১ম প্রকাশ, ২০২১
ফেরারি বসন্ত
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
ময়ূরাক্ষী
হুমায়ূন আহমেদ
তোমাকে
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র
হুমায়ূন আহমেদ
মিসির আলি সমগ্র ২
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
হুমায়ূন আহমেদ
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
হুমায়ূন আহমেদ
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | ফেরারি বসন্ত |
| Author | আফিফা পারভীন |
| Publisher | অন্যপ্রকাশ |
| Edition | ১ম প্রকাশ, ২০২১ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 376 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | উপন্যাস ও সাহিত্য |
| Weight | 0.98 Kg |
| ISBN | 9789845208547 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
22 Ratings and 18 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
১৮টি
Ety Akter , Jan 23, 2026
"ভীষণ ভীষণ ভীষণ সুন্দর একটা উপন্যাস। 😍❤️"
880****978 , Oct 6, 2024
"অনেক অনেক সুন্দর বই। জীবন নতুন উদ্যোমে চলতে পাথেয়"
Kulsuma Binte Azad , Aug 24, 2024
"কোনো বই পড়ে অনেক দিন চোখের পানি ঝরেনি, ফেরারি বসন্ত পড়ার সময় বা পরে যতটা আমি কষ্ট পাইছি,, বইটা পড়ে এক রাশ মুগ্ধতা আর ভালো লাগায় আচ্ছন্ন হয়েছি,, আপুর প্রত্যেক টা বই যখন পড়ি মনে হয় এটাই বেস্ট, আসলে সব গুলো লেখায় বেস্ট আপুর।"
Tuly Das , Dec 13, 2023
"আমার পড়া বেস্ট বইগুলোর মধ্যে একটি বই।টাকা একদম জলে যাবে না। এতো বড় একটা বই অথচ কখন প্রথম পাতা থেকে শেষ পাতায় চলে যায় বুঝতেই পারিনা।"
Sathi Islam , Feb 23, 2023
"ফেরারি বসন্ত লেখিকার অনবদ্য একটা সৃষ্টি। আমার পড়া সেরা একটা বই।"
Mohammad Sohel Shomik , Feb 16, 2023
"লেখিকা বইটিকে বেশী মাত্রায় টেনে প্রলম্বিত করেছেন, যা বিরক্তিকর। কাহিনী পড়তে পড়তে পরের অংশ সহজেই অনুমান করে নেয়া যায়, যা পাঠকের আগ্রহ নষ্ট করে।"
Sakib , Dec 28, 2022
"#ফেরারি_বসন্ত #পাঠ_অনূভূতি ♦এক নজরেঃ •উপন্যাসের নামঃ ফেরারি বসন্ত •লেখকঃ আফিফা পারভীন •ধরনঃ সামাজিক, রোমান্টিক, রাজনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক •প্রকাশনীঃ অন্যপ্রকাশ •প্রচ্ছদঃ মোস্তাফিজ কারিগর •মুদ্রিত মূল্যঃ ৮০০ •পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৩৭৬ •প্রকাশকালঃ অক্টোবর ২০২১ লেখনীতেঃ রিফায়াত হাসান সাকিব ♦ভূমিকাঃ আচ্ছা মনকে প্রস্তুত করে নেয়া কি খুব কঠিন! আমি আমার মনকে প্রস্তুত করে নেই প্রিয় কিছু বই পড়ার জন্য । আমার মন বলে, এই উপন্যাসটি পড়ার সময়ে আমি বহাল তবিয়তে থাকবো না । মনের মাঝে লণ্ডভণ্ড করে এক ঝড় আটকে রেখে যাবে । তাই মনকে প্রস্তুত করে নেয়ার জন্য আমি মনকে সাজাতে তো বসি, তবে সেই সাজের পরিমাপ যে এত বেশি হয়ে যাবে তা আমি ভাবতেই পারিনি । দিন, মাস, সময় ছাড়িয়ে সময়টা প্রতিটি মুহূর্তে যেতে লাগল । আমার কাছে প্রতিটি মুহূর্ত মনে হতো অপেক্ষায় ভেসে যাওয়া এক আর্তি আবহের মতো । এই ফেরারি বসন্ত, আমাকে অপেক্ষা দিয়েছে, পড়ার জন্য এক রাত দিয়েছে, ভালোবাসার জন্য ভবিষ্যত জীবনের সারাটা মুহূর্ত দিয়েছে । ♦পারিপার্শ্বিক দিকঃ কিছু বৃষ্টি ভালোলাগা বুঝতে শেখায় । মনের মাঝে অনুভূতি তৈরি করতে শেখায় । হঠাৎ করেই এই রাতবিরেতে উপন্যাসের যখন মাত্র একটি পৃষ্ঠা পড়া বাকি তখনই ঝুমঝুম করে বৃষ্টি নামতে লাগলো । এই বৃষ্টি আমার অনুভূতি আরো যেন বাড়িয়ে দিতে লাগলো । হায়রে অনুভূতি, এত কষ্টের হয়ে কেনো আচ্ছন্ন করে রাখিস সারাটা সময় । যাহোক যেহেতু বড়সড় বই, একনাগাড়ে পড়া আমার স্বভাবের মানুষটাকে তাই আমারই ভাবতে হচ্ছিল । যে কখন পড়লে বইটা পড়তে পড়তে একনাগাড়ে রাত হয়ে যাবে, তবু পড়ে যেতে পারবো । সেভাবেই একনাগাড়ে দুপুর ৩টা ৩০ মিনিট থেকে পড়তে শুরু করেছিলাম আর যখন উপন্যাসটি শেষ হয়েছে তখন সময়টা রাত ১টা । এই অনুভবের উপলব্ধি আমাকে পুরোটা সময়ে একেক অনুভূতিতে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে । ♦নামকরণঃ পৃথিবীতে ভালোবাসায় বিরহ আসে, ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে যাওয়াও আসে । এই ভালোবাসা কত নাম জানা বিশ্লেষণ যে মনের মাঝে জুড়ে দিয়ে বসে থাকে তা অনুভবে বুঝে নেওয়া পাঠক মনই বুঝে । ঋতুর বৈচিত্র্য যেন ভালোবাসায় আরো আলিঙ্গন করতে করতে সমগোত্রীয় হয় । এই ভালোবাসা নিয়ে গড়ে ফেলা মনের অন্তরালে তাই চলতে থাকে পৃথিবীর নাম না জানা ঋতুর একেক সৌন্দর্যকে ঘিরে রাগ, অভিমান, ভালোবাসা পাওয়া-না পাওয়ার খেলা । এই ভালোবাসার মনের বসন্তে মিষ্টিফুলের আবেশ ছড়ায় কখনোবা বসন্ত ফেরারি হয়ে হাঁটতে বেড়ায় । হাঁটতে থাকা সেই ফেরারি বসন্তকেই মনের মাঝে আবারও চুপটি করে এনে রাখাই যেন ফেরারি হয়ে যাওয়া বসন্তের আদলে, ফেরারি বসন্ত । ♦ফ্ল্যাপে লেখাঃ এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ‘সময়’, যে একাধারে নায়ক ও খলনায়ক । পুরো উপন্যাসে এই ‘সময়’ কোনো মানুষ কিংবা কোনো জনগোষ্ঠীর জীবনে কখনো এসেছে গ্রীষ্মের খরতাপ হয়ে, কখনো এসেছে বর্ষার ঝুম বৃষ্টি হয়ে । কখনো কারও জীবনে ‘সময়’ বয়ে নিয়ে এসেছে রঙিন বসন্ত, আবার কারও বসন্তকে করে দিয়েছে ফেরারি । একটা ব্যাপক ও বিস্তৃত ‘সময়’কে কথাবন্দি করার প্রয়াসই হলো ‘ফেরারি বসন্ত’ । ♦প্রচ্ছদঃ উপন্যাসটি পড়ার পরে প্রচ্ছদটি দেখতে দেখতেই হঠাৎ চোখ পড়ে গেলো টেলিফোনের দিকে । কত না বলা কথা যেন বুঝিয়ে বলে ফেলা হলো এই টেলিফোনের মাধ্যমে । সাথে রক্তাভ লাল ওই রক্তবিন্দুর সাথে যুদ্ধ যেন আরো কত প্রস্তুতি মনে করিয়ে দিচ্ছিল । দেখতে সাদামাটা মনে হলেও উপন্যাসটি পড়ার পরে ‘মোস্তাফিজ কারিগর’এর করা প্রচ্ছদটি বেশ মনে গেঁথে যাবে । অসাধারণ ভাবে কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্মৃতি মনে করিয়ে দিলো যেনো । ♦চরিত্র বিশ্লেষণঃ বেশ দীর্ঘকায় এই উপন্যাসে অনেকগুলো চরিত্র আছে, যাদের নিয়ে লিখবো । কিছু হয়তো টুকিটাকিতে লিখে যাবে । কিছু হয়তো আবার অনুভূতি প্রকাশে মন কত না জানি কি লিখে দিয়ে কি প্রকাশ করে ফেলে তাই লিখবো না । •হৈমন্তীঃ হৈমন্তী অসাধারণ মানসিকতার ধৈর্যবতী একজন নারী । যে বাস্তবজ্ঞান সম্পর্কে বেশ ভালো ধ্যান ধারণা রাখে । নিজের সীমাবদ্ধতা কতটুকু সেই ব্যাপারে ধারনা রেখে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে চলতে থাকতে শিখে যায় সে । ভাইকে প্রচণ্ড ভালোবাসায় বাঁচতে শেখানো বোনটি শত কষ্ট মুখ বুঁজে সহ্য করে রাখতে জানে । •জুবায়েরঃ প্রচণ্ড সাহসিকতার পরিচয় দেয়া বুর্জোয়া শ্রেণীর পরিবারের মানুষ হয়েও সাম্যবাদে মানসিকতায় ভালোবাসা রাখা অসাধারণ একজন মানুষ সে । সবাইকে সাহায্য করার পাশাপাশি প্রতিটি মানুষকে তাদের যোগ্য সম্মান দিয়ে ভালোবাসতে জানে সে । জীবনে রংধনুর ভালোবাসায় আসক্ত ভালোবাসায় সিক্ত হতে থাকার অসাধারণ মানসিকতা আছে তার । •সালমা পারভীনঃ স্বার্থান্বেষী স্বভাবের একজন মানুষ জীবনে প্রচুর আত্মকষ্টে ভুগে থাকেন । তার জীবনের প্রতিটি কষ্টে যেন তার না পাওয়া ঘিরে বিরাজ করতে থাকে । •শম্পাঃ অসাধারণ একজন বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাবের একজন মানুষ । যার বন্ধুত্বপূর্ণ মানসিকতার পাশাপাশি ভালোবাসার এক অধিকতর সৌন্দর্য তার প্রতি মুগ্ধ করতে বাধ্য করে । ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে ভালোবাসা শব্দটার জন্য অপেক্ষা বুঝতে পারে সে । •নীলিমা হাসানঃ অসাধারণ একজন মানুষ তিনি । জীবনযুদ্ধে সারাজীবন ধরে সম্মান বয়ে নিয়ে মানুষটাকে যেন সম্মান জানানোর জন্যেও যে যোগ্য সম্মান তা দেয়া হয়নি । তাদের আত্মত্যাগ আমাদের সংস্কৃতিতে আছে, অনুভূতিতে আছে, নিঃশ্বাসে আছে । তার জন্য ভালোবাসা এই অনুভূতি তাই জীবন যুদ্ধে এই বিজয়ী মানুষটিকে অন্য কাতারে ফেলে আচ্ছন্ন করে ফেলে । কতটা আত্মত্যাগ করে এই যুদ্ধ তাকে কষ্টের পরিশ্রমে ফেলেছে, তবুও ভালোবাসা সঠিক ভাবে জানানো হয় না । •শাহরিয়ারঃ একরাশ ভালোবাসা মনে গেঁথে ফেলে, মন খারাপের ডালা রাজ্য নিয়ে ভালোবাসায় আচ্ছন্ন থেকে যাওয়া মানুষটা কষ্ট নিয়ে বিরাজ করে । তার হাসি আনন্দ তাকে ভালোবাসতে শেখায় । •ইশতিয়াকঃ বন্ধুত্বপূর্ণ অসাধারণ মানসিকতার একজন মানুষ । যার ভালোবাসা মনের মাঝেই রয়ে যায় । মুখ ফুটে বলতে হয়নি, কাউকে দেখাতেও হয়নি । এই মানুষটার ভালোবাসা তাই কতটা সুখের নাকি কতটা দুঃখের তা বোঝার আগেই বলা যায় কতটা স্বর্গীয় । •জুনায়েদ হাসানঃ পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দেশের মানুষের জন্য ভালোবাসা নিয়ে যুদ্ধের জন্য এগিয়ে চলতে যাওয়া মানুষটা তিনি । তার ভালোবাসা বেশ প্রখর । •ফালকিঃ অসাধারণ বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষটি সাহায্য করার মানসিকতায় বেশ পটু । ♦টুকিটাকিঃ অনেক চরিত্র নিয়ে লিখতে লিখতে মনে পড়লো, আরো কিছু চরিত্র নিয়ে আমার লিখতে ইচ্ছে করে কিন্তু লিখতে পারছি না । হয়তো সব অনুভূতি বুঝিয়ে লিখতে গিয়ে অনুভূতি যদি আটকে না ফেলতে পারি । তবুও জামশেদ হাসান এর অর্ধাঙ্গিনীর জন্য ভালোবাসা বেশ মুগ্ধ করে । কিংবা মিনুর নিশ্চুপ চাহনী ভালোবাসায় আচ্ছন্ন করে থাকে । ফজিলা খাতুন এর অসাধারণ মানসিকতা এবং বন্ধুভাবাপন্ন স্বভাব বেশ মুগ্ধ করে রাখে । ♦প্রিয় চরিত্রঃ এই উপন্যাসের অনেকগুলো চরিত্র আমার ক্ষেত্রবিশেষে প্রিয় মনে হয়েছে । কখনোবা মনে হয়েছে হৈমন্তী প্রিয় । কখনোবা মনে হয়েছে জুবায়ের প্রিয় । তবে কখনো আবার শম্পার অসাধারণ চরিত্র আমাকে মুগ্ধ করেছে । তবে সব মিলিয়ে দুটি চরিত্র আমাকে সবসময় ভালোবাসায় রেখেছে । আমি জানি না কেনো, শাহরিয়ার এবং ইশতিয়াক এই দুইটি চরিত্র আমাকে কেনো এত ভালোবাসায় রেখেছে । তবে দুজন নিত্যনৈমিত্তিক জীবনের সাধারণ মানুষকেই দিনের শেষে রাতবিরেতে অসাধারণ মানুষ বলে মনে হয় আমার । তারাই আমার প্রিয় চরিত্র হয়ে থাকুক না হয়! ♦পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ √পাঠ অনুভূতি লিখতে লিখতে যখন একটা একটা করে ঘর লেখা দিয়ে আবৃত করছি তখন একটা ভয় গেঁথে গেল মনে । এই ভয় ধরা মনে, বৃষ্টি ভেজা রাতে হঠাৎ মনে হতে থাকলো এই উপন্যাসের ধরনে আমি কি লিখতে পারি আসলে । আমার কাছে এই উপন্যাস সামাজিক যতটা, ততটা রাজনৈতিক, কিছুটা রোমান্টিক, আবার অনেকটা মনস্তাত্ত্বিক । তাই পুরোটা জুড়ে বসে থাকা ধরনের ঘরানায় আমি আটকে গেলাম সাথে আমার অনুভূতিও আটকে গেল । আমি পাঠক হিসেবে সে ধরনের উপন্যাস পছন্দ করি খুব, যে ধরনের উপন্যাসের আবহ এবং পটভূমিতে মনে হয় লেখক খুবই স্বাচ্ছন্দ্য অনুসারে পুরোটা উপন্যাসে লেখনীর মাধ্যমে উপন্যাস জুড়ে খেলার সুরেই গেঁথে রেখেছেন । যার সুরে গাঁথা একেকটি সুতো পাঠক মনে বেশ আয়েশ করে পড়তে পারে । এই গল্পে বর্তমান প্রজন্মের শুরুটা যেভাবে বছর ছাড়িয়ে এসেছে, সেই বাংলার রূপে ভেসে যাওয়া প্রকৃতির সৌন্দর্য যেভাবে এসেছে, সেভাবেই তা ছাড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের কামনা মনের মাঝে জুড়ে বসেছে । একরাশ ভালোবাসা আর দম আটকে থাকা অনুভূতি নিয়ে মনে তা গেঁথে ছিল । মুক্তিযুদ্ধের সময়ে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে গল্পের অতীত থেকে তারও কয়েক বছর পরের প্রেক্ষাপট অসাধারণ ভাবে সুচারুভাবে তুলে ধরা হয়েছে । আমার সবথেকে যা প্রিয় লেগেছে এই উপন্যাসে, তা হলো শব্দের খেলা । কি অসাধারণ ভাবে উপন্যাসের পটভূমিতে শব্দগুলো দিয়ে খেলার মাধ্যমে উপন্যাসকে সাজানোর পাশাপাশি গল্পে অনুভূতিরা ছেদ করেছে তা বেশ অসাধারণ । মুক্তিযুদ্ধ, সাম্যবাদ, ভালোবাসা, না পাওয়ার রাগ অভিমান, মন খারাপের সুর, কষ্ট, প্রকৃতিতে বসন্ত কিংবা বিরহ সবই যেন এক সুরে গাঁথা কোনো মানবচিত্রের ঋতুবৈচিত্র । উপন্যাসে ধীরে ধীরে মোড় এসেছে, ভালোবাসা এসেছে । বিভিন্ন মোড়ে উপন্যাসের মাঝে পরিবর্তন, জীবনধারায় পরিবর্তন এসেছে । তবে প্রতিটি পরিবর্তন পটভূমিতে আরো সৌন্দর্য এনেছে, জীবনধারায় ভারসাম্য পরিবেশ এনে উপন্যাসের মাঝে মায়াবী এক নেশার মতো আবহ তৈরি করে দিয়েছে । এই মোড়ের সাথে সাথে উপন্যাসের মাঝে পটভূমিতে আরো গভীরতা দিয়েছে । যে গভীরতা শব্দের ব্যবহারের সাথে সাথে পাঠক মনকে আরো আকুল ভাবে কাছে টেনেছে । √এই উপন্যাসের চরিত্র গঠন এবং তাদের উপস্থিতিও আমার বেশ পছন্দের একটি বিষয় । কারণ চরিত্রগুলোকে সাজানোর জন্য ওই সময়ের যে আবহ এবং বিশ্লেষণ ব্যবহার করার যে পরিস্থিতি আনা হয়েছে তা বেশ মুগ্ধ করে রাখার মতো । বিশেষ করে হৈমন্তীর চরিত্রের মাঝে বেশ কিছু ধাপ এসেছে যা বেশ অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । তাছাড়া একটা অংশে ইশতিয়াক এর বিশ্লেষণ করার জন্য অসাধারণ ভাবে কিছু শব্দপ্রয়োগের মাধ্যমে তার উপস্থিতি বেশ সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । তাছাড়া জুনায়েদ হাসান এর চরিত্র গঠন এবং তার উপস্থিতি অসাধারণ ভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের প্রেক্ষাপটকে দারুণভাবে প্রকৃতির সাথে খাপ খাইয়ে সাজানো হয়েছে । যা বেশ ভালো লাগার মতো । ♦প্রিয় অংশঃ এত বড় দীর্ঘকায় একটা উপন্যাসের প্রায় বেশিরভাগ অংশই আমার প্রিয় ব্যাপারটা একটু কেমন না? কিন্তু ঘটনা সেটাই । তবুও কিছু অংশ থাকে যা মনের মাঝে ঝড় তোলার মতো আচ্ছন্ন করে রাখার পাশাপাশি ধক করে রাখতে সাহায্য করে । আমি জানি না কেনো, এই উপন্যাসটি আমি যখন প্রথম পৃষ্ঠা থেকেই পড়তে ছিলাম তখন থেকেই বারবার মনে হচ্ছিল, কিছু একটা ঠিক নেই । কি ঘটবে এই উপন্যাসে? কি হবে ভেবেই আমার ভয়ে মনে হচ্ছিল কিছু একটা আটকে আছে মনে । অথচ এই উপন্যাসে যত সময় গড়িয়েছে তত ভালো লাগা বেড়েছে, এখন উপন্যাস পড়া শেষ হয়েছে তবুও আমার কল্পনায় থাকা মনটায় মনে হচ্ছে কিছু একটা ঘটবে না তো! এই ভালোবাসায় আচ্ছন্ন মনটার পুরোটা উপন্যাস সাজানোর ধরনটাই বেশ পছন্দের । এই উপন্যাসের কিছু মোড় হঠাৎ চলে আসলেও দুয়েকটা মোড়ের কিছু একটা ঘটবে তা আমি আগে আগে আন্দাজ করলেও তা যেন মনে আরো পড়ার পরে আরো ভালো লাগা দিয়েছে, কারণ শব্দের গভীরতা এবং তার সাজানোর ধরন দেখে । তবে কিছু পৃষ্ঠা আমি মনে রেখেছিলাম প্রিয় অংশের জন্য, প্রকাশ করে লিখবো তার জন্য । ১২৫-১২৮ এই চারটি পৃষ্ঠা যেন তারই এক রূপ । এই ভালোবাসার হয়তোবা নতুন এক রূপে আচ্ছন্ন হওয়া প্রতীক্ষা যেন মনের মাঝে এক তীব্র দোলা জাগায় । ২২৬তম পৃষ্ঠাটি আমার আরেকটি প্রিয় অংশ থাকা পৃষ্ঠা যে অংশটির পুরোটা ২২৭তম পৃষ্ঠার প্রথম অংশটিকে আমার জন্য ভালোবাসায় রাঙায়িত করে দিয়েছিল । তাছাড়া ২৫৬-২৫৮ এই তিনটা পৃষ্ঠা তো আমার কাছে উপন্যাসেরই সেরা অংশ বলে আমার কখনও মনে হয় । পৃথিবীতে কোনো সম্ভাষণ! কিংবা কোনো আহ্বান যে কারো প্রিয় হয়, তা হঠাৎ বুঝতে পারি আমি । ৩৬০ পৃষ্ঠায় ডাকা একটা সম্ভাষণ, ‘হৈমন্তী বিনতে আশফাক’ আরো একটা প্রিয় অংশ আমার জন্য । মুক্তিযুদ্ধের সময়ের প্রেক্ষাপটকে যেভাবে সাজানো হয়েছে, সে সময়ের কষ্ট, অনুভূতি যেভাবে দেখানো হয়েছে তা বেশ প্রিয় আমার কাছে । মনে হয়েছে জগৎ জুড়ে থাকা ভালোবাসা কতটা পরিশ্রম করে রক্ত দিয়ে আমাদের জন্য বাংলা স্বাধীনভাবে লেখার এই স্বাধীনতা দিয়ে গেল । সময় চলে যায়, অতীতে কালক্ষেপণ করে ছুটে চলে যায়, বর্তমান ভাসতে ভাসতে ভেসে আছে, ভবিষ্যতের দিকে দিগ্বিদিক ভুলে ছুটতে থাকে তবুও উপন্যাসের লেখার ধাঁচ একই রকম থেকে উপন্যাসকে মায়ায় জড়ায় । এই জড়ানোর জন্য যে শব্দগুলো ব্যবহার হয়েছে ৩৭৬ পৃষ্ঠা জুড়ে, তা আমার বেশ প্রিয় এবং প্রিয় শব্দ হয়ে থাকুক । ♦অন্যান্য বিষয়ঃ √প্রকাশনীঃ পৃথিবীতে অন্যপ্রকাশ আমার একটা প্রিয় প্রকাশনী । যাদের বইকে সাজানো দেখলে কিংবা বইয়ের প্রতি সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে দেখা থাকলে মনটা পাঠক হিসেবে ভেসে যায় । এরকম একটা অসাধারণ উপন্যাস যখন অন্যপ্রকাশ থেকে আসে, তাই যেন মনমুগ্ধ হয়ে বসে তাকিয়ে দেখতে হয় । এই বইয়ের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো বইটার বাইন্ডিং । অসাধারণ ভাবে করেছে তারা । পড়ার সময়ে পড়তেও তাই বেশ লাগে । রয়েল সাইজের এই বইটার আকৃতি দেখলে হাতে নিয়ে পড়তে ভয় লাগলেও কবে পড়তে পড়তে পুরোটা রাত কেটে গেল, অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হয়ে গেল মন তবুও ভালোলাগা কমছে না । এতটাই বিভোর হয়ে পড়েছি, আমি সত্যি বলতে টেরও পাইনি উপন্যাসে কোনো টাইপিং মিস্টেক আছে কিনা । অসাধারণ ভাবে অন্যপ্রকাশ এর পৃষ্ঠা এবং পৃষ্ঠার বাইন্ডিং উপন্যাসটি পড়তে পাঠক হিসেবে বেশ ভালো লাগা দিয়েছে আমাকে । ♦লেখক প্রসঙ্গেঃ ‘ফেরারি বসন্ত’ লেখক আফিফা পারভীন এর দ্বিতীয় উপন্যাস । বর্তমান সময় অনুযায়ী এখন তার পাঁচটি বই বের হলেও আমার পড়ার হিসেবে এটি তার চতুর্থ বই । ধারাবাহিক ভাবে না পড়ায় ফেরারি বসন্ত পড়তে আমার দেরি হয়ে গেল । আমার তার তৃতীয় উপন্যাস ‘যাও পাখি বলো তারে’ পড়ার পরেই এত ভালো লেগেছিল যে আমি তার প্রতিটি বই সংগ্রহ করেছি, এবং দিন দিন মুগ্ধতায় ভেসে গিয়েছি । তবে এই বইটা যেন সবকিছুর উর্ধ্বে । এত বড় একটা বই আকৃতিতে বড় বলে এত দেরি হয়ে গেল পড়তে বলে এখন খারাপ লাগবে হয়তো ভবিষ্যতে । তবে আজকের দিনটাই বোধহয় আমার পড়ার জন্য যথোপযুক্ত ছিল । যাহোক এই উপন্যাসে তার লেখনীতে সবথেকে যা প্রশংসনীয় তা হলো তার শব্দপ্রয়োগ । কি সুন্দর ভাবে যে তিনি শব্দ ব্যবহার করে প্রেক্ষাপট সাজিয়ে তাকে জীবনধারায় প্রয়োগ করেছেন তা বেশ অসাধারণ । প্রতিটি বর্ণনা কিংবা সময়ের আবহ বেশ অসাধারণ ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি যা বেশ পাঠক হিসেবে পড়তে গিয়ে আচ্ছন্ন করে । সাথে তার একই ধাঁচের লেখা পুরোটা উপন্যাস জুড়ে বয়ে যাওয়ায় লেখার গভীরতা পুরো উপন্যাস জুড়ে মায়া বসিয়ে দিয়েছে । লেখকের আরো একটি উপন্যাস আমার সংগ্রহে আছে, ইনশাআল্লাহ শিগগিরই পড়ে ফেলবো । ♦রেটিংঃ ৪.৯/৫ । এই রেটিং আর এই উপসংহার এর মাঝে আমার পাঠ অনুভূতির একটা বিভাগ ছিল জানেন, যে অংশটা আমি প্রিয় উক্তি দিয়ে সাজাই । কিন্তু হঠাৎই মনে হলো, আজকে তা বরং না করি । যে উপন্যাসের প্রায় সব উক্তিই প্রিয় তার বর্ণনার সৌন্দর্যের জন্য, তা এতগুলো বর্ণনায় নিয়ে আসা আমার জন্য আসলে অনুভূতিতে আরো ভেসে যাওয়ার মতো । তবে সেই যে রংধনুতে ভেসে যাওয়া ভালোবাসা কিংবা ইচ্ছেখুশির বিকেল তা উপন্যাসে আরো মায়া বাড়ায় । ♦উপসংহারঃ জীবনে বৃষ্টির ছাঁট ছাঁট শব্দ কাকে কি করে জানি না, কিন্তু আমার এখন পর্যন্ত যতগুলো উপন্যাসের পাঠ অনুভূতি লেখার সময়ে বৃষ্টি এসেছে সেই উপন্যাসকে ভুলতে আমার অনেকদিন লেগেছে । একদম মনে গেঁথে যায় যেন সেই উপন্যাস । বৃষ্টি বেড়েছে, সঙ্গে বেড়েছে আমার ফেরারি বসন্ত এর জন্য অনুভব । এই উপন্যাসের মাঝে একেক মানুষের জন্য একেক মানুষের ভালোবাসা উপন্যাসে মনের প্রকৃতিতে বিরহ এনেছে কখনোবা বসন্ত এনেছে । সেই বসন্তে ভালোবাসা ফেরারি হয়েছে হয়তো আবারও ফিরে এসেছে । তবে ভালোবাসা মনে বিরাজ করতে চায় সারাটা জীবন ধরে । হায়রে ভালোবাসা অদম্য কামনা, মন জুড়ে শুধু বসন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায় । মাঝে মাঝে কখনও মনে হয় এই উপন্যাস পড়ার পরের যা অনুভূতি তা হয়তো আমার মন পুরোটা লিখে জানাতে পারলো না । তবে আমার মনে হয়, ভবিষ্যতে এর থেকে বেশি জানাতে পারি কিংবা কম, এটাই আমার সবথেকে প্রিয় অনুভূতি হবে, কারণ একেবারে পড়ার শেষেই যে অনুভূতি আসে তা আমার মন থেকেই আসে । তাই এই অনুভূতি আমার পাঠক হৃদয়ের বসন্ত!"
Rony , Sep 13, 2022
"চমৎকার একটি উপন্যাস"
DIDARUL ALAM SHUVO , Jun 26, 2022
"ফেরারি বসন্ত বইটি আমার হৃদয় উত্তাল করে দিয়েছে। আমাকে নতুন করে, নতুন কিছু বিষয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। আামি অনেক বছর কান্না করিনি। বইয়ের কাহিনী আমার চোখে পানি এনে দিয়েছে। আবার কাহিনীর অনেক অংশ পড়ে হেসেছি। প্রচ্ছদের প্রাসঙ্গিকতাঃ- সর্বপ্রথম বইয়ের নামটি আমাকে আকর্ষিত করেছে। আর প্রচ্ছদের দিকে তাকালে যেন দেখতে পাই, জোবায়ের হৈমন্তীকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলছে।হৈমন্তীও যেন একমনে শুনছে। ফেয়ারি বসন্ত বইটা কেন পড়বেনঃ- বইটি গতানুগতিক ধারার কোনো প্রেম কাহিনি না। বইটিতে কাহিনীর মঝে মাঝে ব্যক্তিগত,পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় কাজে জীবন পরিচালনা করার জন্য শিক্ষণীয় উপদেশ আছে। তা বুকে ধারণ করে মানুষের উপকারে কাজ করলে, আমার মনে হয় লেখিকার উদ্দেশ্য সাধন হবে। বইটি যেমনি ভালোবাসতে শেখায় তেমনি ম্যাচিউরিটি,দায়িত্ব পালন করতে উৎসাহী করে।ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাওয়া মানুষকে কীভাবে উঠে দাঁড়াতে হয়।মা-বাবা,ভাই-বোন এবং বন্ধুত্বের বন্ধন। মুক্তিযুদ্ধ, সাঁওতাল বিদ্রোহ, ত্যাগ, অপেক্ষা, ভালোবাসার জন্য হৃদয় দগ্ধ হওয়ার কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। কাহিনী সংক্ষেপঃ- দুই মেরুর দুজন একসাথে কাছে আসার গল্প তুলে ধরা হয়েছে।একজন বাবা মরা এবং মা থেকেও নেই মেয়ের জীবনের সংগ্রাম। আরেক জন ধনী বাবার সন্তান হয়েও মানুষের অধিকার আদায়ে লড়াই করা সংগ্রামী বীর। বইটির কিছু উক্তিঃ- বইটিতে কাহিনীর মাঝে মাঝে শত শত শিক্ষণীয় উক্তি পাবেন।এর মধ্যে ৫ টি উক্তি উপস্থাপন করা হল- ১. সব সময় যে বিয়ের আগে কাউকে ভালোবাসতে হবে আর তাকেই বিয়ে করতে হবে, এমন তো না।ভালোবাসা বিয়ের পরও হয়।একসঙ্গে থাকতে থাকতে একটা সময় মায়া- টান -দায়িত্ব চলে আসে।আর এই সব অনুভূতির পিছু পিছু চলে আসে ভালোবাসা। ২. নিরাপদ আশ্রয় শুধু মেয়েদেরই লাগে না,মাঝে মাঝে পুরুষদেরও কোন নিরাপদ আশ্রয়ে মুখ গুঁজে কাঁদতে ইচ্ছে করে। ৩. এই প্রজন্ম শুধু বর্তমানকে জানে।অতীত ইতিহাস জানে না।বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে তাদের পূর্বপুরুষেরা কীভাবে লড়াই করে গেছে,তা তারা জানেই না।নিজের শিকড়,নিজের অতীত ইতিহাস না জানলে হৃদয়ে দেশ কিংবা জাতির প্রতি মমত্ববোধ আসে না। ৪.জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো চিন্তাভাবনা করে নিতে হয়, কিন্তু এত চিন্তাভাবনা করাও ঠিক না যে ভাবতে ভাবতে জীবন পার হয়ে যায়। ৫. মানুষ ভাবে প্রিয়জনকে ছাড়া জীবন চলবে না, বেঁচে থাকবে না।আসলে এটা ভুল। জীবন কারও জন্য থেমে থাকে না।জীবন চলে নিজের নিয়মে। সর্বশেষে কিছু কথাঃ- বইটি পড়ার পর আমি সত্যি হৈমন্তীর মতো বড় বোনের অভাববোধ করছিলাম। কারণ আমার বড়বোন নেই। জোবায়ের এর মতো ফ্রেন্ড সার্কেলের অভাববোধও হচ্ছিল।বইটা যেন আমার জন্যই লেখা, বারবার মনে হচ্ছিল। জোবায়ের,হৈমন্তী, শম্পার কিছু আচরণ আমার সাথে হুবহু মিলে যায়। ফেরারি বসন্ত শালীন, সুন্দর একটা বই যা পড়ে মনে হয়েছে আমার সময় ও টাকার সদ্ব্যবহার করেছি।"
Tahsin Jahan Orin , Jun 25, 2022
"ফেসবুকে বেশ কিছু রিভিউ দেখার পর "ফেরারি বসন্ত" বইটা পড়ার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছিলাম। সেই আগ্রহ থেকেই বইটি সংগ্রহ করা। বই হাতে পেতেই একবার দেখে নিলাম লেখক পরিচিতি, উৎসর্গ, বইয়ের সাইজ। এমন বিশাল সাইজের বই দেখে অবাকই হয়েছিলাম। কারণ যতদূর জানি লেখিকা নতুন। যাই হোক ফ্লাপের লেখাটাই মন ছুঁয়ে গেল। শুরু করলাম বইটি পড়া। ধীরে ধীরে ডুবে যেতে লাগলাম গভীর থেকে গভীরে। রাত যত গভীর হচ্ছিল, বইয়ের পাতার প্রতিটি লেখার আবেগ যত জীবন্ত হচ্ছিল। চোখের সামনে ভেসে উঠছিল এক একটি মুহুর্ত, এক একটি জীবনধারা। এভাবেও বুঝি লেখা যায়। নব্বই দশকের প্রেক্ষাপটে লেখা এই উপন্যাস পড়ে কখনোও শৈশবে ফিরে যাচ্ছিলাম তো কখনো ভালোবাসায় ব্যাকুল কিছু হৃদয়ের পাগলাটে অনুভূতির সাথে পরিচিত হচ্ছিলাম। বইটি পড়ার পর ভালোবাসার এক নতুন সংজ্ঞা উপলব্ধি করতে পারলাম। জামশেদ হাসান, নীলিমা হাসান, জুনায়েদ হাসান সবাই যেন ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এবং সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো লেখিকা দুইটা ঐতিহাসিক আন্দোলন নিয়ে কথা বলেছেন। এক আমাদের মহান "মুক্তিযুদ্ধ" আর দুই "সাওতাল বিদ্রোহ"। ইতিহাস সম্পর্কে আমি ঠিক কতটা অজ্ঞ তা এই বই পড়ে বুঝতে পারলাম কিংবা সেই আন্দোলনকারীদের অসহনীয় কষ্টের মাত্রা সম্পূর্ণ বুঝতে না পারলেও একটু অনুভব করতে পারলাম। এত অত্যাচার, এত নির্যাতন সহ্য করেছে আমাদের পূর্বের প্রজন্ম। বেশকিছু চরিত্র রয়েছে। এতগুলো চরিত্র নিয়ে কাজ করা একজন লেখিকার পক্ষে অনেক কঠিন একটা বিষয়। কিন্তু উপন্যাসের সাবলীলভাবে এগিয়ে চলা ও পারফেক্ট একটা এন্ডিং দেখে মনে হয়েছে লেখিকা অধিক চরিত্র নিয়ে খেলতে বেশ পছন্দ করেন। আরও একটা বিষয় যেটা না বললেই নয়, লেখিকা নিছক আনন্দ বা সময় কাটানোর জন্য লেখেনি উপন্যাসটি। বর্ননাভিত্তিক লেখায় তিনি পাঠকের জন্য ছোট বড় অনেক মেসেজ দিয়েছেন। জীবনে চলতে গেলে যে সাধারণ বাধাগুলো আমরা ফেইস করি সেগুলো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে সমাধানের চেষ্টাও করেছেন। অনেক অনেক দিন পর মনে হলো একটা অসাধারণ বই পড়েছি। চরিত্রগুলো মনে দাগ কাটার মতো। এরমধ্য জুনায়েদ হাসান, জামশেদ হাসান, মেজর ইশতিয়াক, ফালকি উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি চরিত্রই গুরুত্বপূর্ণ। লেখিকা কারও সাথে অন্যায় করেনি। খুব দ্রুতই লেখিকার পরের বইগুলো সংগ্রহ করার ইচ্ছে আছে। লেখিকাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।"
Marjiya , May 24, 2022
"ফেসবুকে এই বইয়ের ভালো রিভিউ দেখে অনেক আশা নিয়ে কিনেছিলাম। পড়তে বসে প্রথম দিকেই খুব বিরক্ত লাগলো নায়কের সাথে নয়িকার ধাক্কা লাগে, সেই থেকে শুরু!!! পুরাই বাংলা সিনেমার কাহিনী কিছুটা দেবদাস থেকেও নেয়া হয়েছে বোধহয়। পুরোপুরি না। নায়িকার অন্য জায়গায় বিয়ে হওয়ায় নায়ক মদ খাওয়া শুরু করে অসুস্থ হয়ে যায় তারপর আরেক বিসাল কাহিনী নায়িকার আসলে বিয়েই হয় নাই তবুও এমনি এমনি শশুর বাড়ি ছিলো স্বামী আবার খুবই ভালো ফেরেস্তা টাইপ যাইহোক পরে সে মারা যায় নায়িকার আবার পুরোনো প্রেমিকের সাথে বিয়ে হয়। লেখক টানতে টানতে ৩৭৫ পৃষ্ঠা করছে এই বই এতো বড় করার কোনো মানেই ছিল না। অযাচিত অংশ এনে সংলাপ বারিয়ে পৃষ্ঠা বারানো হয়েছে । ২/৫ রেটিং শুধু বিরাঙ্গনা জুবায়েরের মার অংশ টুকু আর চাচা মুক্তি যোদ্ধা জুনায়েদ হাসানের অংশ টুকুর জন্য। আমি খুবই দুঃখিত রিভিউ টা গুছিয়ে লিখতে পারিনি। বইটা খুব আসা নিয়ে কিনেছিলাম এজন্য হয়তো খুব বাজে লেগেছে। এককথায় বলতে পারি আমার ব্যক্তিগত মতামত বইটা পড়া মানে সময় অপচয় ছাড়া আর কিছুই না।"
Priya Rahman , Mar 26, 2022
",,,,,,,,,,,অনন্ত নক্ষত্রবীথির মাঝে ,,,,,,,,,,,,,আছো এক নক্ষত্র হয়ে, ,,,,,,,,,,,,,,,,, দৃষ্টির সীমায় তুমি নেই ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,আছো আমার হৃদয়ে। সব ভালোবাসায় কি পূর্ণতা পায়? অপূর্নতার মাঝেও যে ভালবাসার গভীর তাৎপর্য নিহিত। কারো ভালোবাসা পূর্ণতা পেয়ে বসন্তের দোলা নিয়ে আসে, আবার কারো ভালোবাসা অপূর্ণতার মাঝে ফেরারি হয়ে যায়। জনপ্রিয় লেখক "আফিফা পারভীন " এর দ্বিতীয় উপন্যাস "ফেরারী বসন্ত "। এই উপন্যাসে লেখক ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, দেশপ্রেম, ত্যাগ, অপেক্ষা সবকিছু এক সুতোয় খুব নিপুণভাবে বুনন করেছেন। পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ কারো কারো জীবনে ভালোবাসা আসে ঝুম বর্ষায় কারো জীবনে আসে দহন দিনে।পুরো উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে কমরেড জুবায়ের আর হৈমন্তী। সাহসী, সুদর্শন, মেধাবী ও স্বদেশপ্রেমে ভরপুর কমরেড জুবায়ের একসময় ভালোবেসে ফেলে সহজ-সরল শ্যামবর্ণ মায়াবী চেহারার হৈমন্তীকে। তাদের ভালোবাসার উত্তাল নদীতে পালতোলা নৌকায় হঠাৎ করেই কালবৈশাখীর হাওয়া লাগে।ভালোবাসার রঙিন ঘুড়ি জীবনের আকাশে উড়তে উড়তে হঠাৎ করে নাটাইয়ের সুতো কেটে যায়। জুবায়ের ও হৈমন্তীর জীবনেও শম্পা,ফালকি, ইশতিয়াকরা ভালোবাসার হাতছানি নিয়ে আসে এক সময়।এত উত্থান পতনের পরও জুবায়ের আর হৈমন্তীর ভালোবাসার বসন্ত কিভাবে যেন ফেরারি হয়ে যায়। ~~~~~~~চরিত্র কথন~~~~~~~ জুবায়েরঃ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কমরেড জুবায়ের। জামশেদ ও নীলিমা হাসানের বড় পুত্র এবং মুক্তিযোদ্ধা জুনায়েদ হাসানের ভাতিজা। পারিবারিক সূত্রে স্বদেশপ্রেম তার রক্তে। ছোটবেলা থেকেই দেশের গরিব ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য লড়াই করতে শিখেছে। ছাত্রজীবনেই রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়ে,একসময় নিজের জীবন বাজি রেখে মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়ে ওঠে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে পাঠকের অসম্ভব ভালো লাগবে এই চরিত্রটি। হৈমন্তীঃ মধ্যবিত্ত পরিবারের পিতৃহীন মেধাবী মেয়ে হৈমন্তী। মায়ের অবহেলা সংসারে টানাপড়েন', ছোট ভাই অমিতের দায়িত্ব সবকিছু মিলিয়ে তার জীবন। ছোট্ট এই জীবনে একসময় বসন্তের কোকিলের মতো আগমন ঘটে জুবায়েরের। তার ভালোবাসায় রংহীন জীবনে হৈমন্তী রংধনুর সাত রং এর দেখা পায়। সহজ-সরল ভীত হৈমন্তী ও একসময় জীবন সংগ্রামে লড়াই করে বেঁচে থাকা শিখে যায়। নায়িকা হিসেবে হৈমন্তী চরিত্রটি একটু দুর্বল মনে হলেও, পাঠকের কাছে তার ভালোবাসার উপাখ্যান সবমিলিয়ে ভালো লাগবে। শম্পা ও ফালকিঃ উপন্যাসে শম্পা ও ফালকি দুটি ভিন্ন চরিত্র হলেও আমার কাছে এদের অবস্থান একই। দুই ধর্মের দুইজন নারী কি সুন্দর নিঃস্বার্থভাবে একজন মানুষকে ভালবাসতে পারে, তা শম্পা ও ফালকির থেকে শেখা উচিত। অসম্ভব সাহসী ও দেশপ্রেমী এই দুই নারী পাঠকদের মন জয় করবে। ইশতিয়াকঃ পুরো উপন্যাসে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র হচ্ছে ডাঃ মেজর ইশতিয়াক। এই চরিত্রটি পুরো উপন্যাসে খুবই অল্প বিস্তর হলেও আমার কাছে এর প্রভাব ছিল উপন্যাস জুরে।কতটা উদার হলে একজন মানুষ নিজের ভালোবাসাকে অন্যের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করতে পারে তা আমার জানা নেই। পুরো উপন্যাসে এই চরিত্রটির জন্য পাঠকের মন ব্যাকুল হয়ে কাদঁতে বাধ্য হবে। এছাড়াও উপন্যাসটিতে আরো কিছু চরিত্র আছে যা পাঠকদের মন কেড়ে নিব। মিন্টু, জয়দেব, শাহরিয়ার, অমিত, জুনায়েদ হাসান,ফজিলা খাতুন, মিনু এরা সবাই যার যার চরিত্রে চমৎকার। প্রিয় উক্তিঃ ১. যে পথের কোন মঞ্জিল নে, সে পথের না হাটাই ভালো। শুধু শুধু কেন এই পন্ডশ্রম। ২. মা হয়ে তুমি সন্তানকে মৃত্যুর থেকেও বড় যন্ত্রণা দিচ্ছ, আমি মেয়ে হয়ে তোমাকে আমার সব যন্ত্রণার বিনিময় সুখ দিয়ে গেলাম। ৩. আকাশের অগণিত তারাকে আমার সমস্ত আদরের ডুবিয়ে, ভালোবাসার খুসবো মাখিয়ে তোমার নামে মেঘের খামে পাঠিয়ে দিলাম। ৪. যুদ্ধ করতে হলে শুধু অস্ত্র লাগেনা, সেবা দিয়েও যুদ্ধ করা যায় । ৫. কিছু প্রেমের সার্থকতা বিচ্ছেদেই থাকে, বিচ্ছেদই আমার প্রেম আমার ভালোবাসা। ৬. কারো জীবনে এই বসন্ত আসে চিরস্থায়ী হয়ে, কারো জীবনে ক্ষণিকের মেহমানের মত আর কারো জীবনের বসন্ত ফেরারি হয়ে থেকে যায়। ৭. ভালবাসা আর বিশ্বাস পাশাপাশি হাত ধরে হাঁটে। ৮. কিছু ভালোবাসার বিনিময় কখনো শুধু ধন্যবাদ দিয়ে হয় না, ভালোবাসা দিয়েই জানাতে হয়। পরিশেষে বলব, পুরো উপন্যাসটি যেন কোন শিল্পীর রং তুলিতে আঁকা একটি বাস্তব ছবি আর লেখক এই শিরোনামহীন ছবির নাম দিয়েছেন "ফেরারি বসন্ত"। বইঃ ফেরারী বসন্ত লেখকঃ আফিফা পারভীন প্রচ্ছদঃ মোস্তাফিজ কারিগর মুদ্রিত মূল্যঃ ৮০০ টাকা"
Tahira Tanjum Shuma , Oct 19, 2021
""ফেরারী বসন্ত" আফিফা আপুর লেখা দ্বিতীয় দীর্ঘ উপন্যাস। নব্বই শতকের সময়কে কেন্দ্র করে শালীন ও মার্জিত ভাষায় লেখা এই উপন্যাস খুব কম সময়েই ভালো লাগার একটা জায়গা দখল করে আছে। চমৎকার ভাষাচয়ন ও শব্দের ব্যবহারের সাথে সাথে উপন্যাসের কাহিনী সুন্দরভাবে এগিয়ে চলেছে। কখনোও মনে হয়নি কোথায় ভাষার ত্রুটিপূর্ন ব্যবহার হয়েছে। কাহিনী সারসংক্ষেপঃ নব্বই দশকের উপর ভিত্তি করে সামাজিক ক্যাটাগরিতে লেখা এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছে জুবায়ের ও হৈমন্তী। জুবায়ের, সম্ভ্রান্ত পরিবারের বাবা - মায়ের একমাত্র বড় সন্তান এবং ছোট দুই জমজ ভাইয়ের একমাত্র গাইডার। কলেজে বেশ পরিচিত একটা মুখ। কমিউনিজম পার্টির সাথে তার একাত্ম সম্পর্ক। সাম্যবাদী আন্দোলনের রূপকার এই জুবায়ের তার আশেপাশের সকল মানুষের জন্য সমান তালে কাজ করে। বর্তমান রাজনীতি বলতে যা বুঝায় তা একদমই নয়। নেই ক্ষমতার অপব্যবহার। সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্ম নিয়েও সাধারণ মানুষের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রমী একজন মানুষ কমরেড জুবায়ের। অপরদিকে হৈমন্তী, বাবাহীন, মায়ের ছত্রছায়ায় এক ছোট ভাই অমিতকে নিয়ে তার পথ চলা। মা - সে তো শুধু নামে মাত্রই মা। যে পরিবারে বাবা নেই এবং মা থেকেও না থাকার মতই তাদের জীবনযাত্রা আর দশজনের চেয়ে ভিন্ন। পরিবারের সকল কাজ করার পর নারায়ণগঞ্জ টু ঢাকা প্রতিদিন লঞ্চ ধরে যাতায়াত করে কলেজে এটেন্ড করা এবং টিউশনি করে নিজের ও ভাইয়ের যাবতীয় খরচ চালানো এক সংগ্রামী মেয়ে। সে জানে তার জীবনের সীমাবদ্ধতা। তাই তো কখনোও কোন রকম উউচ্চাভিলাস করেনি। সব সময়ই নিজেকে একটা গন্ডির মধ্য আটকে রেখেছে। কিন্তু জীবন তো সব সময়ই নিজের বানানো গন্ডির মধ্য চলে না। তাই একদিন অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে দেখা হয়ে যায় কমরেড জুবায়েরের সাথে। এরপর নানান চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে তাদের জীবনে ধরা দেয় বসন্ত। এরপর কলেজ ক্যান্টিন, লাইব্রেরি, কৃষ্ণচূড়ার তলা সব জায়গায় থাকে তাদের অল্পস্বল্প বিচরন। একজন তার মোহনীয় কন্ঠে ভাষণ দিতে ব্যস্ত অপরজন নীরবে আড়ালে থেকে তার সেই কন্ঠ শোনায় ব্যস্ত। মনে হয় আর দশটা প্রেমের মতই। কিন্তু নাহ, লেখিকা তার ভাষাচয়নের মাধ্যমে পুরো উপন্যাসকে এত সুন্দর করে উপস্থাপন করেছে যে এটা উপন্যাস নাকি বাস্তবতা সেটা একটা ভাবনার বিষয়। এছাড়া উপন্যাসের মাধ্যমে লেখিকা তুলে ধরেছেন দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীভৎস স্মৃতি, আপনজন হারানোর রোনাজারি, সাঁওতাল বিদ্রোহসহ নানান দিক। এছাড়া উপন্যাসের আরোও কিছু চরিত্র হচ্ছে শাহরিয়ার, শম্পা, মেজর ইশতিয়াক, ফালকি, জুনায়েদ হাসান। শাহরিয়ার, প্রচন্ড ভালোবাসার পরও প্রকাশ না করা এবং প্রত্যাখান হবার পরও আগের চেয়ে তাকে বেশি ভালোবাসা এবং একসময় প্রচন্ড অভিমান নিয়ে দেশের মায়া ত্যাগ করে অন্য দেশে চলে যাওয়ার কষ্ট পাওয়ার প্রতিরুপ। শম্পা, হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে ভালোবাসার পরও তাকে না পাওয়ার হাহাকার নিয়ে তারই ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টায়। কারোও কাছ থেকে প্রচন্ড রকমের ভালোবাসা পেয়েও তা গ্রহন করতে না পারা এবং কাউকে সবটুকু দিয়ে ভালোবাসার পরও তাকে না পাওয়ার হাহাকার নিয়ে এগিয়ে চলা এক চরিত্র। জুনায়েদ হাসান, জুবায়েরের চাচা। যিনি দেশের জন্য সব সময়ই কাজ করে গেছেন। দূরে থেকেও খুব কৌশলে পরিবারের খেয়াল রেখেছেন। ফালকি, সাঁওতাল উপজাতির সংগ্রামী এক মেয়ে। পাবে না জেনেও হৃদয় নিংড়ে তার সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে সেই মানুষটার যত্ন করা, তার খেয়াল রাখা তাকেই জীবনের সবটুকু উৎসর্গ করা এক চরিত্র। মেজর ইশতিয়াক, মানুষ এত ভালো কেন হয়? চারপাশের এত কুৎসিত মানুষের মাঝে মেজর একটা হিরন্ময় প্রতিক। জুবায়ের, সবচেয়ে অভাগা। এতগুলো নারীর ভালোবাসা পেয়েও ভালোবাসাহীন জীবন তার। সবকিছু পেয়েও যার পাওয়ার হিসাবের খাতা শূন্য। হৈমন্তী এজ আজন্ম অভাগী। সব পেয়েও যার না পাওয়াই রয়ে গেল। মোটকথা লেখিকা এদের লাভ ক্যামেস্ট্রি এমন ভাবে উপস্থাপন করেছেন তাতে একটা কথাই বলতে পারি, "পেয়েও হল না পাওয়া, হাত বাড়িয়েও যায় না ছোঁয়া। পূর্নতার মাঝে এক অপূর্নতার হাহাকার। কিছু অপ্রাপ্তি, কিছু প্রাপ্তি, পাওয়া না পাওয়ার হাহাকার সব মিলিয়ে একটা মাস্টারপিচ উপন্যাস। যতই বলা যায় ততই কম। এখন সবার জীবনের সব সমস্যা মিটে কার জীবনে বসন্ত ধরা দেয় আর কার জীবনে বসন্ত অধরাই থেকে যায় সেটা জানার জন্য পড়তে হবে। আশা করি ভালো লাগবে।"
Mushfika Sarika , Oct 6, 2021
"একের ভেতর সব এই বইটি। এই বই পড়ে শুধু নিছক আনন্দই না ইতিহাস থেকেও ঘুরে আসা যায়। জুবায়ের হাসানের পরিবারের লোকজনের কথা যতই বলা যায় কম হবে। বইটি প্রিয় তালিকায় স্থান দেওয়ার জন্য দ্বিতীয়বার ভাবতে হয় না। শুভকামনা বইটির জন্য। আমার মনে হয় বইটি সবারই একবার হলেও পড়া উচিত।"
Sumu , Oct 6, 2021
"নব্বই দশকের আবহে রচিত উপন্যাস 'ফেরারি বসন্ত'। যা লেখিকার দ্বিতীয় বই হিসেবে প্রকাশিত। চমৎকার বাচনভঙ্গি এবং শব্দ বিন্যাসের জালে খুব সূক্ষ্ম পর্যায়ে কাহিনী বিস্তারিত তুলে ধরেছেন লেখিকা, যা অবশ্যই প্রশংসনীয়। নিঃসন্দেহে 'এসো নীপবনের' পর পছন্দের তালিকায় আরেকটি বই যোগ হতে যাচ্ছে 'ফেরারি বসন্ত'। শুভকামনা লেখিকার জন্য, এবং অপেক্ষা পছন্দের বইটি হাতে পাওয়ার জন্য।"
Mehnaj Akter , Oct 6, 2021
"সমসাময়িক লেখকদের মাঝে সবচে পছন্দের একজন লেখিকা আফিফা পারভীন। উনার লেখার ধরণ এবং বর্ণনাভঙ্গি বরাবরই আমাকে মুগ্ধ করে। প্রথম বই "এসো নীপবনে" পড়ার পর এই মুগ্ধতা আরও বেড়ে যায়। উনার দ্বিতীয় বই "ফেরারি বসন্ত "। একই সাথে একটি সামাজিক এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের পুরোটা জুড়ে লেখক বলে গেছেন আমাদের বাস্তব জীবনের সমস্ত ঘটনাবলী। লেখকের জন্য অনেক ভালোবাসা রইলো এত সুন্দর একটি উপন্যাস আমাদের উপহার দেবার জন্য।"
Life Matters , Oct 6, 2021
"লেখিকা আফিফা পারভীন আপুর দ্বিতীয় প্রকাশিতব্য উপন্যাস "ফেরারী বসন্ত"। লেখিকার লেখার মান এতোটাই উন্নত এবং মানসম্মত যে কোনোভাবেই তিনি কোনো ছোট ঘাটতি রাখেননি যা থেকে তার লেখালেখির সংখ্যা নির্ধারণ করা যাবে। এতোটাই সুদক্ষ এবং মার্জিত ভাবে তিনি এই উপন্যাসের প্রতিটি বাক্য গঠন করেছেন যে খুব অল্প সময়েই তিনি তার পাঠকদের তার লেখনীতে আকৃষ্ট করতে পেরেছেন যা মনকে পরিতৃপ্ত করে। সমসাময়িক উপন্যাস থেকে একদম ভিন্ন ঘরানার লেখার গাঁথুনি থেকে শুরু করে প্লট এমনকি চরিত্র গুলো পর্যন্ত তিনি খুব সুঁচালো রুপে তুলে আনেন তার লেখনীতে। লেখিকার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা যে কতোটা সুক্ষ্ম এবং স্বচ্ছ সে বিষয়ে জানতে হলে "ফেরারী বসন্ত" একটি অন্যতম বিশেষ উপন্যাস হিসেবে যথার্থ সুযোগ তৈরী করেছে। "ফেরারী বসন্ত" উপন্যাসের আদ্যোপান্ত তৈরী হয়েছে নব্বই দশকের জীবনধারা, সে সময়ের কিছু মানুষের জীবনের গল্প নিয়ে। এই একটা উপন্যাসে লেখিকা শুধুমাত্র একটা সময়কে তুলে ধরেননি, তুলে ধরেছেন সে সময়ের আরও বিভিন্ন জানা-অজানা বিষয়কে। লেখিকা তার দ্বিতীয় এই উপন্যাসের মাধ্যমেই আমাদের পরিচয় করিয়েছেন তার ক্ষুরধার লেখনীর সাথে, এবং উপলব্ধি করিয়েছেন কাগজের গায়ে খসখস শব্দ তুলে তার কলমের অবিরত চলা আমাদের উপহার দিতে পারে এমন কিছু, যা আমরা সমসাময়িক কোনো লেখকের কাছে পাইনি। লেখিকার মন ও মস্তিষ্কের খেলায় তৈরী হওয়া প্রতিটি চরিত্র আমাদের সবার খুব কাছের,খুব পরিচিত। যারা "ফেরারী বসন্ত" পড়তে ইচ্ছুক তবে কোনো কারণে সন্দিহান তাদেরকে অনুরোধ করব একবার ঝুঁকি নিয়েই দেখুন, এই ঝুঁকি-ই আপনার এবছর নেয়া সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।"
Azizur Rahman , Oct 1, 2021
"বর্তমান সময়ের একজন তুখোড় লেখক। উনার প্রথম বইটা কিনে পড়ার পর স্তব্ধ হয়ে ছিলাম। মনে হয়েছিল কোন পুরান লেখকের বই পড়ছি। সাবলীল, মার্জিত, ভালো মানের এই লেখক একদিন অনেক নাম করবে বলে আমার বিশ্বাস। শুভ কামনা।"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"ফেরারি বসন্ত" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: