হোম
0
কার্ট
অফার সাইন ইন
বই খোঁজা হচ্ছে...

কোনো বই খুঁজে পাওয়া যায়নি

বানান ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন অথবা অন্য শব্দ দিয়ে খুঁজুন

প্রগতি - PROGOTY
বিখণ্ডিত - রবিন জামান খান এর প্রচ্ছদ
একটু পড়ে দেখুন

২য় সংস্করণ, ২০২৩

ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

বিখণ্ডিত

11 Ratings | 5 Reviews
TK. 609 TK. 700 -13% OFF

1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি

শুরুটা ছিল খুবই সাধারণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি ডিপার্টমেন্ট থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা ঋতুর জন্য খানিকটা উত্তেজনারও। হাজার হলেও প্রথম চাকরির ইন্টারভিউ। কিন্তু...
একটু পড়ে দেখুন
ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

বইটির বিস্তারিত দেখুন

শুরুটা ছিল খুবই সাধারণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি ডিপার্টমেন্ট থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা ঋতুর জন্য খানিকটা উত্তেজনারও। হাজার হলেও প্রথম চাকরির ইন্টারভিউ। কিন্তু শুরুটা আর দশটা সাধা
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন
Title বিখণ্ডিত
Author রবিন জামান খান
Publisher নালন্দা
Edition ২য় সংস্করণ, ২০২৩
Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) 368
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা
Category উপন্যাস ও সাহিত্য
Weight 0.55 Kg
ISBN 9789849583905
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন

বিজ্ঞপ্তি

গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।

Reviews and Ratings

Rate this product

3.82

11 Ratings and 5 Reviews

★★★★★
1
★★★★☆
9
★★★☆☆
0
★★☆☆☆
0
★☆☆☆☆
1

পাঠকদের মন্তব্য

৫টি
isrug itul

isrug itul , Apr 8, 2022

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"tulonamulok kharap"

Kazi Hasan Jamil

Kazi Hasan Jamil , Feb 28, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"🔰বই পরিচিতিঃ ➠বইয়ের নাম : বিখণ্ডিত ➠লেখক : রবিন জামান খান ➠প্রকাশকাল : ২০২১ ➠প্রকাশনী : নালন্দা ➠প্রচ্ছদশিল্পী : সজল চৌধুরী ➠পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৩৬৮ ➠মুদ্রিত মূল্য : ৫৫০ টাকা ➠জনরা : সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার 🔰কাহিনী সংক্ষেপঃ গল্পটা মুহিব ও লাবণি নামের দুই তরুণ-তরুণীর অসমাপ্ত প্রেম কাহিনীর আর তাদের করুণ পরিণতির।যার শুরুটা হয়েছিল অনেক বছর আগে। মুহিবদের দূর-সম্পর্কের আত্মীয় এবং প্রতিবেশীর মেয়ে লাবণির সাথে মুহিবের একেবারে ছোটবেলা থেকে প্রেম ছিল। তাদের দুই পরিবারের ভেতরে সেটা নিয়ে একটা সময় অনেক ঝামেলা হয়েছে, অনেক গন্ডগোল হয়েছে। কিন্তু মুহিব আর লাবণির দৃঢ়তার সামনে সবকিছুই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। তারপর একটা সময় এসে দুই পরিবারই তাদের সম্পর্ককে মেনে নেয় এবং পারিবারিকভাবে তাদের অ্যানঙ্গেজমেন্টও হয়। যখন ঘটনাটা ঘটে তখন মুহিব সদ্য অনার্স শেষ করেছে আর লাবণি পড়ছিল তৃতীয় বর্ষে এমন সময় এমন একটা ঘটনা ঘটে যে এই দুজন মানুষ তো বটেই দুই পরিবারও পুরোপুরি উলটে-পালটে যায়। মুহিব আর লাবণি একদিন গিয়েছিল গাজীপুরে বেড়াতে।সেখানে ভাওয়াল বনে বেড়াতে গেলে লাবণির সাথে মুহিবের ঝগড়া হয়,তার পরিপ্রেক্ষিতে সে লাবণিকে সেখানে একা রেখে এক বন্ধুর বাসায় চলে যায়।পরদিন মুহিব বাড়িতে এসে জানতে পারে লাবণি রাতে বাড়িতে ফিরেনি।ততক্ষনে সুই পরিবার থানা-পুলিশ,হাসপাতেলে খোঁজ করা শুরু করে দিলেও লাবণির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।ব্যাপারটা নিয়ে নিউজ চ্যানেল থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্যন্ত গরম হয়ে ওঠে। এক দিন এক সপ্তাহ এক মাস তারপর ছয় মাস যাওয়ার পর পুলিশ-সাংবাদিক তো বটেই এমনকি একটা পর্যায়ে তার পরিবার এমনকি বাবা-মাও হাল ছেড়ে দিয়ে ভেবে নেয় তাদের মেয়ে আর কোনোদিনই ফিরে আসবে না।কিন্তু দায়বদ্ধতা থেকেই হোক আর ভালোবাসা থেকে মুহিব তখনো খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছিল।লাবণির হারিয়ে যাওয়ার প্রায় এক বছর পরেও ওর সন্ধান চালানোর পাগলামিতে বিরক্ত হয়ে পরিবারের লোকজন বকাঝকা করলে মুহিব রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।তার ঠিক তিন দিন পর তাকে গাজীপুরের ভাওয়াল বনের যেখানে লাবণি হারিয়ে গিয়েছিল সেই জায়গার কাছেই হাইওয়ে থেকে উদ্ধার করা হয় সম্পূর্ণ নগ্ন এবং অজ্ঞান অবস্থায়। জ্ঞান ফেরার পর সে কিছুই পরিষ্কার বলতে পারেনি, সেইসাথে অসংলগ্ন আচরণ করতে শুরু করে।ডাক্তার তাকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ঘোষণা করে এবং এরপর থেকে সে মানসিক হাসপাতালেই আছে। তার আসলে কী হয়েছিল তা কখনোই জানা যায়নি এবং লাবণির আসলে কি হয়েছিল তাও আর জানা যায়নি,মেয়েটা যেনো স্রেফ উধাও হয়ে গেল!!! গত ২ বছর যাবত আনসলভড থাকা কেসটা আবার রিওপেন করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি ডিপার্টমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর, জাকারিয়া আহমেদ,সংক্ষেপে প্রফেসর জ্যাক।শব্দজাল বইটা যারা পড়েছেন এই রহস্যময় চরিত্রটার সাথে তারা সকলেই পরিচিত।শব্দজালে আন্তর্জাতিক অপরাধী আলবার্ট ফাত্তাহের কেসের পর প্রফেসর মূলত কাজ করতে চাচ্ছে পুরোনো সুরাহা না হওয়া এসব কেস নিয়ে।যাকে বলে ইনভেস্টিগেটিভ সাইকোলজি। প্রফেসর জানতে চাচ্ছিলেন,কি হয়েছিল আসলে লাবণির,আর কিই বা হয়েছিল মুহিবের সাথে যার ফলে তার মানসিক অবস্থার এতোটা বিপর্যয় হয়েছে।তার কাছে এটা শুধুমাত্র নিজের বাগদত্তাকে হারিয়ে উন্মাদ হয়ে যাওয়া একটা ছেলের কোনো সাধারণ কেস লাগছিল না। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি ডিপার্টমেন্ট থেকে গ্র‍্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা ঋতুকে নিয়োগ দিলেন প্রফেসর তার সহকারী হিসেবে। শুরুটা ছিলো খুবই সাধারণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি ডিপার্টমেন্ট থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা ঋতুর জন্যে খানিকটা উত্তেজনারও। হাজার হলেও প্রথম চাকরির ইন্টারভিউ। কিন্তু শুরুটা আর দশটা সাধারণ ইন্টারভিউয়ের মতো হলেও দ্রুতই সেটা রূপ নিলো ভিন্ন কিছুতে। প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে এরকম এক প্রেম কাহিনী ধরিয়ে দেয়াতে শুরুতে খানিকটা বিরক্তই লাগছিলো ঋতুর। কিন্তু সাধারণ কেসটা ঘটনার ঘনঘটায় এতোটাই দ্রুত এমন ভয়ঙ্কর এক রূপ নিলো যে তাল রাখতে রীতিমতো হিমশিম খেতে শুরু করলো সে। একদিকে তার নিয়োগকর্তা রহস্যময় প্রফেসর, অন্যদিকে ততোধিক রহস্যময় এক কেস, বাধ্য হয়ে সে সাহায্য চাইলো সাংবাদিক বন্ধু মৃদুলের কাছে। ঋতু আর মৃদুল জড়িয়ে যেতে শুরু করলো এমন এক বিভৎস রহস্যের জালে যেটা সমাধানের জন্য তাদেরকে ডুব দিতে হবে অর্ধ উন্মাদ একজন মানুষের হারানো স্মৃতির অতলে, যেখানে লুকানো আছে শতবর্ষের পুরনো এক হিংস্র রহস্যের চাবিকাঠি। বিখণ্ডিত পাঠককে নিয়ে যাবে মানব মনের অতলে,যেখানে বিরাজমান শুধুই হিংস্রতা আর অন্ধকার।পাঠককে স্বাগত প্রফেসর জ্যাকের কালো চশমার জগতে!!! 🔰পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ বইটা কিছুদিন আগে পড়া শেষ হলেও ব্যস্ততার কারণে রিভিউ দিতে পারিনি।বইটা আসলে এককথায় অসাধারণ।“বিখণ্ডিত” সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার প্রফেসর জ্যাক সিরিজের ২য় বই।সিরিজের ১ম বই শব্দজালে প্রফেসর জাকারিয়া পুরো কেসটাই ইন্টারোগেশন এর মাধ্যমে সলভ করেন,সিরিজের ১ম বই হিসেবে ক্যারেক্টার বিল্ড আপের কারণে অনেকের কাছে স্লো লাগলেও আমার কাছে তেমন লাগেনি।সেক্ষেত্রে বিখণ্ডিত বলতে গেলে য়ামার কাছে একদম রোলারকোস্টার রাইড।বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠা থেকে একদম শেষ পর্যন্ত আগ্রহ জাগানিয়া বর্ণনা ছিল।লেখক যেমনটা বইয়ের ভূমিকায় বলেছেন,এটার গল্প ইনভেস্টিগেটিভ সাকোলজিক্যাল থ্রিলার হিসেবে সাজাবেন,যার কিছু নির্দিষ্ট প্যাটার্ন থাকে।এগুলো গতানুগতিক থ্রিলারের মতো দ্রুত গতির হয় না।স্লো বিল্ড আপ,গল্পের পরতে পরতে সাজানো যথাযথ টার্ন সেই সাথে টুইস্ট!!!লেখক স্লো বিল্ড আপ বললেও বইটার কাহিনী খুব দ্রুত এগিইয়ে গিয়েছে বলে আমি মনে করি।সাধারণ একটা কেস থেকে কোথাকার জল গড়িয়ে কোথায় চলে যাচ্ছে সেটা বোঝার আগেই আবার ভিন্ন কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়।মানুষের মনের অতল গভীরে যে পশুত্ব,হিংস্রতা আছে তা উপলব্ধি করার পাশাপাশি পরিস্থিতির শিকারে একজন সাদাসিধে মানুষ কিভাবে যে পশুর থেকেও ঘৃণ্যতম আচরণ করতে পারে তা সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে গল্পে।বইয়ের এন্ডিংটাও ছিল বেশ তৃপ্তিদায়ক।সিরিজের পরবর্তী বইগুলোতে যে আমরা প্রফেসরের সাথে তার একটা শক্তিশালী টিমেরও দেখা পাব,যার ফলে গল্পগুলো যে আরো দূর্দান্ত হবে সেটা আর বলার অপেক্ষা রেখে না। 🔰চরিত্রায়নঃ বইয়ের প্রধান চরিত্র প্রফেসর জাকারিয়া আহমেদকে শব্দজালের তুলনায় এই বইয়ে আরো শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা হয়েছে।শব্দজালের মতো এই বইয়েও চরিত্রটা ঠিক পরিষ্কার না,তবে এটা বোঝা যায় প্রফেসর জাকারিয়ার অতীতে কোনো বিশেষ ঘটনা ঘটে গিয়েছে যার বোঝা তিনি আজও বয়ে বেড়ান।আশা করি এই চরিত্রের ব্যাকস্টোরি নিয়ে যে প্রিকুয়েলটা আসবে সেখানে বিষয়গুলো পরিষ্কার হবে। বইয়ের প্রথম দিকে সদরুল নামের একটা চরিত্র যে কিনা ঋতুর বয়ফ্রেন্ড,সম্পূর্ণ বইয়ে তার উপস্থিতি আর একটি বারের জন্য নেই,এই জিনিসটা অনেকটা অস্বাভাবিক লাগল।যদি ব্যস্ততার কারণে দেখা নাই হয় অন্তত ফোনালাপ হতে পারত।আর যেহেতু প্রফেসরের কাছে ইন্টারভিউর জন্য গিয়েছিল,সেই ইন্টারভিউ কেমন হলো সেটা জানার জন্য হলেও একটা কথোপকথন থাকতে পারত।যদিও আশা করা যায় পরবর্তী বইয়ে এই চরিত্রে দেখা মিলবে তবে এই বইয়ে একবারের পর সদরুলের অনুপস্থিতিটা ঠিক যায় না বর্তমান জীবনব্যবস্থার সাথে! আরেকটি চরিত্র যাকে নিয়ে কথা না বললেই নয় সে হলো মিস্টার মোস্তু,যে কিনা বিশ্বের প্রথম এবং অন্যতম ভার্চুয়াল ডিটেকটিভ।পাশাপাশি এই চরিত্রের বিলাসী জীবন এবং জাপানপ্রীতি চরিত্রটিকে আকর্ষনীয় করে তুলেছে।আকর্ষনীয় হওয়ার পাশাপাশি এই চরিত্রটাকে অনেকটা ঘোলাটে রাখা হয়েছে,একটা রহস্যময়তা আছে।প্রফেসরের সাথে কথোপকথন থেকে এটা পরিস্কার সিরিজের পরবর্তী বইগুলোতেও মোস্তুর উপস্থিতি তো পাওয়া যাবেই বরং আরো জোড়ালো ভূমিকা পালন করবে।লেখকের সাথে কথা বলে জানলাম সিরিজের পাশাপাশি মোস্তুকে নিয়ে লেখকের আর বর পরিকল্পনা আছে!!! পাশাপাশি গল্পের প্রতিটা চরিত্রকে অত্যন্ত নিখুঁত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।পাঠক যেনো প্রতিটা চরিত্রকে,তাদের অবস্থানকে ভালোভাবে ফিল করতে পারে তাই তাদের ব্যক্তিত্ব,বাচনভঙ্গি থেকে শুরু করে প্রায় সকল খুঁটিনাটি বিষয় খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। 🔰লেখক সমন্ধে কিছু কথাঃ লেখক রবিন জামান খান ভাইয়ার লেখার সাথে আমার পরিচয় ঘটে লেখকের সময়ের উপখ্যান সিরিজের ৩য় বই ❝মগরাজ❞ এর মাধ্যমে।তখন থেকেই তার লেখার ভক্ত হয়ে গেছি।রবিন ভাইয়াকে সবাই চিনে মূলত ❝হিস্টোরিকাল থ্রিলার❞ লেখক হিসেবে।রবিন জামান খান মানেই এক বইয়ে একই সাথে দুই টাইমলাইন একই সাথে চলতে থাকে পরে একপর্যায়ে এসে মিলিত হয়।সেখান থেকে বেড়িয়ে অনেকটা এক্সপেরিমেন্টাল হিসেবে তিনি লেখেন ❝প্রফেসর জ্যাক সিরিজ❞ ১ম বই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ❝শব্দজাল❞।দুই বাংলায় শব্দজালের জনপ্রিয়তার পর লিখে ফেলেন এই সিরিজের ২য় বই ❝বিখণ্ডিত❞।ইতিহাসের পাশাপাশি মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে আগ্রহ থেকেই মূলত তিনি শব্দজাল লেখেন।এক্ষেত্রেও লেখক সফল হয়েছেন।বাংলাদেশে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার তেমন পরিচিত কোনো জনরা না,সেই হিসেবে এই জনরায় লেখকের এই জনপ্রিয়তা অবশ্যই প্রশংসনীয়।একে একে এই সিরিজের আরো ৫টি বই এবং একটি প্রিকুয়েল আসবে।তাই লেখকের জন্য ভালোবাসার পাশপাশি অনেক শুভকামনা।আশাকরি খুব শীঘ্রই সিরিজের পরবর্তী বই আসবে। 🔰প্রচ্ছদঃ বইয়ের এই অসাধারণ প্রচ্ছদটি করেছেন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় প্রচ্ছদশিল্পী আমাদের সবার প্রিয় সজল চৌধুরী ভাই।অবশ্য বইয়ের কাহিনীর সাথে প্রচ্ছদটা প্রথমে মেলাতে পারিনি,পরে সজল ভাই ব্যাপারটা ক্লিয়ার করল।প্রচ্ছদে জঙ্গলের সামনে একটি মেয়ের হাতে ভাঙা কাচের টুকরা আর তারমধ্যে একজন ছেলের খণ্ডিত অবয়ব।এখানে মূলত লাবণিকে হারিয়ে মুহিবের উন্মাদ হয়ে যাওয়াটাকে বোঝানো হয়েছে।পাশাপাশি প্রফেসরের কফি কালারের ঘোলাটে চশমা ও দুইটি গাড়ির ছবি রয়েছে বইয়ে। তবে আমি মনে করি বইয়ের ব্যাককভারে KKK এর মডিফাইড সিম্বল না দিয়ে মুহিবের অঙ্কন করা চিত্রটা দিলে বেশি ভালো হতো।কারণ ব্যাককভারের সিম্বলটা বইয়ের বর্ণনায় বোঝা গেলেও মুহিবের অঙ্কন করা চিত্রটা বুঝতে আমার মনে হয় অনেকেরই সমস্যা হবে।এটা বাদ দিলে সব মিলিয়ে দারুণ একটা প্রচ্ছদ করার জন্য সজল ভাইয়ে অনেক অনেক ভালোবাসা ও ধন্যবাদ! 🔰বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি,বাইন্ডিং এবং অন্যান্যঃ শুরুতেই আসি বইয়ের প্রোডাকশন নিয়ে,আসলে এই নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই,নালন্দা প্রকাশনী বরাবরের মতোই প্রোডাকশন দিয়েছে।৩৬৮ পৃষ্টার একটা বই বলতে গেলে আরামে খুলে পড়া যায়,যাকে বলে একদম স্মুথ বাইন্ডিং।বইয়ে ব্যবহৃত ক্রিম কালারের কাগজও যথেষ্ট উন্নতমানের।এই নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। তবে বইয়ের দামটা যথেষ্ট বেশি লাগছে,অবশ্য শুধু এই বই না নালন্দার সববইয়েরই এই এক অবস্থা।তাই দামটা আরেকটু কম হলে সকলস্তরের পাঠকদের জন্য সুবিধা হতো,যেহেতু এসব বইয়ের পাঠকদের মধ্যে বেশিরভাগই স্টুডেন্ট,তাই আমি মনে করি এই বিষয়টা নিয়ে আরেকটু ভাবা উচিৎ ।পাশাপাশি নালন্দার বইয়ের যে দাম সেই অনুযায়ী তারা তাদের বইয়ের জেল কভারটাকে আরো উন্নত করতে পারত,এই জিনিসটা ভালো লাগলো না।মানে ব্যাপারটা অনেকটা ❝উপরে ফিটফাট,ভিতরে সদরঘাট❞ ঠেকেছে।উপরের ডাস্ট কভারটা খুললে বইটা আর দেখার মতো থাকে না!!! 🔰বানান ও সম্পাদনাঃ বইটার সম্পাদনা বেশ ভালো হলেও বইটায় অনেকগুলো বানান ভূল রয়েছে এবং বার বার সেগুলোর পুনরাবৃত্তি হয়েছে।যেমনঃ পুলিশ ব্যুরো অব স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন সংক্ষেপে পিবিএসআই-কে দুই-একবার বাদে বেশিরভাগ সময় পিবিআইএস বলে উল্লেখ করা হয়েছে।আবার ক্লু ক্লাক্স ক্ল্যান-কে বেশিরভাগ জায়গায় কু ক্লাক্স ক্ল্যান বলে উল্লেখ করা আছে।তারপর সন্দীপ রুপলাল তার ভাইকে পরিচয় করিয়ে দেয় সুদীপ নামে৷ অথচ পরবর্তীতে গিয়ে দেখি সেটা প্রদীপ হয়ে গেছে। এছাড়াও আরো বেশ কিছু ভুল বানান চোখে পড়েছে।এগুলো আসলে বিরক্তির উদ্রেক ঘটায়!!! 🔰পছন্দের কিছু অংশঃ ✪ আমি বিশ্বাস করি মানুষের স্মৃতি হচ্ছে তার সব। আজকে আমি যে-মানুষটা আপনার সামনে বসে আছি একেবারে ছোটবেলা থেকে আমার সমস্ত স্মৃতির সমন্বয়ই আসলে আজকের আমি। সেটা আমার ব্যক্তিত্ব হোক আমার মেধা কিংবা নলেজ হোক আজকের আমাকে ডিফাইন করছে আমার স্মৃতি। পুরো বিশ্ব ব্যবস্থা সমাজ সংস্কৃতি সবই গড়ে উঠছে মূলত এর ওপরে ভর করেই। একজন ব্যক্তি বিশেষের ক্ষুদ্রতম সমস্যা হোক কিংবা বিশ্ব মাতানো কোনো বড় সমস্যা হোক সবকিছুর মূলেই থাকে মানুষের মেমোরি। ✪ বাঙালির কমন সমস্যা, বিদেশের মাটিতে একবার পা পড়লে দেশকে আর দেশ মনে হয় না। মনে হয় ডাস্টবিন। কিন্তু দেশটা যে মা, আর বিদেশ হলো শাশুড়ি, এদেরকে সেটা কে বোঝাবে।দানব আসলে ওত পেতে আছে আমাদের ভেতরে। ✪ আমাদের প্রত্যেকের ভেতরে বসবাস করে এক একটা করে ভয়ংকর আর কুৎসিত দানব। আমাদের সবার ভেতরেই আছে সেই দানব। দরকার শুধু সঠিক সময়, সঠিক পরিচর্যা। 🔰ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০ 🔰পরিশিষ্টঃ এখানে একটা বিষয় বলতে চাই,কোনো বইয়ের রিভিউ লেখার ক্ষেত্রে ফ্ল্যাপ দেওয়ার পাশাপাশি বইয়ের কাহিনী সংক্ষেপ দেই আমি।সেই “কাহিনী সংক্ষেপ”-এ চেষ্টা করি স্পয়লার ছাড়া বইয়ের টোটাল প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে।কিন্তু এই বইয়ের রিভিউ লেখার সময় খেয়াল করলাম আমি আমি যদি সম্পূর্ণ বইয়ের কাহিনিটাকে স্প্যলার ছাড়া সংক্ষেপে লিখতে যাই সেক্ষেত্রেও কোনো না কোনো ক্লু দিয়ে ফেলছি।তাই ঠিক করলাম যেখান থেকে এত কিছুর সূত্রপাত সেটাকেই বর্ণনা করব।কিন্তু সেক্ষেত্রেও দেখলাম এই ঘটনাটা প্রফেসরের কথায় ঋতু প্রথমেই বিস্তারিত ভাবে বিশ্লেষণ করেছে।তাই ঘটনাটা একত্রে এক জায়গায় থাকায় আমার নিজস্বভাবে বর্ণনা করার আর জায়গা পেলাম না।তাই “কাহিনী সংক্ষেপ" এর প্রায় ৭০% ঋতুর ব্যাখ্যা করা ঘটনাকে আরেকটু মডিফাই করে লেখা। অবশেষে বলতে চাই দারুণ একটা বই পড়লাম।২০২১ সালে আমার পড়া টপ ৫ বইয়ের একটা বিখণ্ডিত।যারা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার পড়তে চান বা নতুন কিছু উপভোগ করতে চাচ্ছেন বা দ্রুতগতির সম্পন্ন কিছু চাচ্ছেন তারা বইটি নির্দিধায় পড়তে পারেন।নিশ্চয়তা দিতে পারি বইটা পড়লে খারাপ লাগবে না!!!"

রায়হান রিফাত

রায়হান রিফাত , Feb 7, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"এক শব্দে বলি? তুখোড়!! রেটিং: 9.5/10 (শেষে প্রফেসর জ্যাক কে একটু বিশেষ ভাবে নায়ক বানানোর চেষ্টা আর অপ্রয়োজনীয় ভাবে গল্প বড় করা শেষের দিকে এইটুকুর জন্য .5 কম দিতে হইছে :( )"

Medul

Medul , Dec 7, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"বুক রিভিউ : --{প্রফেসর জ্যাক সিরিজ -২}-- বইয়ের নাম : বিখন্ডিত লেখক : রবিন জামান খান। জনরা : সাইকোলজিক্যাল থৃলার, প্রকাশনা : নালন্দা প্রকাশনী প্রচ্ছদ : সজল চৌধুরী। প্রকাশ কাল : অক্টোবর ২০২১ মূল্য : ৫৫০ টাকা পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৩৬৬ পেজ। কাহিনী সংক্ষেপ :: আজ হয়ত কাহিনী সংক্ষেপ বেশি আলোচনা করবো না। তবুও হালকা করে একটু বলি। শুরু টা একদম সাদামাটা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে ঋতু ইন্টারভিউ দিতে যায় প্রফেসর জাকারিয়া এর কাছে৷ প্রথম দিনই তাকে এসাইনমেন্ট দেয়া হয় একটি পুরানো কেস রি-ওপেন করতে চায় প্রফেসর। কেসটি হলো গাজীপুর থেকে কয়েক বছর আগে নিজের বাগদত্তা কে হারিয়ে উম্মাদ হয়ে যায় মুহিব। এবং পাগোল মুহিব কে একটি হাসপাতালে এ রাখা হয়। কেস খুড়তে গিয়ে বের হয়ে আসে আরো অনেক গুলো খুন আর গুম৷ সেই সাথে গাজীপুরের ভাওয়াল জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়া আরো কয়েকটি তরুনী৷ কি হচ্ছে গাজীপুরে? তার কেসের সাথে কাকতালীয় ভাবে জড়িয়ে পরে মৃদুল নামের ঋতুর এক বন্ধু। শুরু হয় কেস তারপর বের হয়ে আসতে থাকে বীভৎস রহস্য। প্রফেসরকে মুহিব এর খন্ড বিখন্ড স্মৃতি থেকে বের করে আনতে হবে সেই লুকানো শতবর্ষের পুরানো হিংস্র রহস্য । পাঠ প্রতিক্রিয়া :: শুরুতেই যেমন বলেছি কাহিনি সংক্ষেপ আলোচনা করবো কারন কাহিনি স্বাভাবিক ভাবে শুরু হয়ে জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠেছে, তাই হয়ত গুছিয়ে লিখতে পারব না৷ বিখন্ডিত - রুবিন জামান খান এর রচিত প্রফেসর জাকারিয়া সিরিজের দ্বিতীয় সাইকোলজিক্যাল থৃলার। এর আগের বই ছিলো শব্দজাল৷ সে যাই হোক এবারের বই শুরু হয়েছে নতুন ভাবে শব্দজালের চে ভিন্ন আঙ্গিকে, বিখন্ডিত। এখানে নতুন চরিত্র ঋতু মৃদুল ( আমি না, আমি মিদুল, চরিত্রের নামের সাথে নিজের নামের হালকা মিল দেখে বেশ ভালোই লেগেছে পড়ার সময় নিজেই কল্পনা করেছি, হাহাহাহা ) কে নিয়ে প্রফেসর এগিয়েছেন৷ তার কেসটা দারুন ছিলো৷ প্রফেসর এর বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা না করলেই নয়৷ ঋতুর হাত দিয়ে প্রফেসর এগিয়েছেন। এছারা এই বই এর চুম্বকীয় অংশ ছিলো জমিদার বাড়ির ইতিহাস। সাইকোলজিক্যাল থৃলার এর মাঝে দারুন ভাবে জমিদার বাড়ির গল্প এনেছেন লেখক। বরাবরের মতোই ইতিহাস টেনেছে আমাকে। সেই সাথে কাল্ট ডার্ক ওয়েব আর বীভৎস সেই খেলার বিষয় গুলো, সব গুলোকে একত্রে দারুণ ভাবে মিশিয়ে এনেছেন বইতে, সেটা সত্যি জোস ছিলো৷ লেখার স্টাইল ছিলো বেশ সফট৷ তাছারা গল্পটাও বেশ টেনেছে৷। বইটা পড়ার সময় আমার মনে হয়েছে লেখকের ঐ সিরিজ মানে সময় সিরিজের তুলনায় প্রফেসর জ্যাক সিরিজ বেশি জনপ্রিয়তা পাবে। আর এই জনপ্রিয়তার মূলে থাকবে লেখা আর প্রফেসর নিজে । বই যতই হাইপ উঠুক কিনবা হাইপ না উঠুক যদি লেখা ভালো না হয় তাহলে বই বেশি দিন টিকবেনা। আর লেখক রবিন জামান খানের বই তে সেটাই সবার আগে পাবেন আপনি। আমি দীর্ঘদিন রিডার্স ব্লককে আছি, সেই সাথে তেমন কোন বই পড়ছিনা, একাডেমিক কাজে অন্য সব কাজে বিজি থেকেও কিভাবে কিভাবেই জানি বইটা শেষ হয়ে গেলো। এবং শেষের প্রতিক্রিয়া অসাধারণ। মন্দ লাগার বিষয়টা হলো শেষ দিকে একটু সাদামাটা হয়েছে৷ গল্পে একজনকে মিস করেছি যদিও সে আমাদের সাথে পরোক্ষভাবে ছিলো৷ গঠনগত দিক থেকে নালন্দার বই বেশ ভালোই। পেজ এর মান ভালো ছাপা ভালো, বাধাঁইও ভালো। প্রথমে হার্ডকভারটা বেশ শক্ত, আর উপরের জ্যাকেটও বেশ ভালো। তাই গঠনগত দিকে অভিযোগ নেই। তবে বানান ভুল, এটা থেকে দেশীয় প্রকাশনী গুলো কখনো বের হয়ে আসতে পারবেনা। বেশ কিছু বানান ভুল আমার চোখে পরেছে, তারপর বিরামচিহ্ন এর ব্যবহার এর ভুল, কমা ইনভাইটেট কমা ব্যবহার এ ভুল অহরহ। আমি শুধু গল্প উপন্যাস নয় চাকুরীর গাইড একাডেমিক গাইড বই পুস্তককে অহরহ পাই বানান ভুল প্রিন্ট জনিত কারনে ভুল৷ আমাদের দেশীয় প্রকাশনীগুলো এই বিষয়ে একেবারে উদাস। আরো অনেক কথাই মনে আসে প্রকাশনীর সম্পর্কে সেসব আমাদের বন্ধুদের আড্ডাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। প্রচ্ছদ বেশ ম্যাচুয়েড মানানসই। প্রচ্ছদে কাহিনির একাংশ ফুটে উঠেছে দেখে বেশ ভালো লাগলো। আসলে সজল চৌধুরীর কাজ বলে কথা। যাই হোক শব্দজালের পর বিখন্ডিত বেশ ভালো লেগেছে আশাকরি নেক্সট বই ধূম্রজাল আরো সুন্দর হবে। প্রফেসর এর আরো নতুন কিছু জিনিস দেখতে পাবো ধূম্রজালে সেই অপেক্ষায়। এবং প্রফেসর জ্যাক সিরিজের জন্য শুভকামনা। পারসোনাল রেটিং : ৪/৫ গুডরিডস রেটিং :৪.২১/৫। মিদুল ইসলামবাগ, চকবাজার, পুরান ঢাকা। বেলা ৩:০৫। ০৩ -১২-২০২১ শুক্রবার।"

Md kamrul Hasan

Md kamrul Hasan , Oct 23, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"📚 বই নিয়ে আলোচনা (পাপ ছাড়ে না বাপকে) দেশের প্রথম সারির স্বনামধন্য এক পত্রিকা অফিসে মৃদুল সহ সবাই বসে আছে স্তম্বিত হয়ে। কারণ সম্পাদকের হাতে মৃদুলের দেয়া অনুসন্ধান রিপোর্ট পড়ার পর সবার এই বর্তমান অবস্থা। যেই ছেলে গত সপ্তাহে এই পত্রিকা অফিসে ইন্টারভিউ দিয়ে ব্যার্থ হয় সেই ছেলে কিভাবে এমন রিপোর্ট তৈরি করতে পারে! যে কাজ করতে একজন সাংবাদিকের সারা সাংবাদিক জীবন চলে যায় সেই কাজ এই ছেলে কিভাবে একসপ্তাহয় করে ফেলে!  মৃদুলের প্রস্তাবে সম্পাদক রাজি। তিনি জানেন এই খবর প্রকাশ হলে তার নিজের সাথে সাথে তার অফিস এবং গোট দেশ টলে উঠতে পারে, তবু তিনি এই সত্য প্রকাশ করবেন। কিন্তু শর্ত হচ্ছে এই ঘটনার সম্পূর্ণ কাহিনি তাকে জানতে হবে।  তাই আমরা মৃদুলের মাধ্যমে থেকেই এই ‘বিখন্ডিত’ গল্পটা জানতে পারি।  মৃদুলের বান্ধবী ঋতু সবে মাত্র সাইকোলজি বিভাগ থেকে পাশ করে বেরিয়েছে। এরই মধ্যে তার কাছে একটি চারকির অফার আসে। চারকির অফার করেন প্রফেসর জাকারিয়া।  চাকররির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে ঋতু প্রথম দিনেই প্রফেসসের সাথে ইনভেস্টিগেটে নেমে পড়ে। এখনো কিন্তু ঋতুর চাকরি পাঁকা হয়নি! বর্তমান কাজের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে তার চাকরি। ঋতুর কাজ হচ্ছে মানুষিক ভাবে অসুস্থ এক ছেলের উপর ইনভেস্টিগেট করা। ঋতু জানতে পারে যে ছেলেটি লাবনী নামে এক মেয়ের সাথে প্রেম করতো, এবং একপর্যায়ে তাদের বিয়ে হবারও কথা ছিলো। একদিন তারা ঘুরতে বের হয়ে কোনো এক কারণে তাদের মধ্যে রাগারাগি হয়, এবং ছেলেটি মেয়েটিকে ঐ জায়গায় একা রেখে চলে আসে। আর লাবণী তারপর থেকেই গায়েব হয়ে যায়। লাবনীকে আর কখনো কেউ দেখেনি, এবং সেই থেকে মুহিব নামের ছেলেটিও উন্মাদ হয়ে যায়।  প্রফেসর, ঋতু এবং সাংবাদিক মৃদুলের কাজ হচ্ছে এই মুহিব নামের ছেলেটির মাথার ভিতরে থাকা ‘বিখন্ডিত’ হয়ে যাওয়া স্মৃতি উদ্ধার করা। তারা জানতে চায় আসলে তার সাথে কি এমন হয়েছিল যে এমন সুস্থ স্বাভাবিক একটি ছেলে এমন উন্মাদ হয়ে যাবে? আর লাবনীরই বা কি হলো যার খোঁজ গোটা প্রশানও বের করতে পারলো না! প্রফেসরের গোলাটে ঐ চশমার আড়ালে ঋতু সবসময় দৃঢ় এক মানুষকে উপলব্ধি করতো। যে কিনা বাহ্যিক ভাবে বৃদ্ধ হলেও এখনও পরিনত এক যুবককেও হারমানাতে পারেন সবদিক থেকেই। যে কিনা কোনো পরিস্থিতিতেই ভেঙে পড়েন না। চরমতম মুহূর্তেও তার চেরার এতুটুন পরিবর্তন হয় না। প্রফেসরের অসাধারণ সব ক্ষমতা আবিষ্কার করে ঋতু তার এই প্রথম কেসে। প্রফেসর আসলে ঠিকই বলেছেন, বাহির থেকে সাদামাটা কেস মনে হলেও আসলে ঠিক তার উল্টো।  রহস্য উদঘাটন করতে করতে একটা পর্যায় তারা তিনজন এমন এক ইতিহাসের সামনে গিয়ে পড়ে যা আসলে পাঠককে অন্য এক অনুভূতি দিবে।  আমি বইটা যত পড়েছি শেষের দিকে এসে তত মুখ কুঁচকেছি। আর অবাক হয়েছি। মানুষ আসলেই হিংস্র পশুর থেকেও বেশি হিংস্র। সবশেষে তারা এমন এক কাহিনি, ঘটনা, গল্প আবিষ্কার করেন যা কিনা গোটা দেশকে টলিয়ে দিতে পারে। আর সেই কেস ফাইল বা এটম বোমা ধরা আছে সম্পাদকের হাতে। **** লেখক রবিন জামান খানের প্রফেসর জ্যাক সিরিজের দ্বিতীয় বই এই ‘বিখন্ডিত’। প্রথম বই হচ্ছে ‘শব্দজাল’।  যেকেউ এই বইটা পড়তে পারবেন। কিন্তু কিছুদূর গিয়েই বারবার আপনি কৌতুহলী হয়ে উঠবেন প্রফেসর সম্পর্কে। কারণ এই বইতে ঋতু সবসময় প্রফেসরের এ চোখের গোলা চশমার মাঝে হাবুডুবু খেয়েছেন। তাই আপনিও খাবেন। এটা ছাড়াও প্রফেসরের আরো বেশ কিছু কাজ আপনাকে কৌতুহলী করবে তাকে জানার জন্য। আর তাই শব্দজাল বইটা আপনার জন্য আবশ্যক। ঐ বইতে প্রফেসরকে তার পাঠকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন লেখক। এবং তার ক্ষমতা সম্পর্কেও। গোটা বইতে প্রফেসর ঋতু আর তার বন্ধু মৃদুলকে দিয়ে কাজ করিয়েছেন। তাদের দিয়ে সব করালেও ‘সবকিছু’ করাননি। আর ঐ সবকিছুইতেই ছিলো প্রফেসরের খেল।  শব্দজালের মত প্রফেসরে কথার মায়া জাদু এই বইতে তেমন একটা পাইনি, তবে সেটা তিনি তার কাজ দিয়ে পুষিয়ে দিয়েছেন।  গল্পটা আরো ছোট হতে পারতো, তবে আমার মনে হয়েছে যেমন আছে তেমনই ঠিক আছে। কারণ এতো বড় কাহিনি আপনি একটানা পড়তে গেলে হয়তো কিছুটা হিমশিম খাবেন। আমি তো গল্পের অহেতুক আলাপন অংশে চিন্তা করেছি গল্পের কাহিনি নিয়ে।  তাছাড়াও সকলের মকে কাহিনি ছাড়াও যে মাঝে মাঝে গল্পের চরিত্রদের আলাপ আলোচনা আছে সেটা আসলে সেই সব চরিত্রদের সামাজিক, মানুষিক, এবং চারিত্রিক ভাবে দৃঢ়ভাবে পাঠকের সামনে প্রতিষ্ঠত করেছে। এতে করে আমার কাছে প্রতিটি চরিত্রকে বাস্তব মনে হয়েছে।  লেখক অসাধারণ কাজ করেছেন এই বইতে৷ তিনি আমাদের চিরচেনা আবহাওয়া, পরিবেশ, দৃশ্য নিয়েই কাজ করেছেন, যার ফলে গল্প পড়ার সময় মনে হচ্ছিল আমি নিজেও যেনো সেখানে আছি, কারণ আমিও জায়গাগুলো চিনি। আরেকটা কাজ লেখকের অতি প্রসংশা যোগ্য, সেটা হচ্ছে বর্ণনা। এতোটা চমৎকার দৃশ্যের বর্ণনা তিনি করেছেন যে পড়তে পড়তে দৃশ্য গুলো আপনার চোখের সামনে চলে আসবে।  এছাড়াও একটি বিষয় আমার কাছে সিনেমাটিক লেগেছে, সেটা হচ্ছে মুহিবের স্মৃতি ফিরে আশার দৃশ্যটি। লেখক যদি ঐ দৃশ্যটার আগে মুহিবের চিকিৎসার আরো দৃশ্য বা কৌশল বর্ণনা করতেন তাহলে ভালো হতো। কারণ মানুষিকভাবে অসুস্থ মানুষ হঠাৎ করেই একদম স্বাভাবিক হতে পারে না। শারীরিক ভাবে এতোটা ফিট থাকতে পারে না। এটা ছাড়া সব ঠিক ছিলো।  আর প্রকাশনী ‘নালন্দা’ প্রকাশনীর প্রোডাকশন একদম অসাধারণ ছিলো। ধন্যবাদ। ©️ মোঃ কামরুল হাসান  📚 বই হোক আপনার, আপনি বইয়ের 📚"

প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)

বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর

বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

সম্পর্কিত অন্যান্য বই

সবগুলো দেখুন →
ময়ূরাক্ষী
একটু পড়ে দেখুন
ময়ূরাক্ষী হুমায়ূন আহমেদ
(277)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
তোমাকে
একটু পড়ে দেখুন
তোমাকে হুমায়ূন আহমেদ
(186)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
হিমু সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(314)
TK. 1,000 -20% OFF
TK. 800
মিসির আলি সমগ্র ২
একটু পড়ে দেখুন
মিসির আলি সমগ্র ২ হুমায়ূন আহমেদ
(143)
TK. 500 -20% OFF
TK. 400
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড হুমায়ূন আহমেদ
(116)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
একটু পড়ে দেখুন
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ হুমায়ূন আহমেদ
(69)
TK. 160 -14% OFF
TK. 138
তিনি ও সে
একটু পড়ে দেখুন
তিনি ও সে হুমায়ূন আহমেদ
(34)
TK. 135 -20% OFF
TK. 108
শুভ্র সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
শুভ্র সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(90)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480

বইটির রিভিউ লিখুন

আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।

বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন

আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।

"বিখণ্ডিত" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন

রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।

বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন

সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।

বইটি শেয়ার করুন

বন্ধুদের সাথে এই বইয়ের তথ্য শেয়ার করতে পারেন

বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন

পাতা:

পাতা 1
বিখণ্ডিত পাতা: 1 / 11
পাতা 2
বিখণ্ডিত পাতা: 2 / 11
পাতা 3
বিখণ্ডিত পাতা: 3 / 11
পাতা 4
বিখণ্ডিত পাতা: 4 / 11
পাতা 5
বিখণ্ডিত পাতা: 5 / 11
পাতা 6
বিখণ্ডিত পাতা: 6 / 11
পাতা 7
বিখণ্ডিত পাতা: 7 / 11
পাতা 8
বিখণ্ডিত পাতা: 8 / 11
পাতা 9
বিখণ্ডিত পাতা: 9 / 11
পাতা 10
বিখণ্ডিত পাতা: 10 / 11
পাতা 11
বিখণ্ডিত পাতা: 11 / 11
পাতা / 11
এই তথ্যটি জেনে রাখুন।

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।