১ম প্রকাশ, ২০১৭
দ্য স্পাই
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
ময়ূরাক্ষী
হুমায়ূন আহমেদ
তোমাকে
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র
হুমায়ূন আহমেদ
মিসির আলি সমগ্র ২
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
হুমায়ূন আহমেদ
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
হুমায়ূন আহমেদ
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | দ্য স্পাই |
| Author | পাওলো কোয়েলহো |
| Publisher | আদী প্রকাশন |
| Edition | ১ম প্রকাশ, ২০১৭ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 112 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | উপন্যাস ও সাহিত্য |
| Weight | 0.26 Kg |
| Translator | ওয়াসি আহমেদ |
| ISBN | 9789849243922 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
30 Ratings and 21 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
২১টি
Nisat Mahmud Apu , Jul 14, 2021
"good"
Md Mahmudul Hasan , Nov 30, 2020
"বইটা পড়ে খুব ভাল লাগলো । পাউলো কোয়েলহো অনুবাদ বরাবরই ভাল লাগে ।"
Laxmi Akter , Jun 8, 2020
"হল্যান্ডের অসম্ভব সুন্দরী এক নারী নাম মার্গারিটা। ছোটবেলায় স্কুল জীবনে যিনি ধর্ষিত হয়েছেন হেডমাস্টারের কাছে। এরপর বিয়ে হল ইন্দোনেশিয়ান এক আর্মির কাছে সেখানেও নির্যাতনের স্বীকার হতে হল মার্গারিটাকে। এরপর কোন এক ঘটনায় জীবন বদলে গেল তার নিজেকে মুক্ত করার পেছনে যাত্রা শুরু করার সূত্র ধরেই পৌছে গেলেন ফ্রান্সে। পরিনত হলেন নর্তকী এক পতিতা রুপে এবং নিজের নামকরন নিজেই করলেন নতুন করে। মারিগারিটা পরিনত হলেন মাতাহারি রুপে। কিন্তু মেয়েদের এত খ্যাতি এবং স্বাধীনতা যে মাঝে মাঝে কাল হয়ে দাঁড়ায় তা হয়ত মাতা বারি জানতেন না। এই নিয়মটি এই যুগেও ধারাবাহিকভাবেই চলে আসছে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে চারদিকে এক আতঙ্ক ছড়িয়ে পরেছিল ঐ সময়ে। এমনি এক সময়ে তার এত জাঁকজমকপূর্ণ জীবন তখন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পরেছিল এবং এরই সূত্র ধরে অনেকেই তাকে সন্দ্হের চোখে দেখা শুরু করে। এরপর তাকে দ্বিপাক্ষিক গুপ্তচরের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় ফ্রান্সে। পাওলো কোয়েলহোর অন্যান্য বইগুলোর মত এই বইটিও অনেক শিক্ষামূলক এবং অন্যরকম ভাল লাগলো।"
Subah , Nov 30, 2019
"বইটা পেতে চাই"
ABU MOHAMMAD YOUSUF BIN AHAMMAD , Nov 5, 2019
"দ্য স্পাই- পাওলো কোয়েলহো ইতিহাসকে অত্যন্ত সুনিপুন ভাবে গল্পকারে আমাদের মধ্যে প্রকাশ করেছেন। একজন নারীর সংগ্রামময় জীবন, ঘাত, প্রতিঘাতকে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে অতিক্রম করার গল্প। তার ব্যক্তিত্ব, সমাজের উচু শ্রেণীর মানুষেদের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়া। নিঃস্ব অবস্থা থেকে নিয়ে গেছে নিজেকে সকলের সমালোচনার পাত্রে। মাতা হারি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের একজন বলি মাত্র, যা সাধারণ প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে চলে এসেছে। গুপ্তচর বৃত্তির কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বৈচিত্র্যময় জীবন কাহিনী লেখক অত্যন্ত সুনিপূণভাবে ব্যক্ত করেছেন। যারা রহস্যময় ইতিহাস জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য একটি ভাল বই।"
Rezaul Karim , Nov 4, 2019
"প্যারিসে আসার পর মাতা হারি ছিল কপর্দকশূন্য এক নারী। কিন্তু, অল্প সময়ের মধ্যেই সে পরিণত হয়েছিল শহরের সবচেয়ে বড় নারী তারকাতে। নাচিয়ে হিসেবে দর্শকদের চমৎকৃত ও মুগ্ধ করেছিল সে; রাজগনিকা হিসেবে বিমোহিত করেছিল যুগের সবচেয়ে ধনী আর ক্ষমতাবান লোকদের। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মানসিক বৈকল্য সৃষ্টিকারী সেই সময়ে, মাতা হারির জীবনপদ্ধতি তাকে সন্দেহের তালিকায় ফেলে দিয়েছিল। ১৯১৭ সালে শ্যাম্প-এলিজির হোটেল কক্ষ থেকে তাকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তারপর, প্রহসনের বিচারের মুখোমুখি হয়ে তাকে বরণ করতে হয় দূর্ভাগ্যজনক পরিণতি। সেই করুণ কাহিনীটি এই উপন্যাসে মাতা হারির নিজ হাতে লেখ শেষ চিঠিতে উঠে এসেছে। দ্য স্পাই আসলে এমন এক নারীর অবিস্মরণীয় কাহিনী, যে কিনা প্রচলিত রীতিনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর দুঃসাহস দেখিয়েছিল আর এর মূল্যও যাকে দিতে হয়েছিল চরমভাবে। সবাইকে বইটি পড়ার সাদর আমন্ত্রণ রইল।"
TASFIA PROMY , Oct 23, 2019
"মার্গারিটা নামের এক নারী। যে সময়ের ফেরে মার্গারিটা থেকে হয়ে উঠল মাতা হারি। জীবনের অনেক উত্থান-পতন আর অনেক বেশি উচ্চাকাঙ্খার জন্য সে নিজের সন্তানকে ছেড়ে পাড়ি জমান প্যারিস এর পথে। ভিন্নধর্মী নৃত্যকলার জন্য। তার নৃত্য কলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য । নাচের সময়ে তিনি ৭ স্তরের পোশাক পরতেন। ধীরে ধীরে শরীরের সমস্ত পোশাক ফেলে দিতেন, শরীরে সম্বল বলতে থাকত মূল্যবান কিছু অর্থ। এই নাচের জোরে মার্গারিটা থেকে মাতা হারি থেকে হয়ে উঠলেন H21 নামের এক গুপ্তচর। পৌঁছে গেলেন প্যারিস থেকে জার্মান থেকে বার্লিন, আবার প্যারিস। নাচ,গুপ্তচর বৃত্তির জন্য একসময় তিনি ধরাও পড়ে গেলেন। ১৯১৭ সালের ১৫ অক্টবর ফায়ারিং স্কোয়াডের গুলিতে মারা গেলেন তিনি। মাতা হারি নামে অর্থ “ভোরের চোখ”, এক ভোরেই তার মৃত্যু হয়। ১২ জন এর সেই ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে চোখ খোলা রেখে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। মৃত্যুকালে রেখে গেলেন নানা জিনিসে ঠাসা ৩ টি ট্রাঙ্ক আর একটা চিঠি। ঠিক কেন তিনি নর্তকী থেকে বেছে নিয়েছিলেন গুপ্তচরের কাজ? কি স্বার্থ ছিল তার এর পেছনে? তাহলে কি তিনি এই কারনেই ছেড়েছিলেন নিজের স্বামী-কন্যা কে? সেই স্বপ্ন নিয়েই কি তবে একা উঠে এসেছিলেন, প্যারিসের রাস্তায়? প্রতিক্রিয়াঃ এটা কোন বানানো উপন্যাস নয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মাতা হারি সত্যিকার অর্থেই ছিলেন একজন গুপতচর। যার কারনে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছিল। পাওলো কোয়হেলো এর লেখা ৩য় বই এটি আমার। উনার লেখার মধ্যে অন্যরকম একটা শক্তি আছে, একটা আশ্চর্য রকমের ক্ষমতা। নিজেকে নিয়ে অন্যরকম ভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করবেই। অনুপ্রেরণা দেবে, দেবে অন্যভাবে জীবনকে নিয়ে চিন্তা করার উপায়। কিছু কথা খুব ভালো লেগেছে, যেমন ১। কি হবে আমরা না জেনেই পথে নামি, কিন্তু আমরা পথ হারাই না। ২। টিউলিপ , টিউলিপই থাকবে, কখনো গোলাপ কিংবা অন্য কিছু হবে না। আসলে আমরা যেটা হতে চাই, সেটাই হব। যেটা আমরা না, হতে পারব না সেটা হওয়ার চেষ্টা করা আসলে উচিৎ না।"
Amir Khasru , Oct 17, 2019
""দ্যা আলকেমিস্ট" ও " ইলেভেন মিনিটস" পড়ার পর প্রগতি হতে ব্রাজিলিয়ান লেখক পাওলো কোয়েলহো'র "দ্যা স্পাই" উপন্যাস খানা কিনে পড়ে ফেললাম। তবে এই উপন্যাসের পটভূমি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নেওয়া। উপন্যাসের শুরুতে দেখা যায় মাতা হারি নিঃস্ব অবস্থায় প্যারিসে পৌঁছান কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই হয়ে উঠেন সবচেয়ে আলোচিত নারীদের একজন। নৃত্যশৈলীর জাদুময়তা, যৌনতা ও শরীর প্রদর্শনের মাধ্যমে তিনি খুব দ্রুত দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তার সৌন্দর্যে বশ করে নিয়েছিলেন সমাজের প্রভাবশালী মানুষদের হৃদয়। তিনি নিজেকে জাভার এক রাজকুমারী হিসাবে জাহির করতেন। নাচের মঞ্চে তার নগ্ন উপস্থাপনা ছিল দর্শক আকর্ষণ করার প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু তার এই জাঁকজমকপূর্ণ জীবন সবার সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বযুদ্ধ চলায় তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উঠে। তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং মুখোমুখি করা হয় চরম তম শাস্তির। বাস্তবের আলোকে, উত্থান পতনে ভিরা মাতা হারির বৈচিত্রময় জীবনের গল্পটাই দ্য স্পাই এর মূল প্রতিপাদ্য।"
Rashed Hasan , Oct 2, 2019
"এক কথায় বলতে গেলে "অন্যরকম""
Safikul Islam Jihad , Aug 27, 2019
"মানুষ যখন বড় ধরনের বাস্তবতার মুখোমুখি এসে দাঁড়ায় তখন অতীতের সব ভুল, সব অর্জন আর স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া সব পরামর্শ রিভিউ করতে থাকে। ব্যাপারটা এরকম যে, এটা করলে, ওটা না করলে জীবনটা হয়তো এরকম হতে পারতো, হয়তো বা না । নিশ্চিত মৃত্যু যখন দরজায় এসে কড়া নাড়ছে, মাতা হারিকেও এমনটাই করতে দেখা গেলো। মাতা হারি, স্বামীর অনিয়ম আর প্রতারণার শিকার হয়ে রণে ভঙ্গ দেওয়া এক নারী, যিনি একসময় নৃত্যশিল্পী হয়ে প্যারিস মাতাতে শুরু করলেন। সমাজের প্রভাবশালী উচ্চবিত্ত আর অফিসারদের সাথে তার উঠাবাসা শুরু হলো। নৃত্যশিল্পী থেকে আবেদনময়ী যৌনকর্মী এবং সবশেষে গুপ্তচরের তকমা পেয়ে ফায়ারিং স্কোয়াডে অমর্যাদার মৃত্যু। অমর্যাদার মৃত্যু একারণে বলছি, মাতাহারি তার চিঠিতে লিখে গেছেন, ‘বেশ্যা? ঠিক আছে। গুপ্তচর? কখনোই না।’ মাতাহারির প্রকৃত নাম মার্গারিটা জেল্যে। এক ডাচ আর্মি অফিসারের সাথে বিয়ে হয় তার, নাম রুডলফ। স্বামীর সাথে জাভাতে যান তিনি, ইন্দোনেশিয়া তখন ছিল ডাচ কলোনি। জাভায় স্বামীর বিকৃত যৌনাচার ও প্রতারণামূলক কর্মকান্ড তাকে হতাশ করে। ফিরলেন হল্যান্ডে। স্বামীর যন্ত্রণাময় ছায়াতল থেকে চিরমুক্তি পেতে এবার পাড়ি জমালেন প্যারিসে। সুদর্শনা নারী হিসেবে তিনি কাছে টানতে থাকেন সমাজের উচ্চবিত্ত আর বড় কর্তাদের। বেছে নেন শান-শওকত জীবন। প্রথমে ড্যান্সার পরবর্তীতে উচ্চতর বেশ্যাবৃত্তি। মাতাহারির এমন জীবন বেছে নেওয়ার পেছনের যে গল্প তা কোনভাবেই ছুড়ে ফেলে দেবার মত নয়। হারির ভাষ্য, ‘আমি সুখী হতে চাইনি; চেয়েছিলাম মনের ভেতর যতটুক দুঃখ আর দুর্দশা জমে আছে, তা আমাকে গ্রাস না করুক। আমি আরেকটু ধৈর্য্য ধরতে পারলে, হয়তো প্যারিস যাবার পরিকল্পনাটা আরও ধীরে সুস্থে গুছিয়ে করা যেতো। কিন্তু বাবার নতুন স্ত্রীর একের পর এক অভিযোগ, কাঠখোট্টা স্বামী, অনবরত চিৎকার করে কাঁদতে থাকা শিশু, ছোট্ট শহর ভরা সংকীর্ণমনা লোকজনের সরুদৃষ্টি- আর কতই বা সহ্য করা যায়!’ প্যারিসে এসে ফরাসী শিল্পকলার প্রেমে পড়ে যান এই নারী। তিনি লিখেন, ‘নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছিল না। মেঘ ফুঁড়ে স্বর্গ পর্যন্ত উঠে গিয়েছে এক বিশালাকার লৌহনির্মিত ভবন, অথচ শহরের কোনও ডাকটিকেটে তার ছবি নেই। সীন নদীর দু’তীর জুড়ে দেখতে পেলাম চীন, ইতালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা দেশের বৈশিষ্ট্যসূচক আদলে গড়ে তোলা হয়েছে অনেকগুলো ভবন। আমি হল্যান্ড খোঁজার চেষ্টা করলাম,তবে লাভ হলোনা।’ একসময় বিখ্যাত চিত্রকর পাবলো পিকাসোর সাথে পরিচয় হয় হারির। পিকাসো সম্পর্কে অপ্রিয় কিছু সত্য উঠে আসে তার চিঠিতে। ‘তিনি রূপের প্রশংসা করে বললেন, আমার ছবি আঁকতে চান। তবে সেজন্যে আমাকে মালাগা যেতে হবে। তিনি মুখে না বললেও আমি বুঝতে পারলাম, তার উদ্দেশ্য একটাই- আমাকে নিজের বিছানায় নিয়ে যেতে চান।’ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় গুপ্তচর হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব পান মাতাহারি। আর এটাই তার জীবনের সমাপ্তি টেনে দেয়। হারি কি আসলেই গুপ্তচর ছিলেন? কার পক্ষে কাজ করতে চেয়েছেন তিনি? জার্মানি, ফ্রান্স নাকি রাশিয়ার? এসবের উত্তর পেতে পড়তে পারেন ‘দ্য স্পাই’। বইয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উক্তি/ অংশ: ১/ 'ফুল আমাদের শিক্ষা দেয়, কোনও কিছুই চিরস্থায়ী নয়- না ওদের লাবণ্য, এমনকি না সেই ভয়াল সত্য, যে একদিন ওরা বিলীন হয়ে যাবে।’, ২/ ‘যৌনতাকে আমি একরকম যান্ত্রিক অনুভূতি হিসেবে মানতে শুরু করি। এমন এক অনুভূতি যার সাথে প্রেমের কোনও সম্পর্ক নেই’, ৩/ ‘লোকে বলে জীবন অতটা জটিল নয়। কথাটা ভুল। আইসক্রিম খাবার ইচ্ছা পোষণ করা খুবই সহজ, তেমনই সহজ হচ্ছে বিখ্যাত হবার চাহিদ’, ৪/ ‘ফ্রান্স আর আমাকে আকৃষ্ট করেনা। এই দেশ আমার সেরাটুকু শুষে নিয়ে, ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে আস্তাকুঁড়ে’, ‘ফরাসিরা যখন আইফেল টাওয়ার নির্মাণ করেছে, তখন আমরা কামান বানাতে ব্যস্ত’, ৫/ ‘মানুষকে শাস্তি দিতে নয়, ওই জেলখানা ব্যবহার করা হয় উচ্চাভিলাষীদের মানসিক শক্তিকে গুঁড়িয়ে দিত’, ৬/ ‘তোমাকে অভিযুক্তকারীদের ক্ষতটা আরো বেশি গভীর। আজ তারা হাসবে, হাত মেলাবে একে অপরের সাথে। তবে এমন একদিন আসবে যেদিন তাদের মুখোশ খুলে যাবে। সেরকম কিছু না হলেও অন্তত তারা নিজেরা তো জানবে, এক নিরপরাধ প্রাণকে তারা পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দিয়েছে শুধু মানুষের দৃষ্টিকে অন্যদিকে ফেরানোর জন্য।’ লেখক পাওলো কোয়েলহোর এই লেখার সমালোচনা করার যোগ্যতা আমার নেই। তবে অনুবাদ যথেষ্ঠ ভাল হয়েছে। আমি অনুবাদককে (ওয়াসি আহমেদ) দশে নয় দিতে চাই। সত্যিই, একটানে পড়ে নেবার মত বই ‘দ্য স্পাই’। বইয়ের নাম: দ্য স্পাই; লেখক: পাওলো কোয়েলহো; অনুবাদক: ওয়াসি আহমেদ; ধরন: অনুবাদ:উপন্যাস; প্রকাশক: আদী প্রকাশন"
Rizvi , Apr 16, 2019
"দ্যা স্পাই - Paulo Coelho বইয়ের নাম : দ্যা স্পাই লেখক : পাওলো কোয়েলহো অনুবাদ : ওয়াসী আহমেদ প্রচ্ছদ : আদনান আহমেদ রিজন প্রকাশনী : আদী প্রকাশন পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১১২ মুদ্রিত মূল্য : ২০০ টাকা দ্যা স্পাই সত্য ঘটনার অবলম্বনে রচিত একটি উপন্যাস। দ্যা স্পাই নাম শুনে অনেকটা ডিটেকটিভ উপন্যাস মনে হলেও এটি কোন ডিটেকটিভ উপন্যাস নয়, অনেকটা জীবনী ধরনের উপন্যাস। মাতা হারি!এই নামটি হয়তো অনেক বারই শুনেছেন, হুম প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ফ্রান্সের একটি সামরিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। ফায়ারিং স্কোয়াডে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পৃথিবীর রহস্যময় নারী হিসাবে তিনি পরিচিত। কারণ তার গুপ্তচর এর বিষয়টি একটি অমীমাংসিত রহস্য। অসহায় এবং নিঃস্ব অবস্থায় মাতা হারি প্যারিসে আসে। কিন্তু অল্প সময়ের মাঝে নিজের নৃত্যশৈলীর দক্ষতা জয় করে অনেক বিওশালীদের মন। সমাজের নিচু অবস্থান থেকে উঠে আসে সমাজের উচ্চ শ্রেণীতে।নিজের রূপ ও যৌবনে মাধ্যমে মন জয় করে বহু পুরুষের। ১ম বিশ্বযুদ্ধের সময় চারিদিকে থখন যুদ্ধের আতঙ্ক, এমন সময় মাতা হারির উচ্চবিলাশী জীবন যাপন সবার নজর কাড়ে। অনেকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মাতা হারি। ১৯৭১ সালে গুপ্তচর বৃওির অভিযোগে এক হোটেল রুম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় । বইয়ের ফ্ল্যাপে লেখা কিছু কথা : বাস্তবের আলোকে, উত্থান পতনে ভরা মাতা হারির বৈচিএময় জীবনের গল্পাটাই 'দ্যা স্পাই ' এর মূল প্রতিপাদ্য। তার বিরুদ্ধে দাড় করানোর অভিযোগুলো আদৌ কতটুকু সত্যি ছিল? নাকি শুধুমাএ স্বাধীনচেতা,উচ্চভিলাষী হবার অপরাধেই পুরুষতন্ত্রের যূপকাষ্ঠে জীবন বিসর্জন দিতে হয়েছিল মাতা হারিকে? সুতরাং মাতা হারি কে, তিনি কি আদৌও কোন গুপ্তচর নাকি সবকিছু রহস্য দিয়ে ঘেরা- জানতে হলে পড়ে ফেলুন দ্যা স্পাই 😊 বই নি:সন্দেহ ভালো বই তবে বইটিতে কিছু জাগায় এডাল্ট কথাবার্তা আছে। আশা করব প্রাপ্তবয়স্ক হলেই পড়বেন। বই অসাধারণ তবে বুঝতে অনেকটা সময় লাগলো আমার কারণ একজন রহস্য ময় নারীর জীবনী আর তো চারটি খানি কথা নয়। বিশেষ করে বিভিন্ন চরিএের নাম গুলো নিয়ে বার বার গোলমাল লাগছিল, তবুও ধৈর্য নিয়ে পড়লে সব কিছুই বুঝার কথা। লেখক পাওলো কোয়েলহো এর ভিন্নধর্মী রচনা এটি। তার রচিত সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্রন্থ দ্যা আলকেমিষ্ট।"
Mohammad Jillur Rahman , Nov 24, 2018
"এই বইটা পড়তে গিয়ে কয়েকটা প্রতিক্রিয়া আসা স্বাভাবিক। ১. লাস্যময়ী এই স্পাইকে গুগলে সার্চ করা। ২. কেনো ঠিক এই গল্পটা দিয়েই সিনেমা হচ্ছেনা। ৩. যারা মাতাহারীকে নিয়ে সিনেমা দেখেছেন- গল্পটাকে এভাবে সাজালেও পারতেন। সে যাই হোক এটা পাওলো কোয়েলহোকে দিয়েই সম্ভব বাস্তব ঘটে যাওয়া ঘটনাকে একটা গল্পের মঞ্চে দাড় করানো।"
Muttaquina Hossain , Apr 4, 2018
"An interesting book indeed. I enjoyed the reading. The translator did a really good job."
Muhammad Tanjim Farhat , Jan 4, 2018
"বুক রিভিউ : দ্য স্পাই"
Shuvagoto Dip , Aug 27, 2017
"#প্রগতি_বইপোকা_রিভিউ_প্রতিযোগিতা || রিভিউ || বই : দ্য স্পাই মূল : পাওলো কোয়েলহো রূপান্তর : ওয়াসি আহমেদ প্রকাশক : আদী প্রকাশন প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ঘরানা : ঐতিহাসিক উপন্যাস/বায়োগ্রাফিক্যাল পৃষ্ঠা : ১১২ প্রচ্ছদ : আদনান আহমেদ রিজন অলঙ্করণ : মো: ফুয়াদ আল ফিদাহ মুদ্রিত মূল্য : ২০০ টাকা মাতা হারি। জার্মানি আর ফ্রান্সের ইতিহাসে বিতর্কিত একটা নাম। অসাধারণ নৃত্যপটীয়সী এই নারীর ওঠাবসা ছিলো সমাজের তথাকথিত উচ্চ অবস্থানে অবস্থান করা মানুষদের সাথে। শুরুতে নৃত্যশিল্পী হিসেবে বিপুল পরিচিতি পেলেও, পরবর্তীতে অভিজাতদের মনোরঞ্জনে নিবেদিত একজন বারবনিতা হিসেবেই পরিগণিত হন। আত্মপ্রচার আর জনপ্রিয়তার জন্য লালায়িত এই সুন্দরী রমণী নিজের লাস্যের নাগপাশে জড়িয়েছিলেন হোমড়াচোমড়া অসংখ্য মানুষকে। সেই সাথে গা ভাসিয়েছিলেন অপরিমেয় বিলাসের সমুদ্রে। আর অবধারিতভাবেই, হয়ে উঠেছিলেন জনমানুষের আলোচনার মুখরোচক বিষয়। বিকৃতমস্তিষ্ক স্বামীর অন্ধকার আর যন্ত্রণাময় ছায়াতল থেকে মার্গারিটা জেল্যে যখন প্যারিসে পৌঁছালেন, খুব অল্প সময়েই আকর্ষণ করলেন মানুষের মনোযোগ। আর সারা জীবন হয়তো তিনি এটাই চেয়েছিলেন। সকলের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার জন্যই মার্গারিটা জেল্যেকে রূপান্তরিত হতে হয়েছিলো মাতা হারি-তে। যিনি একই সাথে ছিলেন কুখ্যাত, আবার বিখ্যাতও বটে। ১৯১৭ সালের এক সকালে প্যারিসের হোটেল এলিজ্যি থেকে মাতা হারিকে গ্রেপ্তার করা হয় জার্মানির পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে। একের পর অভিযোগের তীরে বিদ্ধ হতে হতে তাঁর স্থান হয় কুখ্যাত সেইন্ট ল্যাজারের অন্ধকার এক কারাপ্রকোষ্ঠে। সলিড কোন এভিডেন্স ছাড়াই ভূতপূর্ব মার্গারিটা জেল্যে ওরফে H21 বা মাতা হারি'র বিরুদ্ধে গঠিত হয় অভিযোগপত্র। অভিযোগটা ভয়াবহ। ফ্রান্স আর জার্মানির মধ্যেকার যুদ্ধে অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা বিষয়ক গোপন তথ্য ফ্রান্স থেকে শত্রুদেশ জার্মানির কাছে পাচার। অথচ সর্বজনবিদিত এই রমণীর মাথা তখনও আত্মগরিমায় ছিলো উঁচু। শেষপর্যন্ত প্রকৃত সত্য অপ্রকাশিত থাকতেই পর্দা নেমে গিয়েছিলো মাতা হারি নামক এই প্রশ্নবিদ্ধ নাটকের। সত্যিই কি মাতা হারি ঘৃণ্য একজন গুপ্তচর ছিলেন? নাকি, সেকালে দাবিয়ে রাখা নারীদের মাঝে একজন স্বাধীনচেতা নারী হওয়াই তাঁর কাল হয়েছিলো? কখনোই জানা হয়ে ওঠেনি এসব প্রশ্নের উত্তর। অমীমাংসিতই থেকে গেছে এই অধ্যায়। ব্যক্তিগত মতামত : ছোট পরিসরের 'দ্য স্পাই' উপন্যাসে লেখক পাওলো কোয়েলহো তুলে এনেছেন সময়ের আঁচড়ে ফিকে হয়ে আসা এক করুণ ইতিহাস। আত্মজৈবনিক ধাঁচে লেখা এই উপন্যাস পাঠককে পৌঁছাতে সাহায্য করবে বিতর্কিত চরিত্র মাতা হারি'র একদম কাছাকাছি। কোয়েলহো'র লেখায় বরাবরই দার্শনিকতার একটা প্রলেপ থেকে যায়। 'দ্য স্পাই'-ও এর ব্যতিক্রম না। জীবনমুখী দার্শনিকতা ও স্বাধীনচেতা এক রমণীর জীবন এখানে মিলেছে একই ধারায়। আর সেই সাথে পাঠকের ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে অমীমাংসিত মাতা হারি রহস্যের সমাধানে পৌঁছানোর জন্য। পাওলো কোয়েলহো 'দ্য স্পাই' লিখতে গিয়ে তৎকালীন ইতিহাসের অলিতেগলিতে অনেক ঘুরেছেন। যতোটা সম্ভব চেষ্টা করেছেন মার্গারিটা জেল্যে ওরফে মাতা হারি ওরফে H21- এর প্রকৃত জীবনী পাঠকের সামনে তুলে ধরার জন্য। তাঁর এই সুচেষ্টা যে আশাতীতভাবে সফল, তা বলতে যাওয়া বোধহয় বাহুল্যতার পর্যায়ে চলে যাবে। লেখকের অন্যান্য অনেক বই-ই আজও আমার না পড়া। সেগুলোও পড়ে ফেলার আশা রাখি। 'দ্য স্পাই' বইটা ওয়াসি আহমেদ বেশ মুনশিয়ানার সাথে রূপান্তর করেছেন। সাবলীলতার ছোঁয়া ছিলো এই উপন্যাসের প্রতিটা পাতায়। মো: ফুয়াদ আল ফিদাহ'র চমৎকার অলঙ্করণও এই রূপান্তরকর্মটাতে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। বিশেষ করে প্রত্যেক পর্বের শুরুতে মাতা হারি'র জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোকচিত্র যোগ করার ব্যাপারটা দারুন লেগেছে আমার কাছে। আর মূল বই অবলম্বনে করা আদনান আহমেদ রিজনের প্রচ্ছদটাও ভালো ছিলো। রেটিং : ৪/৫ © শুভাগত দীপ"
sohel rana , Aug 8, 2017
"অনুবাদ মোটামুটি, প্রকাশনার কাজও ভালো ।"
jami jahan , Jun 30, 2017
"#প্রগতি_বইপোকা_রিভিউ_প্রতিযোগিতা বই-দ্য স্পাই লেখক-পাওলো কোয়েলহো অনুবাদ-ওয়াসি আহমেদ ধরন-উপন্যাস পৃষ্ঠা-১১২ মূল্য-২০০ প্রকাশনী-আদী মাতা হারি। ফায়ারিং স্কোয়াডে ফারসি সৈন্যদের হাতে তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে। ব্রাজিলীয় লেখক পাওলো কোয়েলহো তার জনপ্রিয় উপন্যাস দ্য স্পাই -এ তুলে ধরেছেন সেই ইতিহাস নিন্দিত স্পাইকন্যা মাতা হারিকে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বিচারের নামে মাতা হারির হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিয়েই দ্য স্পাই শুরু। মাতা হারি, আসল নাম মার্গারিটা গিরট্রুইডা জেলে। গুপ্তচর ছাড়াও তার অন্য এক পরিচয় সে একজন ওলন্দাজ নর্তকী। নেদারল্যান্ডসের ফ্রায়সল্যান্ড প্রদেশে তার জন্ম। বাবা এডাম জেলে এবং মা এ্রন্টজে ভ্যান ডের মুলেন। মার্গারিটার বাবা একটি টুপির ব্যবসা ছাড়াও, তেল শিল্পে বিশাল অংকের টাকা বিনিয়োগ করে যথেষ্ট সম্পদশালী হয়েছিলেন। প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হওয়ায় সন্তানদের শৈশবে বেশ ব্যয়বহুল স্কুলে পড়াশোনার ব্যবস্থা করেন। এবং তার ব্যপ্তি ছিলো মার্গারিটার ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত। আর এই আনলাকি থার্টিনে মোড় ঘুরে যায় মার্গারিটার জীবনের। পিতার ব্যবসায়ী মন্দা এবং পারিবারিক অশান্তিে পিতামাতার মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায। বাবা আবারও বিয়ে করেন। এর ফলশ্রুতিতে মার্গারিটা অবিভাবকহীন হয়ে এক ধর্মপিতার আশ্রয় পায়। স্কুলে পড়াশোনার সময় প্রধান শিক্ষকের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ায় ধর্মপিতা তাকে স্কুল থেকে নিয়ে আসেন । কিছুদিন পর সেখান থেকে মার্গারিটা পালিয়ে চাচার বাড়ি চলে আসে। যখন তার বয়স ১৮ বছর , তখন ডাচ সংবাদপত্রে প্রকাশিত পাত্রী চাই বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে তার থেকে বয়সে ২০ বছরের বড় একজন সামরিক কর্মকর্তা "ক্যাপ্টেন রুডলফ ম্যাকলেওডকে" বিয়ে করে ফেলে। ক্যাপ্টেনকে বিয়ে করার সুবাদে তিনি তৎকালিন ডাচ সমাজের অভিজাত শ্রেণীতে প্রবেশ করার সুযোগ পান। বিয়ের পর দুই সন্তানের জন্ম হলেও সংসার জীবন তার সুখের ছিল না। সংসারে বিভিন্ন অশান্তির কারনে মার্গারেট তাকে ছেড়ে একজন সামরিক অফিসারের কাছে চলে যান। সেখানে ইন্দোনেশিয়ান রীতিনীতি রপ্ত করে একটি নাচের কোম্পানিতে যোগদান করেন, মাতা হারি নামে। মালয় ভাষায় যার অর্থ সূর্য বা দিনের চক্ষু। বিদেশী নর্তকী হিসাবে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে । মূলত যৌনতা ও শরীর প্রদর্শনের মাধ্যমে মাতা হারি খুব দ্রুত তার দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের তোপে তখন পুরো বিশ্বে গনগনে অবস্থা , সে সময়ের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯১৭, মাতা হারিকে তার হোটেল কক্ষ থেকে গ্রেফতার করা হয় গুপ্তচর অভিযোগে। এবং ২৪ জুলাই গুপ্তচর বৃ্ত্তির দায়ে তার বিচার শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল গোপন সংবাদ পাচারের মাধ্যমে ৫০,০০০ ফরাসি সৈন্যকে হত্যার ঘটনায় জার্মানিকে সহায়তা করা। তার হোটেল কক্ষে এক প্রকার অদৃশ্য কালি পাওয়া গিয়েছিল যা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে সাহায্য করে। তবে এই কালিকে তিনি মেকআপের সামগ্রী হিসেবে দাবী করেন। ১৫ অক্টোবর ১৯১৭ সালে, ৪১ বছর বয়সে গুলি করে তার মৃত্যুদন্ড কার্য়কর করা হয়। মারা যাবার সময় তার চোখ বাঁধতেও রাজি হননি। এমন কি মারা যাওয়ার আগ মুহূর্তে তিনি ফায়ারিং স্কোয়াডের সৈন্যদের দিকে উড়ন্ত চুম্বন নিক্ষেপ করেন। এক কাক ডাকা ভোরে তার মৃত্যু হয়। মাতা হারির মৃত্যুর পর থেকেই শুরু দ্য স্পাই এর পাতা। এত কিছুর পর সত্যিই কি মাতা হারি গুপ্তচর ছিলেন? এই অভিযোগ কতোটা সত্য ছিলো। এটা কি প্রমাণিত হতে পেরেছিলো! কেনই বা এত তরিগরি করে তার মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়! নাকি এর পিছনেও কাজ করেছিলো কোন ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র! কেনই বা ফারসি সরকার এ ব্যপারে সবসময়ই নিরব! এরকম আরো অনেক গুলো প্রশ্ন এবং এর পেছনের কাহিনী গুলোর বর্ণনা গুলোই হল দ্য স্পাই। সেই সাথে আছে ইতিহাসের রহস্য। দ্য স্পাই এ বেশ চমৎকার ভাবে কিছু সত্য আর কিছু কল্পনার মিশেলে মাতা হারির জীবন কাহিনী তুলে এনেছেন লেখক। পাওলোর কালিতে বর্ণিত হয়েছে মাতা হারির জীবনের সংগ্রাম, উত্থান-পতন, দুঃখবোধ, একাকীত্ব, অসহায়ত্ব, ভালোবাসা এমনকি বিশ্বাসঘাতকতা সবকিছুই লেখক তুলে ধরেছেন অসামান্য লেখনী দিয়ে। সব কিছু পিছনে ফেলে এক স্বাধীনচেতা নর্তকীর গল্প দ্য স্পাই। যে কোন কিছুর তোয়াক্কা না করেই নিজ ইচ্ছায় চষে বেড়িয়েছে। শুরু থেকেই অসাধারন ছিলো দ্য স্পাই। তবে পরিসরে আরো একটু বড় হতে পারতো। প্রয়োজনের তুলনায় ব্যপ্তি কম মনে হয়েছে। ওলান্দাজ নৃত্যশিল্পী এবং গুপ্তচর হিসেবে মাতা হারির জীবন আলেখ্য নিয়ে বিভন্ন সময় চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। পাওলো কোয়েলহো একজন ব্রাজিলীয় ঔপন্যাসিক এবং গীতিকার। ব্রাজিলের মতো তৃতীয় বিশ্বের নাগরিক হয়েও তাঁর স্বপ্ন ছিলো শুধুমাত্র লেখক হওয়া। ১৯৮২ সালে কোয়েলহোর প্রথম বই ‘হেল আর্কাইভস’ প্রকাশিত হয়। কিন্তু বইটি তেমন পাঠকপ্রিয়তা পায়নি। তার কিছু সময় পর দ্যা অ্যালকেমিস্ট বই টি প্রকাশ করে ব্রাজিলের অখ্যাত একটি প্রকাশনা সংস্থা। মাত্র ৯ শত কপি বাজারে ছাড়া হয়। এবং প্রকাশক সিদ্ধান্ত নেন এ বইয়ের পুনর্মুদ্রণ না করার। এর কিছুদিন পর এক বড় প্রকাশনা সংস্থা ‘দ্যা অ্যালকেমিস্ট’ বইটির পুনর্মুদ্রণ করে। আর এভাবে দ্যা অ্যালকেমিস্ট’ ৬৫ মিলিয়নেরও বেশি বিক্রি হয়। এবং ৮০ টির বেশি ভাষায় অনুদিত হয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান করে নেয়। তিনিই একমাত্র জীবিত ব্যক্তি যিনি সর্বোচ্চ বই বিক্রির রেকর্ড গড়ে স্থান করে নিয়েছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে। সব শেষে অনুবাদ। অনুবাদক হিসেবে ওয়াসি আহমেদ বেশ ভালো কাজ দেখিয়েছেন। তাছাড়া পাওলো কোয়েলহোর লেখনশৈলীর যে দাম্ভিকতা তা তিনি ঠিকই ধরে রাখতে পেরেছিলেন। সব কিছুর পর দ্য স্পাই কল্পনার আশ্রয়ে এক অসাধারণ উপন্যাস না হলেও ইতিহাসের কিছু রহস্য উদঘাটনের জন্য বেশ ভালো ভ্রমন। রেটিং-৪.৫/৫ প্রগতি লিংক- https://www.progoty.com/book/129863/দ্য-স্পাই"
Tultul Zabin , May 9, 2017
"‘দ্য স্পাই’ বইটি বিশ্ববিখ্যাত লেখক পাউলো কোয়লহো এর লেখা অসাধারন একটি বই । লেখক পাউলো কোয়েলোর জন্ম ব্রাজিলে । তিনি তার অসাধারন লেখালেখির মাধ্যমে অনেক দ্রুত প্রসিদ্ধি লাভ করেন । এছাড়াও বর্তমান বিশ্বে সর্বাধিক পঠিত লেখক হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেন । তিনি তার জীবনে বহু অনুপ্রেরনা মুলক বই লিখেছেন । এর স্বীকৃতি স্বরুপ তিনি বহু আন্তর্জাতিক পুরষ্কার লাভ করেছেন । তার লেখা দ্য আলকেমিস্ট বিশ্বের সকল স্থানেই ভুয়সী প্রশংসা পেয়েছে যা অন্যতম বেস্টসেলার বই হিসেবে এখনো রয়েছে । দ্য স্পাই বইটি বাংলাতে অনুবাদ করেছেন ওয়াসি আহমেদ । বইটি প্রকাশিত হয়েছে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে । বইটি প্রকাশিত হয় আদী প্রকাশনী থেকে এবং এর প্রকাশক নাফিসা বেগম । বইটির প্রচ্ছদ করেছেন আদনান আহমেদ রিজন । মাতা হারি , যে নিঃসঙ্গ অবস্থায় এসেছিল প্যারিসে কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই হয়ে উঠেছিল শহরের সবথেকে আলোচিত নারীদের একজন । নৃত্যশৈলীর জাদুময়তায় জয় করে নিয়েছিল আপামর দর্শক এর মন , আবার বারবনিতা রুপে বশ করে নিয়েছিল শহরের ক্ষমতাধর ও বিত্তশালীদের হৃদয় । আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মাতা হারির। সমাজের উচু স্তরের মানুষদের মনোরঞ্জন করা আর গোপন তথ্য ব্যবহার সবখানেই সিদ্ধহস্ত ছিল মাতাহারি। এভাবেই জমছিল তার সম্পদ আর উপহারের পাহাড়। একসময় প্যারিস ছেড়ে সে পাড়ি জমায় বার্লিন এ। জয় করে বার্লিনবাসীর হ্রদয়। এমন সময়ে যুদ্ধের ডামাডোলে অস্থির হয়ে ওঠে পুরো বিশ্ব। বার্লিন ছাড়ে মাতা হারি। ঘুরে ফিরে আবার প্যারিসে চলে আসে সে। এমনি একটা সময়ে জার্মানির গুপ্তচর সন্দেহে গ্রেফতার করা হয় তাকে। বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। মাতা হারির এই দুঃসময়ে কেউ তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। একতরফা বিচারেই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় । অসাধারন এ বইটি পাঠকদের মন জয় করবেই , তা নির্দিধায় বলে দেওয়া যায় ।"
Hosneara Yeasmin Ami , Apr 2, 2017
"হল্যান্ডের লিউওয়ার্ডেন শহরের অ্যাডাম আর অ্যান্তযে জেল্যের ঘরে জন্ম নেয় পরমাসুন্দরী কন্যা মার্গারিটা। একটি হ্যাট শপের মালিক ছিলেন তারা। সাথে সাথে দূরদর্শীও ছিলেন। তাইতো মেয়েকে প্রাইভেট স্কুলে পড়িয়েছেন, সাথে নৃত্যশিক্ষা, ঘোড়ায় চড়া সব শিখিয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ের প্রথা অনুযায়ী মেয়েকে ভাল ঘর-বরে বিয়ে দেয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন সব করেছেন। কাগজের বিজ্ঞাপন দেখে চিঠি লেখে মার্গারেট স্কটিশ বংশোদ্ভূত ডাচ সেনাবাহিনীর অফিসার রুডলফ ম্যাক্লেওডকে। তৃতীয় সাক্ষাতে বিয়ের প্রস্তাব দেয় রুডলফ। বিয়ে করে নিয়েও যায় মার্গারেটকে সেই সুদূর ইন্দোনেশিয়ায়। সেখানে এক কন্যার জন্ম দেয় সে। স্বামীর অবহেলা-অত্যাচার, সদ্যপ্রসূত ছেলের মৃত্যু, অ্যান্ড্রেয়াসের স্ত্রীর মৃত্যু সব মিলিয়ে বিষিয়ে যায় মার্গারেটের জীবন। বিদ্রোহ করে বসে প্রথমবারের মত। এর কিছুদিন পরেই সবার অলক্ষ্যে পাড়ি জমায় প্যারিসে। সামান্য কিছু সম্বল নিয়ে প্যারিসে নামে মার্গারেট। নতুন নামে নতুন পরিচয় নেয় সে। নাম নেয় "মাতা হারি" পেশায় ইস্ট ইন্ডিজের আদিবাসী নর্তকী। মশিয়ে গিমে'র ব্যক্তিগত জাদুঘরে প্রথমবারের মত নাচ প্রদর্শন করে সে। জয় করে নেয় উপস্থিত সবার প্রশংসা। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মাতা হারির। সমাজের উচু স্তরের মানুষদের মনোরঞ্জন করা আর গোপন তথ্য ব্যবহার সবখানেই সিদ্ধহস্ত ছিল মাতাহারি। এভাবেই জমছিল তার সম্পদ আর উপহারের পাহাড়। একসময় প্যারিস ছেড়ে সে পাড়ি জমায় বার্লিন এ। জয় করে বার্লিনবাসীর হ্রদয়। এমন সময়ে যুদ্ধের ডামাডোলে অস্থির হয়ে ওঠে পুরো বিশ্ব। বার্লিন ছাড়ে মাতা হারি। ঘুরে ফিরে আবার প্যারিসে চলে আসে সে। এমনি একটা সময়ে জার্মানির গুপ্তচর সন্দেহে গ্রেফতার করা হয় তাকে। বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। মাতা হারির এই দুঃসময়ে কেউ তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। একতরফা বিচারেই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। দ্য স্পাই মূলত মাতা হারির বৈচিত্র্যময় জীবনের উথ্থান পতন নিয়ে লেখা। আদৌ কি সে গুপ্তচর ছিল? নাকি স্বাধীনচেতা এক নারীর অদম্য ইচ্ছাকে হত্যা করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য? এই প্রশ্নের উত্তর আছে কি? দ্য স্পাইকে ঠিক মনগড়া কাহিনীর উপাধি দেয়া যায় না। তৎকালীন সময়ে নারীর অবস্থান, সামাজিক রীতিনীতি, নারীস্বাধীনতা সব কিছুই উঠে এসেছে এ লেখার মাধ্যমে। পাওলো কোয়েলহো এই লেখায় মাতা হারি ও তার আইনজীবীর লেখনির মাধ্যমে পুরো ঘটনার বর্ণনা করেছেন। এ যেন চিঠি বা ডায়রির পাতায় পাতায় পুরো ইতিহাস লেখা যা সিনেমার মত চোখের সামনে ভেসে ওঠে । তার লেখনি নিয়ে প্রশ্ন করার কোন অবকাশই নেই। অনুবাদকও অসাধ্য সাধন করেছেন। এত প্রান্জল ভাষায় এমন একটি জটিল লেখা উপস্থাপন করেছেন। আমাকে অনুবাদক একসময় বলেছিলেন সময় নিয়ে হৃদয় দিয়ে অনুভব করে লেখাটা পড়ার জন্য। তার সেই অনুরোধ রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। আসলেই এই লেখাটা হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করার মতই গভীর।"
Kazi Asifuzzaman , Apr 1, 2017
"#প্রগতি_বইপোকা_রিভিউ_প্রতিযোগীতা #Book_Review বইয়ের নামঃ দ্য স্পাই বইয়ের ধরণঃ আত্মজৈবনিক উপন্যাস/বায়োগ্রাফিক নভেল বইয়ের লেখকঃ পাওলো কোয়েলহো অনুবাদঃ ওয়াসী আহমেদ প্রচ্ছদঃ আদনান আহমেদ রিজন অলংকরণঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ প্রকাশকালঃ অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭ প্রকাশনীঃ আদী প্রকাশন পৃষ্ঠাঃ ১১১ মূদ্রিত মূল্যঃ ১৭০ টাকা লেখক পরিচিতিঃ পাওলো কোয়েলহো একজন ব্রাজিলিয়ান উপন্যাসিক ও গীতিকার। ১৯৮২ সাল থেকে তিনি লেখালেখির সাথে সম্পৃক্ত। মূলত ব্রাজিল ভাষায় লেখেন তিনি। পরবর্তিতে সেটি ইংরেজী এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তার এখন পর্যন্ত মোট বইয়ের সংখ্যা ২০ টি। সর্বশেষ বইয়ের নাম “অ্যাডাল্টেরি”। তার সবচেয়ে বিখ্যত উপন্যাসের নাম “দ্যা আলকেমিস্ট” যা ৮০ টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। সার-সংক্ষেপঃ নিঃস্ব অবস্থায় প্যারিসে পৌঁছেছিল মাতা হারি। কিন্তু কয়েক মাসের ভেতর, হয়ে উঠেছিল শহরের সবচেয়ে আলোচিত নারীদের একজন। নৃত্যশৈলীর জাদুময়তায় জয় করে নিয়েছিল আপামর দর্শক-শ্রোতার মন; আবার বারবনিতা রুপে বশ করে নিয়েছিল সমাজের সবচাইতে ক্ষমতাধর বিত্তশালীদের হৃদয়।যুদ্ধ-বিদ্ধস্থ দেশে চারদিকে চাপা আতঙ্ক বিরাজমান। এমন এক সময়ে মাতা হারির জাঁকজমকপূর্ণ জীবন সবার চোখে সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ১৯১৭ সালে, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে নিজের হোটেল রুম থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে।বাস্তবের আলোকে, উত্থান পতনে ভরা মাতা হারির বৈচিত্রময় জীবনের গল্পটাই 'দ্য স্পাই' এর মূল প্রতিপাদ্য। তার বিরুদ্ধে দাঁড় করানো অভিযোগগুলো আদৌ কতটুকু সত্যি ছিল? নাকি শুধুমাত্র স্বাধীনচেতা, উচ্চাভিলাষী হবার অপরাধেই পুরুষতন্ত্রের যূপকাষ্ঠে জীবন বিসর্জন দিতে হয়েছিল মাতা হারিকে? পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ বইটিকে সরাসরি আত্মজীবনী বলা যাবে না। আবার উপন্যাসও পুরোপুরি না এটা। তবে এটিকে একটি উপাখ্যান বলা যেতে পারে, যেখানে ফুটে উঠেছে বহুবছর আগে করা একটি “ইতিহাসের ভুল”! মাতা হারি নামটি এস্পিওনাজ জগতের একটি বহুল আলোচিত নাম। সবাই তাকে ডাকে “স্পাইকন্যা মাতাহারি” নামে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। কিন্তু আসলেই কি সেই অভিযোগ সত্য ছিল? নাকি ছিল তার পেছনে রক্ষনশীল পুরুষশাসিত সমাজের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র? সেই কথাই ফুটে এসেছে আলোচ্য উপন্যাসে। খুব আহামরি উপন্যাস যে এটি তা নয়। তবে যারা ইতিহাস ভালোবাসেন, ভালোবাসেন কিছু রহস্যকে জানতে, তাদের জন্য এই বই যথার্থ। মাতা হারির জীবনের অনেক অজানা গল্পই উঠে এসেছে এখানে। এসেছে তার জীবনের সংগ্রামের কথা। তার স্বপ্ন, জীবনের বাধা বিপত্তি, ঘাত প্রতিঘাত। দ্য স্পাই এ উঠে এসেছে একজন আধুনিক, স্বাধীনচেতা নৃত্যশিল্পীর গুপ্তচর হয়ে ওঠার কাহিনী। উপন্যাস পড়ে এটা মনে হয়েছে যে বইটি অনেক গবেষনা করে লেখা। কিন্তু বইয়ের শেষে রেফারেন্স বইগুলোর নাম দিয়ে দিলে ভালো হতো। পাঠক বইয়ের নাম দেখে অনেকে বইটিকে থ্রিলার জনরার ভাবতে পারেন। তবে যারা পাওলো কোয়েলহো’র বই পড়েছেন, তারা জানেন তার লেখায় ভালোবাসা, আধ্যাত্মিকতা এবং দর্শনের প্রভাব মুখ্য। তবে বায়োগ্রাফি নভেল হিসেবে লেখক “দ্য স্পাই” বেশ ভালো কাজ দেখিয়েছেন। কিন্তু পাওলো কোয়েলহো’র বইয়ের একটা অসুবিধা আছে। তিনি অত্যাধিক সাহিত্যিক ভাষা ব্যবহার করেন বলে আমার মনে হয়। তার উপর ব্রাজিলীয় ভাষা থেকে যখন ইংলিশ হয় তখন সেই সাহিত্যমান কিছুটা খর্ব হয়। তারপর যখন সেটি বাংলা হয় তখন বই হয়ে যায় ধীর গতির। এবার আসি অনুবাদের কথায়। অনুবাদ ব্যাপারটা বরাবরই আমার কাছে পরের ধনে পোদ্দারী করার মত মনে হয়। সেদিক থেকে অনুবাদক ওয়াসি আহমেদ বেশ ভালোভাবেই সফল। তার সুন্দর ও সাবলীল অনুবাদের কারণেই কিছুটা হলেও গল্প গতি পেয়েছে। তার উপর অনুবাদক ডেজার্ট হিসেবে দিয়েছেন বইয়ের শেষে টীকা। ব্যাপারটা বেশ ভালো লেগেছে। তবে বইয়ের ভেতর কিছু বানান ও ছাপার ভুল পেয়েছি। বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন আদনান আহমেদ রিজন। যদিও অনুবাদ বইয়ের প্রচ্ছদ মূল বইকে ঘীরেই হয়। তারপরেও বইটির প্রচ্ছদ বেশ ভালো। আর সবথেকে ভালো লেগেছে বইয়ে বাইন্ডিংটা। বেশ চমৎকার বাইন্ডিং ও কাগজের মান। সব মিলিয়ে বলতে চাই, বইটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বহুল আলোচিত বই। তাই পড়ে দেখবেন। ভালো লাগবে আশা রাখি। ধন্যবাদ! হ্যাপি রিডিং! রেটিংঃ ৪/৫"
Adnan Ahmed Rizon , Mar 2, 2017
"১৫ই অক্টোবর, ১৯১৭। সকাল বেলা। প্যারিসের সেন্ট ল্যাজারে কারাগার। ফায়ারিং স্কোয়াডে মধ্যবয়সী এক মহিলার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হলো। তারপর যথারীতি চলতে থাকল জেলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। হতভাগ্য সেই মহিলার নাম 'মাতা হারি'। কে এই মাতা হারি? কী তার পরিচয়? চলুন একটু ইতিহাস ঘাঁটি। মার্গারিটা জেল্যে নামের এই ওলন্দাজ নর্তকীর জন্ম ১৮৭৬ সালে, নেদারল্যান্ডে। তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় খুশি ছিল না মার্গারিটা। বিত্ত-বৈভবের নেশায় সর্বস্ব বিকিয়ে দিতেও দ্বিধা করেনি সে। অবশ্য তাকেও পুরোপুরি দোষ দেয়া যায় না। সাংসারিক অশান্তি, সামাজিক টানাপোড়নে জীবন হয়ে উঠেছিল দুর্বিসহ। শুধুমাত্র খ্যাতির মোহই বাঁচিয়ে রেখেছিল তাকে। ১৯০৩ সালে প্যারিসে আসার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নাচের মঞ্চের সাহসী খোলামেলা উপস্থাপনায় গোটা দেশবাসীর নজর কাড়ে সে। সেই সাথে স্বামীর মাধ্যমে প্রবেশ করা অভিজাত দুনিয়ার ঝলকানি তো ছিলই। কিন্তু এই অতিরিক্ত মোহই কাল হয় তার জন্য। ভক্তের পাশাপাশি হেটারও কম ছিল না। প্রায় এক দশক পর ক্যারিয়ারে ভাঙন ধরলে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তাকে। চক্রান্তের বলির পাঁঠা করে দাঁড় করানো হয় ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে। বিচারকের মতে, "আমাদের কাছে থাকা সাক্ষ্যপ্রমাণগুলো একটা বিড়ালকে সাজা দেয়ার পক্ষেও যথেষ্ট ছিল না"। কিন্তু সেই প্রমাণাদির জোরেই, শুধুমাত্র স্বাধীনচেতা আর উচ্চাভিলাষী হয়ার অপরাধে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজের যূপকাষ্ঠে বলি হয় মাতা হারি। সেই মার্গারিটা ওরফে মাতা হারির জীবনকে উপজীব্য করেই 'দ্য স্পাই' বইটি রচনা করেছেন খ্যাতিমান সাহিত্যিক পাওলো কোয়েলহো। কোয়েলহোর লেখনী নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। দর্শন আর শৈল্পিকতার ছোঁয়ায় পাঠকদের একের পর এক বেস্টসেলার উপহার দিয়েছেন তিনি। এই বইটা আগের কাজগুলোর তুলনায় ভিন্নমাত্রার হলেও, নিজের ছাপ বেশ ভালোভাবেই রাখতে সক্ষম হয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ভদ্রলোক। মাতা হারির মত একজন চরিত্রের জীবনভর প্রাপ্তি, অপ্রাপ্তি, ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা, দুঃখবোধ ইত্যাদি... তার মতো করে অন্য কেউ অন্তত কাগুজে খেরোখাতায় আটকাতে পারতেন বলে আমার মনে হয় না। এবার আসি অনুবাদে। ওয়াসি আহমেদ, গত বছরের আদী প্রকাশনের অন্যতম আবিষ্কার। আগের দুটো বই দিয়ে বেশ ভালোভাবেই পাঠকদের প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। কিন্তু এই বইটা অনুবাদ করবেন শোনার পর একটু সন্দীহান ছিলাম না বললে ভুল বলা হয়। নিজ অভিজ্ঞতা থেকে জানি, ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের সাথে সম্পর্কিত বই অনুবাদের ক্ষেত্রে অনুভূতিটা খুব একটা সুখকর হয় না। আর লেখকের নামটাও এখানে পাওলো কোয়েলহো। অনুবাদ করা সহজ...কিন্তু লেখনীর আর্টটা কতটুকু বজায় রাখতে পারবেন, সেটাই ছিল দেখার বিষয়। অনুবাদক পুরোপুরি সফল হয়েছেন। একবারের জন্যও মনে হয়নি, অনুবাদ পড়ছি। ফার্স্টক্লাস ওয়ার্ক। প্রচ্ছদ (জাতি এখানে নীরব)... বইয়ের কাগজ, বাঁধাই আদীর অন্যান্য বইগুলোর মতই ভাল ছিল। মোদ্দাকথা, আদী বইটার আবেদন পুরোমাত্রায় বজায় রাখতে পেরেছে। এক নজরে- দ্য স্পাই লেখকঃ পাওলো কোয়েলহো রূপান্তরঃ ওয়াসি আহমেদ প্রচ্ছদঃ আদনান আহমেদ রিজন আদী প্রকাশন প্রকাশকালঃ বইমেলা, ২০১৭ পৃষ্ঠাঃ ১১২ মূল্যঃ ১৭০ টাকা রেটিংঃ মূল বই- ৪.৫/৫ অনুবাদ- ৪.৫/৫"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"দ্য স্পাই" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: