১ম প্রকাশ, ২০২২
জল জাদুকর
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
আঁধারের যুবরাজ
সুস্মিতা জাফর
জাগরণে যায় বিভাবরী
সুস্মিতা জাফর
গল্পকথার কল্পলোকে
সুস্মিতা জাফর
ইথেন এবং রোদ চশমা
সুস্মিতা জাফর
ওগো শুনছো
মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহ
মিসির আলির গল্পমালা
হুমায়ূন আহমেদ
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | জল জাদুকর |
| Author | সুস্মিতা জাফর |
| Publisher | চলন্তিকা |
| Edition | ১ম প্রকাশ, ২০২২ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 160 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | গল্প |
| Weight | 0.35 Kg |
| ISBN | 9789849651093 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
4 Ratings and 4 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
৪টিFarsia Mahmud , Apr 30, 2023
"★বই পরিচিতি: ----------------------- বই: জল জাদুকর লেখক: সুস্মিতা জাফর প্রকাশনী: চলন্তিকা ধরন: গল্প সংকলন গল্পের সংখ্যা: ২৭ টি পৃষ্ঠাসংখ্যা: ১৬০ মুদ্রিত মূল্য: ৩৫০ টাকা ★ নামকরণ ও প্রচ্ছদ: -------------------------------- গল্প সংকলন বইগুলোতে সাধারণত যেকোনো একটি গল্পের নামেই বইয়ের নামকরণ করা হয়। এই বইয়েও ব্যাতিক্রম ঘটেনি।বইয়ের শেষোক্ত গল্পের নামেই এই বইয়ের নামকরণ হয়েছে।জল জাদুকর নামটি বেশ নজরকাড়া এবং অনন্য। প্রচ্ছদেও জল জাদুকর গল্পের মুলভাবটি উপস্থাপিত হয়েছে।লঞ্চডুবিতে ডুবন্ত মানুষদের বাঁচাতে জল জাদুকরের ছুটে যাওয়ার বিষয়টিই মূলত চিত্রিত হয়েছে প্রচ্ছদে। ★কাহিনী সংক্ষেপ ও পাঠ প্রতিক্রিয়া: ------------------------------------------------------- ২৭ টি গল্প নিয়ে জল জাদুকর বইটি গঠিত।সামাজিক, রোমান্টিক, রম্য, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ সবকয়টি ঘরানার গল্প বইয়ে স্থান পেয়েছে।নিম্নে গল্পগুলোর সংক্ষিপ্ত কাহিনী ও নিজ অনুভূতি আলোকপাত করলাম। ◾ প্রতীক্ষা: 🔹এ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র রাওফিয়ার মায়ের হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়াতে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালে মীকাইল নামের এক যুবকের সাথে আলাপ হয় যার আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয় রাওফিয়া।কিন্তু ভালো আচরণ কি শুধুই দুশ্চিন্তাগ্রস্থ একজন মানুষের পাশে থাকা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে এর পিছনে? 🔹লেখক গল্পটির মাধ্যমে সূক্ষ এক বার্তা প্রবেশ করিয়ে দিয়েছেন পাঠকমনে। খারাপ সময়ে কেউ সহানুভূতি প্রকাশ করলে, পাশে এসে দাঁড়ালেই সেই মানুষটি আমাদের প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী নাও হতে পারে। তার সাহায্যর পেছনে থাকতে পারে কোনো সুপ্ত উদ্দেশ্য। 🔹গল্পটি সামাজিক জনরার 🔹রেটিং: ৪.৫/৫ ◾দাগ: 🔹অ্যাবডমিনাল টিউবারকুলোসিস এ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১২ বছর বয়সী অনিল।৫ বছর বয়সেই ক্রোনস ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে কোলোস্টোমি করানো হয়। পায়ুপথে নিয়ন্ত্রণ না থাকায় যখন তখন স্কুলের সাদা শার্টটি হলুদ হয়ে যায়।অনিলের ইচ্ছে একদিন এই দাগ থাকবে না তার শার্টে। ছোট্ট অনিলের স্বপ্ন কি সত্যি হয়েছিল? 🔹এই গল্পটি আমার মনে দাগ কেটেছে ভীষণ। ছোট্ট অনিলের যন্ত্রণা, আক্ষেপ, হাহাকার বক্ষস্থলে চিনচিন ব্যথার সৃষ্টি করেছে। ফুলের মতো নিষ্পাপ শিশুদের এত কষ্ট অসহনীয় লাগে। কিন্তু আমাদের হাতে তো সবকিছু নেই। তাই কষ্ট হলেও অনেককিছু সহ্য করে নিতে হয়, মেনে নিতে হয়। 🔹গল্পটি সামাজিক জনরার 🔹রেটিং: ৫/৫ ◾ অর্পিতা তোমাকেই বলছি: 🔹 অভ্রের নিখাঁদ ভালোবাসার পরও বারবার উপেক্ষা করে অর্পিতা৷ স্কুলে থাকাকালীন আর্য এর সাথে অর্পিতার প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়।কিন্তু অর্পিতার জীবন থেকে আর্য হারিয়ে যায় অপ্রত্যাশিতভাবে। তারপর থেকেই আর্যর স্মৃতিকে আঁকড়ে রয়েছে অর্পিতা এবং অভ্রকেও এড়িয়ে যায় প্রতিনিয়িত। অর্পিতা কি অভ্রর ডাকে সাড়া দিয়েছিল? আর্য কি ফিরে এসেছিল অর্পিতার জীবনে? 🔹অর্পিতার প্রতি খানিক রাগ হয়েছে অভ্রের নিঁখুত ভালোবাসা অগ্রাহ্য করায়। গল্পটি একটি চমৎকার বার্তা দিয়েছে, দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর আমরা বুঝতে পারি মানুষটি ভুল ছিল। তাদের কাছে কোনো মূল্য নেই আমাদের আবেগ, অনুভূতির। জীবন থেকে যারা স্বেচ্ছায় হারিয়ে যায় তাদের জন্য নিজের জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করা অনুচিত। আর যে ভালোবাসার ঝাপি খুলে বসে আছে তার ঝাপিতে ঝাপ দিলে তেমন মন্দ হয় না। 🔹গল্পটি রোমান্টিক জনরার 🔹রেটিং: ৪.৫/৫ ◾মর্নিং গ্লোরি: 🔹 আরমান সাহেবের পুত্র নতুন ফ্ল্যাটে তাকে লাগোয়া বারান্দাসহ দক্ষিণমুখী একটি রুম দিয়েছেন। একাকিত্ব দূর করতে পুত্রবধু দীপাসহ কয়েকটি ফুল গাছ কিনে আনেন কিন্তু সবকয়টি গাছে ফুল ফুটলেও মর্নিং গ্লোরি গাছে ফুল ফোটে না। এরপর থেকে শুরু হয় বৃদ্ধের অপেক্ষা, কবে মর্নিং গ্লোরি গাছে ফুল আসবে! বৃদ্ধের অপেক্ষার অবসান ঘটেছিল কিনা তা জানার জন্য পড়তে হবে মর্নিং গ্লোরি। 🔹আমাদের সমাজের একটি পরিচিত কিন্তু কুৎসিত দৃশ্য, বৃদ্ধ পিতা - মাতাকে সন্তান বোঝা মনে করে এবং ঘাড় থেকে বোঝা দূরীকরণে তারা বৃদ্ধাশ্রমের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু এ গল্পতে লেখক দেখিয়েছেন, সব সন্তান পিতামাতাকে চক্ষুশূল মনে করে না। অযত্নে, অবহেলায় রাখে না। কেউ কেউ ভীষণ যত্নে, ভালোবাসায় রাখেন। সকল পুত্রবধূরাও নেতিবাচক মানসিকতার হয় না। কেউ কেউ দীপার মতো ইতিবাচকও হয়।গল্পের শেষে চমকে উঠেছিলাম। শেষটা এমন হবে কল্পনাতে ও আসেনি। 🔹গল্পটি সামাজিক জনরার 🔹রেটিং : ৪.৫/৫ ◾পলার ডায়েরি: 🔹মুক্তিযুদ্ধের সময়কে কেন্দ্র করেই গল্পটি বর্ণিত।পলা অনিয়মিতভাবে দিনলিপি লিখে রাখে ডায়েরিতে। নিজেদের পরিবারের আতংকগ্রস্থ অবস্থা, আশেপাশের ঘটনা সব উল্লেখিত এই ডায়েরিতে।আশা বুনে দিনযাপন করে একদিন দেশ স্বাধীন হবে।দুই ভাই সগৌরবে ফিরে আসবে আর আবার ওদের বাড়িটা জমজমাট হয়ে যাবে আনন্দ, হই- হুল্লোড়ে। স্বাধীন দেশ দেখার সৌভাগ্য কি পলার হয়েছিল? নাকি হানাদার বাহিনীর রোষানলে ঝলসে গিয়েছিল পলাসহ পরিবারের সব সদস্য? 🔹পলার জায়গায় নিজেকে বসিয়ে বেশিক্ষণ রাখতে পারিনি। কতটা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ, আতংকময় ছিল তৎকালীন অবস্থা, ভাবলেই গা শিউরে ওঠে। মানুষদের উপর অত্যাচারের বর্ণনা পড়ার সময় বুকের ভিতরটা শুকিয়ে গিয়েছিল।তারা যে আমারই দেশের মানুষ।কিভাবে সহ্য করেছিল এত নিপীড়ন, এত যন্ত্রণা, কাছের মানুষদের বিশ্বাসঘাতকতা! প্রেম, ভালোবাসা সকল কিছুর ঊর্ধে গিয়ে মানুষ তখন নিজের প্রাণ বাচাতে তৎপর হয়ে গিয়েছিল। হোক না অসুদপায় অবলম্বন করে, নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কে না চায়! গল্পের সমাপ্তিতে এসে বইয়ের লেখাগুলো ঝাপসা দেখছিলাম। এই গল্পটির রেশ বহুদিন থাকবে অন্তকোণে। 🔹গল্পটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 🔹রেটিং: ৫/৫ ◾খবরের কাগজ: 🔹খবরের কাগজ ব্যাতীত দিনযাপন করতেই পারেন না মনোজবাবু।করোনাকালীন সময়ে লকডাউনে যেখানে সবকিছু বন্ধ, খবরের কাগজ কি করে পাবেন সেই চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়েন।ঠিক সে মুহুর্তে কিশোর বয়সী এক ছেলে খবরের কাগজ নিয়ে আসেন।এরপর থেকেই পরিবারহীন মনোজবাবু প্রতিদিন সকালে ছেলেটির সাথে খোশগল্প করেন।কিন্তু একসময় ছেলেটি আসা বন্ধ করে দিল। কী হয়েছিল ছেলেটির? কেন বৃদ্ধ মনোজবাবুর বাড়িতে খবরের কাগজ নিয়ে আসা বন্ধ করে দিল? 🔹এ গল্পে লেখক করোনাকালীন সময়ে আমাদের জীবনধরনের ব্যাপারটা তুলে ধরেছেন।কেমন আতংকে, দুশ্চিন্তায় আমরা জীবনযাপন করেছি।আশেপাশের মানুষের মৃত্যুতে নিজেদের মৃত্যভয়ে তটস্থ হয়ে থাকতাম। দমবন্ধ পরিস্থিতিতে ঘরে বসে কেবল স্বাভাবিক জীবনের প্রতীক্ষা করতাম। 🔹গল্পটি সামাজিক জনরার 🔹রেটিং: ৫/৫ ◾সোনার হরিণ চাই: 🔹সিয়াদ পড়াশুনা শেষ করে ১৪ হাজার টাকা বেতনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। কয়েকবার চেষ্টা করেও বিসিএসে আসেনি নাম। ভাইয়া, ভাবীও বিরক্ত সিয়াদের প্রতি। তবে, এমন একটি ভোর আসে সিয়াদের জীবনে যে সবকিছু পাল্টে যায়। কী এমন হয়েছিল যে এক লহমায় সিয়াদ সোনার হরিণে রূপান্তরিত হলো? 🔹বইয়ের পাতায় সিয়াদের নাম উঠে আসলেও এমন চরিত্র আশেপাশে অহরহ।শিক্ষিত বেকার যুবক অথবা স্বল্পবেতনের চাকরি যাদের পরিবারের কাছে তারা বোঝাস্বরূপ। কটাক্ষ, ভর্ৎসনা শুনতে শুনতে দিনযাপন করতে হয়। আবার নিজ যোগ্যতায় ভালো চাকরি পেলে মাথায় মুকুট করে রাখে সবাই। 🔹গল্পটি সামাজিক জনরার 🔹রেটিং: ৪.৫/৫ ◾তুমি আছো আমি আছি: 🔹এইচএসসি পরীক্ষায় দিশার সাথে পরিচয় হয় রাজীবের।রাজীবের সিট পড়েছে দিশার সামনের টেবিলের কোণায়। স্কুলের থার্ড গার্ল দিশার নিজেকে নিয়ে একটু আধটু অহংকার আছে। কিন্তু রাজীব নামের ছেলেটির অনুনয়ের কাছে হার মেনে সব লেখা দেখাতে বাধ্য হলো। এরই মধ্য দুজন দুজনের প্রতি সুক্ষ অনুভুতির সৃষ্টি হয়। পড়ালেখায় ভালো দিশা কি সম্মতি জানাবে ফেল্টু ছাত্র রাজীবকে? 🔹বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় এমনই হয় সাধারণত।ছেলে মেয়ের সিট পড়ে একবেঞ্চে কিংবা সামনে, পিছনে। একসাথে পরীক্ষা দিতে গিয়ে প্রথমে আলাপ হয়। এরপর কখনো বন্ধুত্ব হয়ে যায়।আবার কখনো প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। গল্পটা পড়তে গিয়ে মনে হচ্ছিল, চোখের সামনে দৃশ্যমান হচ্ছে সব।এতটাই বাস্তবিক। 🔹গল্পটি রোমান্টিক জনরার 🔹রেটিং: ৪.৫/৫ ◾প্রতিশোধ: 🔹পশ্চিম পাকিস্তান বংশোদ্ভূত সাকলাইনের পিতা সরকারি চাকরির সুবাদে পূর্ব পাকিস্তানে বসবাস করতে হয়। গল্পকথকসহ তার বন্ধুরা সাকলাইনকে বিভিন্নভাবে অপদস্থ করে। নিজেদের অপকর্মের দায় সাকলাইনের ঘাড়ে চাপায় শুধুমাত্র পশ্চিম পাকিস্তানের বাসিন্দা হওয়ার কারণে। বেশ কয়েকবছর পর এমন কী ঘটে যার ফলে গল্পকথক উপলব্দি করেন, শুধুমাত্র জাতিগত ভিন্নতার কারণে কাউকে ঘৃণা করা ঠিক নয়? 🔹এ গল্পটি পড়তে গিয়ে বুঝলাম, প্রাণের বন্ধুও শত্রু হতে পারে নিজের স্বার্থে আবার যাকে শত্রু ভেবে ঘৃণা পোষণ করি সে মানুষটিই বিপদে এগিয়ে আসতে পারে। অযাচিতভাবে কারো সাথে খারাপ আচরণ বা বিপদে ফেলার চেষ্টা না করাই উত্তম। 🔹গল্পটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 🔹রেটিং: ৪.৫/৫ ◾একা: 🔹গল্পকথক পোস্টগ্র্যাজুয়েশনে চান্স পাওয়ায় এবং স্বামী শাহেদের চাকরির বদৌলতে কোনোক্রমেই শ্বশুরবাড়িতে থাকার সুযোগ মিলছে না। অন্যদিকে একমাত্র সন্তান ফারহানের ইচ্ছে দাদুবাড়িতে থাকার দাদা দাদুর সাথে। বেশ ঝুট ঝামেলার পর সবকিছু গুছিয়ে আসে। এইতো আর মাত্র কয়দিন। তারপরই সবাই একসাথে থাকবে। ছোট্ট ফারহানের ইচ্ছে কি পূরণ হয়েছিল? 🔹গতানুগতিক ধারায় গল্পের সূচনা হলেও শেষটি ছিল অচিন্তনীয়।গল্পের মাধ্যমে লেখক বাস্তবতা তুলে ধরেছেন।চাকরিজীবী একজন নারী কতটা ত্যাগ করেন, কতটা ঝঞ্জাট পোহাতে হয় তা শ্বাশুড়িরা বুঝতেই চান না।সংসার, সন্তান, চাকরি সব মিলিয়ে হিমশিম খেতে হয়। গল্পটি পড়তে পড়তে গল্পকথকের ন্যায় আমিও ভাবছিলাম এইতো আর অল্প কয়দিন তারপরই সব ঠিক হয়ে যাবে।এরপর চোখের সামনে সব ঝাপসা হয়ে গেলো।গল্পটির রেশ বহুদিন থাকবে অন্তস্থলে। 🔹গল্পটি সামাজিক জনরার 🔹রেটিং: ৪.৫/৫ ◾নীল এডিডাস: 🔹জাহিন, তুষার ও শিবলি তিনজন মেডিকেল স্টুডেন্ট থাকে ২০১ নম্বর হলে।বছর তিনেক আগে নীল এডিডাস জ্যাকেটটি ক্রয় করে তুষার।তারপর থেকেই প্রাণভোমরার ন্যায় জ্যাকেটটিকে আগলে রাখে। তবুও পরবর্তীতে জ্যাকেটটির মালিক শিবলি হয়ে যায়। কী এমন ঘটেছিল যার দরুন এত শখের জ্যাকেটটি হাতছাড়া হয়ে যায় ? 🔹গল্পের একটি লাইন বড্ড হৃদয়গ্রাহী, মানুষের মন বড়ো আজব........ ভীষণ অদ্ভুত! আসলেই তাই। মনের চেয়ে অদ্ভূত আর আজব এ পৃথিবীতে আর কিছু নেই। মন বড্ড অবাধ্য। কখন কোথায় ছুটে যায় টের ও পাওয়া যায় না। পেলেও তাকে টেনে ধরে রাখা যায়না। নিজ নিয়মে অবিরাম ছুটে চলে। গল্পের শেষে হৃদয় বিষাদে ছেয়ে গেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কিছু বেদনার স্মৃতি থাকে।মনের কোণে সেসব স্মৃতি মাঝে সাঁঝে উঁকি দিয়ে স্মৃতিকাতর করে তোলে।তবুও, জীবন বহমান।কোনো কিছুতেই থেমে থাকেনা। 🔹গল্পটি স্মৃতিচারণমূলক 🔹রেটিং: ৪.৫/৫ ◾গ্র্যান্ডফাদার ক্লক: 🔹রায়হান সাহেব একজন ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট।জনপ্রিয় শপ থেকে গ্র্যান্ডফাদার ক্লক কিনে আনেন যা প্রতি ঘন্টায় আওয়াজ করে তার উপস্থিতির জানান দেয়।কারখানায় দাহ্য পদার্থ থাকা সত্ত্বেও কাউকে জানান নি রায়হান সাহেব।আগুন লাগার পর পানি ব্যবহারে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে৷শ্রমিকদের জীবন হুমকির মুখে পড়ে। এরপর কী হয়েছিল? গ্র্যান্ডফাদার ক্লকের মতো কি রায়হান সাহেবের জন্যও সময় ফিরে এসেছিল? 🔹রায়হান সাহেবের মতো সমাজের উচ্চস্তরে আসীন মানুষেরা নিম্নবিত্তদের টানাপোড়েন, যন্ত্রণা অনুধাবন করতে পারেন না।দরিদ্রদের জীবনের মূল্যও নেই তাদের নিকট।দামী জুতোর তলায় গরিব মানুষগুলো পিষে, গলে যায়।কিন্তু প্রকৃতি আপনাকে তাই ফিরিয়ে দিবে যা আপনি অন্যদের সাথে করবেন। 🔹গল্পটি সামাজিক জনরার 🔹রেটিং: ৪.৫/৫ ◾এক বাক্স বর্ণমালা: 🔹১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এ গল্প লিখা হয়েছে।ফরহাদ ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখে কিন্তু ফরহাদের প্রেয়সী জাহানারার একদমই পছন্দ নয় এসব সভা, সেমিনার। ২১ ফেব্রুয়ারি আরো অনেকের মতো ফরহাদও "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই" প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় নামে। অতঃপর কী ঘটেছিল?ফরহাদ ফিরে এসেছিল নাকি পুলিশের গুলিতে ফরহাদের বুক ঝাঝরা হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিল? 🔹এ গল্পটা পড়ার সময় তখনকার সময়ে হারিয়ে গিয়েছিলাম যদিও তখন এ পৃথিবীতে আমার অস্তিত্ব ছিল না। আমি শুধু চিন্তা করছিলাম কত প্রেমিক, কত স্বামী পিছুটান না রেখে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল।জীবনের প্রতি একবিন্দু মায়া না রেখে মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসার টানে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল।কেউ কেউ বেঁচে ফিরেছিল আর কেউ কেউ হয়েছিল শহীদ। 🔹ভাষা আন্দোলনভিত্তিক 🔹রেটিং: ৫/৫ এছাড়া অন্যান্য গল্পগুলো হচ্ছে খাড়ু, বিবাহ, প্রমোশন, চাকরিজীবী, গল্পটি আত্মহত্যার হলেও হতে পারত, সারপ্রাইজ, বার বার মরে যায় যারা,জার্মানি সেন্ট,সোনাগাজী উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, ফার্স্ট পিরিয়ড,অসমাপ্ত,বাস যাত্রী, শংকা এবং জল জাদুকর। ★প্রোডাকশন কোয়ালিটি ও বাইন্ডিং: --------------------------------------------------- চলন্তিকা প্রকাশনীর আরো কয়েকটি বই পড়া হয়েছে।তাদের কাজ চমৎকার ।জল জাদুকর বইও ব্যাতিক্রম নয়। পেইজের মান এবং বাইন্ডিং বেশ ভালো। পৃষ্ঠায় অতিরিক্ত ফাঁকা নেই। প্রুফ রিড়িংয়ে বেশ সচেতনতা অবলম্বন করা হয়েছে , বানান ভুল তেমন চোখে পড়ে নি। সবমিলিয়ে, সমালোচনা করার মতো কিছু দৃষ্টিগোচর হয় নি। ★লিখনশৈলী: ---------------------- টি ট্রলি গল্পের মাধ্যমে লেখক সুস্মিতা জাফরকে খুঁজে পেয়েছি। নীল এডিডাস, রাত্রি আতংকের, মর্নিং গ্লোরি এই গল্পগুলোও বেশ ভালো লেগেছিল।ঝরঝরে, মেদহীন, সাবলীল লিখনীর মাধ্যমে প্রতিবারই পাঠকমনকে তৃপ্তি করার সক্ষমতা রয়েছে লেখকের।পারতপক্ষে, আমাদের অচিন্তনীয় এমন ব্যাপার নিয়েও গল্প লিখে বেশ চমকে দেন। প্রতিটি গল্পেই পাঠকদের কোনো না কোনো বার্তা দেন। তবে, জল জাদুকর বইয়ে কিছু গল্প যেমন ভীষণ আকর্ষণীয় ছিল, আবার কিছু গল্প ছিল একেবারেই সাদামাটা।গল্পগুলোর সাথে সময়টা বেশ ভালোই কেটেছে।দেখা গেছে, একটা গল্পে মন খারাপ হয়েছে, আবার পরবর্তী গল্প পড়েই মন ভালো হয়ে গিয়েছে।আশা করি, পরবর্তী বই আরো চমৎকার, আরো বেশি মার্জিত হবে। নিজ যোগ্যতায় পাঠক হৃদয়ে স্থান করে নিবে। ★ব্যাক্তিগত রেটিং: ৮.৫/১০ [রিভিউকারী- ফারসিয়া মাহমুদ]"
Nusrat Tabassum Methila , Apr 30, 2023
"❝A short story is a love affair; a novel is a marriage. A short story is a photograph; a novel is a film.❞ ~Lorrie Moore ◑~পাঠ-প্রতিক্রিয়া: ২৭টি অসাধারণ ছোটোগল্পের সমাহার বইটি। কিছু গল্প যেন রোজকার জীবনের খন্ডাংশ আবার কিছু যেন আবেগাপ্লুত করবার মোক্ষম অস্ত্র। যাই বলি না লেখক যে মনস্তাত্ত্বিক ভাবে আপনাকে অন্য একজগতের ভ্রমণ করিয়ে আনবেন তা সন্দেহাতীত। এবারে চলুন ২৭টি গল্পের সংক্ষিপ্ত পাঠ্যানুভূতি জেনে আসি। প্রতীক্ষা: নামের মাঝেই যেন অপেক্ষার তীব্রতা ফুটে উঠেছে। কীসেরই বা অপেক্ষা, কেনই বা তীব্রতা আর কেনই বা হাহাকার? অনেকগুলো প্রশ্নের জবাব চাইছেন তো? প্রতীক্ষা গল্পটি পাঠ করবার সাদর আমন্ত্রণ। রাওফিয়া ও মীকাইলের কথোপকথন মুহূর্তের জন্য আপনার চিন্তাধারাকে অন্যখাতে প্রবাহিত করবে কিন্তু পরক্ষণেই সেই চিন্তা ধারা ভেঙে খান খান হয়ে যাবে। গল্পটি সামাজিক জনরার। রেটিং ৩.৫/৫ খাড়ু: কেমন অদ্ভুত নাম তাই না! খাড়ু আবার কী ভাবছেন তো! এটা এক ধরনের গহনা। এই গহনাকে ঘিরেই এগিয়ে যাবে গল্প কিন্তু সমাপ্তিতে একরাশ বিষণ্ণতা। সাথে '৭১ এর এক অজানা প্রেক্ষাপট। গল্পটি ব্যক্তিগতভাবে পুরো বইয়ের অন্যান্য সকল গল্পের চেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। গল্পটি সামাজিক জনরার। রেটিং ৫/৫ বিবাহ: নাম শুনেই মনে হচ্ছে বিয়ে বিষয়ক কোনো গল্প! হ্যাঁ আসলেই গল্পটি বিয়ের। কিন্তু কার বিয়ে? আমিনা গল্পটির প্রধান চরিত্র, যার চিন্তাধারাকে আপনার সম্মান জানাতে ইচ্ছে করবে। গল্পটি সামাজিক জনরার। রেটিং ৪/৫ প্রমোশন: অফিস ড্রামার আলোকে লেখা গল্পটি দৈনন্দিন জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। রাহিন, রুম্পাসহ আরো বেশ কিছু চরিত্রের সম্মেলন ঘটেছে গল্পটিতে। গল্পটিকে গোয়েন্দা গল্প বললেও ভুল হবে না। রেটিং ৪/৫ দাগ: একজন ডাক্তার যখন নিজের আবেগের কাছে পরাজিত হন ঠিক সেই মুহুর্তেই তিনি মানবীয় গুণে হয়ে ওঠেন অতুলনীয়। এমনই এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির গল্প দাগ। অনিল কী পারবে নিজের ফুসফুস দু'টির জন্য একটুখানি বাতাস শুষে নিতে! আচ্ছা গল্পটার নাম দাগ কেন? প্রশ্ন জাগছে কী মনে! তবে আপনাকে আমন্ত্রণ দাগ গল্পে। গল্পটি সামাজিক জনরার। রেটিং ৪/৫ চাকরিজীবী: হিংসা মানবসত্ত্বার সাথে মিশে আছে আষ্টেপৃষ্ঠে। এই হিংসা যখন প্রকট আকার ধারণ করে তখন কিন্তু আখেরে ক্ষতি হয় নিজেরই। চাকরিজীবীদের মাঝে যা আরো প্রকট মূলত প্রমোশনের লোভে। এমনই প্রেক্ষাপটে রচিত গল্পটি যা পরিসরে ছোটো কিন্তু ব্যপ্তিতে বিশাল। গল্পটি সামাজিক জনরার। রেটিং ৪.৫/৫ গল্পটি আ'ত্ম'হ'ত্যা'র হলেও হতে পারত: সামাজিক সচেতনতা মূলক গল্পটি সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনার প্রতিনিধিত্ব করে। শিক্ষক ও ছাত্রের মাঝে সুসম্পর্ক এই গল্পের একটি শিক্ষণীয় দিক। তেমনি ভুল সিদ্ধান্তের প্রতি ঘৃণাও এই গল্পের অন্যতম মুখ্য বিষয়। গল্পটি সামাজিক সচেতনতামূলক। রেটিং ৫/৫ অর্পিতা তোমাকেই বলছি: আর্য, অর্পিতা ও অভ্রের ত্রিকোণী প্রেমের জটিলতা নিয়ে রচিত গল্পটি। তবে ঠিক প্রেম নাকি আবেগ! জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে গল্পটি। গল্পটি রোমান্টিক জনরার। রেটিং ৫/৫ মর্নিং গ্লোরি: সুস্মিতা আপুকে চিনেছি এই গল্পের মাধ্যমে। গল্পটা হৃদয় ছোঁয়া। এক বৃদ্ধের একাকিত্ব জীবনের সঙ্গী তার শখের বাগান। সে অনেক কাহিনী। তার পরম যত্নে একসময় বাগানটা হয়ে ওঠে সজীবতায় ভরপুর। কিন্তু কোথাও একটা কমতি থেকে যাচ্ছিলো। সেই অপূর্ণতাকে মেনে নিয়েই জীবনের পথ ছেড়ে পরপারে প্রস্থান! কী চমকে উঠলেন? এমনই এক ঘটনার সাক্ষী হতে পড়ে ফেলুন মর্নিং গ্লোরি গল্পটি। গল্পটি সামাজিক জনরার। রেটিং ৫/৫ সারপ্রাইজ: স্বল্প পরিসরে দুই বান্ধবীর খুনসুটি ও প্রেক্ষিতে এক বান্ধবীর মনের কোণে গড়ে ওঠা স্বপ্ন যখন ধুলিসাৎ হয়ে যায়। ঠিক এমন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে লেখা সারপ্রাইজ গল্পটি। গল্পটির শেষটা আপনার কল্পনার সাথে মিলে যেতেও পারে আবার নাও পারে। গল্পটি রম্য জনরার বলেই আমার মনে হয়েছে। রেটিং ৪.৫/৫ পলার ডায়েরি: পলার সাথে কখনো কখনো আনা ফ্রাঙ্ককে মিলিয়ে ফেলেছি। কখনো খুব কেঁদেছি, কখনো বিমর্ষ হয়ে মুষড়ে পড়েছি। আমাদের সোনালি ইতিহাস রচয়িতা মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগে গর্ব হয়েছে ভীষণ আবার তাদের পরিবারের পরিণতিতে শিউরে উঠেছি হঠাৎ। এমনই মিশ্র অনুভূতির স্বাদ পাবেন আপনি গল্পটিতে। শেষটা মর্মান্তিক হলেও ঠোঁটের এক চিলতে হাসি বয়ে যাবে '৭১ এর বিজয়ের খুশিতে। গল্পটি ইতিহাস আশ্রিত, সামাজিক জনরার। রেটিং ৫/৫ বার বার মরে যায় যারা: মেয়ে হয়ে জন্মেছেন মানেই সারাটা জীবন অন্যের সুখের জন্য কিংবা অন্যের মুখে হাসি ফোটাতেই উৎসর্গ করতে আপনি বাধ্য। কখনো নিজের খুব প্রিয় শখ অথবা জীবনের মূলমন্ত্র সবটাকে বিসর্জন দিয়ে একাকিত্বকে ধারণ করবার পরেও কেউ সন্তুষ্ট হবে না। সেই মুহূর্তে নিজেকে মনে হয় পরাজিত। এমনই রোজকার জীবনের গল্প নিয়ে লেখক তার জাদুর কলমের ছোঁয়ায় লিখেছেন দিনবদলের গল্প। যা একজন নারীকে মানুষ বলে ভাবতে শেখায়। গল্পটি সামাজিক সমস্যামূলক। রেটিং ৫/৫ খবরের কাগজ: করোনা, মানবজাতিকে বিপর্যস্ত করে ফেলা এক আলো অতীতের নাম। যার মরণ ছোবল আজও আমাদের কাঁদায়। যার ফলে বিশ্বব্যাপি এক চরম অস্থিরতা। সেই করোনাকালীন সময়ে গড়ে ওঠা এক আত্মীয়তার গল্প যা আমাদের সেই একাকিত্বের অসহ যন্ত্রণাকে স্মরণ করিয়ে দেবে এবং সেই সাথে মনুষ্যত্বের জয়কার করতে শেখাবে। গল্পটি সামাজিক সমস্যামূলক। রেটিং ৪/৫ সোনার হরিণ চাই: বর্তমান সমাজের প্রতিটি বেকার যুবকের কাছে চাকরি যেন এক সোনার হরিণের নাম। সেই সোনার হরিণকে বিবেচনা করে মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয় সমাজে। এমন এক ভাগ্যান্বেষী, সোনার হরিণের খোঁজে থাকা যুবকের গল্প নিয়ে রচিত বর্তমান প্রেক্ষাপটের চমৎকার গল্পটি। গল্পটি সামাজিক জনরার। রেটিং ৪/৫ তুমি আছো আমি আছি: অপরিণত বয়সের প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া দুই কিশোর-কিশোরীর গল্প নিয়ে রচিত চমৎকার গল্পটি এক লহমায় আপনাকে নিয়ে যাবে ফেলে আসা কৈশোরের দিনগুলোতে। গল্পটি রোমান্টিক জনরার। রেটিং ৪/৫ জার্মানি সেন্ট: একসাথে বন্ধু-বান্ধব একত্রিত হলে কত ধরনের কথা চালাচালি হতে থাকে! সেই সাথে কত কিছুর কত ধরণের সংক্ষিপ্ত ও হাস্যকর নাম! তেমনি একদল স্কুলপড়ুয়াদের খুনসুটি পূর্ণ গল্প জার্মানি সেন্ট। যা স্কুল জীবনের কিছু স্মৃতিকে করে তুলবে জীবিত। গল্পটি রম্য ঘরানার। রেটিং ৪/৫ সোনাগাজী উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স: একজন চিকিৎসক হয়ে ওঠার পেছনে থাকে কঠিন সংগ্রামের পাশাপাশি থাকে পরিবারের কিছু মানুষের তীব্র চাওয়া। সেই চাওয়া যখন বাস্তবে রূপ নেয় তখনকার অনুভূতি কেমন? জানতে হলে পড়তে হবে চমৎকার গল্পটি। গল্পটি সামাজিক জনরার। রেটিং ৪/৫ প্রতিশোধ: কথায় আছে ~ "দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য" ঠিক তেমনি স্বজাতিক মাত্রই স্বজন নয়! এই কথাটাই প্রমাণ করেছে চমৎকার এই গল্পটি। গল্পটি আপনাকে নিয়ে ভাবনার দূর সীমানায়, আবেগান্বিত করবে আপনাকে। গল্পটিকে আমি থ্রিলার জনরায় স্থান দেব। রেটিং ৫/৫ একা: ক্যারিয়ার প্রত্যেক মানব-মানবীর নিকট এক অতি আকাঙ্ক্ষিত বস্তু। সেই ক্যারিয়ার গোছাতে গোছাতেই জীবনের চমৎকার কিছু মুহূর্ত, কিছু আপনজন হারিয়ে যায় নিমিষেই, চোখের পলকে। কখনো কখনো অবমূল্যায়িত হয় প্রিয়জনের ক্ষুদ্র চাওয়া জীবনের ব্যস্ততারই বেড়াজালে। এমনই টানাপোড়েনের গল্প একা। গল্পটি সামাজিক জনরার। রেটিং ৫/৫ ফার্স্ট পিরিয়ড: আমরা সবসময় যা চাই তা পাই না, আর যা চাই না তা পাই। বন্ধুত্বের মজাদার কিছু ঘটনা মিশে থাকে স্কুল-কলেজের দিনগুলোতে। তেমনই মজাদার একটি ঘটনা আর চাওয়া পাওয়ার সমীকরণ নিয়ে রচিত গল্পটি আপনাকে মজার কিছু স্মৃতিতে রোমন্থন করিয়ে আনবে। গল্পটি সামাজিক জনরার। রেটিং ৪/৫ নীল এডিডাস: একটা ব্রান্ডের নাম নিয়ে গল্প! অবাক হলেন নিশ্চয়ই? বিষয়বস্তু জানবার জন্য মন আকুপাকু করছে? খানিকটা বিষণ্ণতায় মোড়া গল্পটি মানবসত্ত্বার এক বিশেষ দিক নিয়ে রচিত। "মানুষের মন বড়ো আজব, ভীষণ অদ্ভুত!" এই লাইনটি আলোচ্য গল্পের একটি চমৎকার উক্তি। গল্পটি সামাজিক জনরার। রেটিং ৫/৫ গ্র্যান্ডফাদার ক্লক: সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া এক হৃদয় বিদারক ঘটনার আলোকে রচিত গল্পটি শিক্ষামূলক। কিছু মানুষের লোভের শিকার হতে হয় শত শত পরিবারকে, হারাতে হয় প্রিয় আপনজনকে। গল্পটি সেই সকল লোভী, স্বার্থপর ব্যক্তিদের মুখে যেন চপেটাঘাত। গল্পটি সামাজিক সমস্যামূলক। রেটিং ৪.৫/৫ অসমাপ্ত: গল্পটি আজকের প্রেক্ষাপটে রচিত নয়। আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের প্রেক্ষাপটে রচিত। গল্পটি পাঠে আপনি সেই সময়ের মিষ্টি প্রেমের অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হবেন। গল্পটির ঘটনা সরল সোজা হলেও গূঢ়ার্থ বহন করে। গল্পটি রোমান্টিক জনরার। রেটিং ৪/৫ বাস যাত্রী: "এক পলকের একটু দেখা" চমৎকার একটি উক্তি তাই না! এই চমৎকার উক্তি জীবনে প্রতিফলিত হওয়াটা কিন্তু মোটেও চমকপ্রদ নয়। আমরা মাঝে মাঝে বেহায়া দৃষ্টিতে সংযত করতে না পেরে ভুল মানুষের পাল্লায় পড়ে যাই। তাদের প্রতি সতর্কতা স্বরূপ চমৎকার গল্পটি বেশ শিক্ষণীয়। গল্পটি সামাজিক জনরার। রেটিং ৩.৫/৫ শঙ্কা: আমরা অনেকেই পশুপ্রেমী। আর যারা পশু পোষে, তার কাছে সেটি নিজের পরিবারেরই একাংশ। ঠিক এমনই পশুপ্রেমের গল্প শঙ্কা। যা প্রিয় প্রাণীটির কথা স্মরণ করিয়ে শঙ্কিত করে ফেলতে পারে আপনাকে। এই গল্পের জনরা আমি নির্ধারণ করতে পারিনি। রেটিং ৪.৫/৫ এক বাক্স বর্ণমালা: বর্ণমালাকে কী বাক্সে বন্দি করা যায়? উত্তর হবে, যায় না। কিন্তু লেখক তার সুনিপুণতার ছোঁয়ায় বর্ণমালাকে করেছেন বাক্সবন্দী। চমৎকার এই গল্পটি '৫২ এর প্রেক্ষাপটে লেখা। যা আপনার হৃদয়কে ছুঁয়ে যাবে। গল্পটি ইতিহাস আশ্রিত, সামাজিক জনরার। রেটিং ৪/৫ জল জাদুকর: গল্পগ্রন্থটির নাম গল্প এই জল জাদুকর। জল জাদুকরের সংজ্ঞা কী? জানতে হলে পড়তে হবে অসাধারণ গল্পটি। একজন জল জাদুকরের রোজকার জীবনের সংগ্রাম আপনাকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে। গল্পটিকে আমি থ্রিলার জনরায় স্থান দিয়েছি। রেটিং ৫/৫ ◑~এক নজরে বই পরিচিতি: বইয়ের নাম: জল জাদুকর লেখক: সুস্মিতা জাফর প্রকাশক: চলন্তিকা ক্যাটাগরি: গল্পগ্রন্থ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬০ প্রচ্ছদ: লু্ৎফি রুনা মূল্য: ৩৫০৳ পার্সোনাল রেটিং: ৮/১০ রিভিউয়ার: নুসরাত তাবাস্সুম মিথিলা"
Rafa , Jan 30, 2023
"#জল_জাদুকর লেখক সুস্মিতা জাফরের প্রকাশিত চতুর্থ গল্পসংকলন ‘জল জাদুকর’। বইটিতে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের মোট সাতাশটি ছোটোগল্প রয়েছে। বইটির অধিকাংশ গল্প সামাজিক জনরার। এছাড়াও বইয়ে রয়েছে রোমান্টিক, বিরহ, রম্য, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প। নীচে আমার পছন্দের কয়েকটি গল্পের বিষয়ে উল্লেখ করছি: ♦️ প্রতীক্ষা: গল্পটির শুরুতেই দেখা যায়, রাওফিয়া তার অসুস্থ মাকে বহুকষ্টে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার মায়ের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। হাসপাতালেই রাওফিয়ার সাথে পরিচয় হয় মীকাইলের। মীকাইলের এইভাবে আগ বাড়িয়ে বন্ধুত্ব করার পেছনে আদৌ কী কোন কারণ ছিল? আজকাল মানুষের বেশিরভাগ কাজের পিছনে লুকিয়ে থাকে কোন না কোন স্বার্থ। গল্পটিতে এমনি এক নির্মম সত্য তুলে ধরা হয়েছে। বাস্তবেও এমন কাহিনী ঘটতে দেখা যায়। গল্পটির শেষ অংশটুকু পড়ে চমকে উঠেছি। শেষ অংশে এমন টুইস্ট থাকবে কল্পনাও করিনি। • রেটিং: ৪.৫/৫ ♦️ খাড়ু: অসচ্ছল পরিবারে বেড়ে উঠা ফাল্গুনীর ছোটবেলা থেকেই এক জোড়া খাড়ু পরবার শখ। তার শখটা পূরণ হয়েছিল কিনা জানতে হলে পুরো গল্পটি পড়তে হবে। এই গল্পটি আমার অন্যতম পছন্দের। গল্পের শেষ অংশটুকু মন ছুঁয়ে গেছে। • রেটিং: ৫/৫ ♦️ অর্পিতা তোমাকেই বলছি: গল্পটি ত্রিকোণ প্রেমের। গল্পের মূল চরিত্র অর্পিতা ছোট থেকেই আর্যকে ভালোবাসতো। কিন্তু, অর্পিতার বর্তমানে আরেক পুরুষের আগমন ঘটে। অর্পিতা কাকে বেছে নিয়েছিল? সঠিক মানুষকে অর্পিতা কী চিনতে পারবে? • রেটিং: ৪/৫ ♦️ পলার ডায়েরি: গল্পটি মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে লেখা পলার দিনলিপি। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাঙালি জাতি শত শত ত্যাগ করেছে। যার বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। পলার পরিবারও মুক্তিযুদ্ধের সময়ে নানাকিছুর সম্মুখীন হয়েছে। সেইসব কিছুই গল্পটি পড়ে জানা যাবে। এই গল্পটি আমার অন্যতম পছন্দের। • রেটিং: ৫/৫ ♦️ একা: মানুষের জীবনে কী সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক চলে? ক্ষুদ্র এই জীবনকালে মানুষের জীবনে হঠাৎ করেই আসে কোন সুখবর বা দুঃসংবাদ। চাইলেও সেখানে মানুষের কোন হস্তক্ষেপ সম্ভব না। এমনি আকস্মিক এক ঘটনা ঘটতে দেখা যায় ‘একা’ গল্পটিতে। • রেটিং: ৪.৮/৫ ♦️ জল জাদুকর: আবুল হায়াত নামের এক জল জাদুকরের গল্প এটি। আবুল কী তার জাদুর ছোঁয়ায় সফল হতে পেরেছিল কিনা জানতে হলে গল্পটি পড়তে হবে। • রেটিং: ৪/৫ এছড়াও, দাগ, বার বার মরে যায় যারা, সোনার হরিণ চাই, বাস যাত্রীসহ আরো কিছু গল্প বেশ ভালো লেগেছে। ছোটোগল্প আমার সবসময়ই পড়তে ভীষণ ভালো লাগে। লেখক সুস্মিতা জাফরের গল্পসংকলন এই প্রথম পড়া হয়েছে। লেখকের গল্প বলার ভঙ্গি অসাধারণ। পাঠককে গল্পের সাথে আটকে রাখতে লেখক সক্ষম। প্রায় প্রতিটি গল্পের শেষে এমন সব টুইস্ট ছিল, যা কল্পনাও করিনি। এই কারণে, গল্পগুলো আরো বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বইয়ের প্রচ্ছদ, কোয়ালিটি, বাইন্ডিং ছিল চমৎকার। সবমিলিয়ে, ‘জল জাদুকর’ বইটি দারুণ। ছোটোগল্পপ্রেমীদের বইটি অবশ্যই ভীষণ ভালো লাগবে। ♦️ বই পরিচিতি: বই: জল জাদুকর লেখক: সুস্মিতা জাফর প্রকাশনী: চলন্তিকা প্রকাশকাল: আগস্ট ২০২২ প্রচ্ছদ: লুৎফি রুনা ধরন: গল্পসংকলন মুদ্রিত মূল্য: ৩৫০ টাকা পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬০"
Priya Rahman , Sep 25, 2022
"#জল_জাদুকর_বুক_রিভিউ ছোটোগল্প বাংলা সাহিত্যের এমন একটি অধ্যায়, যেখানে মানুষের নিত্যদিনের জীবনচিত্র, ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত সুনিপুণভাবে মাত্র কয়েকটি শব্দের কয়েকটি লাইনের সীমাবদ্ধতায় চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে গল্পকার। তাইতো রবিঠাকুর বলে গেছেন,,, "নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ। অন্তরে অতৃপ্তি রবে সঙ্গ করি মনে হবে শেষ হয়েও হইল না শেষ।" এমনই চমৎকার কিছু ছোটোগল্প নিয়ে রচিত হয়েছে,পাঠকপ্রিয় ও বর্তমানে জনপ্রিয় লেখক সুস্মিতা জাফরের সদ্য প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ 'জল জাদুকর।' ★বইটির বিস্তারিত আলোচনা : 'জল জাদুকর' বইটিতে থাকছে মোট ২৭ টি ছোটোগল্প। সেই সাথে আরও থাকছে প্রতিটি গল্পের সাথে মনোমুগ্ধকর সব ইলাস্ট্রেশন। লেখক প্রতিটি গল্পই যেন আমাদের চারপাশের সব মানুষের মধ্য থেকে তুলে এনেছেন। কারও জীবনের হাহাকার, কোনটিতে পারিবারিক মেলবন্ধন, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, জীবনের সাথে সংগ্রাম, বাঁচার জন্য একটুখানি আকুতি,সর্বোপরি জীবনের প্রতিটা ধাপই ফুটে উঠেছে এই ২৭ টি গল্পের সমষ্টিতে। যেমন - * বইটির প্রথম গল্প 'প্রতীক্ষা'। এই গল্পে কেউ হয়তো মৃত্যুর জন্য জীবনের শেষ মুহূর্তের প্রতীক্ষা করছে। আবার কেউ কেউ মৃত্যুর দুয়ারে পৌছে গিয়ে একটু জীবনের প্রতীক্ষায় বসে আছে। *'প্রমোশন' গল্পে লেখক চাকরি জীবনের এক লুকানো হিংসার ছবি তুলে ধরেছেন আমাদের সামনে। *''দাগ' গল্পটি অনিলের জীবনের এক কষ্টকর অধ্যায় পাঠকের সামনে নিয়ে আসবে। *'মনিং গ্লোরি' চমৎকার এই গল্পটিতে একটি ফুলের সাথেও যে কারও জীবন জড়িয়ে যায় তা বুঝা যাবে। *'নীল এডিডাস' এই গল্পটি পড়লে পাঠক বন্ধুত্ব আর মানব জীবনের চরম অনিশ্চয়তা বুঝতে পারবে। *'জল জাদুকর' এটি বইয়ের সর্বশেষ গল্প।এইগল্পে মর্মান্তিক এক লঞ্চডুবির ঘটনা কাল্পনিক রূপে দেখানো হয়েছে। কিন্তু এর প্রতিটা চরিত্র যেন মরে গিয়েও জীবন্ত। এমন আরও অনেক চমৎকার সব কাহিনি নিয়ে ২৭ টি গল্প একত্রিত হয়েছে এক মলাটে। ★পাঠ প্রতিক্রিয়া : ছোটোগল্প পড়তে আমার বরাবরই বেশ ভালো লাগে। একটা উপন্যাসে শুধু গোটা কিছু চরিত্র ও একটি কাহিনি থাকে সেখানে গল্পগ্রন্থে থাকে বহু চরিত্র, একাধিক গল্পের কাহিনি একসাথে। একটা বইতে জীবনের নানা রং ফুটে উঠে। জল জদুকর বইটিতেও ২৭ টি ভিন্ন আমেজের গল্প পাওয়া গেছে। প্রতিটা গল্প পড়ার সময় আমি যেন সেই গল্পের কোন না কোন অংশের সাথে নিজের চারপাশের দৃশ্য মিলাতে পেরেছি। লেখকের লিখনশৈলী এতটাই চমৎকার ছিলো যে এক মুহূর্তের জন্য বইটির কোন গল্পে বাড়তি কোন অংশ লেখা হয়েছে বলে মনে হয়নি। বইয়ের ইলাস্ট্রেশন গুলোও ছিলো মনোমুগ্ধকর আর গল্পের প্লটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সম্পাদনার কাজও ছিলো দারুণ। চমৎকার প্রচ্ছদটি করেছেন লুৎফি রুনা। বইয়ের বাঁধাই,প্রিন্টিং, শব্দ বিন্যাস সব এক কথায় দারুণ। ★পরিশেষে লেখকের উদ্দেশ্যে বলবো, এমন সুন্দর সুন্দর গল্প এত চমৎকার প্লট পুরো বইটির প্রেজেন্টেশন একজন পাঠকের চোখে বইটিকে সেরার লিস্টে রাখার জন্য যথেষ্ট। লেখকের নতুন বইয়ের জন্য আগাম শুভকামনা। বই: জল জাদুকর লেখক: সুস্মিতা জাফর প্রকাশনী: চলন্তিকা প্রচ্ছদ : লুৎফি রুনা মলাট মূল্য : ৩৫০ টাকা"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"জল জাদুকর" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: