১ম প্রকাশ, ২০২১
আমারে দেব না ভুলিতে
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
ময়ূরাক্ষী
হুমায়ূন আহমেদ
তোমাকে
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র
হুমায়ূন আহমেদ
মিসির আলি সমগ্র ২
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
হুমায়ূন আহমেদ
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
হুমায়ূন আহমেদ
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | আমারে দেব না ভুলিতে |
| Author | আশীফ এন্তাজ রবি |
| Publisher | আদর্শ |
| Edition | ১ম প্রকাশ, ২০২১ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 336 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | উপন্যাস ও সাহিত্য |
| Weight | 0.55 Kg |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
90 Ratings and 30 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
৩০টি
Ihteshamul Haq Chowdhury , Mar 17, 2026
"লেখক আশিফ এন্তাজ রবী খুব একটা পরিচিত কেউ নন। দুই একটা বইয়ের গ্রুপে এই বইয়ের পজিটিভ রিভিউ দেখেছিলাম। বিখ্যাত মানুষদের নিয়ে অনেকেই বই লিখেছেন যেমন রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সুবিশাল কলেবরে রচনা করেছিলেন “প্রথম আলো”। কিন্তু কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে এরকম কোন কাজ বাংলা ভাষায় হয়নি। আমরা সব সময় উনাকে খন্ডিত ভাবে জেনে এসেছি। ব্যক্তি নজরুল কেমন ছিলেন তার কোন ধারণাই বেশিরভাগের কাছে নেই। একই ব্যক্তি এক সময় শ্যামা সঙ্গীত লিখছেন আবার তিনিই বাংলা ভাষায় গজলের যে প্রাচুর্য রেখে গেছেন শত বছর পরেও এখনো কেউ তার ধারে কাছেও যেতে পারেননি। আমরা যাকে এতদিন খণ্ডিতভাবে জেনেছি, সেই নজরুল এখানে পূর্ণ রূপে ধরা দেন—বিরোধ, বিস্ময় আর মুগ্ধতা নিয়ে। গতিময়, ঝরঝরে ও প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা এক অসাধারণ কাজ। লেখকের জন্য শুভকামনা।"
Jannatul Ferdousi , Aug 13, 2025
"boi ta just oshadharon khub informative."
Ahsan Hriday Ahmed , Aug 10, 2025
"গল্পকারের মতো ছন্দ দিয়ে লিখেছেন লেখক। তবে কিছু কিছু বিষয়ে আক্ষেপ রয়েছে, যেমন মুসলিম-সংস্কৃতির ভাষার মাঝে উপমা স্বরূপ উল্লেখ 'পুরো আকাশ মা কালীর মতো কালো বর্ণ ধারণ করল', এমনই কিছু বাক্য এবং শব্দের ব্যবহার সাময়িক-গল্পের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যায় না। পরবর্তীতে ভিন্ন ক্ষেত্রের বিষয়গুলো খাপ খাওয়ানোর স্বার্থে মর্মার্থ করেই শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে। মনে হচ্ছিল অনেকটা মিথ আর সত্যিকারের মিশ্রণকে ঘোলাটে করা, ভূমিকা যাচাই করতে গিয়ে যথাযথ উত্তর পাই। বইয়ের শেষে গল্পের যাবতীয় তথ্য-সংগ্রহের অন্যান্য প্রমাণ স্বরূপ বইপত্রের নাম উল্লেখ করে দেওয়া আছে। চমৎকারভাবে গোছানো এবং অপ্রয়োজনীয় কথা একদমই নেই বলতে গেলে। নির্দিষ্ট বিষয়ে দৃষ্টান্ত থাকায় বিভিন্ন মাধ্যমগুলোর পরিস্থিতি ব্যাখ্যার ব্যাপারে তেমন প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। প্রতিটি চরিত্রের অবদান স্পষ্ট ও যথার্থভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একান্তই কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে না লিখে প্রতিটা চরিত্রের স্বভাব সুলভ ব্যক্তিত্ব এবং কে-কেমন তার তুলনামূলক প্রয়োজন-মতো বর্ণণাও করা হয়েছে, যাতে কাজী নজরুলের সাথে প্রত্যেকের ভাব বিনিময় সুস্পষ্ট বুঝা যায়। তবে নজরুলের পরিবেশ-পর্যায়ক্রমে বয়সের গুরুত্ব সহ অনুধাবন করা যায় নি, কারণ ধাপে-ধাপে পরিবর্তনীয় সময়-কালের সাথে বয়স উল্লেখ করা হয় নি, এখানে বেশ বিরক্ত হয়েছি অবশ্য। লেখার ধরণে গল্পকারের মতো ছন্দ থাকায় অনবরত পড়তে থাকার আকর্ষণ তীব্র হয়ে যায়, ভাষা সহজ ও স্বচ্ছন্দ। লেখার মাঝে মাঝে কিছু কবিতা ও গান উল্লেখ করা হয়েছে। ধারাবাহিকতা গোছানো এবং পর্যাপ্ত থাকার কারণে পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ হয়। এমনই ধরনের "একজন কমলালেবু" নামের বই পড়েছিলাম, ব্যক্তিগতভাবে খেদ ছিল অধিক পরিমাণে কবিতা উল্লেখ করা, গল্পকারের মতো ছন্দ ছিল না, যদিও বইটা তাৎপর্যপূর্ণও ছিল।"
Fahmida Zarrin , Feb 22, 2023
"এই বইটা ১০০ পাতার মত পড়ে রেখে দিয়েছিলাম দেড়/দুই বছর আগে। ঐটুকু পড়েই আশীফ এন্তাজ রবির লেখার মন্ত্র মুগ্ধ পাঠক হয়ে গিয়েছিলাম।আজ আরেকবার বইটা বের করলাম। আগের ১০০ পাতার কিছু কিছু ভুলে গেলেও অনেকটাই মনে ছিল।নজরুল যে কি ভয়ংকর ক্ষ্যাপাটে মানুষ ছিলেন তা শুধু স্কুলের বোর্ডের বইয়ের দুখু মিঞা কিম্বা ২/১ জনের টুকটাক লিখনিতে আন্দাজ করা সম্ভব না। প্রথম কিস্তিতে যেখানে শেষ করেছিলাম সেখানে তিনি বিয়ের দিন বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে এসেছিলেন অতি সামান্য এক কারণে।অথচ তিনি সবার অমতে একাই যেয়ে মেয়ের মামার বাসায় উঠেছিলেন বিয়ে করার জন্য।এতটাই সেই মেয়েকে তার মনে ধরেছিল! পড়তে পড়তে ১৮৩ পৃষ্ঠা পর্যন্ত এসেছি। এ পর্যন্ত একবারও দেখলাম না তার পকেটে ট্রাম/ রিক্সা ভাড়া আছে, না তার থাকার কোন জায়গা আছে( বিভিন্ন পত্রিকা অফিসে ঘুমান তিনি) ? খাওয়া দাওয়াও এর ওর সাথেই চলে।এরই মধ্যে বিদ্রোহী কবিতা লিখে তিনি ১ বছর জেল খাটলেন। তখন কেবল তার নাম ডাক ছড়াচ্ছে। তাকে রাজবন্দীর মর্যাদা দেয়া হয়নি বলে টানা ৪০ দিন না খাওয়া তিনি । জেলার কবির মা'কে জেল গেটে আনলেন। মায়ের কথায় যদি সে অনশন ভাঙ্গে! অথচ তিনি দেখাই করলেন না। তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন জেনে কবির এক পাতানো ধর্ম মা এলেন এবার। সবাইকে অবাক করে কবি তার কথায় অনশন ভাঙ্গলেন। নজরুল জেলে থাকা অবস্থায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে উদ্দেশ্যে করে বই উৎসর্গ করে বই লিখলেন।এবং লোক মারফত বইটা তিনি জেলখানায় নজরুলের হাতে পৌঁছালেন।রবীন্দ্রনাথ এটাও জানাতে ভুললেন না, নজরুল বাঙ্গালীর জন্য বসন্ত হয়েই এসেছেন। সম্ভবত বইটির নাম ছিল বসন্ত বিলাপ। জেলবাসের আগে ড: মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সাথে নজরুল ইসলাম শান্তিনিকেতনে যান রবীন্দ্রনাথের সাথে সাক্ষাৎ করতে।২ দিন থাকার কথা থাকলেও নজরুল পরের দিনই একা পালিয়ে চলে আসেন। এদিকে জেল থেকে কপর্দক শূন্য অবস্থায় বের হয়ে নিজের থাকা-খাওয়া-পড়া, চাকরীর কোন ব্যবস্থা না করে জেদ ধরে বসলেন বিয়ে করবেন হিন্দু ধর্মালম্বী আশালতা কে (পূর্ব পরিচিত)। যার জন্য তিনি হিন্দু মুসলিম সবার হাতেই ধোলাইয়ের শিকার (কুমিল্লায়) হয়ে ঢাকায় বন্ধুর কাছে এসে জানালেন তার আহ্লাদের কথা।১৯২১/১৯২২ সালে হিন্দু মুসলিম বিয়ে মানে বিশাল হাঙ্গা দাঙ্গা বাঁধার উপক্রম।বন্ধু ভাগ্য বিরাট ভাল বলে শুন্য পকেটে, দাঙ্গা বাঁধা লাগে লাগে অবস্থার মধ্যেও বিয়ে করে ফেললেন এবং বউয়ের নাম আশালতা পালটিয়ে রাখলেন প্রমীলা। আর সংসার পাতলেন কোথায়? এক পত্রিকা অফিস ২ মাসের জন্য নব দম্পতিকে অফিস খালি করে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন।এক পুরাতন তক্তপোশ, তার উপর বিছিয়ে দেয়া নতুন চাদরে শুরু হল তার সংসার। বইয়ের অর্ধেক পর্যন্ত আসতে আসতে দেখা পেলাম শরৎচন্দ্র, জসীম উদ্দিন, বিভূতিভূষণ এবং জীবনানন্দ দাশের। রবীন্দ্রনাথ, ড: মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কথা তো আগেই বলেছি। কলকাতার ১০০ বছরের ইতিহাসে কেউ ট্রামে চাপা পড়ে মারা যায়নি।জীবনান্দ দাশ কেন ট্রামে চাপা পড়ে ICU তে যমে মানুষে টানাটানি করে মারা গিয়েছিলেন আজ বুঝলাম। উপন্যাসে দেখলাম উনি কখনো ফুটপাত বা রাস্তা ধরে হাঁটতেন না। অনেক মানুষ, গায়ে ধাক্কাধাক্কি লাগে। ট্রামের লাইনের উপর দিয়ে কেউ হাঁটে না।তাই কবি সাহেব আরাম করে উদাস মনে ট্রামের লাইন ধরে হাঁটেন, লাইনের উপর দাঁড়িয়ে আনমনে পেপার পড়েন।ড্রাইভার হ্যারি দাস পালের হর্ণ উদাসী কবির কানে পৌঁছায় না।হ্যারি যখন মুদ্রণ অযোগ্য ভাষায় চিৎকার করে তবেই তিনি লাইন থেকে সরে দাঁড়ায়। এদিকে ৬৩ বছরের রবীন্দ্রনাথ আর্জেন্টিনায় ঘটনাক্রমে আটকা পড়েন।সেখানে ২৩ বছরের তরুণী ভিক্টোরিয়াকে দেখে একের পর এক প্রেমের কবিতা লিখে চলেছেন কবি। নিজের লেখা কবিতায় নিজেই লজ্জা পাচ্ছেন। এতটাই প্রেমে টইটুম্বুর কবিতা। প্রতি সন্ধ্যায় ভিক্টোরিয়ার হাত ধরে লেকের পাড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছেন কবি। ভিক্টোরিয়ার নাম বদলিয়ে তিনি তাকে বিজয়া বলে ডাকতে শুরু করলেন। ওদিকে গ্রামের পর গ্রাম পাঁয়ে হেঁটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বি.এ পাশ করা বিভূতিভূষণ। গরু নিয়ে কেউ কোন কবিতা, প্রবন্ধ লিখেছেন কিনা সেটা সংগ্রহ করার জন্য। ঘুরতে ঘুরতেই পরিচয় হল অল্প বয়সী পল্লীকবি জসিমউদ্দিনের সাথে, যখন তার প্রতিটা কবিতাই প্রায় প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে গেঁয়ো ভাষার জন্য। অপরদিকে শরৎচন্দ্র কেন যে প্রতি সন্ধ্যায় আফিম সেবন করেন সে কষ্টের কথা শুধু তিনি নিজেই জানেন। বইয়ের প্রতিটা চরিত্র যেন আমার চোখের সামনে হেঁটে বেড়াচ্ছে। বইটা হাতে নেয়ার আগে রিভোট্রিল খেয়েছিলাম। ভাবিনি বই পড়ার আগ্রহ পাব! ৩৩২ পৃষ্ঠার এই বই শেষ করে ঘুমাতে যাওয়া সম্ভব না। জোর করে চোখের পাতা যদি খুলে রাখা যেত! সকালে যদি অফিস না থাকত! অর্ধেক বই পড়েই লিখতে বসলাম।বইটা এতটাই মুগ্ধ করেছে আমাকে। আশীফ এন্তাজ রবির সাথে দেখা হলে বলব_____ এমন বই আমাদের সাহিত্যের সম্পদ হয়ে থাকবে। সংখ্যায় কম হলেও, কষ্ট হলেও এমন আরো কিছু বই আপনি লিখেন।এত সাবলীল ভাষায় অতীতকে এমন জীবন্ত করে ফুটিয়ে তুলতে পারে কজন?"
Tushar Dewanjee , Sep 20, 2022
"EXCELENT WRITING !"
Shakir Uz Zaman , Jul 14, 2022
"Amazing books. thank you"
Md. Munjur Alahi Sourav , Jul 11, 2022
"কারো জীবনীভিত্তিক উপন্যাসে বরাবরই আমার আগ্রহ। বইটিতে লেখক কবির জীবনকে অসাধারণভাবে উপস্থাপন করেছেন। তার গল্প বলার ঢং সত্যিই মনোমুগ্ধকর। তবে, নজরুলকে নিয়ে আগেও কিছু পড়াশোনা ছিলো, সেই জায়গা থেকে বলতে পারি, বেশ কিছু জায়গায় কাহিনীর অত্যুক্তি রয়েছে, প্রকৃত ঘটনাকে বাড়িয়ে বলা হয়েছে। তবে লেখক তা ভূমিকাতেই বলে নিয়েছেন যে যে তার লেখায় ইতিহাসের সাথে কল্পনার মিশ্রণ থাকবে। তবে নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে এটি পড়া যেতেই পারে। নিঃসন্দেহে একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস!"
Emran Hossain , Jun 18, 2022
""সুন্দর একটি বই" একথা এই বইয়ের জন্য খাটে না। এটা বলতে হবে অসম্ভব সুন্দর একটি বই। লেখককে অনেক ধন্যবাদ এই লেখনীর জন্য! ❤️"
Nafim Nowroz , Feb 18, 2022
"it was good"
Md Masum Billah , Feb 13, 2022
"এই বই যে পরবে না সে জীবনে অনেক কিছুই শিখতে পারবে না"
Mukul Tarafder , Jan 9, 2022
"very good"
Sharif-Ar-Raffi , Dec 10, 2021
"অসাধারন! নজরুলের প্রতি তীব্র ভালোবাসা নিয়ে লেখা!"
Md Khalid Rahman Gazi , Dec 6, 2021
"আমার পড়া লেখকের প্রথম বই ' কাগজের নৌকা '। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুর দিকে পড়েছিলাম। চমৎকার ঝরঝরে লেখা, মজা করে পড়া যায়। ' সাহিত্যমর্যাদা ' জাতীয় বিষয়ের বালাই নেই, ইংরেজিতে যাকে বলে ' Page Turner '- তেমন ধরণের বই। চপল বইটা আমি কয়েকবার পড়েছি তার হালকা মেজাজের জন্যে এবং বইয়ের মূল চরিত্রের নানা বিবাহিত হিমুসুলভ কাজ-কারবার, চটুল বার্তায় হাসতে। এরপরে কিনেছিলাম লেখকের ' গল্পতুচ্ছ '। অখাদ্য বই। এ বইয়ের কাগজ দিয়ে মুড়ির ঠোঙ্গা বানালে মুড়ির সম্মানহানি ঘটবে। ' আমারে দেব না ভুলিতে ' পড়ে আমার কাছে ঐ দুটো বইয়ের মাঝামাঝি লেগেছে ( পাল্লা কাগজের নৌকা-র মনোভাবের দিকে বেশি ভারী)... তবে এই ভালো লাগার পেছনের অন্যতম প্রধাণ প্রভাবক হলো আমার ব্যক্তিগতভাবে নজরুলকে ঘিরে আগ্রহ। নজরুলের সুখপাঠ্য জীবনীর খোঁজ আমি পাই নি, যা পেয়েছি তা মূলত গবেষনাগ্রন্থ বা প্রবন্ধের মেজাজে লেখা নন-ফিকশন। ' ক্রাচের কর্নেল ' যিনি লিখেছেন, শাহাদুজ্জামান, তিনি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে লেখার পর আমার মনে ক্ষীণ একটা আশা ছিলো এবং এখনও আছে যে তিনি নজরুলকে নিয়েও লিখবেন। আশীফ এন্তাজ রবি ক্রাচের কর্নেলের মতো কিছু লেখেন নি, লিখতে চান-ও নি। তিনি লিখেছেন তার নিজের লেখার মেজাজে। হালকা চালে, গল্প-করার ভঙ্গিতে, কিছুটা অসংলগ্নভাবে। লেখক নিজের লেখা ধাঁচের প্রতি সৎ থাকবেন, এটা কাঙ্খিতও। কিন্তু সমস্যা হলো পাঠক হিসেবে আমার নজরুলের মতো ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এতো লঘু মেজাজের বই পড়ে যেন মন ভরলো না, খানিকটা রাগও হলো। তবে বইটা পড়ে আমি আনন্দ পেয়েছি। বিরক্তও হয়েছি। নজরুলের উপর। নজরুল যে এতো অসম্ভব রকমের বিরক্তিকর, বোধশক্তি বিবর্জিত এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন চরিত্র ছিলেন জানতাম না। বিখ্যাত কবি বলে মানুষ হয়তো খেয়ালি, অস্থির, ছন্নছাড়া এসব শব্দ ব্যবহার করে তার বিবমিষা জাগার মতো ক্রমাগত আচরণের দায়কে হালকা করতে চাইবেন। তাতে মত পাল্টানো ঠিক হবে না। অন্যায় অন্যায়-ই। ব্যক্তিভেদে অন্যায়ের সংজ্ঞা বদলায় না। অবশ্য বইয়ের উল্লেখিত ঘটনা কতখানি সত্য আর কতখানি কল্পনা সেটা নিয়েও ধোঁয়াশা আছে। বইটাতে আমার কিছু অসঙ্গতি আছে বলে মতামত থাকলো। বিশেষত স্থান, কাল পাত্র বিবেচনায় চরিত্রদের সংলাপে। একশ বছর আগে নজরুলের মুখে ' খ্যাতির খ্যাতা পুড়ি " জাতীয় কথা বের হচ্ছে এটা একটু কষ্টকল্পনা। যাক, লেখকের স্বাধীনতা বলেও একটা কথা আছে। আর লেখক তার সেই স্বাধীনতার চর্চা করে ধান ভানতে গিয়ে অসংখ্য শীবের গীত শুনিয়েছেন পুরো বই জুড়ে (এমন কী বইয়ের ফ্ল্যাপেও)। পরম্পরাহীন ভাবে নজরুলের জীবন আশ্রিত উপন্যাসে গুরুত্ব দিয়ে চিত্রিত চরিত্র তাই হরিদাস পাল, ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো, বেঙ্গল সার্কাসের দুই মালিক, পুঁটিরানীসহ নানা চরিত্রেরা। হিরন্ময়ী দেবী কি আসলেই শরৎচন্দ্রের স্ত্রী ছিলেন? দ্বিমত আছে বলে পড়েছি। নজরুলের সিফিলিসের রোগের কথাও কি প্রমাণিত? অপ্রাসঙ্গিকতায় বইয়ের অনেকখানি অংশ পূর্ণ করে লেখক বইয়ের সমাপ্তি এবং নজরুলের অসুস্থ জীবনের অংশ চিত্রিত করলেন ফর্মার হিসেব করার তড়িঘড়িতে। " নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো " থিওরিতে পড়তে পারেন বইটা। কিছুটা প্রগলভ মেজাজের এ বইতে যদিও নজরুলের প্রতি সুবিচার করা হয়েছে বলা যাচ্ছে না কোনভাবেই, পাঠক হিসেবে আপনার সময় ভালোই যাবে।"
shoab hasan , Nov 7, 2021
"Good"
স বু জ , Oct 1, 2021
"খুব ভাল ছিল বইটা। লেখক এবং প্রগতি কে ধন্যবাদ। এতো ভাল একটা বই আমাদের উপহার দেয়ার জন্য।"
Md. Jannatul Nayeem , Sep 24, 2021
"ভালো বই। নজরুলকে জানার জন্য সময় উপযোগি লেখা।"
Ayesha Nilufar , Sep 23, 2021
"একটি গবেষনাধর্মী প্রবন্ধের ব্যাপ্তিটা আশাব্যঞ্জক হয়নাই ।"
samsil arefin , Sep 20, 2021
"নজরুল সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য বহুল লেখা। তবে কিছু জায়গাতে আরো বিস্তারিত লিখলে ভাল হত। সর্বোপরি ৪.৫/৫"
Sadi Azad , Sep 15, 2021
"❤️❤️❤️"
S. M. Monzurul Alam , Jul 24, 2021
"এক কথায় অসাধারন!"
Debashish Ray , Jul 22, 2021
"কবিদের জীবনী নিয়ে এমন লেখা আরও চাই"
Md Eftekhar Ahamed Samim , Jun 26, 2021
"#Progoty_Book_Club_Review_Competition প্রতিযোগীর নামঃ ইফতেখার আহমেদ শামীম অনার্স ২য় বর্ষ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা বইয়ের নামঃ আমারে দেব না ভুলিতে ক্যাটাগরীঃ ফিকশনাল বায়োগ্রাফি লেখকঃ আশীফ এন্তাজ রবি প্রকাশনাঃ আদর্শ প্রকাশনী প্রকাশকালঃ অমর একুশে গ্রন্থ মেলা ২০২১ বই সম্পর্কেঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন রহস্যময় মানুষ।তার পুরো জীবন ছিল বৈচিত্র্যময়। কখনো ছিলেন মসজিদের মুয়াজ্জিন আবার কখনো লেটোর দলে গেয়েছেন গান।আবার রুটির দোকানে কাজ করেছেন আবার কখনো গিয়েছেন স্কুলে। ১ম বিশ্বযুদ্ধের সময় ছিলেন পুরোদমে সৈনিক আবার জড়িয়েছেন সাংবাদিকতায়। আবার পুরোপুরি সাহিত্য সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন।১ম বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে আসেন এবং অনেক ঝামেলার মুখোমুখি হওয়া সত্বেও প্রমীলা দেবী কে বিয়ে করেন। এর পর হয়ে উঠেন একাধারে গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক এরপর হয়ে উঠেন ১ম বাঙালি মুসলিম চলচ্চিত্রকার।ধ্রুব নামক চলচ্চিত্রে নারদের ভূমিকায় ও অভিনয় করেন। এরপর ১৯৪৩ সালে মস্তিষ্কে পক্ষাঘাতে জীবনের বাকি সময়টুকু নির্বাক থাকেন ও কঠিন যন্ত্রণা ভোগ করে তার জীবনাবসান ঘটে।এই পর্যায়ক্রমিক ঘটনা গুলোর বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আশীফ এন্তাজ রবি কবি নজরুল এর এক জীবন প্রবাহ এঁকে দেন। এজন্য তিনি কখনো সত্য ঘটনা তুলে ধরেন আবার কখনো কল্পনা শক্তির সাহায্য নেন।পরিশেষে সৃষ্টি করেন অনবদ্য এক ফিকশনাল বায়োগ্রাফি এবং মলাটবদ্ধ হয় " আমারে দেব না ভুলিতে " নামে। বইটি কেন পড়া উচিতঃ কবি নজরুল চির রহস্যময় পুরুষ। তার জীবনের প্রতিটি ধাপে ছিল বৈচিত্র্যে ভরা। বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের বরাবর ই আগ্রহ নজরুল সম্পর্ক জানবার কিন্তু আফসোস নজরুল নিজে তার জীবনীগ্রন্থ লিখেন যাননি ।ফলে তার জীবনী লিখা কষ্টকর হয়ে পড়ে। নজরুল এর চলার পথে যে মানুষ গুলো তার সংস্পর্শে এসেছিল।তারা ই কমবেশী লিখেছে সেই ঘটনা গুলো।কিন্তু নজরুল বড় চঞ্চল হওয়ায় কোনো জায়গায় থিতু হয়ে থাকতে পারেন নি বিধায় কারো পক্ষেই সম্ভব হয়ে উঠেনি তাকে পুরোপুরি জানার সুযোগ, লেখার তো প্রশ্ন ই আসে না।তবুও কিছু মানুষ চেষ্টা করেছেন তবে লিখেছেন তার জীবনের খন্ডিত খন্ডিত সময় গুলো। যেমন কেউ লিখেছেন বাল্য কাল আবার কেউবা যৌবনকাল আর কেউ লিখেছেন তার সাহিত্য রচনার সময়কাল আবার কেউ লিখেছেন তার সংগীত জীবন।কিন্তু একসাথে কেউ সব টা লিখতে পারেন নি।সেই অভাব টা মোচন করতে লেখক আশীফ এন্তাজ রবি সক্ষম হয়েছেন বলে আমার বিশ্বাস। এই বইটি পাঠের মাধ্যমে একজন পাঠক নজরুল জীবনের অধিকাংশ টুকু ই জানতে পারবে।নজরুল সম্পর্কে যেসব মিথ্যা ঘটনা গুলো ছড়িয়ে আছে সেগুলো সম্পর্কে জানতে পারবে।তার বাল্যকাল কেটেছিল খুব অভাব অনটনে। তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তার ১ম বিয়ের নেপথ্যে প্রেম ও বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং অন্য ধর্মাবলম্বী কে বিয়ে করা আর বিদ্রোহী মনোভাবের কারনে কারাবরণ এবং তার সংগীত জীবন ইত্যাদি।আশীফ এন্তাজ নজরুলের শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত রচনা করেন।তিনি নজরুল এর সাথে ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র,জসীমউদ্দিন, শেরেবাংলা এবং মোজাফফর ও আকরাম খান প্রমুখ ব্যক্তিদিগের সাথে পরিচয় ও পারস্পরিক ঘটনা গুলো ব্যক্ত করেন। নার্গিস এর সাথে প্রণয় ও বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা দারুণ ভাবে বর্ণনা করেন।তিনি প্রমীলার সাথে দাম্পত্য জীবন বর্ণনা করেন।নজরুল সাহিত্যের ধারাবাহিকতা বর্ণনা করেন।তিনি জীবনানন্দ দাস এর কলকাতা জীবন টা উল্লেখ করেন এবং ট্রাম দূর্ঘটনার কথা লিখেন।নজরুল কে সহজে জানতে হলে এই বইটা দারুণ সহায়ক। বইটা যেরকম হতে পারতোঃ এটা ঠিক যে এই নজরুল জীবনের প্রতিচ্ছবি এখানে দারুণ ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে তবে নজরুল জীবনের সব অংশ এখানে সমান ভাবে গুরুত্ব পায়নি। নজরুলের যৌবন যতটা গুরুত্ব পেয়েছে ততটা গুরুত্ব তার বার্ধক্যের সময়টা ততটা গুরুত্ব পায়নি।যেমন নজরুল অসুস্থ হবার পরের সময়টা তে যে দূর্বিষহ জীবনযাপন করেন সেই বিষয়টা লেখক প্রাধান্য দেয়নি।১৯৪৩ সাল থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত এই সময়টার ঘটনাগুলো গুরুত্বের সাথে স্থান পায়নি। যেসব পাঠকরা নজরুল সম্পর্কে খুব একটা জানে না তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়বে যে কোনটা সত্যি আর কোনটি কল্পনা। এক্ষেত্রে ঔপন্যাসিক এর কল্পনা টুকু কে চিহ্নিত করে দিলে বইটা আরো বেশী গুছানো লাগতো। বেশকিছু বাড়তি চরিত্র এনে ছোট ছোট যে গল্প গুলো সাজানো হয়েছিল। সেগুলো এখানে অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে করি।এবং দীর্ঘ কলেবর হওয়ার জন্য দায়ী যেটা বইটির মূল্য বৃদ্ধি করেছে এবং অনেক পাঠক অর্থের জন্য কিনতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছে।এই বিষয়টা খেয়াল করা উচিত ছিল লেখক ও প্রকাশকের।"
Zulkarnain Aymann , Jun 26, 2021
"সেরা একটি বই"
Iftekhar Hossain Sadaf , Jun 26, 2021
"#Progoty_Book_Club_Review_Competition বইঃ আমারে দেব না ভুলিতে লেখকঃ আশীফ এন্তাজ রবি বইয়ের ধরনঃ Fictional Biography প্রকাশনীঃ আদর্শ মলাটমূল্যঃ ৬০০ টাকা রিভিউদাতার নামঃ ইফতেখার হোসাইন সাদাফ বইটাকে নিছক নজরুল জীবনী ভাবলে বড্ড ভুল হবে। আবার কবি নজরুলকে নিয়ে কাল্পনিক উপন্যাস বলাটাও খুব একটা যৌক্তিক না। এখন প্রশ্ন হলো, এটা তাহলে কী? 'Fictional Biography' কথাটাকে আক্ষরিকভাবে বাংলায় 'কাল্পনিক জীবনী' বলা গেলেও জীবনী আবার কাল্পনিক হয় কী করে? ভাবগত অর্থের দিক থেকে বিবেচনা করলে 'গল্পচ্ছলে জীবনী' বলা যেতেও পারে হয়তো! কিন্তু, এটা কি সত্যিকার অর্থেই কবি নজরুলের গতানুগতিক 'Pure জীবনী' হয়ে উঠতে পেরেছে? আমার কিন্তু সেটা মনে হয় না! কারণ এখানে কেবল নজরুলের জীবন উঠে আসে নি। এসেছেন রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, জসীম, জীবনানন্দ, বিভূতিভূষণসহ আরো অনেকে। তবে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে আমরা কবি নজরুলকেই পেয়েছি। 'আমারে দেব না ভুলিতে' হলো বাংলা সাহিত্যের এমন এক নক্ষত্রের গল্প যার আলোতে ঝলসে গিয়েছিল অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠীর শোষণতন্ত্র! জেগে উঠেছিলো অসংখ্য মানুষের ঘুমিয়ে থাকা বিবেক। কুসংস্কারের অতলে মরণডুব দেয়া বোধ ফিরে পেয়েছিল প্রাণ। সেই নক্ষত্র আজ না থাকলেও আজও তার আলো বিলিয়ে দেবার যাত্রাটা অব্যাহত আছে। থাকবে অনন্ত কাল অবধি। এটা সেই গল্প যার রসদ নাটকের থেকেও নাটকীয় এক মহান জীবনের বাস্তবতা। কখনো তা মমতার, কখনো-বা নির্মম। কালজয়ী এই সাহিত্যিকের কালজয়ী লেখাগুলো রয়ে গেছে স্বমহিমায় উজ্জ্বল। অথচ আফসোস! তার কালজয়ী জীবনগাথাটাই পরে রইল সকলের অগোচরে। নাকি জেনে-বুঝেই তাকে দেয়া হয়েছে ধামাচাপা! কিংবা আজও হচ্ছে হয়তো... ✍আখ্যানঃ এক অজপাড়াগাঁয়ের মসজিদের প্রচন্ড অর্থকষ্টে ভোগা ইমাম ফকির আহমদ। প্রথম স্ত্রীর গর্ভে সন্তান না আসায় করলেন দ্বিতীয় বিয়ে। সাথে সাথেই প্রথম স্ত্রীর কোল আলো করে এলো তার প্রথম পুত্র সাহেবজান। দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদার চার পুত্রসন্তান পৃথিবীর আলো দেখতে- না দেখতেই হারিয়েছে প্রাণ। জাহেদা পঞ্চমবারের মতো গর্ভবতী হলে ইমাম সাহেব একটা মানত করলেন। গ্রামের পাশের রামপুরহাট শহরের শ্রদ্ধাভাজন সন্ন্যাসী বামাক্ষ্যাপা। এবারের সন্তান বাঁচলে তার নামকরণ সন্ন্যাসীর অনুকরণে রাখবেন "তারাক্ষ্যাপা"। স্রষ্টা মানত কবুল করলেন, ছেলেটা বেঁচে রইলো। অভাবের ঘরে এমন রূপবান, বলিষ্ঠ গড়নের আর দুধে-আলতা বরণের সন্তান দেখে সবাই অবাক। মা জাহেদা এবার বেঁকে বসলেন। এমন সন্তানকে আর যাই হোক, 'তারাক্ষ্যাপা' ডাকাটা তিনি মানতে নারাজ। ছেলের বাপের মানতকে থোড়াই কেয়ার করে মা তারাক্ষ্যাপাকে বানালেন "নজর আলী"। চাচার সাথে যাত্রাপালাতে গেলে তার দরদী গলা অনায়াসে গলিয়ে দেয় সবার মন। মক্তবে মেধার জোরে তার সাথে টেকা দায়। আজব ও অজানা এক কারণে, দশ বছর বয়সে বাবাকে হারাবার বহু আগেই বড় ভাই সাহেবজান তাকে আদর করে "দুখু মিয়া'' বলে ডাকতে শুরু করে! অবশ্য সেই দুখু মিয়া হবার সার্থকতা রক্ষার্থেই হয়তো তাকে একটা পুরো জীবন কাটিয়ে দিতে হয় দুখের সাগরে সংগ্রাম করতে করতে। তারাক্ষ্যাপা হিসেবে জন্ম নেয়া নজর আলী কীভাবে দুখু মিয়ার পরিচিতি ছাপিয়ে 'নজরুল এসলাম' এ পরিণত হয়। কীভাবে সে হয়ে ওঠে 'কাজী নজরুল ইসলাম' আর কীভাবেই-বা জেগে ওঠেন ভারতবর্ষের বিদ্রোহী কবি, সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম -সে যাত্রার এক শ্বাসরুদ্ধকর, অবিশ্বাস্য ও গতিময় আখ্যানই হলো 'আমারে দেব না ভুলিতে'। ✍লেখনশৈলীঃ লেখক আশীফ এন্তাজ রবির লেখার সাথে আমার পরিচয় এই বইটা থেকেই। তার লেখার হাত পাকা। লিখতে গিয়ে তথ্যের সত্যতা জাহির করতে বারবার রেফারেন্স টেনে বইটাকে কাঠখোট্টা ইতিহাস বানাননি। উপভোগ্য ও চমৎকার এক উপন্যাস তিনি উপহার দিয়েছেন আমাদের। তবে হ্যাঁ, নজরুলের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য ও ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগটা তিনি পাঠকদের দিয়েছেন একেবারে বইয়ের শেষে গ্রন্থতালিকা যুক্ত করে। লেখার ভঙ্গিতে নতুনত্ব হিসেবে যেটা পেয়েছি তা হলো তিনি কোনো একটা চরিত্রের অনুভূতির প্রগাঢ়তা পাঠককে অনুভব করাতে মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। আবার যখন তখন আচমকা পাঠকের অনুভবের বাঁক বদলে দিয়েছেন। বইয়ের অনেক জায়গায় এমন হয়েছে যে, চোখে জল ছলছল করছে, যেকোনো মুহূর্তে গাল ভিজে যাবে, ঠিক তখনই তিনি আচমকা এমন একটা বাক্যের আবতারণা করেছেন যে আমি হেসেই খুন! এর উল্টোটাও হয়েছে অবশ্য। একবার-দুবার না, বহুবার। বিষয়টা আমাকে সত্যিই অবাক হতে বাধ্য করেছে। ✍বর্ণনাভঙ্গিমাঃ গল্পে বর্ণনা সংশ্লিষ্ট অংশগুলো পড়ে যা বুঝলাম তা হলো, বর্ণনাতে লেখকের পরিমিতবোধ আছে। সহজভাবে বর্ণনা করেছেন সবকিছু। আরোপিত আড়ম্বর নেই একদমই। পড়তে গিয়ে বর্ণনার জন্যে কোনো বিরক্তি আসেনি। গল্পটার প্লটকে অনেক আগেকার সময়ের টাইমলাইনের ওপর দাঁড় করিয়েছেন লেখক। এখানেও পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলোর বর্ণনাতে সচেতন ছিলেন তিনি। পড়া শুরু করা মাত্রই চোখের সামনে অখন্ড ভারতবর্ষের একটা আবছা ছবি ভেসে ওঠে যা ক্রমশই স্পষ্ট হতে শুরু করে। প্রাঞ্জল ভাষার বর্ণনা বিষয়টাতে সজীবতা আনতে বেশ সফল হয়েছে। ✍গল্পবুননঃ সাবলীল ভাষায় আর দ্রুত গতিতে গল্প এগিয়েছে। খেই হারাতে হয়নি। তবে টানা গল্প বলে যাননি লেখক। সাহিত্যের রংও আরোপ করেছেন বেশ সুনিপুণভাবে। আগ্রহ ধরে রাখতে গল্পের প্রতিটি ভাগের কোনোটাই ধারবাহিকভাবে অধ্যায়ের পর অধ্যায়ে যেয়ে গতানুগতিকভাবে ইতি টানেননি। উদাহরণস্বরূপ, নজরুলের বাড়ি ছেড়ে পালানোর ঘটনাকে একটা ভাগ ধরে নিয়ে কিছু অধ্যায় লেখার পর অন্য ঘটনার অবতারণা করেছেন। তারপর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খানিক লেখার পর আবার নজরুলের বাড়ি পালানোতে ফিরে এসেছেন। এই পদ্ধতি অবলম্বন করায় গল্পের বাকিটা জানার দারুণ এক তাড়না অনুভব করেছি। আগ্রহে ভাটা পরে নি। গল্প বলার এই স্টাইলটা বেশ উপভোগ্য ছিল। এক্ষেত্রে অবশ্য বেশ সচেতন ছিলেন লেখক। কোনো ঘটনার ফাঁকফোকর রাখেননি তিনি। ✍চরিত্রায়নঃ বইয়ের একটা বা দুটো চরিত্র বাদে সবগুলোই বাস্তব থেকে নেয়া। তাই তাদের মানসিকতা বুঝতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। তবুও লেখক ফাঁকি দেননি। পর্যাপ্ত সময় দিয়েছেন প্রতিটি চরিত্রকেই। এক্ষেত্রে অন্যতম একটা প্লাসপয়েন্ট হলো নজরুল ও তাঁর সমসাময়িক বিখ্যাত সাহিত্যিক ও গায়কদের নানাবিধ আনকমন অভ্যেস, কথা বলার ধরন, তাদের কালজয়ী বিভিন্ন শিল্পকর্মের পেছনকার ঘটনা তুলে ধরেছেন তিনি। যেগুলোর অনেকটাই লোকের অজানা। তাছাড়া, বইটা আরো বেশি জীবন্ত হয়ে উঠেছিল কেবল এই চরিত্রায়নগত দক্ষতার কারণে। কবি নজরুলকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে, তাকে আমার আপনা লোক বলেই মনে হচ্ছিল। নজরুলের চরিত্রায়নে তাঁর একরোখা আর জেদি দিকটি স্পষ্ট ছিল। চরম অর্থকষ্টের সময়েও নজরুলের খামখেয়ালি স্বভাব হারিয়ে যায়নি। অবশ্য, বইটিতে নজরুলের মায়াভরা আর নমনীয় দিকটাও উঠে এসেছে। মানুষ বাড়ি ছাড়ে দুখে, আর নজরুল ছেড়েছেন সুখে। পুরোটা জীবনজুড়ে তিনি রোমাঞ্চের স্বাদ আস্বাদনে মগ্ন থাকতে চাইতেন। স্থির জীবন অন্তত তাঁর জন্যে নয়। সংসার জীবন শুরুর আগ পর্যন্ত কখনোই এক জায়গায় বেশিদিন স্থায়ী হননি নজরুল। রোমাঞ্চকর জীবনের খোঁজে বাড়ি ছাড়া ছিল নজরুলের কাছে আনন্দভ্রমণের মতো! এমন খামখেয়ালিপনার কারণে তাকে কমও ভুগতে হয়নি বটে। বইয়ের শুরুর দিকে পুঁটিরানী ও শেষের দিকে চায়ের দোকানদার চুনিলাল চরিত্র দুটোকে অনেকটা সময় জুড়ে কাল্পনিক মনে হয়েছিল। ভেবেছিলাম, লেখক হয়তো নজরুলের সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনা, বিশ্বাস ও পারিপার্শ্বিকতাকে তুলে আনতেই এদেরকে বইয়ে ঠাঁই দিয়েছেন। তবে শেষটায় চরিত্র দুটো যে চমৎকার পরিণতি পেয়েছে -সেটা সত্যিই আমার প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। পার্শ্বচরিত্র হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ও জসীমউদ্দীনের সঙ্গে নজরুলের সম্পর্কের গভীরতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষত, কবি নজরুলের নানা ভয়ানক দুঃসময়ে কবি জসীমউদ্দীনের এতটা সাপোর্টের কথা হয়তো খুব বেশি মানুষের জানা নেই। বারবার ভয়াবহ আর্থিক দুরাবস্থার সম্মুখীন হয়েও নজরুল-স্ত্রী প্রমীলা দেবী ও শাশুড়ি গিরিবালা দেবীর চরম ধৈর্য্যশীলতার কথাও জানা ছিল না এতটা। দুজনের অস্বাভাবিক রকমের ধৈর্য্যধারণ আমাকে হতবাক করে দিয়েছে। এছাড়া, প্রয়োজনের সময়ে কবির কমিউনিস্ট বন্ধু মুজফ্ফর ছিলেন এক নিঃস্বার্থ পরামর্শদাতা। যদিও তিনি কখনোই নজরুলের স্বতঃস্ফূর্ততায় জোর করে কমিউনিস্ট মতাদর্শ গেড়ে দেবার চেষ্টা করেননি। ভাবতে অবাক লাগে, চরিত্রগুলোর এমন সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য লেখক তুলে অনলেন কী করে! চরিত্রগুলো কাল্পনিক হলেও মেনে নেয়া যেত। কেননা, সেক্ষেত্রে লেখকের স্বাধীনতা সীমাহীন। কিন্তু এরা যে বাস্তবের রক্ত-মাংসের মানুষ ছিল এক সময়। লেখকের চরিত্র গঠন করার এই ক্ষমতাটা নিশ্চয়ই পাঠককে মুগ্ধ করবে। ✍অদেখা নজরুল জীবনঃ এখানে আমরা দেখতে পাবো কবি নজরুলের জীবনের এমন কিছু দিক যা ঢাকা পরে গেছে ইতিহাসের ভাঁজে ভাঁজে। লেখক তাঁর বইটিতে সেসব সযত্নে তুলে এনেছেন -যা বইটিতে একটা আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। পাঠককে সুযোগ করে দিয়েছে নজরুল-জীবনের অদেখা অথচ বৈচিত্র্যে ভরপুর কিছু অধ্যায়ের সাথে পরিচিত হবার। ** কবি নজরুল চা পানে ভয়ানক রকম আসক্ত ছিলেন। দিনে গোটা পঞ্চাশেক চা পান করতেন তিনি। ** কারাগারে নিক্ষিপ্ত হবার পর তিনি অনশন করেন। ইংরেজদের অবাক করে দিয়ে তিনি টানা চল্লিশ দিন অনশনে ছিলেন। বেশ নাটকীয়ভাবে তাঁর অনশন ভাঙানো হয়। ** কারাগার থেকে নজরুলকে মুক্ত করতে ও ইংরেজ সরকারের টনক নড়াতে রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'বসন্ত' বইটা নজরুলকে উৎসর্গ করেন। তাঁর ভক্তরা নজরুলকে অবজ্ঞা ও রবীন্দ্রনাথের কাজের তুখোড় সমালোচনা করলে তিনি তাদেরকে সাবধান করে নজরুলের পক্ষ নেন। ** কিশোর বয়সে কবি জসীমউদ্দীন বারবার তাঁর কবিতা অনেককে দেখান। বহুবার প্রত্যাখ্যাত হবার পর সে সিদ্ধান্ত নেয় কবি নজরুল যদি তার কবিতাকে প্রত্যাখ্যান করে তবে সে লেখালেখি ছেড়ে দেবে। নজরুলের শরণাপন্ন হলে নজরুল তার কবিতায় ভীষণ মুগ্ধ হয়। 'কবর' কবিতাটির ভীষণ প্রশংসা করে। **নজরুলের "বিদ্রোহী" কবিতার মূল অনুপ্রেরণা ছিল ইংরেজ বিরোধী বারীন ঘোষের সাথে তার এক রাতের আড্ডা। কবিতাটি "বিজলী" পত্রিকায় প্রকাশের পর তা এক সপ্তাহে উনত্রিশ হাজার কপি বিক্রি হয়, যা সাধারণত দেড়-দুইশ' কপি বিক্রি হতো। ** নজরুল তার প্রকাশক বন্ধু আকবর খাঁ এর আরেক বন্ধু বীরেনের বাড়ি কুমিল্লায় বেড়াতে যায়। একদিন বীরেনের ছোটবোন জটা ওরফে অঞ্জলী উঠোনে পেয়ারা খেতে খেতে একমনে কথা বলছিলো। কৌতূহলবশত নজরুল দেখে অঞ্জলী গাছের একটি কাঠবিড়ালীর সাথে আপনমনে কথা বলছিলো। এ ঘটনাই ছিলো নজরুলের "কাঠবিড়ালী" কবিতার প্রধান অনুপ্রেরণা। ** নজরুশ যেকোনো আড্ডা নিমেষেই জমিয়ে ফেলতে ওস্তাদ ছিলো। যেকোনো আসরের মধ্যমণি হতে বেশি সময় তাঁর লাগতো না। এক গভীর রাতের ঘটনা। নজরুল আড্ডা শেষে তাঁর মেস-বাড়িতে ফেরার পথে একদল কুকুর তাকে ধাওয়া করে। এটাই ছিলো তাঁর বিখ্যাত কবিতা "লিচু চোর" লেখার পেছনকার ঘটনা। **নজরুলের শেষ বয়সে কবি জসীমউদ্দীন তাকে কল্পনাতীতভাবে সাহায্য করে। অন্য কোনো সাহিত্যিক কখনোই এভাবে নজরুলের পাশে দাঁড়াননি। ** শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ভীষণ রকম মাদক সেবন করতেন। যুবক বয়সে নেশার ঘোরে তিনি প্রেমে টইটম্বুর এক উপন্যাস লেখেন। লজ্জায় দীর্ঘ সাত বছর তিনি সেই উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি লুকিয়ে রাখেন। সেটাই ছিলো দেবদাস। বাংলা সাহিত্যের অমূল্য এক রত্ন। নজরুলের সাথে আলাপচারিতার সময়ে এ ঘটনার দেখা বইতে মেলে। ✍সমাপ্তিঃ বইয়ের শেষটা করুণ। ভীষণ রকম করুণ। গভীর রাতে বইটা শেষ করে হাউমাউ করে কেঁদেছিলাম। আগে কোনো বই পড়ে এতটা কাঁদিনি। কবি নজরুলের মৃত্যুর কারণ পাঠককে থমকে দেবে। বইটা পড়ার পর আমি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে শিশুর মতন কেঁদেছি। প্রিয় কবি, আমরা আপনাকে ভুলিনি। ভুলতে পারি না। সে স্পর্ধা কিংবা যোগ্যতা কোনোটাই যে আমাদের নেই। আপনি আছেন অসংখ্য পাঠকের ভালোবাসার কেন্দ্রে। বহু কবির অনুপ্রেরণায়। আছেন বিশ্বের সকল বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায়। আপনাকে আমরা ভুলিনি। ভুলবো না। ভুলতে পারি না।"
Saleh Ikbal Rahman Shihab , Jun 19, 2021
"#Progoty_Book_Club_Review_Competition নাম : Hasanul Banna বই : আমারে দেব না ভুলিতে লেখক : আশীফ এন্তাজ রবি ১ম প্রকাশ : ১৫ মার্চ, ২০২১ প্রকাশক: আদর্শ বাংলা সাহিত্যে দুইজনের জীবনী সিনেমার গল্পের চেয়ে বড় সিনেমা,উপন্যাসের চাইতেও বড় উপন্যাস। তারা হলেন কাজী নজরুল এবং মাইকেল মধুসূদন। বিশেষত কাজী নজরুলের জীবন যেনো Christopher Nolan এর মুভি সাদৃশ। এই বইটি চিররহস্যময় পুরষ নজরুলের রহস্যভেদের একটি প্রয়াস। আশীফ এন্তাজ রবি কলমে তুলেছেন সেই নজরুলকে যেটা আসলেই "নজরুল"। নেই বাড়াবাড়ি, নেই কমতি তবে ঠিকঠাক জীবন কথা।সমাজের কিছু মিথের কারনে আমরা কখনো নজরুলকে জেনেছি বিদ্রোহী, ইসলামিক,Secularist এমনকি কিছু জায়গায় রবীন্দ্রনাথের শত্রু রূপে। কিন্তু শিল্পী নজরুল যে তার শিল্পের চাইতেও বড় এবং তার মাঝে যে বিরাজ করে আরেক বিচিত্র আবেগ,অনন্ত চাওয়া তার সঠিক পরিচয় করিয়ে দেয় " আমারে দেব না ভুলিতে" বইটি। একই নদীর পানিতে কেউ দু'বার গোসল করতে পারে না। এই বইটিও ঠিক যতবার পড়া হবে ভিন্ন চেহারায় ধরা দেবে। শুনেছি তাজমহল নাকি সূর্যের আলোর তারতম্যের সাথে সাথে শতরুপে শতবার ধরা দেয়।এই বইও তেমনি।এই গল্পের সবচাইতে বড় দিক হলো, আপনি একই সাথে অবিভক্ত বাংলার সকল রথীমহারথীদের সাক্ষাৎ পাবেন এবং ভেতর-বাহিরের অজানা দিক জেনে যাবেন গল্পের মাধ্যমেই। আপনি একে একে শরৎচন্দ্র,রবীন্দ্রনাথ, জসীমউদদীন, জীবনানন্দ দাশ,বিভূতিভূষণ, জাদুকর পিসি সরকার,এ কে ফজলুল হক,হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, কমরেড মুজজফর,আলী আকবর খান,মোতাহার হোসেন, ফজিলাতুন্নেছা, নাসিরুদ্দিন,হাফিজ, প্রমথ চৌধুরীদের সাথে পরিচিত হয়ে যাবেন। এই বইয়ের সেটিংস (time&place) আপনাকে একটি Drawing Room tourism এর স্বাদ দেবে।ঘরে বসেই যেনো ঘুরে আসেবেন ট্রামে উঠে বিংশ শতাব্দীর টাইমলাইনে।কখনো কুমিল্লা,কখনো আসানসোল,পুরান ঢাকা কিংবা আর্জেন্টিনাতেও।এসব শহরের অর্থনৈতিক, ভোগৌলিক,মানব যান্ত্রিকতা, কষ্ট, অনাবিল সুখ উঠে এসেছে "আমারে দেব না ভুলিতে" এ।শহর ও গ্রামের একটা Juxtaposition (close placement of two ideas) ধরা দেয় চোখে। নজরুলের জন্মস্থান খরাপ্রবণ শিল্পসমৃদ্ধ আসানসোল শহর,কর্মক্ষেত্র কলকাতা,করাচির সাথে-ত্রিশাল,দরিরামপুরের স্নিগ্ধ গ্রামের ছবি চিত্রপট অবস্থান নিয়েছে পাশাপাশি। এবারে বইয়ের "নজরুল" চরিত্র বিশ্লেষণ করা যাক। ৬৩ পৃষ্ঠায় দেখতে পাওয়া যায়,বন্ধু শৈলজানন্দের মেস বাড়িতে নজরুলের অপমানিত হওয়ার কথা।কারন নজরুল মুসলমান। কুসংস্কার এ ডুবে থাকা বাংলা সমাজের টুকরো ছবি এটি।নজরুলের প্রতিবাদ শুরু হয় এসব ঘিরেই।নজরুল বলেন "জাতের নামে বজ্জাতি ভাই,জাত জালিয়াৎ খেলছে জুয়া,ছুঁলেই তোর জাত যাবে? জাত ছেলের হাতে নয়কো মোয়া"। নজরুল জানতেন,আল্লাহ এবং নারায়নের মাঝে কোন কোন্দল নেই। এক হাতে তিনি লিখেছেন ইসলামি সংগীত" তাওহীদেরই মুরশিদ আমার,মুহম্মদের নাম" অন্য হাতে শ্যামা সংগীত " আমার মায়ের পায়ের জবা হয়ে উঠনা ফুটে মন"। নিজের সন্তানের নাম দিয়েছিলেন কৃষ্ঞ মুহম্মদ।আসলে নজরুল কোন ধর্মকে হেয় করেনি বরং ধর্মের নামে মানুষের তৈরী নানা নিয়মের সংস্কার চেয়েছেন।তিনি বোঝাতে চেয়েছেন ধর্ম বিষয়ক যেকোনো সমস্যার সমাধান মানুষের কাছে নয় বরং স্রস্টার হাতেই রয়েছে। পুরো বইয়ের সিংহভাগ জুড়ে আর্থিক দোটানা স্থান পেয়েছে। এটাই কি সেই দারিদ্র্য ও কষ্ট যেটা নজরুলকে "কবি" বানিয়েছে? বলা হয়ে থাকে দুঃখের মতো আর পরশপাথর আর নেই।নজরুল সেই ঘরে জন্মেছে যেখানে নতুন সন্তান জন্ম দেওয়া আলাদা সুখ দেয়না।নতুন শিশুর জন্মতারিখ পর্যন্ত মনে রাখা হয়না।সন্তান জন্মদানে বেঁচে থাকার চাইতে মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশি সেখানে। ছোটবেলায় এতিম হয়েছেন।রুটির দোকানে কাজ করেছেন,গ্রামের মক্তবেও শিক্ষকতা করেছেন,গ্রামের লেটো গানের ছিলেন এবং পরবর্তীতে সৈনিকও হয়েছেন।এক জীবনে পেয়েছেন বহু জীবনের সাধ।কিন্তু কোথাও তিনি থিতু হতে পারেন নি।ঘন ঘন পেশাবদল অভাব অনটনে থাকার লক্ষ্মণ। অভাবে থাকার কারনে পারেননি নিজের সন্তানের সাধ-আহ্লাদ মেটাতে। আসলে মৃত্যুর যন্ত্রণার চাইতে পেটের যন্ত্রণা বড়। নজরুলের জীবনের অন্যতম দিক হলো Idiosyncrasy. এটা এমন এক সাহিত্যের ফিচার যা লেখককে আলাদা করে অন্য সবার থেকে।যেমন নজরুলের সৈনিক হওয়া।আমরা জানি, সেনাবাহিনীর সদস্যদের জীবন নিয়ম শৃঙ্খল এবং গতানুগতিক কিন্তু নজরুল গতানুগতিক নয়।তিনি বিদ্রোহী, তিনি রচনা করেছেন "ভাঙার গান"।সৈনিক জীবন আর কবি জীবন একই সাথে বয়ে চলে না। তবে নজরুল আলাদা তিনি "যুদ্ধের ময়দানে লিখে যান প্রেমের কাব্য"। বইয়ের ১২০ নং পৃষ্ঠা উল্লেখ রয়েছে নজরুল বিয়ের আসর থেকে পলায়ন করেছে কারন তাকে "চাল নেই,চুলো নেই" বলে অপবাদ দেওয়া হয়েছে। নজরুল" বিত্তে না হলেও চিত্তে বড়"।সম্মান নেই যেখানে,নজরুল নেই সেখানে। আবার নজরুলকে দেখা যায় সোনাগাছির যৌনকর্মীদের "মা" হিসেবে সম্বোধন করতে।যে সমাজে যৌনকর্মীদের নাম উচ্চারণই পাপ হিসেবে ধরা হতো সেখানে নজরুল তাদের মায়ের আসনে বসান।কারন মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার অধিকার সকলেরই আছে। এই ধরনের ব্যক্তিত্ব নজরুলকে করেছে আলাদা, করেছে Idiosyncratic. এই বইয়ে নজরুলের বিদ্রোহী সত্তার বহুমাত্রিক দিক প্রকাশ পেয়েছে।এই বিদ্রোহ কখনো প্রথাগত, কখনো কাব্যিক।প্রথাগত বিদ্রোহের মধ্যে রয়েছে জাত-পাত ও ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ,অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য বিদ্রোহ, রাজনৈতিক বিদ্রোহ সর্বোপরি অসত্য-অসুন্দরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। আর কাব্যিক বিদ্রোহ বলতে কানে বাজার মতো শব্দের ঝনঝনানি, গদ্যে চিত্রকল্পের অবতারণা, আরবি-ফারসির প্রয়োগ,পুরাণের প্রয়োগ।ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে তার বেশ কয়েকটি বই নিষিদ্ধ হয়।কারদন্ডে দন্ডিত করা হয়।এতে তিনি দমে যাননি বরং উৎসাহ পেয়েছেন।নজরুল জানতেন "you can kill a man but can't kill idea because Ideas are bullet proof" একটানা চল্লিশ দিন অনশনে ব্রিটিশ সরকারকে চাপে ফেলেছিলেন তিনি।আবার বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে আসা এক প্রকার বিদ্রোহ প্রকাশ করে। নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের মাঝে যে কোন বিরোধ ছিলো না বরং ছিলো সুসম্পর্ক সেটাও ফুটে ওঠেছে আশীফ এন্তাজ রবির কলমে।সঞ্চিতার সাথে সঞ্চয়িতার যে কোন বিরোধ নেই তা ধ্রুব সত্যি। নজরুল কারাগারে অনশনে থাকাকালীন রবীন্দ্রনাথ লিখেন "Give up hunger strike, our literature claims you" রবীন্দ্রনাথের এই দাবির ফলেই কাজী নজরুলের কারামুক্তি সহজতর হয়।কারন Nobel Laureate রবি ঠাঁকুরের প্রভাব সেই সমাজে সবচেয়ে বেশি।আবার যখন রবি ঠাঁকুর যখন "বসন্ত" নাটক নজরুলকে উৎসর্গ করেন তখনও কলকাতার সাহিত্য সমাজে সমালোচনা ঝড় উঠে।রবীন্দ্রনাথ এই সময় নজরুলকে "কবি" উপাধি দিয়ে সকল সমালোচনা রুখে দেন। রবীন্দ্রনাথের "গোরা" উপন্যাস অবলম্বনে তৈরী সিনেমায় সংগীত পরিচালক ছিলেন নজরুল। সেসময়ও সমালোচনা ওঠে। নজরুল সরাসরি রবীন্দ্রনাথের বাসায় যান, রবীন্দ্রনাথ নজরুলকে বলেন "তোমার চেয়েও আমার গান কি তারা বেশি বুঝবে? আমার গানের মর্যাদা কি ওরা বেশি দিতে পারবে?” Nested Story অথবা Framed Story এটা এক ধরনের Literary Technique যা মূল ঘটনার সহায়তা করার জন্য আরো ঘটনার অবতীর্ণ করা হয়।" আমারে দেব না ভুলিতে"বইয়ের কেন্দ্রীয় চরিত্রে নজরুল থাকলে Supporting Plot হিসেবে কাননবালা, পুঁটিরানী,রবীন্দ্রনাথ,জীবনানন্দ,শরৎচন্দ্রের জীবন প্রবাহ নিয়ে আসা হয়েছে।এতে নজরুলের জীবন কথা আরো শক্ত এবং সুন্দর হয়েছে। জীবিকার কাছে জীবনের পরাজয় দেখা যায় ২১৭ নং পৃষ্ঠায় এসে।যেখানে দেখানো হয়, শরীরের শুচিতা নিয়ে যতটা ভয় পুটিরানীর তার চাইতে বেশি ভয় তার পুটলি নিয়ে।নারী যখন তার সম্ভ্রমের চাইতে খাদ্যকে বেশি প্রাধাণ্য দেয় তখন বুঝে নিতে হয় দূর্ভিক্ষ এসেছে।সেটা বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বুঝিয়ে দেয়।আবার এই পুটিরানী একসময় ধনী হয়ে ওঠে।তিনি লঙ্গরখানা খুলেন। (পৃষ্ঠা ৩১৬)সেই লঙ্গরখানায় হিন্দু-মুসলিম পাশাপাশি বসে খাওয়া দাওয়া করে জাত-পাত।এই লঙ্গরখানা সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির একটা Symbolism হিসেবে কাজ করে। ঠিক মানিক বন্দোপাধ্যায়ের "ময়নাদ্বীপ" এর মতো। "সরলতা" এবং "প্রাঞ্জলতা" এই বইয়ের অন্যতম দিক। বাক্য গঠনে নেই কোন ভণিতা,নেই ছলচাতুরী। বাংলা Rhetorical words যেমন শ্লেষ,যমক,অনুপ্রাস,ধ্বনুক্তির প্রয়োগ রয়েছে। যেমন ২৭৪ পৃষ্ঠার শেষ লাইনে বলা হচ্ছে "এই মেয়ের জন্য আমি আর কত নিচে নামব" এখানে "নিচে" একটি শ্লেষ বা PUN. যখন একটি শব্দের দুইরকম অর্থ থাকে তখন তাকে Pun বা শ্লেষ বলে। এখানে নিচে দুইটা অর্থে ব্যবহৃত। ১) সিঁড়ি ভেঙে নিচে নেমে আসা ২) চারিত্রিক ভাবে নিচে নেমে আসা। এছাড়া Defamilirization এর একটা দিক রয়েছে এই বইয়ে অর্থাৎ চেনা নজরুলকে নতুন করে চেনানোর যে প্রয়াস সেটা। গল্পের শেষ পাতায় এসে লেখক নিজের বাবার মৃত্যুর সাথে নজরুলের মৃত্যুর একটা তুলনা দিয়েছেন। ইংরেজি সাহিত্যের ভাষায় এটা Analogyর প্রয়োগ। ভালোমানের বই নতুন চিন্তা সৃষ্টি করে এবং বৃহৎ কথা মুখ তৈরী করে।এই বই পড়া শেষে পাঠকের মনে সেই প্রশ্নই এসে যাবে "নজরুলের শেষ জীবন এমন হলো কেনো? এতে বাংলা সাহিত্যের অনেক ক্ষতি হয়ে গেলো কিনা?” বিরহকাতর মন চাইবে নজরুলের জীবনকে নিজের জীবন দিয়ে মেপে নিতে বা Empathetic হতে। দুঃখ-কষ্ট দিয়ে শুরু জীবনটার শেষ সেই যাতনা, বেদনা দিয়েই নজরুলের।জীবনরেখা আঁকা হলে যেনো একটা বৃত্ত থাকে সাদা খাতায়।" শুদ্রের মাঝে যিনি দেখতেন রুদ্রের ছবি " তাকে কি করে ভোলা যায়? "আমারে দেব না ভুলিতে" র প্রতিউত্তর হিসেবে পাঠকেরই প্রসব করা উচিত "আমরা তোমাকে দেব না ভুলিতে " শীর্ষক কোন বই।"
Amit Rudra , Jun 15, 2021
"আমারে দেব না ভুলিতে, কারে? বাংলা সাহিত্যের ধুমকেতু, যিনি ঝড়ের গতিতে এসে বাংলা সাহিত্যেকে আলোয় ভাসিয়ে দিয়ে সেই আলো আবার নিজের সাথেই নিয়ে চলে গেছেন। যার সামনে দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ রাজ, ধর্মের কুসংস্কার, রাজ পরিবারের জাত্যাভিমান সব খড়কুটোর মতো ভেসে গেছে। সেই বিদ্রোহী রণক্লান্ত, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তাকে নিয়েই লেখা বইটি, লিখেছেন আশীফ এন্তাজ রবি। এটি কি একটি বায়োগ্রাফি? লেখকের ভাষাতেই বলি, “এটি ইতিহাস নয়, নিছক গল্প। কোনো কোনো ইংরেজি সিনেমায় যেমন লেখা থাকে, বেজড অন ট্রু স্টোরি, ঠিক সেরকম এই গল্পের ভিত্তি হচ্ছে অজানা চমকপ্রদ সব ঐতিহাসিক ঘটনা” এক কথায় “আমারে দেব না ভুলিতে” আপনাকে একটি জার্নির মধ্য দিয়ে নিয়ে যাবে। যেই জার্নিতে তারাক্ষ্যাপা ধীরে ধীরে নজর আলীতে পরিণত হয়। নজর আলী হয়ে যায় দুখু মিয়া। আর দুখু মিয়া হয়ে ওঠে নজরুল ইসলাম। নজরুল ইসলাম হয়ে ওঠেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। পুরো বইটিতে আপনি একরকম অস্থিরতা পাবেন। যেই অস্থিরতা ছিল কাজী নজরুল ইসলামের মননে। আবার সেই অস্থিরতার বর্ণনা করা হয়েছে খুবই সাবলীলভাবে, খুবই সুখপাঠ্যভাবে, যেটি ছিল নজরুলের শিল্পচর্চায়। নজরুলকে বুঝতে হলে এই ধরণটা খুবই দরকারি। যেমন বইয়ের এক জায়গায় বাংলা সঙ্গীতের এক মহীরূহ শিল্পী যার এ আঁখি জল মোছো প্রিয়, মোর ঘুমো ঘোরে এলে মনোহর বা হারানো হিয়ার নিকুঞ্জ পথে গত ৯০বছর ধরে শুনে আসছে মানুষ, সেই ইন্দুবালা দেবী বলছেন, “এই মানুষটার মাথা কি দিয়ে গড়া! সারাক্ষন আড্ডায় মেতে আছে। কোন ধ্যান নেই, কোন ভাবনাচিন্তা নেই। তবু কি করে তার কলম দিয়ে এতো দারুণ দারুণ লেখা বের হয়।” ওহহ ওপরে যে গানগুলোর কথা বললাম সেগুলোও কিন্তু নজরুল সঙ্গীতই। ইন্দুবালা দেবীর কথা থেকেই বলি, এই গল্পে আপনি এমন এমন মানুষের এতো সহজ বর্ণনা পাবেন বা তাদের যে এতো সহজ উপস্থাপন করা হয়েছে, যাদের আমরা সবসময় এক উচ্চ আসনে বসে থাকা অবস্থায় দেখেছি। অর্থাঠ মানুষ হিসেবে তাদেরও যে ক্রাইসিস ছিল সেটি সুন্দরভাবে উঠে এসেছে এই গল্পে। এখানে আপনি জীবনানন্দ দাসকে পাবেন, জসীমউদ্দীনকে পাবেন, শরতচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে পাবেন, মোহিতলাল মজুমদারকে পাবেন, ক্ষুদিরাম বসুর সহযোদ্ধা বারীন ঘোশকে পাবেন, ম্যাজিশিয়ান পিসি সরকার, সওগাত পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনকে পাবেন, সঙ্গীতশিল্পী দিলীপ কুমার, ইন্দুবালা দেবি, আঙুরবালা দেবি, কমল দাশগুপ্তকে পাবেন, প্রথম বাঙ্গালি সার্কাস ব্যবসায়ী দুই ভাই প্রিয়নাথ ও মতিলালকে পাবেন। অল্পসময়ের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যজিত রায়রাও এসেছেন। আর অতি আবশ্যকভাবেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আছেন। শেষ এরকম অভিজ্ঞতা পেয়েছিলাম সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম আলো পড়তে নিয়ে, তবে সেটিতে অনেক অনেক বড় মানুষের গল্প থাকলেও খুব আশ্চর্যভাবেই কেন নজরুল সেখানে বাদ ছিলেন। আমার ব্যক্তিগতভাবে সেতা নিয়ে কিছু আফসোসও ছিল, “আমারে দেব না ভুলিতে” দিয়ে সে আফসোস ঘুচলো এবার। নজরুল তার জীবনে অসংখ্যবার প্রেমে পড়েছেন। কিন্তু আমাদের বর্তমানের তথাকথিত প্রেম বা ততকালীন সমাজেরও অন্যান্য প্রেমের চেয়ে কত পবিত্র ছিল তা সেই নার্গিস, প্রমিলা, ফজি’দের গল্প পড়লেই পাওয়া যায়। ব্রিটিশবিরোধী নজরুল, সঙ্গীতশিল্পী নজরুল, কবি নজরুল, প্রেমিক নজরুল, বাবা নজরুল তো এখানে এসেছেনই। তবে সবচেয়ে এসেছে নজরুলের অস্থিরতা, যেটি ছাড়া নজরুল একদমই অসম্পূর্ণ। আর যেটা ভাল লেগেছে নজরুল্কেন্দ্রিক বই বলেই এখানে নজরুলকে ভুল-ত্রুটির উর্ধ্বে মহামানব হিসেবে দেখানো হয়নি। তার পরিবারের প্রতি উদাসীনতা, প্রকাশকদের সাথে কথার হেরফের এর সবই এখানে উঠে এসেছে। তবে লেখক এটাও খুব ভালভাবেই দেখিয়েছেন যে নজরুল এই সবকিছু মিলিয়েই কাজী নজরুল ইসলাম। তার এই জীবনযাত্রাই তার শিল্পসত্ত্বাকে জ্বালানির যোগান দিয়েছে। অনেক লিখে ফেললাম। আসলে কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের এমন জায়গা নিয়ে আছেন, আর এই বইটা সে জায়গায় এমনই খোঁচা দিয়েছে, হড়বড় করে বকতে ইচ্ছা করছে শুধু। যাই হোক শেষ করি তারই একটা কথা দিয়ে। কবি তখন মানসিকভাবে অসুস্থ, জসীমউদ্দীন গেছেন তার সাথে দেখা করতে। জসীমউদ্দীন এক অবসরে একটি সাদা কাগজ বাড়িয়ে দেয় কবির দিকে, কবি যদি কিছু কথা লিখে দেন। নজরুল একদৃষ্টিতে সাদা কাগজের দিকে তাকিয়ে থাকেন। তারপর খস খস করে লেখেন – আমি দশ হাজার বছর বাঁচবো, আমার ছেলেরা পাঁচ হাজার বছর বাঁচবে। জসীম, তুমি দশ হাজার বছর বাঁচবে। কবি, আপনি সৃষ্টির শেষ পর্যন্ত বাঁচবেন। এইসব লেখায়, আমাদের মননে, চিন্তা-চেতনার স্ফূরণে আর আপনার শিল্পকর্মে…"
M Salam , May 25, 2021
"নজরুলের জীবন যে এত বৈচিত্র্যময়, নাটকিয়তায় পূর্ণ তা এই বইটা না পড়লে জানতে পারতাম না। কি অসম্ভব অকল্পনীয় প্রতিভাবান মেধাবী একজন মানুষ তা ধারনার বাইরে। একটানে পড়ে শেষ করার মত দুর্দান্ত একটি উপন্যাস। প্রত্যেকটি বাংলাভাষী মানুষের নজরুলকে জানার জন্য এই বইটা পড়া প্রয়োজন।"
Arabia Mostofa , May 18, 2021
"অসাধারণভাবে সুখপাঠ্য। লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা।"
Saad Andalib , May 9, 2021
"বইটির নাম দেওয়া হয়েছে আমারে দেব না ভুলিতে৷ বইটিতে একটি বিশেষ সময়যুগলকে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।১৮৯৯ থেকে ১৯৭৬ ,নজরুলের জন্ম মৃত্যু সাল, ঠিকই ধরেছেন। বইয়ের প্রচ্ছদেও নজরুলের একটি অসম্পূর্ণ অবয়ব। এটাই ঠিক করে দিচ্ছে বইটি শুধুমাত্র নজরুল কেন্দ্রিক নয়। একারণে ব্যাপকার্থে আমি বইয়ের আলাদা একটি নাম ধরে নিয়েছি - " আমাদের দেব না ভুলিতে। " বইটি সম্পূর্ণ ফ্যাক্ট ফিগার দিয়ে ভরে রাখা হয় নি। লেখক হওয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে ।চরিত্রগুলোর নাম পরিবর্তন করা গেলেই এটাকে দিব্যি উপন্যাসের বই হিসেবে বিকিয়ে দেওয়া যেত। বইটাকে আমি উপন্যাসের মোড়কে জীবনী হিসেবেই দেখেছি এবং পড়েছি। এক্ষেত্রে কথা সত্য যে নজরুলের জীবনের চিত্রায়ণ খুবই ভালোভাবে এবং বিচক্ষণভাবে করা হয়েছে, যাতে একইসাথে জিনিসটাকে আষাড়ে গালগল্প অথবা দলিলভিত্তিক কোনো কিছু মনে না হয়। এবার বইয়ের কথায় আসি। বইটি আসলে অনেকগুলো বিষয়কে প্রতিনিধিত্ব করে। আমি মোটা দাগে কিছু কথা এখানে বলবো। নজরুলের বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করা - এই জিনিসটা নিয়ে কিছু বলি।এই ঘটনা নজরুলের চাহিদাকে যেভাবে তুলে ধরে ঠিক তেমনি নজরুলের বাজারে লেখক কিংবা পত্রিকার লেখক হয়ে যাবার একটি শঙকার পথও সৃষ্টি করে। এমনকি নজরুল নিয়মিত রাজনৈতিক কলামও লিখতেন। যেখানে সকল সাহিত্যিকরা এই জিনিসটাকে খুবই সাবধানে এড়িয়ে চলতেন কিংবা এখনও যান। পত্রিকায় লেখালেখির কারণে নজরুলকে জেলেও যেতে হয়েছে। জেলে বসে তিনি ১৪ দিনের অনশনও করেছেন। রবীন্দ্রনাথ একটি বই উৎসর্গ করেও তার অনশন ভাঙাতে পারেননি। শেষমেষ কার কথায় তিনি অনশন ভেঙেছিলেন সেই কথা আমি আর এখানে না বলি। তার লেখালেখির শক্তি কতটুকু সেইসম্পর্কে একটু বলি। তার লেখালেখির কারণে একটি পত্রিকাকে (নবযুগ) সরকার বন্ধ পর্যন্ত করে দিয়েছিলো। তার পত্রিকায় লেখার বদৌলতেই আমরা পেয়েছি " শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির" মতো বিদ্রোহী কবিতা। একারণে পত্রিকাগুলোর কাছে আমরা আজন্ম ঋণী থাকতেই পারি।আমি মনে করি এই পত্রিকাগুলোই নজরুলকে অনেকটা সময় পর্যন্ত সাহস জুগিয়েছে, নিরাপত্তা দিয়েছে। নজরুলের চরিত্রের আরেকটি দিক হলো কোনো জায়গায় আটকে না থাকা, ক্ষেত্রবিশেষে প্রজাপতি কিংবা পাখির বেশ নেওয়া। নজরুলের এই চারিত্রিক দিকটাও খুব ভালোমতো চিত্রায়িত করা হয়েছে এই বইটিতে। নজরুলের বিভিন্ন কবিতা এই বইয়ে স্থান পেয়েছে। কবিতা স্থান পেয়েছে এটা বড় কথা না, বড় কথা হলো কবিতা সৃষ্টির পেছনে একটি গল্প বলা হয়েছে, হ্যা এটা অবশ্যই সত্য যে এই কবিতার প্রেক্ষাপটগুলো লেখকেরই সৃষ্টি। জ্যোছনা ও জননীর গল্প কিংবা দেয়ালে আমরা এই একই প্যাটার্নে অভ্যস্ত। কিন্তু সেগুলো কোণোটাই নজরুল কেন্দ্রিক নয়। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি আমরা এই প্যাটার্নে অভ্যস্ত কিন্তু গল্পগুলোতে নয়। এক্ষেত্রে রবিভাইর স্বার্থকতা। এছাড়াও এ বইতে উঠে এসেছে দ্যা গ্রেট বেঙগল সার্কাসের সুশীলা সুন্দরীর কথা, সোনাগাছি রুপোগাছির ভিন্ন ভিন্ন থিয়েটার , শরৎচন্দ্রের বাইজি বাড়িতে যাওয়া, গজাদা এবং শহীদুল্লাহর ভিন্ন ভিন্ন সাহিত্যিক আড্ডা এবং দু জায়গাতেই নজরুলের প্রাধান্য পাওয়া, ছোট্ট সত্যজিত রায়,নজরুল - রবিঠাকুরের সম্পর্ক এবং আরও অনেক কিছু। শেষের দিকে অনেকগুলো পৃষ্টাতেই স্থান পেয়েছে রবীন্দ্রনাথ এর কথা। রবীন্দ্রনাথ এর ভবলীলা সাঙগকে কেন্দ্র করে নজরুলের লেখা গান আমার খুবই ভালো লেগেছে। আমি এখানে সেইটা প্রকাশ করার লোভ সামলাতে পারলাম না । ঘুমাইতে দাও শান্ত রবিরে, জাগায়ো না,জাগায়ো না, সারাটা জীবন যে আলো দিলো, ডেকে তার ঘুম ভাঙায়ো না। বইয়ের এক জায়গায় স্থান পেয়েছে নজরুল এবং প্রমীলা দেবীর বিয়ে। নজরুলের এই বিয়েকে নিয়ে দাঙগার সম্ভাবনা থাকলেও আসলে হয়েছে উল্টো। হিন্দু মুসলমান এক হয়ে গেলো যে কোনোভাবেই নজরুলকে বিয়ে করতে দেওয়া যাবে না। এসময় "ধর্মমাতাল " নামক একটি বিশেষণকে আমরা দেখতে পাই। এই একটি বিশেষণ সমাজের সেই সময়ের একটা চিত্রকে তুলে ধরে যার রেপ্লিকা আজও সমাজে লক্ষণীয় বলে আমি মনে করি। আশীফ এন্তাজ রবি সেইসময়ের কলকাতা কেন্দ্রিক এবং কলকাতার বাইরেও যেই সাহিত্যচর্চা চলছিল তার কথাও বইয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। এক্ষেত্রে লেখক সমাজে যে একটি বৈষম্য নীতি চলছিল তার কিছুটা আন্দাজ করা যায়। নজরুল এবং ফজিলাতুন্নেছার একটি বন্য তথা অসমাপ্ত প্রেম বইয়ে দেখানো হয়েছে। জিনিসটা আমার কাছে বাড়াবাড়ি লেগেছে। আমি যতটুকু জানি ফজিলাতুন্নেসার সাথে কথা বলার জন্য নজরুলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো।এই জিনিসটা বইয়ে উল্লেখ থাকলে আরও ভালো লাগতো। বইটির বিশালত্ব আসলে ব্যাপক। এই ক্ষুদ্র পরিসরে সবগুলো জিনিসকে নিয়ে কথা বলা সম্ভবপর হবে না। বইটিতে কোনো একঘেয়েমিতা নেই, এক শ্বাসে পড়ার মতোই। সবচেয়ে ভালো লাগার জিনিস বইটি পড়লে আপনি নজরুলকে নজরুলের চোখ দিয়েই দেখতে পারবেন, অন্য কারো চোখ দিয়ে নয়। কিছু বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও বই স্থান পেয়েছে,যেগুলো আপনার চোখকে শান্ত করবে, মনকে প্রশান্ত। এইগুলো সবই আমার ব্যাক্তিগত অভিমত। আশা করি বইটি খুব তাড়াতাড়ি পড়ে ফেলবেন। পৃথিবী বইয়ের হোক। ❤️"
মেহেদী হাসান শীষ , May 8, 2021
"অসাধারন একটা উপন্যাস। বাংলা সাহিত্যে এই প্রথম কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে লেখা উপন্যাস। লেখক চমৎকারভাবে কবির সমস্ত জীবন তুলে এনেছেন অনেক সাবলিল ভাষায়। সবার একবার হলেও পড়া উচিত এই বইটি।"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"আমারে দেব না ভুলিতে" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: