১ম প্রকাশ, ২০১৬
অচেনা
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
কুরআনের মর্মানুবাদ
সৈয়দ শামসুল হক
ময়ূরাক্ষী
হুমায়ূন আহমেদ
তোমাকে
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র
হুমায়ূন আহমেদ
মিসির আলি সমগ্র ২
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
হুমায়ূন আহমেদ
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | অচেনা |
| Author | সৈয়দ শামসুল হক |
| Publisher | আলোঘর প্রকাশনা |
| Edition | ১ম প্রকাশ, ২০১৬ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 128 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | উপন্যাস ও সাহিত্য |
| Weight | 0.28 Kg |
| ISBN | 9789843395504 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
3 Ratings and 2 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
২টি
Manjurul Hasan , Sep 9, 2021
"কবি,কথাশিল্পী,নাট্যকার—সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক,ষাটবর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমার শ্রদ্ধা ও অভিবাদন গ্রহণ করুন।আপনি ভালো ক'রেই জানেন এক বামনপল্লীর অধিবাসী আমরা,যে-পল্লীতে অতিকায়দের আবির্ভাব দুর্লভ ও বিব্রতকর ঘটনা;এবং যদি কোনো অতিকায় আপন দুর্ভাগ্যবশত আবির্ভূত হয় মাঝারি ও নিম্নমাঝারির কীর্তনমুখর এ-পল্লীতে,তাকে আমরা নিজেদের মাপ অনুসারে কেটে নিয়ে স্বস্তি পাই।এ-কাজ আমরা ক'রে আসছি শতাব্দীর পর শতাব্দী।আপনার কথা ভাবলে আমি বোধ করি আপনার অতিকায় প্রতিভায় আমরা স্বস্তি পাই নি;তাই আমাদের মাপ অনুসারে কেটে নিয়েছি আপনাকে;–আপনার অতিকায়তা সুখকর নয় আমাদের জন্যে;আপনি যে অতিকায় তা আমরা স্বীকার করতে চাই নি;বরং আপনাকে বহু ক্ষুদ্রকায়ের থেকে ক্ষুদ্র দেখার একটি অভ্যাস আমরা গ'ড়ে তুলে স্বস্তি পাচ্ছি।অন্ধ যেমন কখনো সম্পূর্ণ হাতি দেখে উঠতে পারে না,আমরাও সম্পূর্ণ আপনাকে,সৈয়দ শামসুল হককে,দেখতে পাই নি।অন্ধদের আচরণ, আমি বুঝি, নিরন্তর পীড়ন করেছে আপনাকে;তাই আপনি মহাভারতীয় একটি শব্দ—'সব্যসাচী'–পুনরাবিষ্কার করেছেন নিজের জন্যে;নিজেকে দেখেছেন আধুনিক অর্জুনরূপে। বামনপল্লীতে অর্জুন বেমানান;তবে আমাদের ভাগ্য দু-একটি অর্জুন আমাদের পল্লীতেও জন্মগ্রহণ করে।আমরা স্বস্তি পাই,সুখী হই,একমাত্রিকতায়;আপনি বহুমাত্রিক,এটাই আমাদের অস্বস্তির প্রধান কারণ।যিনি শুধুই কবিতা লেখেন,তাঁকে আমরা বলি কবি;তাঁর নামের সাথে কবির আগে বিশেষণের পর বিশেষণ আমরা ব্যবহার করি;যিনি শুধুই উপন্যাস লেখেন,তাঁকে বলি ঔপন্যাসিক, যিনি শুধুই নাটক লেখে, তাঁকে বলি নাট্যকার;কিন্তু যিনি ঋদ্ধ করেন সাহিত্যের নানান শাখা,যিনি হন সৈয়দ শামসুল হক,তাঁকে কী বলবো আমরা ঠিক ক'রে উঠতে পারি না।কবি বলবো,না ঔপন্যাসিক, না নাট্যকার? তাঁকে এক শব্দে আমরা ডাকতে পারি না ব'লে তাঁকে দেখি খণ্ডিত ক'রে;খণ্ডিত করতে গিয়ে তাঁকে ক্ষুদ্র ক'রে তুলি গৌণদের থেকে।আমাদের খণ্ডিতকরণপ্রবণতার এক বড়ো শিকার আপনি,সৈয়দ শামসুল হক,আপনি তা জানেন,এবং তা নিশ্চয়ই আপনাকে দশকের পর দশক পীড়িত ক'রে আসছে।আপমি নিজেই জানেন কবিতা, কথাশিল্প,নাটক মিলিয়ে আপনার উচ্চতার স্রষ্টা আধুনিক বাঙলা সাহিত্যে তিনচারজনের বেশি,এবং সমগ্র বাঙলা সাহিত্যেও খুব বেশি মিলবে না।আমাদের খণ্ডিতকরণরোগের বড়ো এক শিকার হয়ে আছেন মহৎ বুদ্ধদেব বসু ;রবীন্দ্রনাথের পর যাঁর সমতুল্য আর কেউ নেই;তাঁর মহিমা আমরা যেমন বুঝি না,আমরা বুঝি না আপনার মহিমাও।কথাশিল্পী হিশেবেই আপনার পরিচয় বেশি,কিন্তু আপনি যে ওই এলাকায় আমাদের প্রধানতম,তা আমরা বলি না,বলতে ভয় পাই,বা আমরা বুঝে উঠতে পারি না।আমাদের বামনপল্লীতে পুরোনোর মূল্য বেশি,আর এ-পল্লীতে কোনো কথা একবার র'টে গেলে তার থেকে আমাদের আর মুক্তি ঘটে না,চিরকাল আমাদের ওই রটনা রটিয়ে যেতে হয়।কথাসাহিত্যের কথা উঠলে আজো সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ আর শওকত ওসমানের কথা বলি,বিশেষ করে বলি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্-র কথা,যেনো তিনিই আমাদের শ্রেষ্ঠ,এমনকি চিরকালের শ্রেষ্ঠ,কথাশিল্পী ;আমরা এখনো ভুল ধারণার মধ্যে রয়েছি।সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ আর শওকত ওসমানের মধ্যে মুসলমানিত্বের পরিচয় লেগে আছে গাঢ়ভাবে,আর শিল্পকলার বিচিত্র সৌন্দর্যও দুর্লভ তাঁদের কথাসাহিত্যে।আর তাঁরা কি অনেকটা উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মনে রেখেই লেখেন নি তাঁদের উপন্যাসগুলো?আপনিই তো প্রথম লিখেছেন আমাদের আপত্তিকর উপন্যাস,যা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের বিব্রত করেছে;এবং দেখিয়ে দিয়েছে শিল্পকলা পাঠ্যপুস্তক নয়।আমাদের কথাসাহিত্যকে প্রথম বিচিত্র শিল্পসৌন্দর্যখচিত ক'রে তুলেছেন আপনি;এবং আপনার সৃষ্টিশীলতাও বিস্ময়কর। আপনি নিরীক্ষার পর নিরীক্ষা করেছেন শিল্প ও সৌন্দর্য সৃষ্টির;আপনার কথাশিল্প ও কবিতা ও নাটক নিরীক্ষার বিস্ময়কর বিশ্ব,যার কোনো তুলনা বাঙালি মুসলমানের মধ্যে দেখি না।সমগ্র বাঙলা সাহিত্যেও কি খুব বেশি দেখি?বাঙলা কথাশিল্পে জীবন যতোটা বড়ো হয়ে আছে,ততোটা কি বড়ো হ'তে পেরেছে শিল্পকলা ও সৌন্দর্য? তারাশঙ্কর বা বিভূতিভূষণ বা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ে যতোটা জীবন পাই,ততোটা কি পাই সৌন্দর্য ও শিল্পকলা;এবং তাঁদের আজো আমরা যতোটা কিংবদন্তি ভাবি তাঁরা কি ততো বড়ো?তাঁরা কি বাঙলা উপন্যাসকে প্রথার মধ্যেই রেখে দেন নি,শিল্পকলার থেকে স্থূল জীবন নিয়েই বেশি মেতে থাকেন নি?আপনি বেরিয়ে এসেছিলেন ওই প্রথার ভেতর থেকে।শিল্পকলায় নিরীক্ষা মূল্যবান,কিন্তু নিরীক্ষা যদি শুধুই নিরীক্ষা হয়ে থাকে,তাহলে তার বিশেষ মূল্য থাকে না;শিল্পকলায় মূল্যবান হচ্ছে সফল নিরীক্ষা,যা আপনার কথাশিল্প থেকে কবিতা থেকে নাটক পর্যন্ত বিস্তৃত।আমি এখানে আপনার উপন্যাস বা গল্প বা কবিতা বা নাটকের ভাষ্য লিখতে চাই না,হয়তো কোনোদিনই লিখে উঠতে পারবো না,শুধু জানাতে চাই যে আপনার মহত্ত্ব আমি সব সময়ই উপলব্ধি করি।আপনার বাঙালিত্ব ও আন্তর্জাতিকত্ব যেমন শিল্পিত,তেমনি শিল্পিত আপনার প্রেম ও কাম এবং জীবন।আপনার কবিতার উপাখ্যানতা যেমন শিল্পিত,তেমনি শিল্পিত তার গীতিময়তা;এবং বিস্ময়কর আপনার নাটক—অলীক কুনাট্য রঙ্গের দেশে আপনি নাটককে ক'রে তুলেছেন শিল্পকলা।নাটক আমার কাছে দৃশ্যকাব্য নয়,পাঠ্যকাব্য;মধুসূদন, রবীন্দ্রনাথ, বুদ্ধদেব,আর আপনার নাটকেই আমি পাই ওই পাঠ্যকাব্যত্ব—সুন্দরী নটী,সুন্দর নট,সুন্দর রঙ্গমঞ্চ বাদ দেয়ার পর যা থাকে,তাই হচ্ছে নাটক,যা পাঠ্য,যা দেখার নয়,অনুভব আর উপলব্ধির।নাটক শুধু উল্লাস আর করতালিতে সমাপ্ত নয়।আপনি যখন তৎসম থেকে চলতি যান,এবং চলতি থেকে আঞ্চলিকে,তখন যা সৃষ্টি হয়,তা হচ্ছে শিল্পকলা;এবং আপনার প্রজন্মের কেউ ওই শিল্পকলাকে আপনার মতো অনুভব করেন নি।আপনি বাঙলা গদ্যকে পরিস্রুত করেছেন,শিল্পকলা ক'রে তুলেছেন।আপনার মধ্যে আমি দেখি সৌন্দর্য আর শিল্পকলা, যা জীবনের থেকে মহৎ,এবং অবিনশ্বর। —হুমায়ুন আজাদ অগ্রন্থিত প্রবন্ধ"
iqbal mahfuj , Feb 10, 2016
"বদলির চাকরি আনুর ভালো লাগার কারণ; আনু ঘুরতে পছন্দ করে। আনুর আধুনিক মস্তিষ্ক জানতে চায় ভেতর-বাইর। চেনা-জানার আগ্রহ তাকে নতুন জায়গার প্রতি লোভনীয় করে তোলে। আবার আনু সূক্ষ্ম অনুভূতিশীল মনুষ্যত্বেরও দৃষ্টান্ত। মানুষের প্রতি ভালোবাসায় সেও গেঁথে যায়। তার খারাপ লাগে সম্পর্কের রশিতে টান পড়লে। হোক সে সম্পর্কে তার এক বছর অথবা ছয় মাসের অবস্থান। বাবার বদলির সঙ্গে সঙ্গে পেছনের সময়টা তার কাছে স্মৃতি হয়ে যাওয়ার বেদনাও এড়ানোর নয়। তবে এ বেদনাকে আনু জ্ঞানে পরিণত করে। আনু তার বন্ধুদের কাছে গল্প বলে। গল্পের সুযোগে নিজেকে তাদের মাঝে বিশেষ এবং আগ্রহের বিষয়ে পরিণত করতে পারে; এটা কম কিসে। সব প্রাপ্তির মাঝেও যে মূল্য দেয়ার থাকে কিশোর আনুর মধ্য দিয়ে লেখক তার সার্থক প্রকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। আমরা তা জানতে পারি আনু যখন আক্ষেপ করে মাকে বলে- ‘ছেলেরা ঠাট্টা করে; বলে- দারোগার ব্যাটা, পালা পালা, ধরে হাজতে নিয়ে যাবে। আনুর তখন জেদ হয় খুব। একেকবার ছেলেগুলোকে ধাওয়া করে; যেন সত্যি সত্যি ধরবে। কিন্তু একি, সবাই ভয় পাওয়া দূরে থাক, একটু দৌড়ে গিয়েই খিলখিল করে হাসতে থাকে। তখন আনু বুঝতে পারে, তার কোনো জোর নেই, কিছু নেই। সে একা।’ বদলি খুব পছন্দ হলেও বাবার দারোগার চাকরিটা আনুর পছন্দ নয়। তার মধ্যে সমাজ ধারা নির্ধারিত ভালো-মন্দের মানদণ্ড জায়গা খুঁজে নেয়, যে সমাজ কখনও কখনও উৎসাহিত করে অন্যের ভালো থাকাকে নিজের করে পাওয়ার আকাক্সক্ষায়, নিজের অবস্থানের প্রতি অবহেলা অবজ্ঞায়। তা সামাজিক আনুর বাবার চাকরি ভালো না কিন্তু বদলি ভালো দিয়েও লেখক বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন। আনুর এক ভাই শহরে লেখাপড়া করে। অন্য বোনদের নিয়ে বাবা-মার সঙ্গে আনুর এ জীবনের বাঁকে বাঁকে পাড়ি জমানো মূলত মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারের কাহিনী। যে কাহিনী রেলের লাইনে দেখায় জীবনের প্রশস্ততা, মানুষের ছুটে বেড়ানোর বাস্তবতা, ছোটখাটো আনন্দ বেদনায় জীবনের স্বাভাবিকতা। লেখক বইয়ের নাম দিয়েছেন ‘অচেনা’। তবে তিনি চেনাতে চেনাতে পাঠককে নিয়ে জান সেই অচেনা পথের বাঁকে; যেখান থেকে বেরিয়ে আসে সমাজের অজস্র না বলা কথা, অনিয়ম আর গ্লানির বাস্তবতা। উপন্যাসের এক জায়গায় লেখক আনুর মেজ আপাকে দিয়ে বলাচ্ছেন- ‘ছোট দারগার বউ এত গহনা পরেছে কেন রে? ... ঠিক বেশ্যার মতো দেখতে। ম্যাগো!’ আনুর বোনদের আরও কথোপকথনে বুঝতে অসুবিধা হয় না, ছোট দারোগার বেতন সম্পর্কে তাদের যথেষ্ট ধারণা রয়েছে এবং ছোট দারোগার বউয়ের অতিরিক্ত গহনা তাদের মনে অনৈতিকতার প্রশ্নে এতটাই ঘৃণা ধরাতে সক্ষম হয়েছে, এর প্রকাশ পেয়েছে ওই ‘বেশ্যা’ বলার মধ্য দিয়ে। সামাজিক বাস্তবতার আরও কিছু চিত্রও লক্ষণীয় আনুর ভাবনায়। আনুও বুঝতে পারে ছোট দারোগার সঙ্গে তার বাবা বড় দারোগার নৈতিক দূরত্বটা। এ দূরত্বের খেসারতও তারা ভোগ করে, তাতে আনু এতটুকু ক্ষেদ নিজের মধ্যে খুঁজে পাায় না; বরং তার ভাবনা মহৎ। এ বাস্তবতা ভেবে তার বাবার জন্য মায়া হয়। তার ইচ্ছা হয় বাবাকে টাকা এনে দিতে যাতে বাবা তার বোনদের ছোট দারোগার বউয়ের মতো গহনা কিনে দিতে পারে। বাস্তবতা আছে। আছে রুঢ় বাস্তবতাও; আছে সকালের সূর্যের নির্মল হাসির মতো মায়া মাখানো স্বপ্নও। উপন্যাসের সার্থকতা এখানেই। লেখক কোনো বিষয়কেই ব্যক্তিগতভাবে প্রভাবিত করেননি; বরং চরিত্রগুলো সময়ের চাহিদা পূরণে এগিয়ে চলেছে নিজস্ব গতিতে। এছাড়াও উপন্যাসে কিছু চিত্র লেখক এঁকেছেন- যা মহৎ চিত্র শিল্পকেও হার মানায়। আমরা নতুন কোয়ার্টারে আসা আনু এবং তার বোনদের যে যার যার ঘর বেছে নেয়ার চিত্র দেখি, যেখানে স্থানের সংকুলান থাকলেও রয়েছে প্রাণের প্রাচুর্য। একটি অচেনা বাড়িকে আপন করে নেয়ার কারুকাজ। আনুর স্কুল এবং হেডমাস্টারের বর্ণনা এবং সেখানে আনুর ছোট্ট সাক্ষাৎকারের সফল বিফল অনুভূতির মানবিক এবং নিষ্কলুষ চিত্রায়ন। মধ্যবিত্তের পারিবারিক টানাপড়েনের মধ্যে জীবনের আঁকি-বুকি। যেখানে সুখ বা দুঃখকে বিশেষভাবে দেখানোর প্রয়াস নেই। একটি চলমান অপরিবর্তিত ছোটখাটো জীবনের সুখ-দুখের শতাব্দী, আনন্দ-বেদনার যুগ যেন একটি দিনের ধারাবাহিকতায় সূর্যাস্তের দিকে প্রবাহিত হচ্ছ। যে দিনটি হাজার বছরের ওজন বহন করে চলেছে নিঃশব্দে। আনু ক্লান্ত, জীবনের সঙ্গে চলতে চলতে অথবা জীবনের ভাঁজ খেলা দেখতে দেখতে। বোনের মৃত্যুর আগেই শোক প্রকৃতির মতো আনুকে বেদনায় আপন করে রেখেছে। লেখকের বর্ণনায়- ‘আনু এখন আর খেলতে যায় না, মাছ ধরতে যাওয়াটাও বন্ধ করে দিয়েছে। আজকাল কিছুই যেন ভালো লাগে না তার। বড় আপার অসুখ বলে নয়, সামনে বৃত্তি পরীক্ষা বলেও নয়, এমনিতে। সে নিজেই বুঝতে পারে না, তার কী হয়ে গেছে। মনটা যেন এখানে নেই, কিংবা কোথাও। একটা উড়ে চলার, দূরে চলে যাওয়ার, হারিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা যেন ভেতর থেকে ঠেলে ঠেলে উঠতে চায়। চারপাশের সবকিছু এত দূরের মনে হয়- নিঃস্পৃহতায় ভরে থাকে মন। বড় উদাস মনে হয়।’ এগারটি অনুচ্ছেদের প্রায় সবক’টিতেই এরকম অসাধারণ চিত্রকল্প রয়েছে যা উপন্যাসকে এক ধরনের কাব্যময়তা সমৃদ্ধ করে রেখেছে। ‘অচেনা’ উপন্যাসের লেখক কবি সৈয়দ শামসুল হক। যিনি বাংলাদেশের প্রধান নাট্যকারও। যাকে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশের ‘সব্যসাচী’ লেখক। সাহিত্যের সব শাখায় সমান দক্ষতার ফলে যেমন তাকে সব্যসাচী বলা হয় ঠিক তেমনি এ উপন্যাসেও উপন্যাস শিল্পের প্রায় সব রসেরই সমান প্রয়োগে তিনি সক্ষমতা দেখিয়েছেন।"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"অচেনা" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: