১ম সংস্করণ, ২০২৩
মিশিবিবি
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
ময়ূরাক্ষী
হুমায়ূন আহমেদ
তোমাকে
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র
হুমায়ূন আহমেদ
মিসির আলি সমগ্র ২
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
হুমায়ূন আহমেদ
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
হুমায়ূন আহমেদ
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | মিশিবিবি |
| Author | জান্নাতুল নাঈমা |
| Publisher | বর্ণলিপি প্রকাশনী |
| Edition | ১ম সংস্করণ, ২০২৩ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 240 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | উপন্যাস ও সাহিত্য |
| Weight | 0.46 Kg |
| ISBN | 9789849778516 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
19 Ratings and 14 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
১৪টি
Marjan ety , Aug 10, 2026
"আমার অনেক পছন্দের একটা বই। শেষ টা ভিষণ কষ্টের ছিলো ❤️❤️।বইয়ের কাহিনিটি ভিষন ভালো লেগেছে"
Israt Sharmin Trina , Nov 22, 2023
"#আড্ডাখানায়_প্রগতি #রিভিউ_২০২৩ মিশিবিবি কথন চলুন যুগে যুগে বয়ে চলা ভিন্ন পটভূমিতে, ভিন্ন পরিবেশে, ভিন্ন দশকে, ভিন্ন পরিস্থিতিতে কিন্তু অভিন্ন এক নারীর সংগ্রামের আর একটা চিত্র ঘুরে আসি, উপন্যাসে মিশিবিবি নামের চরিত্রে যে পরিচিতি পেয়েছে কিন্তু সে যেন সব সংগ্রামী নারীদের প্রতিনিধিত্ব করে গিয়েছে দৃঢ়ভাবে। গল্পের পটভূমি ছিল ১৯০৬ সালের আবহে চিত্রিত যা আমাদের ধারণারও বাইরে কারন সে সময়ের কথার ধরণ, পরিবেশ, পরিস্থিতি এমনকি মানুষগুলোর নাম সহ সবকিছু এখনকার সময়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না। ঐ সময়টার প্রেক্ষাপট নিয়ে গল্প লিখতে গেলে সেই আবহটার প্রতিফলন ঘটাতে হবে সবার আগে। পাঠক যখন পড়বে নিজেকে যেন ঐ জায়গায় পেতে পারে এটা বিশ্বাসযোগ্য ভাবে ফুটানো আমার মনে হয় সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জের ছিলো নবীন লেখিকার কাছে। যা তিনি লেটার মার্ক সহ পাশ করে উতরে গিয়েছেন। গল্প কথক ছিলেন লেখিকা এর মাঝে মাঝে চরিত্র গুলোর সংলাপে ছিলো তখনকার সময়ের একটা নির্দিষ্ট এলাকার টান যার দরুন মনে হচ্ছিলো যেন আমি নিজে হেঁটে হেঁটে সবগুলো জায়গায় ঘুরছি। বর্ণনার ধরনটা এতোটাই বাস্তব সম্মত ছিলো সবকিছু যেন নিজ চোখে দেখছিলাম এমন অনুভূতি হচ্ছিলো। কোথাও কিছুতে একটু বাহুল্য লাগেনি, কোন চরিত্রের উপস্থিতি অনাহূত মনে হয়নি।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একদম এক নিঃশ্বাসে পড়ে গেছি। লেখিকার প্রথম প্রকাশিত বইয়ের উপন্যাসের প্লট নির্বাচনে তার লিখিত বহুল জনপ্রিয় উপন্যাস গুলো থেকে কাহিনি বাছাই করেন নি। নিজের ধারা ভেঙে অন্য আঙ্গিকের প্লটকে তার গল্পে এনে ঢেলে পরিপূর্ণ বিশুদ্ধ একটা উপন্যাস আমাদের উপহার দিয়েছেন।সাহিত্য অঙ্গনে ফেসবুকীয় লেখিকাদের যে দৃপ্ত পদচারণা শুরু হয়েছে হাজারো সমালোচকের সম্মুখ জবাবের দলীল গুলোর মধ্যে জান্নাতুল নাইমার মিশিবিবিও মনে হয় তার মাঝে একটা হবে। মূলত "মিশিবিবি" বাস্তবভিত্তিক সুন্দর একটি নারী কেন্দ্রীক উপন্যাস। যেখানে নারীদের একদম ভেতরের কষ্টটা টেনে হিচড়ে বের করে দেখানো হয়েছে। ইংরেজদের নগ্ন নিষ্ঠুরতা, শোষণ, নির্যাতনের পরিক্রমায় এক বিপ্লবীর হাত ধরে কিভাবে পরিবানু তথা মিশিবিবি স্বার্থপর বাস্তবতার দেখা পায়। বিরহের বৈশ্বানরে জ্বলে জ্বলে নতুন পরিচয় কিভাবে গড়ে তুলে চমৎকার এই ন্যাকামো মুক্ত উপন্যাসে তাই দেখানো হয়েছে। সুন্দর সাবলীল আফসোসের ভাষায় সমাজের প্রতিবন্ধি নিয়মের প্রতি ব্যাঙ্গাত্মক বাক্য ছুড়ে দিচ্ছিলেন যেন লেখিকা গল্পের মধ্যদিয়ে। এক্ষেত্রে লেখিকার বুদ্ধির তারিফ করতে হয় বটে। সুকৌশলে তিনি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কিছু নিয়মের দরজায় করাঘাত করে গেছেন সুচারুভাবে। বিশেষকরে মনে দাগকাটা কিছু সংলাপ- "বেশ্যাদের পুরুষ বাচক শব্দ কি" "পুরুষ নারীকে ছুলে নারী যদি বেশ্যা হয় তবে যে পুরুষ অনৈতিক ভাবে নারীকে স্পর্শ করে তাঁরা কেন বেশ্যা তকমা পায় না?" সবচেয়ে চুম্বকীয় একটা লাইন, যে লাইনটা পড়ে ঘুণে ধরা অর্ধমৃত সমাজের কঙ্কালসার বিকৃত দেহের উপর আক্ষেপের অগ্নিবর্ষণ করে বলা হয় - " কি অদ্ভুত এই দুনিয়া, যাদের কারণে নারীরা বেশ্যা হয় তাদেরই ঘৃণ্য কোনো তকমা নেই।" অসাধারণ যন্ত্রনায় মোড়ানো এক চাপা আর্তনাদ যেন সাবলীল ভাবে প্রকাশ করেছেন লেখিকা। বিদ্রোহীর প্রেম পূজারিণী কিশোরী মিশিবিবি অনলের দহনে জ্বলে জ্বলে সদ্য যুবতি হয়ে যখন বিচ্ছেদের আগুনে পুড়ে, এরপর তাঁরা কি আবার এক হয়? পরে ঠিক কি ঘটেছিলো তাঁদের সাথে... এসব বিস্তারিত জানতে বইটা অবশ্যই পড়তে হবে। ▪️পারসোনাল রেটিং : ৪.৬/৫ এক নজরেঃ ▪️বই: মিশিবিবি ▪️লেখক: জান্নাতুল নাঈমা ▪️প্রকাশনী: বর্ণলিপি প্রকাশনী ▪️প্রচ্ছদ: সাদিতউজ্জামান ▪️মুদ্রিত মূল্য: ৫৬০ টাকা ▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২৩৭ টি ▪️প্রকাশকাল: ২০ জুলাই ২০২৩ ▪️জনরা: সামাজিক থ্রিলার ▪️প্রাপ্তিস্হান: প্রগতি ডট কম সহ দেশের প্রতিষ্ঠিত নানা বুকশপ।"
Sakib , Oct 4, 2023
"#মিশিবিবি #পাঠ_অনুভূতি ♦এক নজরেঃ •উপন্যাসের নামঃ মিশিবিবি •লেখকঃ জান্নাতুল নাঈমা •প্রকাশনীঃ বর্ণলিপি প্রকাশনী •প্রচ্ছদঃ সাদিতউজ্জামান •মুদ্রিত মূল্যঃ ৫৬০ •পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৩৭ •প্রকাশকালঃ ২০ জুলাই ২০২৩ লেখনীতেঃ রিফায়াত হাসান সাকিব ♦ভূমিকাঃ আগের মতো অদ্ভুত নিঃসঙ্গতা নিয়ে যখন রাতের আঁধারের দিকে একনাগাড়ে তাকিয়ে থাকা হতো জানালা দিয়ে, তখন বারবার মনে হতো এর মতো সুন্দর কাটানো মুহূর্ত বোধহয় আর কোথাও নেই । কি অদ্ভুত মায়া মায়া লাগার মতো করে আঁধারের এই কালো অন্ধকারকে প্রকৃতি বরণ করে নিয়েছে নিজ আবেগে, সংকোচে বিন্দু মাত্র কিছু না দিয়েই । আমি তাকাতাম, বারবার তাকাতাম । আর অনুভব করতাম এই সৌন্দর্য আমাকে কত অনুভূতির সাক্ষী হতে নিশ্চুপ থাকার আহ্বান জানিয়ে যায় । এখন আর সেই নিঃসঙ্গতা নিয়ে রাতের আঁধারের দিকে একনাগাড়ে মায়া নিয়ে তাকিয়ে থাকা হয় না । অনুভবে কেনো যেনো খুব চোখ বুঁজে আসে । তবুও রাতের আঁধার যেন আমার কাছে কিসের একটা মায়া নিয়ে আসে । যখন রাতের আঁধারে বাঁশির অদ্ভুত সুরের টানে টানে তা কানে ভেসে আসে, তখন যেন মনে হয় অদ্ভুত এক সুর লয়ে ভেসে যাচ্ছে পৃথিবী, নির্ভেজাল চারপাশ আর অদ্ভুতুড়ে এক আকর্ষণ! ♦পারিপার্শ্বিক দিকঃ বেশ কয়েকটি মঙ্গলবার গেল আমার শুধু ভেবে ভেবে । এর মাঝে যেন কয়েকটি দিন গিয়েছিল ঠিক কোন বইটা পড়বো তা ভাবতে ভাবতে । ইদানিং আমার চারপাশেরা আমার ঘুমকাতুরে অভ্যাসটিকে যেন আরো আচ্ছন্ন করে দিয়েছে আবেগ দিয়ে । তাই আজকেও যে বই পড়া হবে তা যেন কয়েকটি ক্ষণ আগেও আমি জানতাম না । কি মনে হলো, বইটি নিয়ে বসে পড়া হলো ঠিক রাত ৮টায় । তাকিয়ে থাকতে থাকতেই এই বইটি পড়তে ইচ্ছে হলো খুব । এবং একটা সময় পরে দেখলাম বইটি পড়াও হয়ে গেল । সময়টা যখন ঠিক রাত ১২টা ৩০ মিনিট । তখন বইটির শেষ পৃষ্ঠাটি উল্টানো হলো আমার । ♦নামকরণঃ প্রতিটি মানুষই একটা একটা করে সময়ের কালক্ষেপণে নিজের সাথে একটা বয়সের সময়ের তারতম্য নিয়ে ঘুরে । বাচ্চা বয়স থেকে মানুষটি কিশোর কিংবা কিশোরী বয়সের হয়ে উঠে । তা থেকে তরুণ-তরুণী বয়সের হয়ে ওঠা মানুষটিই কয়েক বছরের দূরত্বে কিছু অনুভূতিতে নিজেদের যুবক কিংবা যুবতী রূপে নিজেকে দেখতে পায় । এই উপন্যাস একজন নারীর বয়সের বিভিন্ন সময়ের সাথে সাথে নিজেকে নতুন করে চিনে নেওয়ার এক আখ্যান । সেই নারীর কিশোরী কিংবা তরুণী অথবা যুবতী হওয়া ছাপিয়েও মিশিবিবি হয়ে ওঠার এক আখ্যান । মিশিবিবির জীবনের প্রতিটি নিঃশ্বাসে সময়ের টানাপোড়েনে ঘটে যাওয়া প্রতিটি আবহের এক টান যেন চলে আসে উপন্যাসে । এই অদ্ভুত সুন্দর একটি নাম উপন্যাসটিকে তাই ভীষণ ভাবে আকর্ষণীয় করে তুলে । ♦ফ্ল্যাপে লেখাঃ বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে তৎকালীন ভারতবর্ষে জন্ম নেওয়া এক কিশোরীর মনে প্রণয় জাগে তৎকালীন সময়ের এক বিদ্রোহীর প্রতি! তার প্রণয়কে সম্মান জানিয়ে হাত ধরে সেই বিদ্রোহী! কিশোরীটি বিদ্রোহীর হাত আঁকড়ে ধরেছিল অজানা সুখের আশায় ৷ এক বিদ্রোহীর প্রেমে পড়ে সরলা একটি মেয়ে হয়ে উঠেছিল নির্ভীক । সেই নির্ভীকতাই খুলে দেয় তার পতনের দ্বার । আকস্মিক দুই নর-নারী একে অপরের থেকে ছিটকে পড়ে! তৎকালীন ইংরেজ সৈনিকদের কঠিন নির্মমতার শিকার হয় কিশোরী! মুখোমুখি হয় এক স্বার্থেন্বেষী পৃথিবীর! একটি সুন্দর গোলাপ কুঁড়ি প্রস্ফুটন ঘটার আগেই ঝরে পড়তে বাধ্য হয়। এরপর চলে উত্থান-পতনের নানান খেল! সময়ের করাল স্রোতে জন্মলগ্নে পাওয়া আদুরে নামটি বিলীন হয়ে গেলে নতুন উদ্যমে, নতুন নামে; নতুন পরিচয় গড়ে তোলে । মিশিবিবি এক সর্বগ্রাসীর প্রত্যাবর্তনের গল্প । যে গল্পে রয়েছে প্রতিটি পদে পদে নতুন কিছুর স্বাদ । সময় গড়িয়ে কিশোরী মেয়েটি হয়ে ওঠে পূর্ণ যৌবনা নারী । এরপর চলে নতুন মাত্রার খেল! যা থেকে সে উপলব্ধি করতে পারে, ‘সুখ বয়ে আনে দুঃখের বার্তা; সৃষ্টি আভাস দেয় ধ্বংস নিশ্চিত । দুঃখ আসে সুখের আশায়; ধ্বংস হয় সৃষ্টির সম্ভাবনায় ।’ এরপর...? সেই বিদ্রোহীর সঙ্গে কি ফের দেখা হয় কিশোরীর? কী ঘটে তাদের জীবনে? শেষ অবধি কি তারা মিল হতে পেরেছিল? কিশোরী বয়সের প্রণয় কি সুন্দর একটা সমাপ্তি পাবে? জানতে হলে পড়তে হবে প্রাচীনকালের উপাখ্যান মিশ্রিত সামাজিক থ্রিলারের আদলে গড়া “মিশিবিবি” নামের চমৎকার এই উপন্যাসটি । ♦প্রচ্ছদঃ মানুষের প্রতি মানুষের মায়া লাগে কিসে? এই প্রশ্নটি যদি আমাকে করা হয়, আমি বোধহয় তখন বলবো অনেক কারণ থাকলেও প্রথম কারণ তার চোখ । চোখে এমন এমন গভীরতা থাকে, এমন চাহনি থাকে যে মনে হয় যেন ওই চোখ তাকিয়ে থেকে কথা বলে । চোখে একরাশ মায়া লেগে থাকে । চোখের প্রশংসায় যেন তাই কাব্যিক কত অনুভূতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে সর্বত্র । যাহোক এই উপন্যাসেও ঘন কালো গভীরতা দিয়ে ঘেরা আঁখিদ্বয়ে আচ্ছন্ন হতে সময় লাগে না যেন । ওই চোখের মাঝেই যেন লুকিয়ে থাকে কতশত নাম না জানা কত সময়ের ছাপ, টানাপোড়েন । কিংবা থাকে সুখ, আনন্দ আর হাসি । হয়তোবা কিছুটা কান্না, কিছুটা দুঃখের অদ্ভুত নিস্তব্ধতা । ♦চরিত্র বিশ্লেষণঃ •মিশিবিবিঃ ভীষণ উচ্ছল, প্রাণবন্ত স্বভাবের একটি মেয়ে হাসিখুশি ভাবে সবার সাথে মিশতে বেশ পছন্দ করে । হঠাৎ করে তার জীবনে নতুন মাত্রা যোগ দিয়ে বিভিন্ন অনুভূতি চলে আসে । যা তার জীবনে নতুন কিছু মুহূর্ত এনে দেয় । সেই মেয়েটির মিশিবিবি হয়ে ওঠার এক অদ্ভুত আসা-যাওয়ার মাঝের দারুণ এক দুরুহ টান যেন চলে আসে কোথাও একটা । •ইন্দুকুলঃ নিজ জাতির প্রতি ভালোবাসা কিংবা স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা তাকে মানসিক ভাবে এগিয়ে দেয় নিজের দেশকে স্বাধীন করার এক অসাধারণ চিন্তার জন্য । সৎ এবং মুখ ফুটে কথা বলার এক অদ্ভুত সুন্দর শক্তি আছে তার । •হাশিবিবিঃ ধৈর্য ধরে জীবনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেকে চেষ্টা করার পাশাপাশি অপেক্ষা করে যাওয়ার এক অদ্ভুত অনুভব আছে তার মাঝে । বিভিন্ন কষ্ট, সংগ্রাম পেরিয়ে জীবনে এগিয়ে যাওয়ার এক অদম্য চেষ্টা তার প্রতি ভালোলাগা তৈরি করে । ♦টুকিটাকিঃ এছাড়াও এই উপন্যাসে আছেন পাতা বায়ান নামের এক ভালোবাসায় আচ্ছাদিত হওয়া পুরুষ । যে অপেক্ষা করে থাকে কারো তার জীবনে আসার । উপন্যাসে আছে মাজিম নামের একটি চরিত্র । যিনি ধৈর্য ধরে কিছু খোঁজার এক অনুভব উপস্থাপন করেন নিজের মাঝে বারবার । এছাড়াও উপন্যাসে আছে রেণুছা কিংবা বানেছা এর মতো দুটি চরিত্র । যারা দুই রকমের ভিন্ন অনুভব নিয়ে উপন্যাসে ফিরে আসতে থাকে বারবার । ♦প্রিয় চরিত্রঃ এই উপন্যাসে প্রিয় চরিত্র বলতে যা বোঝায় তা নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে একজন নেই । তবে একেক সময়ে একেক জনের জন্য ভালোলাগা কাজ করেছে আমার । হাশিবিবির বিভিন্ন সময়ের অনুভব তার প্রতি ভালোলাগা দিয়েছে । এছাড়াও মিশিবিবির জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে টানাপোড়েন তাকেও প্রিয় করেছে । তাই উপন্যাসের যে মুহূর্তগুলো আমার প্রিয় এবং কাছের সেই মুহূর্তগুলো যে চরিত্রগুলো নিয়ে আচ্ছাদিত, বরং তারাই হয়ে থাকুক আমার প্রিয় চরিত্র । ♦পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ √অনেকগুলো দিন ধরে আমার কোনো বই পড়া হয় না । তাই যখন এই বইটি পড়বো বলে হাতে নিয়েছিলাম বারবার মনেই হয়েছিল এই বইটি কিছুটা তো অবশ্যই আলাদা পটভূমি হিসেবে । সাধারণত পাঠক হিসেবে বিভিন্ন জীবনের গল্প পড়ে নতুন নতুন ধরনের আবেগকে অনুভব করা টের পেতে বেশ লাগে আমার । তাই এই বইটির পড়ার সময়টির জন্যেও বেশ সময় চাচ্ছিলাম আমি । √এই উপন্যাসের পটভূমি বেশ সুন্দর ভাবে বাছাই করা হয়েছে । ইংরেজ শাসনের তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের জীবনের এক সময়ের কালক্ষেপণ এর চিত্র ফুটে উঠেছে পুরো উপন্যাসে । ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু হওয়া তৎকালীন সমাজের এক আখ্যান বয়ে চলে যায় বছরের পরে বছর ধরে । সেই সময়ের এক কিশোরী মেয়ের হঠাৎ করেই ভালোবাসার অনুভবে নতুন করে এক ছুটে চলার গল্পে কারো হাত রেখে এগিয়ে চলার একটি গল্প মিশিবিবি । এই উপন্যাসের পটভূমিতে কষ্ট এসেছে । এসেছে সুখ । তৎকালীন ভারতীয় সমাজের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ইংরেজ শাসনের সময়ে সময়ের টানাপোড়েনের সময় ফুটে উঠেছে উপন্যাসে । কিছু বিশেষ সংস্কৃতি কিংবা কোনো কিছুর সাথে জড়িয়ে পড়ার এক সমাজ গড়ে এসেছে কুসংস্কার এর সাথে সাথে । এসেছে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার এক চেষ্টা । এই পটভূমি তাই বেশ ভালো লাগার মতো ছিল আমার কাছে । সাধারণত এই ধরনের পটভূমিতে কারো নামে উপন্যাসের নামকরণ হলে তখন তা আরো আকর্ষণীয় মনে হয় যেন । তা যেন আরো ভীষণ ভালো লাগা দিয়েছে আমাকে । উপন্যাসের পটভূমি বেশ ভালো ছিল । যার ফলশ্রুতিতে ঘটনাপ্রবাহ দারুণ ভাবে বয়ে গেলেও বিভিন্ন ঘটনার দৃশ্যপট একেবারে সোজা বর্ণনার মতো করে এসেছে । যার জন্য কোনো আবহ সৃষ্টি করার জায়গা কিংবা সুরের কোনো ধাঁচের জায়গায় একটু সামান্য অভাব ছিল বলে আমার মনে হয়েছে । ঘটনাপ্রবাহ এবং দৃশ্যপটে তাই একনাগাড়ে বর্ণনা করে যাওয়ার ব্যাপারটি তাই একদিক থেকে ভীষণ ভালো লাগার হলেও অপর দিক থেকে আবহ সৃষ্টি যেন খুব তৈরি হতে হতেও একেবারে না থাকাই যেন । যে ক্ষেত্রে এই পটভূমিতে তা ধরে রাখা খুব কঠিন একটা বিষয় ছিল । যা বেশ সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । এবং সেদিক থেকে সোজা শব্দ প্রয়োগ করে বর্ণনা করার পাশাপাশি কিছুটা তৎকালীন সমাজে ব্যবহৃত শব্দও ব্যবহার করে তার সাথে খাপ খাওয়ানোর যে চেষ্টা তা বেশ ভালো ছিল । √এই ধরনের উপন্যাসে সাধারণত চরিত্র গঠন বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে হয়ে থাকে । কেননা সাধারণত চরিত্রগুলোর গভীরতা এখানে অনুভবের থেকে ছাড়িয়ে বর্ণনা করার মাধ্যমে বুঝানো হয়ে থাকে । গভীরতা সেক্ষেত্রে একটু কম থাকলেও বর্ণনার দারুণ সুন্দর সাজানোর এক চেষ্টার ফলে তা বেশ ভালো লাগায় । হাশিবিবি চরিত্রের উপস্থিতি বেশ ভালো ছিল এক্ষেত্রে । কিছু কিছু বর্ণনা এবং তার সংলাপ ধারণের কারণে তার উপস্থিতি বেশ সুন্দর ভাবে এসেছে । এছাড়াও দৃশ্যপট এবং পটভূমিকে ভীষণ ভাবে সংযুক্ত রাখার জন্য ইন্দুকুল চরিত্রটিও বেশ দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । তৎকালীন সমাজে অর্থের প্রতি লোভ, কিংবা নিজের ভালো থাকার ইচ্ছা পোষণ করার এক চেষ্টা চরিত্রের উপস্থিতিকে একটা অদ্ভুত সুন্দর ধাঁচ দিয়েছে । ♦প্রিয় অংশঃ এই উপন্যাসের প্রিয় যে বিষয়টি সেটি হলো, উপন্যাসের পটভূমি, এবং সেই পটভূমিকে ঠিক যেভাবে সাজানো হয়েছে তা বেশ ভালো ছিল । সময়ের কালক্ষেপণে সমাজের বয়ে চলা অনুভূতিকে ফুটিয়ে তোলা দারুণ ভাবে দেখানো হয়েছে । বছর কেটে যায়, অনুভূতি চলে আসে কিন্তু মনের মাঝে গড়ে রাখা যে এক টুকরো নির্ভেজাল আবেগ তা যেন ধীরে ধীরে একই রকম রয়ে যায় বছরভর । উপন্যাসের কিছু কিছু মুহূর্তে আমার ভালোলাগার অংশ আছে । কিছু দৃশ্যপট সোজাসাপ্টা ভাবে চলে আসার কারণে আমার এত ভালো লেগেছে তা । বিশেষ করে হাশিবিবির ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখার এক অদ্ভুত সুখ এর সাথে মিশিবিবির জীবনের সুখী হতে চাওয়ার যে মনস্তাত্ত্বিক আচ্ছাদিত আবেগ তা যেন বিশেষ সুন্দর করে দেখানো হয়েছে । একটি মেয়ের ভালোবাসায় নিজেকে পুরোপুরি পূর্ণ করে করে ক্ষয়ে দেয়ার এই গল্পে তাই সবকিছুই যেন ভালো লাগে । এবং এই ভালো লাগায় এক অদ্ভুত সুন্দর নিস্তব্ধতা বিরাজ করতে থাকে সর্বত্র । ♦অন্যান্য বিষয়ঃ √প্রকাশনীঃ প্রকাশনী হিসেবে বর্ণলিপি প্রকাশনী এর বই আমার খুব কম পড়া হয়েছে এখন পর্যন্ত । এই বইটি যেভাবে অদ্ভুত সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে এবং বইটির বাঁধাই করা হয়েছে তা বেশ ভালো লেগেছে আমার । তাছাড়া বইটির প্রচ্ছদ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সুন্দর করে । হাতে নিয়ে ধরতে বেশ লাগে । তবে বইটির প্রথম দিকে সেভাবে টাইপিং মিস্টেক ছিল না থাকলেও তার পরের দিকে সামান্য কিছু টাইপিং মিস্টেক ছিল তবুও তা একেবারেই কম থাকার বইটি পড়তে বেশ ভালোই লেগেছিল । ♦লেখক প্রসঙ্গেঃ ‘মিশিবিবি’ লেখক জান্নাতুল নাঈমা এর প্রথম উপন্যাস । তার লেখা কোনো ফেসবুক গল্প আমি অনেকগুলো না পড়লেও গুটিকয়েক গল্প আমি পড়েছিলাম যে কারণে এই বইটি নেয়ার খুব ইচ্ছে ছিল । তা যেন আরো বেড়ে গিয়েছিল বইটির অংশবিশেষ দেখে । লেখক দারুণ ভাবে একটা পটভূমি বাছাই করার সাথে সাথে তার পাশাপাশি অদ্ভুত ভাবে গল্পটির দৃশ্যপট এবং ঘটনাপ্রবাহ সাজিয়েছেন । যদিও গল্পে আবহের জায়গা খানিকটা কম থাকলেও তা লেখক ভীষণ সহজ এবং সুন্দর শব্দ প্রয়োগ করে বর্ণনা করার পাশাপাশি সংলাপ ধারণে সুন্দর ভাবে খেয়াল করেছেন বলে উপন্যাসটি দারুণ ভাবে এগিয়ে গিয়েছে । যদিও এই সাজানোর দারুণ চেষ্টার জন্য উপন্যাসটি বেশ লেগেছে আমার । এছাড়াও লেখক পরিস্থিতি অনুযায়ী ইতিহাসকে দারুণ ভাবে সাজিয়েছেন ।লেখক জান্নাতুল নাঈমা এর পরবর্তী লেখার জন্য শুভকামনা রইলো । ♦রেটিংঃ ৪.৬/৫ ♦উপসংহারঃ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে এখন মনে হলো এই শহরের রাতের নিস্তব্ধতাও বেশ মায়াবী । বেশ সুন্দর । আসলে প্রকৃতি সবসময়ই এক নিস্তব্ধতাকে নিজের জন্য সাক্ষী করে রাখে । যেন ওই নিস্তব্ধতাকেই আমরা অনুভব করে প্রকৃতির প্রতি মায়া বাড়িয়ে মজে যেতে পারি । আর কে না চায় তার প্রতি আমাদের মায়া হোক । জগতে মায়ার মতো আকর্ষণ খুব কমই আছে । আর তা যদি হয় প্রকৃতির প্রতি মায়া তাহলে তো কথাই নেই । হালকা ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা অনুভবে একটু বৃষ্টির ফোঁটা যেন সবকিছুকে আরো শান্ত করে দেয় ।"
Meher Afroz , Aug 6, 2023
"রিভিউ #মিশিবিবি (বই) #জান্নাতুল_নাইমা এই পর্যন্ত নাইমাপু ফেবুতে লেখা গল্প নিয়ে অনেকেরই অনেক অলোচনা-সমালোচনা দেখেছিলাম।অনেকের অভিযোগ ম্যাচিউরিটি হী'ন নাইকা ও স্বৈরা'চারী নায়ক থিম নিয়ে উনার গল্প হয়। উনার গল্পে আমি সব ধরনের স্বাধ পেয়েছি।রুদ্র, হ্যাভেন, ইমনের মতো যেমন রা'গী, ব'দ'মেজাজি, অ'ধৈর্য্য পুরুষ চরিত্র তৈরী করেছেন।তেমন উনার সৃষ্ট প্রণয়, মাহের, নির্মল।শান্ত, ধৈর্য্যশীল, নিস্বার্থ প্রেমিক পুরুষ। তবে আমার বিশ্বাস নাইমাপুর লেখা "মিশিবিবি" বইটা পড়লে, সবার সব অভি'যোগে উবে যাবে।একেবারে ভিন্ন রকম কাহিনি নিয়ে লেখা।এমন ধাঁচের গল্প আগে কখনো পড়া হয়নি।সম্পূর্ণ বাস্তবধর্মী, ন্যা'কামো বিহীন, কিঞ্চিৎ অ'শ্লীলতার ছিটেফোঁটা নেই বইটাতে।প্রণয়, বি'রহ, বি'চ্ছেদ, অপেক্ষা, পুণর্মিলন, মায়ের মততা, স্বার্থ'পরদের নি'ষ্ঠু'রতা সব মিলিয়ে এক অনন্য সৃষ্টি "মিশিবিবি"। ফ্ল্যাপঃ তৎকালীন ভারতবর্ষে জন্ম নেওয়া এক কিশোরীর মনে প্রণয় জাগে তৎকালীন সময়ের এক বি'দ্রো'হীর প্রতি! তার প্রণয়কে সম্মান জানিয়ে হাত ধরে সেই বি'দ্রো'হী! কিশোরীটি বি'দ্রো'হীর হাত আঁকড়ে ধরেছিল অজানা সুখের আশায়৷ এক বি'দ্রো'হীর প্রেমে পড়ে সরলা একটি মেয়ে হয়ে উঠেছিল নির্ভীক। সেই নির্ভীকতাই খুলে দেয় তার প'ত'নের দ্বার। আক'স্মিক দুই নর-নারী একে অপরের থেকে ছি'ট'কে পড়ে! তৎকালীন ইংরেজ সৈনিকদের ক'ঠি'ন নি'র্ম'মতার শি'কা'র হয় কিশোরী! মুখোমুখি হয় এক স্বা'র্থে'ন্বেষী পৃথিবীর! একটি সুন্দর গোলাপ কুঁড়ি প্রস্ফুটন ঘটার আগেই ঝ'ড়ে পড়তে বাধ্য হয়। এরপর চলে উ'ত্থা'ন-প'ত'নের নানান খেল! সময়ের করাল স্রোতে জন্মলগ্নে পাওয়া আদুরে নামটি বি'লীন হয়ে গেলে নতুন উদ্যমে, নতুন নামে নতুন পরিচয় গড়ে তোলে। মিশিবিবি এক সর্ব'গ্রা'সী'র প্রত্যাবর্তনের গল্প। যে গল্পে রয়েছে প্রতিটি পদে পদে নতুন কিছুর স্বাদ। সময় গড়িয়ে কিশোরী মেয়েটি হয়ে ওঠে পূর্ণ যৌবনা নারী। এরপর চলে নতুন মাত্রার খেল! যা থেকে সে উপলব্ধি করতে পারে, 'সুখ বয়ে আনে দুঃ'খের বার্তা; সৃষ্টি আভাস দেয় ধ্বং'স নিশ্চিত। দুঃ'খ আসে সুখের আশায়; ধ্বং'স হয় সৃষ্টির সম্ভাবনায় ভালোলাগা অংশঃ ' পোলা মানুষ বাইরাই গেলে হয় বাদশা। মাইয়্যা মানুষ বাইরাই গেলে হয় বে*শ্যা। ' ইন্দুকুল স্তব্ধ চোখে তাকিয়ে। মামার কথিত বাক্যে তার মস্তিষ্কে চট করে প্রশ্ন জাগল, মেয়েরা পুরুষদের অ'বৈধ সংস্পর্শ পেলেই বে*শ্যা তকমা পায়। তাহলে যে পুরুষরা অনৈতিকভাবে মেয়েদেরকে স্পর্শ করে। সে পুরুষরা কেন বে*শ্যা তকমা পায় না? পুনরায় ভাবে, বে*শ্যার পুরুষবাচক শব্দ কী? এমন প্রশ্ন মস্তিষ্কে জাগ্রত হওয়ার পর মুহুর্তেই সহসা মনে পড়ে, তার শিক্ষা গুরু বলেছিলেন, বে*শ্যা শব্দটি এসেছে বৈশ্য শব্দ থেকে। বর্ণপ্রথার কালে হিন্দু ব্যবসায়ী শ্রেণীকে বলা হতো বৈশ্য। সেখান থেকে বিকোনো অর্থে এসেছে বাংলা বেশ্যা শব্দটি। কালের পরিক্রমায় শব্দটির একক-একমুখী অর্থ নির্মিত হয়েছে। বে*শ্যা একটি স্ত্রীবাচক শব্দ। এর কোনো পুরুষবাচক শব্দ নেই। ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলে ইন্দুকুল৷ মনে মনে বলে, 'কী অদ্ভুত এই দুনিয়া। যাদের কারণে নারীরা বে*শ্যা হয় তাদেরই ঘৃ'ণ্য কোনো তকমা নেই! ' #মিশিবিবি #জান্নাতুল_নাঈমা 💝প্রিয় চরিত্রঃ হাশিবিবি:কিছু সম্পর্ক থাকে আত্নার।মিশির সাথে এই চরিত্রের সম্পর্কটা ঠিক তেমনই।চিরকাল মনে থাকবে হাশিবিবিকে। 👿অ'প্রিয় চরিত্রঃ বনেছা:কিছু মানুষ অকারণেই অন্যের সুখ সহ্য করতে পারে না৷এই চরিত্রটাও তেমন।পারলে বইয়ের মধ্যে ডুকে এটারে কা'ই'ট্টা লবণ ম'রিচ দিতাম।লেখিকার কাছে অভি'যোগ রইলো, কেন এটারে তিল তিল করে য'ন্ত্র'ণা দেয় নাই।গল্প জগতের আমার কাছে চির ঘৃ'ণ্য চরিত্র। এর বেশি বিশ্লেষণ করলে স্প'য়'লার হতে পারে।তবে বললো "মিশিবিবি" মনে থাকবে চিরকাল।"
880****852 , Aug 2, 2023
"#পাঠপ্রতিক্রিয়া #বই:#মিশিবিবি #লেখক_জান্নাতুল_নাঈমা প্রথমেই বলতে চাই বইয়ের উৎসর্গ নিয়ে, জানি না কেউ কখনো কোনো বইয়ের রিভিউ এ উৎসর্গ নিয়ে কিছু বলে কিনা,তবে এই বইয়ের উৎসর্গ পাতা পড়ে আমি দুলাইন না বললে সস্তি পাবো না,, কারন এই পাতাটা আমাকে প্রথমেই ইমোশন করে দিয়েছে,,লেখিকা বইটা এমন একজনের নামে উৎসর্গ করেছে যে নামটা প্রতিটা মানুষের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং মাথার উপরে বটবৃক্ষের মতো ,,,আর আমিও আমার জীবনে সেই নামক মানুষ টাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি,, মূল অংশ: একজন সদ্য কলি হয়ে ওঠা এক কিশোরীর প্রথম প্রনয়ের সূচনা হয় একজন উদাসীন ভবঘুরে যুবকের প্রতি,এটাই হয়তো কিশোরীর জীবনের চরম ভুল বা পরম পাওয়া,, অবুঝ কিশোরী হয়তো এই প্রনয়ের সূচনা করেই নিজের নিয়তিকে এতোটা নিষ্ঠুর করে তুলেছিলো,, আর সেই প্রনয়কে প্রশ্রয় দিয়ে তার পরিনতি আরো নির্মম করে তুলেছিলো সেই ভবঘুরে যুবক,যদিও এখানে পুরোপুরি যুবকের দোষ আমি দিতে পারি না তবুও তাকে নির্দোষ বলতে পারবো না কখনোই ,, গল্পের মূল চরিত্র:লেখিকা পরিবানু আর ইন্দুকুল দুজনের চরিত্রটাই সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে ,, ঠিক যেন বাস্তবিক কোনো ঘটনা চোখের সামনে ঘটছে এমন ভাবেই ফুটেছিলো চরিত্র দুটো,, ইন্দুকুল এর জন্য পরিবানুর মায়া দরদ সবকিছুই ছিল আকর্ষণীয়,,যেটা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব শুধু অনুভব করতে হয়, জানি না ইন্দুকুল সত্যিই সেটা অনুভব করতে পেরেছিলো কি না,, ইন্দুকুলের অনুভূতি নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে তাই সেটা সম্পর্কে কিছু বলতে পারলাম না,, গল্পের আকর্ষণীয় চরিত্র: এই গল্পটা এমন একটা প্লটে সাজানো যে সেটা পড়তে পড়তে কখন কোন দিকে মোড় নিয়েছে সেটা নিয়ে আমি নিজেও কনফিউজড,তবে হ্যা তার জন্য কিন্তু গল্পের সৌন্দর্য একটুও নষ্ট হয়নি বরং আরো বৃদ্ধি পেয়েছে যেটা আমার মনে হয়,, ঠিক তেমনি পরিবানু যে কিনা গল্পের অন্যতম চরিত্র ছিল সেখান থেকেই আমরা পৌঁছে গেছি হাসিবিবির কাছে,, আমার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র ছিল হাসিবিবি তাকে যত পড়েছি ততই মুগ্ধ হয়েছি এরপর হাসিবিবি জন্ম দিলো এক মিশিবিবির,,হ্যা জন্মই তো শুধু কি পেটে ধরলেই জন্ম দেওয়া হয়? হয়না! আত্মার জন্ম বড় জন্ম,,যে সম্পর্ক আত্মা থেকে হয় সে সম্পর্ক কখনো ধংস হয় না তার জলন্ত প্রমাণ হাসিবিবি মিশিবিবি,, কখনো ভুলার মতো নয় এই আত্মিক সম্পর্ককে,, গল্পের মধ্যে আরো অনেক বংশীয়,, জন্ম সূত্র সম্পর্ক রয়েছে কিন্তু এই চরিত্র দুটোর মতো আকর্ষণীয় একটাও নেই,,,, লেখিকা তুমি বলেছো মিশিবিবি চরিত্র তোমার সৃষ্ট এবং পাঠকের পঠিত এক শোকের নাম,যা কখনো বিলীন হবে না,, কিন্তু আমি বলবো হাসিবিবি মিশিবিবি তোমার সৃষ্ট আর পাঠকের পঠিত এক ভালোবাসার নাম যা কখনো বিলীন হবে না,,, নিজস্ব মতামত: যেহেতু মিশিবিবি বইটা ইংরেজদের আমলের ঘটনা কেন্দ্রীক সেহেতু এই বইটা পড়লে আমরা ইতিহাস সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারবো যা আমাদের অনেকেরই অজানা ,, আমার কাছে মনে হয়েছে বইটাই অনেক শিক্ষানীয় বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা রয়েছে,,, যেমন অল্প বয়সের আবেগ কে প্রশ্রয় দিলে তার ফলাফল কিরুপ হতে পারে,,, ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত না নিয়ে হুটহাট সিদ্ধান্ত আমাদের উপর কিভাবে বিপদ ডেকে আনতে পারে, লোভ মানুষের কতটা ক্ষতি করতে পারে ইত্যাদি নানা বিষয়েই শিক্ষনীয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে,,, বিঃদ্রঃ জানি না কতটুকু গুছিয়ে লিখতে পেরেছি,, আসলে শেষের কয়েক পাতা পড়ে আমি বাকরুদ্ধ অনুভূতি শূন্য,,যা আমাকে হয়তো বিগত কয়েক দিন ঠিক মতো ঘুমুতে দেবে না ,,তাই ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার আবদার রইলো 🥹🥹 ভালোবাসা Jannatul Naiyma এতো আবেগী এতটা বিনয়ী একটা গল্প উপহার দেওয়ার জন্য 🥺"
Kazi Arfina Hoque , Jul 27, 2023
"লেখিকার লিখনি সত্যিই বেশ সুন্দর। ফেইসবুকের গল্প গুলো অসাধারণ তাসুন্দর লিখেন। সেখান থেকেই গল্প পড়া তার লেখা। সুন্দর লিখনির সুন্দর বই মিসিবিবি। দু দেশে মিলে লেখা। খুব সুন্দর। তার দুটো ইবুক বই ও খুব জনপ্রিয়। অসাধারণ তার লিখনি"
Spm N R , Jul 26, 2023
"সেরা বই নাঈমা আপুর। আমাদের টাঙ্গাইলের গর্ব 🤗🤗🤩🤩"
Md Janangir Hossain , Jul 25, 2023
"অসাধারণ একটি বই। বর্তমান সময়ের পাঠকদের জন্য দারুণ কিছু। নীবন লেখক ভারতবর্ষ নিয়ে লেখার সাহস করেছে এজন্য আলাদাভাবে প্রশংসার দাবিদার 👍"
musa.me3996@gmail.com , Jul 6, 2023
"ফেসবুকে বেশকিছু গল্প পড়েছি,লেখিকার লেখার হাত ভালো মনে হয়েছে। সাথে এই বই এর পান্ডুলিপি পড়ার সুযোগ হয়েছে,ব্যাক্তিগত ভাবে অনেক ভালো লেগেছে। বলতে পারি সবার পছন্দের একটা উপন্যাস হতে যাচ্ছে।"
8801851877642 , Jul 4, 2023
"ফেসকুবে থেকে রেখিকার সাথে পরিচয় তার লিখা প্রতিটা গল্প অম্ভব সুন্দর মিশিবিবি একটি সুন্দর বই পেতে যাচ্ছি আমরা এটা আমি সিয়র❤️ বাকি রিভিউ বই পড়ার পর দিবো❤️"
Saida Eftia , Jul 4, 2023
"ভীষণ ভালো একটি বই🥹🫶"
Md Liakot Hossain , Jul 4, 2023
"লেখিকার বাইজি কন্যা উপন্যাস পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম। এরপর তার আরো দু'চারটা উপন্যাস পড়েছি। সেখানে লেখিকার শব্দ মালা গাথার কৌশল দেখে অভিভূত হয়েছি। লেখিকার প্রকাশিত ই-বুক গুলো পাঠক সমাজে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সারা ফেলেছে। মিশিবিবি তার লেখা প্রথম বই। বইটার জন্য বইপড়ুয়াদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করেছি। আমিও ইতোমধ্যে বইটা অর্ডার করে ফেলেছি। মিশিবিবি পাঠের মাধ্যমে নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করব বলে অপেক্ষায় আছি।"
Shawon Khan , Jul 4, 2023
"ফ্ল্যাপ পড়েই মনকে শান্ত করতে পরছিনা, কবে যে বই হাতে পাব।"
Zabed Khan Abu Bakar , Jul 4, 2023
"জান্নাতুল নাঈমার লেখা মানেই সুন্দর কিছু। যা বাইজি কন্যা থেকে বুঝা যায়। মিশিবিবি যে আরও জোশ কিছু হতে যাচ্ছে তা বেশ করে টের পাচ্ছি। শুভকামনা রইল।"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
1 টিবইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটির প্রকাশনীর নাম কী?
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"মিশিবিবি" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: