হোম
0
কার্ট
অফার সাইন ইন
বই খোঁজা হচ্ছে...

কোনো বই খুঁজে পাওয়া যায়নি

বানান ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন অথবা অন্য শব্দ দিয়ে খুঁজুন

প্রগতি - PROGOTY
এমন দিনে তারে বলা যায় - আফিফা পারভীন এর প্রচ্ছদ
একটু পড়ে দেখুন

১ম প্রকাশ, জুলাই ২০২৪

ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

এমন দিনে তারে বলা যায়

10 Ratings | 10 Reviews
TK. 569 TK. 800 -29% OFF

1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি

কোনো একটি দিন এমন হয় যে, সেই দিনটিতে সবকিছুই একটু ব্যতিক্রমী ও বেহিসেবী হয়। বহু দিনের অবরুদ্ধ মনের একান্ত আকুল চাওয়া ও সমস্ত অব্যক্ত কথা যেন এমন দিনেই নিঃসংকোচে...
একটু পড়ে দেখুন
ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

বইটির বিস্তারিত দেখুন

কোনো একটি দিন এমন হয় যে, সেই দিনটিতে সবকিছুই একটু ব্যতিক্রমী ও বেহিসেবী হয়। বহু দিনের অবরুদ্ধ মনের একান্ত আকুল চাওয়া ও সমস্ত অব্যক্ত কথা যেন এমন দিনেই নিঃসংকোচে প্রাণ খুলে প্রকাশ ক
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন
Title এমন দিনে তারে বলা যায়
Author আফিফা পারভীন
Publisher গ্রন্থরাজ্য
Edition ১ম প্রকাশ, জুলাই ২০২৪
Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) 384
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা
Category উপন্যাস ও সাহিত্য
Weight 0.75 Kg
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন

বিজ্ঞপ্তি

গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।

Reviews and Ratings

Rate this product

5.00

10 Ratings and 10 Reviews

★★★★★
10
★★★★☆
0
★★★☆☆
0
★★☆☆☆
0
★☆☆☆☆
0

পাঠকদের মন্তব্য

১০টি
880****112

880****112 , Aug 8, 2026

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"১০/১০"

Ety Akter

Ety Akter , Dec 6, 2025

★ ★ ★ ★ ★

"সুন্দর,,, খুবই ভালো লেগেছে❤️❤️"

Baran Al Hoque

Baran Al Hoque , Nov 14, 2025

★ ★ ★ ★ ★

"#অনুভূতি_কথন বই- এমন দিনে তারে বলা যায় লেখিকা- আফিফা পারভীন প্রচ্ছদ- ফাইজা ইসলাম প্রকাশনী- গ্রন্থরাজ্য গল্পটা শুরু হয় এক বৃষ্টির দিনে। দুটি পাতা একটি কুড়ির জেলা সিলেট হলেও সেই বিভাগের আরেকটি জেলা হবিগঞ্জের একটি রিসোর্ট থেকে। যেখানে বৃষ্টিপ্রেমী ক্যাপ্টেন রুমি সিদ্দিকী তার তিন ক্যাপ্টেন বন্ধুকে সাথে নিয়ে ছুটি কাটাতে আসে। কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঝগড়া বেধে যায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল চৌধুরীর মেয়ে অহনা চৌধুরী বৃষ্টি'র সাথে। 🥺 বিকালে যখন বাকি বন্ধুরা বৃষ্টি দেখে খিচুড়ি খেয়ে ঘুমাতে ব্যস্ত তখন রুমি নিজেকে কোনভাবেই রুমে আবদ্ধ রাখতে পারলো না। একই রিসোর্টে ব্যবসায়িক কাজে থাকতে আসেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ইকাবাল চৌধুরী তার অতিথিবৃন্দ এবং একমাত্র মেয়ে বৃষ্টিকে নিয়ে। বৃষ্টির মায়ের বৃষ্টি পছন্দ ছিলো বিধায় নিজের মেয়ের নাম রাখেন বৃষ্টি। আকাশ থেকে নামা বৃষ্টি দেখে তার প্রশংসায় কিছু বাক্য আওড়ানোতেই লেগে গেলো দ্বন্দ্ব এবং তারপরে সেই ভুল বোঝাবুঝি রুপ নিলো ঝগড়ায়। ঝগড়া করে মেজাজ খারাপ নিয়ে রুমে এসে নিজের প্রিয় বন্ধুদের সাথে সময় কাটিয়ে গেলো বিলিয়ার্ড খেলতে তখন ইকবাল চৌধুরীর সাথে পরিচয় হলো রুমি, জামান, আসাদ ও আশরাফ এর। জমে গেলো অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সাথে চার তরুণ ক্যাপ্টেনের খেলা। সেখান থেকে যখন ডিনারে গেলো তখন তাদের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটলো। আমরা জানি না, ভালোবাসা আমাদের জীবনে কখন কিভাবে ধরা দিবে। কখনো কখনো প্রথম দেখাতেই ভালবাসা হয়ে যায় তো কখনো ভালোবাসা বুঝতে অনেকটা সময় চলে যায়। কেউ সেটা ধরতে পারে তো কারো কারো অধরাই রয়ে যায়। রুমির সাথে বৃষ্টির যে ভুল বোঝাবুঝি হলো সেটা থেকে মাফ চাওয়া পর্যন্ত বৃষ্টি জানে না তার সাথে কি হবে বা হতে যাচ্ছে। যে লোকটাকে সে এতো বকাঝকা করলো পরে তার সামনে যেতেই লজ্জা লাগবে, স্বপ্নে সেই হানা দিবে কোন রকম কথা বার্তা ছাড়া। সবচেয়ে ভয়ংকর সুন্দর ঘটনা হবে যখন রুমি বৃষ্টিকে সিলেটের সৌন্দর্য দেখাতে নিয়ে যাবে। ক্যান্টনমেন্ট থেকে ক্যান্টমেন্ট এ বড় হওয়া বৃষ্টি যদিও সিলেটে আগে থেকেছে কিন্তু ঘুরতে যাওয়া হয়নি ছোট থাকার কারণে। তাই বাবার সাথে এসে সিলেটের সৌন্দর্য দেখার সুযোগ মিস করতে চায়নি। নিজে নিয়ে যেতে না পারলেও মেয়েকে নিরাশ করেননি ইকবাল চৌধুরী। গ্রাম বাংলার সৌন্দর্য দেখতে দেখতে চলেই গেলো বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর পর্যটন স্থান বিছানাকান্দি। রুমি এবং বৃষ্টির বিছানাকান্দি ভ্রমণের সাথে সাথে লেখিকা আফিফা পারভীন আপু খুব সুন্দর ভাবে বিছানাকান্দির সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন এবং সেই জায়গার মানুষের জীবন জীবিকা কিভাবে আসে, মানুষের জীবন যাত্রা কেমন সেগুলোও খুব সুক্ষ ভাবে তুলে ধরেছেন। প্রত্যেকটা বিষয় এতো সুন্দরভাবে উঠে এসেছে বইতে যে আপনার পড়তে খুব ভালো লাগবে। ঘুরতে যাওয়া এই জায়গাগুলোর বেপারে আমরা অনেক কিছুই জানি না। বিছানাকান্দি থেকে জাফলং যেতে যেতে বৃষ্টি আবারো গ্রাম বাংলার রুপ দেখলো। শহরে বড় হলেও বৃষ্টির গ্রামীণ জীবন সব সময় খুব আপন লাগে। জাফলং এ পৌছে রেস্ট হাউসে বসে তারা দুপুরের খাবার খাচ্ছিলো তখনই বৃষ্টির প্রশ্নের কারণ থাকতে না পেরে রুমিকে জামানের জীবন সম্পর্কে বলতে হয়েছে। সেই কাহিনীটা ছিলো খুবই হৃদয়বিদারক। আমাদের চারপাশে আমরা যতো হাসিখুশি মানুষ দেখি সবার জীবন কিন্তু তেমন হাসিখুশি থাকে না, সেই হাসির পিছনে লুকিয়ে থাকে অনেক অশ্রু। কথায় আছে যদি কোন মানুষকে তুমি জানতে চাও তাহলে তার সাথে ভ্রমণে বের হও। রুমির বেলাতে এই উক্তিটা যেন আরো বেশি প্রযোজ্য। প্রথম দেখায় বৃষ্টির সম্পর্কে তার যা ধারণা ছিলো একদিনের ভ্রমণে সেটা পুরোই পাল্টে গেলো। মা ছাড়া মেয়েটার প্রতি তার মনে আর কোন বাজে অনুভূতি রইলো না। বরং বলা যায় সেটা পাল্টেই গেলো। 😊 'এমন দিনে তারে বলা যায়' একটা সামাজিক উপন্যাস। এখানে প্রেম আছে, বিচ্ছেদ আছে। এই গল্পে আমাদের সমাজে বিভিন্ন স্তরের মানুষের গল্প উঠে এসেছে। কেউ সন্তানের জন্য হাহাকার করছে তো কেউ সংসারের হাল ধরার জন্য নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছে। কেউ ভালোবাসার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে তো কেউ ভালোবাসার মানুষকে পাবে না জেনে নিরবে কেঁদেছে। গল্পে প্রতিটা চরিত্র খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পটা আপনাকে ধরে রাখবে। প্রকৃতির বর্ণনায় একটা সময় আপনি হারিয়ে যাবেন। মনে হবে আপনি নিজেই যেন ভ্রমণ করছেন চরিত্রগুলোর সাথে। চরিত্রগুলো যেমন গল্পের প্রয়োজনে এসেছে তেমন তার সমাপ্তিও সুন্দরভাবে টানা হয়েছে। পার্ফেক্ট এন্ডিং যেটাকে বলে 'এমন দিনে তারে বলা যায়' তেমনই একটা গল্প। ❤️ হ্যাপি রিডিং 🫶"

sad****com

sad****com , Mar 1, 2025

★ ★ ★ ★ ★

"বইয়ের নাম: এমন দিনে তারে বলা যায় লেখক:আফিফা পারভিন “এমন দিনে তারে বলা যায় ”গল্পটি মুলত ক্যাপ্টেন রুমি সিদ্দিকী এবং অহনা চৌধুরি বৃষ্টি এদের ভালোবাসার । ক্যাপ্টেন রুমি এবং তার তিন ঘনিষ্ঠ বন্ধু—ক্যাপ্টেন জামান, আসাদ ও আসরাফের বন্ধুত্বের গল্প,তাদের জীবন সাথি, পেশাদারিত্বের চাপেও বন্ধুত্বের সুন্দর সমীকরন, ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন গল্পকে আরও মানবিক করে তোলে। ক্যাপ্টেন রুমি শুধুমাত্র এক জন সাহসী সৈনিকই নন বরং একজন দায়িত্বশীল পরিবারপ্রেমী মানুষ। বন্ধুমহলে রোমিও নামে পরিচিত সব সময় মেয়েদের থেকে দূরত্ব বাজায় রাখা রুমি কখন কিভাবে বৃষ্টির প্রেমে পড়ে গেলো এবং সেই সময়ে তার জীবনে যুদ্ধক্ষেত্রের চেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে হৃদয়ের লড়াই। বৃষ্টিপ্রেমি রুমির সাথে এক বর্ষনমুখর দিনে দেখা হয় বৃষ্টির। তারপর বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পার করে দুজন দুজনের ভালো থাকার সাথী হয়ে যায়। অহনা চৌধুরি বৃষ্টি হাসিখুশি, বোকা,অল্পতেই রেগে গিয়ে বোকা বোকা কাজ করা,আবেগপ্রবণ, ভালো মনের একটা মেয়ে। রুমির প্রতি ভালোবাসা অতুলনীয়। রুমি ইউনিটে চলে যাওয়ার সময় তার অনুভুতিটা আমি খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারি। আমার হাসবেন্ড একজন সৈনিক সেই সময়ে বৃষ্টির মধ্যে আমি নিজেকে অনুভব করতে পারছিলাম। আসলে আপুর লিখা ম্যাজিক এর মতো কাজ করে। এতো সুন্দর বর্ণনা। গল্পের প্রতিটি চরিত্র এতো সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে প্রতিটি চরিত্র আপনাকে এতো মুগ্ধ করবে যে ঘোরের মাঝে পড়ে যাবেন। রুশা সিদ্দিকী,ইকবাল চৌধুরি,রেহনুমা আন্টি, শ্রাবণী, রুনি, বিশেষ করে রুমির তিন বন্ধু জামান, আসাদ, আসরাফ এই চরিত্র গুলোর প্রেমে পড়ে গিয়েছি। আপুর বর্ণনা সহজ ও মনোমুগ্ধকর। আর্মি লাইফের কঠিন বাস্তবতার পাশাপাশি বন্ধুত্বের হাসি-কান্না সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। মিশনের উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তগুলো যেমন হৃদয় কাঁপায়, তেমনি চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত সংকটও আমাকে আবেগপ্রবণ করে তুলছিল। তাদের বন্ধুত্বের মুহূর্তগুলো হৃদয়ছোঁয়। গল্পে প্রেম, বন্ধুত্ব, পরিবার, দায়িত্ববোধ এবং আত্মত্যাগের কথা এমন ভাবে প্রকাশ পেয়েছে সত্যিই অতুলনীয় । আর্মি ক্যাম্পের বাইরে সৈনিকদেরও একটি জীবন আছে, যেখানে অনুভূতি, সম্পর্ক, এবং বন্ধন কাজ করে সুন্দর ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। গল্পটি পড়তে গিয়ে কখনও হেসেছি, কখনও চোখ ভিজে উঠেছে। --- যারা আর্মি ভিত্তিক গল্প পড়তে পছন্দ করে এবং সেই সাথে বন্ধুত্ব ও পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখতে চায়, তাদের জন্য এই গল্পটি আদর্শ। এটি মানুষের আবেগ, সম্পর্ক এবং দায়িত্বের কথা বলে। [ অগোছালো এলোমেলো একটা অনুভূতি প্রকাশ। জানি না এটা রিভিউ এর মধ্যে পড়ে কিনা। ]"

Priya Rahman

Priya Rahman , Dec 30, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"#এমন_দিনে_তারে_বলা_যায় "বৃষ্টি আমার ভীষণ প্রিয়। ঝুমঝুম বৃষ্টিতে ভেজা কিংবা বৃষ্টি ভেজা দিনে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা আর সাথে আমার প্রিয় একটা বই নিয়ে জানালার পাশে বসা- আহা!জীবন কত সুন্দর।" জনপ্রিয় লেখক আফিফা পারভীনের প্রথম উপন্যাস ছিলো "এসো নীপবনে" যার পরিমার্জিত ও বর্ধিত রূপ "এমন দিনে তারে বলা যায়"। এটি একটি হৃদয়ছোঁয়া ও গভীরভাবে বাস্তবমুখী উপন্যাস যা পাঠককে জীবনের কঠিন বাস্তবতা ও আবেগের জগতে নিয়ে যায়। বইটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে চারজন আর্মি অফিসার রুমি, জামান, আশরাফ এবং আসাদের বন্ধুত্ব, তাদের ব্যক্তিগত জীবন, এবং পেশাগত দায়িত্বের ওপর। এই উপন্যাসে যুদ্ধ, ভালোবাসা, ত্যাগ, এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের চিত্র অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ★কাহিনীর মূলধারা : ক্যাপ্টেন রুমি একজন দায়িত্বশীল কিন্তু সংসার জীবনের প্রতি সংশয়ী মানুষ। তার জীবনে একটি বড় মোড় আসে যখন সে পরিচিত হয় বৃষ্টি নামের মেয়েটির সাথে। বৃষ্টি একাধারে শান্ত ও রাগী, এবং মা হারানোর বেদনায় বড় হওয়া মেয়েটি জীবনে স্থিতি খুঁজতে থাকে। তাদের প্রথম সাক্ষাৎ ঝগড়ার মধ্য দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এ সম্পর্ক রূপ নেয় ভালোবাসায়। রুমি এবং বৃষ্টির সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি পাঠকদের মনে এক নতুন আবেগের জন্ম দেয়। "কি হয়েছে সঠিক জানি না। তবে এটুকু বুঝতে পারছি, কিছু একটা হয়েছে। আমার অনিচ্ছায়, অজান্তেই খুব বড় ধরনের রদবদল হয়ে গেছে কোথাও। " ( রুমি, পম: ১৫৩) অপরদিকে, জামান তার ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে এক ধরণের শূন্যতায় দিন কাটায়। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া জামানের জীবনে কি ভালোবাসা আর ফিরে আসবে শ্রাবণধারার মতো ? আসাদ তার পরিবারের দায়িত্ব পালনে নিজের স্বপ্নগুলোকে বিসর্জন দেয়। আর আশরাফ তার ভালোবাসার মানুষ জাফরিনকে বিয়ে করলেও, সংসার জীবনে তার যে সংগ্রাম সেটাও সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। "ভালোবাসা কখনো নিঃস্বার্থ হয় না। বরং ভালোবাসার মতো স্বার্থপর ব্যাপার আর একটিও নেই। ভালোবাসা সবসময় নিজ স্বার্থে স্বার্থপর হয়। " ( জামান, পৃ: ২০৪) ★বইটির গভীর দিক : বইটির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে ঢাকায় ঘটে যাওয়া একটি জঙ্গি হামলা। এই অংশটিতে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ত্যাগ ও তাদের জীবনের অনিশ্চয়তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন অভিজ্ঞ হাতে। লেখকের সুকৌশলী লেখায় রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা পাঠককে ভাবিত ও আতঙ্কিত করে রাখবে। "সব সময় চলে যাওয়া মানেই সব শেষ নয়। কোন কোন চলে যাওয়া এমন হয় যে, যাওয়ার পরেও সবটুকু জুড়ে থেকে যায়। " ( বৃষ্টি, পৃ: ৩২) ★আমাদের শহীদ পরিবার : এই উপন্যাস আমাদের শহীদ পরিবারের বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দেয়। দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়া সেনাদের পেছনে থেকে যায় তাদের পরিবারের গভীর শূন্যতা। অনেক সময় এই পরিবারগুলোর সংগ্রাম এবং তাদের মনের বেদনা সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না। শহীদ সেনাদের সন্তানদের জীবনে বাবা হারানোর শূন্যতা অমার্জনীয়। কিন্তু তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে, তাদের জীবনে নতুন স্বপ্ন এবং স্থিতি আনতে আমাদের দেশকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। "একটি বুলেট মানুষের স্বপ্ন, সুখ, শান্তি কেড়ে নিয়ে জীবনকে কেমন বিবর্ণ করে দেয়, এটা যারা ভুক্তভোগী শুধু তারাই জানেন। ( পৃ:৩৫০) । ★পাঠকপ্রতিক্রিয়া: উপন্যাসটি পড়ার পর মনে হয়েছে, এটি শুধু একটি বই নয়, বরং জীবনের গভীরতম আবেগ আর কঠিন বাস্তবতার চিত্রায়ন। কাহিনীর প্রতিটি অধ্যায় আমাকে ভেতর থেকে নাড়া দিয়েছে। সবার আগে বলি, রুমি আর বৃষ্টির সম্পর্কের জটিলতা এবং আবেগের ওঠানামা আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে। ঝগড়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভালোবাসায় রূপ নেয়—এই রূপান্তর ছিল বাস্তব আর মুগ্ধকর। বৃষ্টির রাগ, রুমির দ্বিধা—সবকিছু এতটা জীবন্ত লেগেছে যে, মনে হয়েছে আমি যেন চরিত্রগুলোর পাশেই দাঁড়িয়ে আছি। জামান, আসাদ, আর আশরাফের গল্পগুলোও আমাকে ভীষণভাবে ছুঁয়ে গেছে। বিশেষ করে জামানের হারানোর বেদনা আর আসাদের ত্যাগের দিকগুলো হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। শহীদ একজন বীর যোদ্ধার গল্প তো মনে গভীর দাগ কেটেছে। এই অংশটুকু পড়ে আমার চোখ ভিজে উঠেছিল। আফিফা পারভীন অত্যন্ত সাবলীলভাবে গল্পটি লিখেছেন। লেখার ধরণ এমন যে, মনে হয় চরিত্রগুলো পাঠকের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠছে। চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা, তাদের অনুভূতির জটিলতা এবং কঠিন বাস্তবতাগুলো পাঠকের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলে। বইটিতে দেশের সেনাদের জীবন, তাদের সংগ্রাম, এবং শহীদ পরিবারগুলোর বাস্তবতার প্রতি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে এই বাস্তবতার কথা ভেবে আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়েছি। লেখিকার ভাষার সাবলীলতা আর গল্প বলার কৌশল এতটাই প্রাঞ্জল যে, বইটি শেষ না করে রাখা অসম্ভব। প্রত্যেকটি চরিত্রের অনুভূতি যেন আমার নিজের অনুভূতিতে মিশে গেছে। এই উপন্যাসটি আমাকে জীবন, ত্যাগ, এবং ভালোবাসার নতুন অর্থ বুঝিয়েছে। এটি এমন একটি বই, যা একবার পড়লে পাঠক শুধু কাহিনী নয়, চরিত্রগুলোর জীবনের অংশ হয়ে যায়। আমি এই বইটি সবাইকে পড়ার পরামর্শ দেব, বিশেষ করে যারা জীবনের গভীর অর্থ খুঁজতে চান। লেখকের ভাষায় _ "এমন দিনে কোন মহেন্দ্র ক্ষণে বেশুমার খুশি ও ভালোবাসা স্বর্গ থেকে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ হিসেবে যেন এসে ঝরে পড়ে মানুষের জীবনে!তারপর নশ্বর জীবনকে ভরিয়ে দেয় অপার্থিব আলোর রোশনাইয়ে, সাজিয়ে দেয় পারিজাতের সুঘ্রানে।"

Shahinur Alam

Shahinur Alam , Dec 28, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"বইটি অনেক সুন্দর এন্ড wallpepar টা josss"

Tuly Das

Tuly Das , Nov 23, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"কিছু কিছু বই থাকে সিম্পল কিন্তু ভীষণ ভীষণ সুন্দর। এই বইটি একদম তেমন। সব ধরনের পাঠককে সন্তুষ্ট করার মতোই বইটি শুরু থেকে একদম শেষ পর্যন্ত।"

Tasmia Tuba

Tasmia Tuba , Sep 28, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"পাঠ অনুভূতি বই:এমন দিনে তারে বলা যায় লেখক:আফিফা পারভীন প্রকাশনী:গ্ৰন্থরাজ্য জনরা: সমকালীন এটা কোনো রিভিউ না।আমি রিভিউ বা গুছিয়ে সুন্দর শব্দ দ্বারা লিখতে পারিনা।এই কথাগুলো শুধু আমি বই পড়ে মন থেকে যা অনুভব করেছি তা লেখার চেষ্টা মাত্র। বইটা শুরু করার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটা সেকেন্ড প্রতিটা মিনিট আমি দারুন ভাবে উপভোগ করেছি।পুরো বই শেষ করার জার্নিটা আমার কাছে তৃপ্তিদায়ক ছিলো।এসে নীপবনে পড়ার সময় আমার মনের কোণে কোথাও একটু আফসোস রয়ে গেছিলো।ইশ যদি আরেকটু পড়া যেত! ইশ ওদের নিয়ে যদি আরেকটু লিখতো‌ আপু।এমন ক্ষুদ্র কিছু আফসোস রয়ে গেছিলো। কিন্তু এমন দিনে তারে বলা যায় বইটা আমার মনে সেই আফসোস আসার কোনো জায়গা ই দেয়নি। পূর্নতায় যেনো পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এমন দিনে তারে বলা যায়।বইটা পড়ার সময় আমার একবার ও মাথায় আসেনি আরে আমি তো এই কাহিনী জানি, এরপর কি হবে তাতো জানি। বিশ্বাস করুন এমন ভাবনা ই আসেনি।আপু এতো সুন্দর করে নতুনত্ব দিয়ে বইটা পরিপূর্ণ করেছে যে আগে পড়েছি এই ভাবনা ই মনে আসতে দেই নি আপুর হাতের যাদু।আমি আপুকে বলি শব্দের যাদুকর।তার হাতের ছোঁয়ায় সাধারণ কোনো শব্দ ও অসাধারণ হয়ে উঠে। পরিশেষে বলবো এ বইটা পাঠক মনকে তৃপ্তি দিতে সক্ষম সাথে পাঠক মনে তার পাকাপোক্ত জায়গা করে নিতে সক্ষম।এমন দিনে তারে বলা যায় এককথায় অসাধারণ একটি বই হয় এসেছে আমাদের মাঝে। আপুর জন্য দোয়া এবং অনেক অনেক ভালোবাসা। এভাবেই সারাজীবন লিখে যান আপু। আপনার হাতের ছোঁয়ায় জীবন্ত হয়ে উঠুক সবকিছু। ভালোবাসা আপুকে। (ঠিকভাবে লিখতে পেরেছি কিনা জানি না। ভুলত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)"

Tahira Tanjum Shuma

Tahira Tanjum Shuma , Sep 27, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"বুক রিভিউ বই: এমন দিনে তারে বলা যায়। লেখিকা: আফিফা পারভীন। জনরা: সমকালীন। প্রকাশনী: গ্রন্থরাজ্য। "কোনো একটা দিন এমন হয় যে, সেই দিনটাতে সবকিছুই একটু ব্যতিক্রমী ও বেহিসাবি হয়।" © ব্যতিক্রমী এই দিনের অংশ হিসেবে হতে পারে নতুন কোনো মানুষের সাক্ষাৎ অথবা নতুন কোনো কাঙ্ক্ষিত বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সাথে পরিচয়। সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও কতিপয় মানুষের জীবনধারা, সেনাজীবনের কর্মব্যস্ততাসহ দায়িত্ব ও কর্তব্য, পারিবারিক বন্ধনের ইতিবাচকতা, বন্ধুত্বের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা এবং সর্বোপরি অতীতে ঘটে যাওয়া হলি আর্টিজন হা মলার আদ্যোপান্ত নিয়ে রচিত হয়েছে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আফিফা পারভীন এর একক উপন্যাস "এমন দিনে তারে বলা যায়" কাহিনী সারসংক্ষেপ: সিলেটের বিখ্যাত মুঠোমুঠো বৃষ্টি এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ইকবাল চৌধুরীর মেয়ে বৃষ্টির মধ্য এক বিরাট কনফিউশান তৈরি করে সাক্ষাৎ হয় ক্যাপ্টেন রুমির। পারিবারিক সুশিক্ষার বদৌলতে আজীবন মেয়েদেরকে সম্মান করে আসা ক্যাপ্টেন রুমি একজন অপরিচিত মেয়ের অনাকাঙ্ক্ষিত বাক্যবাণে জর্জরিত হয়ে ব্যথিত হৃদয় নিয়ে ফিরে আসে নির্ধারিত গন্তব্যে যেখানে উপস্থিত ছিল তার তিন বন্ধু এবং একইসাথে কোর্সমেট ক্যাপ্টেন জামান, ক্যাপ্টেন আসাদ ও ক্যাপ্টেন আশরাফ। ঘটনার পরিক্রমায় তাদের সিলেট ভ্রমণ শেষ হলে তাদের প্রাপ্তির ঝুলিতে জমা হয় নতুন পরিচিত এক মুখ বৃষ্টি ও তার বাবা। অবশ্য ততদিনে নানান চড়াই-উতরাই পাড়ি দিয়ে একটি সহনীয় বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে তারা। এরপর একে একে জট খুলতে থাকে ক্যাপ্টেন জামানের বিষণ্ণতার, ক্যাপ্টেন আসাদের পারিবারিক অবস্থানের ও ক্যাপ্টেন আশরাফের প্রণয়ের। একে একে উন্মোচিত হতে থাকে পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব, সম্পর্কের জটিলতা, কর্মক্ষেত্রের ভ য়াবহতা, জীবন ও মৃ ত্যুর সন্ধিক্ষণ ও জীবনের চাওয়া-পাওয়ার এক অপূর্ব মেলবন্ধনের সাথে অদম্য সাহসিকতার। পাঠপ্রতিক্রিয়া: 'এমন দিনে তারে বলা যায়' উপন্যাসটি 'এসো নীবপনে' উপন্যাসের পরিমার্জিত, পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ। এটিতে সবদিক থেকেই লেখার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। বইটি পড়তে পড়তে যেমন সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্য হারিয়েছি তেমনি নদীর খরস্রোতা হওয়ার কারণ ও সেখানের মানুষের জীবনধারণে ব্যথিত হয়েছি। ক্যাপ্টেন রুমি ও বৃষ্টির ভ্রমণকাহিনী পড়তে পড়তে তাদের সাথে ভিজ্যুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে যেমন ঘুরেছি তেমনি স্বচক্ষে দেখার আগ্রহও তীব্র হয়েছে। বইয়ের প্রতিটি চরিত্রের মাধ্যমে দেওয়া লেখিকার বার্তাগুলো নোট করেছি। প্রতিটি চরিত্রের মধ্যকার সূক্ষ্ম বিষয়গুলো পরিলক্ষিত করেছি। বইয়ের প্রতিটি বাক্যে এক অমোঘ শক্তি বিদ্যমান যা শেষ পর্যন্ত আমাকে টেনে নিয়ে গিয়েছে। পারিবারিক বন্ধনে যেমন মুগ্ধ হয়েছি তেমনি সেনাজীবনের নানান জটিলতা ও সেগুলো মোকআবিলায় তার আগ্রাসী ভূমিকায় তাদের প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সৃষ্টি হয়েছে। বইটি শেষ করার পর আমার অনুভূতি ছিল আমি মুগ্ধ, সন্তুষ্ট এবং পরিতৃপ্ত। চরিত্র বিশ্লেষণ: অনেকগুলো চরিত্র নিয়ে বিশাল কলেবরে স্পেশাল এডিশনের ৩৮৬ পেইজের এই উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র: ইকবাল চৌধুরী: একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এবং বর্তমানে সুনামধন্য ব্যবসায়ী একই সাথে বৃষ্টির বাবা ও মায়ের যৌথ ভূমিকা পালন করেছে। স্ত্রী ও কন্যার প্রতি ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধের এক অপূর্ব মেলবন্ধন তিনি। আজন্ম মনের মণিকোঠায় লালন করেছেন তার প্রিয়তমাকে, আরাধনা করেছেন ভালোবাসাকে। রুশা চৌধুরী: উপন্যাসে উল্লিখিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মা চরিত্র। যিনি বায়োলজিক্যালি ক্যাপ্টেন রুমির মা হলেও আত্মিকভাবে ক্যাপ্টেন জামানের মায়ের ভূমিকাও পালন করেছেন। দক্ষতার সাথে সংসার, সন্তান ও নিজের কর্মক্ষেত্র সামলেছেন। তার সন্তানদের চরিত্রগঠনের মাধ্যমেই ফুটে উঠেছে তার আদর্শ, তার নীতি, তার শাষণ ও অনুরাগ। বৃষ্টির মা: উপন্যাসে তিনি প্রত্যক্ষভাবে কোনো অবদান না রাখলেও তাকে আমরা খুঁজে পেয়েছি বৃষ্টির হাহাকারে, ইকবাল চৌধুরীর বিষণ্ণতায়। পরশপাথরের মতো এই মানুষটি না থেকেও রয়ে গেছেন প্রতিটি পাঠকের হৃদয়ে, সম্মানে ও দোয়ায়। এই চরিত্রের মাধ্যমে আপু দেখিয়েছে কীভাবে একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষও আমাদের ছেড়ে চলে যেতে পারেন। ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বর্তমান সময়ের এক বহুল আলোচিত ও ঘটমান ব্যাপার। আল্লাহ সবাইকে এর থেকে রক্ষা করুন। রেহনুমা আন্টি: বৃষ্টির জীবনে আশীর্বাদ। আল্লাহ তায়ালা সকল রেহনুমা আন্টির কলিজায় শান্তি দিন। শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার একটি চরিত্র। ক্যাপ্টেন রুমি: কর্মজীবনে যথেষ্ট সচেতন ও সফল সেনা হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন রোমিও এবং প্রচণ্ড ঝালখোর। রাগ হলে তোতাপাখির মতো কাচামরিচ চর্বন করা তার প্রধান কাজ। একজন দায়িত্বশীল সেনা, ছেলে, ভাই, বন্ধু, প্রেমিক ও স্বামী। তবে ভালোবাসায় মানুষ বোকা হয়ে যায় এই থিউরি মেনেই হয়তো তার জীবনে কিছু খারাপ সময় তিনি পার করেছেন। গল্পে আমাদের এন্টারটেইন যেমন করেছেন তেমনি কাঁদিয়েছেন। ক্যাপ্টেন জামান: 'মরে তো আমি কবেই গিয়েছি' এই উক্তির মাধ্যমেই বুঝা যায় তার জীবনের গভীর বিষণ্ণতার। চমৎকার ব্যক্তিত্ব ও গান গাইতে পারা এই মানুষটির জীবন যেন সুখ দুঃখের এক ভেলা। তবে জীবনে যাই হোক তা মেনে নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সুন্দর করে তোলার প্রয়োজনীয়তা ও প্রচেষ্টার যে শিক্ষা লেখিকা এই চরিত্রের মাধ্যমে দিয়েছেন তা একই সাথে প্রশংসনীয় এবং শিক্ষনীয়। পুরো উপন্যাসের আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র ক্যাপ্টেন জামান। ক্যাপ্টেন আসাদ: আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রতিচ্ছবি। বাবাহীন পরিবারে একমাত্র ছেলের জীবন সংগ্রামের আয়না। বাস্তবতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ও নিজের দায়িত্ব পালনে সদা স্বতঃস্ফূর্ত এই চরিত্রটি মুগ্ধ করেছে। ক্যাপ্টেন আশরাফ: সমাজে সব সময় আলালের ঘরে দুলাল হয়না ক্যাপ্টেন আশরাফ তারই প্রমাণ। সোনার চামচ মুখে নিয়ে সম্ভ্রান্ত পরিবারের জন্মগ্রহণ করেও বেছে নিয়েছে এক মহান কঠোর প্ররিশ্রমের পেশা। সেনাজীবনের ট্রেনিংয়ের বর্ননাই বলে দেয় সফলতার শিখরে পৌঁছাতে ঠিক কতটা কাঁ টার আঘা ত সইতে হয়। তাছাড়া তার জীবনটা ফ্ললেস পিকচারের মতোই সুন্দর। সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর: আহা! দূর্ভাগা। রাত পোহালেই যে সদ্য জন্মানো কন্যাকে দেখতে যাওয়ার তাড়া ছিল, রাতের আধারেই তার সমস্ত অপেক্ষার অবসান হয়ে গেছিল। সমস্ত অপেক্ষার উর্ধ্বে চলে যাওয়া সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর পুরো পৃথিবীর সেইসব সেনাদের প্রতিচ্ছবি যারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করার তালিকায় চলে আসে। প্রতিদিনের ও প্রতিমুহূর্তের ঘটনা। শহীদ মর্যাদা তো পায় কিন্তু এই শহীদ মর্যাদার বিনিময়ে পরিবার যা হারায় তার কী কোনো বিকল্প আছে। আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি মানুষকে নেক হায়াত দান করুন। বৃষ্টি: 'মাকে আমার মনে পড়ে না' মা! তাকে মনে পড়বে কী৷ তাকে কী কখনোও ভুলা যায়। সে তো সব সময় মনে, প্রয়োজনে, জ্ঞানে ও অজ্ঞানে থাকে। অথচ মাতৃহীন জীবন কাটাতে হয় কত মানুষের। বৃষ্টির মায়ের প্রতি গভীর অনুরাগ ও মায়ের অনুপস্থিতি প্রতিটি সন্তানের জন্যই এক অবর্ননীয় ক ষ্ট। তবে বৃষ্টি সৌভাগ্যবান যে, ইকবাল চৌধুরীর মতো একজন বাবা ও ক্যাপ্টেন রুমি মতো একজন সঙ্গী পেয়েছেন। বৃষ্টি নিজেও কম কিছু নয়। সিলেটসহ পুরো দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু করার উদ্যোগ তাকে আরও মহিমান্বিত করেছে। শ্রাবণী: সম্পর্কে ক্যাপ্টেন রুমির চাচাতো বোন ও একজন হবু ডাক্টার। প্রচণ্ড গুনী ও যত্নশীল এই মেয়ের বাহ্যিক বর্ননায় আমি মেয়ে হয়েও পিছলে পড়েছি। রুনি: সম্পর্কে ক্যাপ্টেন রুমির বোন এবং ভাইয়ের মতোই নিজের চাওয়া পাওয়ার প্রতি প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী। পুরো উপন্যাসের সবচেয়ে বোল্ড চরিত্র। এর একেকটা কাণ্ড ও কথা পাঠককে একই সাথে মুগ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। স্বাতী: প্রচণ্ড ভাগ্যবান এক হতভাগ্য মেয়ে। এই চরিত্রর জন্য দুঃখ যেমন হয় তেমনি আফসোসও হয়। জীবনে সবকিছু পেয়েও যেন কিছুই পায়নি। একটা ভুল সিদ্ধান্ত, একটা সঠিক পরামর্শ ও পদক্ষেপের অভাবে কিছু মানুষের জীবনকে অন্ধকারে ফেলেছে নিজেরটাসহ। তবে অবশ্যই এমন সমাপ্তি কারও ক্ষেত্রেই কাম্য নয়। জাকির: মালিকের জন্য সব অসম্ভবকে সম্ভব করাই যার কাজ। যার কাছে বাঘের দুধ সংগ্রহ করা অসম্ভব কিছু নয়, ক্যাপ্টেন রুমির গায়ের রঙ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করাও দুধভাত। শুধু তার কাছে রুটি খাওয়া যু দ্ধ জয়ের সমান। তবে উপস্থিতি অল্প হলেও পাঠককে সুস্থ বিনোদন দেওয়ায় তার জুড়ি মেলা ভার। তবে চরিত্রটির সমাপ্তি পাঠককে একইসাথে স্বস্তি, শান্তি ও ঠোঁটের কোনায় মুচকি হাসি উপহার দেবে। রীতা: ভাগ্যে বিড়ম্বনার শিকার রীতা আপা রাধুনি হিসেবে চমৎকার। বৃষ্টিকে যে আদর ও স্নেহ দিয়ে আগলে রেখেছে তা মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। তবে জাকিরের সাথে সম্পর্কটা দা-কুমড়া হলেও প্রশংসনীয় ছিল। উল্লেখযোগ্য পছন্দের উক্তি ও শিক্ষনীয় উক্তিতে ভরপুর এই বইটি প্রতিটি পাঠকের জন্য উন্মুক্ত ও উপযুক্ত। সাবলীল ও মার্জিত ভাষায় এই উপন্যাস প্রতিটি মানুষের মধ্য সম্পর্কের যত্নের প্রতি দায়িত্বশীল করে তুলবে। যারা থ্রিলার পড়তে পড়তে ব্যক্তিজীবনে রুখাশুখা দায়িত্ব পালন করছেন তাদের মধ্যেও প্রাণের সঞ্চার করবে। উপহার হিসেবে দিতে পারেন আপনার গুরুজনকে, সহপাঠী, সহকর্মী, পরিজনকে ও ভালোবাসার মানুষকেও।"

তিথি রহমান

তিথি রহমান , Sep 23, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"#পাঠ_অনুভূতি বই: এমন দিনে তারে বলা যায় লেখক: আফিফা পারভীন প্রকাশনী: গ্রন্থরাজ্য প্রচ্ছদশিল্পী: ফাইজা ইসলাম শুরুতে প্রচ্ছদের কথা বলতেই হয় এক দেখায় সবার নজর কাড়বেই। বর্ষার প্রকৃতির ছোঁয়া যেন প্রচ্ছদে ফুটে ওঠেছে। বইয়ের নামটাও দারুণ। লেখিকা আপুর প্রতিটা বই আমি কয়েকবার করে পড়েছি, এসো নীপবনে মনে হয় সবচেয়ে কম পড়েছি। তাই 'এমন দিনে তারে বলা যায়' পড়ার সময় সবকিছু নতুনের মতো অনুভূতি পাচ্ছিলাম। পরিবার, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, দেশপ্রেম সবকিছু মিলে যেন একটা পরিপূর্ণ উপন্যাস। আমার পছন্দের জায়গার মধ্যে সব জায়গাতে গেছি শুধু সিলেট যাওয়া বাকি। সেই পছন্দর জায়গা নিয়ে লেখা বই আমিও যেন কল্পনাতে সিলেটের সব সৌন্দর্য উপভোগ করছি। সিলেটের অপরূপ সৌন্দর্যে আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি। লেখক এতো নিখুতভাবে বর্ণনা দিয়ে লিখেছেন পাঠকরা পড়ার সময় আকৃষ্ট হবেই। বইয়ের সব চরিত্র এতো দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন পড়ার সময় সেই চরিত্রের মাঝে যেন হারিয়ে যায়। সব চরিত্রগুলোকে সমান গুরুত্ব দিয়ে লিখেন। হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ সবকিছুকে মিলিয়ে পারফেক্ট একটা বই। আমি এখন রাতে বেশি বই পড়ি এই বইটা পড়ার সময় ও বৃষ্টি হচ্ছিলো তাই বইটা পড়ার সময় আস্তে ধীরে পড়ছি এবং দারুণ অনুভূতি নিয়ে পড়েছি। একদম তৃপ্তি নিয়ে বই পড়ে শেষ করেছি। সেনা কর্মকর্তা জীবন নিয়ে লেখা বই আমার পড়তে খুব ভালো লাগে। তাদের জীবন সম্পর্কে সবকিছু জানতে পারি। বৃষ্টিপ্রেমিদের জন্য দারুণ একটা বই। সিলেটের সৌন্দর্যের সাথে বৃষ্টির সৌন্দর্য দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। পরিপূর্ণ কম্বিনেশন একটা বই। লেখিকা আপুর লেখা নিয়ে যতই বলি কম মনে হবে কারণ প্রতিটা বইয়ে অনেক মেধা আর শ্রম দিয়ে লিখেন সেটা বই পড়ার সময় বুঝতে পারি। এতো চমৎকার একটা বই সবার পড়া উচিত।"

প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)

1 টি

বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর

Q

বইটা আসবে কবে?

Kulsuma Binte Azad • 02 Sep, 2024
A
প্রিয় গ্রাহক, প্রি-অর্ডারের এই পণ্যটি 10 Sep 2024 তারিখে প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রকাশনী থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ কোন কারণে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হতেও পারে। আপনি প্রি-অর্ডার করে রাখলে এ্যাড টু কার্ড হওয়ার পর বইটি পাবেন। ধন্যবাদ।
Rafid Ahmed • 02 Sep, 2024

সম্পর্কিত অন্যান্য বই

সবগুলো দেখুন →
ময়ূরাক্ষী
একটু পড়ে দেখুন
ময়ূরাক্ষী হুমায়ূন আহমেদ
(277)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
তোমাকে
একটু পড়ে দেখুন
তোমাকে হুমায়ূন আহমেদ
(186)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
হিমু সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(314)
TK. 1,000 -20% OFF
TK. 800
মিসির আলি সমগ্র ২
একটু পড়ে দেখুন
মিসির আলি সমগ্র ২ হুমায়ূন আহমেদ
(143)
TK. 500 -20% OFF
TK. 400
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড হুমায়ূন আহমেদ
(116)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
একটু পড়ে দেখুন
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ হুমায়ূন আহমেদ
(69)
TK. 160 -14% OFF
TK. 138
তিনি ও সে
একটু পড়ে দেখুন
তিনি ও সে হুমায়ূন আহমেদ
(34)
TK. 135 -20% OFF
TK. 108
শুভ্র সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
শুভ্র সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(90)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480

বইটির রিভিউ লিখুন

আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।

বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন

আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।

"এমন দিনে তারে বলা যায়" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন

রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।

বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন

সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।

বইটি শেয়ার করুন

বন্ধুদের সাথে এই বইয়ের তথ্য শেয়ার করতে পারেন

বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন

পাতা:

পাতা 1
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 1 / 20
পাতা 2
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 2 / 20
পাতা 3
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 3 / 20
পাতা 4
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 4 / 20
পাতা 5
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 5 / 20
পাতা 6
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 6 / 20
পাতা 7
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 7 / 20
পাতা 8
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 8 / 20
পাতা 9
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 9 / 20
পাতা 10
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 10 / 20
পাতা 11
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 11 / 20
পাতা 12
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 12 / 20
পাতা 13
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 13 / 20
পাতা 14
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 14 / 20
পাতা 15
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 15 / 20
পাতা 16
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 16 / 20
পাতা 17
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 17 / 20
পাতা 18
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 18 / 20
পাতা 19
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 19 / 20
পাতা 20
এমন দিনে তারে বলা যায় পাতা: 20 / 20
পাতা / 20
এই তথ্যটি জেনে রাখুন।

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।