হোম
0
কার্ট
অফার সাইন ইন
বই খোঁজা হচ্ছে...

কোনো বই খুঁজে পাওয়া যায়নি

বানান ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন অথবা অন্য শব্দ দিয়ে খুঁজুন

প্রগতি - PROGOTY
অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর প্রচ্ছদ
একটু পড়ে দেখুন

১ম সংস্করণ, ২০১৪

ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

অশনি সংকেত

21 Ratings | 9 Reviews
TK. 172 TK. 200 -14% OFF

1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি

"অশনি সংকেত" বইটির সম্পর্কে কিছু কথা: ১৯৪৩ সাল। বাংলার ইতিহাসে কুখ্যাত, ১৭৫৭'র পরে সবচেয়ে বড় মন্বন্তরের কারণে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। জাপানি সেনারা দখল করে ন...
একটু পড়ে দেখুন
ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

বইটির বিস্তারিত দেখুন

"অশনি সংকেত" বইটির সম্পর্কে কিছু কথা: ১৯৪৩ সাল। বাংলার ইতিহাসে কুখ্যাত, ১৭৫৭'র পরে সবচেয়ে বড় মন্বন্তরের কারণে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। জাপানি সেনারা দখল করে নিয়েছে ব্রহ্মদেশ মায়ানম
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন
Title অশনি সংকেত
Author বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
Publisher মাটিগন্ধা
Edition ১ম সংস্করণ, ২০১৪
Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) 96
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা
Category উপন্যাস ও সাহিত্য
Weight 0.13 Kg
ISBN 9847034304404
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন

বিজ্ঞপ্তি

গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।

Reviews and Ratings

Rate this product

4.76

21 Ratings and 9 Reviews

★★★★★
16
★★★★☆
5
★★★☆☆
0
★★☆☆☆
0
★☆☆☆☆
0

পাঠকদের মন্তব্য

৯টি
Tanvir Ahmed

Tanvir Ahmed , Mar 11, 2025

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"এইটা আমার বন্ধু আমার কাছে চেয়েছিলো, তাই তাকে গিফট করেছি।আমার নিজের পড়া হয় নি। ও বলছিলো কাহিনি ভালো এবং আমার পড়ার জন্য। পড়া শেষে রিভিউ দিবোনে আবার"

Mayhek Shikder

Mayhek Shikder , Sep 5, 2023

★ ★ ★ ★ ★

"#বইয়ের_শহরে_প্রগতির_উৎসব #বিভূতির_জন্মদিনে_বুক_রিভিউ গ্রামে থাকা খুব মুশকিল হয়ে গেল মতি-মুচিনীর মৃত্যু হওয়ার পরে। অনাহারে মৃত্যু এই প্রথম...... 🌼 Review 🌼 📝প্রচ্ছদ~ আমাদের প্রত্যেকেরই মননশীল বই পড়া উচিত । আর বইটি মননশীল হওয়ার পাশাপাশি বইটির প্রচ্ছেদ যদি হয় মন কাড়ার মতো তাহলে কার না ভালো লাগবে। তবে এক্ষেত্রে বইয়ের নামের সাথে প্রচ্ছদের সামঞ্জস্য থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। আমার কাছে প্রচ্ছটি মোটামুটি ভালো লেগেছে। 📝নামকরন~ উপন্যাসটিতে বর্ণিত একটি চরিত্র মতি।উপন্যাসে নতুন গাঁয়ে দুর্ভিক্ষের দাবানলে যেদিন মতি নামের মেয়েটির প্রথম চিতা জ্বলে উঠলো সেদিন মানুষ বুঝতে পারলো ধ্বংসের সংকেত। অনাহারের উত্তপ্ত আগুনে ছাই হয়ে হাওয়ায় উড়ে যাওয়ার মাধ্যমে যেন সে জানান দিল লক্ষ মানুষের জন্য বিনাশের, খারাপ কিছু লক্ষণ অথবা অশুভ লক্ষণ। যাকে বলা হয় "অশনি সংকেত"। 📝মূল বিষয় ~ অশনিসংকেত মানে বজ্র বিপদ যা বয়ে গেছিলো জন জীবনের উপর দিয়ে। ১৯৪৩ সালের সেই দুর্ভিক্ষ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ করলেন অশনিসংকেতের মাধ্যমে। অশনিসংকেত কোন কাল্পনিক গল্প নয়।৫০ লাখ মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হন এই দুর্ভিক্ষে। এছাড়া এই উপন্যাস টি সে দুর্ভিক্ষের সময় কিভাবে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করেছিল তা-ই এই উপন্যাসের মূল বিষয়। 📝প্লট নির্বাচন ~ অশনি সংকেত উপন্যাসটি আমার কাছে যেমন ভালো লেগেছে তেমনি বইটির প্লট ও আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। প্লট নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ কেননা শুধু তো নাম হলেই বই তার সার্থকতা লাভ করে না। এর জন্য প্লট নির্বাচনটাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 📝 চরিত্র ~ উপন্যাসের মূল দুটি চরিত্র ,শিক্ষিত ব্রাহ্মণ গঙ্গাচরণ ও তার স্ত্রী অনঙ্গ। মানুষের জন্য বড় মায়া ও ভালোবাসা অনঙ্গের। জাত-পাতের উর্ধ্বে উঠে সে দুর্ভিক্ষে মৃত মতির সৎকার পর্যন্ত করতে চায়। এদিকে পরিবারের কর্তা গঙ্গাচরণ কুলীন ব্রাহ্মণ—পাড়াগাঁয়ের একমাত্র উচ্চবর্গীয় ব্রাহ্মণসন্তান। সন্তানদের এবং স্ত্রী অনঙ্গকে নিয়ে তার বাস। সে দরিদ্র, তবে শিক্ষিত । এছাড়া ছাত্র পড়িয়ে, কবিরাজি করে, যজমানের বাড়িতে পূজা করে তার আয়-রোজগার ।এছাড়াও~ছুটকি,মতি, যদু (পোড়ামুখ) প্রভৃতি । 🌷🌷কাহিনীসংক্ষেপ ~ পদ্মবিল গ্রামে দেখা দিল পানির অভাব। পানির অভাব দেখা দিলে এই উপন্যাসের মূল চরিত্র শিক্ষিত গঙ্গাচরণ তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে নতুন গ্রামে চলে আসে।নতুন গ্রামে ছিল না কোন কিছুর অভাব। অন্যদিকে গঙ্গাচরণের এই গ্রামে আসার কারণ ছিল ভিন্ন। নতুন গ্রামটিতে গঙ্গাচরণই ছিল ব্রাহ্মণ। তারা বাদে গ্রামটির সবাই ছিল কপালি ও গোয়ালা । সেকালে হিন্দু সমাজে ব্রাহ্মণদের বেশ সম্মানের চোখেই দেখা হতো । তাই নতুনগ্রামে তাড়া বেশ শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো। গঙ্গাচরণ নতুন গ্রামে ব্রাহ্মণের দায়িত্ব পালন, ব্রাহ্মণী ভুয়া চিকিৎসা এবং একটি পাঠশালা দিয়ে তাঁতে ছাত্র পড়ানো শুরু করে। এতে করে তার বেশ নাম ডাকও হয়। অন্যদিকে তার স্ত্রী অনঙ্গ বাসায় কেউ এলে তাদের দুমুঠো খেতে না দিয়ে যেতে দেন । সে তার নিজের মধুর ও স্নেহাশীল স্বভাবের জন্য অচিরে গ্রাম্য বধুদের ভালোবাসা অর্জন করে নেয়।শুরু হলো যুদ্ধ। হু হু করে বেড়ে যেতে লাগল চালের দাম।একপর্যায়ে এমন বারতে থাকে যে মানুষের পক্ষে চাল কেনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর এই দুর্ভিক্ষের মধ্যেও দুর্গা পন্ডিত নামের এক লোক তার পুরো পরিবার সহ এসে গঙ্গাচরনের বাড়িতে উঠে ।ওই দিকে অনঙ্গের একটি সন্তান হয় । অনঙ্গ দূর্বল হয়ে পরলেও কাউকে বাড়ি থেকে চলে যেতে দেয় না । কোন না কোন ভাবে সবার দিন চলতে থাকে ।সদস্য সংখ্যা অনেক। কলাইয়ের ডাল। কুমড়ো ও কচুবাটা খায়। এছাড়াও উপন্যাসটি পড়ার সময় আপনি জানতে পারবেন~অনঙ্গের কায়িক শ্রমের কথা,অন্যদিকে অনঙ্গ বউ যেই মতিকে এত ভালবাসত সেই মতি তার বাড়ির আমতলাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে । অন্যদিকে জানা যাবে গ্রামটির কাপালীদের ছোট বউ ক্ষুধার জন্য কি করেছিল, জানা যাবে যদু নামে পোড়ামুখা এক গ্রাম্য যুবকের কথা এবং আরো প্রভৃতি ঘটনা ও চরিত্র সম্পর্কে জানতে হলে অবশ্যই আপনাকে এই বইটি মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। বাংলার ঘরে ঘরে শুধু হাহাকার। পুরো উপন্যাসটি জুড়েই আপনি পাবেন দুর্ভিক্ষের এক জ্বলজ্যান্ত বর্ণনা।উপন্যাসটি নিয়ে একটি সিনেমা হয়েছে । যার পরিচালক হচ্ছে বিখ্যাত সত্যজিৎ রায় । সিনেমাটি আন্তর্জাতিক ভাবে পুরস্কৃত হয়েছে । 📝পটভূমি ~ উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ‘মাতৃভূমি’ পত্রিকায়, ১৩৫০ বঙ্গাব্দের মাঘ থেকে। ১৩৫৪-তে পত্রিকাটির অবলুপ্তির সাথে সাথে ‘অশনি সংকেত’-এরও প্রকাশনা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তবে ১৩৫০ মন্বন্তরের পটভূমিকায় গ্রন্থটি বা উপন্যাসটি রচিত হলেও লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৯ সালে তা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 📝 অনুভূতি ~ বইটা পড়া শুরু করার সময় যতই সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছি ততই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। মনে হয়েছে যেন নিজের চোখের সামনেই একটা জ্বলজ্যান্ত চিত্র ফুটে উঠেছে। 📝বানান~ বানান ভুল হওয়ার ব্যাপারটা আমি স্বাভাবিকভাবে ই নেব । তবে একটি গ্রন্থ লেখার সময় এই ব্যাপার গুলো একটু সতর্কতার সহিত দেখা দরকার। যদিও একজন লেখক এর কাছে তার লেখা সন্তানের মত। তারা অনেক পরিশ্রম করে , যাচাই বাছাই করে ই একটি সম্পূর্ণ বই লিখে থাকেন বলে আমি মনে করি। পড়ার সময় ভুল ত্রুটি তেমন একটা চোখে পড়ে নি। 📝 শিক্ষণীয় বিষয় ~ মনুষ্যত্ব অনেক মূল্যবান। আর আমার মনে হয়েছে পুরো উপন্যাসটিতে ক্ষুধা, দারিদ্রত্বা এবং মৃত্যুর উপর জয়ী হয়েছে অমলিন মনুষ্যত্ব। এছাড়া বইটি ব্যক্তিগতভাবে আমার ভালো লেগেছে পড়া শেষ করে মনে হয়নি যে আমি সময় নষ্ট করেছি। 📝শেষ কথা~ বইটি এক বসাতেই শেষ করা সম্ভব, বেশি সময় লাগবে না। কিন্তু যে কোন বইয়ের গভীরতা বোঝার জন্য অবশ্যই বইটিকে মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে । আর যখন বইটির গভীরতা বুঝতে পারবেন তখন মনে হবে যে সেই দুর্ভিক্ষ কবলিত মানুষগুলোকে যদি আমি সাহায্য করতে পারতাম। আরো কতকি । 🌷লেখক পরিচিতি ~ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রখ্যাত এই সাহিত্যিক ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং মৃত্যু ১৯৫০ সালের ১ নভেম্বর বিহারের ঘাটশিলায় । পথের পাঁচালী ও অপরাজিত তাঁর সবচেয়ে বেশি পরিচিত উপন্যাস। অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল , চাঁদের পাহাড় ,ইছামতী ও অশনি সংকেত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 📝 রেটিং ~৮/১০ 🌷বই বিত্তান্ত~ লেখক~বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বই~অশনি সংকেত জনরা~চিরায়ত উপন্যাস পেজ~৯৬ মূল্য~১২৯( প্রগতি ডট কম) প্রকাশনী ~মাটিগন্ধা বি.দ্র~ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল🌼"

Swadesh Biswas

Swadesh Biswas , May 6, 2021

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"দুর্গা ভটচায্ আর গঙ্গাচরণ যখন মতির মৃতদেহ সৎকার করতে যায়,তখন উপন্যাসটি এক নতুন রূপ পায়।"

MD. Shoriful Islam

MD. Shoriful Islam , Jan 3, 2020

★ ★ ★ ★ ★

"স্বাধীনতাপূর্বে ভারতবর্ষের অবিভক্ত বাংলায় ধনী দরিদ্র সব মানুষের মাঝে অদ্ভুত এক অহংকার দানা বেঁধেছিল। সেই অহংকার ছিল প্রাচুর্যের। গোলা ভর্তি ধান। জলাশয়ে অসংখ্যা মাছের বিচরণ। সৃষ্টিকর্তার আদেশে যেন প্রকৃতি সবকিছু দান করেছে বাংলার মানুষকে। মানুষ দুটো ভাতের জন্য অনাহারে প্রাণ দিতে পারে এমন কথা তাদের কল্পনা জগতেও কখনো ঠাই পেত না। কিন্তু ছিয়াত্তরের মন্বত্তরের প্রায় দুইশত বছর পর মানুষ আবার জানলো দু মুঠো আহার হতে পারে কতটা দামী। উপন্যাসে নতুন গাঁয়ে দুর্ভিক্ষের দাবানলে যেদিন মতি নামের মেয়েটির প্রথম চিতা জ্বলে উঠলো সেদিন মানুষ বুঝতে পারলো ধধংসের সংকেত। অনাহারের আগুনে ছাই হয়ে উড়ে যাওয়ার লক্ষ মানুষের জন্য বিনাশের অশনি সংকেত।"

Fahamida

Fahamida , Nov 12, 2019

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"ব্রাহ্মণ দম্পত্তি গঙ্গাচরণ এবং অনঙ্গ জীবিকার তাগিদে চলে আসে নতুন গ্রামে।গ্রামে শুধু তারা এক পরিবার ব্রাহ্মণ থাকায় তাদের শ্রদ্ধা ভক্তির কোনো কমতি হয় না।ধীরে ধীরে তারা স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে শুরু করে।কিন্তু ভাগ্যের লক্ষী পুরোপুরি প্রসন্ন হওয়ার আগেই দেশে শুরু হয় দুর্ভিক্ষ। মানুষের অভাব অনটন আর হাহাকার শুরু হয়। মনুষ্যসৃষ্ট সেই দুর্ভিক্ষের অসহায়ত্বের কথা জানতে পড়ে ফেলতে পারেন বইটি।পারসোনাল রেটিং ৫/৫"

Mohammad Jillur Rahman

Mohammad Jillur Rahman , Nov 10, 2019

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"অশনী সংকেত উপন্যাসের মূল আলচ্য সময় পঞ্চাশের আকাল। লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন নিন্মবিত্ত গ্রাম্য জীবনধারা। মানুষের দিনের পর পর জীবনযুদ্ধ, ক্ষিধার সাথে লড়াই ইত্যাদি। সিনেমাটা দেখেছি কয়েকবার, উপন্যাস পড়লাম অনেকপরে। বলা মুশকিল সিনেমা বেশী ভালো লেগেছে নাকি উপন্যাস। তবে সিনেমা আগে দেখার কারনে যতবার অনজ্ঞ বউ এর কথা আসে আমি চোখের সামনে দেখি ববিতাকে, গংগাচরণ মানে সৌমিত্র। সত্যজিৎ রায়, বিভূতিভূষণের গল্পকে কেন্দ্র করে কাজ করেছেন বেশ কয়েকটি। বইটি পড়ার এবং সংগ্রহের জন্য অন্যতম।"

mithun sarker

mithun sarker , May 31, 2019

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"::: রিভিউ ::: ১৯৪৩-৪৪ সালের গ্রামীণ ভারতবর্ষ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বারুদের গন্ধ এখানে এসে না পৌছালেও আরেক দাবানল ছারখার করে দেয় সমগ্র ভারতের গ্রামীণ সত্ত্বাকে। সেই দাবানলের নাম ক্ষুধা। অখন্ড ভারতবর্ষের মানুষের স্বপ্ন তখন অর্থ, অট্টালিকা আর প্রতিষ্ঠা নয়, শুধু একমুঠো চাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সৈনিকদের জন্য খাদ্যের অগ্রীম মজুত বাড়াতে ভারতবর্ষের গ্রামে গ্রামে শেষ খাদ্যদানাটুকুও ব্রিটিশ সরকার কেড়ে নিতে শুরু করে। শুরু হয় দুর্ভিক্ষ। সারা ভারত জুড়ে মৃত্যুবরণ করে ৫০ লক্ষ অসহায় মানুষ। লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অশনি সংকেত উপন্যাসটিতে সেই দুর্ভিক্ষের দাবানলে এক সহায় সম্বলহীন দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারের বেঁচে থাকার লড়াই উপস্থাপনের মাধ্যমে পাঠকদের নিয়ে গেছেন সেই ৭০ বছর পূর্বের গ্রামীণ ভারতবর্ষে। বইয়ের নামঃ অশনি সংকেত ( অসমাপ্ত ) লেখকের নামঃ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ঘরানাঃ সামাজিক পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৯৬ প্রকাশনীঃ মাটিগন্ধা প্রথম প্রকাশঃ ১৩৬৬ বঙ্গাব্দ নামকরণের স্বার্থকতাঃ স্বাধীনতাপূর্বে ভারতবর্ষের অবিভক্ত বাংলায় ধনী দরিদ্র সব মানুষের মাঝে অদ্ভুত এক অহংকার দানা বেঁধেছিল। সেই অহংকার ছিল প্রাচুর্যের। গোলা ভর্তি ধান। জলাশয়ে অসংখ্যা মাছের বিচরণ। সৃষ্টিকর্তার আদেশে যেন প্রকৃতি সবকিছু দান করেছে বাংলার মানুষকে। মানুষ দুটো ভাতের জন্য অনাহারে প্রাণ দিতে পারে এমন কথা তাদের কল্পনা জগতেও কখনো ঠাই পেত না। কিন্তু ছিয়াত্তরের মন্বত্তরের প্রায় দুইশত বছর পর মানুষ আবার জানলো দু মুঠো আহার হতে পারে কতটা দামী। উপন্যাসে নতুন গাঁয়ে দুর্ভিক্ষের দাবানলে যেদিন মতি নামের মেয়েটির প্রথম চিতা জ্বলে উঠলো সেদিন মানুষ বুঝতে পারলো ধধংসের সংকেত। অনাহারের আগুনে ছাই হয়ে উড়ে যাওয়ার লক্ষ মানুষের জন্য বিনাশের অশনি সংকেত। চারিত্রিক বিশ্লেষণঃ সমগ্র উপন্যাসটিতে দরিদ্র ব্রাক্ষণ গঙ্গাচরণ যেন ছিল মস্তিষ্ক আর তার স্ত্রী অনঙ্গ বৌ ছিল হৃদপিন্ড। একটু ভাল থাকার, দুটা ভাল খাওয়ার আশায় গঙ্গাচরণ পরিবারকে নিয়ে পাড়ি দিয়েছে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রাম। কখনো বাসুদেবপুর, কখনো ভাতছোলা আবার কখনো নতুন গাঁ। গঙ্গাচরণ দরিদ্র হলেও কিছু শিক্ষিত ছিল। নতুন গাঁয়ে এসে টোল খুলে ছাত্র জুটিয়ে শুরুটা বেশ ভাল হয়েছিল গঙ্গাচরণের। চতুর গঙ্গাচরণ গ্রামের মানুষের মিথ্যে চিকিৎসা করেও সুনাম এবং সামগ্রী দুটো উপার্জন করছিলো। কিন্তু হঠাৎ একদিন সেই স্রোত থেমে গেল। শুরু হলো যুদ্ধ। হু হু করে বেড়ে যেতে লাগল চালের দাম। শুণ্য হয়ে গেল গুদাম ভরা পাহাড় সমান চালের সারি সারি বস্তা। যারা একদিন স্বপ্রনোদিত হয়ে মাছ, সবজি এনে ব্রাক্ষণকে সেবা দিত তাঁরাই দু মুঠো চালের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতো লাগল গ্রামের পর গ্রাম। এরই মাঝে একদিন অনঙ্গ বউ এর কোলজুড়ে আসে নবজাতক। যার মুখে আহার দিতে গঙ্গাচরণ আর অনঙ্গ বউ প্রতিদিন মুখোমুখি হয় নতুন যুদ্ধের। এতকিছু পরেও অনঙ্গ বউ যেন দেবী অন্নপূর্ণা। তীব্র দুর্ভিক্ষের সময় যে এসেছে দুটো ভাতের দাবী নিয়ে কাউকে ফেরাতে পারেনি সেই দেবী। এমনি একজন ধূর্ত ব্রাক্ষণ দুর্গা ভটচায গঙ্গাচরণের কাছে নিলজ্জের মত দিনের পর দিন পাত পেরে খেয়ে গেছে। আর সেই দেবী নিজে না খেয়ে বৃদ্ধকে তুলে দিয়েছে সবটুকু। সেখানেই বিবেক বিবর্জিত ব্রাক্ষণ থেমে যায়নি, নিজের সমগ্র পরিবার নিয়ে উঠে এসেছে গঙ্গাচরণের বাড়িতে। তবুও অনঙ্গ বউ অবিচল। ক্ষুধা মানুষকে দিয়ে কি করাতে পারে? কোথায় নামাতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে পেটে আহার ভরা কোন দার্শনিককে করে কখনো সত্যিটা জানা যাবে না, দেখা যাবে না। জানতে হলে প্রশ্নটা কতে হবে কোন ক্ষুধার্তকে কিংবা অশনি সংকেত উপন্যাসটি পড়লে আমরা সেই নিষ্ঠুর সত্যটা মানসপটে চাক্ষুস দেখতে পাবো। শুধু দুটো গরম ভাতের জন্য কাপালীদের ছোট বউ যখন নিজের শরীর অন্য পুরুষের কাছে বিলিয়ে আসে তখন জানা যায় ক্ষুধার প্রকৃত সংজ্ঞা। ব্যক্তিগত অভিমতঃ আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় দুই বাংলা শ্রেষ্ঠ উপন্যাসিক। যাকে আজ পর্যন্ত কেউ ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। কারণ সম্ভবত বিভূতিভূষণ একমাত্র সাহিত্যিক যিনি একই সাথে দুইধারার উপন্যাস লিখেছেন। আরণ্যক, দৃষ্টিপ্রদীপ, অপারিজত লিখে উনি সাহিত্যের সমৃদ্ধির সম্যক রূপ উনি পাঠকদের সামনে দাড় করিয়েছেন আর আদর্শ হিন্দু হোটেল, চাঁদের পাহাড়, অশনি সংকেত রচনা করে উনি বাংলা ভাষায় প্রাঞ্জল সাহিত্যের জন্ম দিয়েছেন। অশনি সংকেত উপন্যাস তিনি শেষ করে যেতে পারেননি। আর সেটা বাংলা সাহিত্যের দুর্ভাগ্য। তবে এই অসম্পূর্ণ উপন্যাসটিতে পাঠক দুর্ভিক্ষের জীবন্ত রূপ দেখতে পাবেন আর দেখতে পাবে মনুষ্যত্বের গভীরতা। সুখী হবার জন্য রোজ আমরা মরীচীকার পিছনে ছুটে চলেছি। কিন্তু বিশ্বাস আর ভালোবাসা থাকলে এক মুঠো ভাত দুজনে ভাগ করে খাওয়ার মাঝেও সুখ আছে, তৃপ্তি আছে। যেখানে মমতা থাকে সেখানে নিজে না খেয়ে অন্যের প্রশান্তি মুখের অন্নের গ্রাস তুলতে দেখে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সুখ খুঁজে পাওয়া যায়। কোন অশনি সংকেত, কোন দুর্ভিক্ষ সেই সুখ কেড়ে নিতে পারে না।"

Sojun Shahidul

Sojun Shahidul , Jan 30, 2017

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"পদ্মবিলের গাঁ থেকে পানির অভাবে চলে আসার পর নতুন গাঁয়ে এসে অনঙ্গ বৌ রীতিমত স্বর্গ হাতে পেয়েছে। নদীতে প্রচুর পানি এখানে ভাল করে গোসল সহ সব কর্ম সম্পাদান করতে পারে সে। গঙ্গাচরণ অবশ্য এ কারণে আসেনি এসেছে এ গাঁয়ে কোন ব্রাহ্মণ বাস নেই বলে। ব্রাহ্মণ বিহীন গাঁয়ে হঠাৎ করে কোন ব্রাহ্মণ আসলে আপ্যায়ন সমাদর দক্ষিণা দেয় লোকজন এ কথাটি মাথায় রেখেই গঙ্গাচরণ নতুন গাঁয়ে বৌ ছেলেদের নিয়ে চলে আসছে। তার ধারণা যে মিথ্যা নয় সেটা নতুন গাঁয়ের বাসিন্দারা আসার পর থেকেই বোঝাচ্ছে! একেকজন একেক ভাবে গাঁয়ের একমাত্র ব্রাহ্মণ গঙ্গাচরণ কে সহায়তা করতেছে! অনঙ্গ বৌ এসব দেখে মোটামুটি বিস্মিত। এ গাঁয়ে আসার আগে পদ্মবিলে যখন তারা থাকত কোনদিন আধপেটা বা অনাহারে দিনাতিপাত করতে হত। কিন্তু এসে সে দুঃখটা লাঘব হয়ে গিয়াছে। গঙ্গাচরন এখানে এসে বাচ্চাদের পড়ানো ঘর করে নিয়েছে গ্রামের লোকদের দিয়ে। বাচ্চাদের পড়ানো এবং বিভিন্ন পূজা অর্চনায় ভালই দক্ষিণা আসতেছিলো। সেই দিয়ে গঙ্গাচরণের বউ অনঙ্গ-বৌ ছেলে সন্তানদের নিয়ে ভাল কেটে চলতেছিলো দিনগুলি। কেউ দুধ কেউ পেঁপেঁ কেউবা টাকা বা পয়সা দক্ষিণা হিসেবে দিচ্ছিলো তাদেরকে। নতুন গাঁ কাপালিদের গাঁ এরা বেশ অবস্থাপন্ন না হলেও মোটামুটি চাষবাস করে চালিয়ে নেয় জীবন! ব্রাহ্মণকে দক্ষিণা দিতে এরা কখনো কৃপণতা করেনা! নিজেরা ভাল করে খায় এবং নতুন আসা ব্রাহ্মণ পরিবারকেও এটা ওটা দেয় দক্ষিণা হিসেবে! তাদের জীবন আড়ম্বরপূর্ণ না হলেও খেয়ে পড়ে ভালই কেটে যাচ্ছিল নতুন গাঁয়ের অধিবাসীদের। হঠাৎ করে বিশ্বযুদ্ধের দামামা শুরু হয়ে গেলো, যার প্রভাব এ গ্রামীণ জনপদেও এসে পড়লো। চাল সহ নিত্য প্রয়োজনী দ্রব্যাদির দাম হু হু করে বেড়ে যেতে লাগলো। আগে যে সব দোকানে গাঁদাগাঁদি করে চাল বা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য রাখতো সেখানে একেবারে নেই হয়ে গেল সব। যেই চাল ৪ টাকা মণ ছিলো সেটা গিয়ে দাঁড়ালো ৫৬ টাকায়। এ অভাবে সময় এতো টাকা পাবেই বা কোথায় তারা। কষ্টসাধ্যে টাকা জোগাড় করলেও চাল কোথায় পাবে তারা, আশেপাশের সব বাজারে কোথাও চালের সন্ধানই নেই। বাড়ী চাল যতটুকু ছিলো সব শেষে হয়ে গেলো গ্রামের সকলেরই। শুরু হয়ে গেলো দূর্ভিক্ষ! এরপরই শুরু হয়ে গেলো উপন্যাসে মূল অংশ যা পড়লে আপনাকে ভাবাবে! পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ অনঙ্গ বৌ চরিত্রটি একটি অন্নপূর্ণা চরিত্র যার মাধ্যমে সেইসব চরিত্রের রুপ প্রকাশ পেয়েছে যাহারা অভুক্ত থেকেও অন্যের মুখে খাবার তুলে দেয় সেইসব মাতৃ রুপী গ্রাম বাংলার প্রতিনিধি হিসেবে! গোটা বইয়ে এ অনঙ্গ-বৌ চরিত্র ভাবিয়ে তুলেছে! এমন দুঃখ তথা দূর্ভিক্ষের মাঝেও কেমন করে আরেকজন কে নিজের সামান্য খাবার টুকু তুলে দেন! বইটির প্রতি পৃষ্ঠাতে রয়েছে দূর্ভিক্ষের ভয়াবহতার বিবরণ! বিভূতিভূষণ আমার প্রিয় লেখক বা ঔপন্যাসিক। এর লেখা পাঠ করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলিনি কখনো এমনটা হয়নি কখনো! তার লেখায় খুঁজে পাই জীবনবোধকে! তার লেখায় বিবরণে উঠে আসে গ্রামীণ গার্থস্থ্য জীবন, উঠে আসে আবহমান বাংলার চিরায়ত রুপ গন্ধ সুবাস। পথের পাঁচালি যার উৎকৃষ্ট দলিল। বিভূতিভূষণ যে বাংলা সাহিত্যের একটি নক্ষত্রের নাম তাহার সৃষ্ট রচনাগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। "অশনি সংকেত" একটি অসম্পূর্ণ উপন্যাস লেখক উপন্যাসটি লেখা শেষ করার আগেই ইহলোক ত্যাগ করেন! অসম্পূর্ণ উপন্যাস হলেও আপনি একটা মেসেজ পাবেন বইটি পড়ে। মেসেজটি কি, সেটা না হয় পড়েই আবিষ্কার করুন।"

jami jahan

jami jahan , Jan 24, 2017

★ ★ ★ ★ ★

"বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধ্যায় এর অসমাপ্ত উপন্যাস এই "অশনি সংকেত।" এই উপন্যাস ছিলো১৯৪৩-এ ভারতের জন জীবন চিত্র। গঙ্গাচরণ নামে এক শিক্ষিত ব্রাহ্মণ। সে তার স্ত্রী কে নিয়ে নতুন গাঁয়ে এসে বসতি স্থাপন করে। গ্রামখানিতে এরাই একমাত্র ব্রাক্ষণ-পরিবার। আর সবাই কাপালী ও গোয়ালা। নতুন গাঁ ব্রাহ্মণ নেই। সুযোগ বুঝে গঙ্গাচরণ সেখানকার প্রধান পুরোহিত হয়। এমন কি টোল খোলার পরিকল্পনা করেন।তবে গ্রামবাসীরাও তাকে খুব সহজ ভাবেই নিজেদের মধ্যে কর্তা করে তুলে। তাঁর স্ত্রী অনঙ্গ, মধুর ও স্নেহশীলা স্বভাবের জন্য গ্রাম্যবধূরা বেশ ভরসা করতো। সে যেন তাদের কাছে অনঙ্গ দেবী। কারো কিছু দরকার, কারো কিছু চাই, সব টুকুর জন্য অনঙ্গ বউ আছেই। ভালোই যাচ্ছিলো তাদের সুখের সময়। এরকম সুসময় তাদের কখনই ছিলো না। আয়েশী ভাব কাটার আগেই কিছু পরিবর্তন হল । অখন্ড ভারতে তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হাওয়া বইতে লাগলো। না কোন গন্ডগোল নয়। আর তা ছুয়ে গেল নতুন গাঁ। যুদ্ধের পরশে আমূলে বদলে গেল জন জীবন। দেখতে দেখতে ৪ টাকা ধানের মণ গিয়ে দাড়াল ২৪ টাকায়।সব কিছু হাতের নাগালে বাইরে চলে যেতে থাকলো। কাহিনীর সুর পুরো বদলে গেল এখান থেকেই...প্রথম প্রথম কিছু একটা করে পার হচ্ছিল দিন। কিন্তু এ অসময়ে অনঙ্গ বউ এর কোল জুড়ে এলো এক নবজাতক। আর তাকে বাচিয়ে রাখতে কি চেষ্টা! একসময় পুরোহিত ভেবে যারা তাদের এটা সেটা দিতো। তারাই হাত পেতে পেতে ঘুরতে থাকলো...অশনি সংকেত এর পটভূমি মূলত ১৯৪৩-৪৪ এর সময় কার।অখন্ড ভারতে তখন যুদ্ধের হাওয়ার পরশে লন্ডভন্ড। কেন না যুদ্ধের রসদ যোগাতে ব্রিটিশ সরকার তখন ভারতের খাদ্য ভান্ডারে হাত দিয়েছে। আর খুব কম সময়ে তার উদর খালি করে দিলো। তাতে দেশে অকাল পরে অন্নের। সে সময় যাদের একটু আধটু চাল থাকলো, তারা এই অভাবের ভয়ে কাউকে দেয়া থেকে বিরত থাকল। এক সময় গ্রামের পর গ্রামে এক মুটো চাল থাকলো না। মানুষ ভাত খাওয়া ছেড়ে দিলো। প্রথমে কলাই তার পর কচু, মেটে আলু, জঙ্গুলে শাক এসব খেতে থাকলো। তাও ফুরিয়ে গেলে এক সময় মানুষ গুগলি শামুক খাওয়া শুরু করলো। এরই কিছু পরে মানুষ অনাহারে মারা যেতে থাকলো। তখন কার সময় দূর্ভিক্ষে ৫০ লক্ষ মানুষ মারা যায়। মানুষ নিজেদের জাত ধর্ম ভুলে যায়।তার চিত্র দেখতে পাই উপন্যাসে, "একটি তথাকথিত নিচু জাতের মহিলা মারা গেলে, গঙ্গাচরণ মানবিকতার খাতিরে তাঁর ব্রাহ্মণ্য সংস্কার ত্যাগ করে সেই মহিলার সৎকার করে।"অশনি সংকেত মানেই তো -বজ্রবিপদ সংকেত।আর তাই বয়ে গিয়েছিলো তখন জনজীবন এর উপর দিয়ে। ১৯৪৩ সালের মনুষ্যসৃষ্ট সেই দুর্ভিক্ষে চিত্র গুলো বিভূতিভূষন আমার চোখে সেটে দিয়ে গেল অশনি সংকেত এর মাধ্যমে। ছোট পরিসরে আমাকে দেখতে বাধ্য করলো তখনকার অসহায় মানুষের চোখ মুখের চিত্র! কি অসহ্য জনজীবন! মানুষ তার ক্ষুধা নিভৃতি করতে কি না করলো! চোখের সামনে প্রিয়জন দের মৃত্যু! অনাহারে ক্লিষ্ট শিশু কাদঁতে কাদঁতেই বন্ধ করে দিলো আজীবনের কান্না! মতি যখন কথা বলতে বলতে, অনঙ্গ বউ এর দেওয়া কচু জল না খেয়ে চুপ হয়ে গেল! ভয়ে কাপছিলো তখন নতুন গাঁ। আজ মতির যা হয়েছে। তা ওদেরও হতে পারে। পাতা গুলো যখন পেরিয়ে যাচ্ছিলাম কাঠ হয়ে গিয়েছিলো গলা! বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন এক জনপ্রিয় বাঙালী কথা সাহিত্যিক। তিনি মূলত উপন্যাস ও ছোটগল্প লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। শিক্ষাকে তিনি পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন। তাঁর অসাধারন কিছু সৃষ্টির মাঝে অশনি সংকেত অন্যতম উপন্যাস। যা দূর্ভিক্ষ এর পটভূমিতে রচিত।১৯৭৩ সালে সত্যজিৎ রায় অশনি সংকেত নিয়ে চলচিত্র নির্মান করেন।"

প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)

বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর

বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

সম্পর্কিত অন্যান্য বই

সবগুলো দেখুন →
ময়ূরাক্ষী
একটু পড়ে দেখুন
ময়ূরাক্ষী হুমায়ূন আহমেদ
(277)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
তোমাকে
একটু পড়ে দেখুন
তোমাকে হুমায়ূন আহমেদ
(186)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
হিমু সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(314)
TK. 1,000 -20% OFF
TK. 800
মিসির আলি সমগ্র ২
একটু পড়ে দেখুন
মিসির আলি সমগ্র ২ হুমায়ূন আহমেদ
(143)
TK. 500 -20% OFF
TK. 400
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড হুমায়ূন আহমেদ
(116)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
একটু পড়ে দেখুন
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ হুমায়ূন আহমেদ
(69)
TK. 160 -14% OFF
TK. 138
তিনি ও সে
একটু পড়ে দেখুন
তিনি ও সে হুমায়ূন আহমেদ
(34)
TK. 135 -20% OFF
TK. 108
শুভ্র সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
শুভ্র সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(90)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480

বইটির রিভিউ লিখুন

আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।

বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন

আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।

"অশনি সংকেত" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন

রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।

বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন

সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।

বইটি শেয়ার করুন

বন্ধুদের সাথে এই বইয়ের তথ্য শেয়ার করতে পারেন

বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন

পাতা:

পাতা 1
অশনি সংকেত পাতা: 1 / 7
পাতা 2
অশনি সংকেত পাতা: 2 / 7
পাতা 3
অশনি সংকেত পাতা: 3 / 7
পাতা 4
অশনি সংকেত পাতা: 4 / 7
পাতা 5
অশনি সংকেত পাতা: 5 / 7
পাতা 6
অশনি সংকেত পাতা: 6 / 7
পাতা 7
অশনি সংকেত পাতা: 7 / 7
পাতা / 7
এই তথ্যটি জেনে রাখুন।

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।