২য় প্রকাশ, ২০১৪
নির্বাসিত সম্রাট বাহাদুর শাহ্
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
ময়ূরাক্ষী
হুমায়ূন আহমেদ
তোমাকে
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র
হুমায়ূন আহমেদ
মিসির আলি সমগ্র ২
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
হুমায়ূন আহমেদ
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
হুমায়ূন আহমেদ
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | নির্বাসিত সম্রাট বাহাদুর শাহ্ |
| Author | আনিস সিদ্দিকী |
| Publisher | ঐতিহ্য |
| Edition | ২য় প্রকাশ, ২০১৪ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 103 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | উপন্যাস ও সাহিত্য |
| Weight | 0.23 Kg |
| ISBN | 9847760357 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
4 Ratings and 3 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
৩টি
Saif Siddiqui , Feb 6, 2020
"এক নিঃশ্বাসে পড়ার মতো বই"
Tasnim Ara Mim , Jan 3, 2020
"ভালো ছিলো"
Bibi Rasheda Afrin Rumi , Apr 30, 2019
"#প্রগতি_রিভিউ_প্রতিযোগ_এপ্রিলঃ বইঃ নির্বাসিত সম্রাট বাহাদুর শাহ লেখকঃ আনিস সিদ্দিকী প্রকাশনঃ ঐতিহ্য পৃষ্ঠাঃ ১০২ মুদ্রিত মূল্যঃ ২০০টাকা "উমর দরাজ মাঙ্গঁকে লায়েথে চার দিন, দো আরজুমে কাট গয়ে, দো ইন্তেজার মেঁ।" অর্থ- "চার দিনের জন্য আয়ু নিয়ে এসেছিলাম। দু’টি কাটল প্রত্যাশায়, আর দু’টি অপেক্ষায়।" কবিতাটি মোঘল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট বাহাদুর শাহের লেখা কবিতা। কবিতাটি পড়লেই বোঝা যায় কতটা নরম প্রকৃতির মানুষই ছিলেন সম্রাট বাহাদুর শাহ। অথচ তারই নামে কতগুলো মিথ্যা মামলা সাজিয়েছিলো তৎকালীন ইংরেজরা। শুরু করেছিলো বিচারের নামে প্রহসন। নির্বাসিত সম্রাট বাহাদুর শাহ বইটিতে শুধু বাহাদুর শাহের জীবনীই উঠে আসেনি, উঠে এসেছে তৎকালীন সময়ে ভারতবর্ষে রাজনৈতিক ও এর পারিপার্শ্বিক অবস্থা। সিপাহী বিদ্রোহ ও ভারতবর্ষের মানুষের প্রতি ইংরেজদের জুলুম ও নির্যাতনের কথা। বাহাদুর শাহের পূর্ণ নাম আবুল মুজাফ্ফার সিরাজুদ্দীন মুহাম্মদ বাহাদুর শাহ গাজী। ইতিহাসে তিনি বাহাদুর শাহ জাফর নামেও পরিচিত। মুঘল সাম্রাজ্যে ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠা লাভ করে সম্রাট বাবরের হাত ধরে। ১৫২৬সালে পানিপথের যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।।আমরা ইতিহাস ঘাটলে দেখতে পায় মুঘল সাম্রাজ্যের সম্রাটদোর শৌর্যবীর্যের ঘটনাসমূহ। কিন্তু সেই মুঘল সাম্রাজ্য বাহদুর শাহের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে। বাহাদুর শাহের পিতামহ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমকে কৌশলে ইংরেজরা তাদের পেনশনভোগী সম্রাট বানায়। দিল্লীর ক্ষমতা তখনি মুঘলদের থেকে ইংরেজদের হাতে চলে যায়। ইংরেজরা হয়ে যায় সর্বেসর্বা। বাহাদুর শাহের পিতামহ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ও পরবর্তীতে পিতা সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহ নামমাত্র সম্রাট থাকেন। পিতার মৃত্যুর পর বাহাদুর শাহ ইংরেজদের পেনশনভোগী সম্রাট হন। সময়টা ১৮৫৭ সাল। হঠাৎ করে সিপাহী বিদ্রোহের দামামা বেজে উঠে। সিপাহীদের প্রাথমিক বিদ্রোহের কারণ ছিল একটাই, ইংরেজরা হিন্দু-মুসলমানদের জাত মারার চেষ্টা করছে। এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজের মুখে যে তেলা জিনিস আছে, যে টোটা সিপাহীদের মুখ দিয়ে খুলতে হয় ওটা আসলে শূকর আর গরুর চর্বি দিয়ে তৈরি। মুসলমানদের জন্য শূকর আর হিন্দুদের জন্য গরু হারাম, ধর্মে নিষিদ্ধ। এই খবরটি মিরাট থেকে শুরু করে ক্রমশ এই বিদ্রোহ গোটা উত্তর ও মধ্য ভারতে অধুনা উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও উত্তর মধ্যপ্রদেশ এবং দিল্লি অঞ্চল ছড়িয়ে পরে। এতে করে সকল হিন্দু মুসলমান সিপাহী একত্র হয়ে ইংরেজদের দমন করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করে। সিপাহী বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর ভারতীয় উপমহাদেশে অবস্থানরত মানুষেরা বুঝেছিলো, ইংরেজরা আসলে তাদের শাসনের নামে শুধু শোষণই করছে। বিদ্রোহীদের একজন সঠিক ভারতীয় নেতার প্রয়োজন ছিলো। তারা বাহাদুর শাহকে তাদের নেতা হওয়ার অনুরোধ জানান। বাহাদুর শাহ ছিলেন বয়স্ক ও নরম প্রকৃতির মানুষ। তিনি বিদ্রোহীদের গণহত্যা করতে নিষেধ করেন। সিপাহী বিদ্রোহ ছিল বৃটিশ ভারতে দেশীয় সিপাহী জনতার প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ। কিন্তু অস্ত্রশস্ত্র, যুদ্ধ কৌশল, যোগাযোগ ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে তা ব্যর্থতায় পরিণত হয়। সবচেয়ে বড় কথা তৎকালীন স্বদেশী শক্তিশালী ব্যক্তিদের বিশ্বাসঘাতকতাও সিপাহীদের মর্মান্তিক পরিণতির জন্য দায়ী। সেদিন যদি দেশীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ব্যক্তিস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে সিপাহীদের পাশে দাঁড়াতো তাহলে স্বাধীনতার জন্য আমাদের আরও একশ বছর সংগ্রাম করতে বা অপেক্ষা করতে হতো না। কিছু বিশ্বাসঘাতকদের জন্য ইংরেজরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। তারা নির্বিচারে ভারতীয়দের হত্যা করতে থাকে। বাহাদুর শাহকে গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করে। বাহাদুর শাহের বিরুদ্ধে শুরু হয় বিচারে নামে প্রহসন। এই বইটাতে সেই সিপাহী বিদ্রোহ থেকে শুরু করে বাহাদুর শাহকে নির্বাসনে পাঠানোর আগের সময় পর্যন্ত পুরো ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া। এসব সত্য ইতিহাস, বিস্তারিত সবকিছু জানতে এবং ইংরেজরা যে ভারতবর্ষের মানুষদের প্রতি কতটা জুলুম করেছে তা এই বইটি পড়ে জানা যাবে। পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ আমি ইসলামের ইতিহাসের ছাত্রী। তাই আমার পড়ার বিষয়টাই ইতিহাস নিয়ে। কিন্তু একটা সময় এমনকি কিছুদিন আগ পর্যন্ত ইতিহাস আমাকে টানতো না। পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের পড়াগুলো কাটখোট্টা লাগে বলে ইতিহাস পড়তে ভালো লাগতো না। এখন একটু একটু করে ভালোলাগা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এই বইটা পড়ার পরে ইতিহাসের প্রতি পুরোপুরিভাবে ভালোবাসা জন্মেছে। এত সহজসরল ভাষায় লেখা বইটি প্রথম থেকে শুরু করেরে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত আমাকে টেনে নিয়ে গেছে। বইটা পড়তে পড়তে আমি যে কোথায় হারিয়ে গিয়েছি বুঝাতে পারব না। মনে হয়েছে সেই সিপাহী বিদ্রোহ, ইংরেজরা ভারতীয়দের নির্বিচারে হত্যা, বাহাদুর শাহকে নিয়ে বিচারের নামে প্রহসন সবকিছু যেন আমার চোখের সামনে ভাসছে! মনে হয়েছিলো সেই সময়টাতে বুঝি আমিও ছিলাম! বইটা পড়তে পড়তে যেকোনো পাঠকেরই কখনো চোখ ভিজে উঠবে, কখনো বা রাগে হাত আপনাআপনি মুষ্টিবদ্ধ হয়ে যাবে। ভাববে এইও কি সম্ভব! লেখক এই বইয়ে সবকিছু বিস্তারিতভাবে ও সুন্দর সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। শুধু ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা নয়, লেখক এখানে রেফারেন্সও উল্লেখ করেছেন। ইংরেজরা তাদের দেশে আত্মীয়স্বজনদের চিঠি লিখে এখানকার যে অবস্থার বর্ণনা দিয়েছিলেন, চিঠিতে যে উল্লাস তারা প্রকাশ করেছে তা সত্যি অকল্পনীয়। ব্রিটিশরা সবসময় চেয়েছিলো হিন্দু-মুসলমানকে আলাদা করতে। ব্রিটিশদের ভয় ছিলো দুই সম্প্রদায় একত্র হলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তারা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে, স্বাধীনতা চাইবে। তারা বুঝবে তাদের অধিকার। তাই ইংরেজরা নানান ছুঁতোয় সবসময় হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা লাগিয়ে দিতো। যাতে করে ভারতবাসীরা সবসময় নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত থাকে, আর ব্রিটিশরা নির্বিঘ্নে শাসনের নামে শোষণ করে যেতে পারে। সিপাহী বিদ্রোহের সময় যখন মুসলমান হিন্দু সিপাহীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইংরেজ বিতাড়িত করছিলো, তখন ইংরেজরা বুঝতে পারলো আসলে তাদের অনুমান মিথ্যা নয়, দুই সম্প্রদায় একত্র হওয়া মানেই তাদের পতন। তারা নতুন চাল চালতে শুরু করে। যুগে যুগে যেমন মহাপুরুষদের আবির্ভাব হয়েছে, মহাপুরুষেরা যেমন নানান বেশে নানান রূপে এসে নিজের স্বজাতি কে মুক্তির পথ দেখিয়েছে, ঠিক তেমনি যুগে যুগে মীর জাফরাও ফিরে এসেছে। ১৭৫৭ সালে যদি মীর জাফর নবাব সিরাজ উদ দৌলার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করতো, তাহলে ইংরেজদের কাছে নবাবকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হতে হত না। আর ভারতবর্ষেও ইংরেজরাজত্ব গোড়াপত্তন হতো না। ঠিক তেমনিভাবে তার একশবছর পর ১৮৫৭সালে কিছু হিন্দু মুসলমান অকৃতজ্ঞরা বিশ্বাসঘাতকতা করায় সিপাহী বিদ্রোহ সফল হতে পারেনি। বাহাদুর শাহকেও মিথ্যা অভিযোগ, পরাজয়ের গ্লানি মাথায় নিয়ে নির্বাসনে যেতে হয়েছিলো। সিপাহীরা ইংরেজদের যতটা না হত্যা করেছে, ইংরেজরা তার চেয়ে বহুগুণ হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল দিল্লী ও তার আশপাশ অঞ্চলে। হত্যা করেছিলো বহু নিরাপদ মানুষকে। "কোই উম্মিদ বাড় নাহি আতি কোই সুররৎ নজর নাহি আতি।" সেদিন কি নির্মমভাবে নিরাপরাধ অধিবাসীদের পাইকারিভাবে হত্যা কররা হয়েছিল তারই চিত্র ফুটে উঠেছে মীর্জা গালিবের কয়েকটি লাইনে। বইটা পড়ে পাঠক ইতিহাস সম্পর্কে অনেককিছু জানতে পারবেন। যারা ইতিহাসের কপচানিতে বিরক্ত হন তারাও লেখকের সহজ সাবলীল লেখনীর কারণে বইটি পড়তে পড়তে ঘোরের মধ্যে চলে যাবেন। বইয়ের লেখক আনিস সিদ্দিকী সম্পর্কে জগন্নাথ কলেজের বাংলা বিভাগের প্রফেসর বলেছেনঃ " তিনি ইতিহাসে অনুগত থেকে সহজগতি ইতিহাসের বর্ণনা দান করেন। কিন্তু তিনি মানুষকে তার পরিচয় থেকে বিচ্ছিন্ন করেন না।" প্রিয় উক্তিঃ এমনি করে যুগে যুগে স্বাধীনতা সংগ্রামের নেপথ্যে কাজ করেছে অখ্যাতরা। তাদের ইতিহাস কেউ লেখেনি। স্বাধীনতা ভোগকারীরা বেমালুম ভুলে গেছে অখ্যাতদের সময়োচিত ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা। ইতিহাসে লেখা হয়েছে শুধু নেতার কথা ইনিয়ে বিনিয়ে।"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"নির্বাসিত সম্রাট বাহাদুর শাহ্" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: