হোম
0
কার্ট
অফার সাইন ইন
বই খোঁজা হচ্ছে...

কোনো বই খুঁজে পাওয়া যায়নি

বানান ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন অথবা অন্য শব্দ দিয়ে খুঁজুন

প্রগতি - PROGOTY
পূর্বপুরুষ - আশীফ এন্তাজ রবি এর প্রচ্ছদ
একটু পড়ে দেখুন

১ম প্রকাশ, ২০২০

ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

পূর্বপুরুষ

68 Ratings | 30 Reviews
TK. 568 TK. 660 -14% OFF

1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি

"পূর্বপুরুষ" বইয়ের ফ্ল্যাপের অংশ থেকে নেয়া: এই গল্পের শুরু একটি লঞ্চঘাট থেকে। মানিকগঞ্জের এক অখ্যাত গ্রামের তথাকথিত “জমিদার ঢাকা সফরে যাবেন। সঙ্গে যাবেন তার তি...
একটু পড়ে দেখুন
ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

বইটির বিস্তারিত দেখুন

"পূর্বপুরুষ" বইয়ের ফ্ল্যাপের অংশ থেকে নেয়া: এই গল্পের শুরু একটি লঞ্চঘাট থেকে। মানিকগঞ্জের এক অখ্যাত গ্রামের তথাকথিত “জমিদার ঢাকা সফরে যাবেন। সঙ্গে যাবেন তার তিন পুত্র ও একটি ঘােড়া।
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন
Title পূর্বপুরুষ
Author আশীফ এন্তাজ রবি
Publisher আদর্শ
Edition ১ম প্রকাশ, ২০২০
Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) 352
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা
Category উপন্যাস ও সাহিত্য
Weight 0.64 Kg
ISBN 9789848040881
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন

বিজ্ঞপ্তি

গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।

Reviews and Ratings

Rate this product

4.41

68 Ratings and 30 Reviews

★★★★★
31
★★★★☆
34
★★★☆☆
3
★★☆☆☆
0
★☆☆☆☆
0

পাঠকদের মন্তব্য

৩০টি
বনলতা

বনলতা , Dec 18, 2025

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"মোটামুটি ভালোই ।"

Sakib

Sakib , Oct 5, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"#পূর্বপুরুষ #পাঠ_অনূভূতি ♦এক নজরেঃ •উপন্যাসের নামঃ পূর্বপুরুষ •লেখকঃ আশীফ এন্তাজ রবি •ধরনঃ রাজনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক •প্রকাশনীঃ আদর্শ •প্রচ্ছদঃ রহমান আজাদ •মুদ্রিত মূল্যঃ ৬৬০ •পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৩৫০ •প্রকাশকালঃ ৭ মাঘ ১৪২৬ ২০ জানুয়ারি ২০২০ লেখনীতেঃ রিফায়াত হাসান সাকিব ♦ভূমিকাঃ অচেনা জায়গায় সম্পূর্ণ নতুন একটুখানি আবেশ নিয়ে একাকী বসে পড়েছিলাম আজ । বারবার মনে হচ্ছিল, কারেন্ট নেই, মোবাইল নেই । হাতে শুধু গুটিকয়েক বই পড়ে আছে আমার জন্য । বইতেই সাক্ষী হতে হবে আমার । এই সাক্ষী হতে বেশ আকর্ষণীয় লাগে । কল্পনায় নতুন নতুন রাজ্যে নতুন নতুন চরিত্রের আগমনের সাথে ঘুরে বেড়িয়ে নতুন ভাবে সব জানতে বেশ লাগে । পৃথিবীতে বইপোকাদের বোধহয় এটাই একটি অন্যতম প্রিয় কারণ, অনেক অনেক চরিত্র সম্পর্কে জানা যায় । তাদেরকে ধারণ করা যায় । ♦পারিপার্শ্বিক দিকঃ হঠাৎ করে বিকেলে মনে হলো পূর্বপুরুষ উপন্যাসটি পড়ে ফেলি । কিন্তু তা পুরোপুরি ভাবে হয়নি । ৩৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়ে ফেলার পরে বিকেলে আর পড়া হলো না । কারেন্ট আসে না, ওদিকে সারাদিকে অন্ধকার নিয়ে আমি বসে ছিলাম । তারপর রাত ৯টায় কারেন্ট এলো । আমি ঠিক ৯টাতেই আবার উপন্যাসটি প্রথম থেকে পড়া শুরু করলাম । এই প্রথম থেকেই আবার পড়তে বেশ লেগেছে আমার । পুরোটা উপন্যাস প্রথম থেকে একনাগাড়ে শেষ পর্যন্ত পড়ে গেলাম । কিন্তু সময়টা রাত ৪টা ১৫ হয়ে গেল । ♦নামকরণঃ এই উপন্যাসে যারা চরিত্র আহ্বানে ভেসে আসে তারা সবাইই পূর্বপুরুষ । তারা সবাইই গল্পের প্রয়োজনে ইতিহাস থেকে পটভূমিতে চেপে বসেছে । বসে গিয়ে উপন্যাসকে নতুন মাত্রায় ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে । বেশ অন্যরকম ভাবে গল্পের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে শিখে নিয়েছে । এই কারণেই বোধহয় পূর্বপুরুষ হিসেবেই তারা এসেছে অতীতের মতো থেকেও বর্তমানকে হাতছানি দিতে দিতে । ♦ফ্ল্যাপে লেখাঃ এই গল্পের শুরু একটি লঞ্চঘাট থেকে । মানিকগঞ্জের এক অখ্যাত গ্রামের তথাকথিত ‘জমিদার’ ঢাকা সফরে যাবেন । সঙ্গে যাবেন তার তিন পুত্র ও একটি ঘোড়া । কিন্তু ঘোড়াটি কিছুতেই লঞ্চে উঠতে চাইছে না । এই ছোট্ট সংকট থেকে গল্পের শুরু, তারপর গল্প ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে কলকাতা, ঢাকা আর রাওয়ালপিন্ডিতে । গল্পে একে একে এসে হাজির হন সুচিত্রা সেন, উত্তমকুমার, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, কলিম শরাফী, জহির রায়হান ও আরও অনেকে । তবে সময়টা কেবল প্রেমের নয়, দ্রোহেরও । কাজেই এই গল্পে এসে পড়েন মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আইয়ুব খান স্বয়ং । তবে এটা ইতিহাস নয়, নিছক গল্প । প্রেমের গল্প, ঘৃণার গল্প, বিশ্বাস ও বিশ্বাসভঙ্গের গল্প । মানবমানবীর সম্পর্কের চিরায়ত আখ্যান । কাজেই এ গল্পে আতিক প্রতারিত হয় কলকাতার নন্দিনীর কাছে । অন্যদিকে সুফিকে ভালোবাসায় বরণ করে নেয় পরীবানু । এই গল্পের শুরু ১৯৬৩ সালে, শেষ ১৯৬৯-এ । কৌতূহলী মানুষ আশীফ এন্তাজ রবি যতবার ইতিহাসের বই খুলে বসেছেন, ততবার তাকে হাতছানি দিয়ে ডেকেছে গল্পকার আশীফ এন্তাজ রবি । ইতিহাসের টেবিল থেকে তাকে টেনে এনেছে গল্পের চোরাগলিতে । পূর্বপুরুষ এমন এক আখ্যান যেথায়–গল্প গিয়ে মিশেছে ইতিহাসে কিংবা ইতিহাস পথ হারিয়েছে গল্পের চোরাপথে । গল্প হয়ে উঠেছে ইতিহাস, অথবা ইতিহাস হয়েছে গল্প । ♦প্রচ্ছদঃ এই বইটার প্রচ্ছদটা আমি যেদিন প্রথম দেখেছিলাম সেদিন শুধু মনে হয়েছিল, লেখকের লেখা আমার ভালো লাগে । কিন্তু এই বইটিতে মহানায়িকা সুচিত্রা সেন এর ছবি কেনো দেয়া! আমি উপন্যাসটি তখনও পড়িনি, উপন্যাসের কিছুই জানি না । শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে থাকি । ভেবে ভেবে কিছু বুঝতে পারার চেষ্টা করি । তারপর উপন্যাস সম্পর্কে শুনে আরো আগ্রহী হয়ে পড়ি । এই প্রচ্ছদটা একটা আগ্রহের কারণ আমার জন্য । সুচিত্রা সেন আমার কাছে প্রিয় একজন অভিনেত্রী শুধু নন, প্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব । তারপরে উপন্যাসের যে ছাপ অনুসারে প্রচ্ছদটা তৈরি করা হলো, সেই অংশটা দিয়ে প্রচ্ছদ তৈরি করা হয়েছে বলে বইটি পড়ার পরে এখন বেশ লাগছে । এই প্রচ্ছদটি প্রিয় হয়ে গেল । ♦উৎসর্গঃ এই উপন্যাসের উৎসর্গ লেখক যাদের করেছেন তাদের ব্যাপারে সংক্ষেপেও বলা যায়, অতীব বর্ণনা দিয়েও বলা যায় । কিন্তু মানুষ দুইটার গুরুত্ব কখনও শেষ হয়ে যায় না । জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দুইজন মানুষকে উৎসর্গ করা হয়েছে দেখে বেশ ভালো লেগেছে । ♦চরিত্র বিশ্লেষণঃ যেহেতু এই উপন্যাসটিতে ইতিহাসকে টেনে আনা হয়েছে, মনস্তাত্ত্বিক এর ছাপ আছে, তাই সব চরিত্র নিয়ে বলা হবে না, কিন্তু কিছু চরিত্র নিয়ে বলবো । •এন্তাজ উদ্দিন বিশ্বাসঃ ভীষণই সৎ, কর্তব্যপরায়ণ স্বভাবের একজন মানুষ । তিনি যখন দুষ্টুমির ছলে মিষ্টি করে হাসেন তাকে দেখতে ইচ্ছে করে । ছেলেদেরকে শাসন করে, যত্ন করে বড় করতে চেয়েছেন তিনি । •আতিকঃ আতিক সত্যবাদী, কর্মঠ স্বভাবের হলেও ধৈর্য খানিকটা কম ছিল তার । সবাইকে সহজে বিশ্বাস করে ধোঁকা খেলেও তার দিক থেকে সাহায্য করার মানসিকতা আছে খুব । •শরীফঃ কবি হতে চাওয়া ছেলেটা আলসেমি করে কাটিয়ে দিলেও একটা পরিস্থিতিতে পড়ে ভীষণ মনোযোগী হয়ে পড়ে । •রাজুঃ রাজু স্বভাবে বেশ দুরন্ত স্বভাবের । যা বলে তা করার চেষ্টা করার মানসিকতা আছে তার । •আলতাফ মাস্টারঃ হাসিখুশি স্বভাবের সোজা সরল মানুষটিকে বেশ ভালো লাগে । সাহায্য করার মানসিকতা নিয়ে সহজেই মানুষের পাশে থেকে যায় তিনি । •নন্দিনীঃ ভীষণ চালাক এবং ধূর্ত স্বভাবের একজন নারী । যে পরিস্থিতি বুঝে চলাফেরা করতে বেশ পছন্দ করে । •পরীঃ পরী ভালোবাসায় ভালোবেসে যাওয়ার মতো একজন নারী । যার ধৈর্য, ভালোবাসা, বিশ্বাস তাকে ভালোবাসার মানুষকে সমর্থন দিতে শেখায় । ♦টুকিটাকিঃ এছাড়াও বেশ কিছু চরিত্র আছে । যারা উপন্যাস জুড়ে আছে । উপন্যাসে আবহ নিয়ে আসে । ভালো লাগা বাড়িয়ে দেয় । মিতুয়া বেগমের সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা মুগ্ধ করে । মুগ্ধ করে জিতেন ডাক্তারের অসাধারণ কর্মস্পৃহা কিংবা সুশান্ত এর অসাধারণ বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাবও ভীষণ মুগ্ধতায় ফেলে । আকর্ষণে ফেলে মনু মিয়ার চরিত্রের উপস্থিতি । কাশু ডাকাত এর অদ্ভুত স্বভাবও বেশ লাগে । ♦প্রিয় চরিত্রঃ এই উপন্যাসে আমার প্রিয় চরিত্র অনেকগুলো । উপন্যাস জুড়ে যারা শিহরণ জাগায়, ভালো লাগা বাড়ায় তারাই প্রিয় । এই উপন্যাস জুড়ে থাকা পরীবানু আমার প্রিয় । বেশ প্রিয় । তাছাড়া শরীফের চরিত্র গঠনে প্রথমে কিছু না থাকলেও হুট করে শেষের দিকে তাকে বেশ লেগেছে । তাছাড়া মনু মিয়া চরিত্রটাও বেশ প্রিয় আমার । তাই এই উপন্যাসে আমার প্রিয় চরিত্র একজন আসলেও নেই । তবে অনেকজন আছে । ♦পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ √এই বইটা আমি যেদিন প্রথম কেনার ইচ্ছা করেছিলাম, তার থেকে প্রায় দুই বছর ছাড়িয়ে আরো অনেক দিন পরে বইটা হুট করেই আমার সংগ্রহে চলে এসেছিল । আসার পরেই আমি শুধু বইটা নিয়ে ভেবেছি । পড়তে চেয়েছি । কিন্তু পড়া হয়নি । আমার বারেবারে মনে হয়েছিল, এই একটা বই পড়ার মতো যোগ্য সময় আমার কাছে নেই । পৃথিবীতে প্রতিটি বই পড়ার জন্য একটা যোগ্য সময় আছে । যে সময়ে বইটি পড়তে হয়, ধরে বসে থাকতে হয় । আমি সেই সময়ের অপেক্ষায় দিন রাত বসে থেকেছি । এমনও হয়েছে বইটি হাতে নিয়ে বসে থেকেছি, কিন্তু পড়িনি । এমনও হয়েছে, বইটি হাতে নিয়ে জড়িয়ে থেকেও আমি অন্য বই পড়েছি । সে বইটির যোগ্য সময় আজ । সত্যিই আজ । এই বইটি পড়ার ব্যাপারে মৌরিপুও বলেছিল, দেরি করছো বলে আফসোস করবে । কিন্তু এই আফসোসটা ছাড়িয়েও আমাকে মুগ্ধতা বেশি ছাড়িয়ে যাচ্ছে কেনো তা জানি না । √এই উপন্যাসের পটভূমি বেশ গভীর । বেশ আয়োজন করে রাখা । এসেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ছাপ । এসেছে আবহ ফুটে উঠতে থাকা কলকাতা নগরীর সৌন্দর্য, একে একে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ । এসেছে যুদ্ধের বিভিন্ন ছাপ । এসেছে নকশাল আন্দোলন । এসেছে প্রেম ‌। এসেছে অভিমান । এসেছে ভালোবাসা । এসেছে রাগ । এসেছে যুদ্ধ । এই এতকিছু আসায় পুরো আবহ জুড়ে ঘন ঘন পরিবর্তন এসেছে । জলছাপে এসেছে দুরন্ত পরিবর্তন । তবুও একটুও ক্লান্ত লাগেনি । প্রতিটি জলছাপে আমি আবেশিত হয়ে পড়েছি । এই আবহ জুড়ে থাকা পটভূমি তাই জীবনধারায়ও এনেছে বেশ ভালো লাগা । জীবনধারায় বয়ে চলা পটভূমিকে দিয়েছে ভারসাম্য । কাহিনীর প্রয়োজনে যেভাবে ইতিহাস বের করা হয়েছে তা বোধহয় আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে উপন্যাসকে । √এই উপন্যাসটির প্রতিটি চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ । প্রতিটি চরিত্রের উপস্থিতি টের পাওয়া দরকার ছিল । বিশেষ করে যাদের সংলাপ নেই, কিন্তু অদৃশ্য অবয়ব আছে তাদেরও । যেহেতু চরিত্রদের ঘিরে রাখা হয়েছে এমন কিছু মানুষজনদের নিয়ে তাই তাদের অবয়ব ঠিক রাখাও বেশ দরকার ছিল । লেখক তা অসাধারণ ভাবে করেছেন । বিশেষ করে সুচিত্রা সেন, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আইয়ুব খান এই চরিত্রগুলো যেভাবে উপন্যাসে এসেছে তা এককথায় অসাধারণ । ভাষায় বর্ণনা করার মতো নয় । তাই উপন্যাস জুড়ে তারা এসে উপন্যাসের চরিত্রগুলোকে আরো ভারসাম্য দিয়েছেন । ♦প্রিয় অংশঃ এই উপন্যাসের যখন আর ৩০ পৃষ্ঠার মতো পড়া বাকি তখন হঠাৎ মনে হলো, এই উপন্যাসটা যদি আরো পৃষ্ঠা জুড়ে জুড়ে থাকতো, যার কোনো শেষ নেই তাও বোধহয় আমি বিরক্ত হতাম না ‌। একনাগাড়ে পড়েই যেতাম । এটা কোনো কথা হলো! আমি কেনো বিরক্ত হতাম না! তারপরে মনে হলো এই উপন্যাসে সব আছে । সব ভালো লাগা জুড়ে আছে । ভালোবাসা আছে, প্রেম আছে, রাগ আছে, দ্রোহ আছে । তাই যখন যে পাত্রের আকার দরকার, তা সেই পাত্রেই ধারণ করার ফলে এই উপন্যাসটি এমনিতেই বেশ প্রিয় । তবুও এই উপন্যাসের বেশ কিছু প্রিয় অংশ আছে । সিতারার সাথে কাটানো প্রথম জলছাপটিই আমার বেশ প্রিয় । তাছাড়া সুচিত্রা সেন’কে নিয়ে থাকা কয়েকটি জলছাপও আমার খুবই ভালো লাগার মতো । তাছাড়া পরীবানুর সরলতা বেশ মুগ্ধ করেছে । শরীফ এবং মনু মিয়ার বন্ধুত্ব অথবা আতিককে সুশান্ত এর বোঝানো এগুলোও বেশ বেশ প্রিয় আমার কাছে । ♦অন্যান্য বিষয়ঃ এবার অন্যান্য প্রসঙ্গে আসি– √প্রকাশনীঃ প্রকাশনী হিসেবে আদর্শ এর লেখা আমার এই প্রথম পড়া । তাদেরকে প্রথমেই ধন্যবাদ জানাবো এই কারণে যে, এত সুন্দর বইটি তারা প্রকাশ করেছে তাই । সাথে অসাধারণ সুন্দর প্রচ্ছদটি ফুটিয়ে তুলেছে । পৃষ্ঠা বাইন্ডিংও বেশ প্রিয় আমার । বইটি ধরতে বেশ মজা আছে, এর পেছনে কারণ হলো অবশ্যই বইটির বাঁধাই । তবে বইটিতে বেশ টাইপিং মিস্টেক আছে কিছু । বিশেষ করে চরিত্র এর নামেই টাইপিং মিস্টেক আছে । সুশান্ত এর নামের টাইপিং মিস্টেকও চোখে পড়েছে আমার । এছাড়া সবই ঠিক আছে বইটির । ♦লেখক প্রসঙ্গেঃ লেখক আশীফ এন্তাজ রবি এর লেখা পূর্বপুরুষ বইটি আমি কিনতে চেয়েছিলাম হঠাৎ করে । এই হঠাৎ করে করার পেছনে একটি কারণ ছিল, কারণটি হলো তার একটি ফেসবুক লেখা আমার ভালো লেগে গিয়েছিল । যদিও শুনেছিলাম সেটি সত্যি ঘটনা । লেখকের বিয়ের পেছনে থাকা গল্পটা আমার এত ভালো লেগে গিয়েছিল যে আমি বেশ কয়েকবার পড়ে ফেলেছিলাম । সাথে সাথে মনে হয়েছিল, লেখকের বইটি আমি কিনবোই । সেই পূর্বপুরুষ বইটি অবশেষে পড়া হয়ে গেল । অসাধারণ সংলাপ, ইতিহাসকে এত সুন্দর ভাবে ব্যবহার করে প্রতিটি চরিত্রকে দারুণ ভাবে গড়ে তুলেছেন । পটভূমিকে দুর্দান্ত ভাবে খাপ খাইয়েছেন । ♦রেটিংঃ এই বইয়ের রেটিং হয় না । এই বইতে যে রেটিং দিবো তাই কম লাগে । আমার একবার মনে হলো, এই বইতে রেটিং দিবো ৫য়ে ১০ । তারপর মনে হলো, বিষয়টা কেমন যেন! এটিও কম কম লাগে । কিন্তু এখন যখন রেটিং লিখছি, তখন আবার রেটিংয়ে ওটা লিখতে ইচ্ছে করছে না । শুধু আমি জানি, আর আমার মন জানুক কি পরিমাণ এক আকাশ পরিমাণ মুগ্ধতা নিয়ে আমি ৫/৫ দিলাম । বাকি যত অগণিত মার্ক দিলাম তা আমার মন জুড়ে থাকুক, শুধু ৫ই বাকি পুরো দুনিয়া জানুক । ♦উপসংহারঃ কিছু উপন্যাস থাকে । যে উপন্যাসে ভেসে যেতে হয় । সে উপন্যাস যত বড় হোক তাতে কিছুই যায় আসে না । যত আসবে, তত ভেসে যাওয়া যাবে । এরকমই একটি উপন্যাস এটি । শেষের দিকে মনে হলো আরো থাকুক । কিন্তু যার শুরু আছে তার শেষও থাকতে হয় । কিন্তু কেউ জানে না, ওই শেষই যেন নতুন কিছুর জন্য অদৃশ্য শুরু । যা লেখক দিয়ে দেয় পাঠককে কল্পনা করার জন্য । এটাই লেখকের সফলতা । যতটুকু উপন্যাস হয়ে আসে সেটুকু লেখকের কল্পনা জুড়ে থাকে, তারপরে শেষ হয়ে গেলে তারপরের কল্পনা বোধহয় পাঠক করে নিজের নিজের মতো করে । সেই শেষে একেক পাঠকের রাজ্যে কারো ঢোকার অনুমতি নেই । আমার পাঠক রাজ্যে ওরা আছে । ওই পূর্বপুরুষ জুড়ে থাকা গল্পজুড়েও ভেসে বেড়ায় যেন একরাশ অতীত কিংবা অতীত না হয়ে থাকাই বর্তমান । কে জানে, হয়তোবা ভবিষ্যত!"

শাহ্ ফখরুল ইসলাম আলোক

শাহ্ ফখরুল ইসলাম আলোক , Sep 6, 2022

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"অসাধারণ একটি বই। বইটি পড়ে আমার রিডার্স ব্লক কেটে গেছে। বইটি কেন আগে পড়িনি, এটিই আফসোস।"

mehedi Hassan Rahin

mehedi Hassan Rahin , May 17, 2022

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"nice"

Mazharul Islam Sojib

Mazharul Islam Sojib , Mar 25, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"আশাকরি ভালো লাগবে....."

Md. hamidul Islam Khan

Md. hamidul Islam Khan , Dec 19, 2021

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"ভালো লেগেছে।"

Md. Rajib Hasan (Shovon)

Md. Rajib Hasan (Shovon) , Dec 5, 2021

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"spellbounded"

kulsuma mily

kulsuma mily , Oct 14, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"✍️ গল্প - কথন, সময়টা তখন ১৯৬৩-১৯৬৯ এ গল্পের শুরু মানিকগঞ্জ জেলার বুরুন্ডী গ্রাম থেকে সমস্ত ভারতবর্ষ ঘুরেফিরে আবার মানিকগঞ্জের বুরুন্ডী গ্রামেই সমাপ্তি৷ এ গ্রামের জমিদার এবং একমাত্র ধনী ব্যক্তি এন্তাজ উদ্দিন বিশ্বাস ঢাকায় সফরে যাবেন সাথে যাবে তার তিন পুত্র আতিক বিশ্বাস, শরীফ বিশ্বাস ও রাজু বিশ্বাস এবং তার প্রিয় ঘোড়া সিতারা। স্টিমারে উঠতে গিয়ে সিতারা মাঝখানে পাটাতনে এমন ভাবে দাঁড়িয়েছে যে না পারছে কোনো মানুষ উঠতে না পারছে নামতে। অনেক কারসাজি করে তাকে উঠানো হলো স্টিমারে। আলতাফ মাস্টার এই গ্রামেরই একজন শিক্ষক তাকে আবার ধরেছে হিটলারের রোগ সে চায় আকাশে পাখির মত উড়তে আর তাই সে প্রতিদিন ভোর থেকে ব্যায়াম শুরু করে। এ কথা দশ গ্রামের সবাই জানে এমন কি কলকাতা পর্যন্ত রটে গেছে। তারই ছাত্র আতিক বিশ্বাস মনস্থির করেছে সে কলকাতায় যাবে ডাক্তারি পড়তে আর তাই তার বাবা কে রাজি করতে আলতাফ মাস্টারকে অনুরোধ করছে। কিন্তু তার বাবা এন্তাজ উদ্দিন রাজি নয় তার মা মিতুয়া বেগম অন্ধের মত ভালোবাসে তিন ছেলে। একদিন আতিক বাক্স থেকে টাকার বান্ডিল চুরি করে পাড়ি জমায় কলকাতায়। এখানে এসে সে দিওয়ানা হয়ে যায় তখনকার শ্রেষ্ঠ নায়িকা সুচিত্রা সেনের প্রেমে। হঠাৎ একদিন তার পরিচিত জামানের বাসায় সাক্ষাৎ হয়ে যায় সুচিত্রার সাথে। সুচিত্রার কাছে সে পাত্তা না পেয়ে বিরহে মাতাল হয়। সেই বিরহ কাটাতে তার বন্ধু সুশান্ত তাকে নিয়ে যায় কলকাতার নিষিদ্ধপল্লীতে৷ সেখানেই শুরু তার জীবনের পতন৷ পরিচয় হয় পতিতা মেয়ে নন্দিনীর সাথে তার সাথে একই ঘরে দু'তিন থাকার পর নন্দিনীর প্রেমে পড়ে৷ অন্যদিকে জমিদার বাড়ির শত্রু হাশেম নষ্টামো করতে গিয়ে ধরা পড়ে তার হাতের কব্জি হারায় রাজু বিশ্বাসের কাছে।পুলিশের রাজু বিশ্বাস আশ্রয় নেয় চরগ্রামে। বুরুন্ডী গ্রাম রটে গেছে রাজু বিশ্বাস মারা গেছে৷ ভাইয়ের শোকে কবিতা লিখে কবি হয়ে উঠে শরীফ বিশ্বাস। চরগ্রামের প্রায় সবাই চোর ডাকাত অতঃপর রাজুর মিল হয় এক চোরের মেয়ে পরীবানুর সাথে। কলকাতায় আতিক ডাক্তারি পড়ার একবুক স্বপ্ন এবং আশা নিয়ে গেলেও সে বারবার প্রতারিত হয় বারমেয়ে নন্দিনীর কাছে। এক সময় নন্দিনী গর্ভবতী হয় এবং সে দায় চাপায় আতিকের উপর। আতিক অন্ধের মত ভালোবাসে নন্দিনী কে সে দায় ও মেনে নেয় তবু কিছুদিন পর বুলবুলি তাদের মেয়ে এবং আতিক কে ঠকিয়ে নন্দিনী আবার তার সর্বস্ব নিয়ে পালিয়ে যায় মহিতোষের সাথে। আতিকের সব বিপদেআপদে সাহায্য করে গেছে তার বন্ধু সুশান্ত৷ আতিকের বাবা এন্তাজ উদ্দিনও তাকে ত্যাজ্যপুত্র করে পতিতা মেয়ের সঙ্গী হওয়ার কারণে। শরীফ বিশ্বাস মনস্থির করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে সেই জন্য তার ঢাকা যাওয়া। ঢাকায় এসে কবিতা চাপানোর জন্য ঘুরে বেড়ায় নানা জনের কাছে আর সেখানেই এসে হাজির হয় বাংলার সুনামধন্য ব্যক্তিবর্গ। উপস্থিত হোন শামসুর রহমান, আল মাহমুদ, কলিম শরাফী, আহসান হাবীব, জহির রায়হান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, আহমদ ছফা এবং শরীফ বিশ্বাসের সহপাঠী স্বয়ং হেলাল হাফিজ। এরই মধ্যে রাজু বিশ্বাস কে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। সেই সুবাধে ঢাকায় বাসতি শুরু করে পরিবানু, মিতুয়া বেগম, শরীফ বিশ্বাস এবং আলতাফ মাস্টার। পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের সময়কাল চলছিল বলে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে ছিল রাজনীতি, পশ্চিম পাকিস্তানীদের অরাজকতা। শরীফ যে জেলখানায় ছিল সে জেলখানায় এসে হাজির হয় স্বয়ং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পরবর্তীতে তারই অনুপ্রেরণা রাজুর পথচলা শুরু। গল্পে একে একে হাজির হয় সুচিত্রা সেন, উত্তম কুমার এবং বেণু তথা সুপ্রিয়া দেবী৷ পাবনার সামান্য গৃহবধু রমা থেকে স্বনামধন্য নায়িকা সুচিত্রা সেনের পারিবারিক জীবনকাল, তার স্বামী দিবানাথের সাথে পারিবারিক কলহ, উত্তম কুমারের সাথে তার স্ত্রী গৌরির মনমালিন্য এবং সুপ্রিয়া দেবীর সাথে বসবাস, সিনেমার বাইরে তাদের যে জীবনের বাস্তবতা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ে গল্পে। গল্পে আতিকের নন্দিনীর প্রতি ছিল প্রবল ভালোবাসা আর নন্দিনী ছিল নিতান্তই টাকা লোভ। আর তাই আতিকের মানসিক দূর্বলতা আর খামখেয়ালিতে সর্বস্ব হারায় আতিক। রাজু এবং পরীবানুর ভালোবাসা ছিল দৃঢ় এবং মজবুত। তবে সময়টা কেবল প্রেমের নয় দ্রোহেরও কাজেই এই গল্পে এসে পড়েন মাওলানা ভাসানী এবং আইয়ুব খান। ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৯ দীর্ঘ ৭ বছরের রাজনীতি, ইতিহাস এবং নিছক গল্প নিয়ে রচিত হয়ে ' পূর্বপুরুষ '। নামের সঙ্গে, চরিত্রের সঙ্গে মূল প্রেক্ষাপটের দারুণ মিল রেখে হয়তো নামকরণ করা হয়েছে। আরও অসংখ্য চরিত্র জুড়ে গল্পে কাশু ডাকাত থেকে শুরু করে মাঝির ছেলে পর্যন্ত। ✍️ ব্যক্তিগত মতামত - গল্প শুনতে এবং জানতে ভালোবাসে না এমন একটি মানুষ হয়তো পাওয়া যাবে না। কিছু কিছু গল্প মন কে এমন ভাবে আকৃষ্ট করে যেন এটা জীবনের গল্প। গল্প ক্রমশ শেষ হতে থাকে আর বাড়তে থাকে মনের আকুলতা যেন এর সমাপ্তি না হলেই ভালো হতো। পৃথিবীর সবকিছুই যে আপেক্ষিক তাই এর শেষ থেকেই যায়। " পূর্বপুরুষ " এমনই একটি উপন্যাস যে একবার এই গল্পের মোহে পড়ে যাবে শেষ না করা পর্যন্ত তার মন স্থির হবে না! প্রেমের গল্প, ঘৃণার গল্প, বিশ্বাস ও বিশ্বাসভঙ্গের গল্প। মানব-মানবীর সম্পর্কের চিরায়ত অ্যাখান ' পূর্বপুরুষ '। এটি এমনই একটি বই যেখানে জীবনের বাস্তবতা, রাজনীতি, ইতিহাস, প্রেম-বিরহ, হাসি-কান্না, স্নেহ-ভালোবাসা, স্বার্থপরতা, সম্পর্কের টানাপোড়ন সব কিছু একটি ফ্রেম। গল্পের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমাকে এতোটা বিমোহিত করে রেখেছিল যে দীর্ঘ ৯ ঘন্টায় আমি বইটা পড়া শেষ করেছি। প্রতিটি লাইন বাই পড়তে হয়েছে এমনও কিছু লাইন কিছু যেটি দু'তিন বার পড়তে হয়েছে কারণ ভালো লেগেছে পড়তে। বইপ্রেমি হিসেবে জীবনে অনেক বই পড়েছি প্রথমবার অবাক হয়েছিলাম পাওলো কোয়েলহোর দ্য এ্যালকেমিস্ট বই পড়ে তার থেকেও বেশি অবাক হয়েছি ' পূর্বপুরুষ ' পড়ে। এটা নিতান্তই মনের অনুভূতির ব্যাপার ভাষায় লিখা যাবে না এই ভালো লাগা। #ধন্যবাদ আমার শুভাকাঙ্ক্ষী কে এতো ভালো একটা বই গিফট করার জন্য। ✍️ সমালোচনা - আমি একমদই ছোট সারির মানুষ এতো বড় মাপের একজন লেখকের সমালোচনা করছিনা মোটেও তবুও বইয়ের কিছু সমালোচনা থেকে যায়। সেই হিসেবে মাঝে মাঝে কিছু শব্দ বানানে ভুল হয়েছে। আর সব থেকে সমালোচনা হলো যতবার নন্দিনী পর্বটা এসেছে ততবার একটু সুশীল ভাষার অভাব ছিল। একজন পতিতা মেয়ে হিসেবে তাকে উপস্থাপন করা হয়েছে সেই সুবাধেই ভাষা গুলো এসেছে। ✍️ প্রোডাকশন কোয়ালিটি - অসম্ভব ভালো বাইন্ডিং একটি বই। আর পেইজ গুলো মানসম্মত এবং গুনগত কয়েকবছর কেটে গেলেও নষ্ট হবে না। দামটা অনেকটা বেশিই ৬৬০ টাকা বইটি সংগ্রহ করতে অনেকেরই বিশেষ করে ছাত্রদের জন্য যথেষ্ট কষ্টদায়ক হবে৷ তবুও এমন ভালো একটি বই যে পাঠক শতভাত তৃপ্তি পাবে। ✍️ লেখক পরিচিতি লেখক বাঙালী বলেই তার জীবনের উদ্দেশ্য বারবার বদল হয়েছে৷ কখনো সে আইসক্রিম ওয়ালা কখনো বা ডাক্তার, কখনো আবার লেডিস হোস্টেলের দারোয়ান হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন 😁 শেষমেশ আজ সে একজন লেখক। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭৭ সালে ঢাকায়। পরিশেষে - যেহেতু ৩৫০ পৃষ্টার একটি বই তাই রিভিউটা একটু বড় হয়েছে ধৈর্যসহকারে পড়ার অনুরোধ রইলো আশা করি বইটা ভালো লাগবে। ✍️ বই পরিচিতি - বই : পূর্বপুরুষ লেখক : আশীফ এন্তাজ রবি প্রকাশনী: আদর্শ প্রকাশকাল: ২০ জানুয়ারী ২০২০ প্রচ্ছদ মূল্য: ৬৬০৳"

এডভোকেট মো: ফজলে আমিন

এডভোকেট মো: ফজলে আমিন , Aug 22, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"অসাধারণ গুল্প , অসাধারন লেখক। লেখকের দীর্ঘায়ু কামনা করছি।"

mamun sharif(milon)

mamun sharif(milon) , Aug 9, 2021

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"Very good book"

Md. Farhan Ishraq

Md. Farhan Ishraq , Jul 24, 2021

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"ভালো লেগেছে"

Salah uddin

Salah uddin , Jul 4, 2021

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"এককথায় অসাধারণ!!!"

Arpon Das

Arpon Das , May 14, 2021

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"ভালো।"

sherif al shayar

sherif al shayar , Apr 27, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"আশীফ এন্তাজ রবির লেখা সত্যিই অসাধারণ। তবে এই লেখক কেন যে এতো অল্প বই বের করে তা আমি বুঝি না"

ripon kumar

ripon kumar , Apr 24, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"খুবই ভালো একটি বই"

Mitul kabir

Mitul kabir , Apr 24, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"রিভিউ দেখে বইটা কিনছিলাম। তবে কিছুটা হতাশ। প্রথমার্ধে , লেখক যেনো ইতিহাস যোগ করতে ভুলে গিয়েছিলেন । আর তাই হয়তো শেষার্ধে ইতিহাস পুরো ঢেলে দিয়েছেন। বই সাইজ হিসেবে মূল গল্পের গভীরতা কম।"

Nahid Chowdhury

Nahid Chowdhury , Apr 20, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"খুব ভালো একটি উপন্যাস"

Md. Hafizur Rahman Arfin Akhand

Md. Hafizur Rahman Arfin Akhand , Apr 15, 2021

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"অনেকদিন পর একটি বই পড়ে আনন্দ পেলাম।"

Shafiul Azmain

Shafiul Azmain , Apr 6, 2021

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"বইটা খুব ভাল লেগেছে। বিশেষ করে সুচিত্রা সেন এবং উত্তম কুমারের জীবন ও চরিত্র লেখক যেভাবে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের আর কোন সাহিত্যিক তা খুব সম্ভবত করতে পারেননি ভা করেননি। কিন্তু উপন্যাসের শেষ দিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধু খুব জায়গা পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর মত এমন বিশাল ব্যক্তিত্বকে আরো ভালভাবে ফুটিয়ে তোলার অবকাশ ছিল। কিন্তু লেখকের ভাষার দখল, পাঠককে চুম্বকের মত লেখনীতে আটকে রাখার দক্ষতা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। এক্ষেত্রে ১০/১০ পাবেন। সামনে আরো উপন্যাসের অপেক্ষায় রইলাম।"

Tawsiful Islam

Tawsiful Islam , Apr 5, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"আজ থেকে ষাট বছর আগে আমাদের এ ঢাকা কেমন ছিল? মানুষগুলোর জীবন কেমন ছিল? সে সময় সেলফোন ছিল না, এক জায়গার ঘটনার খবর আরেক জায়গায় পৌঁছাতে দারুণ সময় লেগে যেত! কেমন হত, যদি কোনো একটা উপায়ে সেই সময়ের দিনগুলোয় একটু চলে যেতে পারতাম! 'পূর্বপুরুষ' বইটার নামও যথার্থ মনে হয়, কারণ ঘটনাবলী একেবারে আমাদের 'দাদার আমলের'। এই বইয়ের প্লট শুরু হয়েছে ১৯৬৩ থেকে, শেষ হয়েছে ১৯৬৯ এ। প্লটের সময়ের সাথে স্থান পরিসরও খুব বড়। মানিকগঞ্জের বরন্ডি গ্রাম থেকে গল্প ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে ঢাকায় ও কলকাতায়। শুরুটা বড় অদ্ভুত। বরন্ডি গ্রামের জমিদার তার ঘোড়া আর তিনপুত্রসমেত ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হচ্ছেন। স্টিমারঘাটে পুরো গ্রাম দাঁড়িয়ে আছে তাদের স্টিমারে তুলে দিতে। কিন্তু ঘোড়াটা, সেটি ঘাট আর স্টিমারের মাঝের পাটাতনে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে পড়ল! না যাচ্ছে আগে না যাচ্ছে পিছে! এই সংকটটা থেকে গল্প শুরু হয়। পাঠক আমি ক্রমেই ডুবে যাই বরন্ডি গ্রামের পরিবেশের মাঝে। সেখানকার মানুষ, অদ্ভুত তাদের স্বভাবচরিত্র, সরলতা। গল্প বিস্তৃতি লাভ করে কলকাতা পর্যন্ত। সেখানে বইয়ের পাতায় হঠাৎ চলে আসেন চিত্রনায়িকা সুচিত্রা সেন, নায়ক উত্তম কুমার। সুচিত্রাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গল্পের এক চরিত্র পড়ে যায় বিড়ম্বনায়। কলকাতার রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে চরিত্রের সাথে সাথে পাঠকও চলে যাবে এক নিষিদ্ধপল্লীতে, এরপর নানা ঘটনার, আখ্যানের চোরাগলিতে। এদিকে আরেক চরিত্র চলে আসে ঢাকায়। দেশবিভাগের পরের অবস্থা, চারিদিকে উদ্বেগ, দ্রোহ। গল্পের মধ্যে শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, জহির রায়হানসহ তৎকালীন সময়ের বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী ব্যক্তিবর্গের আবির্ভাব ঘটে। গল্পের চরিত্রের সাথে তাদের কথাবার্তা হয়, সখ্যতা গড়ে উঠে। শেষদিকে কারাগারে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এর সাথে মোলাকাত হবে পাঠকের। সে সময়ের আন্দোলনগুলোর এক চিত্র ভেসে উঠবে চোখের সামনে। ইতিহাসের এসব চরিত্র ছাড়াও গল্পের কাল্পনিক চরিত্রগুলোকেও বেশ চমকপ্রদ ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একেকটা চরিত্রের সাথে তাদের ডায়লগগুলোও মিশ খেয়েছে চমৎকারভাবে। গল্পের ফ্লো এর মধ্যে কোনো ছন্দপতন চোখে পড়ল না, গল্পের চরিত্রগুলোর উৎকর্ষতা ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনার তারিখের সাথে সাথেই বৃদ্ধি পেয়েছে। আশীফ এন্তাজ রবির অন্য কোনো বই আমি আগে পড়িনি, শুধু ফেসবুকে একটু-আকটু লিখা পড়তাম। তবে এ বইটা পড়ে মনে হয়েছে, এটা অন্যদেরও পড়া উচিত। ঘটনা অনুযায়ী গল্প সাজাতে তার কী পরিমাণ পড়াশোনা করতে হয়েছিল সেটা বই পড়েই বোঝা যায়। সাথে লিখার ভাষাও সহজপাঠ্য, বর্ণনায় রসবোধও চমৎকার। ফ্ল্যাপের শেষ দুটো কথা দিয়ে শেষ করছি। 'পূর্বপুরুষ এমন এক আখ্যান যেথায় গল্প গিয়ে মিশেছে ইতিহাসে কিংবা ইতিহাস পথ হারিয়েছে গল্পের চোরাপথে। গল্প হয়ে উঠেছে ইতিহাস, অথবা ইতিহাস হয়ে উঠেছে গল্প।' #বুকরিভিউ _তৌসিফুল ইসলাম"

Abdullah Al Refat

Abdullah Al Refat , Jan 23, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"আসিফ এন্তাজ রবির লিখা এটা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো বই। বইতে গল্পের ফাঁকে ফাঁকে ১৯৬৩-১৯৬৯ এর বিভিন্ন পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে। যা মানিকগঞ্জের এর বুরুন্ডি গ্রাম থেকে শুরু হয়ে ঢাকা-রাওয়ালপিন্ডি-কলকাতা পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে লেখকের কাল্পনিক চরিত্রের পাশাপাশি পাওয়া যাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা ভাসানী, আইয়ুব খান, শামসুর রহমান, আল মাহমুদ, জহির রায়হান, ওপার বাংলার উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন সহ আরো অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিকে। মানিকগঞ্জের এক অখ্যাত গ্রামের তথাকথিত জমিদারের তিন পুত্র আতিক,রাজু এবং শরীফ বিশ্বাস এর জীবন ঘিরেই এই উপন্যাসটি অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যেই চলে এসেছে প্রেম-ভালোবাসা, বিশ্বাস-বিশ্বাসভঙ্গের গল্পসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা। ব্যাক্তিগতভাবে আমার কাছে মনে হয়েছে বইটি হুমায়ুন আহমেদ এর জোছনা ও জননীর গল্প/ মধ্যাহ্ন এর মত করে লিখা হয়েছে যদিও এর প্লট ব্যাতিক্রম। হুমায়ুন আহমেদ এর বইয়ের মতই পূর্বপুরুষ বইয়ে প্রচুর হিউমার রয়েছে যা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। তবে বইটি আর একটু ইনফরমেটিভ হলে আরো পরিপূর্নতা পেতো। যদিও লেখক আগেই স্বীকার করেছেন এটা কোন ইতিহাসের বই না। গল্পের প্রয়োজনেই ইতিহাস এসেছে। যারা বইটি পড়েছেন তাদের কেমন লেগেছে সেই মতামত জানাবেন আর যারা পড়েননি তারা দ্রুত পরে ফেলুন, কথা দিচ্ছি আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট হবে না।"

mehrab masayeed habib

mehrab masayeed habib , Jan 12, 2021

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"প্রচ্ছদ দারুন। উপন্যাসে উত্তম সুচিত্রার অনেক কিছু জানতে পারলাম যেগুলো অজানা ছিলো আগে আমার কাছে। লেখকের লেখার হাত খারাপ না, তবে গল্পের মান আরেকটু ভালো হওয়া দরকার, পড়তে গেলে অনেকটা হুমায়ুন আহমেদ স্টাইল মনে হয়।"

jheelam biswas

jheelam biswas , Sep 21, 2020

★ ★ ★ ★ ★

"ঐতিহাসিক উপন্যাস আমার সবসময়ই অনেক প্রিয়, আর এই বছরের বইমেলায় আশীক এন্তাজ রবির “পূর্বপুরুষ” বইটার কাহিনী্সংক্ষেপ জেনেই ভাবলাম কিনে ফেলি। এতদিন আলসেমি করে পড়া হয়নি, তাই গতকাল এক বসাতেই শেষ করে উঠলাম প্রায় সাড়ে তিনশো পৃষ্ঠার বইটি। বইয়ের কাহিনী শুরু হয় ষাটের দশকের মানিকগঞ্জের এক গ্রামের জমিদারের তিন পুত্রকে ঘিরে, কিন্তু ধীরে ধীরে কাহিনী বিস্তৃত হয় কলকাতা আর ঢাকাতেও। দেখা হয় বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্র যেমন সুচিত্রা সেন, শামসুর রাহমান, শেখ মুজিব আরও অনেকের সাথে। এবার আসি রিভিউতে। আমার কাছে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলতেই মনে পড়ে সেই সময়, প্রথম আলোর মত উপন্যাস, যা শুধু পড়াই নয়, সাথে নিয়ে যায় সেই সময়ের মধ্যেও। তাই অনিচ্ছাসত্তেও তুলনা এসে যায়। “পূর্বপুরুষ” বইটার শুরুটা খুব সুন্দর, ষাটের দশকের এক গ্রামের নিস্তরঙ্গ জীবনের বর্ণনা ভাল লাগে, চরিত্র চিত্রনও শুরুতে বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়। কিন্তু বই যতই আগায় ততই নতুন চরিত্রদের আগমনে আর কোন চরিত্রই পুরোপুরি ফুটে ওঠে না, আর তাই গভীর টান অনুভব করি না কারো প্রতিই, কেউই হয়ে ওঠে না আপন। ষাটের দশকের ঢাকার বর্ণনা কিছু জায়গায় খুবই মনে টানে, কিছু জায়গায় পুরোই নীরস। ঐতিহাসিক চরিত্রগুলির মধ্যে একমাত্র সুচিত্রা সেনকেই জীবন্ত মনে হয়, বাকিদের বর্ণনা যেন ইতিহাসের পাতার কিছু কচকচি। আর বইয়ের ১/৩ ভাগ খুবই উপভোগ্য হলেও পরবর্তীতে অতিরিক্ত ইতিহাসের ঘটনার বর্ণনায় গল্প ঝুলে যায়, তখন মনে হয় উপন্যাস না, যেন ইতিহাসের বই পড়ছি। গল্প আর ইতিহাস একসাথে মিল খায় না। আর শেষটায় এত তাড়াহুড়া কেন বুঝলাম না, আর খালি ইতিহাসের ঘটনার বর্ণনা আর বর্ণনা, গল্প খুবই কম, তখন মনে হয় যে এর থেকে ইতিহাসের বই পড়লেই হয়। আরেকটা জিনিস খুব বিরক্ত লেগেছে, লেখক আঞ্চলিক শব্দের অর্থ বলার সময় বর্ণনার মাঝখানেই লিখেছেন এই শব্দের অর্থ এইটা। এবং এটা পুরো বই জুড়েই বারবার লেখা, যা পড়ার মজাই নস্ট করে। এই অর্থগুলি বইয়ের শেষে টীকা বা গ্লসারির মধ্যে দিলে ভাল হত। তবে ভালর মধ্যে এই যে লেখকের গদ্য সাবলীল আর সুখপাঠ্য, আর সংলাপ গঠনও সাবলীল, সেই সাথে বোঝাই যায় তিনি অনেক ঘাটাঘাটি করেছেন বইটা লেখার জন্য, সেই জন্য অবশ্যই তিনি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু চরিত্রগুলি আরেকটু জীবন্ত বিশেষ করে ঐতিহাসিক চরিত্রগুলি, ইতিহাসের ঘটনার বর্ণনা সরাসরি (ইনফো-ডাম্প) না দিয়ে গল্পের অংশ হিসেবে লিখলে, আর শেষের দিকে তাড়াহুড়ো না করে বইটা কয়েকপাতা বড় হলে, বা আরেকটি খন্ড করলে লেখকের পরিশ্রম সার্থক হত বলে আমার মত। এই লেখকের পড়া এটাই আমার প্রথম বই, আর আমাদের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়কে উপন্যাসের মধ্যে তুলে ধরার জন্য তাকে সাধুবাদ জানাই, কিন্তু বইটা যতটা না উপন্যাস, তার থেকে বেশি নীরস ইতিহাসের বই বলেই মনে হয়েছে। তারপরেও লেখকের প্রচেষ্টার জন্য বইটিকে ৩/৫ দেয়া যায়, আর অসাধারন প্রচ্ছদকে ৫/৫।"

zahidul amin

zahidul amin , Jul 21, 2020

★ ★ ★ ★ ★

"সুবিশাল উপন্যাস বলব না কিন্তু গতানুগতিক থেকে বড় ই।ষাটের দশকের উথানপর্ব এত সুন্দর করে খুব কম লেখক ই তুলে ধরতে পেরেছেন শব্দ দিয়ে - আশীফ এন্তাজ রবি তাঁদের একজন । পড়া শুরু করলে শেষ না করে ওঠা মুশকিল। শেখ মুজিব , শামসুর রাহমান , সুচিত্রা সেন, উত্তম কুমার বা নির্মলেন্দু গুণ সব এক মালায় গাঁথা অনেক জটিল একটা কাজ - সবাই লিখতে পারেনা - এক সুনীল পেরেছেন অসাধারণ ভাবে - পরে হুমায়ূন আহমেদ ( যদি ও অনেক আগে থেকেই বাংলা সাহিত্যে এর আনাগোনা - মীর মোশারফ হোসেন এর বিষাদসিন্ধু বা আরো অনেক ) — খুব সূক্ষ্ম ব্যাপারগুলো ও বাদ যায়নি তার লেখনীতে - হোক তা সিগারেট এর নাম বা সেই সময়ের গ্রাম্য আচার । তবে লেখক সম্ভবত নন্দিনী চরিত্র কে ঠিক আপন করে নিতে পারেন নি উপন্যাস এর জন্য - তবে শেষে বলব - অসাধারণ এক আখ্যান ।"

Will Buy

Will Buy , Jun 18, 2020

★ ★ ★ ★ ★

"Bhai valo buddi khataycen , 1 tar besi comment kora jay na"

SOHEL NAWROZ

SOHEL NAWROZ , May 13, 2020

★ ★ ★ ★ ★

"#প্রগতি_রিভিউ_প্রতিযোগ ★ পূর্বপুরুষ : ইতিহাস-আর্দ্র জীবনের আখ্যান ★ কঠিন কথা সহজে বলা সত্যিই কঠিন ব্যাপার। বাংলা সাহিত্য হাতেগোনা কিছু লেখক পেয়েছে, যারা প্রকারান্তে রূঢ়-রূঢ়ি শব্দের ব্যবহার ছেড়ে কেবল সুরভিত ভাষায় গল্প বোনেন। বর্ণনার গুণে জটিল-কঠিন বিষয়গুলোও তরল হয়ে যায়। একবার পড়তে বসলে গল্পের জগতটাই নিজের হয়ে ওঠে। শেষ করার পরও মোহ রয়ে যায়, সেখান থেকে বের হতে দেয় না। এ ধরনের লেখকেরা পাঠককে বাড়তি ভাবনায় ফেলতে চান না। গল্পের খোলসেই টুক করে ঢুকিয়ে দেন ইতিহাস, রাজনীতি কিংবা সমাজ পরিবর্তনের চড়াই-উতরাই। অতি সাধারণ একটা চরিত্র কীভাবে যে ইতিহাসের অতি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হতে চলেছে, লেখক ধরিয়ে না দেওয়ার আগ পর্যন্ত পাঠকের ভাবনায় আসে না। এ বড় কঠিন কাজ! অথচ তারা কত অনায়াসে করেন! আশীফ এন্তাজ রবি এই ঘরানার লেখক। তার গল্প, উপন্যাস এমনকি ফেসবুকের স্ট্যাটাসও বিশেষ কিছু। সাহিত্যের তথাকথিত ‘সিরিয়াস’ ধারায় ঢুঁ না মেরেও ইতিহাসের সিরিয়াস বিষয় নিয়ে নাড়াচাড়া করার বিশেষ ক্ষমতা দেখিয়েছেন তিনি ‘পূর্বপুরুষ’ উপন্যাসে। ফেসবুকের মাধ্যমেই আশীফ এন্তাজ রবির লেখার সঙ্গে পরিচয়। অল্প সময়েই তার গল্পের ভক্ত হয়ে উঠি। এর একটা কারণ সম্ভবত বাংলা সাহিত্যের প্রাণপুরুষ হুমায়ূন আহমেদের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা। হুমায়ূনের প্রয়াণের পর তাঁর অনুকরণে গদ্য লেখা বা গল্প বলার চেষ্টা অনেকেই করেছেন। ফলাফল বেশিরভাগ সময়ই হয়েছে ভয়াবহ। হুমায়ূনের পেছনে ছুটতে গিয়ে তাল হারিয়ে বেশিরভাগ লেখকই তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। আশীফ এন্তাজ রবিকে হুমায়ূন-ঘরানার লেখক মনে হলেও তার গদ্য রচনায় ও গল্প বলায় স্বকীয়তা সহজেই চোখে পড়ে। হিউমারের এমন নিখুঁত ব্যবহার হুমায়ূনের পরে আর কোনো লেখকের লেখায় পাওয়া যায়নি। এক টানে, আনন্দ নিয়ে পড়ে ফেলার মতো বইও তেমন রচিত হয়নি। আরও একটা আক্ষেপ দিনে দিনে বড় হচ্ছিল, আশীফ এন্তাজ রবির মৌলিক বইয়ের সংখ্যা মাত্র চার! তাও বড় কলেবরে তিনি কিছু লেখেননি। আগের বইগুলো পড়তে পড়তে হুট করে শেষ হয়ে যেত। এই আক্ষেপ থেকে অনেকটাই বের করে এনেছে ‘পূর্বপুরুষ’। ‘পূর্বপুরুষ’ অনেকগুলো জীবনের গল্প। প্রেম ও প্রতারণার গল্প। আশা ও প্রবঞ্চনার গল্প। সংগ্রাম ও দোলাচলের গল্প। গল্পের শুরু ১৯৬৩ সালের জানুয়ারি মাসে, শেষ ১৯৬৯-এর জুলাইয়ে। সময়ের হিসেবে অল্প, কিন্তু নানা কারণে এ সময়টাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসের পালাবদলের অনেক ঘটনা রচিত হয়েছে এ সাত বছরে। তবে যে কোনো ইতিহাস-আশ্রিত উপন্যাস যেমন হয়, এটাকে তার সঙ্গে মেলাতে গেলে ধাক্কা খেতে হবে। বরং সে সময়কার চরিত্রগুলো নিয়ে আশীফ এন্তাজ রবি গল্প ফেঁদেছেন। তাদেরকে নানান পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করিয়ে গল্পের গাড়ি ছুটিয়েছেন। তাই বলে নিজের অভীষ্ট থেকে মোটেও চ্যুতি ঘটেনি। ঠিকই গল্পের গলিঘুপচিতে ইতিহাসের চরিত্র কিংবা ঘটনা এনে আড়ষ্ঠতা ভেঙেছেন। নতুন করে বাঁক নিয়ে গল্প খুঁজে ফিরেছে নতুন ঠিকানা। উপন্যাসের শুরু মানিকগঞ্জ জেলার বরুন্ডি গ্রামের কথাকথিত ‘জমিদার’ এন্তাজ উদ্দিন ও তার তিন পুত্রের ঢাকা সফরের মধ্য দিয়ে। স্টিমারঘাটের নানান ঘটনার পর তিনি পূর্ব পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় মসজিদের প্রথম জামাতে শরিক হওয়ার জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ১৯৬৩ সালের জানুয়ারি মাসের ২৫ তারিখে চালু হওয়া মসজিদটি ছিল বায়তুল মোকাররম। এন্তাজ উদ্দিনের তিন পুত্রের ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়েই মূলত কাহিনি এগিয়েছে। বড় ছেলে আতিক মেধাবী। কলকাতায় গিয়ে পড়াশোনার করার ইচ্ছে পোষণ করেন। তার পিতা পুত্রের বুদ্ধির ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। কলকাতার গিয়ে আতিকের মতো ছেলে টিকতে পারবে না। তার সম্মতি না থাকলেও তিনি জানতেন আতিককে আটকে রাখা যাবে না। তিনি পরোক্ষভাবে তার খরচের ব্যবস্থা করেন। একজন পিতার দূরদর্শিতা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমানভাবে প্রতিভাত হয়েছে। কলকাতার এক রঙিন জগতে আটকে যায় আতিক। যার শুরু সুচিত্রা সেনে বুঁদ হওয়ার মাধ্যমে। সিনেমা এবং বাস্তব- দুই জায়গাতেই রমা ওরফে সুচিত্রা-দর্শন এলোমেলো করে দেয় আতিকের ভাবনার দুনিয়া। এর রেশ কাটতে না কাটতেই দৃশ্যপটে এসে পটে আরেক নারী- নন্দিনী। একজন নারীর এমন সম্মোহন অচেনা-আজানা ছিল আতিকেরর। তার সারল্যকে কাজে লাগায় নন্দিনী। একের পর এক প্রতারণার শিকার হয় আতিক। তবু তার সম্বিত ফেরে না। নন্দিনী যেন এক অদ্ভুত নেশার নাম! তার কূটকৌশল, ভালোবাসার মিথ্যে অভিনয় আতিককে উদভ্রান্ত করে ফেলে। সোনাতলীর নিষিদ্ধপল্লীতেই কেটে যায় অগণিত দিন-রাত, বেহাল হয়ে পড়ে আতিকের জীবন। একসময় বাড়িতে ফিরে এলেও নন্দিনীর নেশায় আবার ছুটে যায় কলকাতায়। ছাত্র হিসেবে নিম্নমানের হলেও এন্তাজ উদ্দিনের দ্বিতীয় পুত্র শরীফ বিশ্বাসের সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা প্রবল। দেবেন্দ্র কলেজ থেকে তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে এমএ করার জন্য পাড়ি জমায়। সেখানেই পরিচয় হয় আল মাহমুদ, হাসান হাফিজুর রহমান, মাহফুজ উল্লাহ, শামসুর রাহমানদের সঙ্গে। তার দুর্বল কবিতাগুলো কোনো কোনো পত্রিকায় ছাপা হয়। তা নিয়েই মেতে থাকে শরীফ। এ সময়ে ঢাকায় প্রথম টেলিভিশন চ্যানেল চালু হয়। আইয়ুব খান যেদিন টিভি স্টেশন উদ্বোধন করবেন সেদিনই ফাতেমা জিন্নাহ সমাবেশের ডাক দেন। উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা। শরীফের গায়েও লাগে সেই আগুনের আঁচ। এরপর অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে ঢাকা। একর পর এক অবরোধ, হত্যার সাক্ষী হয় শরীফ। ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুকেও কারাগারে কাটাতে হয় দিন। রাজু বিশ্বাস মনেপ্রাণে বিপ্লবী, সমাজতন্ত্রই ধ্যান-জ্ঞান। লেলিনের অন্ধভক্ত। অল্পতেই ভেতরে আগুন জ্বলে ওঠে। রাজুই এন্তাজ উদ্দিনের তৃতীয় পুত্র। গ্রামে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা প্রকট হয়ে ওঠে। তাতে জড়িয়ে পড়ে রাজু। হিন্দুপল্লী জ্বালিয়ে দেওয়ার শোধ নিতে হাশেম মিয়াকে খুন করতে উদ্দত হয়। হাশুকে কোপ মেরে কালিগঙ্গাতে ঝাঁপ দেয় রাজু। তাকে নদী থেকে উদ্ধার করে কাশু ডাকাত। রাজুর আশ্রয় হয় একটা দ্বীপে। দ্বীপের নাম চারগ্রাম। বরুন্ডি গ্রামের সবাই জানে সে নিহত হয়েছে। তার জানাজাও পড়ানো হয়। এখানেও এন্তাজ উদ্দিনের বিচক্ষণতা স্মরণীয়। কাশু ডাকাতের আশ্রয়ে দিন কাটে রাজুর। ভালোবাসে আগলে রাখে পরীবানু। রাজুর জন্য তার আবেগ, উৎকণ্ঠা নারীর ভালোবাসার প্রকৃত রূপ উন্মোচন করে। এ যেন নন্দিনীর পুরো বিপরীত! বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়া এন্তাজ উদ্দিনের তিন পুত্রের গ্রামে ফিরে আসার মাধ্যমে উপন্যাসের সমাপ্তি ঘটে। পাঠকমাত্রেরই এর ভেতরে ঘটে যাওয়া অসংখ্য ঘটনার সাক্ষী হয়ে হয়ে যেতে হয়। সেসব ঘটনা এই বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আমাদের পূর্বপুরুষদের কথা মনে করিয়ে দেয়। ‘পূর্বপুরুষ’ নানান রসদে ঠাসা। রাজনীতির বাইরেও চিত্রজগতের তারকাদের সাতকাহন, কবি-সাহিত্যিকদের মেলবন্ধন, মানুষের চন্দ্রজয়, এমনকি পুরান ঢাকার বানরের উৎপাতের কথাও বাদ পড়েনি। আলতাফ মাস্টার কিংবা জমিদারের বিশ্বস্ত ঘোড়া সিতারার মতো কুশীলবরাও কখনো কখনো যোগ করেছে বাড়তি মাত্রা। বরুন্ডির জমিদারের নামের সঙ্গে লেখকের নামের মধ্যাংশ মিলে যাওয়াটাও বোধহয় সচেতনভাবেই করা! এই চরিত্রটাই আধিপত্য ধরে রেখেছে পুরো উপন্যাসজুড়ে। সবকিছুর পরও ‘পূর্বপুরুষ’ প্রথমত নির্জলা জীবনের আখ্যান, তারপর ইতিহাসের বাতাবরণ। ৩৫২ পৃষ্ঠার বইটি হাতে নিলেই ভালোলাগার অদ্ভূত অনুভূতি হয়। সেটার প্রাথমিক কারণ হতে পারে প্রচ্ছদে সুচিত্রা সেনের মায়াবী চিত্র। এর বাইরেও বইয়ের পৃষ্ঠা, বাঁধাই, বিন্যাস- সবই চমৎকার। এমন বই হাতের কাছে থাকলে সত্যিই না পড়ে ওঠা যায় না।"

Abrar Chowdhury

Abrar Chowdhury , May 5, 2020

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"Boimela 2020 er one of the best book"

Ishtiaque Hasan Shilpo

Ishtiaque Hasan Shilpo , Apr 28, 2020

★ ★ ★ ★ ★

"ঐতিহাসিক গল্প মোটাদাগে দুধরণের হয়। কিছু গল্প ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে আসে, আর কিছু গল্প নিজেই ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। "পূর্বপুরুষ" এর ভেতর কোনটা? বাংলা জনপদের পূর্বপুরুষদের গল্প আশীফ এন্তাজ রবির পূর্বপুরুষ৷ বই নিয়ে কিছু বলার আগে প্রচ্ছদ এর দিকে দেখে মুগ্ধ হতে হয়। প্রচ্ছদকার রহমান আজাদ চমৎকার কাজ করেছেন। তরুণীকে চিনতে পারছেন কি? ভাবতে থাকুন, যথাসময়ে তার প্রসঙ্গ আসবে। মানিকগঞ্জের "লোকমুখের জমিদার" এন্তাজ উদ্দিন বিশ্বাস। সত্যিকার জমিদারের মতই তার ঠাট-বাট। স্ত্রী ও তিন পুত্র নিয়ে প্রাসাদসম বাড়িতে তার বসবাস। এই পরিবারটিকেই কেন্দ্র করে এগিয়েছে পূর্বপুরুষ। বড় ছেলেটি আতিক বিশ্বাস৷ বাকি দুইভাইয়ের তুলনায় বিদ্যায় খানিকটা এগিয়ে, বুদ্ধিতে কতটা সে প্রশ্ন তোলাই থাক। মায়ের থেকে টাকা চুরি করে ডাক্তারিবিদ্যে পড়ার ইচ্ছায় পাড়ি জমায় কলকাতায়। কলকাতা, আলো ঝলমলে মেট্রোপলিটন। পা হড়কাবার মত যথেষ্ট অবসর সেখানে রয়েছে। সেখানে গ্রামের পরিচিত একজনের বাসায় গিয়ে প্রথম আতিক সূর্যদীপ্তিতে ঝলসে গেলো। সেখানে বসে আছেন স্বয়ং সুচিত্রা সেন। আচ্ছা সত্যি সত্যিই প্রচ্ছদের মেয়েটিকে এখনো চিনতে পারেন নি!? সুচিত্রা সেন, হ্যা স্বপ্নের সুচিত্রা সেন। কিছুদিনেই প্রেমে পড়ে বিরহকাতর হয়ে যা হবার তাই হলো আতিকের। সেই ক্ষণিকের মোহ কাটাতে তার সাথে পরিচয় হলো এক কসবির গায়িকা নন্দিনীর সঙ্গে। পরিচয়, পরিণয় ও পরিণতি -- সবটা তো অনুমেয়ই ছিলো। মেঝছেলে শরীফ বিশ্বাসের কবিতার সঙ্গে সদ্ভাব রয়েছে। কবিতার খাতা আর থোক টাকা সাথে করে সে আসে জাদুর শহর ঢাকা শহরে। ঢাকা তখন উত্তপ্ত। সাহিত্য সংস্কৃতির ভিত্তিযুগ চলছে বাংলাদেশে। আল মাহমুদ, হাসান হাফিজুর রহমান, নির্মলেন্দু গুণ প্রত্যেকেই এমনভাবে এসেছেন উপন্যাসে যেন তাদের বেড়ে ওঠা, প্রাত্যাহিক সবকিছু চোখের সামনেই ঘটছে। লেখক প্রশংসার দাবীদার। যাহোক, উত্তপ্ত ঢাকার কিছু কথা না বললেই নয়। আইয়ুব বিরোধী কর্মকান্ড ঘটছে উপমহাদেশের প্রথম টিভি স্টেশনে। রাজপথ সরগরম মিছিলে। শরীফকে কিভাবে প্রভাবিত করলো এই উত্তাল সময়ের ঢাকা? ছোট ছেলে রাজু বিশ্বাস। বড় দুভাইয়ের মত বড় শহরে না গেলেও নিয়তিতেই রয়েছে বাঁকবদলের রেখা। ফেরারি হয়ে চোরেদের দ্বীপে পরিচয় ঘটে পরীবানুর সঙ্গে। সংসারে উদাসীন এই ছেলেটিই তিনভাইয়ের মধ্যে সম্ভবত সবচাইতে সৌভাগ্যবান। পরীর মত মেয়ে পরীবানু রাজুর জন্য করুণাধারা সম। গ্রামের গুজব ছড়ানোর কারিগর হাশেম যখন হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা উশকে এক বৃদ্ধাকে পুড়িয়ে মারে, রাজু আক্রোশে তার হাত কেটে দেয়। সেই মামলায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী হয় সে। ক্রমে গল্পের টাইমলাইনে আসে শেখ মুজিব, তার দিনলিপি। হাশেম মিয়ার প্রতিশোধস্পৃহা, রাজুর অসুস্থতা, কলকাতার পথে পথে আতিকের সর্বশান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ানো - সবই যেন বিশ্বাস পরিবারের দুঃসময়কে আরো উশকে দিয়েছে। বেশ খানিকটা টেনশনে ফেলানো বর্ণনার মধ্য দিয়ে ঘটনাক্রম এগিয়ে গেছে পরিণতির দিকে। গল্পটা কেমন ছিলো? গল্প বটে একটা! আশীফ এন্তাজ রবির সঙ্গে পরিচয় তার পালিয়ে যাবার একটি গল্প থেকে। ফেসবুকে আজো ভেসে বেড়ায় হয়ত। এমন বিস্তৃত প্লটে এত চমৎকার গল্প ফেঁদেছেন তিনি সেজন্য অবশ্যই তার অভিবাদন প্রাপ্য। গল্পের প্রয়োজনে গল্পের ঢঙেই ইতিহাস এগিয়েছে সমানতালে। চলচ্চিত্র জগতের রূপালী পর্দার আকর্ষণীয়া, আলোচনার হট-টপিক নায়ক নায়িকাদের ব্যক্তিগত জীবন সবসময় ঝলমলে গল্পের মত হয় না। সুচিত্রা আর উতুর (এখন এই উতু টা কে সেটা বই থেকে জেনে আসুন) শেষদিকের জীবনযাপন বেশ নিঃসঙ্গই ছিলো। পড়ার সময় পরীবানুর মত একটি চোখভর্তি জল নিয়ে খেয়াল রাখুক এই আকাঙ্ক্ষাও জন্ম নেবে মনে। নন্দিনী চরিত্রটার শেষটা স্বস্তি দিয়েছে। গল্প বলে একদম আকাশকুসুম কল্পনার মত রাতারাতি স্বভাব চরিত্র বদলে যায় নি। কয়লা ধুলে যে আদৌ ময়লা যায় না সেটা হাড়েহাড়ে টের পেয়েছি। আর বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কথা এমনভাবে উপন্যাসে আসছিলো যেন সেটা নিত্যদিনের স্বাভাবিক আর পাঁচটা ঘটনার মতই। এই অদ্ভুত উপস্থাপন দেখেছিলাম এক হুমায়ূন আহমেদের মধ্যাহ্নে আর এক এই পূর্বপুরুষে। সবমিলিয়ে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী বইটি পাঠকমনে বিরক্তির উদ্রেক তো করবেই না, বরং ঘটনার প্রতিনিয়ত বাঁকবদলে পাতায় আটকে রাখবে। এই মোড়গুলো একেবারেই বানোয়াট না, কারণ যে টাইমলাইনে গল্পটা এগিয়েছে সে সময়টাতে হাওয়া সত্যি সত্যিই মাতাল ছিলো। সুখপাঠ্য একটি বই এবং লেখকের প্রতি এধরণের বিস্তৃত প্লটে মনোযোগ দেবার আহ্বান জানাচ্ছি। হ্যাপি রিডিং।"

NaHid Hasan

NaHid Hasan , Apr 26, 2020

★ ★ ★ ★ ★

"ভালো লাগার মতো একটি বই। নিতে পারেন।"

maruf morshed

maruf morshed , Apr 3, 2020

★ ★ ★ ★ ★

"পূর্বপুরুষ-আশীফ এন্তাজ রবি আদর্শের থেকে বইটা পেয়ে প্রথমেই পড়ে ফেললাম। উনার আগে একটা বই পড়া হয়েছিল। চন্দ্রকথা। তেমন ভালো লাগেনি। পুর্বপুরুষ শুরু থেকেই গুম গুম করতে শুরু করে। তারপরে যখন সেই সুখেন আসেন। তারপর থেকে আর অপেক্ষা করতে হয় নি। তড়তড়িয়ে বই এগিয়ে চলেছে। মনে মনে এক চিত্র কল্পনা করে নিয়েছি। দোতলা বাসে দাঁড়িয়ে আছি, সামনে এক নারী, তাদের পাশের সিটটি খালি। যদিও এই দেশে থাকেনা। ধরেন খালি। নারীটিই বলে উঠল-ভাইয়া বসেন। আমি হাসিমুখে উত্তর দিলাম-না বাবা আমার সুখন হবার ইচ্ছেনাই। সুখেন এটা আবার কে? আরে আপনি সাত পাকে বাধা দেখেননি। আপনাকে ত সুচিত্রা সেনের মত লাগছে। তাই আর সাহস হল না। এই আমলে এসেও আপনি সাত পাকে বাধা দেখেছেন। কম ত না। উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন। সেই সময়কার ঢাকা, কলকাতা, পাকিস্তানের কিছু ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর জেলের দিনগুলি, এগিয়ে গিয়েছে এন্তাজ উদ্দিন জমিদারের তিন ছেলের গল্পের মাঝ দিয়ে। ঘুরে বেরিয়েছি-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই পাচপাত্তরের দিনগুলি। হেলাল হাফিজ, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ বন্ধু হয়েছিলেন কিছুদিন। বিউটি বোর্ডিং জানতাম যে লেখকদের, কবিদের আড্ডা খানা। কিন্তু সেখানে যে সেইভাবে ইতিহাস রচিত হয়েছে-নানা জনের চায়ের কাপে সাহিত্য রচিত হয়েছে। অত বই না পড়ে এই বই পড়ে জানতে পেরেছি। লেখক প্রথমে বলেছিলেন-ইতিহাস গুলি সত্যি। অনেক লেখকই বলেন। অনেকে বলেন ইতিহাস নয় উপন্যাস মাত্র। কিন্তু মনে মনে ভেবে রেখেছিলাম শেষে হয়ত লেখক বলে উঠবেন আরে না-উপন্যাস। কিন্তু একেবারে শেষে বই তালিকা দিয়ে লেখক বইয়ের ইতিহাস যে সত্য তা সত্যাসত্য করে দিয়েছেন। পরীবানুর চরিত্র যে এত গুরুত্ব পাবে বুঝে উঠতে পারিনি। শেষ মেষ সেই পরিবানুই ছিল আবেগ অনুভুতির প্রকাশ স্থল। রাজু লেখা শিখে সেই বাড়ি কাপিয়ে তুলা দিয়ে ত অনেক কিছুই প্রকাশ পায়। নন্দিনি আতিক সম্পর্কটা আগে থেকে বলে দিলে পাঠকের বলার মজা থাকবেনা। সাম্প্রতিক সময়ে ইতিহাস ভিত্তিক একটা ট্রেন্ড চলে এসেছে। অনেক লেখকই ইতিহাস কে উপজীব্য করে উপন্যাস লিখে চলেছেন। আনিসুল হকের ৫ টি সিরিজ চলে এসেছে। সেটা একান্তই স্বাধীনতার কুশলী ভিত্তিক। তবে সেই দিক থেকে সবচেয়ে বলতে হয় সুনীলের সেই সময় পুর্ব পশ্চিম প্রথম আলোর কথা। বইয়ের সারথী তাতে বড় হয়। কিন্তু দিনগুলি মন্দ যায়না। আশা করছি পুর্বপুরুষ-সামনে পুরুষ পরে উত্তম পুরুষ এ রুপ নিবে। ইতিহাসের রস মাধুর্যে আমরা আরো কিছুদিন অবগাহন করতে পারব। ধন্যবাদ লেখককে। ধন্যবাদ আদর্শকে বইটি পড়তে দেবার সুযোগ করে দেবার জন্য।"

প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)

বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর

বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

সম্পর্কিত অন্যান্য বই

সবগুলো দেখুন →
ময়ূরাক্ষী
একটু পড়ে দেখুন
ময়ূরাক্ষী হুমায়ূন আহমেদ
(277)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
তোমাকে
একটু পড়ে দেখুন
তোমাকে হুমায়ূন আহমেদ
(186)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
হিমু সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(314)
TK. 1,000 -20% OFF
TK. 800
মিসির আলি সমগ্র ২
একটু পড়ে দেখুন
মিসির আলি সমগ্র ২ হুমায়ূন আহমেদ
(143)
TK. 500 -20% OFF
TK. 400
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড হুমায়ূন আহমেদ
(116)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
একটু পড়ে দেখুন
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ হুমায়ূন আহমেদ
(69)
TK. 160 -14% OFF
TK. 138
তিনি ও সে
একটু পড়ে দেখুন
তিনি ও সে হুমায়ূন আহমেদ
(34)
TK. 135 -20% OFF
TK. 108
শুভ্র সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
শুভ্র সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(90)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480

বইটির রিভিউ লিখুন

আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।

বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন

আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।

"পূর্বপুরুষ" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন

রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।

বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন

সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।

বইটি শেয়ার করুন

বন্ধুদের সাথে এই বইয়ের তথ্য শেয়ার করতে পারেন

বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন

পাতা:

পাতা 1
পূর্বপুরুষ পাতা: 1 / 10
পাতা 2
পূর্বপুরুষ পাতা: 2 / 10
পাতা 3
পূর্বপুরুষ পাতা: 3 / 10
পাতা 4
পূর্বপুরুষ পাতা: 4 / 10
পাতা 5
পূর্বপুরুষ পাতা: 5 / 10
পাতা 6
পূর্বপুরুষ পাতা: 6 / 10
পাতা 7
পূর্বপুরুষ পাতা: 7 / 10
পাতা 8
পূর্বপুরুষ পাতা: 8 / 10
পাতা 9
পূর্বপুরুষ পাতা: 9 / 10
পাতা 10
পূর্বপুরুষ পাতা: 10 / 10
পাতা / 10
এই তথ্যটি জেনে রাখুন।

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।