২য় সংস্করণ, ২০২১
দিবসে বৃষ্টির ছোঁয়া
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
ময়ূরাক্ষী
হুমায়ূন আহমেদ
তোমাকে
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র
হুমায়ূন আহমেদ
মিসির আলি সমগ্র ২
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
হুমায়ূন আহমেদ
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
হুমায়ূন আহমেদ
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | দিবসে বৃষ্টির ছোঁয়া |
| Author | ওয়াদুদ খান |
| Publisher | বাংলানামা |
| Edition | ২য় সংস্করণ, ২০২১ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 94 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | উপন্যাস ও সাহিত্য |
| Weight | 0.25 Kg |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
1 Ratings and 1 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
১টিSamiha Sheikh , May 9, 2021
"দ্বিতীয়বারের মতো শেষ করলাম অসাধারণ একটা রম্যধর্মী রোম্যান্টিক উপন্যাস— দিবসে বৃষ্টির ছোঁয়া। শেষ করলাম ঠিকই, তবে এখনও রেশটা কাটেনি। কাটেনি ঘোরও। উপন্যাসের নায়ক দিবসের পাগলামিতে— নায়িকা বৃষ্টির মতো আমিও ঢুকে গিয়েছিলাম কল্পনার রাজ্যে, আকণ্ঠ ডুবে ছিলাম ফ্যান্টাসির নীল সমুদ্দুরে। বাস্তবিকই দিবস দুরন্ত, চঞ্চল, চটপটে। মুক্ত বিহঙ্গের মতো যেন ওর উড়ে চলে। বড্ড পাগলাটে স্বভাব। দিবসের পাগলামির কিছু নমুনা খণ্ড-খণ্ড করে তুলে দিচ্ছি— আমি দিবস— হাঁটতে-হাঁটতে আজ বিবশ... এরকম ছন্দ শুনলে কোন পাঠকেরই না ভালো লাগে? পাগলাটে দিবস আরও বলে— আমি হালকা-পাতলা এক কবি মাইয়া, বল্ না— তুই কি আমার ছন্দ হবি? উপন্যাসের মিষ্টি মেয়ে বৃষ্টিকে খ্যাপানোর জন্য দিবস আরও মজার-মজার ছন্দ বানায়। যেমন— বৃষ্টি রে— তোর কথা-হাসি রাগারাগি কিল-ঘুষি সব লাগে ভারি মিষ্টি রে... বৃষ্টিকে ইংরেজিতে 'রেইন' বানিয়ে আরও খ্যাপায় দিবস— ওহ বৃষ্টি, ওহ রেইন— তুমি দিয়ো না আর পেইন... এরকম হাস্যরসিকতার পাশাপাশি কিছু সিরিয়াস টাইপের ছন্দও শোনায় দিবস। যেমন— মেঘের দেশে চলো ভেসে যাই হারিয়ে আজ তোমার চোখে স্বপ্ন একেঁ ভেঙে দেবো লাজ... দিবসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু শফিককে সাথে নিয়ে— ওরা শূন্য পকেটে বেরিয়ে যায় সুন্দরবন দেখতে। কাকলি নামের এক মেয়েদের বাসায় কামলাও খাটে ওরা। সেখানে ঘটে অনেক মজার-মজার ঘটনা— যা পড়তে গিয়ে আমি হেসেছি প্রাণখুলে। যেমন দিবসের লেখা কবিতা চুরি করে বাচ্চু নামের এক কালো পোলা পটাতে চেয়েছিল কাকলিকে। কবিতায় লেখা ছিল— দোষ কি আমার এই— হয়ে কয়লা কালো বাসি তোমায় ভালো। পথ-ঘাট-মাঠে পেলে লজ্জা-শরম ফেলে ডাইরেক্ট দিই বলে— ভালোবাসি তোমাকেই। দোষ কি আমার এই? বাচ্চুর মুখে এই কবিতা শুনে প্রায় পটেই গিয়েছিল কাকলি। কিন্তু যখন সত্যিটা জানতে পারে, তখন কী যে জুটেছিল বাচ্চুর কপালে কিংবা গালে— সেটা জানলে পাঠকের সবগুলো দাঁত বেরিয়ে আসবে হাসতে-হাসতে। দিবসের বন্ধু শফিক আরেকটি মজার চরিত্র। বলতে লজ্জা লাগছে, তবুও বলেই ফেলি— আমি কিন্তু দিবসের পাশাপাশি শফিকেরও প্রেমে পড়েছিলাম। কিন্তু শফিক পড়েছিল কার প্রেমে? থাক, সেই মেয়েটির নামটা না-ই বা বললাম। সুন্দরবন মিশনে গিয়ে— দিবস-শফিক মেতে ওঠে অন্যরকম পাগলামিতে। প্রাক্তন প্রেমিকা 'সুমি'র স্মৃতিচারণ করে— শফিক আফসোসের গলায় ছন্দ আওড়ায়— সুমি রে— আজ থাকতে পাশে যদি তুমি রে— বুঝতে— পাগলামি-ছাগলামি কয় কারে.... এইসব সরস ছন্দ পড়ে একা-একাই খিলখিল হাসিতে ফেটে পড়েছি আমি। না-হেসে উপায় আছে, আপনারাই বলেন? সুন্দরবন মিশনে গিয়ে দিবস যেন সত্যিকারের কবি হয়ে ওঠে। উপন্যাস থেকে একটু পড়ে শোনাই— ফোনালাপে বৃষ্টি বলে— হ্যালো দিবু, এই দিবু, ও দিবু, তুমি কবি হইলা কবে থেকে? ওপাশ থেকে দিবসের উত্তর আসে— এই সুন্দরবন, সুন্দর জল মোরে আনিয়া দিয়াছে ছন্দ আজি হতে আমি— হয়ে যাব তার— স্বপ্নের জীবনানন্দ। নায়িকা বৃষ্টির মতোন পাঠক হিসেবে আমিও ঝিম মেরে বসে থাকি। কী যে ভালো লাগে! কেবল নির্মল হাস্যরস আর বিমল বিনোদনই কি এই উপন্যাসের উপজীব্য? আমার কাছে তা মনে হয়নি। লেখক ওয়াদুদ খান বরাবরের মতো উপন্যাসের চরিত্রদের মাধ্যমে করে গেছেন কিছু কালজয়ী প্রবচনতুল্য উক্তি। যেমন— তোমাদের এই নগরে— ভালো বাসা আছে; ভালোবাসা নাই... অথবা, সর্পের দর্প লাঠির সামনে টেকে না... উপন্যাসটি কি মূলত প্রেম-নির্ভর? নাহ, আমার কাছে তা-ও মনে হয়নি। দিবস-বৃষ্টি পরস্পরকে ভালোবাসে— এটা ঠিক। তবে 'ভালোবাসি' বলার মতো সুযোগই পেয়ে ওঠে না ওরা। শেষমেশ 'ভালোবাসি' বলেছিল কি না, চূড়ান্তভাবে পরস্পরকে পেয়েছিল কি না— এটা নাহয় অজানাই থাক। উপন্যাসে অসাধারণ টুইস্টও আছে। একটু নমুনা দিচ্ছি। মাঝরাত্তিরে বই পড়ায় মগ্ন ছিল বৃষ্টি। হঠাৎ খবর আসে— পাগলা দিবসটাকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। দিশেহারা হয়ে যায় মেয়েটি। বৃষ্টির মতো পাঠক হিসেবে আমিও ভেবেছিলাম— রিমান্ডে নিয়ে দিবসকে ডিম-থেরাপি দেবে পুলিস। কিন্তু পরেরদিন ভোরে আমরা ভিন্ন দৃশ্য দেখতে পাই— পুলিসের কাঁধে বসে আয়েশ করে লাল-চা খাচ্ছে দিবস। কীভাবে এটা সম্ভব? পুলিসের কাঁধে বসে লাল-চা খাওয়া! অবাক কাণ্ড না? আর পুলিস কেনই বা গ্রেফতার করেছিল এই উচ্ছল তরুণটিকে? কী অপরাধ তার? এখানেই টুইস্ট। এখানেই মজা। সীমাহীন হাস্যরসের ভেতর দিয়ে লেখক তুলে ধরেছেন বর্তমান সমাজের অদ্ভুত হালচাল। সুকৌশলে সমালোচনা করেছেন তথাকথিত ফ্যাশন-সচেতন ছেলেমেয়েদের। আসুন, বই থেকে একটু দেখে নিই— কীরকম কাব্যিক কথামালায় ফুটে উঠেছে এ-কালের তরুণদের করুণ বাস্তবচিত্র। জিনস-টিশার্ট পরা ললনাকে দেইখা রে— স্মার্ট পোলা ডাক দিয়া কয়, "মাইয়া রে, দেখ না এই পোলার দিকে চাইয়া রে। পরেছি হাফ-প্যান্ট, বোতাম ছাড়া শার্ট; দেখ না চাইয়া— কত লাগে স্মার্ট! গলায় সোনার চেইন, হাতে দেখো চুড়ি; মাথায় লম্বা চুল, রোজ চাঁচি দাড়ি। সানগ্লাস কপালে, কানে আছে দুল; বেণী করে রাখি মাথার লম্বা চুল। আমি ডিস্কো পোলা, খুবই আধুনিক; ভালোবাসো আমারে— হবে সব ঠিক।" পোলায় আবার শুধায়, "মাইয়া রে ভালোবাসবি কি না— এবার বল না রে...." মাইয়া মুখ ভেংচিয়া কয়, "গাধা রে, আমিও তোর লাহান— ডিস্কো এক পোলারে!" বইয়ে আরও কিছু প্রাসঙ্গিক কবিতা বা ছন্দ আছে। তবে এটা কিন্তু কবিতার বই নয়; উপন্যাস। লেখকের ভাষা সহজ-সরল-প্রাঞ্জল। প্রবহমান নদীর স্রোতের মতোন গতিশীল। হৃদয়গ্রাহীও। লেখকের বর্ণনাশৈলী কতটা হৃদয়গ্রাহী, কতটা সাবলীল— এর নমুনা বই থেকে হুবহু তুলে দিচ্ছি। দেখুন— বাইরে অবিরাম বর্ষণ। স্বচ্ছ কাচের জানালার ভেতর দিয়ে বাইরের ছন্দ-তোলা বৃষ্টি দেখে মন ভরছে না বৃষ্টি নামের ছিপছিপে গড়নের মিষ্টি মেয়েটির। জানালা খুলে দিয়ে— বাইরে দু-হাত বাড়ায়। টিপটিপ বৃষ্টির টপটপ ঝরে-পড়া জল— দু-হাতের মুঠোয় নিতে থাকে। কী আনন্দ! বাঁ-হাতের মোটা স্টোনের চুড়িটায় জলের কিছু ফোঁটা— গোল হয়ে পাশাপাশি বসে আছে। বৃষ্টির ছিটায় কপালে নেমে-পড়া কগাছা মেঘ-কালো চুল— ভিজে যায় খানিক। কী যে ভালো লাগছে! হুম, এরকম ভাষা-বিন্যাসে— তরতর করে এগিয়ে গেছে পুরো উপন্যাস। নির্ভেজাল প্রেম ও হাস্যরসে টইটম্বুর এই উপন্যাসটির প্রথম পৃষ্ঠা উলটালেই শেষ না-করে পারবে না কোনো পাঠকই। [ধৈর্য ধরে পুরো রিভিউটা পড়ার জন্য অনিঃশেষ ভালোবাসা।] © সামিহা শেখ শিক্ষার্থী, অনার্স প্রথম বর্ষ সরকারি কুমুদিনী কলেজ টাঙ্গাইল বই: দিবসে বৃষ্টির ছোঁয়া লেখক: Wadud Khan প্রকাশনী: বাংলানামা প্রচ্ছদ: মাহী মজুমদার পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৪ মলাট মূল্য: ২৪০ টাকা অনলাইন পরিবেশক: প্রগতি ডট কম"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"দিবসে বৃষ্টির ছোঁয়া" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: