প্রগতি - PROGOTY
ইরেজার ভূত - সত্যজিৎ বিশ্বাস এর প্রচ্ছদ
একটু পড়ে দেখুন

১ম প্রকাশ, ২০১৯

ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

ইরেজার ভূত

3 Ratings | 3 Reviews
TK. 170 TK. 200 -15% OFF

1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি

একটু পড়ে দেখুন
ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

বইটির বিস্তারিত দেখুন

Title ইরেজার ভূত
Author সত্যজিৎ বিশ্বাস
Publisher প্রিয়মুখ
Edition ১ম প্রকাশ, ২০১৯
Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) 24
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা
Category গল্প
Weight 0.252 Kg
ISBN 9879848078136
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন

বিজ্ঞপ্তি

গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।

Reviews and Ratings

Rate this product

3.67

3 Ratings and 3 Reviews

★★★★★
1
★★★★☆
0
★★★☆☆
2
★★☆☆☆
0
★☆☆☆☆
0

পাঠকদের মন্তব্য

৩টি
Muhammad Rafi

Muhammad Rafi , Aug 16, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"#priyomukh_Progoty_book_club_review_2021 🛑বইয়ের নাম: ইরেজার ভূত 🛑লেখক: সত্যজিৎ বিশ্বাস 🔵প্রকাশনী: প্রিয়মুখ প্রকাশন 🛑প্রকাশকাল: ২০১৯ 🛑প্রচ্ছদ ও অলংকরণ: আহসান হাবীব 🔵প্রকাশক: ফারুক আহমেদ 🛑মুদ্রণ: প্রিয়মুখ প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ সলিউশন 🔵ধরন: শিশু কিশোর বই 🛑ISBN - 978-984-92408-8-4 🔗🔗ছোটবেলায় নানা নানী, দাদা দাদুর কাছ থেকে কত ভূতের গল্প শুনেছি আমরা সবাই!! সে মাঝে মাঝে হয় হার হিম করা ভূতের গল্প, আবার সেটা হয় মজার এবং ইন্টারেস্টিং। চলুন দেখা যাক " ইরেজার ভূত" বইটি হার হিম করা ভূতের গল্প! না মজার ভূতের গল্প!!..... ************************************ 🔵একটা ছেলে কিভাবে খারাপ থেকে ভালো হয়ে উঠলো তারই একটি গল্প। কে তাকে পুরোপুরি লেখা পড়ায় ফিরিয়ে আনল? সে কি পুরোপুরি ভালো হয়ে গেছে? নাকি কোনো ভূত তাকে লেখা পড়ায় ফিরিয়ে দিয়েছে! 🛑পাঠ প্রতিক্রিয়া: বইটি শিশুদের নিয়ে লেখা হলেও বইটিতে শিক্ষণীয় অনেক কিছু রয়েছে। সোহান নামে একটি ছেলে যে লেখা পড়া করে না। দুষ্টুমি করে, প্রথম সাময়িক এবং দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায়, ভালো রেজাল্ট করেনি, কিভাবে সে পরিবর্তন হয়ে গেলো, সে মন দিয়ে লেখা পড়া করছে, পড়া পারছে, ফাইনাল পরীক্ষা এও সেরা দশ জনের মধ্যে রয়েছে!!! সে কিভাবে তার মনের জোর ফিরে পেলো, সেটা জানতে আপনার পড়তে হবে " ইরেজার ভূত " বইটি। 🛑বইয়ের বিবরণ:- সোহান নামে একটি ছেলে, সে পড়াশোনায় মন বসতেই চায় না! বই খুললেই মনে হয়, তাকে সাইকেল, ক্রিকেট, ইত্যাদি সবাই তাকে ডাকছে, কিন্তু পড়া লেখা তাকে ডাকছে না! এ জন্য সে বাবার কাছে খুব করে বকুনি খায়। তবে তার মা তাকে সব সময় আদর করে, মার ধর করে না। সোহান লিখতে গেলে তার অনেক বানান ভুল হয়, খালি ইরেজার দিয়ে মুছতে হয়, তার একটা লাল রঙের প্রিয় ইরেজার আছে। সে ভাবে, বানান ভুল হয় পেন্সিলের জন্য, সব দোষ পেন্সিলের! একদিন সন্ধায়, সে ইরেজার দিয়ে ভুল মুছছিল, এমন সময় কে যেনো তাকে ডেকে উঠলো, এরকম আরো একবার হওয়ার পর, সোহান জানতে পারে, যে ডাকছিল সে নাকি ভূত, ভালো ভূত!! তারা আলাপ পর্ব শেষ করলো, ভূত নাকি এসেছে, সোহানকে পড়া লেখায় মনোযোগী করে তোলবার জন্যে। সেই ভূতের নাম হলো ভূতুল। সে প্রায় সময় সোহানকে ভালো ভালো উপদেশ দিতে থাকে, সু- মন কু- মন সম্পর্কে বোঝাতে থাকে, সোহান প্রমিজ করে সে আগামী কল থেকে লেখা পড়া করবে, ভালো হয়ে চলবে, দুষ্টুমি করবে না। আগামী কাল সোহানের মা বাবা চমকে উঠলো!! যে সোহান লেখাপড়ায় মন বসায় না সে আজকে মন দিয়ে পড়ছে, বাবাকে টপাটপ প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে, যে সোহান দুধ খায় না সে আজকে নিজেই দুধ খেতে চাইছে। দেখতে দেখতে তার ফাইনাল পরীক্ষা চলে এলো, মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করায় সে ভালোভাবেই পরীক্ষা দিল। এখন সোহান আর ভুতুল গল্প করে মজা করে, এমনি করে করে, রেজাল্টের দিন চলে আসে, সোহান ভুতুলকে জিজ্ঞেস করে ,কাল কি রেজাল্ট হবে, সে পরপর প্রথম টার্ম, সেকেন্ড টার্ম পরীক্ষায় ফেল করে, এবার না জানি কি হয়, পরদিন রেজাল্ট আনতে গিয়ে সবাই হতভম্ভ। সোহান পাশ করেছে, এবং সেরা দশ জনের মধ্যেও ঢুকে পড়েছে!! এবার ভুতুল সোহানের কাছ থেকে বিদায় নিতে চাইলো! সোহান এবং ভুতুল খুবই দুঃখ পেলো। ভুতুল বলে," তার মত এরকম আরো ছেলে আছে যারা মন দিয়ে পড়ালেখা করে না তাদের কেও পড়ালেখায় ফিরিয়ে আনতে হবে।'' তবে প্রতি মাসে একবার করে ভুতুল সোহানের সাথে দেখা করবে। ঠিক এই সময়ে তার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে এবং এরপরই তার লাল ইরেজার কে আর দেখতে পাচ্ছে না। মা পেছন থেকে এসে বলে কি খুঁজছিস? সোহান কোনো কথা না বলে মা কে জড়িয়ে কাদতে থাকে, মাও কাদতে থাকে, বাবা পাশের ঘর থেকে নানা রকম মিষ্টি নিয়ে সোহানের ঘিরে ঢোকে। কিছু ক্ষণ পর বাবা বলে " পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করলে কেউ কাদে! আজকালকার ছেলে পেলেরা যে কেমন সেটা বুঝি না! সোহান মনে মনে বলে, আমি ভূতুলের কথা কাউকে বলবে না। প্রমিজ। 🛑বইয়ের কিছু অংশ: গত অক্টোবর মাসে জন্মদিনে গুনে গুনে নয়টা মোমবাতি ফুঁ দিয়ে নিভিয়েছে সোহান। নয় প্লাস সোহানের প্রিয় কাজ মোবাইলে গেম খেলা আর চকোলেট খাওয়া। আর অপ্রিয়, অসহ্যকর কাজ হলো পড়ার বই খোলা। বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক, সমাজ, বিজ্ঞান প্রতিটা বিষয়ের বইয়ের কথা মনে হলেই জ্বর আসে। সোহান মনে মনে ভাবে, কার্টুনের বইগুলোর প্রচ্ছদ এত সুন্দর হয়! দেখলেই ইচ্ছা করে হাত বোলাতে, গাল ঘষতে। আর কী অদ্ভুত কাণ্ড, স্কুলে পড়ার একটা বইয়ের প্রচ্ছদও সুন্দর না যে দেখতে ইচ্ছা করবে, কাছে ইচ্ছা করবে।আর কী অদ্ভুত কাণ্ড, স্কুলে পড়ার একটা বইয়ের প্রচ্ছদও সুন্দর না যে দেখতে ইচ্ছা করবে, কাছে টানতে ইচ্ছা করবে। মলাটের ভেতরের অবস্থা তো আরো খারাপ। বাংলা যুক্তাক্ষরগুলোকে মনে হয় টাইটানিক সিনেমার ডুবো পাহাড়। উচ্চারণের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া ছাড়া কোনো গতি নেই। ওগুলো যেন তৈরি হয়েই আছে বই খুললেই আক্রমণ করবে বলে। ইংরেজি কঠিন বানানগুলো যেনো ছোট বাচ্চাদের হিবি জিবি আঁকা, ছোট বাচ্চারা যেমন হামাগুড়ি দিতে দিতে হঠাৎ কলম পেলে কাগজে ইচ্ছেমতো আঁকে, সে আঁকা বোঝার সাধ্য কারো থাকে না- ইংরেজি বানানগুলো ঠিক তেমনই। সবগুলো বর্ণ একসঙ্গে মিলিয়ে শব্দ সঠিক উচ্চারণ করা কি যেই সেই কথা?অঙ্ককে যতটা ভয় লাগে, নামতাটাকেও তাই। কে যে অঙ্কের মতো বিদঘুটে বিষয়টা আবিষ্কার করল কে জানে? অঙ্ক কি শিখতে হয় খাতাকলমে? মুখে মুখেই তো অঙ্ক করা যায়। এই যেমন, আমার কাছে ১০টা কলা আছে। কেউ চারটা খেয়ে নিলে আরো ছয়টা থাকবে। অথবা আমার ১০টা চকোলেট আছে। মা আরো ১০টা চকোলেট দিলে মোট কয়টা চকলেট হবে? উত্তর হবে- ২০টা চকোলেট। ইসস, বইয়ের সব অঙ্ক যদি এমনই থাকত।সোহানকে মা একটু বেশিই আদর করে। বাবা পড়ার জন্য বকা দিলে মা অনেক কষ্ট পায়। বাবার একটা বড় দোষ হলো বাবা গল্প করে, বুঝিয়ে পড়াতে পারে না। পড়াতে বসলে শুধু বানান জিজ্ঞাসা করে। ভয়ে তখন সোহানের চোখে জল জমতে শুরু করে। এমনই বানানগুলোকে জিলাপির প্যাঁচের মতো মনে হয়, তখন তো আরো হিজিবিজি হিজিবিজি মনে হয়। একটা বানান ভুল হলে বাবা তখন প্রতিটা বানান ২০ বার করে লেখায়। পেন্সিল দিয়ে এতবার করে লিখতে গিয়ে হঠাৎ ভুল করে ফেললে আবার ইরেজার নিয়ে ডলাডলি শুরু করতে হয়।কিন্তু সে কথা সোহানের বাবা বুঝলে তো? এমনই এক রাতে ভুল হওয়া কঠিন বানানগুলো লিখছিল সোহান। মন না থাকায় বার বার ভুল হয়ে যাচ্ছিল। অথচ ভুরু কুঁচকে পেন্সিলটার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছিল যেন সব দোষ পেন্সিলের। লাল রঙের ইরেজারটা দিয়ে যেই না মুছতে গেল ওমনি একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। কে যেন ফিক করে হেসে দিল। সোহান চট করে মাথা ঘুরিয়ে দেখে ঘরে তো কেউ নেই। তাহলে?মনের ভুল ভেবে আবার লিখতে বসল। আবারো যখন বদমাশ পেন্সিলটা ভুল বানান লিখল, ইরেজারটা দিয়ে মুছতে যেতেই কে যেন ফিক করে হেসে উঠল। হাসির শব্দটা খুব কাছ থেকে এলো। সোহান মাথা ঘুরিয়ে শব্দের উৎস খুঁজতে যেতেই লাল রঙের ইরেজার থেকে কে যেন ডেকে উঠল, এই সোহান, তুমি আমার বন্ধু হবে?কী ব্যাপার, ইরেজার কোনোদিন কথা বলতে পারে? সোহান ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলো, কে? কে আমার এত পছন্দের লাল টুকটুকে ইরেজারের ভেতর? অমনি আবার কে জানি বলে উঠল, আগে প্রমিজ করো, আমার কথা কাউকে বলবে না। তারপর বলব, আমি কে? আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, যদি আমার কথা কাউকে বলে দাও, তাহলে তোমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটার অনেক বড় ক্ষতি হবে।সঙ্গে সঙ্গেই সোহান প্রমিজ করল, না, কাউকে বলব না। এমনকি আমার সবচেয়ে আদরের, প্রিয় মাকেও বলব না। এবার বলো, তুমি কে? ইরেজার থেকে আবার সেই কণ্ঠ ভেসে এলো, আমি হলাম ভালো ভূতের ছেলে। আমার নাম ভুতুল। সোহান ভয়ে ভয়ে বলল, তুমি ভূ -উ-উ-উ-ত? ইয়ে মানে আমি ভূত খুব ভয় পাই। প্লিজ আমাকে মেরে ফেলো না। আমি তো তোমার কোনো ক্ষতি করিনি। হা, হা, হা করে হাসতে হাসতে সেই কণ্ঠ বলল, তুমি শোনোনি আমি কী বলেছি? আমি উপকারী ভূত বংশের ছেলে। কারো অনিষ্ট করার রেকর্ড আমার নেই। সোহান ভুরু কুঁচকে বলে, তাই কখনো হয়? ভূত কখনো ভালো হয়? হাসিমাখা কণ্ঠ আরো জোরে হেসে বলল, তোমরা মানুষেরা সবাই কি ভালো? ভালো মানুষ, খারাপ মানুষ আছে না? তাই যদি থাকে তবে ভালো ভূত, খারাপ ভূত থাকবে না কেন? যখন দেখি তোমার মতো কোনো বাচ্চার বিশেষ সাহায্যের প্রয়োজন, তখনই আমি তার কাছে যাই। তোমাকে দেখে আমার খুব কষ্ট লেগেছে সোহান। তুমি যখন অঙ্ক পারো না কিংবা বানান পারো না আমার খুব খারাপ লাগে। টিচাররা যখন তোমাকে বকে তখনো খুব খারাপ লাগে। সোহান অবাক হয়ে বলে, তুমি সব জানো? ভুতুল বলে চলে, তোমার ফার্স্ট টার্ম, সেকেন্ড টার্মের রেজাল্টও ভালো না। ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্ট গত অক্টোবর মাসে জন্মদিনে গুনে গুনে নয়টা মোমবাতি ফুঁ দিয়ে নিভিয়েছে সোহান। নয় প্লাস সোহানের প্রিয় কাজ মোবাইলে গেম খেলা আর চকোলেট খাওয়া। আর অপ্রিয়, অসহ্যকর কাজ হলো পড়ার বই খোলা। বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক, সমাজ, বিজ্ঞান প্রতিটা বিষয়ের বইয়ের কথা মনে হলেই জ্বর আসে। সোহান মনে মনে ভাবে, কার্টুনের বইগুলোর প্রচ্ছদ এত সুন্দর হয়! দেখলেই ইচ্ছা করে হাত বোলাতে, গাল ঘষতে। আর কী অদ্ভুত কাণ্ড, স্কুলে পড়ার একটা বইয়ের প্রচ্ছদও সুন্দর না যে দেখতে ইচ্ছা করবে, কাছে টানতে ইচ্ছা করবে। মলাটের ভেতরের অবস্থা তো আরো খারাপ। বাংলাযুক্তাক্ষরগুলোকে মনে হয় টাইটানিক সিনেমার ডুবো পাহাড়। উচ্চারণের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া ছাড়া কোনো গতি নেই। ওগুলো যেন তৈরি হয়েই আছে বই খুললেই আক্রমণ করবে বলে। ইংরেজি কঠিন বানানগুলো যেন ছোট বাচ্চাদের হিবিজিবি আঁকা। ছোট বাচ্চারা যেমন হামাগুড়ি দিতে দিতে হঠাৎ কলম পেলে কাগজে ইচ্ছেমতো আঁকে, সে আঁকা বোঝার সাধ্য কারো থাকে না- ইংরেজি বানানগুলো ঠিক তেমনই। সবগুলো বর্ণ একসঙ্গে মিলিয়ে শব্দ সঠিক উচ্চারণ করা কি যেই সেই কথা? অঙ্ককে যতটা ভয় লাগে, নামতাটাকেও তাই। কে যে অঙ্কের মতো বিদঘুটে বিষয়টা আবিষ্কার করল কে জানে? অঙ্ক কি শিখতে হয় খাতাকলমে? মুখে মুখেই তো অঙ্ক করা যায়। এই যেমন, আমার কাছে ১০টা কলা আছে। কেউ চারটা খেয়ে নিলে আরো ছয়টা থাকবে। অথবা আমার ১০টা চকোলেট আছে। মা আরো ১০টা চকোলেট দিলে মোট কয়টা চকলেট হবে? উত্তর হবে- ২০টা চকোলেট। ইসস, বইয়ের সব অঙ্ক যদি এমনই থাকত।সোহানকে মা একটু বেশিই আদর করে। বাবা পড়ার জন্য বকা দিলে মা অনেক কষ্ট পায়। বাবার একটা বড় দোষ হলো বাবা গল্প করে, বুঝিয়ে পড়াতে পারে না। পড়াতে বসলে শুধু বানান জিজ্ঞাসা করে। ভয়ে তখন সোহানের চোখে জল জমতে শুরু করে। এমনই বানানগুলোকে জিলাপির প্যাঁচের মতো মনে হয়, তখন তো আরো হিজিবিজি হিজিবিজি মনে হয়। একটা বানান ভুল হলে বাবা তখন প্রতিটা বানান ২০ বার করে লেখায়। পেন্সিল দিয়ে এতবার করে লিখতে গিয়ে হঠাৎ ভুল করে ফেললে আবার ইরেজার নিয়ে ডলাডলি শুরু করতে হয়। যত ডলাডলি করা হয়, ততই লেখাটাও কষ্ট পায়, ইরেজারও কষ্ট পায়। সোহানেরও হাত ব্যথা শুরু হয়। কিন্তু সে কথা সোহানের বাবা বুঝলে তো? এমনই এক রাতে ভুল হওয়া কঠিন বানানগুলো লিখছিল সোহান। মন না থাকায় বার বার ভুল হয়ে যাচ্ছিল। অথচ ভুরু কুঁচকে পেন্সিলটার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছিল যেন সব দোষ পেন্সিলের। লাল রঙের ইরেজারটা দিয়ে যেই না মুছতে গেল ওমনি একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। কে যেন ফিক করে হেসে দিল। সোহান চট করে মাথা ঘুরিয়ে দেখে ঘরে তো কেউ নেই। তাহলে?মনের ভুল ভেবে আবার লিখতে বসল। আবারো যখন বদমাশ পেন্সিলটা ভুল বানান লিখল, ইরেজারটা দিয়ে মুছতে যেতেই কে যেন ফিক করে হেসে উঠল। হাসির শব্দটা খুব কাছ থেকে এলো। সোহান মাথা ঘুরিয়ে শব্দের উৎস খুঁজতে যেতেই লাল রঙের ইরেজার থেকে কে যেন ডেকে উঠল, এই সোহান, তুমি আমার বন্ধু হবে? সঙ্গে সঙ্গেই সোহান প্রমিজ করল, না, কাউকে বলব না। এমনকি আমার সবচেয়ে আদরের, প্রিয় মাকেও বলব না। এবার বলো, তুমি কে? ইরেজার থেকে আবার সেই কণ্ঠ ভেসে এলো, আমি হলাম ভালো ভূতের ছেলে। আমার নাম ভুতুল। সোহান ভয়ে ভয়ে বলল, তুমি ভূ -উ-উ-উ-ত? ইয়ে মানে আমি ভূত খুব ভয় পাই। প্লিজ আমাকে মেরে ফেলো না। আমি তো তোমার কোনো ক্ষতি করিনি। হা, হা, হা করে হাসতে হাসতে সেই কণ্ঠ বলল, তুমি শোনোনি আমি কী বলেছি? আমি উপকারী ভূত বংশের ছেলে। কারো অনিষ্ট করার রেকর্ড আমার নেই। সোহান ভুরু কুঁচকে বলে, তাই কখনো হয়? ভূত কখনো ভালো হয়হাসিমাখা কণ্ঠ আরো জোরে হেসে বলল, তোমরা মানুষেরা সবাই কি ভালো? ভালো মানুষ, খারাপ মানুষ আছে না? তাই যদি থাকে তবে ভালো ভূত, খারাপ ভূত থাকবে না কেন? যখন দেখি তোমার মতো কোনো বাচ্চার বিশেষ সাহায্যের প্রয়োজন, তখনই আমি তার কাছে যাই। তোমাকে দেখে আমার খুব কষ্ট লেগেছে সোহান। তুমি যখন অঙ্ক পারো না কিংবা বানান পারো না আমার খুব খারাপ লাগে। টিচাররা যখন তোমাকে বকে তখনো খুব খারাপ লাগে। সোহান অবাক হয়ে বলে, তুমি সব জানো? ভুতুল বলে চলে, তোমার ফার্স্ট টার্ম, সেকেন্ড টার্মের রেজাল্টও ভালো না। ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্ট খুব ভালো না হলে তোমাকে ওপরের ক্লাসে ওঠার পারমিশন দেয়া হবে না। ঠিক কিনা বলো? সোহান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, হুম। তোমরা মানুষেরা সারাজীবন তো ভূতদের দোষই দিয়ে গেলে, ভূতদের ভালো কিছু দেখলে না। আমার মা যেভাবে তোমাকে সাহায্য করার জন্য কয়েকদিনের জন্য তোমার কাছে পাঠাল, তোমরা পাঠাতে? তোমার বাবা এমনিই গরম মেজাজের, তার ওপর পড়া না পারলে তোমাকেকেমন বকা দেয় বলো? আমি নিজের কানে শুনেছি তোমাকে কানমলা দিয়ে বলতে, 'ইচ্ছে করে পড়াশোনায় মন দাও না, তাই না? যদি শক্ত মার দেই, এখনই মাথা থেকে দুষ্টুমির ভূত নেমে যাবে।' শুনে আমি আর আমার মা-বাবা সবাই অনেক হাসলাম। যে নিজেই রেগে ভূত হয়ে যায়, সে কী করে ছেলেকে আবার ভূত তুলে গালি দেয়? 🛑বইটি কেনো পড়বেন এবং কিনবেন? বইটি ছোটদের নিয়ে লেখা হলেও, এর মধ্যে অনেক শিক্ষণীয় কিছু রয়েছে, যেমন: কিভাবে পড়াশোনায় মন বসাতে হয়, সু- মন কু - মন সম্পর্কে ধারণা, ইত্যাদি। পড়লেই আপনি বুঝতে পারবেন কেনো আমি বলছি, বইটি থেকে ছোটরা অনেক কিছু শিখতে পারবে। একটি ছেলে কিভাবে খারাপ থেকে ভালো হয়ে যায়, তার একটি গল্প নিয়ে করা হয়েছে এই বইটি। সুতরাং, বইটি আপনারা নির্দ্বিধায় পড়তে পারেন। 🛑প্রচ্ছদ এবং প্রোডাকশন কোয়ালিটি: এ বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন বিখ্যাত কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব। ছোটদের জন্য সুন্দর ভাবে সাজানো হয়েছে এ বইটি, এ বইটির প্রোডাকশন কোয়ালিটি দেখতে গেলে বইটি বেশ ভালো করা হয়েছে, আশা করি আপনাদেরও খুব ভালো লাগবে বইটি এবং বিশেষ করে শিশু কিশোরদের। 🔴সোহান: তার বয়স ৯ বছর। নয় প্লাস সোহানের প্রিয় কাজ মোবাইলে গেম খেলা আর চকোলেট খাওয়া। আর অপ্রিয়, অসহ্যকর কাজ হলো পড়ার বই খোলা। বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক, সমাজ, বিজ্ঞান প্রতিটা বিষয়ের বইয়ের কথা মনে হলেই জ্বর আসে। সোহান মনে মনে ভাবে, কার্টুনের বইগুলোর প্রচ্ছদ এত সুন্দর হয়! দেখলেই ইচ্ছা করে হাত বোলাতে, গাল ঘষতে। 🔵ভুতুল (অর্থাৎ ইরেজার ভূত): বইটির অন্যতম চরিত্র ভুতুল, একটি বাচ্চা ভূত, ভালো মনের ভূত, দুষ্টু নয়, খারাপ নয়। যে সবাইকে ভালো উপদেশ দেয়। 🔵চরিত্র বিশ্লেষণ: বইটিতে বিশেষ ভাবে দুটি চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে, প্রথমটি হলো সোহান, যে পড়া লেখায় মোটেও মনোযোগী নয়, প্রথম সাময়িক এবং দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে নি, অন্যদিকে, তার ভূত বন্ধু ভুতুল যে একটু বাচ্চা ভূত, সে সোহানকে পুরোপুরি লেখা পড়ায় ফিরিয়ে আনে। গল্পে এই দুটি চরিত্র বেশি উঠে এসেছে। এছাড়াও অন্যান্য চরিত্র ও তুলে ধরা হয়েছে। যেমন: বাবা, মা, শিক্ষক, বন্ধু ইত্যাদি। 🛑বইটিতে যে লাইন গুলো শিক্ষণীয় :- (১) মন দিয়ে পড়লে কেউ কোনোদিন পড়া ভোলে না। কাল সকাল থেকে চেষ্টা করে দেখো। পড়াকে ভালোবাসলে পড়াও তোমাকে ভালোবাসবে। আরো একটা কথা, বাবা তোমাকে বকা দেয় তো তোমার ভালোর জন্যই। তাই বাবার ওপর মনে মনে রাগ পুষে রেখো না বন্ধু (২) পড়াকে ভালোবাসলে পড়াও তোমাকে ভালোবাসবে। (৩) ভালো কোনো শিক্ষা নিজের ঘর থেকেই শিখতে হয়। (৪) মন দুই প্রকার। একটা হলো সু-মন। আরেকটা কু-মন। (৫) সু- মনের কাজ হলো মন দিয়ে পড়ালেখা করা, টিচারদের, মুরব্বিদের কথা শোনা, সম্মান করা, কারো সঙ্গে বেয়াদবি না করা, বড়দের সঙ্গে দেখা হলে প্রথমেই সালাম দেয়া, খাওয়ার সময় খাওয়া, খেলার সময় খেলা করা, সবসময় খেলার কথা মাথায় না আনা, সব সময় ভিডিও গেম, টেলিভিশন না দেখা, অলসতা না করা, পড়ার ভয়ে বেশি বেশি না ঘুমানো আর সব সময় হাসি- খুশি থাকা (৬) একজন ভালো হবে না খারাপ হবে সেটা আর কেউ ঠিক করে না, ঠিক করে হলো মন। (৭)তবে একটা কথা সব সময় মনে রাখবে, যুদ্ধ করুক আর মারামারি কাটাকাটি যা-ই করুক সু-মন, কু-মন দুজনেই কিন্তু তোমার চাকর। তুমি তাদের মালিক। ওরা তোমারটা খায় তোমারটা ই পড়ে। 🔵 বইটিতে ইন্টারেস্টিং, মজা এবং প্রিয় যে লাইন গুলো:- (১)সবারই তো শখ থাকে, তাই না? তাহলে বলো তো- শখ কয় প্রকার প্রশ্ন শুনে অনেক ভেবেও উত্তর খুঁজে পায় না ভুতুল। সোহান হাসতে হাসতে বলে শখ দুই প্রকার। এক নম্বর হলো ভূতে পাওয়া শখ। দুই নম্বর অদ ভূত শখ। দুজনেই হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ে। (২) এখন থেকে সত্যি দুষ্টুমি কমিয়ে দেব আর সু-মনের সঙ্গে ভাব জমানোর চেষ্টা করবো। (৩) এবার বল তো, আলোর গতি বেশি না শব্দের গতি বেশি? লাফ দিয়ে উঠে সোহান বলে, আলোর গতি বেশি। ভুতুল হা, হা, হা করে উঠতেই রেগে যায় সোহান। হাসছো কেন? বিজ্ঞান বইয়ে লেখা আছে তো, আলোর গতি বেশি। সেকেন্ডে ১ লাখ ৮৬ হাজার মাইল। (৪)ভুতুল হাসতে হাসতে বলে, তাই নাকি? ঊল তো এরচেয়েও গতি বেশি কার? সোহান চোখ বড় বড় করে জিজ্ঞাসা করে- কার? মনের গতি। (৫) সোহানের আব্বু বলে, রেজাল্ট ভালো হলে কারো এত মন খারাপ হয়- এই প্রথম দেখলাম। আজকালকার ছেলেপুলেগুলো যে কেমন, কিছুই বুঝি না। 🛑গল্পের শুরু এবং এন্ডিং: গল্পের শুরুতে দেখা যায় সোহান নামে। একটি ছেলে পড়া লেখায় বাজে, পড়া শোনায় ভালো নয়, এবং এন্ডিং এ দেখা যায়, সোহান পরীক্ষায় খুব ভালো রেজাল্ট করেছে, এর মধ্যে রহস্য টা কি! একটা বাচ্চা ভূত তাকে পড়া লেখায় ফিরিয়ে এনেছে, তাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে, সুন্দর সুন্দর কথা, যুক্তি, উক্তি দিয়ে। তারা বেশ মজাও করেছে, সব মিলিয়ে বইটি মজার, শিক্ষনীয়, এবং সুন্দর একটি বই। 🛑বইটির উৎসর্গ: " তিন রাজকন্যাকে স্বস্তিকা, অনুশকা, রুদ্রনী 🛑 কারা কারা বই টি পড়তে পারবে? বইটি যেহেতু শিক্ষণীয় এবং মজার, সেজন্য আমি বলবো, ৬ বা ৭ বছর থেকে ১১ বা ১২ বছর বয়স পর্যন্ত সবাই পড়তে পারবে, এছাড়াও ১৩ থেকে বাকি সবাই বইটি বেশ ভালো ভাবে পড়তে ও উপভোগ করতে পারবে বলে আশা করি। 🔵বই সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য: নাম: ইরেজার ভূত লেখক: সত্যজিৎ বিশ্বাস প্রকাশক: প্রিয়মুখ প্রকাশন মোট পেজ সংখ্যা: ২৬ প্রকাশ কাল: প্রথম পাবলিশড (1st Published) ২০১৯ সাল। ভাষা: বাংলা দেশ: বাংলাদেশ 🔴ব্যাক্তিগত রেটিং: ৪.৫/৫ 🔵রিভিউ করেছি: মুহাম্মদ রাফি বয়স: ১০ বছর পাঠক - লেখক - রিভিউয়ার Size: হার্ড কভার পেশা: শিক্ষার্থী ISBN - 978-984-92408-8-4 🔵🔴🛑বি দ্রঃ আশা করি রিভিউটি আপনাদের ভালো লাগবে ইনশাল্লাহ, সবাইকে অগ্রিম ধন্যবাদ। ___________________সমাপ্ত____________________"

সাওদা সিদ্দিকা

সাওদা সিদ্দিকা , Aug 12, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"বইয়ের নাম : ইরেজার ভূত লেখক: সত্যজিৎ বিশ্বাস রিভিউ করছি: সাওদা সিদ্দিকা নূর #priyomukh_Progoty_book_club_review_2021 . ছোটোবেলায় মায়ের মুখে মেছো ভূত, গেছো ভূত, শাঁকচুন্নি আর ডাইনীর শরীর হিম হওয়া গল্প শুনে অনিচ্ছা সত্ত্বেও অপছন্দের খাবার গলাধঃকরণ, পছন্দের খেলনাটা হাতছাড়া করা, মধ্যাহ্নের ভোজ সেরে ঘুমুতে যাওয়া মনে হয় সকল বাচ্চাদের নিত্য দিনের কাজ ছিল। আমার তো এখনও মনে আছে, সন্ধ্যে বেলায় ভূতের ভয়ে মায়ের কোলে বাদর ঝোলা দিতাম। মাকে ছেড়ে এক পা-ও নড়তাম না। শেষমেশ মায়ের হাতে পিটুনি খেয়ে কাঁথা মুড়ি দিয়ে জুবুথুবু হয়ে থাকতাম। আজ সে-সব দিনের কথা ভেবে খুব হাসি আর ভাবি যদি ভূতগুলো এমন ভয়ংকর না হয়ে ভালো হতো তবে কেমন হতো? বুড়ো বয়সে আমার এমন হাস্যকর প্রশ্ন শুনে পাঠক ভাবতে পারেন ‘বুড়ো বয়সে ভীমরতি’ হয়েছে বুঝি। ভূত সে আবার ভালো হয় নাকি? তা আপনারা যা-ই ভাবেন, আমি কিন্তু আমার এই প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গিয়েছি ‘প্রিয়মুখ প্রকাশনের’ মজার শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ ‘ইরেজার ভূত’ নামক বইয়ে। চলুন একটু পাঠ অভ্যন্তরে প্রবেশ করি। . . ▪️পাঠ অভ্যন্তরে: বয়স আমার যা-ই হোক না কেন, শিশুতোষ বইয়ের প্রতি টান আজন্মের। রঙ বেরঙের কার্টুন আর হাস্যকৌতুকে ভরপুর বইগুলো দেখলেই সেই শিশুকালের সোনালী দিনে ফিরে যাই। আর এই আগ্রহ থেকেই ‘ইরেজার ভূত’ বইটা পড়া। বইয়ের নাম দেখে ভেবেছিলাম, এত রকম মেছো ভূত, গেছো ভূত, মামদো ভূত থাকতে লেখক এ আবার কেমন অদ্ভুত ভূত ডাকলেন? কৌতুল নিয়ে বইটা পড়া শুরু করার পর মনে হলো বইটির বিষয়বস্তুর সাথে নামটা একদম খাপেখাপ। আমাদের বইয়ের যে মূল চরিত্র, তার নাম হচ্ছে সোহান। বয়স তার নয়। পড়াশোনায় বড্ড অমনোযোগী। শুধুই অমনোযোগী নয়, বিগত দুই টার্মের পরীক্ষায় সে অত্যধিক খারাপ রেজাল্ট করেছে। বাংলা যুক্তবর্ণকে সোহানের মনে হয় টাইটানিক সিনেমার ডুবো পাহাড়। আবার বাবা যখন বানান জিজ্ঞেস করে, তখন বানানকে মনে হয় জিলাপির প্যাঁচ। এই জিলাপির প্যাঁচ ছাড়াতে, মানে বানানে ভুল করলে সেই বানানটা ইরেজার দিয়ে মুছে আরো বিশবার করে লিখতে হয় সোহানকে। চোখে টলমল জল ধরে মন খারাপ করে এমনই এক রাতে সোহান যখন তার লাল রঙের ইরেজার দিয়ে বানান মুছছিলো ঠিক তখনই তার সাথে পরিচয় হলো আমাদের গল্পের দ্বিতীয় প্রধান চরিত্র ভুতুলের সাথে। ‘ভুতুল’ আবার জ্ঞানে-মানে-আদর্শে অত্যন্ত ভালো ও উপকারী বংশের ভুত। কারো অনিষ্ট করার রেকর্ড তার একদমই নেই। কোনো বাচ্চাদের যদি সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তখন ভুতুল তাকে সাহায্য করতে ছুটে আসে। তাই সোহানের পড়াশোনার এত দুর্গতি দেখে ভুতুল আর ইরেজারের ভেতর লুকিয়ে থাকতে পারে না। সোহানকে সাহায্য করার জন্য ইরেজার থেকে বের হয়ে আসে। আর এখান থেকেই শুরু হয়, মূল কাহিনির সূচনা। তো প্রিয় পাঠক, ভুতুল কি সোহানকে সাহায্য করেছিল, সাহায্য করলে কী সাহায্য করেছিল? সোহান কি ভুতুলকে ভয় পেত, নাকি ওরা বন্ধু হয়েছিল? প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে পড়তে হবে এই ছোট্ট কলেবরের মজার বইটি। আমি মনে করি শিশুদের জন্য খুবই উপযোগী ও উপকারী এই বইটি। . . ▪️পাঠ অভিমত: শিশুরা সবসময়ই জাগতিক নিয়ম শৃঙ্খলা ভেঙে কল্পলোকের বর্ণিল জগতে ডানা মেলে অবাধ্য বিচরণ করতে চায়। তাই শিশুতোষ বইগুলোও হতে হয় বর্ণিল ও সমাজের সকল নিয়ম শৃঙ্খলার বাইরে। আমি মনে করি অন্যান্য বইয়ের থেকে শিশুদের জন্য বই লেখা কষ্টকর। কারণ বইটি লেখার সময় একজন লেখক প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ হিসেবে নয়, তার পৃথিবীটা দেখতে হয় একটা শিশুর চোখ দিয়ে। কল্পনা করতে হয় একটা শিশুর মস্তিষ্ক দিয়ে। বুঝতে হয় একটি শিশুর ভাষায়। তাই শিশুতোষ বই লিখতে হয় সহজ সাবলিল ও ছন্দবদ্ধ রসাত্মক ধারায় শিশুদের মতো করে। শিশুদের বইয়ে দিতে হয় কল্পনার ছোঁয়া, অনিয়মের আঁকিবুঁকি। আর এত কিছু ঠিক করে খুব সুক্ষ্ম ভাবে শিশুদের মস্তিষ্কে গেঁথে দিতে হয় শিক্ষা। একেবারে একের ভেতর সব। আর আমি এই সব কয়টি উপাদানই ‘ইরেজার ভূত’ বইটিতে পেয়েছি। বইটির প্রচ্ছদ খুব একটা মনে না ধরলেও বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টানোর সাথে সাথে যখন রঙিন ভুতুল আর সোহানের মজার কাজগুলোর সুন্দর ছবি দেখি, ঠিক তখনই বইটি পড়ার প্রতি প্রচন্ড টান অনুভব করি। এক কথায় বইয়ের ভেতরের সুন্দর অলংকরণ শিশুদের বইটি পড়তে আগ্রহী করে তুলবে। এরপর দেখলাম লেখক গতানুগতিক শিশুতোষ গল্পের বইয়ের বাইরে গিয়ে এই বইটি লিখেছেন। কারণ, যেখানে সচরাচর সব গল্পের বইয়ে ভূতকে ভয়ংকর করে দেখানো হয়, ভূতের কোনো অস্তিত্ব না থাকার পরও শিশুরা ভূতের ভয়ে তটস্থ থাকে, লেখক সেই জায়গা থেকে বের হয় এনেছেন এক উপকারী ভূতকে। আমি নিশ্চিত শিশুরা বইটা পড়ার সময় যারপরনাই অবাক হবে এই উপকারী ভূতকে পেয়ে। শুধু অবাকই হবে না, বইটিতে তারা আলাদা স্বাদ পাবে। বইটির বেশিরভাগ জায়গাজুড়েই লেখকের অসাধারণ রসবোধ ফুটে উঠেছে। বইটির সবথেকে মজা পেয়েছিলাম ভুতুল ও সোহানের বন্ধু হবার নিয়মটা দেখে৷ ছোটো বেলায় কারো সাথে বন্ধু হতে গেলে একে অপরের হাতের কনিষ্ঠা আঙ্গুল মেলাতাম। কিন্তু এখানে ইরেজারকে ডান গালে দু’বার, বাম গালে দু’বার আর নাকের ডগায় একবার ঘষা দিলেও যে বন্ধু হওয়া যায়, এটা ভেবে খুবই হেসেছিলাম। তাছাড়া ভুতুলের আরো কিছু মজার যুক্তি ছিল। যেমন মানুষের কান আর চোখ কেন দু’টো আর মুখ কেন একটা? আলোর গতি ও মনের গতি, সু-মন ও কু-মন নিয়ে মজার যুক্তিগুলো পড়লে শিশুরা আনন্দের পাশাপাশি অনেক কিছু শিখবে যেহেতু বইটির মূল অডিয়েন্স শিশুরা আর বইটির মূল উদ্দেশ্য আনন্দের ভেতর শিক্ষা দেয়া, সেহেতু এটাই বইটির বিশেষত্ব। এই বইটি শুধু শিশুদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলবে না, শিশুদের জীবনমুখী কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিবে। যেমন, ভালো আচরণ, বাবা-মাকে কষ্ট না দেয়া, নিজের মনের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা। অর্থাৎ জীবনে ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিবে। বইটির ভালোলাগার থেকে মন্দলাগা ছিল নিতান্তই ক্ষুদ্র। আগেই বলেছি বইটির প্রচ্ছদ খুব একটা ভালো লাগেনি। প্রচ্ছদ শিল্পী আহসান হাবিব অনেক সুন্দর প্রচ্ছদ তৈরী করেন। তিনি চাইলে প্রচ্ছটা আরো আকর্ষণীয় করতে পারতেন। তারপর বইটির বিরামচিহ্নের ব্যবহারে কিছু ত্রুটি নজরে এসেছে। আর বইটি একটু বেশিই ছোটো মনে হয়েছে। কিন্তু যেহেতু আমি বুড়ো পাঠক আর বইটির মূল অডিয়েন্স শিশুরা, তাই হয়ত শিশুদের জন্য বইটির আকার ঠিকই আছে। বাদবাকি সবই দশে দশ। অনেক বলে ফেলেছি, আর নয়। এক কথায় এই বইটি একটি স্বার্থক ছোটো শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ। বইটির আকৃতির থেকে শিক্ষাটা অনেক বড়ো। যে কেউ তাদের বাসার শিশুদের জন্য বইটি নিতে পারেন৷ আশা করব আপনার শিশু বইটি পড়ে অনেক কিছু শিখবে। আরো একটা বিশেষ কথা। এখন শিশুদের বই নিয়ে খু্বই কম কাজ হচ্ছে। এর কারণ শিশুরা এখন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের দিকে অত্যধিক ঝুঁকে পড়েছে। বই দেখে গল্প পড়া এখন শিশুদের কাছে খুবই বোরিং একটা কাজ। কালের এমনই এক দুঃসময়ে ‘প্রিয়মুখ প্রকাশন’ ঝুঁকি নিয়ে যে শিশুদের বই প্রকাশ করছে, যা সত্যই আশাজাগানিয়া। আশা করব আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বইয়ের ছোঁয়ায় সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠবে। আর শিশুদের পিতা-মাতাকে বলব, আপনাদের সন্তানের হাতে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের পরিবর্তে বই তুলে দিন। তাদের মানসিক বিকাশে সাহায্য করুন। . . ◾এক নজরে বই পরিচিতি: ▪️বইয়ের নাম: ইরেজার ভূত ▪️লেখক: সত্যজিৎ বিশ্বাস ▪️বইয়ের ধরণ: শিশুতোষ গল্প ▪️প্রকাশনায়: প্রিয়মুখ প্রকাশন ▪️পৃষ্ঠা: ২৪ ▪️মুদ্রিত মূল্য: ২০০টাকা ▪️পার্সোনাল রেটিং: ৩.৫/৫"

Moheul Islam Mithu

Moheul Islam Mithu , Jul 30, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"#priyomukh_Progoty_book_club_review_2021 বইঃ ইরেজার ভূত লেখকঃ সত্যজিৎ বিশ্বাস প্রকাশকঃ প্রিয়মুখ প্রকাশন সালঃ২০১৯ রিভিউয়ার: মহিউল ইসলাম মিঠু বইটা কেন নিলামঃ শরীর সামান্য খারাপ ছিল। মনে একটু অবসাদ অবসাদ ভাব ছিল। তাই একটু হালকা মেজাজের বই খুঁজছিলাম সময়টা কাটানোর জন্য। এইজন্যই এই বইটা। চরিত্রসমূহঃ সোহান- আমাদের গল্পের নায়ক! বয়স ৯ , পড়াশোনায় আগ্রহ কক। ভুতুল- অরফে ইরেজার ভূত। ইনি ভালো ভূতের বংশধর। পড়াশোনায় সোহানের দূর্গতি দেখে সাহায্য করতে আসে। সোহানের মা- সোহানকে খুবই আদর করে। সোহানের বাবা- পড়াশোনার ব্যাপারে খুবই কড়া। একটা বানান একবার ভুল হলে শাস্তি হিসেবে অনেকবার লিখতে দেয়। এইজন্য সোহান তাকে খুব ভয় পায়। ভালো দিকঃ ১. লেখার হিউমার- বইটা যে আমাকে প্রথম তিন পেজের মধ্যেই হুক করে ফেলল। এর প্রথম কারণ লেখকের হিউমার, আর লেখাতে সেটা বেশ ভালোভাবেই ব্যবহৃত হয়েছে। ২. সুন্দর ইলাস্ট্রেশনঃ আহসান হাবীরের করা কিউট কিউট ইলাস্ট্রেশন বই পড়ার আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। শিশু-কিশোর পাঠিকদের খুব ভালো লাগবে। ৩. পরিসর খুব ছোটঃ একই সাথে এটা একটা ভালো দিক এবং খারাপ দিক। ভালো কারণ, এত দ্রুত শেষ হয়ে যায় যে খারাপ আগাটা আসার অবকাশই ছিল না। আর এই বইয়ের টার্গেট অডিয়েন্স সম্ভবত এই সাইজের বই-ই পছন্দ করবে। কিন্তু আমি তো আরেকটু বড় চাচ্ছিলাম। আগে যদি জানতাম এত ছোট বই তাহলে হিয়তো অন্যটা বেছে নিতাম। বইটই অ্যাপের প্রতি অনুরোধ থাকবে, তারা যেন বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যা বা শব্দসংখ্যা যোগ করে। খারাপ দিকঃ ১. বইটইয়ের ইবুক এডিশনে কথোপকথন গুলো একের পর এক লিখে যাওয়া হয়েছে। যেমনঃ প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের পাশেই উত্তরদাতার উত্তর। কথোপকথনগুলো আলাদা আলাদা প্যারায় হলে পড়তে আরাম হয়, আর একসাথে পাশাপাশি থাকলে পড়তে অসুবিধা লাগে একটু। তবে আমার ধারণা ইবুকে কনভার্ট করতে গিয়ে আলাদা আলাদা প্যারা একসাথে হয়ে গেছে। তবে আমি যেহেতু বুঝেছি, অন্যান্য পাঠকও সম্ভবত বুঝবেন। ২. এটা সবার জন্য খারাপ দিক না যদিও, তবুও উল্লেখ করা দরকার তাই বলছি। প্রথমের লেখার হিউমারের প্রশংসা করেছিলাম, কিন্তু কোথাও কোথাও এই হিউমারটা আনতে গিয়েই লেখাটা যেন একটু মেকি টাইপ হয়ে গেছে। ন্যাকামি ন্যাকামি লাগছে। তবে এখানে বলে রাখা ভালো, এই বইয়েত মূল অডিয়েন্স শিশু-কিশোররা। তাদের জন্য হয়তো ব্যাপারটা ঠিকই আছে। ৩. পরিসর খুব ছোটঃ এটার ব্যাপারে বিস্তারিত আগেই বলে ফেলেছি। বইটা পড়ার পর মনে মনে এই বই সংশ্লিষ্ট সবাইকে মনে মনে ধন্যবাদ দিলাম, আমার খারাপ সময়টাকে সুন্দর করার জন্য। কিন্তু এত ছোট যে মন ভরল না। এখন আমার আরেকটা বই খুঁজতে হবে, মন খারাপের বাকি অংশ ঝেটিয়ে বিদায় করার জন্য! তবে সবমিলিয়ে, বইটা ভালো ছিল। বিশেষ করে বইয়ের টার্গেট অডিয়েন্স, অর্থাৎ শিশু-কিশোর, এদের জন্য বইটা একটা ভালো চয়েজ হতে পারে। বইয়ের প্রতিটা অংশে আন্তরিকতার ছাপ স্পষ্ট যেটা পাঠক হিসেবে খুব ভালো লেগেছে। এই ছিল সত্যজিৎ বিশ্বাসের "ইরেজার ভূত" নিয়ে আমার কথকবার্তা।।"

প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)

বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর

বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

সম্পর্কিত অন্যান্য বই

সবগুলো দেখুন →
আবৃত্তি প্রতিযোগিতা
একটু পড়ে দেখুন
আবৃত্তি প্রতিযোগিতা সত্যজিৎ বিশ্বাস
কোনো রেটিং নেই
TK. 200 -14% OFF
TK. 172
অপারেশন সুন্দরবন
একটু পড়ে দেখুন
অপারেশন সুন্দরবন সত্যজিৎ বিশ্বাস
কোনো রেটিং নেই
TK. 250 -14% OFF
TK. 215
নাসিরুদ্দিন হোজ্জা
একটু পড়ে দেখুন
নাসিরুদ্দিন হোজ্জা সত্যজিৎ বিশ্বাস
কোনো রেটিং নেই
TK. 300 -14% OFF
TK. 258
বীরবল
একটু পড়ে দেখুন
বীরবল সত্যজিৎ বিশ্বাস
কোনো রেটিং নেই
TK. 300 -14% OFF
TK. 258
ওগো শুনছো
একটু পড়ে দেখুন
ওগো শুনছো মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহ
(7)
TK. 260 -50% OFF
TK. 130
মিসির আলির গল্পমালা
একটু পড়ে দেখুন
মিসির আলির গল্পমালা হুমায়ূন আহমেদ
(10)
TK. 300 -20% OFF
TK. 240
শেষ পরিণতি
একটু পড়ে দেখুন
শেষ পরিণতি প্রফেসর দেওয়ান মোঃ আজিজুল ইসলাম
(2)
TK. 140 -40% OFF
TK. 84
প্রেমের গল্প
একটু পড়ে দেখুন
প্রেমের গল্প হুমায়ূন আহমেদ
(16)
TK. 300 -20% OFF
TK. 240

বইটির রিভিউ লিখুন

আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।

বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন

আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।

"ইরেজার ভূত" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন

রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।

বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন

সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।

বইটি শেয়ার করুন

বন্ধুদের সাথে এই বইয়ের তথ্য শেয়ার করতে পারেন

বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন

পাতা:

পাতা 1
ইরেজার ভূত পাতা: 1 / 6
পাতা 2
ইরেজার ভূত পাতা: 2 / 6
পাতা 3
ইরেজার ভূত পাতা: 3 / 6
পাতা 4
ইরেজার ভূত পাতা: 4 / 6
পাতা 5
ইরেজার ভূত পাতা: 5 / 6
পাতা 6
ইরেজার ভূত পাতা: 6 / 6
পাতা / 6
এই তথ্যটি জেনে রাখুন।

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।

হোম
0
কার্ট
অফার সাইন ইন