১ম সংস্করণ, ২০২৩
খালিদ
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
৬ ভলিউমে ১০ খন্ড সহীহুল বুখারী শরীফ
জননী বুক ডিপো
তাকরিরে তিরমিযী
মুফতি মো. সাইফুল ইসলাম
হিফজ শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্য বই
মাওলানা আনিসুর রহমান
এসো আরবি শিখি বাংলা - প্রথম খণ্ড
মাওলানা আবু তাহের মেছবাহ
বেহেশতি জেওর (মাসায়েল অংশ)
حكيم الامت مولانا اشرف علي تهانوي رح ( হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.)
সহজ তাজবিদ শিক্ষা (কায়দা-আমপারা)
কওমী লাইব্রেরী
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | খালিদ |
| Author | রবিউল করিম মৃদুল |
| Publisher | নালন্দা |
| Edition | ১ম সংস্করণ, ২০২৩ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 424 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | ইসলামি বই |
| Weight | 0.63 Kg |
| ISBN | 978-984-96992-7-9 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
11 Ratings and 11 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
১১টি
Shifat Nur Tohfa , Jan 16, 2025
"দারুন একটা বই।একবারের জন্য ও বিরক্ত লাগেনি।"
Md. Ebrahim Hossain , Jul 31, 2024
"চমৎকার একটা বই। মহাবীর খালিদ বিন ওয়ালিদ সম্পর্কে জানা ছিলো না তেমন কিছুই৷ এই বইয়ের মাধ্যমে অজানা অনেক তথ্য জানা গেল। যুদ্ধের বর্ননাগুলো লেখক এতো সুন্দরভাবে লিখেছেন... মনে হচ্ছিলো চোখ বন্ধ কিরে সেগুলো দেখতে পাচ্ছি!!! এছাড়া উকাজ মেলা, হজ্জ, হুদায়বিয়ার সন্ধি.... ইতিহাসের অনেক অজানা তথ্য মিলবে এই বইয়ে। খালিদ এর দ্বিতীয় পার্টের অপেক্ষায় আছি।"
Md.nabin , Feb 1, 2024
"স্যারের লেখা পড়লে,,,, আমি হারিয়ে যায়। অনেক ভালো লাগে স্যারের লেখা। সব গুলো বই পড়া শেষ আপনার। খালিদ,,, টা অন্য রকম এক ফিল।"
Leeon Haque , Dec 21, 2023
"অসম্ভব ভালো একটা বই। খুব পছন্দের।"
Masum , Feb 25, 2023
""পড়ে শেষ করলাম আমার শিক্ষক, কথাসাহিত্যিক রবিউল করিম মৃদুলের নতুন উপন্যাস খালিদ: ব্লাড.ওয়ার. অনার। ইতিপূর্বে কখনো রিভিউ লেখা হয়নি সেভাবে। সুতরাং এটাকেও ঠিক রিভিউ বলা যাবে কি না, আমি জানি না। বইটা শেষ করে তাৎক্ষণিক কিছু প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে ভেতরে, সেগুলোই একটু শেয়ার করার তাগিদ বোধ করছি। খালিদ উপন্যাসটা মহান যোদ্ধা সাহাবী খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা)-এর জীবনের ওপর ভিত্তি করে রচনা করা একটা ঐতিহাসিক উপন্যাস। বৃহৎ কলেবরের এ উপন্যাসে একাধারে এসেছে আরবের তৎকালীন সমাজ জীবনের প্রতিচ্ছবি, মক্কার মানুষ ও সমাজ, আরবের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতি, সর্বোপরি কেন্দ্রিয় চরিত্র খালিদ ইবনে ওয়ালিদের অবিস্মরণীয় যুদ্ধ জীবন। পড়তে শুরু করে আমার কাছে মনে হয়েছে, বিশাল একটা চলচ্চিত্র যেন দেখতে বসেছি। যেখানে চরিত্র হিসেবে আছেন ইসলামের ইতিহাসের বিখ্যাত সব ব্যক্তিবর্গ। হযরত আবু বকর, ওমর, উসমান, আলী, আবু জাহেল, আবু লাহাব, আবু সুফিয়ান, তার স্ত্রী হিন্দা, কে নেই উপস্থিত! আছেন স্বয়ং মহানবী (সা) নিজেও। দ্য ম্যাসেজ চলচ্চিত্রে মহানবীর উপস্থিতি দেখা হয়েছে ক্যামেরার পিওভি থেকে। যা দেখে বোঝা গেছে, সামনে কোনো তিনি আছেন। কিন্তু এখানে তাকে যেভাবে লেখা হয়েছে, যেভাবে তাঁর সাথে চরিত্রগুলো কথোপকথন হচ্ছে, আমার কাছে মনে হলো তাঁকে যেন চোখের সামনে দেখতে পেলাম। খালিদের প্লট এত বিশাল, এত এত সব গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র যে, কী রেখে কী লিখব, বুঝতে পারছি না। কাজেই সেদিকে না গিয়ে জাস্ট দুয়েকটা বিষয়ে একটু বলতে চাই। ইসলাম পূর্ব আরবে কন্যা সন্তান হত্যা করার কথা এতদিন শুনে এসেছি। কিন্তু তার প্রকৃত স্বরূপ যে ঠিক কেমন, তা এই প্রথম যেন চোখের সামনে দেখতে পেলাম। ও মাই গড! এ কী পড়লাম আমি। রোকাইয়া আর তার বাবা কায়েসের অংশটুকু পড়ে কিছুতেই যেন স্থির হয়ে বসতে পারছিলাম না। এমনও হয় মানুষ? কীভাবে সম্ভব? একজন বাবা কথা বলতে বলতে তার ফুটফটে মেয়েকে শুধু নিজের জিদ ও গোত্রীয় আভিজাত্য টিকিয়ে রাখতে এইভাবে নিজ হাতে মারতে পারে? এ দৃশ্য সহ্য করা সম্ভব হচ্ছিল না কিছুতেই। চোখের পানি কোনোভাবেই বাধ মানছিল না। লিটারেলি ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেছি আমি। আবার কেঁদেছি শেষ দিকে এসে, খালিদ যখন তার কৃত সব অপরাধ একটা একটা করে উচ্চারণ করে আত্মসমর্পন করছিল মহানবীর সামনে, চোখের পানি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। খন্দকের যুদ্ধের অচলাবস্থা থেকে মুক্তির জন্য মহানবী (সা) যে কৌশল নিয়েছিলেন, তা রীতিমত মুগ্ধ করেছে। সালমান ফারসীর পরামর্শ মতো খন্দক খনন করে শহর রক্ষার আইডিয়াটাও ছিল অসাধারণ। পড়ছিলাম আর ভাবছিলাম, এই উপন্যাসটাকে যদি চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়া যায়, তো কেমন হবে দেখতে। আমার ধারণা যুদ্ধভিত্তিক যত সিরিয়াল-সিরিজ আছে, সবকিছুকে ছাপিয়ে যাবে এটা। আমার ধারণা এ বছরের সবচেয়ে সেরা বইটা পড়ে শেষ করলাম। গল্প-উপন্যাস তো বহু পড়া হয়েছে, আরো বহু পড়া হবে সামনে, কিন্তু খালিদ যে মুগ্ধতা দিয়ে গেল, সে ঘোর লাগিয়ে গেল, ঐতিহাসিক উপন্যাসের যে বিস্তৃত অনুভব দিয়ে গেল, তা বোধহয় লাইফ টাইম এক্সপেরিয়েন্স। বাংলা সাহিত্যে বহু বড় বড়, বিখ্যাত সব উপন্যাস আছে, কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে, খালিদ যেন সকল হিসেবের বাইরে অন্য একটা কিছু। এই কিছুটা যে ঠিক কী, তা আমি জানি না। বলতে পারছি না। বড়বড় সাহিত্য বোদ্ধাগণ হয়ত সেই বিচার করতে পারবেন। তবে আমার মতে, আমি আমার ২৬ বছরের জীবনে এমন কোনো গল্পের বই এর আগ পর্যন্ত পড়িনি। হয়তো এটা আমারই সীমাবদ্ধতা।""
Tanmoy Deb , Feb 25, 2023
"এ মাস্ট রিড উপন্যাস। অসাধারণ লাগল পড়তে। ইসলামিক ঘরানার গল্প হলেও উপন্যাস হিসেবে একটুও খামতি নেই। দারুণ উপভোগ করেছি। ইসলামের ইতিহাস নিয়ে খুব বেশি জানাশোনা ছিল না আমার। এই বইটা পড়তে গিয়ে অনেক কিছু নতুন করে জানলাম। অনেক প্রশ্নেরই উত্তর মিলল। পরের পর্বের জন্য অপেক্ষা থাকবে।"
Robel Mia , Feb 24, 2023
""আসসালামু আলাইকুম অনেক দিন ধরেই স্বপ্ন ছিল ইসলামিক কিছু বই সংগ্রহ করব কিন্তু সে স্বপ্ন যে পূরন হবে একটা মোটা উপন্যাস দিয়ে তা কল্পনার বাইরে ছিল (প্রায় ৪২৪ পৃষ্ঠা ) বলে রাখা ভালো এই প্রথম আমি সিলেবাসের বাইরে বা ক্লাস রিলেটেড বইয়ের বাইরে গিয়ে একটা বই সংগ্রহ করেছি। বইটির নাম : খালিদ। ব্লাড. ওয়ার. অনার লেখক : রবিউল করিম মৃদুল সম্পর্কে উনি আমাদের শিক্ষক। স্যারকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ দিয়ে বইটা পড়ে কি অনুভূতি হয়েছে সেদিকে চলে যাই। কিছুদিন আগে বইটা সংগ্রহ করি। আস্তে আস্তে পড়তে শুরু করি কিন্তু শুরুর ১৫-২০ পৃষ্ঠা পড়েই আমি একপ্রকার ভেঙে পড়ি কিছু ট্রাজেডি ঘটনার জন্য। কারন, এই বইটা সত্য ঘটনা নিয়ে তৈরি। খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা:) কে কেন্দ্র করে এখানে আমাদের নবি হযরত মোহাম্মদ (সা:), হামজা (রা:), আবুবকর (রা:), উমর (রা:), আলি (রা:) আরও অনেক বীরশ্রেষ্ঠ সাহাবী উপস্থিত ছিলেন। তেমনি ছিলেন ইসলামের বড় বড় শত্রুরাও। আবু জাহেল থেকে ধরে অনেকে। খালিদ ও ইসলামের বড় শত্রু ছিলেন বিভিন্ন ধাপে ধাপে গিয়ে নিজের ভূল বুঝতে পেরে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন। এইসকল মহান মানুষদের মাঝে হারিয়ে গিয়েছিলাম এই কয়েকটি দিন। সবকিছু মনে হচ্ছিল আমার সামনে হচ্ছে। দুনিয়ার কিছুই আমার মনে ধরছিল না তেমন ভাবে। শুধু মনোযোগ ছিল তা এই বইটার উপর। ইসলাম কত কষ্টের পর এসেছে তা আর বুঝার বাকি রইল না। এই বইয়ের প্রতিটা শব্দ আমার মন ছুয়ে গেছে। তার মধ্যে আমায় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়গুলো আকর্ষন করেছে তা বলতে গেলে লিখা অনেক বড় হয়ে যাবে তাই আমি পৃষ্ঠা গুলো নোট করে রেখেছি। কেউ চাইলে চোখ বুলিয়ে দেখে নিতে পারেন। (17,18, 21,24, 36, 74, 130, 132, 151, 161,172, 248, 289, 365, 412) তাই সবার প্রতি রিকোয়েস্ট থাকবে এই বইটা একবার হলেও পড়া। বইটা শুরুতে মোটা মনে হলেও প্রথম ১৫-২০ পেজ পড়লে আপনি সম্পুর্ন বই যতদিন পড়ে শেষ না করতে পারবেন ঠিকমতো ঘুম হবে না। যেটা আমার ক্ষেত্রে ঘটেছে। স্যারকে অনেক ধন্যবাদ দিই কারন বইটা যাতে করে পাঠক ভালোভাবে বুঝতে ও পড়তে পারে সেজন্য প্রতেকটা চরিত্র কে খুব ভালোভাবে বিশ্লেষণ করেছেন, তারপর ঘটনার গভীরে নিয়ে গিয়েছেন। এজন্য অনেক সহজেই বুঝতে পেরেছি। কিন্তুু খালিদ এর একটি চরিত্রে এসমা নামের এক মেয়ের পরিচয় হয় এই গঠনার শেষ পর্যন্ত কি হয় তা জানার খুব ইচ্ছা মনে নাকি যে পর্যন্ত লেখক বলেছে সে পর্যন্তই তাদের শেষ সাক্ষাৎকার তা আমি অবগত নই যদি থেকে থাকে তা যদি লেখক কোনোভাবে খালিদের দ্বিতীয় অংশে রাখে তাহলে খুব ভালো লাগবে। এসমা এবং খালিদের চরিত্রের শেষে যেভাবে ঘটনার ইতি টানল বিষয়টা অপরিচিতা গল্পের মতো লাগলো। পেয়েও পেলো না আফসোস!!! অবশেষে আবারও সবাইকে বলব যারা পারেন বইটা একবার হলেও পড়েন। আমি অবাক হয়েছি আরেকটি বিষয়ে এত মোটা বই পড়লাম কোনো ক্লান্তি অনুভব হলো না কেন? লেখক কি এমন জাদু জানেন, কারন যে কিনা বই পড়তে বেশি পছন্দ করে না তাকেও হার মানিয়ে দিল। বই পড়ার যে মজা তা এই খালিদ পড়ে পেয়েছি। সামনে এই বই পড়ার যাত্রা বহাল থাকবে ইনশাহআল্লাহ।""
মাকামে মাহমুদ , Feb 24, 2023
"মাস্ট রিড একটি উপন্যাস।"
alamin sharol , Feb 23, 2023
"'আমি পাপী! আমি অন্যায়কারী! আপনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আমি অন্যায় করেছি, অমার্জনীয় পাপ করেছি! বহু রক্তে রাঙিয়েছি এ হাত। আপনার সঙ্গী সাথীদের অনেকের রক্ত ঝরিয়েছি আমি। অনেকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছি। ওহুদের প্রান্তরে শুধু আমার জন্যই অমন বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েছিলেন আপনারা! আমি আপনার সাক্ষাত বিজয়ের ওপর পরাজয়ের বিষ ঢেলে দিয়েছি! হে আল্লাহর বাণীবাহক, শুধু আমারই কারণে আপনার মুখের দাঁত ভেঙেছে সেদিন। আপনি ক্ষত-বিক্ষত হয়ে আঁছড়ে পড়েছেন যুদ্ধের ময়দানে। ঘাতক ইবনে কামিয়াকে আমিই লেলিয়ে দিয়েছি। আপনার পিতৃতুল্য চাচা সিংহশিকারী হামজা! আমি জানতাম, তাকে ওরা মেরে ফেলবে! অথচ আমি সব জেনেও সেদিন চুপ ছিলাম। আপনার মাথার ওপর থেকে হামজার ছায়া মুছে দিয়েছে আমারই নীরবতা। হে আল্লাহর রাসূল, মুসলিমদের ধ্বংস করার জন্য এমন কোনো কাজ নেই যা আমি করিনি। আমাকে কি মাফ করবেন আপনার আল্লাহ? আমাকে কি ঠাঁই দেবেন তাঁর ক্ষমার আশ্রয়ে? হে আল্লাহর বাণীবাহক, আমি আজ লজ্জিত মুখে আহত উটের মতো আপনার সামনে হাজির হয়েছি। আমাকে আপনি হত্যা করুন। আপনার তরবারি দিয়ে আমার মস্তক ছিন্ন করে দিন। আমাকে মুক্তি দিন এই পাপের জীবন থেকে। আমাকে সাজা দিন ৷ যত কঠিন সাজাই হোক, তা আমি মাথা পেতে নেব। আপনি কোনো সাজা না দিলে নিজেকে কখনোই মাফ করতে পারব না আমি। মৃত্যু ছাড়া আমার মুক্তি নেই। হয় আপনি আমাকে হত্যার আদেশ দিন, নয়তো বলুন, নিজেই নিজেকে শেষ করে দেব আমি।' খালিদের কথা শুনে মুখের হাসি আরেকটু বিস্তৃত করে মুহাম্মদ (সা) বললেন, 'তুমি কোন অপরাধের কথা বলছো? আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের নামে স্বাক্ষ্য দেওয়ার পর তো তুমি কোনো অপরাধ করোনি। ইতোপূর্বে যা কিছু করেছো তোমরা, পবিত্র শাহাদাত বাক্য পাঠ করার সাথে সাথে পূর্বের সব অপরাধ মাফ হয়ে গেছে।' খালিদ বিন ওয়ালিদের নাম শুনেনি, দুনিয়ায় এমন মানুষ পাওয়া বিরল। আর যাদের যুদ্ধ, সেনাপতি, যুদ্ধ ময়দান, ঢাল- তলোয়ার, যুদ্ধ কৌশল সম্পর্কে জানাশোনা আছে কিংবা জানার জন্য বই পুস্তক পড়েছে, তাদের কাছে তো খালিদ এমন এক মানুষের নাম, যিনি শুধু মাত্র এক সেনাপতি নন, নন কোন সাধারণ যোদ্ধাও। তিনি অপরাজেয়, ঠিক আমাদের মনে সেই প্রবৃত্তির মতো যাকে ক্ষণিকের জন্য আটকে রাখা যায় মাত্র কিন্তু বেঁধে ফেলা যায় না। যায় না পোষ মানানোও। ছোটবেলা থেকে খালিদের বীরত্বের কথা শুনে আসছি বড়দের মুখে মুখে। গ্রামের ইসলামি ওয়াজ মাহফিলগুলোর একটি বড় অংশজুড়ে থাকে খালিদের অসম্ভব সব বিজয়গাঁথা। তবে বাংলা সাহিত্য অঙ্গন? প্রশ্ন করলেও যা, না করলেও তাই। উত্তর তো নেই আমাদের কাছে। কেন নেই? খালিদের মতো এমন এক চরিত্র নিয়ে কাজ করা হয়নি কেন, এর কৈফিয়ত কার কাছে চাইবো? বাংলা ভাষা? নাকি যারা বাংলা ভাষায় লিখেন? আমি জানি না। মৃদুল ভাইয়ের লেখার সাথে আমার পরিচয় সেই ছোটবেলায়। বয়সেও আমার থেকে চার বছরের বড় হলেও আমরা মিশেছি বন্ধুর মতো। অনেকেই আমাকে ভাইয়ার সেনাপতি বলে। আমি খুশি মনে মেনে নেই। সেই অনেকের কথাতেই কিনা জানিনা, খালিদের জীবনের উপর ভিত্তি করে একটা উপন্যাস লেখার তাগিদ দিচ্ছিলাম ওকে, প্রায় দুই হাজার তের সাল থেকে। অবশেষে ফল মিললো। দুই হাজার তেইশে এসে পেলাম, খালিদ- ব্লাড. ওয়ার. অনার.। প্রকাশিত হয়েছে নালন্দা প্রকাশনী থেকে। মৃদুল ভাইয়ের বই আকারে প্রকাশিত সকল লেখার প্রথম পাঠক আমি। এবং সমালোচকও আমিই। এমন নির্মমভাবে সমালোচনা আমি কখনো আমার নিজের লেখারও করিনি। এমনকি করিনি বাপের টাকা খরচ করে লাম ছাম লিখে বই প্রকাশ করা লেখকের লেখারও। সেই আমার কাছে খালিদ এক অন্যন্য উপন্যাস। যা বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয়। খালিদ উপন্যাসের শক্তিশালী দিক এতো যে, লিখতে গেলে আশি নব্বই পেইজ লেখা যাবে। হয়ে যাবে আস্ত একটা সমালোচনা গ্রন্থ। তবে আমি বিশেষ ভাবে বলবো, ইসলাম পূর্ববর্তী আরবের বর্ণনার কথা। ঐ সময়ের বর্ণনা এতো দারুণ আর বিশ্বাসযোগ্য ভাবে এসেছে যে, পড়তে গিয়ে বার বার আমার বর্তমান সময় নিয়ে মনের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সত্যিই আমি বর্তমানে আছি তো? নাকি বাস করছি জাহিলিয়াতের সেই যুগে। যেখানে গানের তালে তালে, নৃত্যের তালে তালে উন্মোচিত হতে থাকে নারীর কলাবতী ফুলের মতো নরম শরীর। 'তাল বদলাল বীণা বাদকের দল। দফ আর ঢোল হাতের যন্ত্রীরা গতি বাড়াল আরও। এবারে পূর্ণ খাপমুক্ত হলো তরবারি। সূর্যের আলোয় যেমন ঝলকে ওঠে তপ্ত মরুর বালুরাশি, সেইভাবে ঝলকে ঝলকে উঠলো খাপখোলা তরবারির ধার! সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে গেল নৃত্যরত মেয়েরা। শুধু মুখের নেকাব ছাড়া আর কোন বাহুল্য রইলো না কারও গায়ে। কুমারী-যুবতী নারীদের আপাদমস্তক নগ্ন শরীরগুলো অল্প জলে খলবল করতে থাকা মাছেদের মতো ঝিকমিক করতে লাগলো আঙিনাজুড়ে। দেবমূর্তির গা থেকে খসে পড়ল আরও একপাট মখমল। চুড়ান্ত উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল জনতা। বিষ্ময়ে বিমূঢ় তাদের চোখগুলোতে যেন আগুন ধরিয়ে দিয়েছে নৃত্যরত নারীদের নগ্ন দেহের কাব্যকলা। 'হুবলের জয়! উজ্জার জয়" লাত-মানাতের জয়!' সমবেত জনতা জয়োধ্বনি দিয়ে উঠলো। খালিদ পড়তে গিয়ে মনে হচ্ছিলো, আমি এই সময়ের নই। আমিও আরবের ঐতিহাসিক কোন চরিত্র। আমার চোখের সামনেই বাবার অহংবোধের কারণে খুন হচ্ছে, চাঁদের মতো সুন্দর কন্যাশিশু। আমারই চোখের সামনে খরস্রোতা নদীর মতো বয়ে যাচ্ছে আল ওয়ালিদের পুত্র খালিদের জীবন, তার দস্যিপনা, যুদ্ধ, যুদ্ধ কৌশল, জয় আর জয়। খালিদ উপন্যাসের কি কোন নেগেটিভ দিক নেই? অবশ্যই আছে। খালিদের নেগেটিভ দিক খালিদ চরিত্র নিজে। সে যা করে তাই সঠিক মনে হয়। অস্ত্রের আঘাতে ছিন্নভিন্ন করে দেয় মুসলিম সৈন্যের মাথা। সেটাকেও মনে, ঠিকই আছে। খালিদের শৌর্যবীর্যের কাছে কার সাধ্য আছে যে দাঁড়ায়। এমনকি মহানবীর বিপক্ষে জয়কেও মনে হয়, কোথাও ভুল নেই, কোথাও গড়মিল নেই। সাইফুল্লাহ হওয়ার জন্য এমন হওয়া দরকারই ছিলো। খালিদ- ব্লাড. ওয়ার. অনার. এখন পর্যন্ত গত কয়েক বইমেলায় প্রকাশিত আমার পড়া বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এর কোন তুলনা দিতে চাইনা। দিতে চাইনা শ্রেষ্ঠত্বের তকমাও। তবে এটা আমার ভবিষ্যতে পড়া ঐতিহাসিক উপন্যাসের মানদন্ড হয়ে থাকবে।"
মাহবুবা মিলি , Feb 23, 2023
"আমার পড়া এ বছরের সবচেয়ে সেরা উপন্যাস! ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা)। তাকে নিয়ে এমন চমৎকার উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে আর লেখা হয়নি। দারুণ উপভোগ করছি প্রতিটি পৃষ্ঠা। সামনে বিস্তারিত লিখব।"
মুকুল মাহমুদ , Feb 23, 2023
"ইতিহাসনির্ভর ফিকশন হিসেবে অসাধারণ। -মামুন হোসাইন"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →
বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"খালিদ" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: