেঁদেছেন। একদিকে অতীতে কোনো প্রধান চরিত্র দৌড়াচ্ছে সেই রহস্যের সমাধানের উদ্দ্যেশ্যে আবার অন্যদিকে বর্তমান সময়েও একজন চেষ্টা করছে ইতিহাসের অতল থেকে হারানো ঐ অধ্যায়কে খুঁড়ে বের করতে। আপাতদৃষ্টিতে সমান্তরালে চলতে থাকা দুটো ভিন্ন গল্প মনে হলেও শেষে গিয়ে লেখক দারুণ মুন্সিয়ানার সাথে অতীত ও বর্তমানের মেলাবন্ধন ঘটান এক বিন্দুতে। মোটামুটি এভাবে করেই সপ্তরিপু, ব্ল্যাক বুদ্ধা ও মগরাজে ইতিহাসের হারানো অধ্যায়ের সমাধান করা হয়েছে। তো এই প্যাটার্নটা আমার ব্যক্তিগতভাবে খারাপ লাগেনি, প্রতিবারই এটা আমি উপভোগ করেছি আর হারিয়ে গিয়েছি ইতিহাসের পাতায়। কিন্তু অনেকের কাছেই এটাকে "নতুন বোতলে পুরোনো মদ" টাইপ মনে হতে পারে। কিন্তু এখানেই আসল খেলা। সিরিজের এই পর্যায়ে এসে লেখক রাজদ্রোহীতে ইঙ্গিত দিয়েছেন আরো বড় কিছুর। সপ্তরিপু, ব্ল্যাক বুদ্ধা এবং মগরাজ পড়ার পর যারা ভাববে যে পরবর্তী চারটি বইয়েও একই ভাবে লেখক ইতিহাসের ভিন্ন ভিন্ন সময় নিয়ে রহস্য তৈরী করবেন তাদের হতাশই হতে হবে। কেননা রাজদ্রোহীতে এসে টুইন কালী, বুদ্ধ মূর্তি, স্বঘোষিত মোঘল সম্রাট শাহ সুজার হারানো সম্পদের কাহিনিকে স্রেফ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং বড় কোনো রহস্যের টুকরো হিসেবে দেখানো হয়েছে। যে রহস্য আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগের এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর মধ্যে একটা। উপরের তিনটি ঘটনাই নয়, ইতিহাসের আরও অনেক ঘটনার সাথে এর সংযোগ রয়েছে, যে রহস্যের বিস্তৃতি ইতিহাসের অনেক গভীরে। রাজদ্রোহীতে এসে লেখক নিজের ছড়িয়ে থাকা জাল গুটিয়ে নিতে শুরু করেছেন। ইতিহাসের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য সময় এবং ঘটনাকে এক সুতোয় বেঁধেছেন। মানে "Everything is connected। " আসল খেলা শুরু হবে সিপাহি থেকে যেখানে বাশার, তানভির, শারিয়ার সবাই থাকবে। আশা করা যায় এই তিনজন প্রোটাগনিস্ট এর এক টিমে কাজ করার মাধ্যমে দারুণ কিছু পেতে যাচ্ছে পাঠক। সিরিজের অন্যান্য বই শুরুর দিকে কিছুটা ধীর গতির হলেও রাজদ্রোহীর ক্ষেত্রে এটা হয়নি। শুরু থেকেই গতিময়তা বজায় ছিল রাজদ্রোহীতে। সব মিলিয়ে মগরাজ পড়ার পরে রাজদ্রোহীর জন্য যতটা আগ্রহ নিয়ে মুখিয়ে ছিলাম তার থেকে অনেক গুন বেশি আগ্রহ এখন মুখিয়ে আছি সিপাহির জন্য। বেশ উপভোগ্য একটা যাত্রা ছিল রাজদ্রোহী। ◑ চরিত্রায়ন: বইয়ে অনেকগুলো চরিত্রই ছিল। দুই সময়কালের কাহিনি সমান্তরালভাবে এগিয়ে গেলেও অতীত এবং বর্তমান উভয় ক্ষেত্রেই লেখক চরিত্রায়নের পেছনে সময় দিয়েছেন এবং চরিত্রগুলোকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। সপ্তরিপুতে বাশারের পুলিশি ক্যারিয়ারের একটা ট্র্যাজেডির কথা উল্লেখ থাকলেও সেটা কী তা বলা হয়নি। ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে বাশারের জীবনে ঘটে যাওয়া সেই ট্র্যাজেডির কথা রয়েছে রাজদ্রোহীতে। ফলে বাশারের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। এছাড়া বরাবরের মতো আলিম পাটোয়ারীর আঞ্চলিক কথাবার্তা ছিল উপভোগ্য। নুক্কুনের চরিত্রটা কে ভালো লেগেছে। পছন্দের চরিত্রের মধ্যে অন্যতম ছিল স্পেশাল উইং এর হেড হাবিব আনোয়ার পাশা এবং ডেস্ক এজেন্ট মৌসুমিকে। সময় এবং পরিস্থিতি কীভাবে একজন মানুষকে পুরোপুরি বদলে দেয় সেগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। ◑ লেখনশৈলী: রবিন জামান খান এর লেখার সাথে পূর্বেই পরিচিত ছিলাম। এখানে যেন শব্দচয়, বাক্যগঠন আরো পরিপক্কতা লাভ করেছে। রাজদ্রোহী সহ সিরিজের অন্যান্য বইগুলোও ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস, নিরেট ইতিহাস নয়। ইতিহাসের পাশাপাশি ইতিহাস যেখানে নীরব সেই জায়গাগুলোতে কল্পনার সাহায্য নিয়ে লেখক সুখপাঠ্য আখ্যানে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এবং এক্ষেত্রে তিনি শতভাগ সফল আমি মনে করি। এতো বিশাল প্রেক্ষাপটে দুইটা সময়কালকে সমানভাবে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া একটি চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। খেই হারিয়ে ফেলার সুযোগ থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে লেখক উতরে গেছেন বহু আগেই। যার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল রাজদ্রোহীতেও। পাশাপাশি টাইমলাইন অনুযায়ী ভাষার ভিন্নতা, আঞ্চলিকতাও তুলে ধরতে পেরেছেন লেখক। ◑ বানান ও সম্পাদনা: বইয়ের শুরুর দিকে দুই জায়গায় ১৫৯৬ এর পরিবর্তে ১৬৯৬ রয়েছে। পাশাপাশি দুই-এক জায়গায় আসলাম শেঠকে আসলাম শেখ, লতিফ খাঁ কে লতিফ শেঠ বলা হয়েছে। এছাড়া মগরাজে প্রফেসর আবদেলের বন্ধুর নাম প্রফেসর ইফতেখার আব্দুল্লাহ থাকলেও এখানে এসে তা হয়ে গিয়েছে ইফতেখার মাহমুদ। আবার ব্ল্যাকবুদ্ধাতে মাস্টার জেডকে গ্রেফতার করা হয় এবং সে জেলেই ছিল। কিন্তু রাজদ্রোহীতে এসে মাস্টার জেডের নাম মাস্টার ডি হয়ে গিয়েছে অন্যদিকে রাজদ্রোহীতে মূল এন্টাগনিস্ট হিসেবে মাস্টার জেড কে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ছোটখাটো ভুল, টাইপো আশা করি পরবর্তী মুদ্রণে ঠিক করা হবে। ◑ পছন্দের অংশ: ✪ মানুষের ভেতরে বিশেষ অবস্থায় বিশেষ শক্তির জাগরণ ঘটে৷ মানুষ তার নিজের শক্তি-সামর্থ্য আর চিন্তার সীমাকে অতিক্রম করে যেতে পারলে এমন সব কাজ করে বসে যা তার দ্বারা কোন অবস্থাতেই সম্ভব হতো না। ◑ ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.৬/৫ ◑ বই পরিচিতি: ▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬ ➠ বইয়ের নাম: রাজদ্রোহী ➠ লেখক: রবিন জামান খান ➠ জনরা: ঐতিহাসিক থ্রিলার ➠ প্রকাশনী: অন্যধারা প্রকাশনী ➠ প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২২ ➠ প্রচ্ছদশিল্পী: আশরাফ ফুয়াদ ➠ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৪ ➠ মুদ্রিত মূল্য: ৬৪০ ৳"
Ishaque Kader Zedan , Mar 16, 2023
"ভালো বই কিন্তু লেখকের লেখা বেশ গতানুগতিক হয়ে যাচ্ছে কিছু ক্ষেত্রে"
Md Rakib Hasan , Dec 5, 2022
"========= কাহিনী সংক্ষেপ ========= ভারতবর্ষে তখন মোঘল শাসন চলছে। সম্রাট আকবর দিল্লীর সিংহাসনে আসীন। বাংলা বাদে প্রায় পুরো ভারতবর্ষই পরাক্রমশালী মোঘলদের আওতাধীন। কিন্তু বাংলা তখন স্বাধীন অঞ্চল! বিদ্রোহের দেশ বলে খ্যাত বাংলার বিভিন্ন অংশে তখনো চলছে স্বাধীনচেতা বারো ভূঁইয়াদের শাসন এবং তারা মোঘল বশ্যতা মেনে নেন নি। যার প্রধান সোনারগাঁ অঞ্চলের শাসক ঈশা খাঁ। কিন্তু এবার সম্রাট আকবর অত্যন্ত ক্ষ্রিপ্ত হয়ে তার বিশ্বস্ত ও দুর্ধর্ষ সেনাপতি মানসিংহকে পাঠান বাংলাকে মোঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করতে। তাই অতর্কিত ও শক্তিশালী হামলায় প্রথমেই ধ্বংস হয় অত্যন্ত সুরক্ষিত বলে বিবেচিত আসলাম শেঠের অধিকারে থাকা জঙ্গলমহাল দূর্গ। অচিরেই ঈশা খাঁ বুঝতে পারেন বারো ভূঁইয়াদের সকলের শক্তি একত্রে করলেও মোঘলদের এই বাহিনীকে রুখে দেয়া দূরুহই নয় অসম্ভবও বটে। তবে জঙ্গলমহাল দূর্গ আক্রমণের পূর্বেই আসলাম শেঠ এক অলৌকিক শক্তির কথা বলে যান ঈশা খাঁর কাছে। তখন আসলাম শেঠের বর্ণিত সেই শক্তির অপরিহার্যতা উপলব্ধি করতে পারেন ঈশা খাঁ। যার যথাযথ ব্যবহারে মোঘল বাহিনী হতে পারে পরাজিত। তাই সেই শক্তি যাতে কোনভাবেই মোঘল বা অন্য কারোও হাতে না পড়ে সেজন্য অত্যন্ত গোপনে এক বিশ্বস্ত ও শক্তিশালী বাহিনী তৈরি করে সেই শক্তিকে উদ্ধারের জন্য পাঠান ঈশা খাঁ। যে বাহিনীর নেতৃত্ত্ব দেয়া হয় মোঘল বাহিনী হতে কর্মচ্যুত এবং “রাজদ্রোহী” উপাধিপ্রাপ্ত এক বীরকে। খুব শীঘ্রই সেই বাহিনীও বুঝতে পারে কতটা দুর্বিষহ এই উদ্ধার অভিযান! অন্যদিকে বর্তমান সময়ে সম্প্রতি সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের বিশেষ অভিযানে এটা প্রমাণিত যে, বাংলাদেশে কয়েকটি আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ এবং কুখ্যাত চোরাচালান অপরাধী সংগঠন শক্ত ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে। প্রয়োজনে তাদের অন্যতম হোতারাও দেশে অবস্থান করছে; যা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পূর্ণ অজ্ঞাত ছিলো! পিবিআইয়ের স্পেশাল উইংয়ের পরিচালক হাবিব আনোয়ার পাশা সবগুলো ঘটনা বিশ্লেষণ করে এটুকু অন্তত বুঝতে পারেন যে সব ঘটনার অন্তরালে হয়তো অনেক বড় কিছু রয়ে গেছে। তাই সময়ক্ষেপণ না করে ইন্সপেক্টর আহমেদ বাশারকে ডেকে পাঠান তার স্পেশাল উইংয়ে কাজ করার জন্য। সাথে প্রথম মিশনের দায়িত্বস্বরূপ তাকে উদ্ধার করতে দেয়া হয় সম্প্রতি চট্টগ্রামে দুর্ঘটনায় নিহত প্রফেসর আবদেলের সহকর্মী প্রফেসর ইফতেখার মাহমুদকে খুঁজে বের করতে যিনি আবার ৩ বছর ধরে নিখোঁজ। কিন্তু মিশন শুরু হতে না হতেই ইন্সপেক্টর বাশার বুঝতে পারেন কাজটা যতটা কঠিন ভেবেছিলেন, বরং তার থেকেও অনেক বেশি কঠিন এবং বিপদজনক। কারণ প্রফেসর ইফতেখারকে শুধু সেই-ই নয় আরোও অনেকেই খুঁজে পেতে চায় নিজ নিজ স্বার্থ উদ্ধার ও কার্যসিদ্ধি করার জন্য। যার জন্য জন্য হত্যা করতেও তারা দ্বিধা করবে না। ========= পাঠ প্রতিক্রিয়া ========== সময় উপাখ্যান সিরিজের ৪র্থ বই “রাজদ্রোহী”। মূলত আগের ৩টি বইয়ের কাহিনীর সারাংশ জোড়া লেগে এই বইয়ের কাহিনীর প্লট সামনে এগিয়েছে। এই সিরিজের অন্যান্য বইয়ের মতো এটাতেও দুইটি সময়কাল নিয়ে সমান্তরালভাবে গল্পের প্লট তৈরি করেছেন লেখক। দুই সময়ের গল্পকে লেখক যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তার সাথেই মিলিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়েছেন। গল্পের ধারা একটু একটু এগিয়ে যাওয়ার সাথে চরিত্রগুলোও যেন ধীরে ধীরে পরিপক্ক হয়েছে। ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা বেশ চমৎকার এবং বইয়ের শুরুতে কাহিনী একটু ধীর গতির হলেও ১৭০ পৃষ্ঠার পর থেকেই একটা টান টান উত্তেজনা শুরু হয়। বইয়ের শেষ দিকের ঈশা খাঁ ও মানসিংহের দ্বৈত যুদ্ধটির প্রাণবন্ত বর্ণনার জন্য লেখককে ধন্যবাদ দিতেই হয়। আর বর্তমান সময়ের পেক্ষাপটে ইন্সপেক্টর বাশারের বিভিন্ন ঘটনা পর্যবেক্ষণ ও তার তদন্তের শেষে টুইস্টগুলো আমার কাছে দারুণ লেগেছে। তবে আমার কাছে বিশু ডাকাতকে ঘিরে শুরুতে যতটা ভয়ংকর ও ত্রাস সৃষ্টির চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত কিন্তু এই চরিত্রটিও “মগরাজ” এ সিলভেরা চরিত্রটির মতোই পরিপূর্ণভাবে পরিষ্ফুটিত হতে পারে নি। আরেকটি বিষয় আমার কাছে বেক্ষাপ্পা লেগেছে তা হলো অতীত সময়ের (১৫৯৬ সাল) একটি কথোপকথনে রসুল খাঁর ছেলে বাসিমের ইংরেজি শব্দের ব্যবহার। বিষয়টি হয়তো নজর এড়িয়ে গেছে, তাই পরবর্তী সংস্করণে এটি ঠিক করার জন্য অনুরোধ রইলো। প্রোডাকশনঃ বইটির প্রোডাকশন ও কভার ডিজাইন আমার কাছে ভালোই লেগেছে। পেজের কোয়ালিটি, বই বাইন্ডিং, ফন্ট সাইজ দারুণ হয়েছে। কিছু বানান ভুল আছে তবে “মগরাজ” এর মতো না। সেই তুলনায় এটা প্রশংসার দাবিদার। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৭.৫/১০।"
isrug itul , May 19, 2022
"valoi"
Moniruzzaman , May 16, 2022
"বাংলায় বারো ভূইয়াদের বিদ্রাহ দমনে মোগল সম্রাট আকবরের নির্দেশে সেনাপতি বাহারাম খাঁ আক্রমন করে বসে বাংলার সুবাদার আসলাম শেঠের জঙ্গলমহল দূর্গ। না, বাহারাম খা এর উদ্দেশ্য বিদ্রোহ দমন ছিলো না। তার উদ্দেশ্য ছিল হাজার বছর আগের এক রহস্যময় বস্তু আসলাম শেঠের কাছ থেকে করায়ত্ব করা যেটা ব্যাবহার করে অসীম ক্ষমতাধর হয়ে উঠবে যে কেউ। যেটা দিয়ে মুহুর্তেই বদলে দেয়া যাবে যে কোন যুদ্ধের মোড়। কিন্তু আসলাম শেঠ চতুরতার সাথে বাহারাম খাঁ কে বোকা বানিয়ে তার স্ত্রী ও কিছু অনুগতদের দূর্গ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে সক্ষম হয়। তারা সাথে নিয়ে যায় বাহারাম খাঁ এর কাংখিত সেই বস্তুটাও। এদিকে দুশ্চিন্তায় বারো ভূইয়াদের নেতা ঈশা খাঁ । ক্রমাগত রাজধানীর দিকে এগিয়ে আসা মোগল সেনাপতি মানসিংহের অগ্রগমন প্রতিরোধের যথেষ্ট শক্তি তার নেই। সুবাদার আসলাম শেঠের পরিনতির খবর পেয়ে সে ডেকে পাঠায় একসময়ে মোগল সেনাবাহিনীতে কর্মরত ও বর্তমানের রাজদ্রোহী মাসুম খাঁ কাবুলি কে। দায়িত্ব দেয় আসলাম শেঠের সদ্য বিধবা স্ত্রী মেহের বেগম কে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসার। সাথে সেই রহস্যময় বস্তুটাও আনতে হবে। বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার্থে শক্তিশালি প্রতিপক্ষ মানসিংহকে ঠেকাতে হয়ত সেটাই ব্যাবহার করতে হবে শেষ পর্যন্ত। ঈশা খাঁর কথামত মাসুম খাঁ অল্প রসদ ও দুই বন্ধুকে নিয়ে বেরিয়ে পরল জল জঙ্গলের সেই দুর্ভেদ্য এলাকা থেকে মেহের বেগম কে উদ্ধারে। শক্তিশালি মোগল সেনা, নিষ্ঠুর বিশা ডাকাত ও জলা এলাকার ঠগি হিসেবে পরিচিত পাঙ্গুদের মোকাবেলা করে শেষ পর্যন্ত মাসুম কি তার উদ্দেশ্যে সফল হতে পারবে? বর্তমান সময়ে চট্টগ্রামে আর্কিওলজিস্ট হাসান আবদেল এর মৃত্যু রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে সামনে আসে তার সহকর্মি আরেক আর্কিওলজিস্ট প্রফেসর ইফতেখার মাহমুদের নাম। তার কাছেই আছে প্রাচীন কোন এক বস্তুর খোজ যেটা খারাপ হাতে পড়লে হুমকির মুখে পড়বে মানব সভ্যতা। ওই রহস্যময় বস্তুর পেছনে পড়ে আছে দু দুটো আন্তর্জাতিক চোরাচালান গ্রুপ। বস্তুটার নাগাল পেতে মরিয়া তারা। তাদের হাতে যেন এই রহস্যময় জিনিসটা না পরে সেজন্য ইফতেখার মাহমুদকে খুজে বের করতে হবে। আর এই কাজের জন্য পিবিআই এর সদ্য প্রতিষ্ঠিত স্পেশাল উইং এর চীফ আনোয়ার পাশা ডেকে আনলেন ময়মনসিংহের টুইন কালি কেসের রহস্য সমাধানকারি ইন্সপেক্টর আহমেদ বাশার কে। স্পেশাল উইং এ জয়েন করেই বাশার নেমে পড়ল প্রফেসরের খোজে। সুত্র ধরে খোজ পেল প্রফেসরের মেয়ে পৃথা হাসান ও আরেক সহযোগি চৌধুরি হাসান শেখ এর। তাদের নিয়ে প্রফেসর ও তার লুকিয়ে রাখা সেই রহস্যে খোজ করতে গিয়ে রোষানলে পরে গেল রেলিক ও নেক্রোপোলিস নামের সেই দুই চোরাচালান গ্রুপের। ওদিকে গোদের উপর বিষফোড়ার মত পটভুমিতে আবির্ভাব ঘটল আরেক কাল্ট দলের। তারাও এই রহস্যের পেছনে লেগে আছে। নিজেদের উদ্দেশ্য পূরনে খুন করতেও দ্বিধা করছে না তারা। শত্রুপক্ষ কিভাবে যেন বাশারের প্রতিটা পদক্ষেপের খবর পেয়ে যাচ্ছে। তাহলে কি দলের ভেতরই আছে বিশ্বাসঘাতক? কাকে ছেড়ে কাকে বিশ্বাস করবে সে? আড়াল থেকে কলকাঠি নেড়ে যাচ্ছে কোন এক অদৃশ্য মানুষ। বাশার কি পারবে শত্রুর হাতে পড়া থেকে সেই রহস্যময় বস্তু রক্ষা করতে? পারবে কি সেচ্ছায় আত্বগোপনে থাকা চতুর আর্কিওলোজিস্ট ইফতেখার কে খুজে বের করতে? যার কাছেই একমাত্র আছে সব প্রশ্নের উত্তর। সময়উপাখ্যান সিরিজের ৪ নং বই রাজদ্রোহী। এই সিরিজের অন্য বইগুলোর মত এই বইতেও লেখক সমান্তরাল ভাবে একই বিষয়বস্তু নিয়ে অতিত ও বর্তমান পটভুমিতে গল্প এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এই বইয়ের গল্পটি মূলত সিরিজের ৩য় বই মগরাজের সরাসরি সিক্যুয়েল। তবে স্বতন্ত্রভাবেও গল্পটা পড়া যায়। ঘটনাপ্রবাহের বর্ননা বেশ চমৎকার। বিশেষ করে অতিতের পটভূমি তে মাসুমের সাথে ঘড়িয়ালেরর লড়াই, দুর্গ আক্রমন ও পলায়ন, বিশু ডাকাতকে মোকাবেলা, ইশা খা ও মানসিংহের দ্বৈত যুদ্ধ এই সব ঘটনার লেখক এত সুন্দরভাবে বর্ননা করেছেন যে তা একদম চোখে সামনে ঘটছে এমনটা মনে হয়। বর্তমান পেক্ষাপটে ইন্সপেক্টর বাশারের তদন্তের টুইস্ট গুলো চমৎকার ছিলো। আর শেষের দিকে তো পুরো ঘটনাই উল্টে গেল। ভালো লেগেছে বইটা। তবে আফসোস রহস্য ভেদ হলো না। বইটা শেষ করার পর অতৃপ্ত বাসনা নিয়ে পরবর্তি বইয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে পাঠকদের।"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"রাজদ্রোহী" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: