হোম
0
কার্ট
অফার সাইন ইন
বই খোঁজা হচ্ছে...

কোনো বই খুঁজে পাওয়া যায়নি

বানান ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন অথবা অন্য শব্দ দিয়ে খুঁজুন

প্রগতি - PROGOTY
ওঙ্কার - আহমদ ছফা এর প্রচ্ছদ
একটু পড়ে দেখুন

২য় প্রকাশ, ২০২৩

ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

ওঙ্কার

24 Ratings | 13 Reviews
TK. 172 TK. 200 -14% OFF

1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি

"ওঙ্কার" বইয়ের ভেতর থেকে: আহমদ ছফা সাহিত্যচর্চা শুরু করেন উপন্যাস দিয়ে। বেশ কয়েকটা ছােটো গল্প লিখে হাত মসকের করার প্রচলিত নিয়মটি তিনি মানেননি; তাঁর প্রকাশিত...
একটু পড়ে দেখুন
ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

বইটির বিস্তারিত দেখুন

"ওঙ্কার" বইয়ের ভেতর থেকে: আহমদ ছফা সাহিত্যচর্চা শুরু করেন উপন্যাস দিয়ে। বেশ কয়েকটা ছােটো গল্প লিখে হাত মসকের করার প্রচলিত নিয়মটি তিনি মানেননি; তাঁর প্রকাশিত প্রথম বইটিও একটি উপন্
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন
Title ওঙ্কার
Author আহমদ ছফা
Publisher হাওলাদার প্রকাশনী
Edition ২য় প্রকাশ, ২০২৩
Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) 80
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা
Category উপন্যাস ও সাহিত্য
Weight 0.21 Kg
Editor মানজুর ছফা
ISBN 9789848966334
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন

বিজ্ঞপ্তি

গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।

Reviews and Ratings

Rate this product

4.38

24 Ratings and 13 Reviews

★★★★★
12
★★★★☆
9
★★★☆☆
3
★★☆☆☆
0
★☆☆☆☆
0

পাঠকদের মন্তব্য

১৩টি
Tashrif Hasan Turjo

Tashrif Hasan Turjo , Oct 10, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"‘যদ্যপি আমার গুরু’ পড়েছিলাম আরো ছয় থেকে সাত বছর আগে। আজ অনেক বছর পর ‘ওঙ্কার’ পড়লাম। এই চিন্তাবিদের লেখা আমার পড়া দ্বিতীয় বই। কী নিদারুণ লিখা তাঁর! ছোট কলেবরের বই হলেও পাঠকের অন্তরের অনেক বড় একটা জায়গা দখল করার জন্য সক্ষম সে।"

880****304

880****304 , Aug 23, 2024

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"অসাধারন একটি বই!!!"

Al Amin Sarker

Al Amin Sarker , Jul 26, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"ওঙ্কার – আহমদ ছফা spoiler allert আহমদ ছফা উপন্যাসে নায়ক-নায়িকার নাম দেন নি, নায়ককে গল্প কথক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বইটি মূলত ১৯৬৯ এর মার্শাল আইয়ুব বিরোধী সময়কালের পটভূমিতে রচিত। স্বাধীন হওয়ার জন্য আকুল হয়ে উঠা অকুতোভয় বাঙালির অনুভুতির দলিল এই বই। তৎকালীন সময়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে আভাস পাওয়া যায় তা হলো স্বাধীনতা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও শেখ মুজিবের গ্রেফতার। গল্পকথকের বাবা ছিলেন তালুকদার বংশের মানুষ। তালুকদারি না থাকলেও তার ভিতরে তেজ ছিল কড়া। প্রতিবেশীদের নামে মিথ্যা মামলা করে সেই ঝাঁজ মেটাতেন এবং তাকে এ কাজে সহায়তা করতেন আবু নসর মোক্তার। কিছু টাকার বিনিময়ে মিথ্যা সাক্ষী ম্যানেজ করে দিতেন আবু নসর মোক্তার। কিন্তু এবার তালুকদার সাহেবের-ই বিরুদ্ধে একটি মিথ্যে মামলা হয় এবং তিনে বাজে ভাবে হেরে যান মামলায়। এই মামলার সুযোগে তালুকদার সাহেবের অবশিষ্ট সকল বাড়ি, পুকুর জমি যা ছিল সব নিজের নামে নিলাম করে নেন আবু নসর মোক্তার। তালুকদার সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়েন। গল্পকথক ভারী বিপদে পড়েন, মোক্তার সাহেব যদি এখন বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন মা-বাবা ছোট বোনটিকে নিয়ে কোথায় গিয়ে দাড়াবেন তিনি। তাদের পরিবারে এই চারজনই ছিল তখন, বাকী বোনদের বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আবু নসর মোক্তার অবাক করে দিয়ে জানান যে জমি বাড়ি যা ছিল সব আগের মতই থাকবে, বিনিময়ে তার বোবা মেয়েকে বিয়ে করতে হবে নায়ককে। গল্পকথক রাজি হয়ে যান বিয়ে করেন মোক্তার সাহেবের বোবা মেয়েকে। গল্পকথকের বাবা মানে তালুকদার সাহেবের শারীরিক অবনতি হয় এবং মারা যান তালুকদার সাহেব, বাবার পিছন পিছন মা ও তার পথ ধরেন। আবু নসর মোক্তার তৎকালীন সরকার মার্শাল আইয়ুবের চেলা হয়ে উঠেছিলেন। তিনি জামাইয়ের জন্য শহরে অফিসে চাকরীর ব্যবস্থা করেন। হিন্দু ব্রাহ্মণকে কৌশলে বাড়ি ছাড়া করে কলকাতায় পাঠিয়ে জামাই-কন্যার থাকার ব্যবস্থাও করেন। বউ ও ছোটবোনকে নিয়ে শহরে বসবাস করতে শুরু করেন গল্পকথক। কিন্তু বোবা বউকে নিয়ে সুখী ছিলেন না গল্পকথক, বউয়ের সাথে কথা বলার আকাঙ্খা তাকে আরও অসুখী করতেছিল। বোনের সাথে খুব একটা কথা হতো না তার, বোনের সাথে স্বাভাবিক হতে বোনকে গান শেখানোর ব্যবস্থা করেন। একদিন গল্পকথক দেখতে পান যে বোনের গানের রেওয়াজের সময় বোবা বউ আড়ালে গো গো করে গাওয়ার চেষ্টা করছেন কিন্তু পারছেন না। বোনের গানের রেওয়াজের সরঞ্জাম গুলি ছুয়ে দেখছেন বোবা বউ। এরপরে বউয়ের প্রতি ভালবাসার পরিবর্তন ঘটে গল্পকথকের। বউকে নতুন রুপে ভালবাসার অনুভুতি অনুভব করেন এবং ভালবাসতে শুরু করেন। বাইরে আইয়ুর বিরোধী আন্দোলন মিছিল হরহামেশাই চলছে। গুলি খেয়ে শহীদ আসাদ নামের ছাত্রের মৃত্যু ঘটলে আন্দোলনের পালে হাওয়া লাগে। গল্পকথক ছিলেন নির্বিবাদী নিরীহ প্রকৃতির, তিনি মিছিল পছন্দ করতেন না। মিছিল বাসার কাছাকাছি আসলে তিনি জানালা গুলি বন্ধ করে দিতেন। কিন্তু তার বোবা বউ মিছিল আসলেই যে অন্যরকম হয়ে উঠতেন তিনি যেন মিছিলের অংশ হতে চাইতেন। জানালা খুলে দিয়ে বোবা গলা দিয়ে গো গো আওয়াজ করে মিছিলে শব্দগুলি বের করার চেষ্টা করতেন। একদিন তার এই চেষ্টায় গল্পকথক শুনতে পেলেন তার বউ বাঙলা শব্দটা পরিষ্কারভাবে উচ্চারণ করে ফেলেছেন, তার মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছে মেঝেতে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ, সংজ্ঞা হারিয়ে পড়ে আছে। অচেতন স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে গল্পকথকের মন ফুঁড়ে প্রশ্ন জাগে। কোন রক্ত বেশি লাল, শহীদ আসাদের নাকি আমার বোবা বউয়ের? ©Al Amin Sarker"

Mohammad Ibrahim khalil

Mohammad Ibrahim khalil , Jan 22, 2022

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"Best book."

Rashed Ähmmed

Rashed Ähmmed , Sep 10, 2021

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"..মন ফুঁড়েই একটা প্রশ্ন জাগে- কোন রক্ত বেশি লাল। শহীদ আসাদের- না আমার বোবা বউয়ের? এখনও কাউকে কাউকে বলতে শুনি, অমুকের হাজার পৃষ্ঠার বইও একটি উপন্যাস, আহমদ ছফার আটত্রিশ পৃষ্ঠার বইও উপন্যাস। এই আটত্রিশ পৃষ্ঠার উপন্যাসের গভীরতা এতবেশি কোথাও তল খুঁজে পাওয়া যায় না।"

Shuvasis Saha

Shuvasis Saha , Jun 27, 2021

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"Ahmed Sofa er boi gulo oshadharon. Bichokhon bektitto er porichoy mile protiti boi e."

SabeyKun Sams Sony

SabeyKun Sams Sony , Apr 9, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"১. পূর্ব-পুরুষদের কাছ থেকে কিছু জমিজমা পেয়েছিলাম গল্প কথকের পিতা। সম্পত্তির সাথে মেজাজও পেয়েছিলেন। তেজ না থাকলেও ঝাঁঝ ছিল কড়া রবমের। গল্প কথক তার পিতাকে পবিত্র পশু বলেছেন। সাচ্চা মুসলিম, ধর্ম-কর্ম সব মানেন। বিরূপ পরিস্থিতিতেও আল্লাহ'ই একমাত্র ভরসা বিশ্বাস করে নির্বিকার থাকতেন বলেই পবিত্র। আর পূর্ব-পুরুষরা ছিলেন যর্থাথ পশু। তাদের সময়ে মদ,গান-বাজনা,মেয়েবাজি'তে তল্লাট ভরপুর থাকতো। কিছু বৈশিষ্ট্য কালের আর্বতে গল্প কথকের পিতাও পেয়েছেন। একটা তালুকের সাড়ে তিন আনা অংশ নিজের থাকায় অহমিকায় নিচু শ্রেণীর মানুষদের তুচ্ছ-ত্যাচ্ছিল্য সগর্বে করতেন। একসময় সেই নিচু শ্রেণীর মানুষরাই শিক্ষা, সম্পদে এগিয়ে গেলেন। বিশ্বস্ত উকিল আবু নসর মোক্তার সাহেবের আইনের মার-প্যাঁচে বাড়ি,জমি,হাজা পুকুর সকল কিছুই নিলামে তুলে দিলেন। সমূহ বিপদ থেকে বাঁচাবার জন্য মোক্তার সাহেবই এগিয়ে এলেন। গল্প কথক সদ্য বিএ পাশ করে পরিবারের এই দুঃসময়ে বাড়ি ফিরে ছোট বোন, অসুস্থ পিতা এবং ক্লিষ্ঠ মাতার মাথা গোঁজার আশ্রয়টুকু রক্ষার জন্য মোক্তার সাহেবের বোবা মেয়েটিকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেলেন। শুধু মেয়ে বিয়ে দিয়ে কথকের বাড়ি,জমিই বাঁচালেন না, সেই সাথে গ্রাম থেকে উঠিয়ে শহরে একটা উচ্চপদে চাকরি দিলেন। কথকের পিতাকে যেই মার-প্যাঁচে ফেলে সবহারা করেছিলেন সেই একইভাবে ব্রাহ্মণ এক লোকের কাছ থেকে একটা ফ্ল্যাটও বোবাকন্যা এবং অপদার্থ জামাতাকে দিলেন। ২. খাঁকি পোশাকে পরা পুলিশেরা সব জায়গায়া বাঙালিদের নিজেদের শক্ত জুতার আঘাতে জর্জরিত করছেন। একই জায়গায় বারবার মার খাওয়ার পর সে জায়গাতে আর ব্যথা লাগে না। একসময় তারা প্রতিবাদের জন্য মুখিয়ে উঠলো। মার্শাল আইয়ুব সরকার বেশ ভালোভাবে নিজের গদি সামলাচ্ছেন। আবু নসর মোক্তার আইয়ুব খানের খাঁস চামচা। যিনি ইতিমধ্যে উকালতি ছেড়ে বহাল তবিয়তে বিত্তবানদের তালিকায় উঠে আসছেন। দেশের কোন এক প্রান্তে আসাদ নামে এক ছাত্রকে পুলিশের গুলিতে মারা যাওয়ার পর ৬৯'এর আন্দোলন গণ-আন্দোলনে রূপ নিলো। ৩.অফিসে নৃপেন নামে কর্মচারী সদ্য বিয়ে করে তরু-পল্লবের ন্যায় স্নিগ্ধ স্ত্রীর প্রশংসায় সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে। কোন ঢঙে কথা বলে, কিভাবে বলে এইসব গল্প বথকের সামনে বলাটাই যেনো তার একমাত্র কাজ হয়ে পড়ে। এদিকে বোবাস্ত্রী'র সাথে কথা না বলতে পেরে গল্প কথক মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোন এক বন্ধুর স্ত্রীর গান শুনে নিজে হয় বোনকে গান শেখাবেন। সেই মতে অনেক খোঁজাখোঁজি করে বয়স্ক গানের শিক্ষক বাড়িতে আনেন। বোন যখন সুরের উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরে, নিম্ন স্তর থেকে উচ্চ স্তরে যায় তখন সুরের মুর্ছনায় সারা বাড়ি মোহিত থাকে। কোন এক রাতের অন্ধকারে কথক তার বোবাস্ত্রীরও কথা বলার যে আকুতি তা উপলব্ধি করতে পারেন এক ঘটনায়। ঘটনা হলো, তিনি লক্ষ করেন তার বোবাস্ত্রী বোনের গান প্রাক্টিস করার সময় আড়ালে গোঁ গোঁ শব্দ করে বোনের কণ্ঠের সাথে নিজের কণ্ঠ মেলাতে চান। কথক নতুন করে বোবাস্ত্রীকে ভালো বাসতে শুরু করেন। তার কাছে আশ্রমকন্যা বলে হয়। ৪. এখন আর প্রতিদিন নিয়ম করে পত্রিকা পড়া হয় না। পত্রিকা খুললেই মারামারি,হরতাল হাবিজাবি। যা কথকের পছন্দ নয়। হরতাল,মিছিল হলে তার বোবাস্ত্রী'র মাঝে নতুন এক সত্তা জেগে উঠে। দরজা,জানালা সব খুলে দিয়ে জানালার কাছে দাঁড়িয়ে থাকেন। নিষেধ করলে বটি দিয়ে তেড়ে আসেন মারতে। মিছিলে, স্লোগানে বাংলা স্বাধীনতার জন্য ফেঁটে পড়ছে জনগণ। এদিকে বোবাস্ত্রীও গোঁ গোঁ শব্দ করে আপ্রাণ চেষ্টা করছে কিছু বলতে। অবশেষে জানালা সমান লাফিয়ে 'বাঙলা' শব্দটি খুব স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করলেন বোবাস্ত্রী। সঙ্গা হারিয়ে মেঝেতে পড়ে গেলেন। গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছে। মনে হয় কিছু একটা ছিঁড়ে গিয়েছে। কথকের মনে প্রশ্ন জাগলো, কার রক্ত বেশি লাল- শহীদ আসাদের নাকি আমার বোবাস্ত্রীর? আটত্রিশ পৃষ্ঠার এ উপন্যাসের নাম ওঙ্কার।লেখক সামজিক-রাজনৈতিক ঘটনার সূত্র মিলাতে চেয়েছে কিনা জানি না। ধরে নিতে পারি সেই বোবাস্ত্রী হচ্ছে বাংলাদেশ। অপদার্থ জামাতা হচ্ছে বর্তমান সমাজে বহাল-তবিয়তে ঘোরাফেরা করছেন।"

Tamim Sarker

Tamim Sarker , Mar 13, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়া উচিত এমন ২০০ বইয়ের তালিকায় এটি সবার উপরের দিকেই থাকবে।এটি প্রধানত একটি উপন্যাসিকা। মাত্র ৪৩ পৃষ্ঠার উপন্যাসটি মূলত আইয়ুব খানের শাসনামলকে পুরোপুরি তুলে ধরেছে খুব সাদামাটা পারিবারিক গল্পের মাধ্যমে।মূলত লেখক বোবা বউয়ের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের বাংলা ভাষায় কথা বলার যে আকুতি সেটি প্রতীকের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। যারা পড়েননি তাদের জন্য মাস্ট রিড।"

Bappi_Assad

Bappi_Assad , Dec 17, 2020

★ ★ ★ ★ ★

"I love it ❤️❤️❤️"

Anirban Maitra

Anirban Maitra , Nov 22, 2019

★ ★ ★ ★ ★

"📚বইয়ের নাম: ওঙ্কার 👤 লেখক: আহমদ ছফা 📃 প্রকাশনা: হাওলাদার প্রকাশনী 📑 ক্যাটাগরি: উপন্যাস 💷 মূল্য: 113 ৳ হুমায়ূন আহমেদ, আনিস সাবেত আর আহমদ ছফা মিলে একবার গেছেন আনিস সাবেতের গ্রামের বাড়িতে। সেখানে কি একটা বিষয় নিয়ে আনিস সাবেত আর আহমদ ছফার মধ্যে তুমুল কথা কাটাকাটি। ছফা বলছেন, আনিস সাহেব, আপনি আপনার মত উইথড্র করুন। আনিস সাবেত বললেন, আমি মরে গেলেও আমার কথা উইথড্র করব না। ছফা বললেন, তবে আমি চললাম। বলে হনহন করে হাঁটা শুরু করলেন। হুমায়ূন আহমেদ বললেন, আনিস ভাই, ছফা ভাইকে আটকান। উনি চলে যাচ্ছেন যে! আনিস সাবেত আয়েশি ভঙ্গিতে বললেন, ছাড়ো তো। এই রাত বিরাতে উনি যাবেন কোথায়? গাড়ি-ঘোড়া কিছুই তো পাবেন না যে ঢাকা চলে যাবেন। একটু পরে এমনিই ফিরে আসবেন। ছফা কিন্তু ফিরে আসেননি। সারারাত হেঁটেই তিনি ঢাকা চলে গেলেন। পরে যখন আনিস সাবেত এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন তখন ছফা সাহেব বলেছিলেন, সারা রাত হেঁটে ভালই হয়েছে। মাথায় নতুন একটা উপন্যাস এসেছে। প্রাজ্ঞজন আবুল ফজল উপন্যাসটার সম্বন্ধে লিখেছেন,"এ গ্রন্থটি পাঠ করলে যেকোন সুহৃদয় পাঠকই মোহিত হবেন।স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রচণ্ড আবেগ এবং অনুভূতি নিয়ে এর চাইতে উৎকৃষ্ট কিছু কোথাও লিখিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই।" বুদ্ধিজীবী ডক্টর সলিমুল্লাহ খান যেটিকে চিহ্নিত করেছেন একজন আহমদ ছফার "আহমদ ছফা" হয়ে ওঠার জীয়নকাঠি হিসেবে। জানেন উপন্যাসটার নাম? ওঙ্কার। ওঙ্কার উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭২।রচনার তিন বছর পর এটি প্রকাশিত হয়। আহমদ ছফা এই উপন্যাসটি উৎসর্গ করেছেন তার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, প্রাজ্ঞ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাককে। উপন্যাসটি পরাধীন বাংলাদেশের পটভূমিকায় উনসত্তেরর গণ অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত।মোট আটটি ভাগে উপন্যাসটিকে ভাগ করা হয়েছে।উপন্যাসের নায়ক, গ্রামের এক ক্ষয়িষ্ণু তালুকদার পরিবারের সন্তান।জমি-জিরাত তার পিতার নেই তেমন, কিন্তু উত্তরাধিকারসূত্রে অহমিকা রয়ে যায়।সাধারণ মানুষ আগের মত তাকে সম্মান দিতে চায় না,বা দেয় না, কিন্তু তিনি তার অতীত অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে পারেন না। তার আভিজাত্য, কর্তৃত্ব করার মানসিকতা এগুলো এলাকার মানুষের পীড়ার কারণ হয়। তাদের কাছ থেকে আগের মত মর্যাদা না পাওয়ার শোধ তিনি তুলতে থাকেন উন্মাদের মতো তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার মাধ্যমে,ক্রমাগত তিনি হারতে থাকেন, কিন্তু পিছপা হন না।ছফার ভাষায় বললে, “ পুরনো মডেলের গাড়ি যেমন শহরের নতুন রাস্তায় ঠিকমত চলতে পারে না, ঝঞ্ঝাট লাগায়, দুর্ঘটনা বাঁধায়, ধোঁয়া ছড়ায় তেমনি আমার বাবা আমার কালের পৃথিবীতে বসবাসের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি কেবল দুর্ঘটনার জন্ম দিয়ে যাচ্ছিলেন।" এইসব মোকদ্দমায় তার একান্ত বিশ্বস্ত লোক ছিলেন আবুনসর মোক্তার।কিন্ত মোক্তারের চোখ আবার তার সম্পত্তির দিকে।একসময়ে মোক্তারের কৌশলের কাছে তিনি পরাজিত হন, ধরাশয়ী হন।জমিজমা মোক্তার সাহেবের হস্তগত হয়। নায়কের পরিবারের এই দুঃসময়ে অকূলের কূল হয়ে আসেন মোক্তার সাহেবই।তিনি প্রস্তাব দেন, তিনি তালুকদারের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন, বাড়ি ভিটে ফিরিয়ে দেবেন, পুরাতন বাড়িটা সংস্কার করে দেবেন। শহরে থাকার ব্যবস্থা হিসেবে একটা বাসা করে দেবেন, ছেলের একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন। এর বিনিময়ে ছেলেকে তার বোবা মেয়েকে বিয়ে করতে হবে। নায়কের পরিবার যদিও প্রথমে এই প্রস্তাব মেনে নিতে চায় না তবু নায়ক বাধ্য হয়ে বিয়ে করে আবুনসর মোক্তারের বোবা মেয়েকে। নায়ক শ্বশুরের প্রভাব-প্রতিপত্তির জোরে তার মেয়েকে বিয়ে করে শহরে ওঠে, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাজনক স্থানে চলে যায়।তাদের সাথে শহরে থাকে নায়কের বোন। একসময় নায়ক তার বোনকে গান শেখানোর ব্যবস্থা করে। কিছুদিনের মধ্যেই তার ভালো উন্নতি হয়। এতে মন ভালো হয়ে যায় নায়কের।সে আরো বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করে তার বোবা স্ত্রীর গানের প্রতি, গানের যন্ত্রটির প্রতি প্রবল আগ্রহ। ননদটি যখন গলায় সুর তোলে সাথে সাথে সেও চেষ্টা করে সুর তুলতে। তার গলা থেকে বের হয় অন্যরকম আওয়াজ। তবু সে লুকিয়ে লুকিয়ে চেষ্টা করে সুরদেবতাকে ধরতে, ধ্যান করে তার। স্ত্রীর এই চেষ্টা নায়কের ভালো লাগে। তার প্রতি ভালোবাসা খুঁজে পায় সে, যা পায় নি বিয়ের পর থেকে একদিনের জন্যও।এরপর থেকে, দিনরাত কখোনো সে চোখের আড়াল করে না স্ত্রীকে। কাছে কাছে থেকে ভাগ করে নেয় যত "বকেয়া" ভালোবাসা। এদিকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পটপরিবর্তন ঘটতে থাকে। গণ আন্দোলনের জোয়ারে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন কেঁপে ওঠে।আমাদের নায়ক মিছিল, শ্লোগান- বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করতো। মাঝে মাঝে বিরক্তিবোধও করত। কিন্তু মিছিলের ব্যাপারে প্রচণ্ড আগ্রহ তার বোবা স্ত্রীর। মিছিল দেখলেই, শ্লোগান শুনলেই তার স্ত্রী অন্যরকম হয়ে যায়। “শ্লোগানের আওয়াজ শুনলে আমার বউটি বিক্ষুব্ধা বাংলাদেশ হয়ে যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হতে চায়। আর আমার বোবা স্ত্রী কথা বলতে চায়। উভয়ই তর সইতে চায় না। উভয়েরই দাবীই একরোখা।” আসাদের মৃত্যুতে চারিদিকে তুলকালাম বেঁধে যায়। চারিদিকে ঘেরাও, জ্বালাও-পোড়াও, অভিযান। একদিন মানুষের মিছিলটাকে খুব ভালোভাবে দেখে নায়ক। মিছিলের সৌন্দর্য মুগ্ধ করে দেয় তাকে। “সেদিন তাকিয়ে দেখলাম মিছিলেরও দেখবার মতো একটি নয়ন ভুলানো সৌন্দর্য আছে। আছে তাতে গতির দোলা, ছন্দের দ্যোতনা। প্রতিটি মানুষ সমগ্র মিছিলের সঙ্গে সন্নিবিষ্ট হলেও তারা সকলে আলাদা আলাদা মানুষ। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সচেতন সবাক চলিষ্ণু ঝরনা একটি আরেকটির সাথে মিশে রচনা করেছে এই গতিমান স্রোতধারা। লক্ষ প্রাণ ঐক্যের মন্ত্রে একসঙ্গে বাঁধা পড়েছে। এমন লক্ষ লক্ষ ঝরনা প্রবল প্রাণতরঙ্গে একসঙ্গে নেচে নেচে উঠছে। মনে হলো মিছিল ভয়ঙ্কর, আবার মিছিল সুন্দর, মিছিলে ধ্বনিত হয় ভাঙনের ধ্বংস নাদ, মিছিলে জাগে নব সৃষ্টির মহীয়ান সঙ্গীত। ভাষণে কোমলে কেমন আপোষ করেছে। দৃষ্টির কুয়াশা ক্রমশঃ কেটে যাচ্ছিলো। সমস্ত বিষয় যথার্থ পরিপ্রেক্ষিতে দেখতে পাচ্ছিলাম। চোখের উপর থেকে আরেকটা আলগা পর্দা যেন খসে পড়লো। সেদিনের মিছিল দেখে, ঠিক মনে হলো, মিছিলে এলে ভীরুতা, কাপুরুষতা ঠিকই ভুলে থাকা যায়। একেবারে হতোদ্যম ক্ষণজীবী মানূষকেও এই মিছিল সামান্য সময়ের জন্য হলেও মহাজীবনের আস্বাদ পান করাতে পারে।" একদিন এরকম একটি মিছিল তার বাসার দিকে আসছে। শ্লোগানের শব্দ শুনতেই তার বোবা স্ত্রীর অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। সে দেখতে পায় তার স্ত্রী নিজ কণ্ঠ থেকে আওয়াজ বের করতে চাচ্ছে প্রাণপনে।। একসময় নায়কের মনে হয় তার স্ত্রী “বাংলা” শব্দটি উচ্চারণ করল, তখন তার কণ্ঠ থেকে রক্ত ঝরছে। নায়কের মন ফুরে একটাই প্রশ্ন জাগে- কোন রক্ত বেশি লাল? শহীদ আসাদের না তার বোবা বৌয়ের ? "ওঙ্কার" এর কোনো চরিত্রই যেনো শুধু একটি ব্যক্তি নয়, বহু কালের বহু মানুষের ভার বহন করার শক্তি দিয়েই ছফা তাদের সৃষ্টি করেছেন। জনগোষ্ঠীর বহুকালের স্বপ্নকে তিনি সংকল্পে ও অঙ্গীকারে উন্নীত করেন একটি বোবা মেয়েকে দিয়ে, কথা বলার অসম্ভব কাজটি রক্তাক্ত উপায়ে সম্পন্ন করিয়ে,যা মূলত জনশক্তির জাগরণেরই প্রতীক।আমার আরেকজন অতি পছন্দের লেখক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, এই উপন্যাসটি সম্বন্ধে ওনার মন্তব্য দিয়েই আজকের লেখাটা শেষ করবো।তিনি বলছেন, ওঙ্কারে আহমদ ছফা গল্প ফাঁদতে বসেননি, কাহিনীর সূত্র ধরে পাঠককে তিনি টেনে নেন এমন একটি জায়গায়, যেখানে পৌঁছে গল্পটা ভুলে গেলেও কিছু এসে যায় না, কাহিনী গৌণ হয়ে সেখানে প্রবল হয়ে ওঠে অনেক দিনের অনেক মানুষের গ্লানি, জড়তা ও শোষণ এবং গ্লানি থেকে মুক্তির রক্তাক্ত সংকল্প" ।।এরকম উক্তির পর বোধ করি এই ক্ষুদ্রকায় "মহা উপন্যাস"টি নিয়ে বলার কিছু বাদ থাকে না। পাঠককে আশ্বস্ত করতে পারি, সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদ পাবেন এ উপন্যাসটিতে। #হ্যাপি_রিডিং 🙂"

Mahmudur Rahman

Mahmudur Rahman , Oct 7, 2019

★ ★ ★ ★ ★

"উপন্যাসের পটভূমি যুক্তফ্রন্ট থেকে আইয়ুব খানের শাসনামল হয়ে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত। লেখক এক অতি সাধারণ মানুষের, আপাতদৃষ্টিতে এক ফালতু জীবনের গল্পের মাঝে তুলে এনেছেন সেই সময়ের রাজনৈতিক অবস্থার কথা। বোবা মেয়েটির গলায় 'বাঙলা' শব্দটি বসিয়ে নাটকীয়তা সৃষ্টি করলেও, দেশপ্রেম কিংবা সময়ের তীব্র কষাঘাতকে দেখিয়েছেন চমৎকার ভাবে।"

Safikul Islam Jihad

Safikul Islam Jihad , Sep 4, 2019

★ ★ ★ ★ ★

"কাহিনী সংক্ষেপ: গ্রামের মানুষ টু শব্দ করলে বাবা সহ্য করতে পারতেন না। সাধারণ মানুষের উপর জ্বালা মেটাতে তিনি যখন তখন আদালতে ছুটতেন। এ ব্যাপারে আবু নসর মোক্তার সাহেব ছিলেন ডান-বাম দুই হাত এবং বুদ্ধি বিবেচনার একখানি নির্ভরযোগ্য আড়ত। মোকাদ্দমার দিন এলে বাড়িতে উৎসবের ধুম লেগে যেত। মুরগির পোলাও হত, খাসি জবাই হত। পাঁচ-সাতজন মোল্লা সারাক্ষণ মুখে ফেনা ছুটিয়ে কুরআন পাঠ করত। আমার বি.এ পরীক্ষা সবে শেষ হয়েছে এমন সময় চূড়ান্ত দু:সংবাদ শুনলাম। বাবা হাইকোর্টের মামলায় গরু হারা হেরেছেন। বাবার প্রিয় আবু নসর মোক্তার সাহেব মামলার খরচ ডিগ্রি পেয়েছেন। যেহেতু আমাদের ঋণ পরিশোধ করার মত টাকা নাই, সেহেতু মোক্তার সাহেব আদালতে বাড়ি, হাজা পুকুর, জমা দিঘী সব নিজের নামে নিলাম করিয়ে নিয়েছেন। মোক্তার সাহেবকে এখন থেকে শ্বশুরই বলব। আবু নসর মোক্তার সাহেব আমাকে শুধু তার বোবা মেয়েকে দিলেন না। হতাশা লাঞ্চিত পূর্বপুরুষের জীর্ণ অট্টালিকা টেনে ঝলমল করা শহরে এনে বসালেন। প্রতিদিন অফিস শেষ করে বাসায় আসি।বোবা স্ত্রী আমাকে দোরগোড়ায় দেখলেই অপরিসীম আগ্রহ নিয়ে ছুটে আসে। জুতোমুজো খুলতে সাহায্য করে। জামা কাপড় ছাড়াতে হাত লাগায়। সাবান তোয়ালে এগিয়ে দেয়। দেশের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছিল। যেখানে দেশের গভীর ব্যথা, মার্শাল সাহেবের গোমড়ামুখো সৈন্যরা সেখানেই কাঁটা বসানো বুট জুতোর লাথি মারে। এই সময়ে বৌটির একটি সংশোধনের অযোগ্য ত্রুটি আমার চোখে ধরা পড়ল। মিছিলের ঘ্রাণ পেলেই দরজা-জানালা খুলে রাখে। শুনেছি বোবারা কানে খাটো। তবে কী করে এমন ব্যাপার ঘটে তা আমি বলতে পারব না। মিছিল আসলেই কান পেতে শোনার চেষ্টা করে। সেদিন আমাদের বাড়ির দিকে বাঁধ ভাঙা শ্রোতের মত মিছিল এগিয়ে আসছিল।চারপাশে একটা নতুন উদ্দীপনা। হঠাৎ করে উপলব্ধি করলাম বোবা স্ত্রীর আওয়াজের ধাচটা দ্রুত পালটে যাচ্ছে। সে প্রাণপণ কিছু বলার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাকযন্ত্র কাজ করছে না। আমি মেঝেতে ছোপ ছোপ টাটকা লাল রক্তের দিকে তাকাই। নিজেকে প্রশ্ন করি, ‘কোন রক্ত বেশী লাল, শহীদ আসাদের না আমার বোবা বৌয়ের?’ পাঠ প্রতিক্রিয়া: “এ গ্রন্থটি পাঠ করলে যেকোন সুহৃদয় পাঠকই মোহিত হবেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রচণ্ড আবেগ এবং অনুভূতি নিয়ে এর চাইতে উৎকৃষ্ট কিছু কোথাও লিখিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই।” কথাটি আমার নয়, আবুল ফজল সাহেবের। বইয়ের প্রথম পৃষ্টায় যা মুদ্রিত আছে। আবুল ফজলের মত ব্যক্তির এমন মন্তব্যের পরে আমার মত সাধারণ পাঠকের মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। তারপরও বলতে হয়, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাসটি অন্যান্য সাধারণ উপন্যাস থেকে আলাদা। এখানে প্রকাশিত হয়েছে একজন বোবা বৌয়ের দেশের প্রতি প্রচণ্ড আবেগ ও ভালোবাসা। দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে সে তার প্রাণ দিয়েছিল অভিনব কায়দায়। তার ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তার অভিনব ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম জানতে হলে আপনাকে অবশ্যই বইটি পড়তে হবে। আবুল ফজলের মত ব্যক্তিরা বই থেকে নতুনত্বের স্বাদ গ্রহণ করেছেন। আশা করি আপনাদেরও অনেক ভাল লাগবে। বই: ওষ্কার; লেখক: আহমদ ছফা; ধরন: চিরায়ত উপন্যাস; প্রকাশক: হাওলাদার প্রকাশনী"

Ashfaq Niloy

Ashfaq Niloy , Jun 28, 2019

★ ★ ★ ★ ★

"ওঙ্কার লেখকঃ আহমদ ছফা প্রকাশকঃ হাওলাদার প্রকাশনী অতীত ঐশ্বর্য নিয়ে পড়ে থাকা এক বৃদ্ধ, নতুন বাস্তবতায় টিকে থাকার চেষ্টায় এক যুবক এবং ভাগ্যের গেরাকলে সেই যুবকের সাথে দাম্পত্যের বাঁধনে বাধা এক বোবা মেয়ে; এদেরকে নিয়েই রচিত হয়েছে আহমদ ছফার উপন্যাস ‘ওঙ্কার’। গল্পের প্রথমেই আমরা পরিচিত হই পুরোনো জৌলুসের গৌরবে অন্ধ এক বয়স্ক ব্যক্তির সাথে। অতীতকে আকড়ে ধরে রাখা এই ব্যক্তির চোখে অন্য গ্রামবাসীরা এখনো তার প্রজা এবং সে তাদের প্রভু। কিন্তু তার চাপিয়ে দেয়া দাসত্বকে আর মেনে নিচ্ছে না অন্যরা। এসব অবাধ্য প্রতিবেশীদের হেনস্তা করার জন্য তিনি তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে বেড়ান। আর এই কাজে তার প্রধান সহযোগী আবুনসর মোক্তার। কিন্তু নিজের একসময়ের এই ভৃত্যের কাছেই মামলায় হেরে গিয়ে তিনি হয়ে পরেন সর্বস্বান্ত। আইয়ুব খানের সেনা সমর্থিত সরকারের এক বিশেষ অনুগত হিসেবে পরিচিত মোক্তার সাহেব তার একসময়ের প্রভুকে ঋণের দায় থেকে মুক্তি ও তার পরিবারের সাহায্যে এগিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু একটি শর্ত সাপেক্ষে। উনার ছেলেকে মোক্তার সাহেবের বোবা মেয়েকে বিয়ে করতে হবে। অসুস্থ বাবা-মা, আর নিজের ছন্নছাড়া অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য সে বিয়েতে রাজি হয়ে যায় ছেলেটি। আর বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই তালুকদার ও তার স্ত্রী ইহলোকের পাঠ চুকিয়ে দেন। বোবা স্ত্রী আর ছোট বোনকে নিয়ে শহরে চলে আসে ছেলেটি। বোবা মেয়েটি নিজের সর্বসত্ত্বা দিয়ে চেষ্টা করে স্বামীর মন জয় করতে। কিন্তু স্বামীর কাছে নিজের স্ত্রীর নির্বাক উপস্থিতি নিজের অক্ষমতা ও অসহায়ত্বকে যেন বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু ছেলেটির এই রুক্ষ মনোভাব একসময় পালটে যায়। স্ত্রী ও ছোট বোনকে নিয়ে এক ছোট্ট, সুন্দর, গোছানো সংসারে ভালোই কাটতে থাকে তাদের দিনগুলো। কিন্তু তাদের শান্তির জীবনে এবার বাগরা দেয় আইয়্যুব বিরোধী আন্দোলন। সংবাদপত্রে, অফিসে, রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে সব জায়গাতে একই ফিসফিসানি। এবার বোধ হয় পতন হতে যাচ্ছে আইয়ুব খানের। ভালো লাগে না এসব কথা ছেলেটির কাছে। ছেলেটির ভেতরের স্বাধীনতার চেতনা তখন ক্ষুদ্র ব্যক্তিগত স্বার্থের আড়ালে ঢাকা। নিজের সুন্দর মসৃণ জীবনের জন্য মুক্তির চেয়ে তার সামরিক শাসনের ক্রীড়নক হিসেবে থাকাই শ্রেয়। কিন্তু সমাজের এত প্যাচ থেকে আলাদা বোবা মেয়েটি যাচ্ছিল স্বামীর ঠিক ভিন্ন পথে। নিজের বাসার জানালার গ্রিলের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে সে শুনতে থাকে আন্দোলনরত মানুষের শ্লোগান ‘বাংলাদেশ’। মুখ ফুটে বলতে না পারলেও এই শ্লোগানকে সে মনে ধারণ করে নেয়। মিছিলের সাথে তাল মিলিয়ে সেও বলতে চায় ‘বাংলাদেশ’। কিন্তু নিজের অক্ষমতার কাছে সে বারবার পরাস্ত হয়। কিন্তু তার চেষ্টা সে থামায় না। লেখকের চোখে সমগ্র বাংলাদেশ ছিল তখন সেই বোবা মেয়েটির মত। বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ক্ষোভকে উগড়ে দেয়ার জন্য ছটফট করছিল যেন। সে জানত যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললে রক্ত বিসর্জন দিতে হবে, নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে হবে। কিন্তু না, তারপরও সে থেমে থাকে নি। স্বাধীনতার নেশায় সে এতটাই মত্ত যে তখন বাকি সবকিছু তার কাছে উহ্য। লেখক আহমদ ছফা উপন্যাসটিতে একাধিক চরিত্রের কোনো নাম দেননি। সব্লপ পরিসরে লিখিত এই উপন্যাসে সব বাহুল্যকে উহ্য রেখে সেই সময়কার অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবার মানসিকতাকে প্রতিকী রূপে সেইসময়ের কিছু মানুষের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমার আহমদ ছফার সবথেকে প্রিয় উপন্যাস এটি। আশা করছি আপনাদেরও পড়ে ভালো লাগবে।"

প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)

বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর

বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

সম্পর্কিত অন্যান্য বই

সবগুলো দেখুন →
ময়ূরাক্ষী
একটু পড়ে দেখুন
ময়ূরাক্ষী হুমায়ূন আহমেদ
(277)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
তোমাকে
একটু পড়ে দেখুন
তোমাকে হুমায়ূন আহমেদ
(186)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
হিমু সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(314)
TK. 1,000 -20% OFF
TK. 800
মিসির আলি সমগ্র ২
একটু পড়ে দেখুন
মিসির আলি সমগ্র ২ হুমায়ূন আহমেদ
(143)
TK. 500 -20% OFF
TK. 400
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড হুমায়ূন আহমেদ
(116)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
একটু পড়ে দেখুন
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ হুমায়ূন আহমেদ
(69)
TK. 160 -14% OFF
TK. 138
তিনি ও সে
একটু পড়ে দেখুন
তিনি ও সে হুমায়ূন আহমেদ
(34)
TK. 135 -20% OFF
TK. 108
শুভ্র সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
শুভ্র সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(90)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480

বইটির রিভিউ লিখুন

আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।

বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন

আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।

"ওঙ্কার" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন

রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।

বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন

সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।

বইটি শেয়ার করুন

বন্ধুদের সাথে এই বইয়ের তথ্য শেয়ার করতে পারেন

বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন

পাতা:

পাতা 1
ওঙ্কার পাতা: 1 / 11
পাতা 2
ওঙ্কার পাতা: 2 / 11
পাতা 3
ওঙ্কার পাতা: 3 / 11
পাতা 4
ওঙ্কার পাতা: 4 / 11
পাতা 5
ওঙ্কার পাতা: 5 / 11
পাতা 6
ওঙ্কার পাতা: 6 / 11
পাতা 7
ওঙ্কার পাতা: 7 / 11
পাতা 8
ওঙ্কার পাতা: 8 / 11
পাতা 9
ওঙ্কার পাতা: 9 / 11
পাতা 10
ওঙ্কার পাতা: 10 / 11
পাতা 11
ওঙ্কার পাতা: 11 / 11
পাতা / 11
এই তথ্যটি জেনে রাখুন।

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।