হোম
0
কার্ট
অফার সাইন ইন
বই খোঁজা হচ্ছে...

কোনো বই খুঁজে পাওয়া যায়নি

বানান ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন অথবা অন্য শব্দ দিয়ে খুঁজুন

প্রগতি - PROGOTY
হারকিউলিস রহস্য - মুহাম্মাদ ইব্রাহীম এর প্রচ্ছদ
একটু পড়ে দেখুন

১ম প্রকাশ, ২০২১

ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

হারকিউলিস রহস্য

8 Ratings | 5 Reviews
TK. 172 TK. 200 -14% OFF

1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি

কবি সাহেব লাশের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। গতকাল রাতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। লাশের শরীর ভেজা। বৃষ্টিতে সারা রাত লাশ ভিজেছে। লাশের পুরুষাঙ্গ থেকে নিচের অংশ রক্তে ভিজে...
একটু পড়ে দেখুন
ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

বইটির বিস্তারিত দেখুন

কবি সাহেব লাশের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। গতকাল রাতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। লাশের শরীর ভেজা। বৃষ্টিতে সারা রাত লাশ ভিজেছে। লাশের পুরুষাঙ্গ থেকে নিচের অংশ রক্তে ভিজে আছে। সারা শরীরে আর ক
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন
Title হারকিউলিস রহস্য
Author মুহাম্মাদ ইব্রাহীম
Publisher অবসর প্রকাশনা সংস্থা
Edition ১ম প্রকাশ, ২০২১
Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) 112
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা
Category উপন্যাস ও সাহিত্য
Weight 0.24 Kg
ISBN 9789848799635
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন

বিজ্ঞপ্তি

গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।

Reviews and Ratings

Rate this product

3.25

8 Ratings and 5 Reviews

★★★★★
1
★★★★☆
4
★★★☆☆
1
★★☆☆☆
0
★☆☆☆☆
2

পাঠকদের মন্তব্য

৫টি
Rasheda Sultana Nusaiba

Rasheda Sultana Nusaiba , Jun 11, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"#Progoty_Book_Club_Review_Competition ▪️রিভিউ লেখকের নাম: রাশেদা সুলতানা নুছাইবা ▪️বইয়ের নাম: হারকিউলিস রহস্য ▪️লেখক: মুহাম্মাদ ইব্রাহীম ▪️ধরণ: রহস্য ও গোয়েন্দা উপন্যাস ▪️প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ▪️প্রকাশনী: অবসর ▪️প্রচ্ছদ: মোঃ আবিদ মিয়া ▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১২ ▪️মুদ্রিত মূল্য: ২০০ টাকা "একটি বই পড়ার দুটি উদ্দেশ্য থাকা উচিত; একটি হল- বইটিকে উপভোগ করা, অন্যটি হল- বইটি নিয়ে গর্ব করতে পারা।" — বার্ট্রান্ড রাসেল। সম্প্রতি পড়ে শেষ করা বইটি সম্পর্কে জোর গলায় বলতে পারি, এই দুটি উদ্দেশ্যই পূরণ হয়েছে! ন্যায়-অন্যায়ের দোটানা, রহস্য আর অ্যাডভেঞ্চারের মিশেলে এক অভিনব উপন্যাস "হারকিউলিস রহস্য"। ▪️কাহিনী পর্যালোচনা: "হারকিউলিস রহস্য" বইয়ের শুরুটাই চমৎকার! মুহাম্মাদ ইব্রাহীম ভূমিকাতেই বলেছেন, তনুর মতো ধর্ষিতার ছবি দেখে পরিবারের কেউ বলে ভ্রম হলেই আমরা কেবল আঁতকে উঠি, আর ভুল ভেঙ্গে গেলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি। এমন ভাবনা নিয়ে আর কেউ অনুশোচিত হোক বা না হোক, একজন লেখক হিসেবে মুহাম্মাদ ইব্রাহীম তাঁর অনুশোচনা এবং দায়বদ্ধতা থেকেই লিখেছেন এই উপন্যাসটি। ধর্ষক শুধু একটা মেয়ের ক্ষতি করে না, তার পুরো পরিবারকেও ধ্বংস করে। আদিম প্রবৃত্তি ও বর্বরতাকে সামনে এনে সভ্যতাকে হাজার বছর পিছিয়ে দেয়! এদিকে দেশের আইন ব্যবস্থা শক্তিশালী নয়, ক্ষমতার সামনে সুবিচার পর্যুদস্ত। এই যখন অবস্থা, ঠিক তখনই দেবদূতের মতো হারকিউলিসের আবির্ভাব, যার মূলমন্ত্র ধর্ষক নিধন। নাম থেকে শুরু করে কার্যপদ্ধতি— সবই রহস্যে ঘেরা। পুলিশ এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তাগণ এই কেসের কোনো কূল কিনারা করতে না পেরে শরণাপন্ন হলেন কবি সাহেবের কাছে। উঠতি তরুণ লেখক কবি সাহেব, শখের বশে গোয়েন্দাগিরি করেন। মেধা এবং পর্যবেক্ষণ শক্তি অসাধারণ তাঁর। কিন্তু চেনাজানা কাউকে খোঁজা সহজ; অজানা, অদৃশ্যের মোকাবেলা সহজ নয়। সবচেয়ে বড় কথা হারকিউলিস ছেলে না মেয়ে, সংখ্যায় এক নাকি অনেক, ধর্ষিতার পরিবারের কেউ নাকি ভাড়াটে খুনি— এগুলোও জানে না কেউ! তাছাড়া ধর্ষকের খুনিকে খুঁজে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো ঠিক হবে কিনা এই নিয়েও কবি সাহেব সন্দিহান। তবুও কবি সাহেব বন্ধু তামিম এবং গোয়েন্দা বিভাগের রিমিকে নিয়ে অনুসন্ধানে নামলেন। এরপর নানা রকম প্রতিকূলতা শুরু, ধর্ষিতা এবং ধর্ষকের পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার মুহূর্তগুলো মোটেও সুখকর ছিলো না। এদিকে বিবেক বলছে এই অনুসন্ধানের ইতি টানতে। এমতবস্থায় কবি সাহেব সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে ভাবতে শুরু করলেন। আইনের লোক হয়ে নয়, বরং অনেক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার তাগিদে হারকিউলিসের মুখোমুখি তাঁকে হতেই হবে। গল্পের মাঝে আরেক গল্প, বিবেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ আমরা সবাই। উপন্যাসের শেষ পৃষ্ঠা অব্দি না পৌঁছুলে পাঠক সব প্রশ্নের উত্তর পাবে না! তাই সাত-পাঁচ না ভেবে উৎসাহী পাঠক দ্রুত পড়ে ফেলুন মাত্র ১১২ পৃষ্ঠার উপন্যাস "হারকিউলিস রহস্য"। ▪️পাঠানুভূতি ও ভালো লাগা: "হারকিউলিস রহস্য" কবি সাহেব সিরিজের তৃতীয় এবং আমার পড়া দ্বিতীয় বই। "কক্সবাজারে কবি সাহেব" পড়েছিলাম মাসখানেক আগে, তুলনামূলকভাবে "হারকিউলিস রহস্য" অনেক বেশি ভালো লেগেছে আমার কাছে। হয়তো অবচেতন মনে ধর্ষক সমাজের যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু কামনা করি তাই। তাছাড়া লেখক মুহাম্মাদ ইব্রাহীমের স্বতন্ত্র লিখনশৈলী কবি সাহেবকে পূর্বের চেয়ে রহস্য উদঘাটনে তৎপর ও চৌকস করে তুলেছে। মূল কাহিনীর ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি লেখক অনেক সাহসিকতার সাথে সমাজে বিরাজমান নানা রকম অবক্ষয় উল্লেখ করেছেন। কয়েকটি উদাহরণ দেই। অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলো বেশির ভাগ সময় যাচাই বাছাই না করেই মুখরোচক হেডলাইন দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। ঔপন্যাসিক এই ভুল খবরে মাতামাতি না করে সংবাদপত্র পাঠের পক্ষে কথা বলেছেন, সর্বক্ষণ মোবাইল ব্যবহারে শরীর ও মনন বিকাশে ক্ষতির দিকটি তুলে ধরেছেন। এবার আসি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথায়। ওসি মিজানুর রহমান ডিএমপি কমিশনার রাশেদুল কবিরকে পরামর্শ দিচ্ছেন এভাবে, "রাস্তা থেকে একটা নেশাখোর ধরে হারকিউলিস বানিয়ে দেই। আগেও তো এই কাজ কত করেছি।" এই এক সংলাপ কত কিছু বলে দেয়! বাস্তব সত্যের এমন অকপট প্রকাশ খুব কম বইয়ে পেয়েছি। পুরো উপন্যাস জুড়ে কেন্দ্রীয় চরিত্র কবি সাহেব অসাধারণ বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন। ধৈর্য ধরে, নিজের দয়ালু মনের সাথে লড়াই করে ধর্ষকের খুনির পেছনে ছুটেছেন। নয়তো নির্দোষ মানুষ যদি মারা পড়ে! তাছাড়া নির্বিচারে ধর্ষণে অভিযুক্তদের হত্যা করলে দেশের পরিস্থিতি যে অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত উপন্যাসে আমরা পেয়েছি। বাস্তব আর কল্পনার চমৎকার মিশ্রণ ঘটাতে পেরেছেন বলে লেখককে সাধুবাদ জানাই। কবি সাহেব সিরিজের আরো চমৎকার সব বইয়ের অপেক্ষায় রইলাম। ▪️সমালোচনা: বইটি পড়তে গিয়ে অধিকাংশ সময়ই মুগ্ধ হয়েছি। তবে কিছু খটকা লাগার মতো ব্যাপারও আছে। যেমন— কবি সাহেব রুচিশীল লেখক, মার্জিত ভাষায় কথা বলেন, ধর্ষিতার প্রেমিক হাসানকে শালীনতা বজায় রেখে শব্দ ব্যবহার করতে বলেছিলেন। তার সংলাপে "ভাব মারায়" কথাটা মানানসই নয়। আবার কবি সাহেবের আরেক সংলাপ ছিলো, "লাইফে রোমাঞ্চ না থাকলে লাইফ একপেশে মনে হয়।" যে বাক্যে "রোমাঞ্চ" ও "একপেশে" এর মতো শব্দ আছে, সে বাক্যে দুইবার ইংরেজি শব্দ "লাইফ" এর ব্যবহার অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া এই উপন্যাসের অন্যতম বিষয় ছিলো ধর্ষিতার হাহাকার, বিচার না পাওয়া নারী জাতির অসহায়ত্ব। একই বইয়ে আবার মেয়েদেরকে ভয়ংকর চক্রান্তকারী, শয়তানের চেয়েও কৌশলী বলা হয়েছে! বিষয়টি চোখে পড়ার মতো। এই টুকটাক ব্যাপারগুলো বাদে বইটির বাকি সবকিছু আমার ভালো লেগেছে। ▪️পছন্দের লাইনগুলো: 📖 চালাক লোক পাশে নিয়ে কাজ করা যায় না। চালাক ব্যক্তি তদন্তের মধ্যে নিজেকে জাহির করার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করবে। বোকা লোক সেটা করবে না। বোকা লোককে যা নির্দেশ করা হবে সে তা-ই পালন করবে। 📖 হারকিউলিস ভয়াবহ যন্ত্রণা দিয়ে ধর্ষকদের খুন করছে। আসলে একজন ধর্ষকের এভাবেই মৃত্যু হওয়া উচিত। পৃথিবীর বুকে ধর্ষকদের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। 📖 বেঁচে থেকে যদি খাদ্যগ্রহণের আনন্দ থেকেই বঞ্চিত হতে হয়, পৃথিবীতে এর চেয়ে কষ্টকর আর কী হতে পারে! এই বেঁচে থাকার কোনো মানেই হয় না। 📖 আজকের বাচ্চাদের শৈশবের আনন্দ মোবাইল স্ক্রিনে আবদ্ধ হয়ে গেছে। সন্ধ্যাবেলা আকাশের রং কী হয় তা তারা বলতে পারবে না। কৃষ্ণচূড়ার ফুল কোন মাসে ফোটে সেটাও জানে না তারা। তারা জানে পাবজিতে কীভাবে চিকেন ডিনার পেতে হয়। টিকটকে কীভাবে ভিডিও বানাতে হয়। একটি প্রতিবন্ধী প্রজন্ম ধেয়ে আসছে আমাদের দিকে। অচিরেই তারা আমাদের গ্রাস করে নিবে। ধ্বংস হয়ে যাবো আমরা খুব শীঘ্রই। ▪️গুডরিড্‌স রেটিং: ১.৮/৫ ▪️ব্যক্তিগত রেটিং: ৪/৫ পরিশেষে বলবো, উপন্যাস রচনার চেয়ে আলোচনা-সমালোচনা অনেক সহজসাধ্য। তাই সামান্য সমালোচকের লেখায় নয়, উপন্যাসের প্রকৃত স্বাদ পেতে হলে সবাইকে "হারকিউলিস রহস্য" নামের এই অসামান্য উপন্যাস পাঠের আহ্বান জানাই। আসুন আমরা বই পড়ি, বইয়ের জ্ঞানকে ছড়িয়ে দেই সর্বত্র।"

salman ismail

salman ismail , Jun 10, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"নামঃ ফাতেমা ইসমাইল কেয়া "আমার ক্ষমতা থাকলে এদেশের একজন ধর্ষকও বেঁচে থাকার জন্য প্রকৃতির অক্সিজেন খরচ করতে পারতো না।" মুহাম্মাদ ইব্রাহীম (হারকিউলিস রহস্য) বইয়ের নামঃ হারকিউলিস রহস্য লেখকঃ মুহাম্মাদ ইব্রাহীম ধরণঃ গোয়েন্দা উপন্যাস প্রচ্ছদঃ মোঃ আবিদ মিয়া প্রকাশনীঃ শব্দভূমি প্রকাশনা প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি ২০২১ পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১১২ টি মুদ্রিত মূল্যঃ ২০০ টাকা প্রচ্ছদঃ বইয়ের প্রচ্ছদটি বইয়ের ভেতরের সম্পর্কে অনেকটাই ধারণা দিয়ে দেয়। চারিদিকে অন্ধকার। তার মাঝে একটুকরো আলো নিয়ে হাজির নিজেকে ঢেকে রাখা একজন মানুষ। বোঝাই যাচ্ছে আড়ালে থাকতে চান তিনি। ঠিক তার পায়ের কাছে একজন মৃত ব্যক্তি। তার চারপাশে শুধু রক্ত আর রক্ত। মৃতের চেহারায় যন্ত্রণার চাপ স্পষ্ট। তার পাশেই একটি চিরকুট। তাতে লেখা- আমি ধরষক রাকিব ধরষকের পরিনতি ইহাই ধরষকরা সাবধান হারকিউলিস প্রচ্ছদই বলে দিচ্ছে ভেতরে কি অসাধারণ একটি গল্প অপেক্ষা করছে পাঠকদের জন্য। প্রচ্ছদ শিল্পী এই রহস্যপূর্ণ প্রচ্ছদ তৈরির জন্য অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। পাঠ সংক্ষেপঃ ধর্ষণের শিকার তনুকে উৎসর্গ করে লেখা এই বইটির মূল কাহিনী "হারকিউলিস" নামকে ঘিরেই। বাংলাদেশে কিছুদিন পর পরই খুন হচ্ছে। আর এই খুনকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে অস্থিরতা। স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন খুনিকে খুঁজে বের করতে। খুন তো হরহামেশাই হয়। এটা নিয়ে এত মাতামাতির কি আছে? পাঠকদের মনে এখন হয়তো এই প্রশ্ন জাগবে। হ্যাঁ, খুন তো হরহামেশাই হয়। তবে এই খুন অন্য সব খুনের চেয়ে আলাদা। খুনি খুঁজে খুঁজে শুধুমাত্র ধর্ষকদেরই খুন করে। ভয়াবহ নির্যাতন করে ব্লেড দিয়ে পুরষাঙ্গ ফালা ফালা করে হত্যা করা হয় ধর্ষকদের। আর তাদের ফেলে রেখে যায় ধর্ষিতাদের বাড়ির কাছেই। আশ্চর্যজনকভাবে খুনিকে এখনও পর্যন্ত কেউ দেখে নি। এমনকি তাকে ধরার মতো কোনো চিহ্নও পাওয়া যায় নি। অথচ সে একের পর এক খুন করেই চলেছে। ধর্ষকদের খুনি হারকিউলিসকে খুঁজে বের করতেই জনপ্রিয় লেখক কবি সাহেব জড়িয়ে পড়েন রহস্যের বেড়াজালে। কে এই হারকিউলিস? কবি সাহেব কি পারবে হারকিউলিস রহস্য উদঘাটন করতে? জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে রহস্য ও গোয়েন্দা তৎপরতায় ঘেরা মুহাম্মদ ইব্রাহীম এর কবি সাহেব সিরিজের তৃতীয় উপন্যাস 'হারকিউলিস রহস্য'।। পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ বইটি পড়ার সময় বার বার গায়ে কাঁটা দিচ্ছিলো। বিশেষ করে নিম্নোক্ত উক্তিটি পড়ে আমার অদ্ভুত অনুভূতি হয়েছিলো, "এর মধ্যেই কবি সাহেব গাড়ি থেকে নামলেন। কিন্তু কবি সাহেব জানতো না যে, এই লোকের মাঝখানেই হারকিউলিসও দাঁড়িয়ে ছিলো।" হারকিউলিস কবি সাহেবের এতো কাছে থেকেও কবি সাহেব টের পান নি। অথচ তার চোখের সামনেই সে ভয়াবহ হত্যাকান্ড চালিয়ে যাচ্ছিলো। সত্যিকার অর্থেই ধর্ষকদের শাস্তি দেয়ার জন্য এমন "হারকিউলিস" কে এই সমাজের বড্ড বেশীই প্রয়োজন। গল্পের হারকিউলিস যেমন নৃশংসভাবে ধর্ষকদের হত্যা করেছে, প্রকৃত অর্থে ধর্ষকদের এমন শাস্তিই হওয়া উচিত। আর আমি চাই, হারকিউলিসরা রহস্যই থাকুক। তাদের রহস্য যেন কেউ ভেদ না করে। তবে গল্পে আমি কবি সাহেবের সাথে হারকিউলিসের রহস্য সমাধানে নেমে পড়েছিলাম। কিন্তু আমি হতাশ! আমার দ্বারা তা সম্ভব হয় নি। তবে কবি সাহেবের সাথে এই রহস্য সমাধান যাত্রাটা বেশ ভালোই উপভোগ করেছি। এক বসায় শেষ করার মতো এই বইটি পড়ে পাঠক নিরাশ হবেন না বলেই আমি মনে করছি। নামকরণের স্বার্থকতাঃ বইটির মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে "হারকিউলিস" কে নিয়ে। যে সবার সামনে থেকেও ছিলো সবার নজরদারির বাইরে। তার রহস্য সমাধানে বেগ পেতে হয়েছে পুলিশ, গোয়েন্দা এমনকি কবি সাহেবকেও। তবুও হারকিউলিসকে কেউ জানতে পারে নি, চিনতে পারে নি। সে সকলের মধ্যে থেকেও তার চারপাশে রহস্যের বেড়াজাল তৈরি করে নিয়েছিলো। এই রহস্য ভেদ করার সাধ্য মূল চরিত্র কবি সাহেবেরও নেই। তাই বইটির নাম "হারকিউলিস রহস্য" হওয়া স্বার্থক। প্রিয় উক্তিঃ ১.সরকার যদি আগেই ধর্ষণের বিচার ঠিকঠাকমতো করতো, তাহলে কিন্তু এই হারকিউলিসের জন্মই হতো না। ২.মেয়েদের চক্রান্ত হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর চক্রান্ত। ৩.একজন পবিত্র পিতার সন্তান কখনই ধর্ষক হতে পারে না। ৪.যেই সরকার ধর্ষকদের শাস্তি দিতে ব্যর্থ তাদের লজ্জায় পদত্যাগ করা উচিত। ৫.পৃথিবীটা আসলে রহস্যের জন্যই সুন্দর। বইয়ের ভালো দিকঃ বইটির সবচেয়ে ভালো দিক হলো কবি সাহেবের সাহস। বর্তমান প্রেক্ষাপটের আলোকে এমন একটা বই লিখতে প্রচুর সাহসের দরকার হয়। কবি সাহেবের সাহসকে সাধুবাদ জানাই। ধর্ষকরা যে আইনের ফাঁক দিয়ে কোনো না কোনে ভাবে বেরিয়েই যাচ্ছে তা বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। আমরা ধর্ষকের বিচার না করে, ধর্ষকের হত্যাকারীর বিচারের জন্য কতটা মরিয়া তা ফুটিয়ে তুলেছেন কবি সাহেব। বিবেকের চেয়ে বড় কিছুই নেই। বইটি কবি সাহেব তার বিবেকবোধের দারুণ পরিচয় দিয়েছেন। বিবেকের তাড়নায় তিনি হারকিউলিসকে খোঁজার কেসটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। ধর্ষিতা শুধু একজনের বোন না, সে সকল ভাইয়ের বোন। কবি সাহেবের এই মনোভাব প্রশংসার যোগ্য। বইটি থেকে অনেকর অনেক কিছু শেখার আছে বলে আমি মনে করি। পাঠক সমালোচনাঃ সমালোচনার ক্ষেত্রে প্রথমেই বলবো, লেখক বইটিতে নিজের অনেক বেশী প্রশংসা করেছেন। বইয়ের আলোকে বললেও কবি সাহেবের অতটা প্রশংসা ভালো লাগে নি আমার কাছে। আবার, মিন্টু নিখোঁজ শুনে কবি সাহেব অবাক হয়েছেন। কিন্তু তিনি কেন অবাক হবেন? কারন তিনি তো আগেই জানেন যে ধর্ষণের পর থেকেই সে নিখোঁজ। একইভাবে, ৩৭ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে কালাম আর রিপন কিডন্যাপ হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণের পর থেকে তো তারা নিজের ইচ্ছায়ই পলাতক। তাহলে কিডন্যাপের কথা আসছে কেনো? এছাড়াও "খাইছ", " অষুধ" সহ কয়েকটি বানান ভুল চোখে পড়েছে। কবি সাহেব চাইলে বইটিকে আরেকটু সাজাতে এবং চরিত্রগুলোকে আরেকটু সময় রেখে কাহিনীর মোড় ঘুরাতে পারতেন। হারকিউলিসের সাথে একটু মাইন্ড গেমও খেলা যেত। কিন্তু বইটি অনেক দ্রুতই শেষ করে দেওয়া হয়েছে। এই দিকটা একটু অপূর্ণ লেগেছে আমার কাছে। সার্বিক মূল্যায়নঃ সব বইয়েই কিছু না কিছু অপূর্ণতা থাকবেই। তাই বলে বইটির ভালো দিকগুলোকে অস্বীকার করা যাবে না। তবে যাইহোক, বইটি শেষে এক ধরণের হাহাকার রয়ে গেছে। সেই হাহাকার নিয়েই লেখকের ভাষায় বলছি, "যদি প্রত্যেকটা ধর্ষণের বিচার হতো। তাহলে হয়তো ধর্ষণ নামক শব্দটাই মুছে যেত পৃথিবী থেকে। আর কোনো তনুকে এভাবে ধর্ষিত হতে হতো না।" ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৭.৫/১০"

Nasrin Anindita

Nasrin Anindita , Mar 2, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"এরকম mysogynistic বই বের হওয়াটা উচিৎ না।একই বইয়ে "নারীরা শতরানের দোসর" আর ধর্ষিতার জন্য মায়াকান্না মানায় না।Simping এর একটা সীমা আছে।ইচ্ছা করে ধরা পড়ে গুগল ড্রাইভে রাখা রক্ষাকবচের কথা ভুলে যায়, এটা কেমন গোয়েন্দা?বাংলাদেশের পুলিশ ফোর্স ট্রেনিং নিয়েও এই ছাগলের থেকে কম জানে তদন্তের ব্যাপারে?এই লোকের বই আমি ব্যক্তিগতভাবে বয়কট করলাম,আমার লেখাটা কোনো বিবেকবান মানুষ পড়ে থাকলে তাকেও আহ্বান জানালাম।অবশ্য ছাগলা প্রকৃতির হলে আমার কিছু বলার নেই।"

সুজানা ফারহা ফিজা

সুজানা ফারহা ফিজা , Feb 21, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"|| বুক রিভিউ || বইয়ের নাম: হারকিউলিস রহস্য ধরণ : গোয়েন্দা উপন্যাস (গোয়েন্দা কবি সাহেব সিরিজের ৩য় উপন্যাস) লেখক: মুহাম্মাদ ইব্রাহীম প্রচ্ছদ: মো:আবিদ মিয়া প্রকাশনী: অবসর প্রকাশনী মুদ্রিত মূল্য: দুইশ টাকা মাত্র পৃষ্ঠা সংখ্যা ১১২ প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২১ 🔹️উৎসর্গ পত্র লেখক বইটি উৎসর্গ করেছেন কাহিনীর মূল চরিত্র-'তনু' নামের একটি ধর্ষিত মেয়েকে। তিনি তনুকে বোন বলে সম্বোধন করেছেন এবং এদেশের ধর্ষণের বিচার-ব্যবস্থা নিয়ে অনুতপ্ততা প্রকাশ করেছেন। আমাদের এই দেশে এখনো ধর্ষণের বিচার হয় না। আজও ধর্ষিতার লাশ পড়ে থাকে। দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে হয়তো তনুর মতো মেয়েরা আমাদের অভিশাপ দেয় 😌 লেখক তনুর ধর্ষণের বিচার চেয়ে হয়তো রাস্তায় নামতে পারেননি, কিন্তু একজন লেখকের অস্ত্র হচ্ছে কলম। তিনি তার লেখনী দিয়ে তনুকে ছোট্ট একটা উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। 🔹️ভূমিকা ২০১৬ সালের ২১ মার্চ পত্রিকায় তনু নামের একটি মেয়ের ধর্ষণের খবর ছাপা হয়। লেখক খবরটি দেখে এক মুহূর্তের জন্য তনুকে নিজের এক বোনের সাথে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু লেখক খবরটি ভালোমতো পড়ার পর এটা উনার বোন না নিশ্চিত হয়ে যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন, ঠিক পরমুহূর্তে নিজেকে স্বার্থপর ভাবতে শুরু করেন। কেননা তনুও তো উনার বোনেরই মতো, একটি বোনের ধর্ষণের খবর শুনে তিনি কিছুতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়তে পারেন না। তনু বিভিন্ন মিডিয়ায় ভাইরাল হলো, অনেকে রাস্তায় আন্দোলনে নামলো। কিছুদিন পর সব থেমে গেল, তনু হত্যার বিচারও হলো না। কিন্তু লেখকের মাথায় তনু থেকেই গেলো। রাস্তায় আন্দোলনে না নামলেও তিনি তার অস্ত্র- কলম দিয়ে লেখনীর মাধ্যমে প্রতিবাদ করলেন। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে লেখার পর অবশেষে তিনি তনুকে উপহার দিলেন "হারকিউলিস রহস্য "। 🔹️চরিত্র এই কাহিনীতে বেশ কিছু চরিত্র রয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু চরিত্র👉🏻 ▪️কবি সাহেব ▪️ডঃতামিম (কবি সাহেবের বন্ধু) ▪️মিজানুর রহমান ( রামপুরা থানার ওসি) ▪️মিস রিমি (কবি সাহেবের এই কেসের অ্যাসিস্ট্যান্ট) ▪️তনু (যদিও কাহিনীতে তনুকে অল্প সময়ের জন্য রাখা হয়েছে) ▪️হারকিউলিস কাহিনীতে তনু ছাড়া সকল চরিত্র এবং ঘটনা কাল্পনিক। 🔹️ কাহিনী সংক্ষেপে গত দেড় মাস ধরেই পত্রিকায় খুনের খবর ছাপা হচ্ছে। খুনের খবর নতুন কিছু নয়, তবে রহস্যজনক ব্যাপার হলো খুনের ধরণ । সব খুনই করা হয়েছে একই কায়দায়, যৌনাঙ্গ ফালা ফালা করে কেটে দেওয়া হয়েছে। আরো আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এরা সবাই ধর্ষণ মামলায় জড়িত। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই লাশের পাশে একটা করে কম্পিউটারে টাইপ করা চিরকুট পাওয়া যায়, যেখানে ধর্ষকের নাম লেখা থাকে। যেমন- " আমি ধরষক রাকিব। ধরষকের পরিনতি ইহাই। ধরষকরা সাবধান! - হারকিউলিস " কে এই খুনগুলো করছে হারকিউলিস নামে এবং কেনই বা করছে? কেসের কোনো কূল কিনারা খুঁজে না পেয়ে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান আকরাম আহমেদ আর রামপুরা থানার ওসি মিজানুর রহমান এলেন কবি সাহেবের কাছে সাহায্যের জন্য। কবি সাহেব প্রথমে রাজি না থাকলেও পরে তিনি রাজি হন এই কেস তদন্ত করার জন্য। এই কেসের পুরো জার্নিতে কবি সাহেবের সাথে ছিলেন তার বন্ধু তামিম আর সহকারী গোয়েন্দা রিমি । কবি সাহেব বের করলেন যে হারকিউলিস নামে যে বা যারা এই খুন গুলো করছে, তারা সবাই একই লোক। কারণ প্রত্যেক ক্ষেত্রেই চিরকুটে 'ধরষক' আর 'পরিনতি' বানান ভুল। কিন্তু গোয়েন্দার এই জার্নি মোটেও সহজ ছিল না। গত দুই কেসে খুনি কিছু না কিছু ক্লু রেখে গিয়েছিল। কিন্তু এইবার খুনি কোনো ধরণের ক্লু রেখে যায়নি। এই কেস সমাধান করতে গিয়ে অনেক বিপদ এবং ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হয়েছে কবি সাহেবকে । কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি কবি সাহেব পারবেন "হারকিউলিস"-কে খুঁজে বের করতে? তিনি কি পারবেন " হারকিউলিস রহস্য " সমাধান করতে? নাকি পুরোটা রহস্যই রয়ে যাবে? এইসব কিছু জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে " হারকিউলিস রহস্য "। 🔹️ ভালো লাগার কিছু দিক আমরা অনেকেই রহস্য উপন্যাস ভালোবাসি। " হারকিউলিস রহস্য " সেই রকমই একটা রহস্য উপন্যাস। কাহিনীর শেষ পর্যন্ত লেখক রহস্য ধরে রাখতে পেরেছেন, এখানেই লেখকের সার্থকতা। এই উপন্যাসে তামিম নামে চরিত্রটির ভোজনরসিকতা নিয়ে কিছু কিছু মজার অংশ পড়ে খুব মজা লেগেছে। লেখক বইটির কিছু কিছু অংশে ধর্মের এবং কুরআনের দিক তুলে ধরেছেন, যা আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। যেমন তিনি লিখেছেন- "পৃথিবীতে সবাই খাওয়ার ভাগ্য নিয়ে জন্মায় নি। খেতে পারাও আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নিয়ামত ।"( পৃষ্ঠা ৬৭) "পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, বান্দা তাকে ডাকলে তিনি কখনই তার বান্দাকে ফিরিয়ে দেন না। কোনো না কোনো উপায় বের করে দেনই ।" ( পৃষ্ঠা ৯৭-৯৮) । এছাড়া ভূমিকাতে লেখকের একটা কথা আমার খুব ভালো লেগেছে- " আমার ক্ষমতা থাকলে এদেশের একজন ধর্ষকও বেঁচে থাকার জন্য প্রকৃতির অক্সিজেন খরচ করতে পারতো না। " 🔹️ দৃষ্টিকটু কিছু দিক কাহিনীর প্রথম দিকে শব্দচয়নে কিছুটা অপরিপক্কতা পরিলক্ষিত হয়েছে, যেমন লেখক শুরুর দিকেই দুইবার " ভোদাই " শব্দটা ব্যবহার করেছেন; এর পরিবর্তে অন্য কোনো শব্দও ব্যবহার করা যেতে পারতো। তবে লেখক পরে ব্যাপারটা বেশ গুছিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া একদম শেষ দিকে কয়েকবার "ভিডিও" বানানটা ভুল লিখে "ভিডিয়ো" লেখা হয়েছে। পাঠক যদি মন দিয়ে পড়েন, তাহলে ব্যাপারগুলো চোখে পড়বে। তাছাড়া অন্যসবকিছু ঠিকঠাক ছিল । আশা করি দ্বিতীয় মুদ্রণের সময় বিষয়গুলো দেখা হবে। 🔹️বিবিধ কাহিনীর সাথে মিল রেখে বইয়ের নাম এবং প্রচ্ছদ যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি। এছাড়া বইয়ের মলাট এবং পৃষ্ঠার মান খুব ভালো ছিলো। 🔹️পরিশিষ্টি " হারকিউলিস রহস্য " ছিল মুহাম্মাদ ইব্রাহীম এর গোয়েন্দা কবি সাহেব সিরিজের তৃতীয় উপন্যাস। আগের দুটো উপন্যাস পাঠক সানন্দে গ্রহণ করেছে। এটাও আশা করা যায় পাঠকের মন ছুঁতে পারবে। আমি উপন্যাসটি একটানা পড়ে শেষ করেছি, কোথাও একটুর জন্যও আগ্রহ হারাইনি। আপনারাও একবার পড়ে দেখতে পারেন, বেশ ভালো সময় কেটে যাবে। আমার ব্যাক্তিগত রেটিং ৪.৭৫ / ৫.০০ ______________________________________________ কোনো লেখনীর সমালোচনা করার স্পর্ধা আমার নেই। যেটুকু পেরেছি, বইটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুলভ দৃষ্টিতে দেখবেন আর অবশ্যই জানাবেন কেমন লেগেছে আমার বুক রিভিউ। হ্যাপি গ্রুপিং হ্যাপি রিডিং 💙💙"

আরিয়ান শুভ

আরিয়ান শুভ , Jan 12, 2021

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"বই : হারকিউলিস রহস্য জনরা : রহস্যোপন্যাস লেখক : মুহাম্মাদ ইব্রাহীম প্রকাশনী : অবসর মুদ্রিত মূল্য : ২০০ টাকা পৃষ্ঠা : ১১২ ব্যক্তিগত রেটিং : ২/৫ গল্পবাঁক --------------------- মৃতদেহটাকে জঘন্যরকমের কষ্ট দেওয়া হয়েছে। হাতে রশি দিয়ে বাঁধনের দাগ স্পষ্ট। রক্ত ঝরছে পুরুষাঙ্গের নিচের অংশ থেকে। সম্ভবত অমানবিক নির্যাতন করে সবশেষে ব্লেড দিয়ে কেউ ফালা ফালা করে কেটে নিয়েছে পুরুষাঙ্গ। মৃতদেহের পাশেই একটা চিরকুট উঁকি দিচ্ছে। তাতে কম্পিউটার টাইপিং করে লেখা : আমি ধরষক রাকিব ধরষকের পরিনতি ইহাই ধরষকরা সাবধান "হারকিউলিস" ঘটনাটা পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়াতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর বেশ কিছুদিন পরে রাজধানীর রামপরা এলাকায় আরেকটা লাশ পাওয়া গেল। ঠিক একইরকম ভাবে পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়া হয়েছে। পাশেই রয়েছে হুবুহু সেই চিরকুট। পুলিশ কোনো উপায় করতে না পেরে হাজির হল কবি সাহেবের কাছে। কবি সাহেব একজন সনামধন্য লেখক হলেও বর্তমানে সে টুকটাক গোয়েন্দাগিরি করছে এবং বেশ সাফল্য দেখিয়েছে নিজের কাজে। অগত্যা বন্ধু তামিম ও গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত রিমিকে নিয়ে রহস্যের সমাধানে নেমে পড়লেন তিনি। একে একে বের করে আনলেন রহস্যের সমাধান । তবু শেষ পর্যন্ত কবি সাহেব কি আটকাতে পারবেন হারকিউলিসকে? নাকি পৃথিবীর বুক থেকে একে একে সকল ধর্ষক নির্মূল হতে থাকবে হারকিউলিসের হাতে? পাঠ প্রতিক্রিয়া ----------------------------- ● ভালো দিক কিছুটা ফিকশনের মিশেলে বাস্তব ঘটনাকেন্দ্রিক প্লট বেছেছেন লেখক। এটা বেশ আকর্ষণীয় লেগেছে আমার কাছে। কিন্তু বাকিসব ক্ষেত্রে আমি মোটামুটি হতাশ। ভাষাশৈলী খুব বেশি ভালো লাগেনি। বিশেষত গল্প শুরু করে প্রথম পৃষ্ঠাতেই তিনবার 'ভোদাই' শব্দটির ব্যবহার দেখে পাঠক যারপরনাই ভ্রু কুঁচকে তাকাতে বাধ্য হবেন। তবে সময়ের সাথে সাথে লেখক ভাষার ব্যবহারটা অনেকটাই ওভারকাম করে নিয়েছেন এটা ভালো লেগেছে। লেখকের স্টোরিটেলিং মোটামুটি মানের ছিল। স্টোরি মোটামুটি গ্রিপেই ছিল। তবে গল্প একদমই থ্রিলিং নয়। সাদামাটাভাবে সামনে এগিয়েছে। আর অবসর প্রকাশনীর প্রোডাকশন বেশ ভালো লেগেছে। প্রচ্ছদ, পৃষ্ঠার মান, বাঁধাই সবকিছু বেশ ভালো লেগেছে। ● মন্দ দিক প্রথমেই চরিত্রায়ন নিয়ে কিছু বলতে হয়। সত্যি বলতে এখূনে আমি একদমই হতাশ। গল্পের প্রোটাগনিস্ট কবি সাহেবকে যতটা আশা করেছিলাম ততটা শক্তপোক্ত ছিল না তার ক্যারেক্টার। বাকিদের অবস্থা একেবারে নাজুক। অথচ লেখক চাইলে বইটাতে সময় নিয়ে চরিত্রগুলো ডেভেলপ করতে পারতেন। বইটা আরেকটু বড় করে, চরিত্রগুলোর স্ক্রিনটাইম বাড়িয়ে পাঠককে গল্পে প্রবেশ করতে সাহায্য করতে পারতেন। আর চরিত্রগুলো একদমই নিষ্প্রাণ লেগেছে আমার কাছে। অথচ এত শক্ত একটা প্লটকে অন্য মাত্রা দেওয়া যেত চাইলেই। হারকিউলিসের সাথে স্নায়ুযুদ্ধ, মুখোমুখি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া যোগ করে বইটার উৎকর্ষ সাধন করা যেত। চাইলে কার চেজিং এর দৃশ্যও রাখা যেত। এতে গল্পের সাসপেন্স বৃদ্ধি পেত বলেই মনে হয় আমার। এন্টাগনিস্ট হারকিউলিসকে খুবই শক্ত নার্ভের মানুষ হিসেবে কল্পনা করেছিলাম। তবে এই বইয়ের মূল এন্টাগনিস্ট হারকিউলিস একদমই নির্জীব। আমি আশা করেছিলাম কবি সাহেব ও হারকিউলিস দুই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে দারুণ এক লড়াই দেখতে পাবো। কিন্তু তেমন কিছুই বইতে ছিল না। এবার পরিণতি নিয়ে একটু আলাপ করা যাক। সত্যি বলতে এই গল্পের টুইস্ট টা আমি ভূমিকা আর উৎসর্গপত্র পড়ে অনেকটাই আন্দাজ করেছিলাম। এখানে স্পয়লার এলার্ট লেখা ভালো । ☆☆☆ স্পয়লার শুরু (যারা বইটি পড়েননি তারা অনুগ্রহ করে এই তারকা চিহ্নিত পয়েন্টটা স্কিপ করবেন) বইটি লেখক উৎসর্গ করেছেন ২০১৬ সালে ধর্ষিত হওয়া তনুকে। উৎসর্গপত্রের শেষ বাক্যে লেখক লিখেছেন - 'তোর জন্য এই সামান্য লেখকের ছোট্ট উপহার।' (১) ভূমিকার শেষের দিকে লেখক লিখেছেন ' আমার ক্ষমতা থাকলে এদেশের একজন ধর্ষকও বেঁচে থাকার জন্য প্রকৃতির অক্সিজেন খরচ করতে পারতো না। কিন্তু আমার সেই ক্ষমতা নেই। তবে লেখকদের একটা ক্ষমতা আছে। কলমের ক্ষমতা। লেখকরা তার নিজের লেখায় সেই ক্ষমতার ব্যবহার করতে পারেন । আমি কতটুকু পেরেছি জানিনা। এর বিচার করবে তনু নিজে। ' (২) পাঠক একটু খেয়াল করুন। আমি দুটো পয়েন্ট মার্ক করে দিয়েছি। এই পয়েন্ট দুটো পড়লে সর্বপ্রথম আপনার বইটা সম্পর্কে কী ধারণা আসবে বলুন তো? পয়েন্ট দুটো ভালো করে পাঠ করলে বুদ্ধিমান পাঠকমাত্র বুঝে ফেলবেন গল্পের শেষটা তনু(সর্বোপরি ধর্ষিতার) অনুকূলে যাবে। আর তনুর অনুকূলে যাওয়া মানে কী? এটার মানে অবশ্যই গল্পটা হারকিউলিসের অনুকূলে যাওয়া। তার মানে আপনি একটা ভাসা ভাসা আইডিয়া পাবেন যে হ্যা শেষমেষ হয়তো হারকিউলিসের সাথে কবি সাহেবের দেখা হবে কিন্তু কবি সাহেব তাকে পেয়েও ছেড়ে দেবে। বা এরকম কিছু একটা ব্যাপার মাথায় ঘুরবে। এবার একটু ডিপ থিংকিং এ যেতে হবে। হারকিউলিস নিজে আড়ালে থাকে, ধর্ষকদের খুন করে। তাহলে তার সান্নিধ্যে যেতে হলে কী করতে হবে? অবশ্যই ধর্ষক সাজতে হবে। সোজা কথায় তাকে পেতে হলে মিথ্যে ধর্ষক সেজে টোপ ফেললে সে নিজেই এসে আপনাকে ধরা দেবে। অর্থাৎ হারকিউলিসকে ধরার জন্য টোপ দেওয়াটা সহজেই আন্দাজ করা যায় না কি? আমার বেলায় ও এটাই ঘটেছে। ভূমিকার ঐ বাক্যগুলো পড়ে আমার একটু আন্দাজে ঢিল মারার মত অবস্থা হয়েছে। কেননা লেখক শুরুতেই বলে দিচ্ছেন এটা তনুর জন্য একরকম ট্রিবিউট , আর ট্রিবিউট হলে তো হারকিউলিসকে ধরা পড়ানো যাবেনা। ওদিকে কবি সাহেব মেইন প্রোটাগনিস্ট ; তাকেও তো ব্যর্থ করা যাবে না। তাহলে বাকি থাকে একটা ই পদ্ধতি। সাপও মরল, লাঠিও ভাঙলো না প্রসেস। অর্থাৎ কবি সাহেবের জয়ও হল আবার হারকিউলিসও ধরা পড়লো না। এই দুটো সুতো এক করে তাহলে ব্যাপারটা সরল করলে দেখা যাবে এতে হারকিউলিস ও ধরা পড়লো না, কবি সাহেবও হারলো না, ধর্ষকের শাস্তিও হল আর আল্টিমেটলি তনুর প্রতি ট্রিবিউট ও হয়ে গেল। আর এটাই ছিল গল্পের মূখ্য টুইস্ট - মিথ্যে ধর্ষক সেজে হারকিউলিস অবধি পৌঁছানো এবং তাকে একরকম ছেড়ে দেওয়া বা তার প্রতি কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া। ব্যাপারটা বুঝে ফেলা কি খুব বেশি জটিল? ☆☆☆ স্পয়লার শেষ হল (এখান থেকে পাঠক আবার পড়া শুরু করতে পারেন) জটিল না হলেও চাইলেই গল্পটাকে জটিলতর করা যেত। তাই সব মিলিয়ে বলব আমার এক্সপেক্টেশন পূর্ণ হয়নি বইটা পড়ে। সবশেষে বলবো আমি কখনোই কাউকে বইটি পড়া থেকে নিরুৎসাহিত করছিনা। রিভিউ সম্পুর্ণ ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি। আমার যেটা ভালো লেগেছে সেটা আপনাদের ভালো লাগতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। একইভাবে এই বইটা আমার ভালো লাগেনি বলেই যে আপনাদেরও ভালো লাগবেনা এমনও নয়। ইতিমধ্যেই যারা পড়েছেন বইটা তারা চাইলে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন কমেন্টবক্সে। সর্বোপরি বেশি বেশি বই পড়ুন। ধন্যবাদ।"

প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)

বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর

বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

সম্পর্কিত অন্যান্য বই

সবগুলো দেখুন →
ময়ূরাক্ষী
একটু পড়ে দেখুন
ময়ূরাক্ষী হুমায়ূন আহমেদ
(277)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
তোমাকে
একটু পড়ে দেখুন
তোমাকে হুমায়ূন আহমেদ
(186)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
হিমু সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(314)
TK. 1,000 -20% OFF
TK. 800
মিসির আলি সমগ্র ২
একটু পড়ে দেখুন
মিসির আলি সমগ্র ২ হুমায়ূন আহমেদ
(143)
TK. 500 -20% OFF
TK. 400
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড হুমায়ূন আহমেদ
(116)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
একটু পড়ে দেখুন
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ হুমায়ূন আহমেদ
(69)
TK. 160 -14% OFF
TK. 138
তিনি ও সে
একটু পড়ে দেখুন
তিনি ও সে হুমায়ূন আহমেদ
(34)
TK. 135 -20% OFF
TK. 108
শুভ্র সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
শুভ্র সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(90)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480

বইটির রিভিউ লিখুন

আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।

বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন

আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।

"হারকিউলিস রহস্য" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন

রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।

বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন

সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।

বইটি শেয়ার করুন

বন্ধুদের সাথে এই বইয়ের তথ্য শেয়ার করতে পারেন

বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন

পাতা:

পাতা 1
হারকিউলিস রহস্য পাতা: 1 / 6
পাতা 2
হারকিউলিস রহস্য পাতা: 2 / 6
পাতা 3
হারকিউলিস রহস্য পাতা: 3 / 6
পাতা 4
হারকিউলিস রহস্য পাতা: 4 / 6
পাতা 5
হারকিউলিস রহস্য পাতা: 5 / 6
পাতা 6
হারকিউলিস রহস্য পাতা: 6 / 6
পাতা / 6
এই তথ্যটি জেনে রাখুন।

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।